যুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি দিলভারত
অনলাইন ডেস্ক: ১৯৭১ সালের আজকের দিনে বাংলাদেশের রণাঙ্গনের অবস্থা আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মিত্রবাহিনীর আক্রমণে দিশেহারা হানাদার বাহিনী সূর্য ওঠার আগেই বিভিন্ন সীমান্ত ঘাঁটি থেকে পালাতে শুরু করে। আর ভারত স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। এদিকে বাংলাদেশের স্বীকৃতি নিয়ে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় ৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে লেখা হয় স্বীকৃতির তিলক বাংলাদেশের ললাটে। বাংলাদেশের আজ বিচলিত হওয়ার কিছু নাই। সূর্যোদয়কে যাহারা অস্বীকার করে, তাহারা অন্ধ মাত্র, অস্বীকৃতির দৃষ্টিহীনতা সকালের রশ্মিজলকে মিথ্যা করিয়া দিতে পারে না। এদিনে মিত্রবাহিনী আকাশ থেকে অবাধ গতিতে বিমান আক্রমণ চালায়। বঙ্গোপসাগরে ভারতের নৌবাহিনী সৃষ্টি করে নৌ-অবরোধ। আজকের এ দিনে ফেনী মুক্ত হয়। দশম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট ও সাবসেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা কর্নেল জাফর ইমামের নেতৃত্বে ফেনী মুক্ত করেন। মেজর জলিলের নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধারা সাতক্ষীরা মুক্ত করে খুলনার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ঝিনাইগাতীর আহম্মদ নগর হানাদার বাহিনীর ঘাঁটি আক্রমণ করেন কোম্পানি কমান্ডার মো. রহমতুল্লাহ। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও মুক্ত করে সেদিন বীরগঞ্জ ও খানসামার পাক অবস্থানের দিকে এগিয়ে চলছিল মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী। এদিকে লাকসাম, আখাউড়া, চৌদ্দগ্রাম, হিলিতে মুক্তিবাহিনী দৃঢ় অবস্থান নেয়। রাতে আখাউড়া ও সিলেটের শমসেরনগর যৌথবাহিনীর অধিকারে আসে। আর যৌথবাহিনী পায়ে হেঁটে ঝিনাইদহ পৌঁছে এবং শহরটি মুক্ত করে। এদিকে স্বীকৃতি পেয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জাতির উদ্দেশে এক বেতার ভাষণে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম মিত্ররাষ্ট্র ভারতের জওয়ানদের অভিনন্দন জানান। অন্যদিকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ায় ভারতের সঙ্গে তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে পাকিস্তান। আর ভারতে মার্কিন অর্থনৈতিক সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে হানাদার মুক্ত হয় যশোর ও কুড়িগ্রাম। প্রথম কোনো জেলা শহর হিসেবে যশোরই প্রথম হানাদার মুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধা আর ভারতীয় বাহিনীর যৌথ আক্রমণে যশোর ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে পালিয়ে যায় পাকিস্তান বাহিনী। ক্যান্টনমেন্ট ত্যাগ করে তারা খুলনার শিরোমনিতে অবস্থান নেয়। পাক হানাদার বাহিনী যশোর ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে যাওয়ার ফলে এই দিন যশোর শত্রুমুক্ত হয়। এই দিনে শত্রুমুক্ত হয় কুড়িগ্রাম জেলা। এই অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শহীদ লেফটেন্যান্ট আশফাকুস সামাদ বীরউত্তম (মরণোত্তর) খেতাব পান। বীরবিক্রম খেতাব অর্জন করেন- শওকত আলী এবং সৈয়দ মনসুর আলী টুংকু। বীরপ্রতীক খেতাব পান বদরুজ্জামান, আব্দুল হাই সরকার, আবদুল আজীজ এবং তারামন বিবি। ঢাকা টাইমস
বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দ্বিতীয় বোয়িং ড্রিমলাইনার পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দ্বিতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টারমাকে হংসবলাকা নামের এই বিমান পরিদর্শন ও এতে আরোহণ করেন। তিনি ককপিটসহ বিমানটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে ঘুরে দেখেন ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় জাতির অব্যাহত সুখ, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল, মন্ত্রণালয়টির জাতীয় সংসদে স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ ফারুক খান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বিমানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। নতুন এই বিমান ১ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং প্রধানমন্ত্রী এর নাম দেন হংসবলাকা। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটেলের বোয়িং ফ্যাক্টরি থেকে টানা ১৫ ঘণ্টা উড্ডয়নের পর বিমানটি ১ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৪০ মিনিটে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছে। এর আগে ২৯ নভেম্বর সিয়াটলে বোয়িং কর্তৃপক্ষ বিমানের পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন) ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিলের কাছে নতুন এই বোয়িং ড্রিমলাইনারের স্বত্ব হস্তান্তর করে। এই নতুন বিমান ১০ ডিসেম্বর ঢাকা-লন্ডন রুটে প্রথম যাত্রা করবে। এর আগে আকাশবীণা নামে প্রথম ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ১৯ আগস্ট বাংলাদেশে পৌঁছে। আধুনিক মডেলের এই বিমানের মাধ্যমে বিমান পরিবহনে নতুন যুগের সূচনা হয়। ১ সেপ্টেম্বর বিমানটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বিমান কর্মকর্তারা জানান, ১০ ডিসেম্বর থেকে এই দুই ড্রিমলাইনার সপ্তাহে ঢাকা-লন্ডন রুটে ৬টি, ঢাকা-দাম্মাম রুটে ৪টি এবং ঢাকা-ব্যাংকক রুটে ৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। অন্যান্য বিমানের চেয়ে ২০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ী ২৭১ আসনের এই বোয়িং ঘণ্টায় ৬৫০ মাইল গতিতে একটানা ১৬ ঘণ্টা উড্ডয়ন করতে পারে। এতে ৪৩ হাজার ফুট উঁচুতেও ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ও বোয়িংয়ের মধ্যে ২.১ বিলিয়ন ডলারে ১০টি নতুন ড্রিমলাইনার কেনার চুক্তি হয়। এর মধ্যে ৭৭৭-৩০০ইআর-এর ৪টি, ৭৩৭-৮০০-এর দুটি হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া আরো দুটি ড্রিমলাইনার রাজহংস ও শঙ্খচিল আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিমানবহরে যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনদিনে ৫৪৩ জন আপিল করেছেন: ইসি সচিব
অনলাইন ডেস্ক: মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনদিনে ৫৪৩ জন আপিল করেছেন। প্রথম দিনে ৮৪, দ্বিতীয় দিনে ২৩৭ ও তৃতীয় দিনে ২২২ টি আবেদন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা পড়ে। আজ বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবনে এসব তথ্য দেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। ইসি সচিব বলেন, ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বর প্রার্থীদের আপিল গ্রহণের ওপর শুনানি চলবে। নির্বাচন ভবনের লিফটের ১০ তলায় এ জন্য এজলাস তৈরি করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনাররা সেখানে উপস্থিত থেকে আপিল শুনানি গ্রহণ করবেন। হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আগামীকাল ৬ তারিখ ১ থেকে ১৬০ পর্যন্ত ক্রমিক নম্বরের আবেদন শুনানি হবে। ৭ ডিসেম্বর ১৬১ থেকে ৩১০ পর্যন্ত এবং ৮ ডিসেম্বর ৩১১ ক্রমিক নম্বর থেকে ৫৪৩ পর্যন্ত আবেদনের আপিল শুনানি গ্রহণ করবে কমিশন। ইসি সচিব বলেন,প্রতিটি আবেদনের আপিল শুনানি শেষে সাথে সাথেই রায় জানিয়ে দেওয়া হবে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যদি উচ্চ আদালতে কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান, তাহলে তাঁকে রায়ের নকল কপি দিয়ে দেওয়া হবে।
অরিত্রী অধিকারীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা তদন্ত করবে ডিবি
অনলাইন ডেস্ক: ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাই, এই মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি এখন ডিবিই পরিচালনা করবে। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। গতকাল মঙ্গলবার অরিত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী। মামলায় আসামি করা হয়, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শাখাপ্রধান জিন্নাত আরা ও শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন তালুকদার। পরে আজ বিকেলে এ মামলার এফআইআর ( প্রাথমিক তথ্য বিবরনী ) এসে পৌঁছালে, বিচারকের নিকট উপস্থাপন করা হয়। পরে বিচারক তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য ৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। গত রোববার পরীক্ষার হলে নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন পান এক শিক্ষিকা। মোবাইল ফোনটি রেখে দিয়ে তিনি অরিত্রীর বাবা মাকে নিয়ে পরদিন আসতে বলেন। পরির দিন, সোমবার বাবা মাকে নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেন বাবা দিলীপ অধিকারী। পরে, বাসায় গিয়ে অরিত্রীর ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। এরপর দিলীপ অধিকারী অভিযোগ করে বলেন, আমরা ভাইস প্রিন্সিপাল ও প্রিন্সিপালের রুমে গিয়ে তাদের ওই অভিযোগ শুনি। জোর হাত করে ক্ষমা চাই। মেয়েও পায়ে ধরে ক্ষমা চায়। কিন্তু তাঁরা কোনো কিছুই শুনতে না চেয়ে বের হয়ে যেতে বলেন। বলেন, বের হয়ে যান, কাল এসে টিসি নিয়ে যাবেন। এ সময় দ্রুত বাসায় চলে যায় অরিত্রী। পেছনে পেছনে আমরাও যাই। বাসায় গিয়ে দেখি সে নিজের ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি।পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল সাড়ে ৪টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, তাঁর মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষক দায়ী।
নির্বাচন সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য দিয়ে অভিযোগ করলে বিচার হবে: সিইসি
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য দিয়ে অভিযোগ দিলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীর বিচার হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আজ নির্বাচন তদন্ত কমিটির (ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি) বিচারকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। সিইসি বলেন, যিনি আপনাদের কথা শুনবেন না পেনাল কোডের ১৯৩ ধারা মতে তাদের ৭ বছরের জেল হবে, যদি মিথ্যা তথ্য দেয় এবং আপনাদের আদেশ না মানে পেনাল কোডের ২২৮ ধারা অনুসারে তাদের বিচার হবে। তার মানে হলো কোড অব সিভিল প্রসিডিউর এর ১৯০৮-এর সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে আপনারা মাঠে অবস্থান করবেন। ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির সদস্য ২৪৪জন যুগ্ম জেলা জজ ও দায়রা জজ এবং সহকারী জজ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। কে এম নুরুল বলেন, আপনাদেরকে ভিজিবল (দৃশ্যমান) হতে হবে। তার মানে আপনারা এখন পর্যন্ত কিন্তু ভিজিবল হননি। বাস্তবতা হলো সেটা। ভিজিবল যখন হবেন, আপনাদের কাজের মাধ্যমে যখন আস্থা রাখবে, আপনাদেরকে যখন চিনবে, তখন থেকে আপনাদের উপরে দায়িত্ব আসবে। তখন আর নির্বাচন কমিশনে শত শত অভিযোগ আসবে না। আমরা প্রত্যেকদিন শত শত অভিযোগ পাই। কিন্তু অভিযোগগুলো আমাদের কাছে আসার কথা না। কারণ আপনারা সেখানে (মাঠ পর্যায়ে) রয়েছেন। আমরা কি করবো? অভিযোগগুলো আপনাদের কাছে পাঠিয়ে দেবো। প্রজাতন্ত্রের যারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি তাদের প্রত্যেকের উপরে কোনো না কোনোভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এটা ২০০৮ সাল থেকে শুরু হয়েছে। কমিটির সদস্যদের প্রো-অ্যাকটিভ ও ভাইব্রেন্ট হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন,ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে প্রো-অ্যাকটিভ হতে হবে, ভাইব্রেন্ট হতে হবে এবং আপনাদেরকে জানাতে হবে যে, তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য আপনারা আছেন। ৩০০টি আসনের মধ্যে ১২২টি জায়গায় আপনারা তাদের কাছাকাছি আছেন। তারা যেনো সমস্যার সমাধান পায় এটা আপনাদেরকে দেখতে হবে। ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির বিচারকদের সম্পূর্ণ শক্তি নিয়োগের নির্দেশ দিয়ে সিইসি বলেন, বিচারকদের সমন্বয়ে প্রতি জেলায় নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। যাদের নির্বাচন আচরণবিধি প্রতিপালনসহ অপরাধ আমলে নিয়ে বিচার কাজ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সেই দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করতে হবে। প্রার্থীর অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য বিচারকদের আরও সক্রিয় হতে হবে। তিনি বলেন, আপনারা আপনাদের করণীয় যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে মানুষের অভিযোগ শুনবেন; আমলে নেবেন। যেনো অভিযোগ ঢাকা পর্যন্ত না আসে, এলাকায় বসে সমাধান পেতে হবে। অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঘরে শিশুর লাশ বাংলামোটরে,ঘাতক পিতা আটক
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকার বাংলামোটরের লিংক রোডের খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উল্টো দিকের ১৬ নম্বর বাড়ির ভেতর থেকে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশটি শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এর আগে বেলা ১টা ৫০ মিনিটে ওই শিশুর পিতা নুরুজ্জামান কাজলকে আটক করে শাহবাগ থানার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। বাড়ির ভেতরে তিন বছরের ছেলেকে মেরে কাফনের কাপড় পরিয়ে টি টেবিলের ওপর রেখেছেন। আর বড় সন্তানকে বুকে জড়িয়ে হাতে রামদা নিয়ে বসা বাবা নুরুজ্জামান কাজল। এ অবস্থায় পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। আর মাধ্যমে অবসান ঘটল ৬ ঘণ্টা পর পিতা কর্তৃক সন্তানদের জিম্মি নাটকের অবসান। এর আগে সকালে জানা যায়, বাংলামোটর এলাকার একটি বাসায় সাফায়েত নামে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে এলেও বাসার ভেতরে এখনো ঢুকতে পারছিল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কারণ ভেতরে মরদেহের পাশে ধারালো দা হাতে বসে ছিলেন শিশুটির বাবা নুরুজ্জামান কাজল। তিনিই কাউকে বাসায় প্রবেশ করতে দেননি। অন্যদিকে কাজলের ভাই নুরুল হুদা উজ্জ্বলের দাবি, শিশুটিকে তার বাবাই খুন করেছে। নুরুল হুদা উজ্জ্বল বলেন, কাজলের দুই সন্তান। একজন সাফায়েত, তার বড় আরেকজন আছে সুরায়েত। আমরা সাফায়েতের মৃত্যুর সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে এসেছি। সকালে বাসায় ঢুকতে গিয়েও পারিনি। কাজলকে মাদকাসক্ত দাবি করে উজ্জ্বল বলেন, বাবাই খুন করেছেন সাফায়েতকে। কারণ কাজল মাদকাসক্ত। আর আমরা যখন বাসায় ঢুকতে গেছি, তখন কাজল আমাদের দিকে দা নিয়ে তেড়ে আসেন। সুরায়েত বাবার কাছেই আছে। ঘটনাস্থলে থাকা শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেছিলেন, একটা বাচ্চার মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে এসেছি। কিন্তু আমরা বাসার ভেতরে ঢুকতে পারছি না। ভেতরে রয়েছেন শিশুটির বাবা কাজল। তাকে বুঝিয়েও বাসায় ঢুকতে পারিনি। তিনি জানান, শিশুর বাবা এর আগে মাদক গ্রহণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জেলেও পাঠানো হয়। র;্যাব-২ এর এসআই শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, আমি ভেতরে ঢুকে দেখেছি, নুরুজ্জামান কাজল তার ছোট শিশুকে কাফনের কাপড় পরিয়ে টেবিলের ওপর রেখেছেন। এ ছাড়া বড় সন্তানকে বুকে জড়িয়ে হাতে বড় দা নিয়ে বসে আছেন। শিশুটির বাবাকে কোনো সাহায্য লাগবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনাদের কারও সাহায্য লাগবে না। আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা চলে যান। দুপুর ১টার দিকে আমি নিজে আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে আমার ছেলেকে দাফন করব। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ওই বাসার দোতলায় থাকতেন কাজল। পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মাস খানেক আগে তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। স্থানীয় একজন বাসিন্দা আকিল জামান বলেন, কয়েক মাস আগে স্ত্রীকেও মারধর করেন কাজল। প্রতিবেশীরা এসে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। নির্যাতন সইতে না পেরে স্ত্রী চলে গেছেন। বাচ্চা দুটো বাবার সঙ্গে ছিল। ঘটনা শুনে নুরুজ্জামান কাজলের ভাই নুরুল হুদা উজ্জ্বল ঘটনাস্থলে এসেছেন। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কাজল বাসা থেকে বের হয়ে পাশে থাকা মাদ্রাসায় গিয়ে জানান, তার ছোট ছেলে নূর সাফায়েত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। এটা যেন মাইকে ঘোষণা করা হয়। তারপর মাদ্রাসার ছাত্রদের কোরআন খতম দেওয়ার জন্য নিয়ে যেতে চান। এ কথা শোনার পর আবদুল গাফফার নামে একজন খাদেম মাদ্রাসা থেকে তার সঙ্গে যান। এখনো তিনি ভেতরে আটকা আছেন। মাইকে সংবাদ শুনে আমি আসি। ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করি। কিন্তু কাজল ঢুকতে দেননি। দরজা আটকে দিয়েছেন। কাজলের সঙ্গে তার বড় ছেলে সুরায়েত (৪) আছে। নুরুল হুদা উজ্জ্বল অভিযোগ করেন, তার ভাই নুরুজ্জামান কাজল দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলেকে হত্যা করেছেন। তার হাতে দা ছিল।
আজ শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী
অনলাইন ডেস্ক: গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার। ১৯৬৩ সালের এই দিনে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এ উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, সোহরাওয়ার্দী আমৃত্যু আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন। গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্রের বিকাশসহ ও এদঞ্চলের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নে যে অবদান রেখে গেছেন জাতি তা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিকাশে সারাজীবন কাজ করেছেন। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও মানুষের কল্যাণে এ মহান নেতার জীবন ও আদর্শ আমাদের প্রেরণা জোগায়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টায় বাংলাদেশ হাইকোর্ট সংলগ্ন মরহুম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আকতারুজ্জামান এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মরহুম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পূণ্য স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তিনি গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। বিবৃতিতে তিনি গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনসমূহের সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
বুধবার পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা ভিকারুননিসার ছাত্রীদের
অনলাইন ডেস্ক: ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ক্যাম্পাসের আন্দোলনরত ছাত্রীরা বিচার না হওয়া পর্যন্ত সব পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে কাল বুধবার সকাল থেকে কলেজের ফটকে অবস্থান নেওয়া হবে বলে ছাত্রীরা জানায়। রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় আন্দোলনরত ছাত্রীরা বুধবার ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে আগামীকাল বুধবার সকাল থেকে কলেজের ফটকে অবস্থান নিবে তারা। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো তিনটি দাবি হলো- স্কুলটির প্রিন্সিপাল নাজনীন ফেরদৌস ও প্রভাতী শাখার প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আরার স্থায়ী বহিষ্কার, গভর্নিং বডি বাতিল করা ও আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের উপযুক্ত আইনে বিচার করা। শিক্ষামন্ত্রীর দেয়া আশ্বাস তিন দিনের মধ্যে বাস্তবায়িত না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও শিক্ষার্থীরা জানায়। এদিকে, মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রভাতী শাখার প্রধান শিক্ষত জিন্নাত আরাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া আত্মহত্যার কারণ নির্ণয়ে অতিরিক্ত শিক্ষা সচিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। উল্লেখ্য, সোমবার শান্তিনগরের নিজ বাসা থেকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে নকলের অভিযোগে অপমানের জের ধরে সে আত্মহত্যা করেছে। অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী বলেন,অরিত্রীর স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। রোববার সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের ডেকে পাঠায়। সোমবার স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, অরিত্রী মোবাইল ফোনে নকল করছিল, তাই তাকে বহিষ্কারের (টিসি দেয়ার) সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার মেয়ের সামনে আমাকে অনেক অপমান করে। এই অপমান এবং পরীক্ষা আর দিতে না পারার মানসিক আঘাত সইতে না পেরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দেয় অরিত্রী।
নারীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া হবে নির্বাচনে: কবিতা খানম
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনার (ইসি) কবিতা খানম বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগে-পরে নারীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। তারা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেজন্যও তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া হবে। মঙ্গলবার রাজশাহীতে ইউএনডিপি আয়োজিত দুদিনব্যাপী জেন্ডার অ্যান্ড ইলেকশন কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের তিনি এ কথা বলেন। নির্বাচন কমিশনার বলেন, দেশের প্রায় অর্ধেক নারী ভোটার। তাই নির্বাচনকালীন সময়ে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকবে নির্বাচন কমিশন। নগরীর একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা সাহিদুল নবী, সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ আমিরুল ইসলাম।

জাতীয় পাতার আরো খবর