আমদানি নিষিদ্ধ সিগারেট জব্দ ৫ কোটি টাকার:শাহজালাল বিমানবন্দরে
বুধবার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাল্লাশি চালিয়ে আমদানি নিষিদ্ধ সাড়ে ৮ আট হাজার ৪শ’ ৫০ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। যার বাজার মূল্য ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর সূত্র জানায়, বুধবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে দুবাই থেকে আসা ফ্লাইট ইকে-৫৮৪ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দারা বিমানবন্দরের এপ্রোন এলাকায় বিশেষ নজরদারি বজায় রাখে। নজরদারির অংশ হিসেবে শুল্ক গোয়েন্দারা কার্গোহোল থেকে ফ্রেশ ফ্রুট ঘোষণায় আনা তিনটি প্লেট শনাক্ত ও আটক করা হয়। পরে ওই কার্টনগুলো কাস্টমস রুমে এনে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয়। পরে সাড়ে ৮হাজার ৪শ ৫০ কার্টনে মোট ১৬ লাখ ৯০ হাজার শলাকা আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। জব্দ হওয়া সিগারেট ৩০৩ ও ৫৫৫ ব্ল্যাক ব্র্যান্ডের। জব্দকৃত পণ্যের বিষয়ে শুল্ক আইনে এবং অন্যান্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানায় ওই সূত্র।
জঙ্গিবাদ দমনে বিশ্বে বাংলাদেশ পুলিশ রোল মডেল: পুলিশ মহাপরিদর্শক
হলি আর্টিজানে হামলার খুব অল্প সময়ে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি, যেভাবে ১৯৭১ সালে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম। এরপর থেকে দেশব্যাপী জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ যে ভূমিকা পালন করেছে তা বিশ্বের কাছে বিস্ময়। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বিশ্বের কাছে রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আয়োজিত সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক বিরোধী সমাবেশে এসব কথা বলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। বুধবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এই সমাবেশের আয়োজন করে রাজশাহী মেট্রোপলিট পুলিশ। সমাবেশে পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে প্রধান বাধা মাদক ও জঙ্গিবাদ। এসমস্যা বর্তমান আমাদের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি শুধু কোন পুলিশি সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক সমস্যা। এই সমস্যাকে রুখে দিতে হলে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা বিশ্বাস করি, আপনাদের সহযোগিতা পেলে জঙ্গিবাদ ও মাদককে আমরা বাংলাদেশ থেকে অচিরেই নির্মূল করতে পারবো। তিনি আরও বলেন, তরুনরা হতাশার কারণে সন্ত্রাসবাদের দিকে ঝুঁকছে, মাদক নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসব থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। এজন্য শিক্ষকদের ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে একজন করে কাউনসেলর রাখা প্রয়োজন। যেন কোন শিক্ষার্থী হতাশাগ্রস্ত হলে যথাযথ পরামর্শ পায় এবং বিপথে না যায়। এ সমাবেশে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, আমরা সন্ত্রাসবাদ দমনে কাজ করছি, মাদক ঠেকিয়ে রাখছি। কিন্তু তাতে সমাজ থেকে এই সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদক ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সকলের দায়িত্ব রয়েছে। আপনাদের পরিচিতদের মধ্যে যারা ভুল পথে গিয়েছে, তাদের ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। আপনারা আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে এই সমস্যা সমাধানে আমাদের বেগ পেতে হবে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে মাদক উৎপাদন হয়না, সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢোকে। সীমান্তের কোন এক জায়গা দিয়ে যদি এক লাখ ইয়াবা দেশে ঢোকে তখন তা আটকানো সহজ। কিন্তু একবার এই ইয়াবা দেশের ভেতর ঢুকে পড়লে তা আটকানো খুব কঠিন। তবুও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি মাদক নির্মূল করতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. খুরশীদ হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু, রাবি স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি সুমাইয়া রহমান কান্তি ও আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু জাকি আল মুনজির। সঞ্চালনা করেন আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাদাকাত মাহমুদ ও মেহজাবিন কথা। এসময় সমাবেশে সমবেত কণ্ঠে কয়েক হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদককে না বলেন। সমাবেশ আয়োজনে সহযোগিতা করে রাজশাহী স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং।
এসএমই মেলায় নারী উদ্যোক্তাদের সাফল্য চান বললেন প্রধানমন্ত্রী
এসএমই মেলার সাফল্য কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন,এ মেলায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অধিকাংশই নারীদের। এটা খুব ভালো লক্ষণ। আমাদের নারীরা সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে এটাও তার প্রমাাণ। নারী উদ্যোক্তারা সফল হোক আমি এটাই চাই। বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৬ষ্ঠ এসএমই মেলা-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তবে গলার অবস্থা খারাপ থাকায় তিনি সরাসরি বক্তব্য দিতে পারেননি। তার লিখিত বক্তব্য উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী মাইকে দাঁড়িয়ে শুধু বলেন,আমার গলার অবস্থা ভাল নয়। এ জন্য বক্তব্য দিতে পারছি না, দুঃখিত। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিল্প সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কে এম হাবিবুল্লাহ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী মেলায় অংশ নেয়া বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এবারের মেলায় মোট ২৯৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। যার অধিকাশই নারীদের প্রতিষ্ঠান। এসএমই শিল্পে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৫ জনকে ট্রফি, সার্টিফিকেট ও চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,বাংলাদেশে শিল্পের প্রসারে ১০০টি ইকোনোমিক জোন করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের প্রসারে বিভিন্ন ট্রেডে ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা আছে। ভালো মানের পণ্যে উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য আমরা পুরস্কার দিচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন,আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছি। ২০২১ সালে আমরা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
বাসায় বাসায় গ্যাস বোমা,সাবধান!
আপনি হয়তো জানেনই না যে, আপনার প্রিয় বাসাটি একটি বড় গ্যাস চেম্বার বা বোমায় পরিণত হয়ে আছে। এই বোমাটি একটি ইলেক্ট্রিক স্পার্কিং কিংবা যুতসই থার্মাল সোর্স (আগুন) পেলেই বিস্ফোরিত হয়ে কেড়ে নিতে পারে আপনার পুরো পরিবার। অবাক হচ্ছেন? না, অবাক হবেন না। কারণ, এদেশের বর্তমান ত্রুটিপূর্ণ নগর ব্যবস্থার অসংখ্য বাসাবাড়ির ক্ষেত্রেই এই কথাটি প্রযোজ্য। ইদানীং কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা থেকে বিষয়টি হয়তো অনেকের নজরে এসেছে। কিন্তু, আমরা (বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সিটিটিসি, ডিএমপি) দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই ঢাকা শহরেই প্রায় অর্ধশত বাসা, দোকান এবং অফিস কক্ষে এই ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে দেখেছি। এসব ঘটনায় মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে নিহত এবং আহত মানুষের সংখ্যা এই শহরের সন্ত্রাসী বোমা হামলায় হতাহতদের মোট সংখ্যার থেকেও অনেক বেশি। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এভাবেই সতর্ক করেছেন গ্যাস বোমার ব্যাপারে। সম্প্রতি গ্যাস বোমায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে গত ২৪শে মার্চ রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায়। গ্যাস থেকে ঘটা ওই বিস্ফোরণে মারাত্মক দগ্ধ হন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাওহীদুল ইসলাম, শাহীন মিয়া, হাফিজুর রহমান ও দীপ্ত সরকার। তাওহীদুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকিরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এই চার মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যু সারা দেশের মানুষকেই নাড়া দিয়েছে। শোকের সাগরে ভাসিয়েছে তাদের সহপাঠীদের। গত ২৭শে মার্চ পল্লবীর মুসলিমবাগ এলাকায় একটি বাড়িতে পানির ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন দগ্ধ হয়। ওই বাড়ির নিচতলায় থাকা পানির ট্যাঙ্কে পানি আছে কিনা, তা দেখার জন্য দেশলাই জ্বালাতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ধরে যায়। এতে দগ্ধ হন পাঁচ জন। তাদের মধ্যে হাসিন আরা বেগম, হাসান এবং ৩ বছর বয়সী শিশু রুহী মারা যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল জানান, দগ্ধদের মধ্যে হাসিন আরা খানমের ৯৫ শতাংশ, রুহির ৯০ শতাংশ ও হাসানের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। জানা যায়, ঘটনার দিন ১১টার দিকে ওই বাড়ির রিজার্ভ ট্যাংক পরিষ্কার করার জন্য হাসান নামে একজন শ্রমিক ট্যাঙ্কের ঢাকনা খুলে টর্চলাইট দিয়ে আর্বজনা দেখছিলেন। এসময় তিনি ট্যাঙ্কের মধ্যে গ্যাসের গন্ধ পান। সেটা দূর করতে তিনি সেখানে মোম জ্বালান। তখনই বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়। এতে সেখানে থাকা পাঁচজনই দগ্ধ হন। পুলিশ কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেনের স্ট্যাটাসে দেয়া তথ্যে আরো বেশকিছু দুর্ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়। ২০০৯ সালে গুলশানের একটি বাসায় এমন একটি বিস্ফোরণের ফলে বিল্ডিং-এর দেয়াল প্রায় ১০/১২ ফুট দূরে গিয়ে একটি গাড়ির ওপর পড়ে। টয়লেটে গিয়ে সিগারেট ধরাতেই এই ঘটনাটি ঘটে। এতে ওই ব্যক্তি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ার পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেয়ার পথে মারা যান। ২০১১ সালের দিকে কোতোয়ালি এলাকায় একটি সেলুনে বিস্ফোরণ ঘটে। একই বছর এলিফ্যান্ট রোডের একটি শোরুমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ২০১২ সালে মিরপুরের একটি বাসায় বিস্ফোরণ হয়। ২০১৩ সালে ভূতেরগলির একটি বাসায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ২০১৫ সালে হাজারীবাগে একটি টয়লেটে বসে সিগারেট ধরাতে গেলে বিস্ফোরণ ঘটে। অনুসন্ধান করে দেখা যায় যে, বাসার টয়লেটের লাইনের একটি ছিদ্র গ্যাস লাইনের একটি ছিদ্রের সঙ্গে কাকতালীয়ভাবে একটি জায়গায় মিশে গেছে। সেই ছিদ্র দিয়ে গ্যাস প্রবেশ করায় দুতলার ঐ টয়লেটটি একটি গ্যাস চেম্বার-এ পরিণত হয়। এতেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ২০১৮ সালে ভালুকা এবং পল্লবী ছাড়াও কুমিল্লায় একটি ঘটনা ঘটেছে। এভাবে গত ১০ বছরে প্রায় একশটি ঘটনা বা বিস্ফোরণ ঘটেছে। ঢামেকের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, প্রতিদিন ইনডোরে গড়ে ৩০-৪০ জন দগ্ধ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এছাড়া আউটডোরে প্রায় ১০০-১৫০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আগুনে দগ্ধ হয় রান্না করতে গিয়ে। তিনি বলেন, ৮০%, ৯০% বার্ন আমরা কোনোদিন বাঁচাতে পারবো না। আমরা প্রতিদিনই আপনাদের বলবো যে রোগীর শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। এটা কোনো সমাধান নয়। মানুষ যাতে না পোড়ে সেদিকে আমাদের নজর দিতে হবে। এটা হচ্ছে আমাদের সকলের এখন মেইন কাজ। নির্দিষ্ট একটি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে। গতকাল রাতে ও আজ সকালে তিনজন এসেছে। এভাবে আসতেই থাকবে। চারটা ব্রিলিয়ান্ট ছেলে যারা মারা গেল তাদেরকে বাবা-মা কতো কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও তাদের বাঁচানো গেল না। কারণ একজন মানুষের শরীরের ৯০% যখন পুড়ে যায় সেই রোগী আর বাঁচে না। এ বিষয়ে সোচ্চার না হলে শুধু আমরা কি চিকিৎসা করলাম আর আপনারা কি প্রতিবেদন লিখলেন এটা কোনো সমাধান নয়। সামন্ত লাল বলেন, আমাদের দেশের অধিকাংশ দুর্ঘটনার বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সত্ত্বেও আমরা দুর্ঘটনার শিকার হই। এর প্রধান কারণ হচ্ছে সচেতনতার অভাব। এক্ষেত্রে ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগ, তিতাস প্রত্যেকেরই উচিত গণ ও জনসচেতনতা তৈরি করা। পোশাক কারখানার দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাবো মালিকরা কোনোদিন ব্রয়লার ঠিকমতো চেক করে দেখে না। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৬ লাখ মানুষ আগুনে দগ্ধ। যদি একটু সচেতনতা তৈরি করা যায় তাহলে এই ৬ লাখ মানুষের বেশিরভাগকেই সুরক্ষা দেয়া সম্ভব। এদিকে শ্রমিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর তথ্যমতে, ২০১৭ সালের প্রথম ১০ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেপটিক ট্যাঙ্কে নেমে ৩১ জন শ্রমিক মারা গেছেন, যা বিগত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সাবধানতার পরামর্শ পুলিশ কর্মকর্তার: নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট স্পেশাল অ্যাকশন ডিভিশন, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম, ডিএমপি মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরো লিখেছেন, গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের ত্রুটিপূর্ণ চুলা বা সরবরাহ লাইনের ত্রুটির কারণে গ্যাস লিকেজ হয়ে ঘরের আনাচে কানাচে তা জমে থাকে। জমে থাকা এই গ্যাস কোনো আগুন কিংবা ইলেক্ট্রিক শর্টসার্কিটের সংস্পর্শে আসা মাত্র প্রজ্বলিত (ওমহরঃবফ) হয়ে প্রচুর তাপ, চাপ ও শব্দের উৎপত্তি করে বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। এভাবেই কিছু বুঝে ওঠার আগে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে অগণিত শহুরে মানুষের প্রাণ। এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনাই সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ পেলেও ত্রুটিবিচ্যুতি নির্ণয় করে পুরোপুরি সচেতন করা সম্ভব হয়নি। সেই সঙ্গে কোনো সমন্বিত উদ্যোগও চোখে পড়েনি। গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা ত্রুটিবিচ্যুতিগুলো তুলে ধরায় কিছু কিছু মানুষ জানলেও তা মোট নগরবাসীর তুলনায় অপ্রতুল। ফলে অনেকের অগোচরেই একেকটি বাসা একটি বৃহৎ গ্যাস বোমায় পরিণত হয়ে যাচ্ছে। এতে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে পরে যাচ্ছে আমাদের আধুনিক, তবে ত্রুটিপূর্ণ নগর সভ্যতার অসংখ্য বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। শুধুমাত্র একটু সচেতন হলেই সবাই সপরিবারে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ। আমি কাউকে আতকিঙ্কত করছি না, আবার একেবারে নিরাপদ আছেন তাও বলছি না। বরং সচেতন হতে পরামর্শ দিচ্ছি। আর করণীয় সম্পর্কে একটু ধারণা দিচ্ছি: ১. ত্রুটিমুক্ত গ্যাসের চুলা এবং মানসম্মত গ্যাস পাইপ ব্যবহার করে তা নিয়মিতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। ২. বাসার আর্কিটেকচারাল ডিজাইন প্রস্তুত করার সময় নিশ্চিত রাখতে হবে যেন পুরো বাসার আনাচে কানাচে বাতাস অবিরাম যাতায়াত (Cinstant Flow-CF) করতে পারে। ৩. বাসা দীর্ঘ সময় ধরে বদ্ধ থাকলে দরজা- জানালা খুলে এয়ার ফ্লো নিশ্চিত করে বিদ্যুতের সুইচ চাপতে হবে, কিংবা চুলায় আগুন জ্বালাতে হবে। ৪. রান্নাঘরে সর্বোচ্চ পরিমাণ ভেন্টিলেশন সিস্টেম নিশ্চিত করতে হবে। ৫. বাসার ভেতর কোনো গ্যাস সিলিন্ডার রাখা যাবে না। পাইপের মাধ্যমে দূর থেকে চুলায় গ্যাস সংযোগ নিতে হবে। ৬. বাসার ইলেক্ট্রিক ওয়ারিং-এ ভালো মানের তার ব্যবহার করতে হবে। তারের মধ্যে কোনো প্রকার জোড়াতালি থাকা যাবে না। ত্রুটিমুক্ত সুইচ ব্যবহার করতে হবে। ৭. বাসায় ত্রুটিপূর্ণ কোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস না রাখাই ভালো। কেননা, ইলেক্ট্রিক এবং থার্মাল- এই দুটো ইগনিশন সোর্সই যেকোনো ত্রুটিপূর্ণ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস থেকে সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি খোদ ডিভাইসটিও বিস্ফোরিত হতে পারে। ২০১০ সালে রামপুরায় একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেন বিস্ফোরিত হয়ে ব্যবহারকারী দগ্ধ হয়ে মারা যায়। ৮. বাসার ভেতর আবদ্ধ জায়গায় মোমবাতি জ্বালানো এবং ধূমপান করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম। ৯. বাসার ভেতর জমে থাকা গ্যাসের অস্তিত্ব নিশ্চিত করার জন্য স্বল্প মূল্যের এক ধরনের গ্যাস ডিটেকশন ডিভাইস পাওয়া যায়। সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনারা সবাই সপরিবারে সুস্থ থাকুন এবং অন্যদের সুস্থতাও নিশ্চিত করুন।
১২০ সংস্থা প্রাথমিকভাবে মনোনীত নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে
নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ১২০টি সংস্থা প্রাথমিকভাবে মনোনীত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন পর্যবেক্ষক হতে এসব সংস্থার বিরুদ্ধে কোনো দাবি, আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা আগামী ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে ইসি সচিব বরাবর লিখিত আবেদন জানাতে বলেছে কমিশন। সোমবার ইসির যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান জানান, কারো বিরুদ্ধে কোনো দাবি, আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তার স্বপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণাদিসহ অভিযোগকারী নাম, ঠিকানা ফোন নাম্বার উল্লেখপূর্বক ৬ সেট আপত্তি দাখিল করতে হবে। শুনানি শেষে তা গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। গণবিজ্ঞপ্তিটি কমিশনের ওয়েবসাইটে www.ecs.gov.bd পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি। ইসি সূত্রে তথ্য জানা যায়, যাচাই-বাছাই, আপত্তি শেষে যোগ্যতা সম্পন্ন সংস্থাগুলোকে পাঁচ বছরের জন্য নিবন্ধন দিবে কমিশন। এর আগে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ইসি। আগ্রহী সংস্থাগুলোর আবেদন করার সময় ছিল গত বছরের ৭ নভেম্বর। নির্দিষ্ট সময়ে প্রায় ২ শতাধিক সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষকের জন্য নিবন্ধনের আবেদন করে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা-২০১৭ অনুসারে পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধনে আগ্রহী বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করে কমিশন। ইসি কর্মকর্তারা জানান, এবার নাম সর্বস্ব কোনো পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এজন্য নীতিমালায় কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। এ নীতিমালা অনুসারে গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। পাশাপাশি যাদের নিবন্ধিত গঠনতন্ত্রের মধ্যে এসব বিষয়সহ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে নাগরিকদের মধ্যে তথ্য প্রচার ও উদ্বুদ্ধ করণের অঙ্গীকার রয়েছে। শুধু সেসব বেসরকারি সংস্থাই নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা হওয়ায় অগ্রধিকার পাবে। এছাড়া নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন বা আছেন কিংবা নিবন্ধন পাওয়ার জন্য আবেদন করা সময়ের মধ্যে কোনো নির্বাচনের প্রার্থী হতে আগ্রহী ব্যক্তির সংস্থাও এবারে নিবন্ধন দেওয়া হবে না বলে জানান তারা। ইসি সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আরপিও-১৯৭২ সংশোধন করে প্রথমবারের মতো নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নবম সংসদ নির্বাচনের সময় প্রথমবারের মতো পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। একইসঙ্গে পর্যবেক্ষক নীতিমালাও তৈরি করা হয়। এরপর ২০১০ সালে নীতিমালা সংশোধন করে তৎকালীন এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন পর্যবেক্ষকদের নিবন্ধনের মেয়াদ বাড়িয়ে পাঁচ বছর করে। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশন ১৩৮টি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে। পরে ২০১৩ সালে নিবন্ধন নীতিমালা সংশোধন করে ১২০টি সংস্থাকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে কমিশন। যাদের পাঁচ বছর মেয়াদকাল ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শেষ হয়। পরে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন বিগত কমিশন নতুন করে নিবন্ধনের সুযোগ সৃষ্টি না করে ওই সংস্থাগুলোর নিবন্ধনের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে দেয়। ফলে সংস্থাগুলো মেয়াদকাল ২০১৭ সালে জানুয়ারিতে শেষ হয়ে যায়। পরে নতুন করে নিবন্ধনের জন্য আবেদন না চেয়ে বর্তমান কে এম নুরুল হুদা কমিশন গত ২৮ মার্চ নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর নিবন্ধনের মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়িয়ে দেয়।
১ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস
জনসাধারণকে ভোটার হতে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতি বছরের ১ মার্চকে জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে উদযাপন করবে সরকার। এ লক্ষ্যে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতি বছরের ১ মার্চকে জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে ঘোষণা এবং দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ বিষয়ক পরিপত্রে খ ক্রমিকে উহা অন্তর্ভুক্তিকরণের একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো অনেক আগে থেকেই এই দিবসটি পালন করে আসছে। জনসাধারণকে ভোটার হতে উদ্বুদ্ধ করতে বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করবে। ১ মার্চকে কেন বেছে নেয়া হলো- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মার্চ মাস হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতার মাস। এই মাসেই আমরা ভোটাধিকার হারাতে বসেছিলাম তাই এই দিনটিকে বেছে নেয়া হয়েছে।
হাজারীবাগে আকলিমা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে অ্যাসিড নিক্ষেপ
সোমবার সকালে রাজধানীর হাজারীবাগে আকলিমা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখানো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত আকলিমা আক্তারের স্বামী জুবায়ের হোসেন জানান, সোমবার সকালে বড় মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় হাজারীবাগ ঝাউচর শাজাহান মার্কেট এলাকায় পৌঁছলে আকলিমার ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করে একব্যক্তি পালিয়ে যায়। এতে আকলিমার মুখের ডান পাশ, বুক ও গলা দগ্ধ হয়েছে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক পার্থ শঙ্কর পাল জানান, আকলিমা আক্তারের ৫ শতাংশ শরীর দগ্ধ হয়েছে।
আরও এক বছর সময় মঞ্জুর বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে
রাজধানীর হাতিরঝিল লেকে অবৈধভাবে নির্মিত বহুতল ভবন ভাঙতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতিকে (বিজিএমইএ) আরও এক বছর সময় মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ভবন ভাঙতে আর সময় চাইবে না বলে সংশোধিত মুচলেকা জমা দেয়ার পর সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, এবার যেন বাস্তবায়ন হয়, ১২ মাস ১০ দিন সময় পাচ্ছেন এটি মনে রাখবেন। আদালতের এ আদেশের ফলে বিজিএমইএ ১৬তলা ভবনটি ভাঙার জন্য ২০১৯ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় পেল। আদালতে বিজিএমইএর পক্ষে মুচলেকা জমা দেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। পরে ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম বলেন, আদালত আমাদের মুচলেকা গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে ভবন ভাঙতে আমাদের ২০১৯ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এক বছর ১০ দিন সময় দিয়েছেন। গত ৫ মার্চ বহুতল ভবনটি ভাঙতে আরও এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। ২৫ মার্চ বিজিএমইএর আবেদনের ওপর শুনানি শেষ করে ২৭ মার্চ আদেশের দিন নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ। এদিন আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে বিজিএমইএর আইনজীবীকে বলেন, ভবন কতদিনের মধ্যে ভাঙবেন, সে বিষয়ে মুচলেকা দিতে হবে। অন্যথায় কোনো সময় আবেদন গ্রহণ করা হবে না। বারবার সময় আবেদন করেন, এতে আমাদেরই লজ্জা লাগে। আদালত বলেন, সময় আবেদনের বিষয়ে মুচলেকা দেয়ার পরেই আদেশ দেয়া হবে। ২৮ মার্চ শেষবারের মতো এক বছরের সময় চেয়ে লিখিত মুচলেকা দেয় বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পরিষদ। লিখিত মুচলেকায় বলা হয়, এর পর আমরা আর সময় চাইব না। তবে সময় না চাওয়ার শর্ত স্পষ্ট না থাকায় মুচলেকাটি সংশোধন করে পুনরায় জমার নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে আজ আদেশের দিন নির্ধারণ করেন আদালত। সংশোধিত মুচলেকা জমা দেয়ার পর আজ আদালত আদেশ দেন। উল্লেখ্য, জলাধার আইন ভেঙে নির্মিত বিজিএমইএ ভবনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যান্সার আখ্যা দিয়ে একে ভেঙে ফেলার আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ২০১৭ সালের ৫ মার্চ আপিল বিভাগ বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলতে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেন। তখন ভবন ভাঙতে কত দিন সময় লাগবে তা জানিয়ে আবেদন করতেও নির্দেশ দেন আদালত। বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ভবন সরাতে তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করেন। এর পর ওই বছরের ১২ মার্চ আপিল বিভাগ আবেদন নিষ্পত্তি করে ভবন সরাতে ছয় মাস সময় দেন। এর পর বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ফের আবেদন করলে গত বছরের ৮ অক্টোবর ভবন ভেঙে ফেলতে পোশাক রফতানিকারকদের এ সংগঠনকে আরও সাত মাস সময় দেন সর্বোচ্চ আদালত। দ্বিতীয় দফায় পাওয়া ওই সময়সীমা ১১ এপ্রিল শেষ হবে। তবে এর আগেই তৃতীয় দফায় আবেদন করে ভবন ভাঙতে আরও এক বছর সময় পেল বিজিএমইএ।
চরম আর্থিক সংকটে ফারমার্স ব্যাংক গ্রাহকরা এখন কী করবে!
বেসরকারি ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের পথেই হাঁটছে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া দি ফারমার্স ব্যাংক। ছয় মাস ধরে সুদের হার দ্বিগুণ বাড়িয়েও আমানত পাচ্ছে না ব্যাংকটি। এ অবস্থায় চরম আর্থিক সংকটে পড়ে এখন আমানতকারীদের টাকাও ফেরত দিতে পারছে না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অনেক গ্রাহককে পে-অর্ডার দিয়ে সাময়িকভাবে শান্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। আর বেশিরভাগ গ্রাহককে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানানো হয়েছে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে। দেশের অর্থনীতিবিদরাও গ্রাহকদেরকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। ফারমার্স ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। ২০১৩ সালের ৩ জুন প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকটি মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস থেকে। বর্তমানে এ সংকট এতটাই তীব্র যে গ্রাহকরা তাদের ছোট-বড় আমানতও তুলতে পারছেন না মাসের পর মাস। ব্যাংকটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন আশঙ্কায় ছোট বড় সব ধরনের গ্রাহক নিজেদের আমানত ওঠানোর আবেদন করে রেখেছেন। কিন্তু ব্যাংক প্রতিবারই তাদের আবেদন ফেরত পাঠাচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, সরকারের জমা রাখা জলবায়ু তহবিলের টাকাও ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে ব্যাংকটি। এ প্রসঙ্গে ফারমার্স ব্যাংকের উপদেষ্টা প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, নতুন করে কোনও আমানত আমরা পাচ্ছি না বললেই চলে। যাদের আমানত ছিল তারা এখনও তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। শাখাগুলোয় অনেকেই ভিড় করছেন। আমরা আমানতকারীদের শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। আমানতকারীদেরকে আমরা অপেক্ষা করতে বলছি, তাদেরকে ধৈর্য ধরতে বলছি। এখন অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনও পথও খোলা নেই। কারণ, এ মুহূর্তে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। তার দাবি, সংকটে পড়ার পরও গ্রাহকদের ২৬০ কোটি টাকা আমানত ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে যদি টাকা পাওয়া যায়, তাহলে সমস্যার সমাধান হতে পারে। সম্প্রতি ফারমার্স ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকরা তাদের টাকা ওঠানোর জন্য ভিড় করছেন। ফারমার্স ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও অনেককে টাকার জন্য ব্যাংকের ম্যানেজারের সঙ্গে বাজে আচরণ করতেও দেখা গেছে। গ্রাহক আরিফুজ্জামান চৌধুরী এই ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় তিনটি ডিপিএস করেছেন। এই ডিপিএসের টাকা ওঠানোর জন্য তিনি গত কয়েকদিন ধরে শাখার ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। লিখিতভাবে টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করেও সাড়া পাচ্ছেন না বলে তিনি জানান। তার মতো আরেক গ্রাহক অ্যাডভোকেট রিপন বিশ্বাস। তিনি মতিঝিল শাখায় ১০ লাখ টাকার ডাবল স্কিমের এফডিআর রেখেছেন। এই টাকা ওঠানোর জন্য তিনিও গত কয়েক মাস ধরে চেষ্টা করছেন বলে জানান। আরও একজন গ্রাহক মাসুম চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনের কাছে হতাশার কথা জানিয়ে বলেন,আমার আড়াই লাখ টাকার এফডিআর ও ৫০ হাজার টাকার ডিপিএস ওঠানোর জন্য ঘুরছি। কিন্তু টাকা পাচ্ছি না। ব্যাংক শুধু সময় দিচ্ছে। এদিকে ব্যাংকের মতিঝিল শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,আমাদের টাকা না থাকার কারণে গ্রাহকদেরকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। গ্রাহকরা আমাদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করছে। এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বেসরকারি ফারমার্স ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেছে। ব্যাংকটি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। এখন আমানত ফেরত পেতে দীর্ঘসময় গ্রাহকদের অপেক্ষা করতে হবে। শুধু ফারমার্স ব্যাংকই নয়, আরও কয়েকটি ব্যাংক ইতোমধ্যে দেউলিয়া পর্যায়ে চলে গেছে। এ জন্য মূলত সুশাসন না থাকা এবং সরকারের অবহেলা দায়ী। কারণ ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের সর্তক থাকার দরকার ছিল। তিনি বলেন,যে কোনও ব্যাংককে দেউলিয়া ঘোষণা করা হলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে ওই ব্যাংকের আমানতকারীরা। কারণ, তাদের টাকা আটকে যাবে। এ জন্য ভিত্তি দুর্বল বা দেউলিয়া পর্যায়ের কোনও ব্যাংকে আমানত না রেখে সর্তক হয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ভালো ব্যাংকে আমানত রাখা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, কোনও ব্যাংকই ঘোষণা দিয়ে দেউলিয়া হয় না। যখন আমানতকারীরা টাকা ফেরত পায় না, তখনই বুঝে নিতে হয় ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেছে। এদিকে, ফারমার্স ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে সেই শেয়ারের অর্থ আমানতধারীদের ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের অর্থ ফেরত দিতে ফারমার্স ব্যাংকের ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) টিআইবির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সংকটে পড়া ফারমার্স ব্যাংক ২০১৭ সালে ৫৩ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে। বছর শেষে ব্যাংকটির আমানত কমে হয়েছে ৪ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা। অথচ ব্যাংকটির ঋণ ৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন,ফারমার্স ব্যাংকের গ্রাহকদের এখন অপেক্ষা করতে হবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ব্যাংক আমানত বীমা নামে একটি তহবিল আছে। কোনও ব্যাংক দেউলিয়া হলে আমানতকারীদের ওই তহবিল থেকে কিছু টাকা দেওয়ার সুযোগ আছে। তবে দেউলিয়া ঘোষিত ব্যাংকে প্রশাসক বা অবসায়ক নিয়োগ পাওয়ার পরও বড় গ্রাহকদের আমানত ফেরত পেতে অপেক্ষা করতে হয় ব্যাংকের সম্পদের ওপর ভিত্তি করে। এ জন্য এখন সময় এসেছে ব্যাংক আমানত বীমা তহবিল সংস্কার করার। এই তহবিলও বাড়ানো দরকার। কারণ এখন অনেকগুলো ব্যাংক দেউলিয়া পর্যায়ে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মাসের পর মাস গ্রাহক তার আমানত ফেরত না পেলেও বাংলাদেশে কোনও ব্যাংককে দেউলিয়া ঘোষণা করা হবে না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন,ব্যাংক যত খারাপই হোক না কেন দেউলিয়া ঘোষণা করলে ব্যাংকের মালিকরা সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। সমাজেও তাদেরকে খারাপ বলা হবে। আবার কোনও ব্যাংক দেউলিয়া ঘোষণা হলে এর প্রভাব অন্য ব্যাংকেও পড়বে। কারণ,গ্রাহক অন্য ব্যাংক থেকেও টাকা উঠানো শুরু করে দেবে। জানা গেছে, বর্তমানে ব্যাংক আমানত বীমা তহবিলে র্ব্তমানে পাঁচ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা জমা আছে। প্রতি ছয় মাস পর ব্যাংকগুলোকে মোট আমানতের ওপর নির্দিষ্ট হারে প্রিমিয়াম জমা দিতে হয়। কোনও ব্যাংক নির্ধারিত সময়ে প্রিমিয়াম পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে তার রক্ষিত হিসাব থেকে প্রিমিয়ামের সমপরিমাণ অর্থ কেটে নেয়। ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ভালো হলে কম প্রিমিয়াম এবং খারাপ হলে বেশি হারে প্রিমিয়াম দিতে হয়। স্বাভাবিক ব্যাংকগুলোকে প্রতি ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ৮ পয়সা হারে প্রিমিয়াম জমা দিতে হচ্ছে। এছাড়া সতর্কতামূলক অবস্থায় (আরলি ওয়ার্নিং) থাকা ব্যাংকের ক্ষেত্রে ৯ পয়সা হারে এবং সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক (প্রবলেম ব্যাংক) ১০ পয়সা হারে প্রিমিয়াম জমার বিধান করা হয়েছে। এর আগে প্রতি ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ৭ পয়সা হারে প্রিমিয়াম জমা দিতে হতো। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন,কোনও ব্যাংকের অবসায়ন ঘটলে ব্যাংকের গ্রাহকদের এই বীমার আওতায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত অবসায়িত ব্যাংকে আমানতকারীর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হতো। কোনও আমানতকারীর এক লাখ টাকা জমা থাকলে তিনি পুরো অর্থই ফেরত পেতেন। তবে বেশি থাকলেও সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা দেওয়া হতো। জানা গেছে, ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর দেউলিয়া হওয়া পাইওনিয়ার ব্যাংক এবং ক্যালকাটা মর্ডান ব্যাংকের লিকুইডেশনের সমস্যা এখনও সমাধান হয়নি। তবে সর্বশেষ ২০০৬ সালে দেউলিয়া হয় ওরিয়েন্টাল ব্যাংক। মালিকপক্ষের লুটপাটের কারণে অতিরুগ্ন হয়ে পড়লে ওই বছরের ১৯ জুন ব্যাংকটির দায়িত্ব নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে মালিকপক্ষের ৮৬ শতাংশ শেয়ারের বড় অংশ কিনে নেয় আইসিবি গ্রুপ। তারপর ব্যাংকটির নাম পরিবর্তন করে করা হয় আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। কিন্তু ওরিয়েন্টালের গ্রাহকরা এখনও টাকা ফেরত পাননি। ১৯৯২ সালে ব্যাংক অব ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ইন্টারন্যাশনাল (বিসিসিআই) বিলুপ্ত হয়ে ইস্টার্ন ব্যাংক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু, বিসিসিআইর বিভিন্ন দেশের গ্রাহকরা এখনও টাকা ফেরত পাননি।এ অবস্থায় দেখার বিষয়, ফারমার্স ব্যাংকের গ্রাহকরা কবে তাদের অর্থ ফেরত পান।

জাতীয় পাতার আরো খবর