সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বুধবার
দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০১৮-১৯ সেশনের দু’দিনব্যাপী নির্বাচন বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে ওই রাতেই (বৃহস্পতিবার) ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ইতিমধ্যেই ভোটগ্রহণের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের জন্য বুথ করা হয়েছে আইনজীবী ভবনের শহীদ শফিউর রহমান অডিটরিয়ামে। এদিকে সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট ড. ইউনুস আলী আকন্দ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন উভয় প্যানেলের আইনজীবীরা। আইনজীবীদের রুমে রুমে যাচ্ছেন তারা। নির্বাচনে সভাপতি সম্পাদকসহ ১৪টি পদে মোট ৩৩ জন করছেন। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নির্দলীয় হলেও বরাবরের মতো এবারো সরকার ও বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত দুটি আলাদা প্যানেল করছে। মূলত এ দুটি প্যানেলের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ দুটি প্যানেল ছাড়াও বিভিন্ন পদে আরও পাঁচজন আইনজীবী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। সুপ্রিমকোর্টের সুপারিনটেনডেন্ট নিমেশ চন্দ্র দাশ বলেন, কার্যনির্বাহী কমিটির মোট ১৪টি পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। মাঝে আধাঘণ্টার বিরতি থাকবে। এবারের নির্বাচনে ৬ হাজার ১৫২ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তিনি বলেন, গত ১ থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়ন সংগ্রহ ও দাখিল এবং ১৪ মার্চ মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ ছিল। ২১ ও ২২ মার্চ দুই দিন ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে সভাপতি এবং শেখ মোহাম্মদ মোরশেদকে সম্পাদক করে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের একটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অপরদিকে বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক এম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল নামে আরেকটি একটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সরকার সমর্থক প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সভাপতি পদে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক পদে শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ, সহসভাপতি আলহাজ আলালউদ্দীন ও ড. মোহাম্মদ শামসুর রহমান, ট্রেজারার ড. মোহাম্মদ ইকবাল করিম, সহসম্পাদক মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক ও ইয়াদিয়া জামান, সদস্য ব্যারিস্টার আশরাফুল হাদী, হুমায়ুন কবির, চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, শাহানা পারভীন, রুহুল আমিন তুহিন, শেখ মোহাম্মদ মাজু মিয়া, মোহাম্মদ মুজিবর রহমান সম্রাট। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন সভাপতি ও বর্তমান সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সম্পাদক, সহসভাপতি ড. মো: গোলাম রহমান ভুইয়া, এম গোলাম মোস্তফা, কোষাধ্যক্ষ নাসরিন আক্তার, সহসম্পাদক কাজী জয়নুল আবেদীন, আনজুমানারা বেগম, সদস্য ব্যারিস্টার সাইফুর আলম মাহমুদ, মো. জাহাঙ্গীর জমাদ্দার, মো. এমদাদুল হক, মাহফুজ বিন ইউসুফ, সৈয়দা শাহীনারা লাইলী, মো. আহসান উল্লাহ ও মোহাম্মদ মেহদী হাসান। এছাড়া আরো পাঁচজন বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হচ্ছেন, সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট ইউনুস আলী আকন্দ ও শাহ খসরুজ্জামান, সহসভাপতি পদে মো. আব্দুল জব্বার ভুইয়া, সম্পাদক পদে আলহাজ মোহাম্মদ আবুল বাসার, ও সদস্য পদে তাপস কুমার দাস। আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের সাদা প্যানেল ও বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেলের মধ্যে হবে। এ দুটি প্যানেলের সভাপতি ও সম্পাদক প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, ২০১৭-১৮ সেশনের নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সম্পাদকসহ মোট ৮টি পদে জয়ী হয় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল)। অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের মোর্চা সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের (সাদা প্যানেল) পেয়েছিল ৬টি পদ। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় বর্তমান সরকার কাজ করছে। বিচার বিভাগের উন্নয়নের জন্য সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবীদের সব উন্নয়নে আমি অতীতেও কাজ করেছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকব। এ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সম্পাদক পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, বিচার বিভাগ তলানিতে পৌঁছেছে। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে নজিরবিহীনভাবে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন স্বাধীনভাবে কোনো বিচারক কাজ করতে পারছেন না। উচ্চ আদালত এবং নিম্ন আদালতে সর্বত্র এখনো এসকে সিনহা ভীতি কাজ করছে। এজন্য বিচারকদের সাহস জোগানোর প্রয়োজন আছে। তিনি বলেন, অতীতে বিচার বিভাগের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য কাজ করেছি। ভবিষ্যতেও কাজ করার চেষ্টা করব। সুপ্রিমকোর্টে আইনজীবীদের কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করব। এদিকে সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট ড. ইউনুস আলী আকন্দ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি বলেন, গত সোমবার সুপ্রিমকোর্টে প্রার্থী পরিচিতি সভায় তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তালিকায় এক নম্বরে থাকলেও বক্তৃতায় সুযোগ দেয়া হয়েছে সবার শেষে। বক্তৃতার সময় সবাই আসন ছেড়ে চলে গেছেন। সভাপতি প্রার্থী অন্যদের মঞ্চে বসার ব্যবস্থা করলেও তাকে বসার জায়গা দেয়া হয়েছে দর্শকসারিতে।
বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও গর্জন করে বিরোধী দলে থাকলেও গর্জন করে: ওবায়দুল কাদের
বিএনপি গর্জনের দল দাবি করে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে অর্জনের পার্টি আর বিএনপি হচ্ছে গর্জনের পার্টি। তারা ক্ষমতায় থাকলেও গর্জন করে বিরোধী দলে থাকলেও গর্জন করে। বিএনপির চরিত্র হচ্ছে গর্জন করা। মঙ্গলবার সকালে বনানীতে দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানাতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করা গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকা হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলামের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আদালতের আদেশ নিয়ে যদি তারা প্রশ্ন তোলে, সেখানে আমাদের কী বলার আছে? তিনি বলেন, তারা তো আইন-আদালত কিছুই মানে না। রায় যদি তাদের বিরুদ্ধে যায় তা হলে বিএনপি নামক দলটি কখনও আদালতের রায় মেনে নেয়নি। তাই দেশবাসীকে বলতে চাই- যারা আদালতের রায়কে মানে না, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশটাকে কোথায় নিয়ে যাবে? আমরা আদালতকে সম্মান করি, কিন্তু বিএনপি বারবার আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছে বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।
দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির সকল প্রকার ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা প্রতিহত করতে জনগণের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন, তারা দেশের স্বাধীনতা গণতন্ত্র ও উন্নয়নের শত্রু। তিনি বলেন, দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। সকলের মাঝে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সোমবার এখানে রাজবাড়ি মাঠে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া পযর্ন্ত প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারছে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, নতুন প্রজন্মকে অবশ্যই স্বাধীনতা যুদ্ধে কার কি অবদান রয়েছে, সে সম্পর্কে জানতে হবে। খন্ডিত ইতিহাস কোন জাতিকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারে না। তিনি বলেন, বিগত দিনে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক মিথ্যাচার ও তথ্য বিকৃতি হয়েছে। তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ১৯৭১ পরবর্তী প্রজন্মকে মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস শিক্ষা দেয়ার অপচেষ্টা করেছে। তারা সবকিছু জেনে শুনেই করেছে। তারা বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভয় পায় বলেই এ সব করছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি মুক্তিযুদ্ধে তাদের পরাজয়ের যন্ত্রনা ভুলতে পারেনি। ফলে এই অশুভ শক্তি যখনই সুযোগ পায়, তখনি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির পিতা তাঁর ভাষণে দেশের স্বাধীনতার ও মুক্তিযদ্ধের রূপরেখা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন। ভাষণে তাঁর অবর্তমানে ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কেও তিনি পরিষ্কার দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে ৭ মার্চের ভাষণ হচ্ছে বাঙালীর মুক্তি সনদ। রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এবং স্বাধীনতাপ্রেমী মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণীয় দিন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জয়দেবপুরে পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। তিনি ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ গাজীপুরে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধে শহীদ নেয়ামত, মনু খলিফা, হরমতসহ সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, এই প্রতিরোধ সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের প্রস্তুতিকে বেগবান করেছিল এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে জনগণকে উৎসাহিত করেছিল। তিনি সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশিত রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে অধিক গুরুত্ব দেন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের একটি সুখি সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, মো. জাহিদ আহ্সান রাসেল এমপি, গাজীপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান, নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট আজমত উল্লাহ্ খান এবং সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জাহাঙ্গির আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান এম হুমায়ন কবির।
মন্ত্রিসভায় জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালা-২০১৮র খসড়া অনুমোদন
যুদ্ধকালীন বা সংকটে সব আধা সামরিক বাহিনী ও সহায়ক বাহিনী থাকবে সশস্ত্র বাহিনীর কর্তৃত্বে অপারেশনাল কমান্ডে- এমন বিধান যুক্ত করে জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালা-২০১৮ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি ভেজাল সার বিক্রির শাস্তি বাড়িয়ে সার (ব্যবস্থাপনা) (সংশোধন) আইন-২০১৮ এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৮ ও বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট আইনের খসড়াও অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব বিষয়ের অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালা তৈরি করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটি একটি ব্রডবেইজ (বিস্তৃত) নীতিমালা। সুনির্দিষ্টভাবে আইনের মতো নয়, নীতিমালা হওয়ায় জেনারালাইজ ফর্মে এটি আনা হয়েছে। এটি বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে দেয়া হয়েছে। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু একটি নীতিমালা দিয়ে গেছেন। সেটার ওপর ভিত্তি করে আরও বিস্তৃতভাবে নতুন নীতিমালাটি করা হয়েছে। এতে প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় সরকারের সাধারণ রূপরেখা বর্ণিত হয়েছে। সংকটকাল বা ক্রান্তিকাল ঠিক করবেন সরকার প্রধান। ক্রাইসিস বা যুদ্ধকালীন আধা সামরিক ও সহায়ক বাহিনী থাকবে সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ডে। যেমন বিজিবি, কোস্টগার্ড, বিএনসিসি, পুলিশ বাহিনী, আনসার, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী অন্যান্য প্রতিরক্ষা দল ক্রান্তিকালীন সেনবাহিনীর সঙ্গে কাজ করবে। এ নীতিমালায় জাতীয় স্বার্থ, প্রতিরক্ষা মূলনীতি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, সামরিক ও বেসামরিক সম্পর্ক কী, গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক কী এ ধরনের বিভিন্ন বিষয় নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। এ প্রতিরক্ষা নীতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের প্রতিরক্ষা পরিবেশ সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করবে। এছাড়া এ দলিল সার্বিক পরিসরে প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের চলমান ও পরিকল্পিত সক্ষমতা এবং ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা দেবে। মুখ্য জাতীয় মূল্যবোধগুলো, জাতীয় লক্ষ্য ও প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্য, জাতীয় স্বার্থ, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষার মৌলিক বিষয়গুলো নীতিমালার মধ্যে আনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্থাৎ সশস্ত্র বাহিনীর মূল সক্ষমতা কী হবে, যুদ্ধকালীন সশস্ত্র বাহিনী কিভাবে মোতায়েন হবে এসব বিষয়ে নীতিমালায় বিস্তারিত বলা হয়েছে। শফিউল আলম বলেন, সামরিক ও অসামরিক সম্পর্ক কী হবে, সশস্ত্র বাহিনী ও নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক কী হবে এটা আরেকটা চ্যাপ্টারে বলা হয়েছে। গণমাধ্যমের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক কী হবে সেটাও ডিটেইল করা আছে। নীতিমালা অনুযায়ী সংসদ আগের মতোই প্রতিরক্ষা বিষয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করবে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা প্রতিরক্ষা বিষয়গুলো ডিল করবে। গণমাধ্যমের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সচেতন নাগরিক সশস্ত্র বাহিনীর সবচেয়ে ভালো বন্ধু। নিরাপত্তা সম্পর্কিত অনুমোদিত তথ্য দায়িত্বশীল প্রচারের মাধ্যমে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সুতরাং একটি বন্ধুপ্রতিম গণমাধ্যম-সামরিক সম্পর্ক অপরিহার্য। গণমাধ্যম-সামরিক সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ এ দুটি প্রতিষ্ঠান জাতীয় সক্ষমতার উপাদান। উভয়ই নিজ নিজ অবস্থান থেকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাড়ছে ভেজাল সার বিক্রির সাজা : ভেজাল সার বিক্রিতে সাজার মেয়াদ বাড়িয়ে নতুন আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, আইনের ৮(১) ধারা লঙ্ঘনে বা ভেজাল সার বিক্রিতে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৩০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড ছিল। সেখানে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০০৬ সালের এ আইনের সংজ্ঞায় একটি শব্দ যুক্ত করা হয়েছে তা হল- আবশ্যকীয় উদ্ভিদ উপাদান, সংযোজনে পুষ্টির বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সংজ্ঞার ২ এর ২০ অনুচ্ছেদে মিক্সড ফার্টিলাইজার পরিবর্তন করে সুষম সার করা হয়েছে বা মিক্সড ব্যালেন্স ফার্টিলাইজার করা হয়েছে। এছাড়া আইনে জাতীয় সার প্রমিতকরণ কমিটি ১৫ সদস্য থেকে ১৭ সদস্য করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন : এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে এ প্রতিষ্ঠানটি রেজুলেশনের মাধ্যমে চলছে। এটার কোনো আইন ছিল না, এটিকে আইনে পরিণত করা হয়েছে। সরকার যেটুকু ঘোষণা করবে সেটুকু বরেন্দ্র এলাকা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বরেন্দ্র এলাকা বলতে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব জেলাকে বোঝাবে। অর্থাৎ বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগ নিয়ে এ বরেন্দ্র এলাকা গঠিত হবে। সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন করে যে কোনো এলাকাকে বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট আইন, ২০১৮ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। রূপপুরে ভারতীয় পরামর্শক নিয়োগের চুক্তি : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকাজে ভারতীয় পরামর্শকের সেবা নেয়া সংক্রান্ত চুক্তির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) ও ভারতের গ্লোবাল সেন্টার ফর নিউক্লিয়ার এনার্জি পার্টনারশিপের (জিসিএনইপি) মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এছাড়া সভায় পায়রা বন্দরের রাদনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল অ্যান্ড মেইন্টেন্যান্স ড্রেজিং কম্পোনেন্ট জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় মন্ত্রিসভার শোক : নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৫১ জন আরোহী এবং মুক্তিযোদ্ধা-ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১২ মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মর্মান্তিক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ২৬ জন বাংলাদেশিসহ ৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০ জন। এ বিষয়ে বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রিসভা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। এজন্য একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বনামধন্য ভাস্কর ও মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুতে মন্ত্রিসভা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতিপত্র পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম। বিশ্বে দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে জাতিসংঘে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করায় সোমবার মন্ত্রিসভা তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিক ইন্টারন্যাশনাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বে দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করায় তাকে অভিনন্দন জানানো হয়। অর্থনৈতিক অবস্থার তিনটি বিভাগেই স্থিতিশীলতার জন্য ১৫ মার্চ ইউনাইটেড নেশন কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিপিডি) বাংলাদেশকে এই স্বীকৃতি দেয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল ও যোগ্য নেতৃত্বের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতা ও মানবিক মূল্যবোধের আন্তরিকভাবে প্রশংসা করেন। সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক এক জরিপে যোগ্য নেতৃত্ব, রাষ্ট্রনায়ক, মানবতা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বিষয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমে সর্বোচ্চ উপস্থিতির জন্য শেখ হাসিনাকে বিশ্বে দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতি দেয়া হয়। জরিপটিতে রোহিঙ্গা বিষয়ে ভূমিকা এবং তাদের আশ্রয় দেয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সসম্মানে প্রত্যাবর্তনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সফল কূটনীতিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। জরিপে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গা ইস্যুটি বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে শেখ হাসিনা যেভাবে সফল হয়েছেন, খুব কম রাষ্ট্রনায়কই তা পারেন।
বিমসটেক হতে পারে উন্নয়নের বিকল্প সংস্থা:পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বিমসটেক দেশগুলোর মধ্যে সম্ভাবনা অপার জানিয়ে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নের একটি বিকল্প সংস্থা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী। মঙ্গলবার (২০ মার্চ) গুলশানে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল আ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) সচিবালয়ে 'বিমসটেক প্রতিষ্ঠার ২০ বছর উপলক্ষে আয়োজিত কনফারেন্সে এ মন্তব্য করেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিমসটেক দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য মাত্র ৭ শতাংশ। এটি ২১ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। বিনিয়োগ ও জ্বালানি বিনিময়ে এ এলাকার উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বিমসটেক দেশগুলো। স্বাগত বক্তব্যে বিমসটেক মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিমসটেক দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সেতু হিসেবে যোগাযোগের অতুলনীয় ভূমিকা রাখছে। কনফারেন্সে পাঠানো ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বক্তব্য পাঠ করেন তার প্রতিনিধি পিয়ুস শ্রীবাস্তব। বক্তব্যে সুষমা বলেন, বিমসটেক বিশ্বে এক পঞ্চমাংশ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিশ্রুত সংস্থা। সন্ত্রাসবাদ এ এলাকার সবচেয়ে বড় হুমকি। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে লড়াই বিভিন্ন খাতে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান বিমসটেক সভাপতি নেপালের রাষ্ট্রদূত প্রফেসর ড. চোপ লাল ভুষাল বলেন, বিমসটেক এমন একটি সংস্থা যা দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে বিশেষ লাভবান করবে। সার্ক ও আসিয়ানের মতো সংস্থাগুলোর সাফল্য ও ব্যর্থতা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। বিমসটেক সাতটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৭ সালে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাত দেশের জোট বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) গঠিত হয়। ব্যাংকক ঘোষণার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড এ উদ্যোগ নেয়; পরে মায়ানমার, নেপাল ও ভুটান যোগ দেয়। সহযোগিতার ক্ষেত্রও বেড়ে ১৪ সদস্যে দাঁড়িয়েছে। ২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এটির প্রধান কার্যালয় স্থাপিত হয়।
শিক্ষার মানে নজর দিতে হবে বেসরকারি মেডিকেলে:প্রধানমন্ত্রী
বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার মানের দিকে নজর দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের প্রাইভেট সেক্টর এগিয়ে আসছে। সেখানেও তারা মেডিকেল কলেজ করছে। তবে সেখানে আমি বলব, আরেকটু নজর দেয়ার দরকার যে, তাদের শিক্ষার মানটা ঠিকমতো আছে কিনা। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে রোববার চিকিৎসক ও নার্সদের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন (বিএসসিসিএম) এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সিংয়ের যৌথ উদ্যোগে ১০ দিনব্যাপী তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন (ক্রিটিকন-থ্রি) উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের খ্যাতিমান চিকিৎসকদের বই লেখার তাগিদ দিয়ে বলেন, আমাদের ভালো ভালো ডাক্তাররা এত নামকরা হয়ে যান, কিন্তু বই লেখেন না। লেখাটেখা একটু কম হচ্ছে। মেডিকেল সায়েন্স অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। আর এই বই এত দামি। কারও পক্ষে তো এভাবে কেনা সম্ভব না। প্রত্যেক মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পাঠাগারের একান্ত প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে এ জন্য চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের কিন্তু ডাক্তারের অভাব। একজন ডাক্তারকে এত রোগী দেখতে হয় যে, এটি আসলে মানুষের পক্ষে সম্ভব কিনা। রোগীর আসলে মুখের কথায় অর্ধেক রোগ ভালো হয়ে যেতে পারে; এটি হল বাস্তব কথা… তাদের ভেতরে একটি কনফিডেন্স এনে দেওয়া। সেবিকাদের মর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি চাই- আমাদের নার্সিংটাও যে একটা মর্যাদাপূর্ণ পেশা… মানে, মানবতার সেবামূলক পেশা; এই জিনিসটি যেন মানুষের মধ্যে উপলব্ধি হয়। আমাদের দেশে তো অনেক সময় নিচু চোখেই দেখা হতো। অথচ পৃথিবীতে নার্সিংটা অনেক বেশি মর্যাদা পায়। জটিল রোগীদের সেবা দিতে চিকিৎসকদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। আত্মীয়স্বজন, রাজনীতিবিদ ও সংবাদকর্মীদের জন্য আইসিইউয়ে থাকা রোগীদের সেবায় যাতে বিঘ্ন না ঘটে সে বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিএসসিসিএমের সভাপতি ইউএইচ সাহেরা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসচিব এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছাড়াও এই সংগঠনের মহাসচিব এএসএফ আরিফ আহসান বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ক্রিটিকন থ্রির সভাপতি মির্জা নাজিমউদ্দিন।
সোয়া একশ বছরের ব্রিটিশ কারাবিধি থেকে বের হচ্ছে বাংলাদেশ
সোয়া একশ বছরের পুরনো কারাবিধি থেকে বের হচ্ছে বাংলাদেশ কারাগার। ১৮৯৪ সালে প্রণীত ব্রিটিশ কারাবিধি থেকে বের হয়ে নতুন বিধি প্রণয়নের কাজ চলছে। ১৫৯টি পুরনো বিধির ৮০টি পর্যালোচনাও শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন কারাবিধিতে ১৫৯টি আইন রয়েছে। এর মধ্যে ৮০টি আইনের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে। সবগুলো আইনের পর্যালোচনা শেষ হলে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তারপর ক্যাবিনেট হয়ে আইনটি পাসের জন্য সংসদে পাঠানো হবে। সকল প্রক্রিয়া শেষ করার মাধ্যমে চলতি বছরের মধ্যেই নতুন কারাবিধি কার্যকর হওয়ার আশা প্রকাশ করেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন। রোববার কারা অধিদফতরে কারা সপ্তাহ-২০১৮ এবং বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জনের ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। আইজি প্রিজন বলেন, নতুন আইনের পর কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পুরো প্রক্রিয়া চালু করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ১৮৯৪ সালের প্রিজন অ্যাক্ট (কারাবিধি) কার্যকর রয়েছে আর প্রচলিত জেলকোড প্রবর্তন করা হয়েছিল ১৮৬৪ সালে। কিন্তু আমরা আগে প্রিজন অ্যাক্ট প্রণয়ন করছি। প্রিজন অ্যাক্টের আলোকে জেলকোড প্রণয়ন করা হবে। কারাগারে মাদক প্রবেশের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে কারাবন্দিদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ বন্দিই মাদকাসক্ত। একটি কারাগারে ৭-৮ হাজার বন্দির মধ্যে যদি তিন হাজার বন্দি সবসময়ই চেষ্টা করে মাদক প্রবেশ করানোর জন্য; আর বিভিন্ন শিফট মিলিয়ে যদি ১০০ কারারক্ষী তা ঠেকাতে দায়িত্ব পালন করেন তাহলে বিষয়টা কষ্টসাধ্য। মাদকের সঙ্গে কারারক্ষীদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেলেই বরখাস্তসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে দাবি করে আইজিপি প্রিজন বলেন, এ পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শরীরের অভ্যন্তরেসহ বিভিন্ন অভিনব পন্থায় মাদক প্রবেশ করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব পন্থা ধরতেও আমাদের সময় লাগে। উন্নত দেশের কারাগারেও শতভাগ মাদক প্রবেশ বন্ধ সম্ভব হয়নি। তারপরও এসব প্রতিরোধে বেশকিছু কারাগারে লাগেজ স্ক্যানার স্থাপন করা হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো বডি স্ক্যানারও বসানো হচ্ছে কারাগারেই। দেশের ৬৮টি কারাগারে একসঙ্গে কারা সপ্তাহ- ২০১৮ এবং বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জনের ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। সংশোধন ও প্রশিক্ষণ, বন্দির হবে পুনর্বাসন প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে ২০-২৬ মার্চ কারা সপ্তাহ পালিত হবে। ২০ মার্চ কাশিমপুর কারাগারে এবারের কারা সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
নতুন পরিচয়ে বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণে আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, এটি জাতির জন্যে এক বিরাট অর্জন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার যে স্বপ্ন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা, সেই পথেই আমরা আরো একধাপ এগিয়েছি। তাই আজকে জাতির পিতার এই জন্মদিনে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণের এই সুখবর আমাদের জন্য এক বিরাট সফলতা বলে আমি মনে করি।’ সেজন্যে প্রধানমন্ত্রী সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার দুপুরে এখানে জাতির পিতার ৯৯তম জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শিশু সমাবেশ,আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভাষণকালে একথা বলেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জাতির পিতার সমাধি কমপ্লেক্সে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের জন্য একটা সুখের সংবাদ। জাতির পিতার জন্মদিনেই এই সংবাদটা আমরা পেলাম যে আমাদের এতদিনের প্রচেষ্টার ফলে আজকে বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ ছিল, সেই দেশ জাতিসংঘ কতৃর্ক উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি বলেন, অর্থাৎ আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলো যেমন-ভারত, শ্রীলংকা এমনকি পাকিস্তানসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের কাতারেই আজ বাংলাদেশের অবস্থান। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এক ধাপ পিছিয়ে ছিলাম। আজকেই আমরা খবর পেয়েছি আমরা আর পিছিয়ে পড়ে নেই। এই অঞ্চলের সকল দেশের সঙ্গে সমানতালে তাল মিলিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো। আমরা চলতে পারবো। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে একটি উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য হয়ে উঠেছে, কারণ এটি এলডিসি ব্লক থেকে বের হওয়ার জন্য প্রথমবারের মতো তিনটি মানদন্ডই পূরণ করেছে। জাতিসংঘের প্যানেল দ্য কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি কমিটি (সিডিপি) শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে এক সভায় বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিষয়ে একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে।

জাতীয় পাতার আরো খবর