৫টি বাস পেল শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ
অনলাইন ডেস্ক :শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজকে পাঁচটি বাস উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বাসগুলো তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বিআরটিসি’র চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া। এ সময ছাত্র-ছাত্রীদের উপহার হিসেবে ওই বাসের চাবিগুলো তুলে দেন তিনি। কলেজের পক্ষ থেকে বাসগুলোর চাবি গ্রহণ করেন ঢাকা অঞ্চলের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল ও কলেজের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং লজিস্টিকস এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সরওয়ার হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষসহ অন্যরা। বাসগুলো পাওয়ার পর কলেজের অধ্যক্ষ নুর নাহার ইয়াসমিন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান। পাঁচটি বাসের মধ্যে একটি দ্বিতল, একটি ৩০ আসন বিশিষ্ট কোস্টার, বাকিগুলো একতলার। বাস পাওয়ার পর কলেজের অধ্যক্ষ নুর নাহার ইয়াসমিন সাংবাদিকদের সামনে একটি বিবৃতি পড়ে শোনান। সেখানে বলা হয় ওই দুর্ঘটনায় যে আট শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন তাদেরকে সিএমএইচে নেয়া হয়। চারজনকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাকি চারজনের অবস্থা উন্নতির দিকে। অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদে স্কুলে যাতায়াত করতে পারে সেজন্য বাস দেওয়া হয়েছে। একজন অভিভাবক, শিক্ষক বা মা হিসেবে আমি বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয়া হচ্ছে। সেগুলো পর্যায়ক্রমে ও অতি সত্ত্বর বাস্তবায়িত হবে। শিক্ষার্থীদের বিনীতভাবে আহ্বান জানাচ্ছি, তোমরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান ফিরে যাও। পড়াশোনায় মনযোগী হও। তোমাদের জন্য সড়ক নিরাপদ করতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে জানান তিনি। গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের এমইএস এলাকায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হন রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীব।
আজও সড়কে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা
অনলাইন ডেস্ক :রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় গত কয়েকদিন ধরে নিরাপদ সড়কসহ নয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ করছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। আজ শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছে তারা। এ সময় গাড়ি থামিয়ে চালকদের লাইসেন্স যাচাই করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা জানান, সরকার তাদের নয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত এমন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সড়কে কোনো অবৈধ যান চলতে দেওয়া হবে না। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে থাকেন। তবে বরাবরের মতো তারা সহযোগিতা করেছেন অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী বহনকারী যানবাহনকে। জানা গেছে, মতিঝিলে অবস্থান নিয়েছে নটরডেম, মতিঝিল সেন্ট্রাল কলেজ, আরামবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া ফার্মগেট মোড়েও অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকে ফার্মগেট ও আশেপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। ফার্মগেটে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা কোনো লাইসেন্স যাচাই করছে না। তবে তারা যান চলাচলের সুবিধার্তে তিনটি লেন তৈরি করেছে। উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে অবস্থান নিয়েছে বলেও জানা গেছে। এদিকে আন্দোলনের মধ্যে সড়কে বাস না নামানোর ঘোষণা দিয়েছেন পরিবহন মালিকরা। ফলে কোটি মানুষের এই নগরীতে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বাস না পেয়ে অটোরিকশায় দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া গুণতে হচ্ছে মানুষকে। গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর সড়কে নামে শিক্ষার্থীরা। এর পর বৃহস্পতিবার সরকার আন্দোলনকারীদের দাবি মানার ঘোষণা দিয়ে তাদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানানোর পর অঘোষিত ধর্মঘট শুরু করে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা শিক্ষার্থীদের নয় দফা দাবির সবগুলোকেই ন্যায্য মনে করেন এবং একাধিক দাবি ইতিমধ্যে মেনে নিয়ে বাকিগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত কাজ করছে সরকার। এদিকে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঁচটি বাস হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া ওই কলেজের সেনাবাহিনী লগ এরিয়া কমান্ডার মেজর আতাউল হাকিমের কাছে বাসের চাবি হস্তান্তর করেন।
শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে সুজন
অনলাইন ডেস্ক :নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। আজ শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে সংগঠনটি তাদের পূর্ণ সংহতির কথা জানায়। বিবৃতিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে পরিবহন খাতে সব নৈরাজ্যের অবসান এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন বাংলাদেশ, এমনকি বিশ্বের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। ঘাতক বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যু নিয়ে নৌমন্ত্রীর অসংবেদনশীল আচরণ ও দায়িত্বহীন মন্তব্য এবং সড়ক নৈরাজ্য অবসানে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সংশয়ই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে এ আন্দোলনর মাধ্যমে। এই আন্দোলনের পেছনে সর্বস্তরের জনগণের সমর্থনকে সরকারের জন্যে একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা। ‘ইদানীংকালের আন্দোলন ও জনবিক্ষোভগুলোর প্রবণতা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, জনমনে একটি সাধারণ বিক্ষুব্ধতা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। যা বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরিত হচ্ছে এবং বিক্ষোভের রেশ প্রলম্বিত হচ্ছে। সরকারের ক্রমশ কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে ওঠা, বিরুদ্ধমত ও মুক্তচিন্তা দমন, গণতান্ত্রিক পরিসরের সংকোচন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা বিনষ্ট হওয়া তথা সার্বিক অর্থে গণতান্ত্রিক ও সুশাসনের অভাবই জনমনে আস্থার সংকট ঘনীভূত করেছে। যার বিস্ফোরণ ঘটছে নানাভাবে।’ সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক শক্তিসমূহের ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতেই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পথে নেমে এসেছে এবং গত কয়েক দিনে তারা রাজপথের কর্তৃত্ব গ্রহণ করে অভূতপূর্ব জনশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের এই ন্যায়সংগত ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থেকে সব মহলেরই শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি। তরুণতর এই প্রজন্মের এই আন্দোলন এবং তাদের দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক কার্যক্রম আমাদের মধ্যে নতুন আশার সূচনা করেছে। এরা যেন ব্যর্থ না হয় তা সরকারসহ সব মহলকেই নিশ্চিত করতে হবে।’ সরকারের উদ্দেশে সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এই আন্দোলন মোকাবিলায় শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত সরকারের প্রাজ্ঞতার পরিচায়ক। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা উৎকণ্ঠার সঙ্গে লক্ষ করেছি মিরপুর ও বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর সরকার দলীয় সংগঠন ও পুলিশের হামলা। আমরা এসব হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এবং একই সঙ্গে সতর্ক করতে চাই যে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এই ধরনের হামলা ও নিপীড়নের ঘটনা সরকারের জন্য আত্মঘাতী হয়েই দেখা দেবে। আরো ধৈর্য, সহনশীলতা ও আন্তরিকতা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা এর অবসানের দাবি জানাই।
শিক্ষার্থীরা খুব সুন্দর ব্যবহার করেছে আমার সঙ্গে : বাণিজ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক :বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘আমি সেদিন অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে আমার গাড়ি থেকে নেমে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা খুব সুন্দর ব্যবহার করেছে আমার সঙ্গে।’ আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় ভোলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গত ১ আগস্ট রাজধানীর বাংলামটর এলাকায় উল্টোপথে আসা বাণিজ্যমন্ত্রীর গাড়ি ফিরিয়ে দেয় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তিনি গাড়ি থেকে নেমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। নিজেদের যুক্তি বুঝিয়ে বলেছিল শিক্ষার্থীরাও। তোফায়েল বলেন, ‘সেদিন র‍্যাডিসনের সামনে মিম ও রাজীব নামে দুটি সন্তান অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে। এটা খুব দুঃখজনক। আমি নিজেও এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি। এরা কোমলমতি ছাত্র।’ মন্ত্রী আরো বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুব দয়ালু নেতা। কালকের দিনে দুই ফ্যামিলিকে ৪০ লাখ টাকা দিয়েছেন। ২০ লাখ, ২০ লাখ। তারপরে ওদের যে দাবি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সেটিও মেনে নেওয়ার কথা। আমরা আশা করব যে, আমাদের এই প্রজন্মের ছাত্রসমাজ, তারা ঘরে ফিরে যাবে। এমন কিছু করবে না, যাতে তাদের সুনাম নষ্ট হইতে পারে।’ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই হবে এবং এ নিয়ে কারো সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপও হবে না বলে জানান তোফায়েল আহমেদ। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৫টার মধ্যে কিন্তু আমরা ৪টায় জিতেছি। রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল আর হইল গাজীপুর। ২০১৩ সালে কিন্তু বিএনপি ৫টায় জিতেছিল। তার পরে তারা ইলেকশন করে নাই। এই যে ইলেকশন না করার খেসারত তাদের এখন দিতে হচ্ছে। এইবার যদি তারা নির্বাচন না করে, খেসারত আরো বেশি দিতে হবে। কারণ, বিএনপি নামক এই দলটার অস্তিত্ব থাকবে না। সুতরাং বিএনপি জোরজবরদস্তি করতে চায়, পারবে না। আর ইলেকশন হবে আমাদের এই সরকার ক্ষমতায় থেকে। পার্লামেন্টও থাকবে, ইলেকশনও হবে, সংলাপও নাই। কারণ, ১৪ সালের ইলেকশনের সময় প্রধানমন্ত্রী ডেকেছিলেন, কিন্তু তারা আসে নাই। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ৫টা মন্ত্রণালয় দেবেন, তারা আসে নাই। বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করবেন, তারা আসে নাই। এখন সংলাপ সংলাপ করে। এখন আর সংলাপের কোনো সম্ভাবনা নাই। নির্বাচন করতে হবে ক্ষমতাসীন দলের অধীনে। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন।’ এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তাঁর দলীয় কর্মীদের সমস্ত শক্তি নিয়োগ করে নৌকাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
বিএনপি নেতাদের দাবির কোন বাস্তবতা নেই
অনলাইন ডেস্ক :জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরে নানা ধরনের ঘটনা বা দুঘর্টনা ঘটে। সেই ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে সরকারের ব্যর্থতা বলা হয় না। কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সরকার সেটা আমলে নিয়ে প্রতিকার করছে কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং বিএনপি নেতাদের দাবির কোন বাস্তবতা নেই। শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে জাসদ নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের “সরকারের পদত্যাগের দাবির” প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, দুর্ঘটনা চালক ঘটিয়েছে। এর সাথে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রথম দিনই চালকের বিরুদ্ধে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। এখানে সরকারের পদত্যাগ করার প্রশ্নই উঠে না। তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ছোটমনিদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও দূর্ণীতিবিরোধী আন্দোলনকে যারা সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপান্তারিত করার চেষ্টা করে তারা দেশের শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চাই। তারা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ঘোলা জলে মাছ শিকার করতে চায়। সুতরাং বিএনপিসহ যারা এ ব্যাপারে নাক গলানোর চেষ্টা করছেন তাদের বলবো সরকার ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়ে নিয়েছেন। তাই নাক গলিয়ে লাভ নেই। এ সময় কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলীসহ জাসদ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বেপরোয়া গাড়ি চলানোর দুর্ঘটনায় হত্যার বিচার একমাত্র মৃত্যুদন্ড :এরশাদ
অনলাইন ডেস্ক : সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, বেপরোয়া গাড়ি চলানোর দুর্ঘটনায় হত্যার বিচার একমাত্র মৃত্যুদন্ড। জাতীয় পার্টি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালে মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে আইন করেছিলাম। শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর মহাখালী দক্ষিণপাড়ায় বাসচাপায় নিহত দিয়ে খানম মীমের স্বজনদের সান্তনা দিতে গিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে এরশাদ এ মন্তব্য করেন। ছাত্রদের রাজপথে আন্দোলন প্রসঙ্গে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ছাত্রদের এই দাবী রাজনৈতিক নয়, তাদের এ চাওয়া বাঁচার দাবী। তিনি ছাত্রদের চলমান আন্দোলনে তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। শিশুদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের নিন্দা জানিয়েছেন এরশাদ। গণপরিবহণে নৈরাজ্য প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, এখন ১০ থেকে ১২ বছরের শিশুরাও গাড়ি চালায়। লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস যেনো দরকারই নেই। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল এক মন্ত্রী যেভাবে হেসে হেসে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তা লজ্জাজনক। শিশুদের এই আন্দোলনে পুলিশ ও শ্রমিক সংগঠনগুলো যেনো সহিংস আচরণ না করে সে জন্যও সবাইকে সহনশীল থাকতে বলেছেন এরশাদ। ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলন মেনে নিতে সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি। জাপার সবাপতি এরশাদের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন- পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, এস.এম. ফয়সল চিশতী, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, ফখরুল আহসান শাহজাদা ও আব্দুল হামিদ ভাসানী প্রমুখ।
দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ
অনলাইন ডেস্ক :নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এবার নিরাপত্তার অভাব দেখিয়ে রাজধানীসহ দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। এতে পুরো দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সরকারি ছুটির দিন আজ শুক্রবার শিক্ষার্থীদের সড়কে বিক্ষোভ করতে দেখা না গেলেও, দেখা গেছে পরিবহন শ্রমিকদের। রাজধানীতে চলাচলের বাহন হিসেবে অটোরিকশা ও রিকশায় এখন ভরসা যাত্রীদের। সেক্ষেত্রেও গুণতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে দূরপাল্লার পরিবহনের কাউন্টারগুলো বন্ধ রয়েছে। সেখান থেকে কোনো বাস ছাড়া হচ্ছে না; এমনকি কোনো বাস প্রবেশও করছে না। সেখানে কর্তা ব্যক্তিদের কাছে জানতে চাইলে তাদের সবার মোটামুটি একই বক্তব্য, সড়কে নিরাপত্তা নেই। বাস ভাঙচুর করা হচ্ছে। এই অবস্থায় নিরাপত্তার খাতিরে কোনো বাস ছাড়া হচ্ছে না। অন্যদিকে এসব বাসের মালিক ও শ্রমিকরা পরস্পরবিরোধী কথা বলছেন। মালিকরা বলছেন, ভাঙচুরের কারণে শ্রমিকরা বাস চালাতে চাইছেন না। শ্রমিকরা দাবি, মালিকরা বাস নামাতে নিষেধ করেছেন। গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গাড়ির লাইসেন্স চেক, গাড়ির লেন ঠিক করতে দেখা গেলেও শ্রমিকদের বক্তব্য তারা ভাঙচুর করছেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়ত উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীরা বাস ভাঙচুর করায় নিরাপত্তার কারণে বাসের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ভাঙচুর বন্ধ হলে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
মগবাজারে বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত, বাসে আগুন
অনলাইন ডেস্ক :রাজধানীর মগবাজারে বাসচাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ওই বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার (০৩ আগস্ট) জুমার নামাজের পর মগবাজারের ওয়ারলেস গেট সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোটরসাইকেল আরোহীর নাম সাইফুল ইসলাম রানা (২৩)। তিনি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার শেরেবাংলা বাজার গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে। রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিবুল্লাহ জানান, ‘এসপি গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার দিয়ে নেমে মালিবাগের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে আরোহী রানা ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হন। এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন চালককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। আহত রানাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে দুপুর ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান
অনলাইন ডেস্ক :শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে বিএনপি ও তার সাম্প্রদায়িক দোসররা সরকার হটানোর নিরাপদ পথ খুঁজছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এ অভিযোগ করেন কাদের। শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়ে তা কার্যকরেও সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ারও আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগ হচ্ছে, আজকে নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের মধ্যে বিএনপি এবং তার সাম্প্রদায়িক দোসররা সরকার হটানোর নিরাপদ সড়ক খুঁজছে।’ তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টাকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি করবেন না।’ শোকের মাসে দলীয় কার্যক্রম যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনে বিভিন্ন নির্দেশনা দিতেই দলের মহানগর ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে আয়োজন করা হয় এই যৌথ সভা। পরে সংবাদ সম্মেলনে বারবারই উঠে আসে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গ। তাদের সব দাবি মেনে নিয়ে সরকার তা কার্যকরেও পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে বলে জানান কাদের। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রীর নির্দেশে কোনো প্রভোকেশনে কেউ যেন ফাঁদে না পড়ে, সে ব্যাপারে আমাদের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছি। শুধু তারা লক্ষ রাখবে কারা কারা এই আন্দোলনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত করছে।’ এই আন্দোলনে বহিরাগতরা যে প্রবেশ করেছে, গেল কয়েক দিনে নোংরা স্লোগান ও অনেককে হেনস্তার মাধ্যমে তার প্রমাণ মিলেছে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে রাজনীতি প্রবেশ না করানোর অনুরোধ জানিয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দেন তিনি। দাবি আদায় হয়ে যাওয়া ও জনদুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদেরও ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ছাড়া আহত হয় বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হলো শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব। এ ঘটনার পর রাজধানীসহ সারা দেশে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। তারা নিরাপদ সড়কসহ নয় দফা দাবি তুলে করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব দাবি মেনে নিয়ে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। এরই মধ্যে কুর্মিটোলায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাসচাপায় সহপাঠীদের মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এর পর থেকে ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় বাস চলাচল একেবারেই কমে যায়। এমনকি আন্তজেলা বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

জাতীয় পাতার আরো খবর