উন্নত জাত উদ্ভাবনে তুলা উৎপাদন দিন দিন বাড়ছে: কৃষিমন্ত্রী
১৯সেপ্টেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে হাইব্রিড উন্নত জাত উদ্ভাবন ও চাষের মাধ্যমে তুলা উৎপাদন দিন দিন বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি আজ রাজধানীর খামারবাড়ি সড়কে তুলা উন্নয়ন বোর্ড ভবন তুলা ভবনর ভিত্তি প্রস্তরের ফলক উম্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সারা বিশ্বেই তুলা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৮০ থেকে ৮৬ লাখ বেল তুলা আমদানি করে থাকে। সেখানে দেশে তুলার উৎপাদন মাত্র ২ লাখ বেলের মতো। আগে ১ লাখ বেলের কম তুলা উৎপাদন হতো। তিনি বলেন, এই বিপুল পরিমাণ তুলা আমদানিতে বছরে ২৪ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। যদিও আমদানি করা তুলা ভ্যালু অ্যাডের মাধ্যমে সুতা ও কাপড়ের আকারে বিদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। তিনি বলেন, এসব তুলা দেশে উৎপাদন করতে পারলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হতো। মন্ত্রী বলেন, অন্যান্য ফসলের মতো তুলা উৎপাদনের ওপরও সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছে। কারণ তুলা উন্নয়ন বোর্ড হওয়া মানে এই ফসল উৎপাদনে গুরুত্বারোপ করা। তিনি বলেন, তুলা উন্নয়ন বোর্ডকে সবদিক দিয়ে শক্তিশালী করেছে সরকার। ভৌত অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি, ল্যাবরোটরি স্থাপন ও দক্ষ জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যাতে করে দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপযোগী নতুন জাত উদ্ভাবন করে তুলা উৎপাদন ত্বরান্বিত ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যায়। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশে প্রায় ৭৪ ভাগ জমিতে ধানের আবাদ হয়। এদেশের কৃষি উৎপাদন ও ফসল ব্যবস্থা মূলত ধানকেন্দ্রিক। ইদানিং চালের কনজাম্পশন কমে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকলে অনেক জমি অনাবাদী হয়ে পড়ে থাকবে। সেখানে শাক-সবজি, ফলমূল ও তুলার মতো উচ্চ মূল্যের অর্থকরী ফসল উৎপাদন করা যাবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে তুলা উন্নয়ন বোর্ডকে শক্তিশালী করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, রপ্তানির ক্ষেত্রে শুধু গার্মেন্টস নির্ভরতা নয়, বরং রপ্তানিকে বহুমুখীকরণ করতে হবে। কৃষি মানুষের আহার পুষ্টি জাতীয় খাবারের যোগানের পাশাপাশি শিল্পের কাঁচামালেরও যোগান দেয়। তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে কৃষি বহুমুখীকরণ হবে, রপ্তানি বহুমুখীকরণ হবে এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান।
সীমান্তে হত্যা বন্ধে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হবে: বিএসএফ ডিজি
১৯সেপ্টেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সীমান্তে হত্যা বন্ধে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হবে জানিয়ে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানা বলেন, সীমান্ত হত্য শূণ্যে নামিয়ে আনতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অপরাধীদের কোনো দেশ নেই, সীমান্তের দুপাশেই তাদের অবস্থান। আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিজিবি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে তিনি এ কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেম্পেম্বর) সকালে বিজিবি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ডিজি পর্যায়ের ৫০তম এ সম্মেলনের তৃতীয় দিনে সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও মাববপাচার রোধে সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া ৮ জন বন্দিকে দ্রুত ফিরিয়ে দিতে সম্মত হয়েছে ভারত। সীমান্তে যে কোনো ইস্যুতে মানবাধিকারের বিষয়টি প্রাধান্য দেয়াতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এ সময় বিএসএফ সীমান্ত হত্যা বন্ধে নিশ্চিত করেছে। জয়েন্ট পেট্রোলিং (যৌথ টহল) এর ব্যাপারে বিজিবি-বিসিএফ সম্মত হয়েছে। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করছে। এ দলে বিজিবির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যৌথ নদী কমিশন এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করছেন।
ইউএনও ওয়াহিদা ও তার স্বামীকে বদলি
১৯সেপ্টেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং তার স্বামী রংপুরের পীরগঞ্জের ইউএনও মো.মেজবাউল হোসেনকে ঢাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বদলি করা হয়েছে। ওয়াহিদা খানমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মেজবাউল হোসেনকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বুধবার এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত নেয়। ২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ইউএনওর সরকারি বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর (৭০) ওপর হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তারা বর্তমানে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ওয়াহিদা খানমের চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় সর্বশেষ পুলিশের তদন্তে জানা যায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের অফিসের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারী এই হামলা চালিয়েছেন। ওই কর্মচারীর নাম মো. রবিউল ইসলাম। তিনি বর্তমানে পুলিশের রিমান্ডে আছেন। এর আগে Rab তাদের তদন্তে জানায় চুরির উদ্দেশ্যে ইউএনওর ওপর হামলা হয়।
হাটহাজারী মাদ্রাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত আল্লামা আহমদ শফী
১৯সেপ্টেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যে মাদ্রাসায় জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় পার করেছেন, টানা ৩৪ বছর যে মাদ্রাসার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেই হাটহাজারী আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন দেশের কওমি অঙ্গনের শীর্ষ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় হাটহাজারী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বড় ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ। স্মরণকালের সবচেয়ে বড় এই জানাজায় আলেম, রাজনীতিক, সরকারি কর্মকর্তাসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে হাটহাজারী আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার ভেতরের বায়তুল আতিক জামে মসজিদ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় শতবর্ষী আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সহকর্মী, ছাত্র, ভক্ত ও অনুসারীসহ জানাজায় আসা ধর্মপ্রাণ মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার আসগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা ও আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। রাত ১১টার দিকে গেন্ডারিয়ার আসগর আলী হাসপাতাল থেকে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদে আল্লামা শফীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গোসল এবং কাফন শেষে ভক্ত অনুসারীদের তার মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। মধ্যরাতে তার মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা দেয়। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে Rapid Action Battalion- Rab এর পাহারায় হাটহাজারী মাদ্রাসায় এসে পৌঁছায় আল্লামা শফীর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স। এরপর তার মরদেহ ভক্ত ও অনুসারীদের দেখার জন্য হাটহাজারী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে রাখা হয়। আল্লামা শফীর মৃত্যুর সংবাদ শুনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শুক্রবার রাত থেকেই তার ভক্ত অনুসারীরা তাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং তার জানাজায় অংশ নিতে হাটহাজারী আসতে শুরু করেন। শনিবার সকালে হাটহাজারীতে মানুষের ঢল নামে। চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়কে মানুষের চাপ সামলাপে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। একপর্যায়ে হাটহাজারী বাস স্ট্যান্ড থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। নগরের অক্সিজেন থেকে হাটহাজারী পর্যন্ত যানবাহনের চাপ কয়েকগুন বেড়ে যায়। অনেকে তীব্র রোদের মধ্যে দীর্ঘপথ পায়ে হেঁটে জানাজায় অংশ নেন। দেশের কওমি অঙ্গনের শীর্ষ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জানাজায় অংশ নিতে আসা বিপুল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ এবং Rab এর পাশাপাশি বিজিবি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়। হাটহাজারীতে উপস্থিত হন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন, Rab-7 এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল, পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. বদিউল আলমসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন জানান, শফী হুজুরের জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাইনি। প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করায় সবাইকে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। জানাজা দাফন শেষ হলেও আমরা পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। পরিস্থিতি আগের মতো স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হাটহাজারীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে যোগ করেন তিনি। ১৯১৬ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাখিয়ারটিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তার বাবার নাম বরকম আলী এবং মায়ের নাম মেহেরুন্নেছা বেগম। তিনি দুই ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা মাদ্রাসায় শিক্ষাজীবন শুরু হয় আল্লামা শফীর। এরপর পটিয়ার আল জামিয়াতুল আরাবিয়া মাদ্রাসায় (পটিয়া জিরি মাদ্রাসা) পড়াশোনা করেন তিনি। পরে হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা এবং ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। ১৯৮৬ সালে হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক (মুহতামিম) হিসেবে দায়িত্ব নেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। বৃহস্পতিবার একদল শিক্ষার্থীর আন্দোলনের মুখে পদত্যাগের আগ পর্যন্ত টানা ৩৪ বছর ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো এবং বড় মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসার মহাপরিচালক হিসেবে কওমি মাদ্রাসাগুলোর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর শীর্ষ সংগঠন আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া, বেফাকুল মাদারিসের চেয়ারম্যান ছিলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তিনি ২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। যে সংগঠনের আমির হিসেবে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বার্ধক্যজনিত কারণে অনেকদিন ধরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। গত কয়েক বছরে তিনি বেশ কয়েকবার দেশ ও দেশের বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার আসগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই হাসপাতালেই সন্ধ্যায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের কওমি অঙ্গনের শীর্ষ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফী।
৬ মাস পর শতভাগ আসনে যাত্রী নিয়ে স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল
১৬সেপ্টেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রায় ছয় মাস পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে ট্রেন চলাচল। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে আগের মতো প্রতি আসনে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন পর শতভাগ আসনে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে ছুটছে ট্রেন। তবে বুধবার থেকে অর্ধেক আসনে যাত্রী নেওয়ার নিয়ম বদল করে শতভাগ আসনে ট্রেনের টিকিট বিক্রি হলেও বন্ধ রয়েছে স্ট্যান্ডিং টিকিট। ফলে আপাতত যাত্রীদের দাঁড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ রয়েছে। কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশনে টিকিট ছাড়া প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের সুযোগও বন্ধ করা হয়েছে। এতে ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী দাঁড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ কমেছে অসাধু রেল কর্মকর্তাদের। বুধবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাউন্টারে ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। টিকিট কেনার সময় দূরত্ব বজায় রাখতে আনসার বাহিনী কাজ করছে। প্ল্যাটফর্মের প্রবেশপথে রয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। বাকি ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইন থেকে কিনছেন যাত্রীরা। শতভাগ টিকিট দেওয়ার ফলে অনলাইন ও কাউন্টার থেকে যাত্রার ১০ দিন আগে অগ্রিম টিকিট কিনতে পারছেন যাত্রীরা। প্রতিটি ট্রেনে সব আসনে শতভাগ যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে আগের মতো যাত্রী নিয়ে ছুটছে ট্রেন। দীর্ঘদিন পর পাশাপাশি সিটে বসে যাত্রা করছেন যাত্রীরা। তবে আন্তঃনগর সব ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি বন্ধ রয়েছে। কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারোয়ার বলেন, অনেক দিন পর শতভাগ আসনে যাত্রী নিয়ে চলছে ট্রেন। যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। মোবাইল অ্যাপ-অনলাইনে ৫০ শতাংশ টিকিট ও স্টেশন কাউন্টার থেকে ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। ভোর ৬টা থেকে অনলাইনে ও সকাল ৮টা থেকে কাউন্টারে টিকিট কাটতে পারবেন যাত্রীরা। দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় গত ২৫ মার্চ থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। দুই মাস পর গত ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হয়। তারপর কয়েকটি ধাপে মোট ১০৯ জোড়া অর্থাৎ ২১৮টি যাত্রীবাহী ট্রেন ফের চালু করা হয়েছে। সব মিলে সারা দেশে ৩৬২টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে।
শামুকের পাশাপাশি ঝিনুকও সংরক্ষণ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
১৫সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশজ প্রতিটি উদ্ভিদ ও প্রাণীকে সংরক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শামুকের পাশাপাশি ঝিনুক সংরক্ষণেও তাগাদা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন শিরোনামে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে দেশজ উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষণের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, দেশজ যা কিছু আছে উদ্ভিদ-প্রাণী প্রত্যেকটাকে আমরা সংরক্ষণ করব। শামুক নিয়ে প্রকল্প আছে- ঝিনুক ও কাঁকড়াকেও আনতে হবে। বাংলাদেশের যা প্রাণিজ, জলজ, ভূমিজ সম্পদ আমাদের আছে, প্রত্যেকটা আইটেমকে কাজে আনতে হবে। নিজের মতামত তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, শামুক আমাদের দেশের অনেক নাগরিকরা খায়, তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের। সুতরাং এটা দেশের ভালো কমার্শিয়াল আইটেম। আমি না খাই, আপনি তো খেতে পারেন। প্রকল্পের বিষয়ে বলতে গিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, মূল বার্তা হলো দেশি প্রজাতির মাছ। এগুলোকে বাঁচানো, সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি করা। তার সঙ্গে সঙ্গে শামুক, যা একটি জলজ প্রাণী; শামুক নিয়ে অনেক কথাবার্তা হয়েছে। প্রাইম মিনিস্টার ওয়াজ হাইলি এক্সাইটেড যে, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। কারণ, তার বাড়ি ওই অঞ্চলে। ছোটবেলায় শামুক দেখেছেন। ওই এলাকায় শামুক থেকে চুন তৈরি হয়। কোটালীপাড়ায় চুন হয়। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেন, আপনারা যে গুণগান করছেন শামুক নিয়ে- হাঁসের খাবার হয়। আরেকটা যে কাজ হয়, সেটা মনে আছে? চুন হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা শুধু মানুষের স্বাধীনতা নয়, বাংলার প্রকৃতি পরিবেশ সংরক্ষণ হলো আমাদের আরেকটা উদ্দেশ্য। আমরা নাগরিকরা যারা মানুষ, প্রকৃতির সামান্য অংশ। সুতরাং আমাদের শামুক, টেংরা, পুটি- এদেরও সংরক্ষণ করা উচিত। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য তাই, যোগ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
উড়ো চিঠি যাচাই করা হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৫সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সম্প্রতি একটি কারাগার থেকে আসামি পালানোর ঘটনার পরই দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, একটি কারাগারে যে উড়ো চিঠি এসেছে, সেটা যাচাইয়ের জন্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে মানবিক দিক বিবেচনায় গত মার্চে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে ছয় মাসের জন্য তাকে মুক্তি দেয় সরকার। সেই মুক্তির মেয়াদ মঙ্গলবার আরও ছয় মাস বাড়িয়েছে সরকার। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার ভাইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার দণ্ডাদেশ শর্তসাপেক্ষে আরও ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তিনি এ সময় ঢাকায় থেকে চিকিৎসা নিতে পারবেন। তবে বিদেশ যেতে পারবেন না। কারারক্ষীদের দুর্বলতার কারণে একজন আসামি সম্প্রতি পালিয়ে গেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমন প্রেক্ষাপটে দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। লালমনিরহাট কারাগারে একটি উড়ো চিঠি এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওই কারাগারে এমন চিঠি সব সময়ই আসে। তারপরও চিঠিটি যাচাইয়ের জন্য গোয়েন্দাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সূত্র: জাগো নিউজ
করোনার কারণে চাকরি প্রত্যাশীদের বয়সে ছাড় দিচ্ছে সরকার
১৫সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা মহামাররির মধ্যে গত ২৫ মার্চ যাদের বয়স ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছে তাদের সরকারি চাকরিতে আবেদনের সুযোগ দিতে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি চাকরি প্রত্যাশীদের এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে করোনা মহামারির মধ্যে যাদের সরকারি চাকরির বয়স পার হয়েছে, তাদের বিষয়টি বিবেচনা করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। একজন কর্মকর্তা জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত ২৫ মার্চ যাদের বয়স ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছে তাদের সরকারি চাকরিতে আবদন করার সুযোগ দিতে বলেছেন সরকারপ্রধান। গত ২৫ মার্চ যাদের বয়স ৩০ বছর পার হয়েছে তাদের কত মাস পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে, তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সার্কুলারের মাধ্যমে নির্ধারণ করে দেবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

জাতীয় পাতার আরো খবর