রোজার মাসে দেশি গরুর মাংশের দাম ৪৫০ টাকা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) রোজার মাসে দেশি গরুর মাংশের দাম ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। আজ সোমবার মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের সভাপতিত্বে দক্ষিণ সিটির মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই দর নির্ধারণ করা হয়। এই দাম গত বছর রোজায় বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে ২৫ টাকা কম। গত বছর প্রতি কেজি গরুর মাংসের জন্য ৪৭৫ টাকা দাম ঠিক করে দেয়া হয়েছিল। মেয়র সাঈদ খোকন আরও জানান, এবার ভারতীয় গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪২০ টাকা, মহিষের মাংস ৪২০ টাকা, খাসির মাংস ৭২০ টাকা এবং ভেড়া ও ছাগলের মাংস ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বাজারগুলো ছাড়াও সুপারশপগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে। উত্তর সিটি কর্পোরেশন এই দর মেনে চলবে কি না- এমন প্রশ্নে মেয়র বলেন,সাধারণত আমরা যে দর নির্ধারণ করি তারাও সেটাই করে। গত বছরও দুই সিটি কর্পোরেশনের মাংসের দাম একই ছিল। এই দাম না মানলে মাংস বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেন মেয়র খোকন। তিনি বলেন,এবার মাংসের দাম গতবারের চেয়ে একটু কম। আজকে এই নির্ধারিত দরই সর্বোচ্চ দর হিসেবে বিবেচিত হবে। কিন্তু বিভিন্ন সময় অভিযোগ আসে যে নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে মাংস বিক্রি করেন অনেকে। সিটি কর্পোরেশনের মূল্য তালিকা মানেন না। এবার কেউ বেশি রাখলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত বছর প্রতি কেজি দেশি গরুর মাংসের দাম ঠিক হয়েছিল ৪৭৫ টাকা। এ ছাড়া ভারতীয় গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪৪০ টাকা, মহিষের মাংস ৪৪০ টাকা, খাসির মাংস ৭২৫ টাকা এবং ভেড়া ও ছাগলের মাংস ৬২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, রমজান উপলক্ষে বেঁধে দেয়া এ দর ১ থেকে ২৬ রমজান পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রতি বছর রোজায় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠলেও এবার বাজার সহনীয় থাকবে বলে আশা করছেন মেয়র। তিনি বলেন,আমরা বলতে পারি- পণ্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। অধিকাংশ পণের দাম স্থিতিশীল আছে। আশা করি এমনটা পুরো রোজা জুড়ে থাকবে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মেয়র বলেন,একটি মাস আমরা মুনাফা কম করলাম। এটা করলে হয়ত আল্লাহ আরও উন্নতি দিতে পারে আমাদের ব্যবসায়। একটি মাস মাংসের মূল্য এবং গুণগত মান নিশ্চিত করি। ওজন যেন ঠিক দিই। সাধারণ ক্রেতা যেন না ঠকে। এ ব্যাপারে আমাদের ধর্মেও কঠোর অনুশাসন আছে। এ তিনটি জিনিস আমরা নিশ্চিত করি। ঢাকা মহানগর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রবিউল আলম সভায় দাবি করেন, ব্যবসায়ীরা ওজনে মাংস কখনও কম দেন না। সিটি কর্পোরেশন যে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে তা মেনে চলারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। রমজানে রাজধানীর মাংসের বাজার স্থিতিশীল থাকবে। আমরা যে কোনো মূল্যে এটা মেনে চলার ব্যবস্থা করব। তবে কোনো আধুনিক জবাইখানা নাই বলে মাংসের মান নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। বাযবসায়ী নেতা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় গাবতলী পশুরহাটে মাংস ব্যবসায়ীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, এর পেছনে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা জড়িত। একটি গরুর হাটের জন্য আমরা বেইজ্জতি হচ্ছি। ইজারাদারের সন্ত্রাসীরা মাংস ব্যবসায়ীদের বেঁধে রাখে। রাতের আঁধারে তাদের কাছে টাকা আদায় করে। আর ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা লুটের টাকার অংশ নিচ্ছে, কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছে। দক্ষিণের মেয়রের উদ্দেশে রবিউল আলম বলেন,গাবতলীর সন্ত্রাসীদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করুন। আপনি উত্তরের মেয়রকে একটা ফোন করুন। আমাদের অন্য কোনো দাবি নাই। সরকার যে রেট নির্ধারণ করে দিয়েছে আমরা সেই রেটে টাকা জমা দিতে চাই। এটা করলে তিনশ টাকা কেজি মাংস বিক্রি করা সম্ভব। মাংস ব্যবসায়ীরা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় একটি স্থায়ী গরুর হাট করার দাবি জানালে মেয়র সাঈদ খোকন তা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কামরাঙ্গীরচরে একটি পশুর হাট করে দেওয়া হবে। একটা প্রস্তাব দেওয়া আছে। এটা আমার কাছে গেলে আমি অনুমোদন দিয়ে দেব। রমজানে জবাইখানায় সিটি কর্পোরেশনের বিধি অনুযায়ী স্বাস্থ্যসম্মত এবং হালাল উপায়ে পশু জবাই নিশ্চিত করা এবং পচা-বাসি মাংস বিক্রি না করতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেন মেয়র। তিনি বলেন, ডিজিটাল মেশিনে ওজন করা, মাংসের বর্জ্য অপসারণসহ দোকানের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মাংসের মূল্য তালিকা প্রদর্শন করার নিয়মও মানতে হবে। সভায় ব্যবসায়ীরা গরুর মাংস ৫০০ টাকা, বিদেশি গরু এবং মহিষের মাংস ৪৮০ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০ টাকা, ছাগী ও ভেড়ার মাংস ৬৮০ টাকা রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ সময় কয়েকজন সংবাদকর্মী মেয়রকে জানান, বর্তমান বাজারদর আরও কম। পরে সিটি কর্পোরেশন রোজার জন্য দর ঠিক করে দেয়। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শেখ সালাহউদ্দীন। কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার, গোলাম মর্তুজা মন্টু, শেখ আবদুল বারেকসহ মহানগর এলাকার মাংস ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা এ সভায় অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী ও জয়কে অভিনন্দন
মহাকাশে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১-এর সফল উৎক্ষেপণে আজ মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর আইটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া উপহার দেন। সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অভিনন্দন জানানো হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম বৈঠক শেষে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে একথা বলেন। সচিব বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সফল উৎক্ষেপণ এবং এর মাধ্যমে কক্ষপথে স্যাটেলাইটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ৫৭তম সদস্য হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়কে অভিনন্দন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উত্থাপিত প্রস্তাব গ্রহণ করে মন্ত্রিসভা।
কোটা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের বিষয়ে খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম । সোমবার বেলা ১১টায় সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে নতুনভাবে স্থাপিত মন্ত্রিপরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে কোটা সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা জানান। বৈঠকে সচিব মো. শফিউল আলম বলেন,আজকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোটা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আমি যতটুকু জানি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে খুব শিগগিরই একটি সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে বলে আমি আশা করছি। তিনি আরও বলেন,হয়তো কয়েকদিনের মধ্যেই পেয়ে যাবো। অবিলম্বে এই প্রজ্ঞাপন জারি কার্যকর করা হবে।
ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন,অক্টোবরে তফসিল
অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জের ঘিওর কলেজ মাঠে জনপ্রতিনিধি ও জনতার সমাবেশে একথা বলেন তিনি। খন্দকার মোশাররফ বলেন, অক্টোবরে তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তার মানে অক্টোবরের মাঝামাঝিতে তফসিল ঘোষণা হলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে- এটাই নিয়ম। এটাইতো সাংবিধানিকভাবে দেশের পলিসি, যে পলিসিতে পাঁচ বছর অন্তর অন্তর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন,ওনারা কইতাছে যে খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করে তারা নির্বাচনে যাবে না। মুক্ত করার পথ কি? একজন সাজাপ্রাপ্ত, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মুক্তি করার পথ হইতেছে আইনি প্রক্রিয়া। তাছাড়া মুক্ত করার কোনো পথ নেই। আপনারা মুক্ত করতে চান আইনি ব্যবস্থায় যান। হাইকোর্টে যান, সুপ্রিম কোর্টে যান। তারা যদি মুক্ত করে তাহলে আমাদের কী ঠেকাডা (করার) আছে। আমরাতো চাই ওনাদের নেত্রী এসে নির্বাচন করুক। খেলার মাঠে আমরা দুর্বল টিম নিয়ে কেন খেলতে যাব যোগ করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন,খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার ক্ষমতা আওয়ামী লীগের নাই ,এ সরকারের নাই। যদি ওনারে মুক্ত করতে হয় আদালত ও আইন তারে মুক্ত করবে। আমরা চাই- ওনারা নির্বাচনে আসুক। নির্বাচনে খেলাডা জমুক। মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুকিযোদ্ধা গোলাম মহীউদ্দীনের সভাপতিত্ব এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, জেলা প্রশাসক নাজমুছ সাদাত সেলিম, পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম, মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিমসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা।
আমরা কেন পারব না সিঙ্গাপুর-ভারত পারলে ?
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দেয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে রোগ নির্ণয়ের আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার সকালে রাজধানীর মুগদায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড নার্সিং এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (এনআইএএনইআর) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ নির্দেশ দেন। খবর: বাসস। প্রধানমন্ত্রী বলেন,একটা বিষয় আমরা দেখি রোগ নির্ণয়ের (ডায়াগনসিস) ব্যাপারে কেন যেন কোথায় একটা বিরাট ভুল হয়ে যায়। যদিও যন্ত্রপাতি এখন অনেক উন্নত। তবে, সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ লোকের অভাব রয়েছে। তিনি বলেন,অনেক মডার্ন মেশিন এখন, সেগুলো চালানোর মত বা সেগুলো রিডিং করার মত বা সেগুলোকে দেখার মত সেই ধরনের স্কিলড মানুষ তৈরি করা প্রয়োজন। আশ্বস্ত করে শেখ হাসিনা বলেন,এই দক্ষ জনবল গড়তে কি করতে হবে, আমার মনে হয় আপনারা সেভাবেই ব্যবস্থা নেবেন। আপনারা উদ্যোগ নিয়ে কি করতে হবে বলেন, আমরা করে দেব। কোনো অসুবিধা নাই। তিনি বলেন,এই বিষয়টার সুরাহা হওয়া দরকার। না হলে আমাদের একজন কেউ রোগী হলেই দৌঁড়াতে হবে সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, ভারত বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু, কেন? তারা ভালভাবে যদি পারে, আমরা কেন পারব না, এই প্রশ্নটিই বারবার আমার মনে হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমাদেরও পারতে হবে। সমমানের সমমর্যাদার চিকিৎসাসেবা আমরাও দিতে পারব। সেই অভিজ্ঞতা, সেই শক্তিটা আমাদের অর্জন করতে হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, কোইকা সহ-সভাপতি কিয়াংগুন সুল, কোইকার সাউথ এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর মহাপরিচালক ইয়ো ইয়ং কিং বক্তৃতা করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল হক খান স্বাগত বক্তব্য দেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খালেদার শারীরিক প্রতিবেদন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, দণ্ডিত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংক্রান্ত চিকিৎসক দলের একটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। এটি দেখে কারাবিধি মেনে তার চিকিৎসা দেয়া হবে। শনিবার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে প্রকৌশলীদের প্রতিনিধি সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি একথা জানান। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে- বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খুলনায় কোনো গণগ্রেফতার হচ্ছে না। কাউকে হয়রানিও করা হচ্ছে না। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর কাছে প্রকৌশলীদের নানা সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরা হয়। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন,আপনাদের যৌক্তিক দাবিগুলো দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সরকার সব সময়ই মেনে নেবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইডিইবির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি একেএমএ হামিদ।
স্যাটেলাইট পাঠানোর মধ্য দিয়ে নতুন যুগে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পাঠানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়। মার্কিন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্সর ফ্যালকন-৯ ব্লক-৫ রকেট স্যাটেলাইটটি নিয়ে মহাকাশের পথে পাড়ি জমায়। বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ মিনিটে রকেট উৎক্ষেপণের আধা-ঘণ্টা পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কাঙ্ক্ষিত জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে পৌঁছায়। স্পেস এক্সর স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লাইভ টেলিকাস্টে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধারণকৃত একটি ভিডিও সম্প্রচারিত হয়। এতে যে, যেখান থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কার্যক্রম দেখছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতায় যোগ হচ্ছে আরেকটি মাইলফলক। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করছি। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দিনকে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের অভিহিত করে শেখ হাসিনা বলেন,আজ আমরাও স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য হলাম। প্রবেশ করলাম এক নতুন যুগে। বাংলাদেশের জাতির জনকের নামাঙ্কিত এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার, টেলিযোগাযোগ ও ডেটা কমিউনিকেশন সেবা পাওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, এই স্যাটেলাইটের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তাজিকস্তান, কাজাকস্তান ও উজবেকিস্তানের অংশ বিশেষে সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, বহির্বিশ্বের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগ স্থাপন করতে না পারলে অগ্রগতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য তিনি ১৯৭৪ সালে বেতবুনিয়ায় দেশের সর্ব প্রথম স্যাটেলাইট আর্থ স্টেশন স্থাপন করেছিলেন।
