সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে শিখা অনির্বাণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় রাষ্ট্রপতি ও সোয়া ৮টায় প্রধানমন্ত্রী এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় শহীদদের উদ্দেশে সশস্ত্র সালাম নিবেদন করেন তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শিখা অনির্বাণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর সেখানে নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ ও বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল আবু এসরার। এ ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনীর ঘাঁটির মসজিদগুলোতে ফজরের নামাজ শেষে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। তা ছাড়াও দিবসটি পালনে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সেনা গ্যারিসন, নৌ জাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতেও নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা (সদরঘাট), নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশালে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনীর জাহাজগুলো আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
২ ডিসেম্বর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)
রবিউল আউয়ালের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে হিজরি মাসটি, ফলে ঈদ–ই মিলাদুন্নবী (দ.) পালিত হবে আগামী ২ ডিসেম্বর। খবর বিডিনিউজের। ধর্ম সচিব আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে ঈদ–ই মিলাদুন্নবীর তারিখ নির্ধারণ হয়। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও মৃত্যুর দিনটি (১২ রবিউল আউয়াল) সমগ্র বিশ্বের মুসলিমরা ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) হিসেবে পালন করে। এই দিনে বাংলাদেশে সরকারি ছুটি থাকে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম–সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্‌ উদ্দিন চৌধুরী, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. হাফিজুর রহমান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম–সচিব (প্রেস) মো. মিজান–উল–আলম, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আবদুর রহমান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রমুখ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সাতই মার্চের ভাষণ-মঞ্চ পুনর্নির্মাণের নির্দেশ কেন নয়
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাতই মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন, মঞ্চটি পুনর্নির্মাণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাতই মার্চকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে কেন ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ সোমবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল দেন। একই সঙ্গে সাতই মার্চ তর্জনি উঁচিয়ে স্বাধীনতায় উদ্বুদ্ধকরণে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ভাস্কর্য ওই মঞ্চে কেন করা হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. বশির আহমেদ সাতই মার্চকে ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণা ও যে মঞ্চে বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন, সেই মঞ্চে তাঁর ওই আবক্ষ ভাস্কর্য নির্মাণ করাসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অবন্তী নূরুল। আদালত মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থসচিবসহ বিবাদীদের তিন সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলে আগামী ১২ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন রেখেছেন। এই সময়ের মধ্যে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে ১২ ডিসেম্বর অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে ওই দুই সচিবকে বলা হয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর