ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল সংসদে উত্থাপন না করার আহ্বান বাম জোটের
অনলাইন ডেস্ক: ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮ প্রত্যাখ্যান করে তা সংসদে উত্থাপন না করার আহ্বান জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জোটের নেতারা এ আহ্বান জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশবাসীর আপত্তির মুখে ৫৭ ধারা বাতিল না করে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের অফিশিয়াল -সিক্রেটস অ্যাক্ট। এ ছাড়া বিলে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। -সিক্রেটস অ্যাক্ট ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা জরিমানার অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখারও সমালোচনা করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮ মানুষের গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন মত ব্যক্ত করার অধিকার হরণকারী উল্লেখ করে বিলটিকে কালা কানুন আখ্যায়িত করে জোটের নেতারা। তাঁরা এ বিল সংসদে উত্থাপন না করার আহ্বান জানান। বাম জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানসহ জোটের অন্যান্য নেতারা এ বিবৃতি প্রদান করেন।
৯৯৯ এর সেবা নেয়ার আহ্বান
অনলাইন ডেস্ক: প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে সাইবার অপরাধ ও গুজবরোধে সাধারণ মানুষকে সহায়তা প্রদানে কাজ করছে জাতীয় জরুরি সেবা ট্রিপল-নাইন। ট্রিপল-নাইন এর প্রযোজনীয়তা নিয়ে এক কর্মশালায় বক্তারা এ কথা জানান। মঙ্গলবার দুপুরে ট্রিপল-নাইন-এর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ভবনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় পুলিশ সুপার তবারক উল্লাহ জানান, মানুষের দোরগড়ায় বিভিন্ন সেবা পৌঁছে দিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে কাজ করছে ট্রিপল-নাইন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে গুজব, প্রতারণার হার ক্রমেই বাড়ছে, এসব ঠেকাতে ট্রিপল-নাইন এর সেবা গ্রহণের জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহবান জানান আলোচকরা। জানানো হয়, ২০১৭ এর ডিসেম্বরের পর থেকে এখন পর্যন্ত এই সেবা নিতে কল করেছেন প্রায় সাড়ে ৫৬ লাখ মানুষ, যাদের মাত্র ১ শতাংশই সঠিক সেবার জন্য কল করেছিলেন।
জনগণ এক কথায় অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় : সুলতানা কামাল
অনলাইন ডেস্ক: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মানবাধিকার নেত্রী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজমান। ১৯৭৫ সালে যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, তার সমাধান আজ পর্যন্ত আমরা করতে পারিনি। ওই সমস্যার সমাধান সেইভাবে হয়নি বলেই এখন পর্যন্ত প্রতি মুহূর্তে আমরা চিন্তা করছি, এখন যে পরিস্থিতি আছে তার থেকেও খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে আমরা যাবো কি না? সোমবার বরিশালে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার ৭০ বছর পূর্তি উদযাপন এবং মানবাধিকার বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার আগে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সুলাতানা কামাল আরও বলেন, নির্বাচন এলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, এমনকি হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে শঙ্কার সৃষ্টি হয়। নিজ দলের মধ্যে মনোনয়ন প্রতিযোগিতার কারণে পরস্পরের মধ্যে দ্বন্ধ সংঘাত হতে পারে। সব চেয়ে বেশী দুশ্চিন্তা সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে। কারণ বিগত কয়েকটি নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর প্রচুর নির্যাতন হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। তারা নিজেদের দায়-দায়িত্ব থেকে এই দ্বন্দ্ব-সংঘাত এড়িয়ে চলবে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দায়-দায়িত্ব হলো রাজনৈতিক দলগুলোর। যদি রাজনৈতিক দলগুলো (আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব দল) সত্যিকার অর্থে মানুষের স্বার্থে রাজনীতি করে, তারা যদি সৎভাবে সেটা উচ্চারণ করেন, তাহলে তাদেরই দেখা উচিত নির্বাচন নিয়ে যেন জনগণ বড় ধরনের কোন দ্বন্ধ-সংঘাতের মধ্যে না পড়ে। জনগণের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা রয়ে গেছে বলেও মনে করেন তিনি। রাষ্ট্র ক্ষমতায় যারা আছেন তারা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবেন বলে প্রত্যাশা সুলতানা কামালের। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো মানুষের জন্য রাজনীতি করেন, যদি সত্যিকার অর্থেই তারা মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করেন, তাহলে তারা জনগণকে বিপদে ফেলবেন কেন? কেমন নির্বাচন চাই জানতে চাইলে সুলতানা কামাল বলেন, নির্বাচন শব্দটার মধ্যেই বেছে নেওয়ার একটা বিষয় আছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আনুগত্য রেখে কাজ করেন, যারা জনগণের স্বার্থ নিয়ে কাজ করেন, জনগণ যাতে সে রকমের পছন্দের প্রার্থীকে মুক্ত মনে বেছে নিতে পারেন সেটাই তো নির্বাচন। জনগণ এক কথায় অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় বলে তিনি জানান। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল বলেন, সুযোগ যে একেবারে নেই তা নয়, এই সুযোগ যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সাথে রাজনৈতিক দলগুলোকেও সোচ্চার হতে হবে। জনগণ রুখে দাঁড়ালে সুষ্ঠু নির্বাচন হতেই হবে। জনগণকে নিজের অধিকারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং সেটা ব্যবহার করার জন্য তাদের শক্তি নিয়ে দাঁড়াতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের নৈতিক স্খলনের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামাল বলেন, যদি সত্যিই তার নৈতিক স্খলন হয়ে থাকে, এমন কোন প্রমাণাদি যদি থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আমাদের প্রতিজ্ঞা : এইচ টি ইমাম
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, আমরা সুষ্ঠু, অবাধ, সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন চাই। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আমাদের প্রতিজ্ঞা। আমরা আশা করি, আমাদের দলের এবং আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে আমরা কখনো পিছপা হব না। অতীতেও হইনি, ভবিষ্যতেও হব না। সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) শান্তিতে বিজয়, শান্তি জিতলে জিতবে দেশ শীর্ষক এক জাতীয় ক্যাম্পেইনের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিবেশ ধীরে ধীরে শান্তিপূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক ও দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন এইচ টি ইমাম। তিনি বলেন, এই যে অগ্রগতিগুলো ধীরে ধীরে হয়েছে। এগুলো আমরা খুব সচেতনভাবে লক্ষ করি না। কিন্তু আমি যেহেতু এগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। তাই লক্ষ করি এবং দেখি আমরা কতদূর এগিয়ে গেছি। এইচ টি ইমাম বলেন, আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি, এটি তো বিনা কারণে হয়নি। এদেশের মানুষ সকলে অংশগ্রহণ করেছে বলেই এটি হয়েছে। এই উন্নয়নের পেছনে প্রাইভেট সেক্টর, জনমত, সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। সরকার দিকনির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু সেটি হলেও দূরে তাকানোর মতো ক্ষমতা থাকতে হবে যে আমরা ভবিষ্যতে কী রকম বাংলাদেশ চাই। তিনি আরো বলেন, আমরা, বাংলাদেশ যেমন উন্নত আধুনিক বাংলাদেশ চাই তেমনি সেই সঙ্গে গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ এমন একটি দেশ চাই যেটি সারা বিশ্বের আদর্শ হবে। এটিই আমাদের লক্ষ্য।' প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময়েই আক্রান্ত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আক্রান্ত হয়েছে। আমি সেই সমস্ত ঘটনাগুলো বলতে চাই না। কিন্তু আমরা কখনও কাউকে পাল্টা আক্রমণ করিনি। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানটি সফল করার লক্ষ্যে তৃণমূল থেকে আগত সকল দলের নেতাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি। সেই সঙ্গে আয়োজকরা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করায় তাদেরকে অভিনন্দনও জানান তিনি। এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার অ্যালিসন ব্লেক। এ ছাড়াও সারা দেশ থেকে আগত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আমন্ত্রিত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি চাকরিতে কোনো কোটা না রাখার সুপারিশ কমিটির
অনলাইন ডেস্ক: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোনো কোটা না রাখার সুপারিশ করেছে এসংক্রান্ত কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের নেতৃত্বে এই কমিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আজ সোমবার এ সুপারিশ করেছে। দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলনকক্ষে কমিটির আহ্বায়ক সচিব শফিউল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা সুপারিশ করেছি। এখন প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে সেটা মন্ত্রিসভায় উত্থাপিত হবে। এরপর মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে কার্যকর হবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটাও না রাখার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। গত ৩ জুলাই সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব।
মধ্যম আয়ের দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই: বার্নিকাট
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে অভিহিত করে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, ‘এ দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণে একটি সুন্দর দেশ আরও সুন্দর হতে পারে। আসুন আমরা হাতে হাত রেখে সুন্দর দেশ গড়ি।’ সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘শান্তি বিজয়’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ক্ষমতাসীন দলের উদ্দেশে মার্শা বার্নিকাট বলেন, তাদের উচিত অন্যান্য দলকে সমান সুযোগ-সুবিধা দেওয়া। দলের প্রতি সমর্থকদের ভালোবাসা থাকে। রাজনৈতিক কর্মীদের ভয়ভীতি ছাড়াই সভা-সমাবেশ করতে দিতে হবে। সব দলের প্রতি সবার সহমর্মিতা থাকতে হবে। আশা করি সামনে সবার অংশগ্রহণে একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। এটাকে এগিয়ে নিতে সবাইকে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশিদের অবশ্যই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে-নির্বাচনের আগে, চলাকালে এবং পরে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে অহিংস আচরণ করার আহ্বান জানাতে হবে। যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, দেশ ও নাগরিকদের স্বার্থহানী করতে চায় সহিংসতা শুধু তাদেরই কাজে আসে। একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৃণমূলের ৪০ জেলার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সম্প্রীতির সমর্থনে তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে সহিংসতার বিরুদ্ধে অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অ্যালিসন ব্লেক তার বক্তব্যে বলেন, আজ সব দল এক কাতারে, আমি খুবই আনন্দিত। বাংলাদেশের মানুষ একটা অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়। সুষ্ঠু নির্বাচনে আমরা সবাইকে সহযোগিতা করতে চাই। আমরা আশা করি দেশের সব নাগরিক ও রাজনীতিবিদ সহিংসতাকে ‘না’ বলবেন। শান্তি জিতলে জিতবে দেশ, জিতবে বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে ৪০ জেলার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সম্প্রীতির সমর্থনে তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে সহিংসতার বিরুদ্ধে অঙ্গীকার করেন। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ প্রমুখ। বিএনপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিলকিস জাহান শিরিন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, রাশেদা বেগম হীরা, প্রাক্তন সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি প্রমুখ। ‘আমি বিশ্বাস করি, একমাত্র সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতিই দেশের মানুষের কল্যাণ আনতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, যারা শান্তিপূর্ণ রাজনীতির চর্চা করবে দেশের মানুষ তাদেরকে সমর্থন করবে। তাই আমি অঙ্গীকার করছি, আমি সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতির চর্চা করবো। ভবিষ্যতের যেকোনো নির্বাচনে আমি শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা করবো এবং দলের সহকর্মীদেরকেও নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে উৎসাহিত করবো। আমি অঙ্গীকার করছি, আমি সব সময় শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে সচেষ্ট থাকবো। শান্তিতে বিজয় বাংলাদেশের ষোলো কোটি মানুষের বিজয়। শান্তি জিতলে জিতবে দেশ।
ডাকসু নির্বাচন: আপিল করেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ
অনলাইন ডেস্ক: ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন করতে হবে হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের জানান, ঢাবি কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। হাইকোর্টে আপিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীও। এদিকে বিগত ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে না পারায় ঢাবির উপচার্যসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার একটি মামলা হয়েছে। আজ হাইকোর্টে ওই মামলাটির শুনানিও হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। ডাকসু নির্বাচনে পদক্ষেপ নিতে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ২০১২ সালের ১১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর ও ট্রেজারারকে লিগ্যাল নোটিশ দেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই নোটিশের কোনো জবাব না দেওয়ায় ওই বছরই কয়েক শিক্ষার্থীর পক্ষে রিট আবেদন করা হয়। এরপর ৮ এপ্রিল হাইকোর্ট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন করার ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। ওই রুল শুনানি শেষে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন।
রোজ গার্ডেন ক্রয় করেছে সরকার
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ সরকার দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ যে স্থান থেকে এর যাত্রা শুরু করেছিলো সেই ঐতিহাসিক রোজগার্ডেন কিনে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার বিকেলে গণভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সম্পত্তির বর্তমান মালিক ও তার সন্তানদের কাছ থেকে এ সম্পত্তি ক্রয়ের রেজিস্ট্রিকৃত দলিল গ্রহণ করেছেন। ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ঋষিকেশ দাস ১৯৩১ সালে পুরান ঢাকার টিকাটুলির কে এম দাস লেনে ২২ একর জমির ওপর এটি নির্মাণ করেন। সরকারি ক্রয় আইন- অনুযায়ী ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকার বিনিময়ে বর্তমান মালিকের কাছ থেকে এ স্থাপনাটি ক্রয় করা হয়। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এটিকে একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গত ৮ আগস্ট রোজগার্ডেন ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করে। এটি বর্তমানে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। চলতি অর্থবছরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ওই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মুস্তাফিজুর রহমান সভা শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সরকার ‘সরকারি ক্রয় আইন’ অনুযায়ী বাড়িটি ক্রয় করছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বর্তমান মালিকের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রোজগার্ডেনের মূল্য ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী আজ এ ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ক্রয়ের রেজিস্ট্রিকৃত দলিল গ্রহণ করলেন। এ সময় তিনি একটি চেক এবং ঐতিহাসিক ভবনের বিনিময়ে রোজগার্ডেনের মালিককে নগরীর গুলশানে ২০ কাঠা জমিসহ একটি একতলা ভবন বিক্রির একটি রেজিস্ট্রিকৃত দলিল হস্তান্তর করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী রোজগার্ডেনকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করার জন্য এক হাজার এক টাকা টোকেন মূল্যে এটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেন। সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রধানমন্ত্রী কাছ থেকে বাড়িটির দলিল গ্রহণ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুরান ঢাকার ইতিহাস তুলে ধরতে ঐতিহাসিক রোজগার্ডেনকে জাদুঘরে পরিণত করা হবে। রোজগার্ডেনের একটি ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে। কেননা দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন এখান থেকেই যাত্রা শুরু করে। এই দলের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে। এই ঐতিহাসিক ভবনটি যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, এমন স্থাপনা নষ্ট হতে দেয়া যায় না। সরকার এর আগে নগর ভবনে একটি জাদুঘর স্থাপন করেছে। তবে এখন সেই জাদুঘরটি রোজগার্ডেন ভবনে স্থানান্তর করা হবে। তিনি ভবনটির মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে এটি সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সচিব মো. শহিদুল্লাহ খন্দকার, সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব নাসিরউদ্দিন আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এমপিওভুক্তির বিষয়ে ‌-ফয়সালা অক্টোবরে
অনলাইন ডেস্ক: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতামত নিয়ে আগামী মাসের মধ্যে এমপিওভুক্তির বিষয়ে আমরা ফয়সালা করে দেব। এখন সংখ্যা বা অন্য কিছু বলছি না। কারণ এতে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হবে। তবে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আমরা চেষ্টা করছি। রোববার জাতীয় সংসদের আ খ ম জাকির হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। এসময় প্রশ্নকর্তা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কখন, কতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করা হবে তা জানানোর দাবি জানান। এর জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা ২০১০ সালে ২৪’শ স্কুল-কলেজ মাদ্রাসা এমপিওভুক্তি করেছিলাম। পরে অর্থ মন্ত্রণালয় টাকা ছাড় না দেয়ায় আমরা এমপিওভুক্তি করতে পারিনি। তিনি বলেন, এবার অর্থমন্ত্রী রাজি হয়েছেন। ইতোমধ্যে আমরা প্রকাশ্য প্রজ্ঞাপন দিয়েছি যারা এমপিওভুক্ত হতে চান তারা অনলাইনে আবেদন করবেন। একটি ক্রাইটেরিয়া দেয়া হয়েছে, সেই নীতিতেই বাছাই করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর মতামত নিয়ে আগামী মাসের মধ্যে এটা আমরা ফয়সালা করে দেব। তিনি আরও জানান, প্রশ্নপত্র প্রণয়নে গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে সব বোর্ডের সমন্বিত উদ্যোগে ‘প্রশ্ন ব্যাংক’ তৈরির পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। বর্তমানে প্রশ্ন ব্যাংকের জন্য সফটওয়ার তৈরির কাজ চলছে। তিনি জানান, সফটওয়ারটি তৈরি হলে বাংলাদেশ পরীক্ষা মূল্যায়ন ইউনিট থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা অনলাইনে তৈরিকৃত প্রশ্নপত্র প্রশ্ন ব্যাংকে পাঠাবেন। তাদের পাঠানো প্রশ্ন থেকে সুপার মডারেটর কর্তৃক মডারেশন হয়ে পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র তৈরি হবে। এর ফলে পাবলিক পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। উন্নয়নকে গতিশীল ও স্থায়ী করতে এসডিজিতে শিক্ষাকে মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। দেশের সবার জন্য যুযোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশ্বমান অর্জনে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তার ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও শিক্ষা ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে এবং জ্ঞানভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে এ প্রয়াস সহায়ক হবে বলে আশা করি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষক-অভিভাবক-সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, কমিউনিটি নেতা-ইমাম-গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হচ্ছে। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুযোপযোগী করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে মূল ধারায় সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ‘আল হাইয়াতুল উলুম লিলজামি আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীন কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান প্রদানের উদ্দেশ্যে খসড়া আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটি বর্তমানে সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে রয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর