৮ রদবদল প্রশাসনের সচিব পদে
প্রশাসনে সচিব পদে আটটি রদবদল করা হয়েছে। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. তমিজুল ইসলাম খান ও এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত দুটি ভিন্ন প্রজ্ঞাপনে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।govt প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সচিব আবু হেনা মো. রাহমাতুল মুমিনকে জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এসএম গোলাম ফারুককে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জিল্লার রহমানকে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীরকে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব মো. মহিবুল হককে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব পদে বদলিপূর্বক নিয়োগ দেয়া হয়। অপর একটি প্রজ্ঞাপনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দিন তালুকদারকে জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত সচিব পদমর্যদায়), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আকরাম আল হোসেনকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত সচিব পদমর্যদায়), এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনকে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (ভারপ্রাপ্ত সচিব পদমর্যদায়) পদে বদলিপূর্বক প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়।
কোনও কোটারই দরকার নেই: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,কোটা নিয়ে যখন এতকিছু, তখন কোটাই থাকবে না। কোনও কোটারই দরকার নেই। বুধবার (১১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিলের ঘোষণা দিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। তার ভাষ্য, কোটা থাকলেই সংস্কারের প্রশ্ন আসবে। এখন সংস্কার করলে আগামীতে আরেক দল আবারও সংস্কারের কথা বলবে। কোটা থাকলেই ঝামেলা। সুতরাং কোনও কোটারই দরকার নেই। শেখ হাসিনার সাফ কথা,কোটা ব্যবস্থা বাদ, এটাই আমার পরিষ্কার কথা। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে রেখেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ কারণে পুরো নগরীতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক সংসদে এই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী সংসদে আরও বলেন, দেখে দুঃখ লাগে, ছেলেমেয়েরা সমস্ত লেখাপড়া বন্ধ করে কোটার সংস্কার চেয়ে আন্দোলনে নেমেছে। রোদের তাপে পুড়ে ওরা তো অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাদের অবরোধের কারণে মানুষ হাসপাতালে যেতে পারছে না। অফিস-আদালতে ঠিকভাবে যেতে পারছে না। জানা গেছে, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিষয়ে এর আগে দলীয় ফোরামে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে জাতীয় সংসদে এবারই প্রথম এ বিষয়ে সরাসরি কথা বললেন তিনি। জাতীয় সংসদে বুধবারের (১১ এপ্রিল) অধিবেশন শুরু হয় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল ৫টায় অধিবেশন শুরু হয়।
কাঠমান্ডুতে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের পরিবার পাবে ৫০ হাজার ডলার
পালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহতদের পরিবার কমপক্ষে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার করে ক্ষতিপূরণ পাবেন বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল। বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ওয়ারসো কনভেনশন অনুযায়ী প্রতিটি নিহতদের পরিবার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে আনুমানিক ৫০ হাজার মার্কিন ডলার করে ক্ষতিপূরণ পাবেন। তিনি বলেন, শুধু নিহতরা না, আহতরাও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাবেন। তবে এর জন্য কিছু আইনি প্রক্রিয়াও রয়েছে। ক্ষতিপূরণের এই অর্থ পেতে আইনি সহায়তার জন্য সিভিল এভিয়েশনের আইনজীবীদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। কামাল বলেন, মন্ট্রিল কনভেনশনে অনুসমর্থন নিয়ে আগামী সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ জানান, বিমান দুর্ঘটনায় আহত-নিহত সবার নাম-ঠিকানা তাদের কাছে আছে। ইন্স্যুরেন্সের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারীর প্রমাণপত্র দিতে হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে, যিনি প্রত্যেকটা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এ বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দেয়া হয়েছে। কি কি তথ্য লাগবে তা পরিবারগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আসিফ বলেন, আহত-নিহতদের ক্ষতিপূরণ বিতরণ করাই এখন আমাদের প্রধান বিষয়। নিহত প্রত্যেক পরিবার ৫০ হাজার ডলারের কম পাবেন না। এসময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব এস এম গোলাম ফারুক ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার একটি বিমান বিধ্বস্ত হলে ৭১ আরোহীর মধ্যে ৫০ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে চার ক্রুসহ ২৭ জন ছিলেন বাংলাদেশি।
প্রধানমন্ত্রীর সুর্নিদিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে কোটা সংস্কারের সুর্নিদিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সাংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান। তিনি বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোটা সংস্কার আন্দোলন চালিয়ে যাবো আমরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতো শতাংশ কোটা সংস্কার করবেন তা না বলা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। এসময় ঢাবির ভিসির বাসভবনে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন ও যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ প্রমুখ। এদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে বুধবার সকাল থেকে ফের আন্দোলন শুরু করেছেন কোটা সংস্কারের সমর্থক শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল ১০টার আগে থেকেই বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সোমবার বৈঠকে ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা। তবে মঙ্গলবার তারা ঘোষণা দেন, সরকারি আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পরদিনই ফের মাঠে নামেন কোটা সংস্কারের সমর্থক শিক্ষার্থীরা। বিভক্ত দুই পক্ষ ঐক্যবদ্ধ হয়েই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। কোটা সংস্কারের দাবিতে সমর্থন দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করছেন।
কোটার সম্পর্ক নেই বাসভবনে হামলার সাথে: ঢাবি উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেছেন, লাশ ফেলে বিভীষিকা সৃষ্টি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারকে অচল করার পরিকল্পনায় নিজ বাসভবনে হামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঢাবি উপাচার্যের বাসভবন পরিদর্শনে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। উপাচার্য বলেন, দুর্বৃত্তরা চেয়েছিল একটি লাশের রাজনীতি করতে, রক্তের রাজনীতি করতে। এটি একবারেই রাজনৈতিক উদ্দেশে করা হয়েছে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে রক্তপাত ঘটিয়ে একটি বিভীষিকাময় পরিবেশ সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করা, সরকারকে অচল করা, অস্থিতিশীল একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা। এটাই আমার কাছে সকল আলামতে মনে হয়। এর সাথে কোটার কোনো সম্পর্ক নেই। উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, সিন্ডিকেট যথার্থই বলেছে, রাত ২টার দিকে যদি পুলিশ-রযাব অ্যাকশনে যেত তবে অনেক প্রাণহানি হতো, যেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়- দুর্বৃত্তদের এটাই ছিল প্রত্যাশা। তিনি আরো বলেন,পুলিশ এবং রযাবের শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে দিয়ে আমরা এই দুর্বৃত্তকে দমন করি নি এবং সেটার জন্য আমরা যে প্রজ্ঞা এবং সাহসী একাগ্রতা এবং নৈতিক মানে উজ্জীবিত থেকেছি এবং বড় আকারের প্রাণহানি যে ঘটেনি সে কারণে সিন্ডিকেট সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এ সময় হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আখতারুজ্জামান বলেন, হামলার আগে মেয়েদের একটি মিছিল স্লোগান দিয়ে গেটের সামনে এলেও তারা ভেতরে ঢুকেনি। রাত সোয়া ১টার দিকে পূর্ব দিক থেকে একদল মিছিল নিয়ে এসে হামলা করে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে গেইটে প্রায় ১৫ মিনিট যাবত হামলা করতে ছিল। তারপর ওয়াল টপকে তারা উপরে উঠে সিসি ক্যামেরা ভেঙে তারপর ভাঙচুর শুরু করল। প্রায় ৭০-৮০ জন হাতে লাঠিসোটা নিয়ে ভেতরে ঢুকেই আলো বাতিগুলো ভাঙতে শুরু করে জানিয়ে উপাচার্য বলেন,তখন আমি বুঝতে পারছি এরা আন্দোলনকারী নয়। তখনই ভাবলাম একটা নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্যই তারা আসছে এবং এটাই এখানে পরিচালিত হবে। তখন পরিবারে সদস্যরা দিগ্বিদিক ছোটাছোটি শুরু করছে। তখন আমি ভাবছি ওরা বুঝি নিচে ভাঙচুর করেই চলে যাবে। এর মধ্যে আমি নিচে যাওয়ার জন্য এগুচ্ছি তখনই তারা উপরে উঠে এসে আমার বেডরুমে ভাঙচুর শুরু করল। এই তাণ্ডবলীলা শুরু করল। আমার মেয়ে ও স্ত্রী কোনোক্রমে পালানোর পথ পেয়ে বের হয়ে গেল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে তার কি ধরণের শাস্তি হবে জানতে চাইলে আখতারুজ্জামান বলেন,এটি খুব অমুলক প্রশ্ন। কারো যদি ক্রিমিনাল হিসেবে শাস্তি হয়। অপরাধী হিসেবে বিচারের মুখোমুখি হয়ে শাস্তি হয়, তাহলে বিধান অনুযায়ী সেগুলো রাষ্ট্র ও সরকারে আইনের মধ্যে হবে। উপাচার্য আরো বলেন, যারা আমার বাড়িতে প্রবেশ করল তাদের মধ্যে থেকে কয়েকজনকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, তারা কিন্তু আমার প্রাণ রক্ষা করেছে। তবে মুখোশ পরা কয়েকজন আমাকে লাঠি হাতে আক্রমণের, আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
সরিয়ে নেয়া হয়েছে পুলিশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার। তিনি জানান, ক্যাম্পাসের ভেতর পুলিশ সদস্যদের ইউনিফর্ম পরে যেতেও নিষেধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। মারুফ হোসেন আরও জানান, ঢাবি ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে এখন কোনও পুলিশ নেই। ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসের কোথাও পুলিশ নেই। ক্যাম্পাসের বাইরে মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ, চানখাঁর পুলের মোড় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আশপাশে পুলিশ রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ফের উত্তেজনা শুরু হয়।
রহস্যময় ড্রোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে
কোটা সংস্কারের দাবিতে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসসহ সারাদেশ। ঠিক সেই মুহূর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে দেখা গেছে রহস্যময় একটি ড্রোন। ড্রোনটি প্রায় ১০ মিনিট অবস্থান করে ঢাবির আকাশে। এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শেইম, শেইম (লজ্জা) বলে স্লোগান দিতে থাকে। মঙ্গলবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার সময় প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির উপরে দেখা যায় ড্রোনটি। তখন লাইব্রেরির সামনে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করছিলেন। এর সামান্য কিছুক্ষণ পর ড্রোনটি ঠিক রাজু ভাস্কর্যের উপরে আসে। এরপর আবার ড্রোনটি লাইব্রেরির উপরে যায়। কিছুক্ষণ নিরুদ্দেশ হয়ে যায় ড্রোনটি। এসময় ড্রোনটিতে কয়েকবার নীল বাতি জ্বলতে দেখা গেছে। ড্রোনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে দেখার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ উদ্বেগ লক্ষ্য করা যায়। ড্রোনের বিষয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান খান বলেন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে কেন ড্রোন সেটা আমরা জানি না। কারা ড্রোন এনেছে সেটাও আমরা জানি না। তবে আমাদের মনে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ড্রোন হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হয়তো বোঝার চেষ্টা করছে কারা আছে কতজন আছে। তরিকুল ইসলাম নামের অন্য এক আন্দোলনকারী বলেন,সরকার হয়তো ড্রোন দিয়ে আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। আমরা কোনো কিছুতে ভয় পাই না। আমাদের যৌক্তিক দাবি মানতেই হবে। আমরা এখানে কী করছি সেটা পুরো জাতি জানে। আমরা আমাদের কথা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছি। ড্রোন কারা এনেছে, কেন এনেছে এটা আমাদের দেখার বিষয় না। আন্দোলন চলছে, আন্দোলন চলবে যোগ করেন তিনি। এর আগে কোটা সংস্কারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আগের মতো আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে ঐক্যবদ্ধ ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীরা। সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এ ঘোষণা দেয় শুরু থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া কমিটি। কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা আসতেই হাজার হাজার শিক্ষার্থী ফের রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হতে থাকেন। মিছিল আর স্লোগানে তারা গোটা ক্যাম্পাস মুখরিত করে রেখেছেন। এর আগে সোমবার সচিবালয়ে সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে কোটা সংস্কার পদ্ধতি পরীক্ষা-নিরীক্ষার আশ্বাসে ৭ মে পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা। তবে অস্পষ্ট আশ্বাস মেনে না নিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকে একাংশ। আজকের ঘোষণার মধ্যদিয়ে এই বিভক্তির অবসান ঘটল। উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার দাবিতে রোববার দুপুরে পূর্বঘোঘিত গণপদযাত্রা শেষে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। পরে রাত ৮টার দিকে তাদের ওপর পুলিশ চড়াও হলে সংঘর্ষ শুরু হয়। সোমবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী আহত হন। এছাড়া শতাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।
সিলেটে মা-ছেলেকে হত্যা যে কারণে করে তানিয়া দম্পতি !
কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার হওয়া তানিয়া আক্তার ও তার স্বামী ইউসুফ মামুন সিলেটের মিরা বাজারের খারপাড়ায় মা-ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করেন। এর আগে পরিবারের সবাইকে রাতের খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ দিয়ে অচেতন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় গলা টিপে শিশু রাইসাকে মৃত ভেবে ফেলে যান তারা। গত ৩০ মার্চ রাত ৩টায় হত্যাকাণ্ড শেষে স্বামী-স্ত্রী বাসা থেকে বেরিয়ে যান। সিলেটের আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে দাবি করে সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নগরীর উপশহরস্থ তাদের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে। ব্রিফিংয়ে পিবিআইর বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক জানান, সিলেট নগরীর মিরা বাজারের খারপাড়ায় মা রোকেয়া বেগম ও ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তানিয়া আক্তারকে (২২) গ্রেফতার করে পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও তানিয়ার দ্বিতীয় স্বামী ইউসুফ মামুনের (২৪) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ঘোষহাটা গ্রাম থেকে সোমবার ভোরে গ্রেফতার করা হয় তাকে। পরে সিলেট আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, তানিয়া আক্তার দুই বছর আগে সিলেটে হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারে আসেন। এখানেই পরিচয় হয় রোকেয়া বেগমের সাথে। পাশাপাশি দেখা হয় মামুনের সাথেও। পরে রোকেয়া বেগম কুমিল্লা থেকে আসা তানিয়াকে বোন বানিয়ে সিলেটে রেখে দেন। এদিকে, মামুনের সাথেও তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর কয়েক দিন পরই মামুনের সাথে তানিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী আলাদা আলাদা বসবাস করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, তানিয়া রোকেয়ার বাসায় থাকতেন। সম্প্রতি তানিয়াকে অসামাজিক কাজে নামাতে চান রোকেয়া। অনেক সময় রোকেয়া বেগম জোর করতেন। আর একথা স্বামী মামুনকে জানালে রোকেয়া বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। এর অংশ হিসেবে গত ৩০ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে তানিয়া, মামুন, রিপন, শিপন ছাড়াও আরো ৪/৫ জন রোকেয়ার বাসায় যান। রাত ৯টার দিকে লোডশেডিং হলে তানিয়া ও মামুন ছাড়া বাকিরা চলে যান। অন্য সময়ের মতো স্ত্রী তানিয়ার সাথে মামুন থেকে যান রোকেয়ার বাসায়। রাতের খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন করা হয়। রাত ১টার দিকে স্বামী-স্ত্রী মিলে প্রথমে রোকেয়া বেগমের কক্ষে যান। ঘুমে অচেতন রোকেয়া বেগমের মুখে কম্বল দিয়ে শ্বাসরোধ করার জন্য চেপে ধরেন তানিয়া আর ছুরি দিয়ে গলা কেটে ও কুপিয়ে রোকেয়াকে হত্যা করেন মামুন। এ সময় রাইসা জেগে উঠলে তার গলায় চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালান মামুন। এতে রাইসা অজ্ঞান হয়ে পড়লে মৃত্যু নিশ্চিত হতে তানিয়া শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করেন। পরে পার্শ্ববর্তী রুমে ঘুমে অচেতন রোকেয়ার ছেলে রোকনকেও একই কায়দায় হত্যা করেন তারা। রাত ৩টার দিকে স্বামী-স্ত্রী বাসা থেকে বের হন। ভোরে তানিয়াকে কুমিল্লার গাড়িতে তুলে দেন মামুন। এ সময় সে সিলেট নগরীতে অবস্থান করেন। পিবিআইর কর্মকর্তা রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, তানিয়া ও মামুন দাবি করেছেন, রোকেয়ার বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপ হতো। নিয়মিত খদ্দেরের আনাগোনা ছিল। আর ছেলে রোকন সবকিছু জানতো ও মাকে সহায়তা করতো। রোকেয়ার বাসায় নিয়মিত মাদকের আসর বসতো। তারা আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের সপ্তাহখানেক আগে রোকেয়া ও তার ছেলে-মেয়ে এবং তানিয়া-মামুন দম্পতিসহ আরো ৪/৫ জন কক্সবাজারে ভ্রমণ করেন। ওই ভ্রমণে আর কারা সঙ্গী ছিল, তাদের নাম জানাতে পারেননি তানিয়া। তারা আরো বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় রিমান্ডে থাকা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নাজমুলের কথা রোকেয়ার মুখে শুনলেও কোনো দিন তাদের দেখা হয়নি। এর আগে বিকেল সোয়া ৩টায় নগরীর উপশহরস্থ সিলেট পিবিআইর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক জানান, গত রোববার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর বন্দরবাজার থেকে তানিয়ার কথিত দ্বিতীয় স্বামী মামুনকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে কুমিল্লার তিতাসে অভিযান চালিয়ে পিত্রালয় থেকে তানিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, গত ১ এপ্রিল পুলিশ লাশ উদ্ধার করার পর পরই সন্দেহভাজনদের মোবাইল ট্র্যাকিং শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, ওই দিনই সিলেট ছাড়ে তানিয়া। সর্বশেষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাকে ট্রেস করা যায়। এর পর থেকে মোবাইল বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল নগরীর মিরাবাজারের খারপাড়া মিতালী আবাসিক এলাকার ১৫/জে নম্বর বাসায় রোকেয়া বেগম (৪০), তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের (১৭) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় রোকেয়ার সাড়ে ৩ বছর বয়সী মেয়ে রাইসাকে উদ্ধার করা হয়। গত এক বছর ধরে এ বাসায় ভাড়া থাকতেন তারা। এ ঘটনায় রোকেয়ার ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ৪-৫ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার পর গত বুধবার শহরতলীর বটেশ্বর এলাকা থেকে নাজমুল হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।

জাতীয় পাতার আরো খবর