পরিবর্তন হওয়া দরকার ট্রাফিক আইন: বিচারপতি খায়রুল হক
আইন কমিশনের এই চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বর্তমান ট্রাফিক আইনের পরিবর্তন করা দরকার। সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার এ কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, যেভাবে প্রতিনিয়ত সড়কে প্রাণ যাচ্ছে, অঙ্গহানী হচ্ছে তাতে ট্রাফিক আইনে পরিবর্তন আনা দরকার। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর শাস্তি যা আছে তাও বাড়ানো দরকার। তাছাড়া আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে সবাইকে আরো বেশি মনোযোগ দিতে বলেন খায়রুল হক। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও আইন থাকা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আসছেন বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, আগামী বুধবার (২ মে) বিকাল ৪টায় গণভবনে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফর পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে। গত রোববার (২৯ এপ্রিল) বৈশ্বিক নারী বিষয়ক সম্মেলনে (গ্লোবাল সামিট অন উইমেন) যোগদান শেষে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের আমন্ত্রণে বৈশ্বিক নারী বিষয়ক ওই সম্মেলনে যোগ দিতে ২৭ এপ্রিল সিডনিতে যান প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনে বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ সম্মাননা দেওয়া হয়।
বজ্রপাতে ১৯ জনের মৃত্যু দেশের ৯ জেলায়
ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। গতকাল রোববার মাগুরা, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, রাঙামাটি, নোয়াখালী, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গোপালগঞ্জ ও গাজীপুরে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। মাগুরা: মাগুরা সদরের অক্কুর পাড়া ও রায় গ্রাম এবং শালিখা উপজেলার বুনাগাতী ও বাকলবাড়িয়া গ্রামে বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন- অক্কুর পাড়ার ভ্যানচালক শামীম, রায় গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আলম, জয়পুরহাটের মনপুরা এলাকার আলম মিয়ার ছেলে মেহেদী এবং বাকলবাড়িয়া গ্রামের শক্তিপদ বিশ্বাসের ছেলে প্রল্লাদ বিশ্বাস (৪০)। সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, কামারখন্দ ও শাহজাদপুর উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও চারজন। নিহতরা হলেন- কাজিপুরের ডিগ্রি তেকানী গ্রামের শামছুল মন্ডল (৫৫), তার ছেলে আরমান (১৪), কামারখন্দের পেস্তক কুড়া গ্রামের কাদের হোসেন (৩৭), শাহজাদপুর উপজেলা ছয়আনি গ্রামের ফারুক খানের ছেলে নাবিল (১৭) ও রাশেদুল ইসলামের ছেলে পলিন (১৫)। নওগাঁ: নওগাঁর সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় এক গৃহবধূ ও এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সাপাহারে সোনাভানের স্বামীসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- সাপাহারের শিমুলডাঙ্গা রামাশ্রম গ্রামের সোনাভান (২২) এবং পোরশার বালিয়াচান্দা গ্রামের মুক্তার হোসেন (১৪)। সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ সদরের সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে নিহত হয়েছেন ললিত মিয়া (৩০) নামের এক কৃষক। রোববার বেলা সাড়ে ১০টায় বাড়ির পাশে বোরো ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। রাঙামাটি: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত হন গৃহবধূ মানছুরা বেগম (৩৫)। তিনি উপজেলার মুসলিম ব্লক এলাকার বাসিন্দা বলে বাঘাইছড়ি থানার ওসি আমির হোসেন জানান। নোয়াখালী: নোয়াখালী সদর ও সেনবাগ উপজেলায় বজ্রপাতে এক স্কুল ছাত্র ও এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও দুইজন। নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের সোহেল রানা জগলুর ছেলে ও নোয়াখালী জিলা স্কুলের সপ্তম শ্রেণির দিবা ক-শাখার ছাত্র ইকবাল হাসনাত পিয়াল (১৩) এবং ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মো. রজন মিয়ার ছেলে মো. শাহিন (২৬)। গাজীপুর: গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও শ্রীপুরে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত পাঁচজন। নিহতরা হলেন- গাইবান্ধার গোবিন্ধগঞ্জ উপজেলার হরিনাথপুরের আব্বাস আলীর ছেলে জাফিরুল ইসলাম (২৮) ও গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ধলাদিয়া গ্রামের কালু কবিরাজের স্ত্রী বিলকিস বেগম (৪৩)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় বজ্রপাতে আব্দুর রহিম (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন দুইজন। রোববার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের দরুইন গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত রহিমের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়। আহতদের নাম জানা যায়নি। গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বজ্রপাতে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত অশোক পান্ডে (২২) কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের পীড়ারবাড়ি গ্রামের জ্ঞানেন্দ্রনাথ পান্ডের ছেলে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ
আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ২১তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এটি দক্ষিণ এশিয়ার সবচাইতে বড় হাসপাতাল ও চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দেশে চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চতর গবেষণার একমাত্র প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর থেকে এ দেশে চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চতর গবেষণা এবং চিকিৎসা সেবায় এটি অনন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, গবেষণা, নতুন রোগের কারণ ও চিকিৎসার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটায় চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসছে। এজন্য দেশের চিকিৎসকদের চিকিৎসাক্ষেত্রে সর্বশেষ জ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে অবহিত থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের একমাত্র উচ্চতর প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আমরা ১৯৯৮ সালে দেশের প্রথম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করি। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশে মেডিক্যাল উচ্চশিক্ষার বিকাশ, স্বাস্থ্যখাতে গবেষণার প্রসার এবং বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আজ দেশের চিকিৎসা জগতে সেন্টার অব এক্সিলেন্সে পরিণত হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০০ শয্যায় উন্নতি করার লক্ষ্যে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রাজশাহী ও চট্টগ্রামে দুটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চালু করার লক্ষ্যে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিলেটে আরো একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পতাকা উত্তোলন, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বেলুন ও পায়রা উড়ানো, বর্ণাঢ্য রযালি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া সকাল সাড়ে ৯ টায় শহীদ ডা. মিলন হলে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া সবাইকে শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রথম চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়। আগে এর নাম ছিলো ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন এন্ড রিসার্চ (Institute of Post Graduate Medical Research, সংক্ষেপে 'IPGMR')। স্থানীয়ভাবে এটি পিজি হাসপাতাল নামেই বহুল ব্যবহৃত পরিচিত। ১৯৯৮ সালে জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নপূর্বক পিজি হাসপাতালকে বাংলাদেশের প্রথম চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরকালে এর প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক এম এ কাদরী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর দেশের চিকিৎসা সেবায় খুলে যায় নতুন দিগন্ত। মেডিকেল শিক্ষায় বিএসএমএমইউ এখন সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের। যার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে স্কপাস ও স্পেনের সিমাগো রিসার্চ গ্রুপ পরিচালিত জরিপে বিশ্ব সেরার তালিকায় ৬৪০তম স্থান অর্জন করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। ওই জরিপে দেশের ১১টি নেতৃস্থানীয় বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিএসএমএমইউ অবস্থান ৫ম। তথ্যমতে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৪৬০ জন ফ্যাকাল্টি মেম্বার, ৫২টি বিভাগ, ৯৫টি পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্স, ৪২টি অধিভুক্ত মেডিক্যাল কলেজ ও ইনস্টিটিউট। এ বিশ্ববিদ্যালয় হতে ২২টি মেডিক্যাল কলেজে ৬২টি রেসিডেন্সি কোর্স পরিচালনা করা হচ্ছে। গত বছরে চালু করা হয়েছে ২৪ ঘণ্টা ল্যাবরেটরি সার্ভিস। বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগে রক্ত, ইউরিন, স্টুল, বডি ফ্লুয়েড, টিউমার মার্কার্সসহ প্রায় ১০০ ধরণের পরীক্ষা সুবিধা চালু রয়েছে। এরমধ্যে স্টুল ফিক্যাল ফ্যাট, ইউরিন এমিনোএসিডইউরিয়া, ফেজ কনস্ট্রাস্ট, বডি ফ্লুয়েড পোলারাইজিং, টিউমার মার্কাস বি টু মাইক্রোগ্লুবুলিন, সি এ ৭২.৪ স্টমার্ক, সাইফ্রা-২১-১ লাং, পরীক্ষাগুলো দেশের মধ্যে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগেই হয়ে থাকে। প্রাপ্ত তথ্যে আরও জানা যায়, এখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয় ৮০০০ রোগী। হাসপাতালে মোট শয্যা সংখ্যা ১৯০৪টি, যার অর্ধেক বরাদ্দ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গরীব রোগীদের জন্য। চালু হয়েছে ১৮ শয্যার রিহ্যাবিলিটেশন মেডিসিন ওয়ার্ড। বর্হিবিভাগে চালু রয়েছে সমন্বিত থ্যালাসেমিয়া সেন্টার। সফলভাবে চলছে বর্হিবিভাগে বৈকালিক বিশেষ চিকিৎসা সেবা। মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে জনগণ পাচ্ছেন অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপকের কাছ থেকে চিকিৎসা পরামর্শ। প্রতিদিন প্রায় হাজার রোগী এই সেবা পাচ্ছেন। রোগীর সর্ব্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে রয়েছে সান্ধ্যকালীন রাউন্ডের ব্যবস্থা। এর অভ্যন্তরে কোথায় কি পাবেন সহজেই তা জানাতে বিএসএমএমইউতে আছে তথ্য ও অভ্যর্থনা কেন্দ্র। আছে আলাদা সেবা কেন্দ্রও। দেশের যেকোন মানসম্মত হাসপাতালের চেয়ে কম খরচে করা হচ্ছে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ আছে এখানে। ল্যাবরেটরি সার্ভিস খোলা থাকে ২৪ ঘন্টা। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এখানকার রেডিওলজি বিভাগ। হৃদরোগীদের জন্য আধুনিক সিসিইউ-১ ও সিসিইউ-২ চালুর পর থেকে দেশের যেকোনও হৃদরোগ চিকিৎসার হাসপাতাল থেকে বিএসএমএমইউর উপর মানুষের আস্থা বেড়েছে বহুগুণ। প্রথমবারের মতো বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সুচিকিৎসার জন্য মুক্তিযোদ্ধা সেল গঠন হয়েছে এখানে। এছাড়া, প্রবীণদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য খোলা হয়েছে জেরিয়াট্রিক মেডিসিন উইং। প্রথমবারের মতো ডে কেয়ার ওটি চালু হয়েছে এখানে। এইডস রোগীদের জন্য বিএসএমএমইউতে খোলা হয়েছে আলাদা ইউনিট।
৪ জন রিমান্ডে ভিসির বাসভবনে হামলার ঘটনায়
সরকারী চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার চারজনের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. রায়হান উল ইসলাম তাদের রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া চারজনের মধ্যে রাকিবুল হাসান ওরফে রাকিবের চার দিন, আলী হোসেন শেখ ওরফে আলীর তিন দিন এবং মাসুদ আলম ওরফে মাসুদ ও আবু সাঈদ ফজলে রাব্বির ওরফে সিয়ামের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আগে চার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এএসপি ফজলুল হক। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি রাকিব হাসান ও আলীর কাছ থেকে উপাচার্যের বাড়ি ভাঙচুরের সময় সিকিউরিটি গার্ডের দুটি মোবাইল খোয়া যায়। সেই দুটি মোবাইল রাকিব হাসান ও আলীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্‌ঘাটনে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া জরুরি। উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টা থেকে ২টার মধ্যে শতাধিক মুখোশধারী উপাচার্যের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা দেশীয় অস্ত্র লোহার রড, পাইপ, হেমার, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে উপাচার্যের বাড়ির ওয়াল টপকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। দুষ্কৃতকারীরা ঐতিহ্যবাহী ভবনে সংরক্ষিত মূল্যবান জিনিসপত্র, আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজ, ফ্যানসহ সকল মালামাল ভাঙচুর করে। দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। ভবনে রক্ষিত সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে ও আলামত নষ্টের জন্য কম্পিউটারে রক্ষিত ডিভিআর পুড়িয়ে দেয়। এতে কমপক্ষে দেড়কোটি টাকার ক্ষতি হয়। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সিকিউরিটি অফিসার এসএম কামরুল আহসান বাদী হয়ে ১০ এপ্রিল মামলা করেন। এছাড়া একই সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের রাস্তা বন্ধ করে টায়ার ও আসবাবপত্র জ্বালানোসহ নাশকতা এবং পুলিশকে মারধরের ঘটনায় আরো তিনটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিটি মামলায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা হয়।
ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার পরিকল্পনা,সিটি নির্বাচনে সেনা নয়
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী বলেছেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে যা যা প্রয়োজন সে ধরনের সকল প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। রোববার দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউজের লবিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচন কমিশনার বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে ও জনগণকে অবহিতকরণের লক্ষ্যে এবারের খুলনা সিটি নির্বাচনে একটি ওয়ার্ডে অথবা ৪/৫টি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোকে সিসি টিভির আওতায় আনার জন্য কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিটি ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। এজন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে। শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী বলেন, সকল দলের প্রার্থীরা যাতে নির্বাচনে তাদের প্রচার- প্রচারণা স্বাভাবিকভাবে করতে পারেন সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে ১২ জন ও গুরুত্বপূর্ণ (ঝুকিপূর্ণ) কেন্দ্রের জন্য ২২ জন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অস্ত্রসহ মোতায়েন থাকবে। শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসনের ১৩/১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইতোমধ্যে মাঠে কাজ করছে। আগামী ১৩ মে খুলনা সিটিতে বিজিবি মোতায়েন করা হবে। এছাড়াও র‌্যাব, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নির্বাচনের মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় উপস্থিত ছিলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ, বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, খুলনার রেঞ্জ ডিআইজি দিদার আহমেদ, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির, জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান, র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। এর আগে তিনি খুলনা সার্কিট হাউজের সম্মেলন বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সভায় মিলিত হন। উল্লেখ্য, আগামী ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নকশা প্রকাশে নীতিমালা হচ্ছে সংসদের
লুই আই কানের অনন্য সৃষ্টি জাতীয় সংসদ ভবন। স্থাপত্যের ভাষায় যাকে বলা হয় মাস্টার পিস বিশ্বের সেরা কয়েকটি স্থাপত্যের একটি। জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশাসহ গুরুত্বপূর্ণ দলিল, তথ্য-উপাত্ত, চুক্তি ইত্যাদি প্রকাশ করতে নীতিমালা তৈরি করেছে সংসদ সচিবালয়। খসড়া নীতিমালাটি সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। তথ্য অধিকার আইন পাস হওয়ার নয় বছর পর এ উদ্যোগ নিয়েছে সংসদ। সাংবাদিকসহ অন্য কেউ আবেদন করে সংসদের তথ্য-উপাত্ত নিতে পারবেন এ নীতিমালার মাধ্যমে।তবে এটি চূড়ান্তের আগে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও জনমত যাচাইয়ের দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, শুধু তথ্য উন্মুক্ত নয়, সেগুলো তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে। তাহলে দুর্নীতি কমবে। নীতিমালা তৈরির সঙ্গে জড়িত সংসদের গণ-সংযোগ- ১ এর পরিচালক তারিক মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, আমরা নীতিমালাটি সংসদের সিনিয়র সচিব ড. মো. আবদুর রব হাওলাদারের কাছে জমা দিয়েছি। উনি বৈঠক করে এটি চূড়ান্ত করবেন। কবে এটি চূড়ান্ত হবে তা তিনিই বলতে পারবেন। সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে লুই আই কানের করা জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া ইউনির্ভাসিটির মহাফেজখানা (আর্কাইভ) থেকে বাংলাদেশে আনা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে নকশাগুলো প্রকাশের জন্য একটি নীতিমালা করার কথা বলেন। সেই থেকেই এ নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়। জানা যায়, তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১৮ নামে নীতিমালাটি তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর আলোকে করা হচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ সচিবালয় নাগরিকের তথ্য অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে সংসদ সচিবালয়ের যাবতীয় তথ্যের ক্যাটালগ এবং ইনডেক্স প্রস্তুত করে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবে। তবে যেসব তথ্য ফটোকপি বা অন্য কোনো মাধ্যমে দেয়া হবে তার ব্যয়ভার যে তথ্য চাইবেন তাকে দিতে হবে।কেন এই নীতিমালা নীতিমালাটির মুখবন্ধে উল্লেখ আছে, এক সময় তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক বিষয়ে গোপনীয়তা অবলম্বন করা হতো। কিন্তু এ আইনের মাধ্যমে সব তথ্যের অবাধ প্রকাশের পথ সুদৃঢ় হবে। এতে সংসদের সঙ্গে সম্পর্কিত সব কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের বিস্তারিত জানার সুযোগ হবে। এ নীতিমালা ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ কোন কোন উদ্দেশ্যে কী কী আইন তৈরি হচ্ছে- এসব তথ্যসহ সংসদ সচিবালয়ের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। নীতিমালার ধরা- ১ এ বলা হয়েছে, তথ্য অর্থে সংসদ সচিবালয়ের আওতাধীন কার্যালয়সমূহের গঠন, কাঠামো ও দাফদরিক কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত যে কোনো স্মারক, বই, নকশা, মানচিত্র, চুক্তি, তথ্য-উপাত্ত, লগ বই, আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, দলিল, নমুনা, পত্র, প্রতিবেদন, হিসাব বিবরণী প্রকল্প প্রস্তাব, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও, অঙ্কিত চিত্র, ফিল্ম, ইলেক্ট্রনিক প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত যে কোনো উপকরণ, যান্ত্রিকভাবে পাঠযোগ্য দলিলাদি এবং ভৌতিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য-নির্বিশেষে অন্য যে কোনো তথ্যবহ বস্তু বা এদের প্রতিলিপিও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে দাফতরিক নোটশিট বা নোটশিটের প্রতিলিপি এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। কী কী প্রকাশ করবে না সংসদ নীতিমালা অনুযায়ী অনেকগুলো বিষয়ে তথ্য দেবে না সংসদ। সেগুলো হলো- (ক) কোনো তথ্য প্রকাশের ফলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হতে পারে এরূপ তথ্য; (খ) পররাষ্ট্রনীতির কোনো বিষয় যার দ্বারা বিদেশি রাষ্ট্রের অথবা আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা বা আঞ্চলিক কোনো জোট বা সংগঠনের সহিত বিদ্যমান সম্পর্ক ক্ষুণ্ন হতে পারে এমন তথ্য; (গ) কোনো বিদেশি সরকারের কাছ হতে প্রাপ্ত কোনো গোপনীয় তথ্য; (ঘ) কোনো তথ্য প্রকাশের ফলে কোনো তৃতীয় পক্ষের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এরূপ বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িক অন্তর্নিহিত গোপনীয়তাবিষয়ক, কপিরাইট বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সম্পর্কিত তথ্য; (ঙ) কোনো তথ্য প্রকাশের ফলে কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা সংস্থাকে লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন তথ্য যেমন- অ) আয়কর, শুল্ক, ভ্যাট ও আবগারি আইন, বাজেট বা করহার পরিবর্তন-সংক্রান্ত কোনো আগাম তথ্য; (আ) মুদ্রার বিনিময় ও সুদের হার পরিবর্তনজনিত কোনো আগাম তথ্য; (ই) ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচালনা ও তদারকি-সংক্রান্ত কোনো আগাম তথ্য; (চ) কোনো তথ্য প্রকাশের ফলে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বা অপরাধ বৃদ্ধি পেতে পারে এমন তথ্য; (ছ) কোনো তথ্য প্রকাশের ফলে জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বা বিচারাধীন মামলার সুষ্ঠু বিচারকার্য ব্যাহত হতে পারে এমন তথ্য; (জ) কোনো তথ্য প্রকাশের ফলে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হতে পারে এমন তথ্য; (ঝ) কোনো তথ্য প্রকাশের ফলে কোনো ব্যক্তির জীবন বা শারীরিক নিরাপত্তা বিপদাপন্ন হতে পারে এমন তথ্য; (ঞ) আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তার জন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক গোপনে প্রদত্ত কোনো তথ্য; (ট) আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয় এবং যা প্রকাশে আদালত বা ট্রাইব্যুনালের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে অথবা যার প্রকাশ আদালত অবমাননার শামিল এরূপ তথ্য; (ঠ) তদন্তাধীন কোনো বিষয় যার প্রকাশ তদন্ত কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এরূপ তথ্য; (ড) কোনো অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া এবং অপরাধীর গ্রেফতার ও শাস্তিকে প্রভাবিত করতে পারে এরূপ তথ্য; (ণ) কৌশলগত ও বাণিজ্যিক কারণে গোপন রাখা বাঞ্ছনীয় এমন কারিগরি বা বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ কোনো তথ্য; (ত) কোনো ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে বা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ক্রয় বা কার্যক্রম-সংক্রান্ত কোনো তথ্য; (থ) জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিকারহানির কারণ হতে পারে এমন তথ্য; (দ) আইন দ্বারা সংরক্ষিত কোনো ব্যক্তির গোপনীয় তথ্য; (ধ) নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বা পরীক্ষায় প্রদত্ত নম্বর সম্পর্কিত আগাম তথ্য; (ন) মন্ত্রিপরিষদ বা ক্ষেত্রমত, মন্ত্রিপরিষদের মর্যাদাসম্পন্ন কোনো পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপনীয় সার-সংক্ষেপসহ অনুষঙ্গিক দলিলাদি এবং উক্তরূপ বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত কোনো তথ্য; (প) কমিটি বৈঠকে উত্থাপনীয় কাগজপত্র; তবে শর্ত থাকে যে, মন্ত্রিপরিষদ বা ক্ষেত্রমত, মন্ত্রিপরিষদের মর্যদাসম্পন্ন কোনো পরিষদ ও কমিটির বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হবার পর অনুরূপ সিদ্ধান্তের কারণ এবং যে সব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে তা প্রকাশ করা যাবে। আরও শর্ত থাকে যে, নীতিমালার অধীন তথ্য প্রদান স্থগিত রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য কমিশনের অনুমতি নিতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাহিদা মাফিক জনগণকে তথ্য দেয়ার জন্য সংসদে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। সংসদের সিনিয়র সচিব এ কর্মকর্তা নিয়োগ দেবেন। তার কাছে তথ্য না পেলে আপিল করা যাবে। আপিল কর্তৃপক্ষ হবেন সংসদের সিনিয়র সচিব। কোনো ব্যক্তি এ নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য লাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনো সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত মূল্য ধার্য বা গ্রহণ করলে ওই সময়সীমা অতিক্রান্ত হবার, বা ক্ষেত্রমত, সিদ্ধান্ত লাভের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন,এ নীতিমালা আরও আগে করা উচিত ছিল। শুধু নীতিমালা নয়, সংসদের যাবতীয় বিষয় যেমন সাংবিধানিক আলোচনা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, কোন খাতে কত ব্যয়- এসব তথ্য শুধু উন্মুক্ত করলেই হবে না তৃণমূল পর্যায়ে তা পৌঁছাতে হবে। তাহলেই মানুষ উপকৃত হবে, দুর্নীতি কমে যাবে। তবে নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে এটি নিয়ে ডিবেট (যুক্তিতর্ক) করতে হবে, মতামত নিতে হবে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্পৃক্ত করা উচিত।
জেট এয়ারওয়েজ ঝড়ের কবলে: যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক
ভারতের কলকাতা ও মুম্বাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা জেট এয়ারওয়েজের দুটি ফ্লাইট ঝড়ের কবলে পড়েছিল। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট দুটি অবতরণ করে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আকাশে অতিরিক্ত সময় উড়তে থাকলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।শুধু এ ফ্লাইট দুটি নয়, রোববার সকালে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভোর সোয়া ৬টা সকাল সোয়া ৮টা পর্যন্ত (২ ঘণ্টা) ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ ছিল। ফলে আন্তর্জাতিক রুটের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ছেড়ে অাসা বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটও দেরিতে অবতরণ করে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ইনকোয়ারি বিভাগে কর্মরত জয়নাল আবেদিন জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কলকাতা থেকে জেট এয়ারওয়েজের ৯ডব্লিউ-২৭৪ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯টা ৫ মিনিটের পরিবর্তে ৯টা ৩৪ মিনিটে অবতরণ করে। এছাড়া জেট এয়ারওয়েজের মুম্বাই থেকে আসা অপর ফ্লাইট ৯ডব্লিউ-২৭৬ ১১টা ১৫ মিনিটের পরিবর্তে ১২টা ১৮ মিনিটে অবতরণ করে। জেট এয়ারওয়েজের কলকাতা থেকে আসা যাত্রী আশরাফুল ইসলাম রানা নামের এক যাত্রী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিমানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার তথ্য জানিয়েছেন। ফেসবুকে তিনি লিখেন,রোববার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে কলকাতা থেকে রওনা দেয়া জেট এয়ার ৩০ মিনিটে ঢাকা পৌঁছানোর কথা থাকলেও পারেনি। বিমানটি ঝড়ের কবলে পড়ে ব্যাপক ধাক্কা এবং দোলুনিতে ঢাকা থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান নেয়। তিনি আরও লিখেন,দীর্ঘ ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট ঝড়ের কারণে আকাশে অবস্থান নেয়ায় জ্বালানি সঙ্কটে পড়ে বিমানটি। যাত্রীদের হাহাকার এবং উৎকণ্ঠার ভেতর দিয়ে অবশেষে ঝড়ের ভেতরই ইমার্জেন্সি ঢাকাতে অবতরণ করতে হয়েছে। জেট এয়ারওয়েজর পাইলটের দক্ষতায় সকাল ১০টায় শত ঝাঁকুনি আর ঝড়ের ভেতরেও অবশেষে সর্তক অবতরণ করে। এতে বেঁচে গেল শতাধিক যাত্রী। তবে জ্বালানি সঙ্কটে না পড়লে ঝড় থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারতো প্লেইনটি, জানিয়েছে জেট কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দর ফ্লাইট সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভোর সোয়া ৬টা থেকে সকাল সোয়া ৮টা পর্যন্ত ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ ছিল। এ সময় আন্তর্জাতিক রুটের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ছেড়ে অাসা বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট দেরিতে অবতরণ করে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রানওয়েতে বিমান ওঠানামা করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুই ঘণ্টার জন্যে তা বন্ধ রাখা হয়। যে কারণে বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তনও হয়। একই কারণে যাত্রাতেও বিলম্ব ঘটছে বলেও জানানো হয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর