অপারেশনে চোখ হারানো ২০ জনকে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টে রিট
চুয়াডাঙ্গার ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে অপারেশনে চোখ হারানো ২০ জনকে এক কোটি করে মোট ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত রোববার হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করেন। রিট দায়েরের পর তিনি জানান, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিটের ওপর শুনানি হতে পারে। গত ২৯ মার্চ দৈনিক সমকালের প্রথম পাতায় চক্ষু শিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন! শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। গত ৫ মার্চ চুয়াডাঙ্গার কেদারগঞ্জের ইম্প্যাক্টে ২৪ জন নারী-পুরুষের একটি করে চোখের ছানি অপারেশন করা হয়। অপারেশন বাবদ কারও কাছে দুই হাজার, কারও কাছে তিন হাজার ৫০০ টাকা করে নিয়েছিল ইম্প্যাক্ট। ২৪ জনের মধ্যে ২০ জনের অপারেশন করা চোখে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে। তাদের চোখে জ্বালা-যন্ত্রণা ও পানি ঝরতে থাকে। ইম্প্যাক্টে যোগাযোগ করেন তারা। পরদিনই তারা যোগাযোগ করেন ইম্প্যাক্ট হাসপাতালে। তাদের তখন গুরুত্ব না দিয়ে কোনোরকম চিকিৎসা দিয়ে আবারও বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু যন্ত্রণা অসহনীয় হয়ে উঠলে ফের তারা ইম্প্যাক্টে যান। রোগীদের অপারেশন করা চোখের অবস্থা ভয়াবহ দেখে টনক নড়ে ইম্প্যাক্ট কর্তৃপক্ষের। ১৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ঢাকার খামারবাড়ির ইস্পাহানী ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতাল এবং মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের দৃষ্টি চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয় ২০ জনকে। সেখানে ২০ জনের মধ্যে ১৯ জনের একটি করে চোখ তুলে ফেলতে হয়। তবে তাদের আরও আগে ঢাকায় আনলে হয়তো চোখ বাঁচানো সম্ভব ছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন। হায়াতুন নামের এক বৃদ্ধের চোখের অবস্থাও ভালো নয়। সেটি তুলে ফেলা হতে পারে। ঢাকা থেকে অপারেশন করা চোখ তুলে ফেলার পর রোগীদের বাড়ি পাঠিয়েই নিজেদের দায় সারে ইম্প্যাক্ট কর্তৃপক্ষ। পরে রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগও রক্ষা করেনি তারা। ২০ জনের চোখ হারানোর বিষয়ে ২৯ মার্চ সমকালে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ইম্প্যাক্টের সংশ্নিষ্টরা রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। রোগীদের তুলে ফেলা চোখের খোঁজ-খবর নেয়। গত শুক্রবার রোগীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অপারেশনের সময় নেওয়া দুই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আসে ইম্প্যাক্ট।
যোগ্য হয়ে গড়ে উঠতে হবে স্কাউটদের:প্রধানমন্ত্রী
স্কাউটদের দেশের জন্য যোগ্য হয়ে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সকালে চাঁদপুরের হাইমচরের চরভাঙ্গায় বাংলাদেশ স্কাউটসের ষষ্ঠ জাতীয় কমডেকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আগামী প্রজন্মকে সন্ত্রাস ও মাদক থেকে দূরে রাখতে সবার সহযোগিতা চান। স্কাউটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই আমাদের ভবিষ্যত। এদেশের কাণ্ডারী। তোমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। এ সময় শেখ হাসিনা যুব সমাজের জন্য তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন। এর আগে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে বেলা পৌনে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরের হাইমচরে পৌঁছান। স্কাউট সম্মেলনের বক্তব্য শেষে তিনি বিকেলে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দিবেন। সেখানেই তিনি চাঁদপুরে ৪৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। দীর্ঘ আট বছর পর প্রধানমন্ত্রীর এই সফর উপলক্ষে চাঁদপুরে সাজসাজ রব বিরাজ করছে। তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীসহ নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ ও বিলবোর্ড দিয়ে সড়ক সাজিয়েছেন। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচনের জন্য বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে
ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ন বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ সরকার। এমনিতেই দেশটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতি নাজুক এবং উচ্চমাত্রায় উদ্বেগজনক। তার ওপর ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিক্ষোভে প্রায়শই সহিংস মনোভাব প্রদর্শন করছে দেশের আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিগুলো। এ অবস্থায় ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের জন্য বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সেই নির্বাচন হতে হবে সবার অংশগ্রহণমূলক। এ দিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নজর দিতে হবে। মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন এক বিবৃতিতে এসব কথা লিখেছে। এর শিরোনাম বাংলাদেশ: ক্র্যাকডাউন অন অপজিশন প্রায়র টু ইলেকশনস ডেটেরিওরেটস দ্য হিউম্যান রাইটস সিটুয়েশন। বেশ দীর্ঘ ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাপক আকারে মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটছে কর্তৃপক্ষের অধীনে। সব নাগরিকের যে খেয়ালখুশিমতো স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার আছে, তা এরই মধ্যে ঝুঁকিতে পড়েছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুম হয়েছেন ৪২২ জন। এতে জড়িত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দায়মুক্তি পেয়ে গেছে। সম্প্রতি পার্লামেন্টে এক বক্তব্যে এর পক্ষে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গুমকে জাস্টিফাই করেছেন। বলেছেন, বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্রেও তো বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ হন। আবারো জোরপূর্বক গুমকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও এ অঞ্চলে কয়েক দশক ধরে গুমের ঘটনা ঘটে আসছে। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন বলেছে, তবে প্রকৃত সত্য হলো, প্রধানমন্ত্রী যেসব দেশে গুমের কথা বলেছেন সেখানে কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে জোরপূর্বক গুমের ঘটনা ঘটেনি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় ও ১৯৯৬ সালের জুন মাস বাদে অন্য কোনো দশকে কিন্তু বাংলাদেশে গুম হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে। এরপর থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- হয়েছে ১৪৮০টি। এই ধারা অব্যাহত আছেই। নিরাপত্তা হেফাজতে পর্যায়ক্রমিক নির্যাতনে প্রাণ গেছে আরো ১২০ জনের। অন্যদিকে পুলিশি নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা অবস্থায় কয়েক ডজন ভিক্টিমের পায়ে গুলিতে তারা স্থায়ীভাবে বিকলাঙ্গ হয়ে গেছেন। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন ওই বিবৃতিতে আরো লিখেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির মামলাকে কেন্দ্র করে ও ওই মামলায় পাঁচ বছরের জেল দেয়ার আগে পরে বিভিন্ন বাহিনী তাদের নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গণহারে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পোশাক পরা বা সাধারণ বেশে থাকা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন। এ বছর ৩০শে জানুয়ারি থেকে বিরোধী দলের কমপক্ষে ৫ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার, আটক বা নির্যাতন করা হয়েছে। সম্প্রতি গণহারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে। যাদের আটক করা হয়েছে তাদের পরিণতি এখনও জানা যায়নি। পুলিশ এখনও এসব আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রকাশ করেনি যে, তারা কোথায় আছে। আটক ব্যক্তিদের পরিবারগুলো অভিযোগ করছে, তাদের প্রিয়জনকে আটক রাখা হয়েছে কোনো গোপন বন্দিশিবিরে। সেখান থেকে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব নয়। তাদের অব্যাহতভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। নিখোঁজ করে দেয়া হচ্ছে। যেমনটা ঘটেছিল ২০১৩ সালের শেষের দিকে ও ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচনের সময়কালে। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন তার বিবৃতিতে আরো লিখেছে, এরই মধ্যে এক ভয়াবহ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় এক্টর, যেমন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দেখা যাচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সহায়তা করছে, নজরদারি হিসেবে। এক্ষেত্রে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিরোধী দলের ছাত্রবিষয়ক একজন নেতা জাকির হোসেনকে আটক করে পুলিশ রিমান্ডে নেয়া হয়। এর তিন দিন পরে ১২ই মার্চ তিনি মারা যান নির্যাতনে। তার সারা শরীরে ছিল ক্ষতচিহ্ন। তার হাত ও পায়ের আঙুলের নখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন ওই বিবৃতিতে আরো লিখেছে, সর্বশেষ ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে যে দমনপীড়ন চলছে তা যুক্ত হয়েছে সরকারের অব্যাহতভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ বা জনসভার অধিকার প্রত্যাখ্যানের রীতির সঙ্গে। সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য জনসভায় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও তার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বেশির ভাগ সংবাদমাধ্যম হোক সেটা ইলেক্ট্রনিক বা ছাপার সংস্করণ, তার বেশির ভাগেরই মালিক অথবা নিয়ন্ত্রণ করেন সরকারপন্থি ব্যবসায়ী বা সাংবাদিক। নির্বাসনে থাকা একজন বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশ করার কারণে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে খেয়াল-খুশিমতো গ্রেপ্তার করা হয়। ওই আটকের পর তিনিসহ আরো দুজন সাংবাদিক মাহাথির ফারুকী খান ও কনক সারোয়ার বিচারের মুখোমুখি। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন আরো লিখেছে, ওই টেলিভিশনটর মালিকানা এর চেয়ারম্যানের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে সরকারপন্থি একজন ব্যবসায়ীকে দেয়ার চেষ্টা করছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা অব্যাহতভাবে সরকারের নজরদারিতে, পর্যবেক্ষণে, হুকমিতে, নিয়ন্ত্রণে ও প্রতিশোধপরায়ণতার মুখে রয়েছে- এটা হলো তার একটিমাত্র উদাহরণ। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন লিখেছে, গত নয় বছর ধরে অব্যাহতভাবে যেভাবে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে তা এটা নিশ্চিত করে যে, নির্যাতিতদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার কোনো স্থান নেই অথবা তাদের সেই সক্ষমতা নেই। এক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়টি আসতে পারে। তাকে জোর করে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। তার অপরাধ তিনি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বিরুদ্ধে ছিলেন। অথচ সরকার চাইছিল এটা পাস করতে। বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কি পরিস্থিতি তা এর মধ্য দিয়েই উদাহরণ হিসেবে ফুটে উঠেছে। বিশ্বাসযোগ্য মানবাধিকার বিষয়ক ডকুমেন্টে এসব ঘটনাই নিশ্চিত করে। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গুম করে দিতে বা ব্যাপক হারে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বাস্তবায়ন করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যস্ত রেখেছে সরকার। এসব ঘটানো হয়েছে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারিরর নির্বাচনকে সামনে রেখে। সব বিরোধী দল ওই নির্বাচন বর্জন করে। ফলে ক্ষমতাসীন দল ও তার মিত্ররা ১৫৩টি আসন নিয়ে নেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। নির্বাচনে একটি ভোট পড়ারও আগে এ ঘটনাটি ঘটেছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আসন রয়েছে মোট ৩০০। এখন সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মনোভাব দেখে মনে হচ্ছে তারা সেই একই ধারায় অগ্রসর হচ্ছে। একই রকমভাবে দমনপীড়ন চালাবে। যাকেই তারা শাসকগোষ্ঠীর জন্য হুমকি মনে করবে তার বিরুদ্ধেই এমন ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাংলাদেশ সরকার দাবি করেছে, এখানে জাতীয় প্রবৃদ্ধি শতকরা ৭ ভাগের ওপরে। যুদ্ধকবলিত দেশগুলো থেকে ২০১৭ সালে ইউরোপে যেসব উদ্বাস্তু বা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন তার মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক হলো বাংলাদেশি। বিশ্বে শতকরা ৭ ভাগের বেশি জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে এমন কোনো দেশের এমন সংখ্যক শরণার্থী নেই। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন লিখেছে, বাংলাদেশে মানবাধিকার বিপর্যয়ের এত সব বাস্তবতা সত্ত্বেও অপ্রত্যাশিতভাবে নীরব রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এক্ষেত্রে সরকার আন্তর্জাতিক দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু ইস্যুতে। দেশের অভ্যন্তরে যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে তাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য শক্ত বর্ম হিসেবে রোহিঙ্গা ইস্যুকে ব্যবহার করছে বাংলাদেশ। সুষ্ঠু প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার জন্য বাংলাদেশে সবার অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য একটি নির্বাচনের পরিবেশ জরুরি ভিত্তিতে সৃষ্টি করা প্রয়োজন। ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের পরিবর্তে একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতন্ত্রের জন্য মানবাধিকার পরিস্থিতিতে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।
বাংলাদেশি নারীদের কান্না সৌদিতে
বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে যাওয়া নারীদের ভয়াবহ অবস্থা তুলে ধরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই। প্রকাশিত প্রতিবেদনে পত্রিকাটি জানিয়েছে, নিয়োগকারীদের দ্বারা যৌন ও শারীরিকভাবে নিপীড়নের শিকার হয়ে শত শত নারী কাজ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এসব নারীদের থাকার জন্য আশ্রয় কেন্দ্র (সেইফ হোম) খুলতে হয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে। রিয়াদ থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ফাঁস হওয়া গোপনীয় কূটনৈতিক বার্তা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে বলে দাবি মিডলইস্ট আইর। ঢাকার একজন কূটনীতিককে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,পালিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আসা নারীরা অভিযোগ করেন নিয়োগকর্তারা তাদের ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন চালান। কেউ আবার অসুস্থ হয়েও আসেন।তাই তারা এখানে আশ্রয় নিতে চান। ২০১৫ সালে লেখা ওই কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ জন নারী আশ্রয় কেন্দ্রে আসেন। অব্যাহতভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে আসা নারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তারা আশ্রয় কেন্দ্রে আরো আসন বৃদ্ধি ও সিসিটিভি-সিস্টেম পাঠানোর অনুরোধ করেছেন ওই বার্তায়। এছাড়া একজন কাউন্সেলর পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বার্তায় আরো বলা হয়, আশ্রয় কেন্দ্রে আসা নারীদের সহযোগিতার জন্য দূতাবাসে কোনো নারী কূটনীতিক নেই। আশ্রয় নেয়া নারীরা দেশে ফিরে আসতে দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাদের সঙ্গে পাসপোর্ট বা অন্যান্য কাগজপত্র থাকে না। মিডলইস্ট আইকে কয়েকজন নারী জানিয়েছেন, সৌদি আরবে পৌঁছার পর পরই গৃহকর্তারা তাদের কাছ থেকে সব ধরনের কাগজপত্র নিয়ে নেয়। এতে অনেকের পক্ষে সহজে দেশে ফিরে আসা সম্ভব হয় না। আবার কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করে তাদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেন নিয়োগকর্তারা। ফাঁস হওয়া কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছে, এমন ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর দেশে ফিরতে কখনো ১৫ দিন বা এক মাস আবার কখনো ৬ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। সৌদিতে এ ধরনের আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা কত তার কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বার্তায় দেয়া হয়নি। তবে ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, জেদ্দা এবং রিয়াদে অন্তত ২৫০ জন নারী আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলেন। গত চার বছরে সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী যাওয়ার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৭ বছরে ৫ হাজারের কিছু বেশি নারী সৌদি গিয়েছিলেন। এরপর ২০১৫ সালে যান ২১ হাজার, ২০১৬-তে ৬৮ হাজার, ২০১৭-তে ৮৩ হাজার। আর চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে গেছেন ১৬ হাজারের বেশি। উল্লেখ্য, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো মানবজমিনকে জানিয়েছে, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের কূটনীতিকরা দেশটিতে নারী শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে আসছেন অনেক দিন ধরে। নারী শ্রমিকদের সুরক্ষায় সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি সরকারের সঙ্গে ঢাকার প্রতিনিধিদের আলোচনাও হয়েছে। সেগুনবাগিচার কূটনীতিকরা বলছেন, সৌদিতে নারী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধে বাংলাদেশ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি তৎপর রয়েছে। সেই তৎপরতার সুফলও পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি ঢাকার কর্মকর্তাদের।
রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেন স্বাধীনতা বিরোধীরা আসতে না পারে:সাহারা খাতুন
স্বাধীনতাবিরোধীরা যেন কোনোভাবেই রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে না পারে সেদিকে সবাইকেই লক্ষ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এক শ্রেণির লোক আছে যারা অর্থের বিনিময়ে জামায়াত-শিবির ও বিএনপিকে আওয়ামী লীগে ঢোকানোর জন্য আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ওইসব বিএনপি-জামায়াতকে আওয়ামী লীগে ঢোকানোর কোনো দরকার নেই। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে এই দেশকে আর কেউ গরিব দেশ বলে ডাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। আলোচনা সভায় চিত্রনায়ক মাসুম পারভেজ রুবেল বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু সিনিয়র নেতার কারণে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ১৬ কোটি মানুষের। যেমন ভারতের মহাত্মা গান্ধী, রাশিয়ার লেলিন, চীনের মাও সেতুং, ঠিক তেমনই বাংলাদেশের জনক শেখ মুজিবুর রহমান। সংগঠনের সভাপতি মাসুম পারভেজ রুবেলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় কবি ও নাট্যকার কাজী রোজী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মুকুল বোস, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পরিমল ঘোষ রঞ্জিত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সকল সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ:স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সকল সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উপনীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। দারিদ্র্য দূর করে গড়ে তোলা হবে সমৃদ্ধ আলোকিত বাংলাদেশ। শনিবার হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক সচিব অশোক মাধব রায় এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব আলী, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান ও শায়েস্তাগঞ্জের পৌর মেয়র মো. খালেক মিয়া। শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বর্তমান শিক্ষার্থীদের মাঝেই তৈরী হচ্ছে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব। জ্ঞান অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় শিক্ষা জীবন। এ সময়কে কাজে লাগিয়ে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষায় শিক্ষিত হতে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাত্ত্ব আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মার্চ মাস গৌরব ও অহংকারের মাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ একই সূত্রে গাঁথা। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি ও স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। এ সময় তিনি শতবর্ষ পূর্তি উৎসব স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন। এর আগে স্পিকার শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যমান একাডেমিক ভবন উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ এবং শতবর্ষ স্বারক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
চিরতরে বন্ধ করুন কোচিং সেন্টারগুলো:দুদক চেয়ারম্যান
দেশের সব কোচিং সেন্টারগুলোকে দুর্নীতির আখড়া আখ্যা দিয়ে এগুলো চিরতরে বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে বলেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সরকার, ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি। দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সততা সংঘের সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ইকবাল মাহমুদ আরও বলেন, সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন- বাংলাদেশের সব কোচিং সেন্টারগুলো অবৈধ। আমরা বলতে চাই সব কোচিং সেন্টারগুলো শুধু অবৈধ নয়; দুর্নীতির আখড়াও। তাই আসুন সবাই মিলে এই অবৈধ ও দুর্নীতিগ্রস্ত কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। তিনি বলেন, আমাদের সন্তানরা সারা দিন কোচিং সেন্টারে ঘুরে বেড়াবে তা হতে পারে না। তাই যে কোনো মূল্যে সম্মিলিতভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কোচিং বাণিজ্য চিরতরে বন্ধ করতে হবে। শিক্ষকদের উদ্দেশে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আপনারাই জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনাদের সুযোগ-সুবিধা, সামাজিক মর্যাদা, বেতন বৃদ্ধিসহ সব ধরনের উন্নয়নে আপনাদের পাশে থাকবে দুদক। আপনাদের প্রতি অনুরোধ- শ্রেণিকক্ষে এমন শিক্ষার ব্যবস্থা করুন, যাতে আমাদের সন্তানদের কোচিং সেন্টারে যেতে না হয়। এ সময় শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও মর্যাদা আরও বাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ইকবাল মাহমুদ। দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংস্থাটির কমিশনার নাসিরউদ্দীন আহমেদ, এএফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব মো. শামসুল আরেফিন, মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. জাফর ইকবাল।
বান্দরবানে বিজিবির গাড়ি উল্টে,আহত ৬
বান্দরবানের লাইমি পাড়ায় বিজিবির গাড়ি উল্টে খাদে পড়ে ছয় বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে বিজিবি ব্যাটালিয়নের ২৩ জন সদস্যকে বহনকারী একটি গাড়ি বান্দরবান থানচি উপজেলার বলিপাড়ায় বিজিবি ক্যাম্পে যাচ্ছিল। এ সময় ওই গাড়িটি সদরের লাইমি পাড়ার কাছে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ছয় বিজিবি সদস্য আহত হন। আহতদের বান্দরবান সরকারি হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবান সদর থানা পুলিশের (ওসি) গোলাম সরোয়ার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত বিজিবি সদস্যদের উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর