করোনা জয় করলেন অধস্তন আদালতের ৩৫ বিচারক
১০জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা জয় করলেন অধস্তন আদালতের ৩৫ বিচারক। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার ড. মো. রেজাউল করিম আজ এ কথা জানান। তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত দশটা পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন আইন ও বিচার বিভাগ পরিচালিত করোনা মনিটরিং ডেস্কের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অধস্তন আদালতে করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এ মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২৬৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫১ জন বিচারক এবং ২১৭ জন কর্মচারী। আক্রান্ত বিচারকদের মধ্যে করোনা জয় করে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন ৩৫ জন। তিনি বলেন, গতকাল মাগুরার জেলা জজের করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দ্বিতীয়বার করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত তিনি হাসপাতালেই থাকবেন। আক্রান্ত বিচারকদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন এবং অন্যরা বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্ত কর্মচারীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮৩ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন। এছাড়া ১৩৩ জন হাসপাতাল ও বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন । নওগাঁ জেলা জজ আদালতের একজন কর্মচারী করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও তার করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, এমপি আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত মনিটরিং ডেস্ক এর রিপোর্ট প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আক্রান্তদের খোঁজ-খবর রাখছেন। এজন্য আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার প্রতিদিনের রিপোর্ট রাত ১০ টার মধ্যে আইনমন্ত্রীকে অবহিত করছেন এবং মন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
এডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
১০জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, এডভোকেট সাহারা খাতুন, এমপির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছেন। তিনি আজ এক শোক বার্তায় বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে সাহারা খাতুন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন কাজ করে গেছেন এবং দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে আইনীসহ সকল সাহায্য- সহযোগিতা প্রদান করেছেন। শেখ হাসিনা আরও বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন দক্ষ নারী নেত্রী এবং সৎ জননেতাকে হারালো। আমি হারালাম এক পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে। প্রধানমন্ত্রী মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
যেভাবে আসতে পারে গ্লোবের করোনার টিকা
১০জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনার তাণ্ডবে দিশেহারা মানুষ। ভয়ংকর রূপ নেয়া এ ভাইরাসের লাগাম কিছুতেই টানা যাচ্ছে না। মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে শত শত নাম। বাংলাদেশেও এ ভাইরাস মহামারি রূপ নিয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে ভাইরাসটি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে দেশে দেশে গবেষকরা এরই মধ্যে পরীক্ষাগারে করোনার টিকা তৈরি করছেন এবং সেগুলো বিভিন্ন প্রাণীর শরীরে পরীক্ষা করতে শুরু করেছেন। যদি ইতিবাচক ফল পান, তাহলে এ বছরের শেষের দিকে মানুষের শরীরে পরীক্ষা করা যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা। এরই মধ্যে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক করোনার ভ্যাকসিন তৈরির দাবি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আগামী ডিসেম্বরে করোনার টিকা বাজারে আনতে চেয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড ইউনিভার্সিটির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ড. খোন্দকার মেহেদী আকরাম বলছেন, বাংলাদেশের মতো কম উন্নত (এলডিসি) একটি দেশে কোভিড-১৯র ভ্যাকসিন তৈরি একটি বিশাল ব্যাপার। জানা গেছে, ড. খন্দকার মেহেদী আকরাম একজন বায়োমেডিক্যাল সায়েন্টিস্ট। ভ্যাকসিন তৈরির সাথে তিনি সরাসরি যুক্ত না থাকলেও মলিকুলার বায়োলজি, ক্লোনিং, ভাইরাল ট্রান্সডাকশন, ভাইরাল রিকম্বিনেশন, অ্যানিমল মডেলিং, জিন সিকুয়েন্সিংয়ের মতো কাজের সাথে জড়িত। করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে ভারতীয় বিজ্ঞানীর গোপন চিঠি ফাঁস: এর আগে, গ্লোব বায়োটেক বলেছে এ পর্যন্ত তারা ভ্যাক্সিনের টার্গেট ডিজাইন করেছে এবং খরগোশের শরীরে পরীক্ষা করে সফল হয়েছে। এখন তারা ভ্যাক্সিন টার্গেটগুলো পরীক্ষা করবে ইঁদুরের ওপর। গ্লোব বায়োটেক দাবি করেছে তারা সামনের ডিসেম্বরেই বাজারে ভ্যাক্সিন নিয়ে আসবে। ভ্যাকসিন কীভাবে তৈরি হয়-এমন প্রশ্নে মেহেদী আকরাম বলেন, ভ্যাকসিন তৈরির চারটি ধাপ। প্রথম ধাপে টার্গেট নির্বাচন করা হয়। এ ধাপে- ইন-সিলিকো টার্গেট অ্যানালাইসিস করতে হয়। সফটওয়্যারের মাধ্যমে এটা এক ধরনের ড্যাটা বেইজ অ্যানালাইসিস (বায়োইনফরমেটিকস)। জানুয়ারি থেকে করোনাভাইরাসের হোল জিনোম সিকুয়েন্স হয়েছে অনেক। সব সিকুয়েন্স ড্যাটা উন্মুক্ত করে রাখা হয়েছে এনসিবিআই ওয়েবসাইটে যাতে করে বিজ্ঞানীরা করোনার ওষুধ বা ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারে। করোনায় বাংলাদেশে নতুন রোগ শনাক্ত:এরপর একটা বিশেষ পদ্ধতিতে সেল কালচারের মাধ্যমে এই টার্গেট ডিএনএ যেমন স্পাইক প্রোটিন জিন প্রবেশ করানো হয় অ্যাডিনোভাইরাসের ভেতর। এভাবে তৈরি করা রিকম্বিনেন্ট অ্যাডিনোভাইরাসটি কোনো কোষকে সংক্রমিত করলেও তা ওই কোষের ভেতরে তৈরি করে করোনাভাইরাসের মতো স্পাইক প্রোটিন। অর্থাৎ এই রূপান্তরিত অ্যাডিনোভাইরাসটি তখন এক ধরনের নকল করোনাভাইরাসের মতো রূপ প্রদর্শন করে কিন্তু কোভিড রোগ তৈরি করতে পারে না। এই রূপান্তরিত অ্যাডিনোভাইরাসটিই ভ্যাকসিন হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলেও জানান তিনি। গ্লোব বায়োটেকের দাবি অনুযায়ী, তারা কাজ শুরু করেছে মার্চের প্রথম থেকে। সে অনুযায়ী যদি তারা এই ভ্যাক্সিন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করে তাহলে তারা প্রথম ধাপটি শেষ করে থাকবে মে মাসের মধ্যেই। এর পরের ধাপটি হলো ভ্যালিডেশন। এর আগে, গ্লোব বায়োটেকের ড. আসিফ জানিয়ে ছিলেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছর বিজয়ের মাসেই করোনার ভ্যাকসিন সবার কাছে পৌঁছে দেয়া যাবে। নিজেদের আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরবর্তী ধাপেও সফল হতে শতভাগ আশাবাদী প্রতিষ্ঠানটির তরুণ তুর্কি ড. আসিফ। তবে যেকোনো পরিস্থিতি বিবেচনায় প্লান বি,সি কিংবা ডি প্রস্তুত আছে তাদের। তাই সরকারি সহায়তা পেলে সামনে আর বাধা দেখছেন না তারা। ৮ মার্চ স্বপ্ন বুনেছিলেন নিজেরা। ছিল আত্মবিশ্বাস আর দৃঢ় মনোবল। সেই স্বপ্নের সারথী এখন কোটি বাঙালি, বলছিলেন ড. আসিফ। তিনি বলেন, অপেক্ষাটা আর কয়েক সপ্তাহ, তারপরেই মানবদেহে ট্রায়াল। দুই এ দুই এ চার মিলে গেলে আসছে ডিসেম্বরে অর্থাৎ বিজয়ের মাসেই বাজারে আসবে দেশে উদ্ভাবিত প্রথম করোনা ভ্যাকসিন। দেশে আগষ্ট-সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় সংক্রমণের ভয়ংকর শঙ্কা:ড. আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা একটা হিসাব করে দেখেছি, যদি সবকিছু ঠিক থাকে পশুর উপর ভ্যাকসিন প্রয়োগের অ্যাপ্রুভালটা যদি ঠিকমতো সময় পাই তাহলে অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বরে ট্রায়ালের জন্য আমরা হাতে সময় রাখছি। আশা করছি, বিজয়ের মাসেই বাজারে করোনা ভ্যকসিন নিয়ে আসতে পারবো। তবে এর জন্য ড্রাগস বাজারে ছাড়ার অ্যাপ্রুভাল লাগবে। ড. আসিফের চোখে এখন স্বপ্ন দেখছে গোটা বাংলাদেশ। এই প্রত্যাশা চাপ নয়, বরং সহায়ক মানছেন তারা। বলছেন, দরকার একটু সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। বাকিটা, চোখের সামনে সাফল্য ছাড়া কিছুই দেখছেন না তারা। তিনি বলেন, আগে শুধু এটা আমাদের স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এখন এটা দেশের স্বপ্ন। সকলের প্রত্যাশার জায়গা দেখে নতুন উদ্যোমে আমরা আমাদের কাজ শুরু করেছি। অদম্য এই যাত্রায় সবাইকে পাশে চাইছেন স্বপ্নবাজ ড. আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন তৈরির প্রাথমিক ধাপ হলো হোল জিনোম সিকুয়েন্স থেকে করোনাভাইরাসের জিনের একটি বা কয়েকটি ছোট্ট অংশ বা টার্গেট নির্বাচন করে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন তৈরি করা। অক্সফোর্ড এবং চীনে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন উৎপাদনকারী জিন সিকুয়েন্সকে টার্গেট করে ভ্যাকসিন তৈরি করছে। যদিও গ্লোব বায়োটেক পরিষ্কারভাবে এখনো বলেনি ওদের টার্গেট কোনটা, শুধু বলেছে তাদের প্রাথমিক টার্গেট ৪টি। গ্লোব বায়োটেকের প্রেস ব্রিফিংয়ে দেয়া তথ্য অনুযায়ী তারা এ ধাপ সম্পন্ন করেছে। এরপর ভাইরাল ভেক্টর প্রিপারেশনের জন্য ল্যাবরেটরি কার্যক্রমের পালা। কোন ধরনের ভ্যাকসিন গ্লোব বায়োটেক আবিষ্কার করেছে, তা কিন্তু বলেনি। এর উত্তরে ড. মেহেদী আকরাম বলেন, ধরে নিলাম, গ্লোব অ্যাডিনোভাইরাস ভেক্টর বেইজড ভ্যাকসিন তৈরি করছে। অক্সফোর্ড এবং চীন অ্যাডিনোভাইরাস ভেক্টর বেইজড ভ্যাকসিন তৈরি করছে। অ্যাডিনোভাইরাস হলো এক ধরনের নন-এনভেলপড ডিএনএ ভাইরাস। এর সংক্রমণে মানুষের সাধারণ সর্দি-জ্বর হয়। এই পদ্ধতিতে প্রথমে অ্যাডিনোভাইরাস থেকে কয়েকটি জিন সরিয়ে ফেলা হয় (ই১ এবং ই৩ জিন) যাতে করে ভাইরাসটি শুধু সংক্রমণ করতে পারবে কিন্তু বংশবিস্তার করতে পারবে না। এই পরিবর্তিত অ্যাডিনোভাইরাসটি কাজ করে ভ্যাক্সিনের ডেলিভারি ভেক্টর বা বাহক হিসেবে। অন্য দিকে ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমিড ডিএনএ ব্যবহার করে ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয় পূর্বনির্বাচিত টার্গেট জিনের ডিএনএ কপি।
সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর শোক
১০জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। তিনি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। শুক্রবার ( ১০ জুলাই) এক শোকবার্তায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাহারা খাতুন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ধারক ও বাহক। তার মৃত্যুতে জাতি একজন সৎ, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদকে হারালো। বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সাহারা খাতুন পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ায় রাজনীতিতে যে শূণ্যতা সৃষ্টি হলো তা অপূরণীয়। প্রতিমন্ত্রী মরহুমার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও রাজনৈতিক অনুসারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন আর নেই
১০,জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন আর নেই। ব্যাংককের একটি হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিউজ একাত্তরকে নিশ্চিত করেন সাহারা খাতুনের ভাগিনা মজিবর রহমান। মজিবর জানান, ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সাহারা খাতুন মারা যান। এর আগে দীর্ঘদিন অসুস্থ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনকে উন্নত চিকিসার জন্য থাইল্যান্ডে নেওয়া হয়ে। ভর্তি করা হয় বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে। গত সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স তাকে নিয়ে থাইল্যান্ডের ব্যাংককের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। বিকেল ৪টার দিকে সেখানে তাকে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে সাহারা খাতুন দীর্ঘদিন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আইসিইউতেও ছিলেন কিছুদিন। তবে সাহারা খাতুনের অবস্থার সামান্য উন্নতি হলে গত ২২ জুন তাকে আইসিইউ থেকে এইচডিইউতে (হাই ডিফন্সি ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়। এরপর গত ২৪ জুন মেডিক্যাল বোর্ড জানিয়েছিলো উন্নত চিকিৎসার জন্য সাহারা খাতুনকে বিদেশ নেওয়া যেতে পারে। জ্বর, অ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে অসুস্থ অবস্থায় গত ২ জুন সাহারা খাতুন ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন।
কোন কর্মকর্তা মাসোহারা চাইলে আমাকে জানান: আইজিপি
০৯,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কোনো ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ঘুষ বা মাসোহারা চাইলে নির্ভয়ে জানাতে বলেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ভিডিও কনফারেন্সে দেশের ৬৬০ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। একসাথে দেশের সব থানার ওসিদের সঙ্গে কোন আইজিপির এ ধরনের মতবিনিময় এবারই প্রথম। দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করে আইজিপি বলেন, বর্তমানে সরকারি বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সুন্দরভাবে জীবন চালানো যায়। একজন সরকারি কর্মচারীর ব্যয় হতে হবে তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। অবৈধ অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে বিলাসী জীবন-যাপনের স্থান পুলিশের চাকরি নয়। দুর্নীতিবাজরা পুলিশে থাকতে পারবে না। বড়লোক হতে চাইলে তারা পুলিশের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা করুক। ওসিদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, আপনারা নিজে অবৈধ উপায়ে কোন অর্থ উপার্জন করবেন না, অন্য কাউকে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের সুযোগও করে দেবেন না। কোনো ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাও আপনাদের কাছে ঘুষ বা মাসোহারা চাইলে তা আমকে নির্ভয়ে জানান। আমি ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে দেখব। বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, ৬৬০ থানার ওসিরা হলেন বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিচ্ছবি। আপনাদের ওপরই বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি নির্ভর করে। আপনাদের এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে যাতে জনগণ আপনাদের ওপর আস্থা রাখতে পারে এবং আপনাদের প্রত্যেককে একজন সোশ্যাল লিডার হিসেবে সম্মান করে। বর্তমানে করোনায় পুলিশের অনন্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, গত তিন মাসে পুলিশ জনগণের সাথে থেকে জনগণের কল্যাণ ও সুরক্ষার জন্য যা করেছে তা সত্যিই অভূতপূর্ব। জনগণ পুলিশকে এর প্রতিদানও দিয়েছে। পুলিশ মানুষের অগাধ বিশ্বাস, সম্মান ও আস্থা অর্জন করেছে। মানুষ পুলিশকে তাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান দিয়েছে। যে মর্যাদা, যে সম্মান মানুষ পুলিশকে দিয়েছে তা টাকা দিয়ে কেনা যায় না। বাংলাদেশ পুলিশ গত তিন মাসে যেখানে গিয়েছে সেখান থেকে আর পেছনে ফিরে যাবে না। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে জনগণের পুলিশ হয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, বলেন আইজিপি। পুলিশ প্রধান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা ও অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশকে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করতে কাজ করছি আমরা সবাই। সবার আগে বাংলাদেশ পুলিশ হবে দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত। দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। পুলিশের কোনো সদস্য মাদক গ্রহণ করবে না, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হবে না, মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সম্পর্ক রাখবে না। পুলিশকে হতে হবে মাদকমুক্ত। আমরা বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করতে চাই। ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, পুলিশকে আমরা জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই। বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আমরা জনগণের পুলিশ হয়ে জনগণের সাথে থাকতে চাই। সাধারণ মানুষকে নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে পুলিশকে বেরিয়ে আসতে হবে। শারীরিক শক্তি ব্যবহার না করে আইনি সক্ষমতা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে যে কোনো সমস্যার সমাধান করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পুলিশ প্রধান আরো বলেন, পুলিশ অফিসার ও ফোর্সের জন্য বর্তমানে প্রচলিত কল্যাণ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে তাদের চিকিৎসা, সন্তানদের লেখাপড়া, আবাসন এবং অবসর পরবর্তী সময়েও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সৎ ও স্বচ্ছ উপায়ে যেন পুলিশের প্রত্যেক সদস্য জীবন যাপন করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সদস্যদের জন্য কল্যাণ পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। আইজিপি তার বক্তব্যের শুরুতে দায়িত্ব পালনকালে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে জীবন উৎসর্গকারী ৪৭ জন পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। পরিবারের উপার্জনক্ষম একমাত্র সদস্যকে হারিয়ে বিপন্ন এসব পরিবারের পাশে থেকে তাদের সুখ-দুঃখের সাথী হওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। সূত্র: বাংলানিউজ
দুর্নীতিবাজ যেই হোক ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে : প্রধানমন্ত্রী
০৯,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে দল-মত নির্বিশেষে দেশব্যাপী চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে কে কোন দলের সেটা বড় কথা নয়, দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িতদের আমরা ধরে যাচ্ছি। দুর্নীতিবাজ যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, নেব এবং এটা অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা আজ দুপুরে একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টম (বাজেট) অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির সাথে জড়িত, অনিয়মে জড়িত, আমরা যাকেই পাচ্ছি এবং যেখানেই পাচ্ছি তাকে ধরছি। আর ধরছি বলেই, চোর ধরে যেন চোর হয়ে যাচ্ছি। আমরা ধরি আবার আমাদেরকেই দোষারোপ করা হয়। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য। এরআগেতো দুর্নীতিটাই নীতি ছিল। অনিয়মটাই নিয়ম ছিল। সেভাবেই রাষ্ট্র চলেছে, যোগ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, যতদূর পারি শুদ্ধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এই অনিয়মগুলো আমরা নিশ্চয়ই মানব না। এর আগে বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বক্তৃতা করেন। তিনি বহুল আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদের দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরলে কোভিড-১৯ এর মধ্যেও দেশব্যাপী তাঁর সরকারের চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী। ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী এসময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী রিজেন্ট হাসপাতালের দুর্নীতি, করোনা চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা-খাওয়া বিষয়ে ব্যাপক ব্যয়ের পরিসংখ্যান এবং অন্যান্য অনিয়ম অসংগতির প্রসঙ্গে দেশে ৭৫ পরবর্তী সামরিক সরকারগুলোর দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণকে দায়ী করেন। সরকার প্রধান তাঁর সরকারের একের পর এক বিভিন্ন দুর্নীতিবাজদের পাকড়াও করার দিকে ইঙ্গিত করে সরকারের দুর্নীতির মূল উৎপাটনে আন্তরিকতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি একইসঙ্গে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টিও স্মরণ সকলকে করিয়ে দিয়ে ভয়কে জয় করার ও পরামর্শ দেন। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ এর পরে যারা রাতের অন্ধকারে অস্ত্র হাতে নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তারাই বাংলাদেশের মানুষের চরিত্র নষ্ট করে দিয়ে গেছে। কারণ, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সেই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য এরা মানুষকে দুর্নীতি শিখিয়েছে, কালো টাকা, ঋণখেলাপিতা শিখিয়ে এই সমাজটাকে কলুষিত করে দিয়ে গেছে। তিনি বলেন, মানুষ আগে যে একটা আদর্শ নিয়ে চলত, নীতি নিয়ে চলত, দীর্ঘদিন এদেশে এই মিলিটারি ডিক্টেটরশিপ এদেশের মানুষের চরিত্র হরণ করেছে। কারণ, তাদের অবৈধ ক্ষমতাটাকে নিষ্কণ্টক করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। তারা বছরের পর বছর এই দুর্নীতি-অনিয়মের বীজ বপন করেছে। তা মহীরুহ হয়ে গেছে। তিনি এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, আপনি যতই কাটেন আবার কোথা থেকে যেন গজিয়ে ওঠে। সেক্ষেত্রে চরিত্রহীনতা একেবারে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত । সেখানে আপনি যতই চেষ্টা করেন এর মূলোৎপাটন করা যথেষ্ট কঠিন। তিনি তাঁর সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের সাফল্য এবং দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার পদক্ষেপের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তারপরও এর মধ্যে যে খবরগুলো পাচ্ছেন, এটা কারা করছেন? তাঁর সরকারের পাশাপাশি পুলিশ ও Rab সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, বর্ডার গার্ড, সশস্ত্রবাহিনী, আনসার ও ভিডিপিসহ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ এবং শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীরা করোনা মোকাবেলায় দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ত্রাণ কার্যে সহযোগিতা করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি, করোনা মোকাবেলা এবং অর্থনীতিকে সচল রাখায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা দলের কর্মীদের মাঠে নামিয়েছি এবং তাঁরা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। তবে, আরো অনেক রাজনৈতিক দল রয়েছে এবং এনজিও রয়েছে তাঁদের কয়জন আজকে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে? তাঁদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে? সেটাই আমার প্রশ্ন। প্রধানমন্ত্রী এ সম্পর্কে আরো বলেন, ঘরে বসে সমালোচনা, বাজেটের খুঁত ধরা, কাজের খুঁত ধরা- সেগুলো অনেকেই ধরতে পারেন। কিন্তু মাঠে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষকে সেবা করার কাজটা আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সৈনিক যারা, তারাই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং অনেকেই অনেক বাধা অতিক্রম করেই কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ২ হাজার ডাক্তার এবং ৬ হাজার নার্স নিয়োগের পাশাপাশি আরো ২ হাজার ডাক্তারের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া, হেলথ টেকনোলজিস্ট, কাডিওগ্রাফার এবং ল্যাব এটেনডেন্টের ৩ হাজার পদ সৃষ্টি করা হয়েছে যেগুলোতে সরকার নিয়োগ দেবে। সংসদ নেতা বলেন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ল্যাব এটেনডেন্টদের সরকারের তরফ থেকে পরিবার থেকে পৃথক করে তাঁদের সরকার থাকা-খাওয়া, হাত খরচসহ হোটেল ভাড়া করে আবাসনের ব্যবস্থা করেছে। যে সব চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী এ সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁদের সকলকে আমাদের দেখতে হবে এবং সে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি, যোগ করেন তিনি। যারা লোকলজ্জার ভয়ে প্রকাশ্যে হাত পাততে পারছে না এমন বহুলোকের বাড়ি-ঘরে গোপনেও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, সরকারীভাবে যেমন দিচ্ছি তেমনি দলীয় ভাবেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমানভাবে সাহায্য করে যাচ্ছি। কারণ, এটাই আওয়ামী লীগ, যে আওয়ামী লীগ জাতির পিতার নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা এনেছে। করোনা ভাইরাসের ভয়ে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থবিধি মেনে চলার আহ্বানও পুণর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কথা শুনলেই মানুষ ভয়ে আতঙ্কিত হয়। এত আতঙ্কিত হবো কেন। মরতে তো একদিন হবেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি তাহলে করোনার সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাবো। আমাদের দেশে করোনারোগীর সুস্থ হওয়ারর হার অনেক বেশি। মনে সাহস রাখতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, করোনার কারণে সবকিছু স্থবির হয়ে পড়েছে। কিন্তু জীবন তো আর থেমে থাকবে না। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। বাংলাদেশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, করোনার সংক্রমণ জুলাই মাস পর্যন্ত বাড়তে থাকবে। এরপর আস্তে আস্তে কমে যাবে। সেটাই হচ্ছে। আশা করি, পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সরকার প্রধান সম্প্রতি বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকলগুলোর আধুনিকায়নে এসব মিলের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে উৎপাদন বন্ধে তাঁর সরকারের গৃহীত পদক্ষেপেরও যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক বছর ধরে এ পাটকলগুলোর ২৫ হাজার শ্রমিককে সরকারের পক্ষ থেকে বেতন দেওয়া হচ্ছে, বিজেএমসি দিতে পারছে না। এ পাটকলগুলো সবচেয়ে পুরোনো, ৫০ ও ৬০ এর দশকে এগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। এগুলো আর লাভজনক করা সম্ভব না। বিশে^ কৃত্রিম তন্তুর বিপরীতে নতুন করে পাটের আবার সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা পাটের জিন আবিষ্কার করেছি। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের সম্ভাবনা রয়েছে। এ পাটকলগুলো আধুনিক করে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যারা আগ্রহী হবে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো যাবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী এ বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এ পাটকলগুলোকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে হবে। আমরা সেটা করবো। শ্রমিকদের পাওনা ৫ হাজার কোটি টাকা আমরা পরিশোধ করছি। তিনি শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ সম্পর্কে বলেন, সব টাকা শ্রমিকদের হাতে দেওয়া হবে না। দিলে খরচ হয়ে যাবে। অর্ধেক টাকা নগদ আর অর্ধেক আমরা তাদের সঞ্চয়পত্র করে দেবো। এতে তারা প্রাপ্য মজুরির চেয়ে বেশি পাবে। দেশে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, করোনাতো আছেই তার সাথে এখন আবার যোগ হয়েছে বন্যা। ইতোমধ্যে রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালননিরহাট, সিলেট, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, টঙ্গাইল, মাদারীপুরসহ বন্যা দেখা দেওয়া ১২টি জেলায় প্যাকেট ও শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ৬৪টি জেলার জন্য বন্যার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ১০ হাজার ৯শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ এবং ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ দিয়ে দেওয়া রয়েছে। যাতে দুর্যোগ হলে কোন ধরনের অপেক্ষা করতে না হয়। সঙ্গে সঙ্গে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা যায়। শেখ হাসিনা বলেন, বন্যা, নদীভাঙ্গন, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, ঘুর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, অগ্নিকান্ডসহ যেকোন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে সহযোগিতা করতে আমরা সবসময় প্রস্তত থাকি এবং আমাদের দেশের প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের জানা আছে এবং সে অনুযায়ীই আমরা ব্যবস্থা নেই। যাতে দেশের মানুষকে আমরা সুরক্ষিত রাখতে পারি এবং তাঁদের কষ্ট কমাতে পারি। প্রধানমন্ত্রী এই করোনাকালিন বাজেট প্রণয়নের জন্য অর্থমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগকে তাঁর ভাষণে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। যা অনেক উন্নত দেশও করতে পারেনি। কিন্তু আমরা করেছি। এই বাজেটে প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা,সামাজিক সুরক্ষাকে গুরুত্ব প্রদান করে দুঃস্থ ও প্রতিবন্ধীদের ভাতার পরিমান এবং সংখ্যা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ সকল শ্রেনী পেশার মানুষের জন্য ১৯টি প্যাকেজে প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমি সরকার পরিচালনায় আসার পর বাজেট ঘাটতি কখনও শতকরা ৫ শতাংশের ওপরে উঠতে দেই নাই কিন্তু এবার করোনার জন্য বাজেট ঘাটতি আমরা ৬ ভাগ রেখেছি। তিনি আরো বলেন, টাকা লাগলে আমরা দেব। কিন্তু করোনার কারণে অর্থনীতি যেন স্থবির না হয়। কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গত ১০ জুন এবারের সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। ১১ জুন সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল ২০২০-২১ অর্থ বছরের জন্য প্রায় ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। ৩০ জুন এই বাজেট সংসদে পাস হয় ।
পুরো বিএনপিই এখন হোম আইসোলেশনে : তথ্যমন্ত্রী
০৯,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পুরো বিএনপিই এখন হোম আইসোলেশনে। তিনি বলেন, “প্রকৃতপক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজে এবং তার নেতৃত্বে দলের নেতৃবৃন্দসহ পুরো বিএনপিই এখন হোম আইসোলেশনে। হঠাৎ হঠাৎ টেলিভিশনে উঁকি দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা ছাড়া বিএনপির আর কোনো কাজ নেই। তথ্যমন্ত্রী আজ সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন । বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের করোনা মোকাবিলা করা এমন কঠিন কিছু ছিল না’-এ মন্তব্য সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবের বক্তব্যে মনে হয় সারা দুনিয়ায় সবদেশের ক্ষেত্রেই করোনা মোকাবিলা এমন কঠিন কিছু ছিল না, অথচ উন্নত দেশগুলোসহ পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ করোনায় মৃত্যুবরণ করেছে। যারা জনগণের পাশে নেই, জনগণের জন্য কিছু করছেন না, হঠাৎ হঠাৎ টেলিভিশনে উঁকি দিয়ে এ ধরণের কথা বলা তাদেরই মানায়। দায়িত্বপূর্ণ জায়গা থেকে এ ধরণের কথা বলা সমীচীন নয়। ড. হাছানবলেন, সমগ্র পৃথিবী আজ করোনাভাইরাসের কারণে অসহায় এবং পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের তুলনায় অনেক সমৃদ্ধ হলেও করোনা মোকাবিলায় তাদের অসহায়ত্ব প্রকাশ পেয়েছে, সেখানে মৃত্যুর মিছিল ছিল। তিনি বলেন, ‘সেই তুলনায় বাংলাদেশ সীমিত সামর্থের একটি উন্নয়নশীল দেশ। এখানকার শহরগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ। তাসত্ত্বেও, এখনও পর্যন্ত সরকার এবং বেসরকারি পর্যায়ের সমস্ত হাসপাতাল ও স্বেচ্ছাসেবীসহ সকলে সম্মিলিতভাবে করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে আমরা অনেক উন্নত দেশের তুলনায় সাফল্য দেখাতে সক্ষম হয়েছি, বিশেষ করে মৃত্যুহার কম রাখার ক্ষেত্রে। আমাদের দেশে মৃত্যুর হার ভারত-পাকিস্তানের চেয়েও কম এবং ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে অনেক কমতো বটেই।’ বিএনপি নেতা রুহুল কবীর রিজভী’র মন্তব্য ‘মানুষের মুখ বন্ধ রাখতে সরকার মামলা করছে’ -এর জবাবে ড. হাছান বলেন, ‘সরকার কারো বিরুদ্ধে মামলা করেনি। সা¤প্রতিক সময়ে যে সমস্ত মামলা হয়েছে, সবগুলোই বিভিন্ন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি করেছেন। বিএনপির নেতারা জনগণ এবং সরকার দু’টিই গুলিয়ে ফেলছেন। জনগণের কেউ যদি সংক্ষুব্ধ হন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তিনি তার সুরক্ষার জন্য যেকোনো আইনী পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার রাখেন। এসময় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান শাহেদের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যমকে তাদের ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘সরকারই কিন্তু তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এরপর তার ব্যাপারে পত্র-পত্রিকায় যে অনুসন্ধানী রিপোর্টগুলো বেরিয়েছে সেজন্য গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ। এতে প্রমাণিত হয়, সে খুব সুচতুর একজন প্রতারক। এরকম আরো প্রতারক যারা আছে, আমাদের সম্মিলিতভাবে তাদেরকে খুঁজে বের করা প্রয়োজন। শাহেদ আওয়ামী লীগের সদস্য কি না এ প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সে দাবি করছে, সে আওয়ামী লীগের কোনো একটা উপ-কমিটিতে ছিল। কিন্তু আমাদের দলীয় কার্যালয়ে তো আমি প্রতিদিন যাই। সে আওয়ামী লীগের কোনো উপ-কমিটির সদস্য ছিল বলে আমার জানা নেই। ড. হাছান মাহমুদ আরো বলেন,একইসাথে এই হাসপাতালকে কোভিড-১৯ চিকিৎসা দেয়ার জন্য সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল বলে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি।
পুলিশ বাহিনীকে সুরক্ষা সামগ্রী দিলো যুক্তরাষ্ট্র
০৯,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে সুরক্ষা সরঞ্জাম দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সুরক্ষা সরঞ্জাম হস্তান্তর করেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়। এতে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে পিপিই সহায়তা দেয়ার পরিকল্পিত কার্যক্রমের চতুর্থ অনুদান এটা। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র শুধু স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ইউএসএআইডির মাধ্যমেই কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ৪৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স, ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার ও সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনর মাধ্যমেও সাহায্য ও কারিগরি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস যে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামগুলো হস্তান্তর করেছে তার মধ্যে রয়েছে ৪০০০ কেএন৯৫ সার্জিক্যাল মাস্ক, ২০০ মিলিলিটারের ৩২০০ বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ৪০০০ জোড়া সার্জিক্যাল গ্লাভস, ৫৫০ পাউন্ড গুঁড়া ব্লিচ, ২২টি জীবাণুনাশক ব্যাকপ্যাক স্প্রেয়ারস, ৭০০টি মুখমণ্ডল ঢাকার শিল্ড, এবং ২৫টি ইনফ্রারেড থার্মোমিটার। বাংলাদেশ পুলিশ কোভিড-১৯ মোকাবিলার ক্ষেত্রে প্রথমসারির যোদ্ধা হিসেবে দেশব্যাপী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোভিড-১৯ মোকাবিলা কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের দেয়া পিপিই পুলিশ বিভাগের সদস্যদের নিজেদের সুরক্ষিত রেখে বাংলাদেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে সহায়তা করবে। কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিশ্বব্যাপী জরুরি স্বাস্থ্য, মানবিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহায়তা কর্মকাণ্ডে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওদের ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর