দেশজুড়ে চলছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
অনলাইন ডেস্ক: ছাত্র-পুলিশ ভাই ভাই, নিরাপদ সড়ক চাই; আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে; উই ওয়ান্ট জাস্টিসসহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগানের মধ্যদিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে চলছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই বাসের রেষারেষিতে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে নিরাপদ সড়কসহ নয় দফা দাবিতে পঞ্চমদিনের মতো চলছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলেও তা উপেক্ষা করে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা, কখনো টিপটিপ, কখনো মুষলধারে বৃষ্টি কোনো বাধাই যেন বাধ সাধতে পারছে না ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অদম্য এই বাঁধভাঙা আন্দোলনের। বেআইনিভাবে উল্টোপথে গাড়ি চালানোর অভিযোগে গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের গাড়ি আটকে দিয়েছে এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাই। লাইসেন্স দেখাতে না পারার কারণে আটকে দিয়েছিল পুলিশের গাড়িও। আজ তাই পুলিশের গাড়ি চালকরাও ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছেন। এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করে মাঠে নেমেছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও উস্কানি ছাড়াই বন্ধুদ্বয়ের হত্যার প্রতিবাদে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। এবং তা করছে খুব সঠিক পদ্ধতি ও ন্যায়সঙ্গত উপায়েই। সাবাস, ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা; এগিয়ে যাও। সারাদেশের সকল পেশাজীবীর মানুষ আছে তোমাদের এই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের পক্ষে।
ঢাবির ছাত্রীদের একাত্মতা ঘোষণা ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে
অনলাইন ডেস্ক: উই ওয়ান্ট জাস্টিস ছাত্র-পুলিশ ভাই ভাই, নিরাপদ সড়ক চাই; আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরেসহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগানের মধ্যদিয়ে রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপদ সড়কসহ নয় দফা দাবিতে ফের শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) বেলা ১১টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবস্থান নিতে শুরু করে। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বৃষ্টির মধ্যেই তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বৃত্ত তৈরি করে। অন্যদিনের মতো তারা যান চলাচল বন্ধ করেনি। রিকশা ও বাসগুলোকে তারা এক লাইনে যাতায়াতের জন্য নির্দেশনা দিচ্ছে। বৃহস্পতিবারও তারা গাড়ির লাইসেন্স দেখছে। পুলিশের একটি গাড়ির চালকের লাইসেন্স না থাকায় তারা গাড়িটি আটকে দেয়। এসময় তারা কর্তব্যরত পুলিশ সার্জেন্টকে মামলা দিতে বলে। মামলা না দিলে তারা গাড়ি ছেড়ে দেবে না বলে মাইকে ঘোষণা দেয়। এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সম্মিলিত ছাত্রী ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।
নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ২০ লাখ করে অনুদান প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক: বেপরোয়া বাসের চাপায় রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে নিহত শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিমের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র অনুদানও দিয়েছেন সরকারপ্রধান। বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে দিয়া-করিমদের স্বজনদের ডেকে নিয়ে সমবেদনা জানানোর পর এ অনুদান দেন। আগে দিয়ার খালা নাজমা বেগম বলেন, বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি গাড়ি এসে দিয়ার মা রোকসানা বেগম, বাবা জাহাঙ্গীর আলম, বড় বোন রোকেয়া খানম রিয়া ও ছোট ভাই পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম আরাফাতকে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়ার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে চান, সেজন্য তাদের ডেকে নিয়েছেন।
অলিখিত ধর্মঘট ঘাতকদের রক্ষা করতেই !
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর কুর্মিটোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় নগরীতে পঞ্চমদিনে গড়ালো স্থবিরতা। বৃহস্পতিবার থেকে (২ আগস্ট) শুরু হয়েছে বাস শ্রমিকদের অলিখিত ধর্মঘট। বেশিরভাগ রুটে বন্ধ রয়েছে বাস চলাচল। দুই-একটি রুটে বাস দেখা গেলেও তা অন্য দিনের তুলনায় নগন্য। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সকাল ৯টায় অন্যদিনে রাস্তায় থাকে বাসের সারি। তবে বৃহস্পতিবার বাস শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে বেশিরভাগ রুটে বাসের দেখা মেলেনি। দুর্ঘটনার উৎপত্তিস্থল কুর্মিটোলায় প্রায় বিশ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে তেতুলিয়া পরিবহনের (শিয়া মসজিদ-আব্দুল্লাহপুর) একটি বাসের দেখা মিলেছে। অন্যদিন হলে এ সময় হরেক রঙের, হরেক রুটের কয়েক শতাধিক গাড়ির দেখা মিলতো। যাত্রীদের অনেকেই পায়ে হেঁটে রওনা দিচ্ছেন গন্তব্যে, কেউ আবার রিকশায়। অনেককে দেখা গেছে পিকআপে চড়ে গন্তব্যে রওনা দিতে। কালশী নতুন রাস্তার মোড়ে তুহিন মিয়া নামের এক বীমা কর্মী জানান, সকাল ৮টায় এসে দাঁড়িয়েছেন। আধাঘণ্টা গড়িয়ে গেলেও কোনো বাসের দেখা পাননি। তিনি বলেন, এটা বাস মালিক-শ্রমিকদের একটা কৌশল। অলিখিত ধর্মঘট চালিয়ে তারা যাত্রীদের জিম্মি করে অনৈতিক সুবিধা আদায় করেন। এর আগে যখন সিটিং তুলে দেওয়া হলো তখনও তারা এভাবে জিম্মি করে তাদের অনৈতিক দাবি আদায় করে নিয়েছেন। এবারও তারা যাত্রীদের জিম্মি করেছেন বাস বন্ধ করে ঘাতক চালকদের রক্ষার জন্য। অতীতেও তারা সব অনিয়ম করে এভাবেই পার পেয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একধাপ এগিয়ে অপেক্ষায় থাকা অন্য যাত্রী তুষার জানান, ঘাতক চালকদের রক্ষার জন্য যারা এ অঘোষিত ধর্মঘট করছে, তাদেরও আইনের আওতায় এনে বিচার করা উচিত। কারণ একজন অপরাধীকে সাপোর্ট করা ওই অপরাধ করারই সামিল। কালশী মোড়ে তুহিন মিয়া ও তুষারের মতো আরও শত শত যাত্রী অপেক্ষায় আছেন। শুধু এখানে নয়, মিরপুর ১০ নম্বর, পুরবী, মহাখালীতেও একই অবস্থা দেখা গেছে। মতিঝিল থেকে মীরপুর. মহাখালী, উত্তরা রুটেও কোনো গণপরিবহন নেই ৷ শুধু দুই-একটি বিআরটিসি বাস চলছে। সকাল পৌনে ১০টার দিকে দেখা গেছে, শত শত মানুষ যানবাহনের অপেক্ষায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন৷ পুরানা পল্টনেও একই চিত্র। বাস উধাও। সকালে গুলিস্তান ও পল্টনের রাস্তা ছিল প্রায় ফাঁকা। এ এলাকায় বিঅারটিসির দুই-একটি ছাড়া অার কোনো বাস দেখা যায়নি। যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পায়ে হেঁটে ও রিকশায় করে গন্তব্য যাচ্ছেন অনেকে। তবে গুলশান এলাকার চিত্র অনেকটা ভিন্ন। এখানে ঢাকা চাকা পরিবহন নিয়মিত চলাচল করছে। দুর্ঘটনার পর থেকে শুধু ঘাতক পরিবহন জাবালে নূর বন্ধ ছিল। চারদিনের মাথায় এসে অলিখিত ধর্মঘটে গেছেন মালিক-শ্রমিকরা। প্রায় সব রুটেই বাস সংকটের খবর পাওয়া গেছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) হাতে ঘাতক বাস চালক আটকের খবরে ক্ষুদেদের আন্দোলন যখন কিছুটা স্বস্তির দিকে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখন দ্বিতীয় দিনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঘি ঢেলেছে পুলিশ। আবার তৃতীয় দিনে শনির আখড়ায় আন্দোলনকারীদের উপর ট্রাক চালিয়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরণমুখ করে তোলে। শনির আখড়ার ঘটনার ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে শিক্ষার্থীরা আবারও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। চতুর্থদিনে সংঘাত এড়াতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নোটিশ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে বিএফইউজের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা
অনলাইন ডেস্ক: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) নবনির্বাচিত কমিটি ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। আজ বিকেলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধীতে প্রথমে আবু জাফর সূর্যের নেতৃত্বে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। এরপর বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল ও মহাসচিব শাবান মাহামুদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা জানান। পরে তারা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ ছাড়া ঢাকা সাংবাদিক পরিবার বহুমুখী সমিতি, খুলনা ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আইন অনুযায়ী ঘাতক চালকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (১ আগস্ট) বিকাল ৩টায় সচিবালয়ে তিন মন্ত্রীকে নিয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,এখন থেকে সড়কে ফিটনেসবিহীন, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি যাতে না চলে, আমরা সেই ব্যবস্থা করব। বাস টার্মিনালেই এসব পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন,গাড়ির ফিটনেস না থাকলে সেটি টার্মিনাল থেকে বের হতে দেয়া হবে না। একইভাবে চালকেরও লাইসেন্স পরীক্ষা করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় থাকবে। যে গাড়িটি সন্দেহ হবে, সেটিকেই তারা চ্যালেঞ্জ জানাবে। সব কিছু ঠিকঠাক দেখাতে না পারলে তা আটকে দেয়া হবে। তিনি বলেন,এ ছাড়া শ্রমিক ও গাড়িচালকদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে মালিকরা ব্যবস্থা নেবেন। কোনো চালক কিংবা পরিবহন অবৈধ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলে সেগুলো দেখা হবে বলেও জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,তোমাদের বার্তা দেশব্যাপী পৌঁছে গেছে। তোমাদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। কাজেই তোমরা অবরোধ তুলে নাও, ক্লাসে ফিরে যাও। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,আপনাদের সন্তানদের ক্লাসে ফিরিয়ে নেন। সারা দেশ অচল হয়ে গেছে। এটি কারও কাম্য হতে পারে না। তিনি বলেন,শিক্ষার্থীরা এবার অবরোধ তুলে নেবেন বলেই আমরা মনে করছি। আমাদের ছোট ছোট শিশুরাও গাড়ি ভাঙচুর করতে চায় না। আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন,চার দিনের বিক্ষোভে ৩০৯ গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। আটটি গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। তার মধ্যে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও রয়েছে। বৈঠকে ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পুলিশের আইজিপি জাভেদ পাটোয়ারী, ডিএমপি পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, বাস মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী প্রমুখ।
বিচারহীনতা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ
অনলাইন ডেস্ক: সড়কে দুর্ঘটনার পর দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। বুধবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া নাগরিক ফোরাম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের বক্তব্য রাখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলেন তিনি। মির্জা আব্বাস বলেন,পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হলে, ট্রাফিক ব্যবস্থা ঠিক থাকলে এবং শাহজাহান খানরা অনিয়মকে প্রশ্রয় না দিলে এ অবস্থা দেখতে হতো না। তার সরকারের সময়ে পরিবহন শ্রমিকরা নিয়ন্ত্রণে ছিলেন দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন,শাহজাহান খানরা শ্রমিকদের কন্ট্রোলের বাইরে নিয়ে গেছে। আমি যখন পরিবহন ব্যবস্থার দায়িত্বে ছিলাম শাহজাহান খান তখন শ্রমিক নেতা। শাহজাহান খান ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছে আমার অফিসের সামনে। চাঁদা বৃদ্ধির দাবিতে। আমি বলেছি কোনো অনিয়ম প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সরকারের মন্ত্রী শাহজাহান খানের কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যা। পাকিস্তান আমলের ইয়াহিয়া খানের মতো হাসি হাসলেন শাজাহান খান। ইয়াহিয়া খান ও টিক্কা খানের মতো পৈশাচিক হাসি হাসছেন লীগের নেতারা। এই পৈশাচিক হাসি থেকে আমাদেরকে রক্ষা পেতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি চেয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশি হামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন,বিমানবন্দর সড়কে নিহত ২ শিক্ষার্থী হত্যার সাথে জড়িতদের এবং আন্দোলনকারী শিশুদের গায়ে যেসব পুলিশ সদস্যরা হাত তুলেছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে তিনি বলেন,কোটা নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের গায়ে যারা হাত তুলেছে তাদের বিচার করতে হবে। যারা ইন্ধন যুগিয়েছে তাদের বিচার করতে হবে। যেসব পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করছে, গুলি চালিয়েছে তারা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন নেন না? তারা (কোটা আন্দোলনকারীরা) তো চাকরি চায়নি তারা মেধার মূল্যায়ন চেয়েছে। আয়োজক কমিটির সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ারের সভাপতিত্ত্বে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সঞ্চালনায় সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মহানগর সহ-সভাপতি ইউনুছ মেধা, সহ-সভাপতি ফরিদউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের নয় দফা দাবি যৌক্তিক-ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
অনলাইন ডেস্ক: বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই কলেজশিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক অবরোধ করা শিক্ষার্থীদের নয় দফা দাবি যৌক্তিক বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল। তিনি বলেছেন, ছাত্রদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের চলমান অবরোধের মধ্যে বুধবার (১ আগস্ট) সচিবালয়ে দুই মন্ত্রী, এক প্রতিমন্ত্রী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একথা জানান। সভায় নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশব্যাপী স্টার্টিং পয়েন্টে (বাস টার্মিনাল) গাড়ির ফিটনেস, রুট পারমিট, ড্রাইভারের লাইসেন্স পরীক্ষা করা হবে।’ সড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান বেশিদিন দীর্ঘ হলে স্বার্থান্বেষী মহল সুযোগ নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন আসাদুজ্জামান খান।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আবার রাস্তায় শিক্ষার্থীরা
অনলাইন ডেস্ক: বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মত রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ শুরু করেছে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল ১০টা মধ্যে রাজধানীর উত্তরাংশে উত্তরার হাউজ বিল্ডিং মোড়, দক্ষিণে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এবং নগরীর কেন্দ্রভাগে ফার্মগেইটে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্মপরা শিক্ষার্থীদের জড়ো হওয়ার খবর এসেছে। উত্তরা পূর্ব থানার উপ পরিদর্শক মানিক মাহমুদ বলেন,বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছেলেরা ১০টার দিকে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করছে। ফলে যানবাহন চলতে পারছে না। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আছেন, তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন। এদিকে একই সময়ে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ায় ধনিয়া কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। মহানগর পুলিশের শ্যামপুর জোনের সহকারী কমিশনার ফয়সল মাহমুদ বলেন, শিক্ষার্থীরা রাস্তা আটকে রাখায় ঢাকায় ঢোকার বা বের হওয়ার পথ বন্ধ রয়েছে। তেজগাঁও কলেজ, সরকারি বিজ্ঞান কলেজসহ ফার্মগেইট এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আগের দিনের মতই সকাল ১০টার পর রাস্তায় নেমে আসে। শুরুতে তারা রাস্তা না আটকে গাড়ি থামিয়ে থামিয়ে লাইসেন্স দেখা শুরু করে। ফলে অফিস চলার সময়ে ব্যস্ত ওই দ্রুত যানজট তৈরি হয়ে যায়। পরে পুলিশ বিজয় সরণির মোড় থেকে ফার্মগেইটগামী যানবাহনকে বিজয় সরণি দিয়ে সংসদ ভবনের দিকে পাঠিয়ে দেয়। তেজগাঁও থানার উপ পরিদর্শক মো. মাসুদ বলেন,শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বিক্ষোভ করলে। যানচলাচল করতে পারছে না। ফার্মগেইট এলাকার দোকানি আরমানবলেন,কালকেও ছেলেরা অনেকক্ষণ রাস্তা বন্ধ করে রেখেছিল। আজকেও শুরু হয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর