বাংলাদেশের সংবিধান হচ্ছে সর্বোচ্চ আইন : আইনমন্ত্রী
নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধিতে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা ক্ষুণ্ন হয়নি বরং বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার রাতে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭এর গেজেট প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে আইনমন্ত্রী এ মন্তব্য করলেন। বিধিমালার সমালোচনা করে বলা হচ্ছে, এই বিধিমালার মাধ্যমে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনকে রাষ্ট্রপতি নয়, সরকার আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে গেছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, উচ্চ আদালতের সঙ্গে আলাপ-আলাচনা করেই এটা (বিধিমালা) করেছি। সুপ্রিম কোর্টও বলবে না যে, ইয়ে করা হয়নি। আপিল বিভাগের সব বিচারপতির সঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা যখন এটা অ্যাপ্রুভ করেছেন, তখন আমরা এগ্রি করেছি। তিনি বলেন, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে পরিষ্কার করে বলা আছে, এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে থাকবে। তিনি সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে আচরণ বিধি তৈরি করবেন। তিনি সব ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। আমরা যে আচরণ বিধি করেছি সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে শিরোধার্য মনে করে সেটাকে রক্ষা করার জন্য যা যা করণীয় এখানে করেছি। এখানে রুল-২৯ এ পরিষ্কার করে বলা আছে। মন্ত্রী বলেন, আমরা সংবিধান অনুযায়ী কাজ করব, পরিষ্কার কথা। আমার এখন পর্যন্ত মনে হয় না যে সংবিধানের বাইরে আমরা কোনো কাজ করছি। জুডিশিয়ারির জন্য যেখানে স্পেশাল প্রভিশন রাখার দরকার সেখানে রুল করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমার মনে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কোথাও ক্ষুণ্ন করা হয়নি বরং একটু বাড়ানো হয়েছে। বিএনপি বলছে, বিধিমালায় বিচারকদের পদোন্নতি ও বদলির বিষয় এমনভাবে রাখা হয়েছে যে তারা স্বাধীনভাবে বিচার করতে পারবেন না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, আশঙ্কা নেই। সংবিধানে বলা আছে রাষ্ট্রপতি যখন জুডিশিয়ারির ব্যাপারে কোনো কাজ করেন তিনি আইন মন্ত্রণালয়টাকে তার সেক্রেটারিয়েট হিসেবে ব্যবহার করেন। সেই ক্ষেত্রে আমরা তার কাছে নথি চালাচালির জন্য একটা অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হই। সেই ক্ষেত্রে কিন্তু পরামর্শের কথা বলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ। যেখানে রাষ্ট্রপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শের মধ্যে ভিন্নতা থাকবে, সেই ভিন্নতা থাকলে সুপ্রিম কোর্টের যে পরামর্শ সেটা প্রাধান্য পাবে। সেই ক্ষেত্রে আমরা তো সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা খর্ব করিনি। সব থেকে বড় কথা হচ্ছে আমরা সব সময়ই বাংলাদেশ সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ আমাদের গাইডলাইন হিসেবে গ্রহণ করেছি। তার কারণ হচ্ছে বলাই আছে বাংলাদেশের সংবিধান হচ্ছে সর্বোচ্চ আইন। তবে বিধিমালা নিয়ে কেন সমালোচনা হচ্ছে, জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, শোনেন, তারা কেন (সমালোচনা) করছেন, দুই-তিনটা জিনিস তাদের। সেটা হচ্ছে তারা বুঝুক আর না বুঝুক সমালোচনার জন্য তাদের সমালোচনা করতে হবে। তাদের যে ওয়াইডার পরিকল্পনা ছিল তা অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এখন খড়কুটো ধরে তারা সমালোচনা করছেন। তাদেরকে আমি এটুকুই বলব- দ্যাখেন, কনস্ট্রাকটিভ ক্রিটিসিজম (গঠনমূলক সমালোচনা) গ্রহণ করতে আমাদের কোনো আপত্তি নাই। কনস্ট্রাকটিভ ক্রিটিসিমজ গ্রহণ করার জন্য উনাদেরকে পড়াশোনা করতে হবে। আমি উনাদেরকে বলব আপনারা সংবিধান দ্যাখেন। আইনমন্ত্রী বলেন, আরেকটা কথা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই- উনাদের ইচ্ছা মত, উনারা যে রকম ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু করে ৯৬ সাল পর্যন্ত কনস্টিটিউশন (সংবিধান) নিয়ে ফুটবল খেলেছেন, আমরা এই কনস্টিটিউশনকে নিয়ে আর ফুটবল খেলতে দিব না। পদত্যাগ করা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কারণে শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়নে দেরি হওয়ার কথা বলছেন, তিনি কীভাবে বাধা দিয়েছিলেন- জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, যেসব জিনিস চলে গেছে আমি এগুলো নিয়ে কথা বলতে চাই না।
আকায়েদ উল্লাহর স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাস টার্মিনালে কথিত আত্মঘাতী হামলার চেষ্টাকারী বাংলদেশী যুবক আকায়েদ উল্লাহর স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে তাদের ঢাকার বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জিগাতলার মনেশ্বর রোডের বাসা থেকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটি) ওই ৩ জনকে নিয়ে যায় বলে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানিয়েছে। সিটির উপ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ৩ জনকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আটক করা হয়েছে। জানা যায়, মনেশ্বর রোডের বাড়িটিতে ৬ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন আকায়েদের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। চট্টগ্রামের আকায়েদ ৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছেন। প্রথমে ট্যাক্সিক্যাব চালালেও ২০১৫ সালের পর থেকে তিনি একটি আবাসন কোম্পানিতে বিদ্যুৎ মিস্ত্রির কাজ করতেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সিটি কর্মকর্তা সাইফুল বলেন, আকায়েদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে তার স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আকায়েদের নাম প্রকাশের পর বাংলাদেশে তার স্বজনের অবস্থান নিশ্চিত করতে পুলিশ মাঠে নামে। সিটির এক কর্মকর্তা বলেন, তারা দুপুরের দিকে আকায়েদের শ্বশুড় বাড়ির ঠিকানা পান। ওই বাড়িতে আকায়েদের শ্বশুর জুলফিকার হায়দার, শাশুড়ি মাহফুজা আকতার ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ভাড়া থাকেন। প্রসঙ্গত সোমবার নিউ ইয়ার্কের ম্যানহাটনে ব্যস্ততম বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণের পর আকায়েদকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে হাসপাতালে ভর্তি করে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আকায়েদ তার দেহের সঙ্গে বাঁধা বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আকায়েদ ওই ঘটনা ঘটিয়েছিল নিউ ইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তাদের দাবি।
ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি
মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসির বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতি ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ে ইস্তাম্বুল পৌঁছেছে। বিমানবন্দর থেকে রাষ্ট্রপতি কনরাড ইস্তাম্বুল বসফরাস হোটেলে যান। এই সফরে তিনি এ হোটেলেই থাকবেন। ওআইসির বিশেষ সম্মেলন শেষে বৃহস্পতিবার ভোরে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে তুরস্কে স্বাগত জানান বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম আল্লামা সিদ্দিকী এবং ইস্তাম্বুলে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। এর আগে, সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়েন রাষ্ট্রপতি। গত ৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওআইসির বর্তমান সভাপতি রিসেপ তাইপে এরদোয়ান সংস্থার জরুরি বিশেষ সম্মেলন ডাকেন। এই সম্মেলনে যোগ দিতে রাষ্ট্রপতি ইস্তাম্বুলে অবস্থান করছেন। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতি মুসলিম রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
প্যারিসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিনদিনের সরকারি সফরে সোমবার সন্ধ্যায় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটি সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে (স্থানীয় সময়) প্যারিসের চার্লস দ্যাগল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করে। ফ্রান্সের নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে ইন্টারন্যাশনাল প্যারিস লি গ্রাভ (অপেরা)-এ নিয়ে যাওয়া হয়। এই সফরকালে তিনি এখানেই অবস্থান করবেন। প্যারিস যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাইতে দেড় ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন, জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইং কিমের আমন্ত্রণে প্যারিসে অনুষ্ঠেয় ওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। শীর্ষ সম্মেলনে প্রায় একশ বিশ্ব নেতার পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন, ফাউন্ডেশন এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের ২ হাজার প্রতিনিধি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপায় খুঁজে বের করতে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লা সেইন মিউজিক্যালে ওয়ান প্লানেট সামিটের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নেবেন। শীর্ষ সম্মেলন থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর আবাসস্থলে এক কমিউনিটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী ফরাসী প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এলিসি প্যালেসে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানদের জন্য ফরাসী প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে তিনি এলিসি প্যালেসে মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেবেন। শেখ হাসিনার বুধবার সন্ধ্যায় প্যারিস ত্যাগ ও বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশে পৌঁছার কথা রয়েছে।
তুরস্ক যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ
মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসির বিশেষ সম্মেলনে যোগ দিতে আজ সোমবার তুরস্ক যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সোমবার রাতে ঢাকা ছাড়বেন তিনি।আগামী বৃহস্পতিবার ভোরে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদে বিশেষ সম্মেলনের ডাক দেয় ওআইসি। আগামী ১৩ ডিসেম্বর তুরস্কের রাজধানী ইস্তান্বুলে হবে ওআইসিও বিশেষ ইসলামি শীর্ষ সম্মেলন। সংস্থাটির বর্তমান সভাপতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের আমন্ত্রণে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এই সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছেন।মূল সম্মেলনের আগে মঙ্গলবার সদস্য দেশগুলোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বৈঠকে বসবেন।গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাস্পের ঘোষণার পর ওআইসির সভাপতি তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান সদস্য রাষ্ট্রসমূহের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের এক জরুরি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করেছেন। এই সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকেও আমন্ত্রণপত্র পাঠান এরদোয়ান।এ সম্মেলনের আগে আগামী ১২ ডিসেম্বর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সভা এবং ১৩ ডিসেম্বর পূর্বাহ্নে ওআইসি-র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক সভারও আয়োজন করা হয়েছে।পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলন (সিএফএম) ২০১৮ সালে বাংলাদেশ আয়োজন করবে। শীর্ষ সম্মেলনটির এক সপ্তাহের মধ্যে তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফর সংঘটিত হবে।
প্যারিসের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে যোগ দিতে প্যারিসের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে মঙ্গলবারের এ সম্মেলনে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে সোমবার সকাল সোয়া ১০টার পর ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে রওনা হন। দুবাইয়ে দেড় ঘণ্টা যাত্রাবিরতির পর স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর প্যারিসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় অভিন্ন প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নের কর্মপন্থা নির্ধারণই ওয়ান প্ল্যানেট সামিটের মূল লক্ষ্য। বিশ্বের ১৮৮টি দেশের ঐকমত্যে ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির দুই বছরের মাথায় মঙ্গলবার এলিসি প্রাসাদে এ সম্মেলন মিলিত হচ্ছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। ওই চুক্তিতে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এমন পর্যায়ে বেঁধে রাখার উদ্যোগে নেয়া হবে, যাতে তা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না হয়। তিনদিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ইন্টারন্টিনেন্টাল প্যারিস লো গ্রান্ডে থাকবেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। দুপুরে ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে যোগ দেয়া নেতৃবৃন্দের সম্মানে ফরাসি প্রেসিডেন্টের মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন। বিকালে ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। রাতে প্যারিসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র সচিব মো.শহীদুল হক, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসতিয়াক আহমদ এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আছেন। সফর শেষে বুধবার রওনা হয়ে বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার।
দেশের গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিব :সজীব ওয়াজেদ জয়
বাংলাদেশের ডাক বিভাগে নতুন এক মাইলফলক উন্মোচিত হলো। ডাক বিভাগের মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় চালু করা হলো ডাক টাকা। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডাক টাকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার দুপুরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে তিনি ডাক টাকার উদ্বোধন করেন। ডাক টাকার উদ্বোধন শেষে জয় বলেন, দেশের গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের জীবনমান উন্নয়নে দেশের প্রতিটি ডাক ঘরে ব্যাংকিং সিস্টেম চালু করা হলো। এই ডাক টাকা ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহজ, দ্রুত ও বৈধ পথে টাকা সংগ্রহ এবং লেনদেন করতে পারবেন গ্রামের মানুষেরা। এরআগে তথ্য উপদেষ্টা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে তাকে শুভেচ্ছা জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম।
মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে খুলনায় রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানি মামলা
খুলনায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানি মামলা হয়েছে। আজ সোমবার নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজিয়া আহমেদ বর্ণা বাদী হয়ে খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের নালিশি মামলার আমলী আদালত ক অঞ্চলে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মো. আমিরুল ইসলাম মামলাটি গ্রহণ করে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন। খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সরদার আনিসুর রহমান পপলু এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বাদীর অভিযোগ, গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান আওয়ামী লীগ সরকার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিকী সম্পর্কে কটুক্তি ও অসত্য বক্তব্য দেন। এ ছাড়া তিনি বঙ্গবন্ধুর পরিবারের নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে খুন-গুম নিয়ে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করেন যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।
চারটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বিএনপি সরকারের সময় দেশে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। আর এখন ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেন, বিএনপির সময় দেশে বিদ্যুৎ ছিল না, রাজধানীর অনেক এলাকা অন্ধকারে ছিল। আমরা এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিয়ে যাত্রা করেছিলাম, এখন ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। আশা করি দেশের মানুষ তা মনে রাখবেন। আজ রবিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১০ উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প ও চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক ই ইলাহি চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সৌদি আরব ও কুয়েতের রাষ্ট্রদূত এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।যে চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন হয়েছে সেগুলো হলো- শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট, সাল্লা ৪০০ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ এবং সরিষাবাড়ী তিন মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র।যে ১০টি এলাকা ইতোমধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতায় আনা হয়েছে সেগুলো হলো- ফরিদপুর সদর, মাদারীপুরের রাজৈর, নওগাঁ সদর, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, মাগুরার শালিখা, মেহেরপুর সদর, নেত্রকোণার মদন এবং নরসিংদীর বেলাবো।দেশের বিভিন্ন এলাকায় শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পেরে খুশি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এটা বঙ্গবন্ধুর অন্যতম স্বপ্নের বাস্তবায়ন।শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দেখলাম বিদ্যুতের রিজার্ভের পরিমাণ ১৫/১৬শ মেগাওয়াট মাত্র। তখন রাজধানীর অনেক এলাকাও ছিল অন্ধকারে। আমরা ক্ষমতায় এসে বেসরকারি উদ্যোগে বিদ্যুৎকেন্দ্র করার সুযোগ করে দিলাম, যাতে রিজার্ভের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেইবার পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে চার হাজার ৩০০ মেগাওয়াট রিজার্ভ রেখে গিয়েছিলাম। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। নয় বছর পর ক্ষমতায় এসে দেখলাম আমাদের রেখে যাওয়া বিদ্যুতের পরিমাণ কমে তিন হাজার ২০০ মেগাওয়াট হয়েছে। বিএনপি সরকার বিদ্যুতের রিজার্ভ বৃদ্ধি তো করেইনি, বরং কমিয়েছে।তিনি বলেন, শিল্প উন্নয়নসহ যে কাজই করতে যাই বিদ্যুৎ প্রয়োজন। তাই আমাদের লক্ষ্য ছিল কত দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি। আমাদের লক্ষ্য ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। দুর্গম এলাকায়ও সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছি। এখন গ্রামে বসে কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছি। মানুষের জীবন সুন্দর ও সহজ করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় এসে আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ঘরে ঘরে আলো জ্বালাবো, মানুষকে সুশিক্ষা শিক্ষিত করবো। প্রতিটি অঞ্চল উন্নত করা এবং সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা। আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশ।শেখ হাসিনা বলেন, লুটপাট, মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি, ঘুষ, অত্যাচার, নির্যাতন ছিল বিএনপির কাজ। তাদের কাছে ক্ষমতা মানেই ভোগ বিলাসে গা ভাসানো। ক্ষমতায় থাকতে তারা দেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান বানিয়েছিল। জঙ্গিবাদ ও বাংলা ভাইয়ের সৃষ্টি, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন, আমার ওপর গ্রেনেড হামলাই ছিল তাদের কাজ। মানুষের উন্নয়নে তারা কোন কাজ করেনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে বিদ্যুৎ। এজন্য তার সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষভাবে মনোযোগ দিয়েছে। শুধু শহরে নয়, গ্রাম পর্যায়ে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে চেষ্টা করছে সরকার। তিনি বলেন, আমরা বিদ্যুৎকে বহুমুখী করেছি। সৌরবিদ্যুৎ, পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প, কয়লাভিত্তিক ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছি। আমরা ভারত থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি।

জাতীয় পাতার আরো খবর