অবশেষে স্বপ্নপূরণ,মহাকাশে বাংলাদেশ
অবশেষে নানা জল্পনা কল্পনা শেষে মহাকাশে দ্বার উন্মোচিত হল লাল-সবুজের। যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাতে মহাকাশের পথে যাত্রা করলো বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। এর মধ্যে দিয়ে তথ্য প্রযুক্তির দুনিয়ার সর্বোচ্চ স্তরে পা রাখলো বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৪টা ১৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিট) স্পেস এক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাবেরাল উৎক্ষেপণ মঞ্চ থেকে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। স্যাটেলাইন উৎক্ষেপণকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স জানিয়েছে, স্যাটেলাইটটির সফল উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হয়েছে। মহাকাশের পথে দ্রুতবেগে ছুটে চলা স্যাটেলাইটটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছতে সময় নিয়েছে ৩৩ মিনিট। সেইসাথে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ পার হওয়া স্যাটেলাইটটির বহনকারী রকেট ফ্যালকন-৯। গতকাল কারিগরি জটিলতার কারণে একই সময় ফ্লোরিডার এ উৎক্ষেপণ মঞ্চ থেকে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ আটকে যায়। এর আগেও গত ৪ মে উৎক্ষেপেণের কথা ছিল প্রায় ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ স্যাটেলাইটটির । কিন্তু, কারিগরি কারণে ৭ মে উৎক্ষেপেণের সিদ্ধান্ত হলেও পরে তা পিছিয়ে ১০ মে করা হয় এ মহাকাশ যাত্রার। কিন্তু শেষমেস একদিন পর মহাকাশ জগতে অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। উৎক্ষেপণের পর স্যাটেলাইটটি কবে নাগাদ মহাকাশে পৌঁছবে সে বিষয়ে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মেজবাহউজ্জামান বলেন, ফ্যালকন-৯ রকেট ৩.৫ মেট্রিক টন ওজনের বঙ্গবন্ধু-১ যোগাযোগ স্যাটেলাইটটি মহাকাশে নিয়ে যাবে। মহাকাশে নির্দিষ্ট স্লটে এটির পৌঁছতে ৮ দিন সময় লাগবে। এ স্যাটেলাইটের সাথে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এ স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপনের ফলে সক্ষমতা বৃদ্ধি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও সাশ্রয়, দেশের দুর্গম অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা প্রদান, আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ ও দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। সেইসাথে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করছেন তারা। এদিকে দেশের এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত সরাসরি দেখতে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। সেখানে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি জুনাইদ আহমেদ পলক, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদসহ স্যাটেলাইট প্রকল্পটির শীর্ষ গবেষক ও কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, নিজস্ব স্যাটেলাইটের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৫৭ তম দেশ। ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রজেক্ট নেয়া নেয় সরকার। বিটিআরসি ২০১৫ সালের নভেম্বরে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট নির্মাণের জন্য ফ্রান্সের থালেস এলিনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিস কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে। স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের জন্য বাংলাদেশ ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান ইন্টার স্পুটনিকর কাছ থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায় (স্লট) কক্ষপথ স্লট কেনে। একইসাথে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য স্পেস এক্সর ফেলকন-৯ লঞ্চার ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও চুক্তি করে বাংলাদেশ। এখান থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের মহাকাশ যাত্রার নতুন দিগন্ত।

জাতীয় পাতার আরো খবর