বাংলাদেশের সব জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে প্রার্থনা
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের শীর্ষ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপাসনা ও যাজকদের অভিষেক অনুষ্ঠানে আজ যোগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন পোপ।দেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ৮০ হাজার রোমান ক্যাথলিক এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। পোপ ফ্রান্সিস এ সভায় বাংলাদেশের সব জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে প্রার্থনা করবেন। পোপ ফ্রান্সিস গতকাল বৃহস্পতিবার তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে ঢাকায় পৌঁছান। তিনি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছেন।পোপ তাঁর মিয়ানমার সফরকালে একই ধরনের উন্মুক্ত গণসমাবেশে প্রার্থনায় নেতৃত্ব দেন এবং হাজার হাজার মানুষের সমাবেশে তিনি ক্ষোভ ও প্রতিশোধ পরিহারের আহ্বান জানান।বাংলাদেশে পোপ ফ্রান্সিসের এই সফর ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধান ধর্মগুরুর দ্বিতীয় সফর। ৩১ বছর আগে ১৯৮৬ সালের ১৯ নভেম্বর ভ্যাটিকানের পোপ জন পল দ্বিতীয় সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসেন।পোপ ফ্রান্সিসের এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।সমাবেশের পরে পোপ ফ্রান্সিস ঢাকার বারিধারায় ভ্যাটিকান দূতাবাস পরিদর্শন করবেন। পরে তিনি বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া পোপ নগরীর আর্চবিশপ হাউসে বাংলাদেশের বিশপদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।আগামীকাল শনিবার পোপ তেজগাঁও মাদার তেরেসা হাউস পরিদর্শন এবং হলি রোজারি চার্চে ধর্মগুরু ধর্মীয় ও পবিত্র নারী ও পুরুষ, সেমিনারিয়ান নবিসদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে নগরীর নটরডেম কলেজে প্রায় ১০ হাজার নবীনের সামনে ভাষণ দেবেন।হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানোর পর বিকেল ৫টায় পোপ ঢাকা ত্যাগ করবেন।
শনিবার দেশে আসছে আনিসুল হকের মরদেহ
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের লাশ শনিবার দেশে নিয়ে আসা হবে। মেয়রের এপিএস মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শনিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে আনিসুল হকের লাশ ঢাকায় আনা হবে। বিমানবন্দর থেকে লাশ তার বাসায় নেয়া হবে। ওই দিনই বাদ আসর আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে মরহুমকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। এর আগে শুক্রবার জুমার পর লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক জামে মসজিদে আনিসুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে (লন্ডনের স্থানীয় সময় ৪টা ২৩ মিনিট) লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে মেয়র আনিসুল হক মৃত্যুবরণ করেন। চিকিৎসকরা তার কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসযন্ত্র (ভেন্টিলেশন যন্ত্র) খুলে নেয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ সময় তার স্ত্রী রুবানা হক, ছেলে নাভিদুল হকসহ আত্মীয়-স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। সোমবার রক্তে সংক্রমণের কারণে আনিসুল হকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) স্থানান্তর করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে বৃহস্পতিবার লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। এর আগে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তার কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র খুলে নেয়া হয়। মঙ্গলবার মেয়রের পরিবারের এক সদস্য বলেন, রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাকে আবার আইসিইউতে নেয়া হয়। নাতির জন্ম উপলক্ষে ২৯ জুলাই সপরিবারে আনিসুল হক যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৩ আগস্ট তাকে লন্ডনের ন্যাশনাল নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মস্তিষ্কের রক্তনালিতে প্রদাহজনিত সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিস ধরা পড়লে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেয়া হয়। অবস্থার উন্নতি হলে ৩১ অক্টোবর তাকে আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশনে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৫২ সালের ২৭ অক্টোবর নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন আনিসুল হক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর করে তিনি ১৯৮৬ সালে মোহাম্মদী গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৫ সালে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী আনিসুল হক আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।
আনিসুল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেরমেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, মেয়র আনিসুল হক একজন সফল ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা ছিলেন। শোক বার্তায় তিনি প্রয়াতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এলাকার উন্নয়নে আনিসুল হকের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনগণের কল্যাণে মেয়র আনিসুল হক অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেন। অসাধারণ কাজের জন্য তিনি চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। শেখ হাসিনা প্রয়াতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। মেয়র আনিসুল হক বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের ইউস্টনের ইউনিভার্সিটি কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যু বরণ করেন। ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে ১৩ আগস্ট থেকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সাড়ে তিন মাস ধরে অসুস্থ আনিসুল হকের অবস্থার মাঝে উন্নতি ঘটলেও গত মঙ্গলবার ফের আইসিইউতে নেওয়া হয় তাকে। নাতির জন্ম উপলক্ষে গত ২৯ জুলাই সপরিবারে লন্ডনে যান আনিসুল হক ও তার স্ত্রী রুবানা হক। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন আনিসুল হক। তার মস্তিষ্কের রক্তনালীতে প্রদাহজনিত সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিস শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা।
কম্বোডিয়ায় তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
আসিয়ানের সদস্য দেশ কম্বোডিয়ায় তিন দিনের জন্য সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত হওয়ায় রোহিঙ্গা ইস্যু এখানে গুরুত্ব পাবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের আমন্ত্রণে আগামী ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী সফর করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি বৌদ্ধপ্রধান ও আসিয়ানের সদস্য দেশে আমরা সফর করছি, এর একটা গুরুত্ব আছে। ভিক্ষুদের একটি প্রতিনিধি দলও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে যাবেন, জাতিসংঘের থার্ড কমিটির ভোটাভুটিতে মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নেয় কম্বোডিয়া। এই সফরের পরে মিয়ানমারের প্রতি তাদের অবস্থান পরিবর্তন হবে কিনা, এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেখা যাক কী হয়। আশা করছি সফরের পর আমাদের সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে। তিনি আরো বলেন, এই সফরে দেশ দুইটি তাদের জাতির পিতার সম্মানে নিজ নিজ দেশের রাজধানীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ করবে। বাড়িধারা কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত পার্ক রোড রাস্তাটি কম্বোডিয়ার প্রয়াত রাজা নরদোম সিহানুকের নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একইভাবে কম্বোডিয়া সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে তাদের দেশের রাজধানী নমপেনের একটি প্রধান সড়কের নামকরণ করবে। এই সফরে মোট ১১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
ঢাকায় এসেছেন ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস
বিশ্বের ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় এসেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান পোপ ফ্রান্সিস। বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অভ্যর্থনা জানান পোপ ফ্রান্সিসকে। এ সময় পোপকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পোপ বিমান থেকে নেমে আসার সময় ২১বার তোপধ্বনিতে তাকে স্বাগত জানানো হয়। দুটি শিশু ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ৮৮ বছর বয়সী খ্রিস্টান ধর্মগুরুকে। সফরসূচি অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সাভারে যাবেন পোপ ফ্রান্সিস, জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি। সাভার থেকে ঢাকার ধানমণ্ডিতে গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন পোপ। বঙ্গবন্ধু জাদুঘর থেকে বঙ্গভবনে যাবেন পোপ, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেবেন। রাতে বারিধারার ভ্যাটিকান দূতাবাসে থাকবেন পোপ ফ্রান্সিস। সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশে প্রার্থনা করবেন পোপ ফ্রান্সিস। এরপর ভ্যাটিকান দূতাবাসে সাক্ষাৎ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। বিকালে তিনি যাবেন কাকরাইলের রমনা ক্যাথেড্রালে, সেখানে আর্চবিশপ হাউজে বিশপদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। শান্তি কামনায় আন্তঃধর্মীয় ও সম্প্রদায়গত ঐক্য বিষয়ক সভায় অংশ নেবেন। সফরের শেষ দিন শনিবার সকালে তেজগাঁওয়ে মাদার টেরিজা হাউজ পরিদর্শনে যাবেন পোপ। এরপর তেজগাঁও হলি রোজারিও চার্চে খ্রিস্টান যাজক, ধর্মগুরু ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে চার্চের কবরস্থান পরিদর্শন করবেন। দুপুরের পর ঢাকায় নটরডেম কলেজে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করবেন। ওই দিন বিকাল ৫টায় শাহজালাল বিমানবন্দর ছাড়বেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু। তাকে বিদায় জানাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
পাবনার বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লির জন্য কংক্রিটের মূল স্থাপনা নির্মাণের উদ্বোধন করেছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে ঈশ্বরদী উপজেলায় পদ্মাতীরের রূপপুরে পৌঁছান। প্রকল্প এলাকায় যে জায়গায় নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টর তৈরি হবে, সেখানে অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি কর্ণিক দিয়ে নিজে হাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম কংক্রিট ঢালাইয়ের উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে শুরু হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাণ পর্বের কাজ। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর উপলক্ষে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়ক সাজানো হয় মনোরম সাজে। প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রকল্প প্রধান প্রকৌশলী ইউরিক মিখাইল খোসলেভ বলেন, ২০১৭ সালটি রূপপুর পারমাণবিক বিদুৎকেন্দ্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বছর রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং তৈরির প্রস্তুতি হিসেবে সাববেইজ তৈরি করা হয়েছে। আর এ বছরই শুরু হল রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং তৈরির কাজ। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার পারমাণবিক চুল্লির জন্য ভিত্তি তৈরির কংক্রিট ঢালাই শুরু হল। এ কাজের প্রস্তুতির জন্য যন্ত্রের সাহায্যে মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত সিমেন্ট মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে চুল্লির নিচে মাটির কাঠামোতে কোনো সমস্যা না হয়। বৃহস্পতিবার মূল স্থাপনা নির্মাণ শুরুর পর কাজ শেষ করতে ৬৮ মাস সময় পাবে এ কাজের দায়িত্ব পাওয়া রাশিয়ার কোম্পানি অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট। সরকার আশা করছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে রূপপুরের ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ যোগ হবে জাতীয় গ্রিডে। পরের বছর চালু হবে সমান ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট। রূপপুরের প্রকল্প এলাকায় এক হাজার ৬২ একর জমির ওপর চলছে বিপুল কর্মযজ্ঞ। প্রথম পর্যায়ের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে রুশ সহায়তায়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রোসাটমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি কমিশন। দুই ইউনিট মিলিয়ে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার (১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা)। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত বছর ডিসেম্বরে বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড ব্যয়ের এই প্রকল্পে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। মূল পর্বের কাজ বাস্তবায়নে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে রাশিয়া ৪ শতাংশ হারে সুদে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে। ১০ বছরের রেয়াতকালসহ ২০ বছর মেয়াদে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। আর সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে বাকি ২২ হাজার কোটি টাকা। ১৯৬১ সালে পদ্মা নদীর তীরে রূপপুরে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা প্রকল্পের চেহারা নিতে অর্ধশতক পার হয়ে যায়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ প্রকল্পে গতি আসে; চুক্তি হয় রাশিয়ার সঙ্গে। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনার রাশিয়া সফরের সময় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারিগরী গবেষণার জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার একটি চুক্তি হয়। ওই বছরই অক্টোবরে রূপপুরে হয় ভিত্তিস্থাপন।
গৌরীপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে পেট্রলবোমা হামলা
নিজেস্ব সংবাদদাতা :ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে পেট্রলবোমা হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তারের বাসভবনে এ হামলা চালানো হয়। ইউএনওর বাসার কাজের মহিলা সাতুতী গ্রামের নূর ইসলামের স্ত্রী জোহরা খাতুন জানান, সকাল সোয়া ১০টার দিকে বাসার পেছনের দিক থেকে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। এর পর আগুন ধরে যায়। ইউএনও মর্জিনা আক্তার জানান, ঘটনাস্থল থেকে বোমার বিস্ফোরণে কাচ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে রাখেন ও তদন্তকাজ চালাচ্ছেন।
জঙ্গি আস্তানা , অভিযানে ৩ জন নিহত, আটক ৩
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চরাঞ্চলে জঙ্গিদের একটি আস্তানায় অভিযানের সময় তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে বাড়িটির মালিকসহ তিনজনকে। সোমবার রাত থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখে জঙ্গিদের আত্মসমর্পনের আহবান জানানো হয়। কিন্তু তাতে সাড়া না দিয়ে ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। গোপন সংবাদের ভিত্ততে জঙ্গি আস্তানার খবর পেয়ে সোমবার রাত থেকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার একটি বাড়ি ঘিরে রাখে । অভিযানের শুরুতে জঙ্গিদের আত্মসমর্থণ করতে বলা হলে তারা উল্টো গুলি ছোড়ে। জবাবে, পাল্টা গুলি চালায় ও আবারো তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। পরে, বাড়িটির ভেতরে অভিযান চালায় । এসময় বাড়িটিতে বিকট শব্দে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। পরে রাজশাহী থেকে বোম্ব ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভায়। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ঢাকা থেকে যাওয়া ১২ সদস্যর বোমা নিস্ক্রিয়কারী একটি দল বাড়িটিতে তল্লাশি শুরু করে। এসময় ৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মিডিয়া উইংয়ের প্রধান মুফতি মাহমুদ জানান, এ ঘটনায় বাড়ির মালিক, তার স্ত্রী ও আরো একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হয়েছে। এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন
ভাসানচরে ১ লাখে ৩ হাজার ২০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীর আবাসন নিশ্চিতে আশ্রয়ন-৩ নামে প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। চলতি সময় থেকে নভেম্বর ২০১৯ মেয়াদে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বলে জানিয়েছে একনেক সূত্র। একনেক সভায় রোহিঙ্গাদের জন্য আবাসন প্রকল্পসহ ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অনুমোদিত ১৪ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৯৯ কোটি ২৮লাখ টাকা। যার মধ্যে সরকারি ১০ হাজার ৪৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় আশ্রয়ন-৩ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত ১৪ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৯৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা। যার মধ্যে সরকারি ১০ হাজার ৪৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

জাতীয় পাতার আরো খবর