শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২১
চলতি অর্থবছরে কৃষিতে ৩৭২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছে সরকার
২২,ফেব্রুয়ারী,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় চলতি অর্থবছরে প্রায় ৫৭ লাখ কৃষকের মধ্যে ৩৭২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ করেছে সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ বলা হয়, মোট ২৩ লাখ ৬৪ হাজার বিঘা জমি এ কর্মসূচীর আওতায় এসেছে। করোনাভাইরাসের মহামারী মোকাবেলা ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। প্রণোদনার আওতায় বীজ, চারা, সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ও আনুষঙ্গিক সহায়তা রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত বাজেট কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের বরাদ্দ হতে এ প্রণোদনা বিতরণ করা হয়। ৩৭২ কোটি টাকার মধ্যে করোনাভাইরাসের মহামারী ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুষাতে দেয়া হয়েছে ১১২ কোটি টাকার প্রণোদনা। রবি মৌসুমে মাসকলাই, মুগ, সূর্যমূখী, সরিষা ও ভূট্টাসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে দেয়া হয়েছে ৯০ কোটি টাকার প্রণোদনা। এছাড়াও বোরো ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিনামূল্যে বীজ সহায়তা বাবদ ১৩৬ কোটি টাকা, পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ২৫ কোটি টাকা এবং ৬১ জেলায় একই পরিমাণে হাইব্রিড বোরো ধান চাষের জন্য ৯ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে কি না, শিগগিরই সিদ্ধান্ত: মন্ত্রিপরিষদ সচিব
২২,ফেব্রুয়ারী,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে কি না, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ তথ্য জানান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়ার বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে কোন সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডেকে নিয়ে আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্তে আসতে বলা হয়েছে। তারা প্রিভিউ করবে আমরা (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) খুলব কি না এবং কখন খুলব। কুইকলি খোলা যায় কি না, কী পদ্ধতিতে খুলব- যাতে সেইফটিও ঠিক থাকে, একইসঙ্গে লেখাপড়াও হয়। কারণ, এতদিন হয়ে গেছে। অন্যান্য দেশে ভার্চুয়ালি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলাই আছে। সেইসব দৃষ্টিকোণ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন- আপনারা বসে চিন্তা-ভাবনা করেন আমরা খুলে দিতে পারি কিনা। আনুমানিক কোন তারিখের কথা বলা হয়েছে- এ বিষয়ে তিনি বলেন, না কোন তারিখের কথা বলা হয়নি। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে....গ্রামে-গঞ্জে দেখা গেছে ছেলেমেয়েরা একটু ফ্রিলি মুভ করছে। উনি (প্রধানমন্ত্রী) যেটা বলেছেন, আগে শিক্ষক ও কর্মচারীদের ভ্যাকসিনটা আগে কনফার্ম করতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা গেট ভেঙে হলে প্রবেশ করছে। এ বিষয়ে কোন আলোচনা হয়েছি কি না- জানতে চাইলে খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, এটা আলোচনা হয়নি। তবে এটা আলোচনা হয়েছে যে, বিশেষ করে যারা আবাসিক শিক্ষার্থী তাদের সেইফটিটাই হলো সবচেয়ে বড় রিস্কের বিষয়। তাদের জন্য সেইফটি মেজার্স নিয়ে কীভাবে স্কুল-কলেজ খোলা যায়, সেটা দেখার জন্য বলা হয়েছে। তবে কী বিষয়টি এমন দাঁড়ালো যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত খুলতে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে- এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই সপ্তাহে না হলে আমরা আগামী রবি-সোমবারের মধ্যে ইনশাআল্লাহ বসে যাব। বিশেষজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনের সবাইকে নিয়ে বসে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারব। আমরা কী বলতে পারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতির পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার- এ বিষয়ে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সরকার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সরকার খোলার পরিবেশটা প্রিভিউ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা ৫-৬ দিনের মধ্যে একটা মিটিংয়ে বসে যাব ইনশাআল্লাহ। এটা আন্তঃমন্ত্রণালয় মিটিং হবে। কারণ অনেককে লাগবে।
শিক্ষাগুরুর হাতে পদক তুলে দিতে না পেরে প্রধানমন্ত্রীর আক্ষেপ
২২,ফেব্রুয়ারী,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভাষায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক' প্রদান কার্যক্রম। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এবার তিন ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে এই পদক প্রদানের মাধ্যমে মাতৃভাষা পদকের প্রচলন করেছে। রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান ও 'মাতৃভাষা পদক ২০২১' প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিক্ষক জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার হাতে পদক তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। করোনার কারণে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে নিজ হাতে শিক্ষককে পদক তুলে দিতে না পারায় এসময় আক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদক ২০২১ এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা আন্তর্জাতিক পদক ২০২১ দেয়া হলো। আমার দুঃখ এখানেই থেকে গেলো- আমি নিজে উপস্থিত থাকতে পারলাম না। বিশেষ করে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক রফিকুল ইসলাম স্যারের হাতে পদক তুলে দেয়া, এটা আমার জন্য কত সম্মানের এবং গৌরবের! কিন্তু আমার দুঃখ, পুরস্কার নিজের হাতে দিতে পারলাম না। স্যার আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন। তিনি আরও বলেন, আসলে প্রধানমন্ত্রী হলে সব স্বাধীনতা থাকে না। অনেকটা বন্দি জীবনযাপন করতে হয়। সেরকমই আছি। কারণ আমি এক জায়গায় যেতে গেলে আমার সঙ্গে বহু লোক, নিরাপত্তার লোক, অমুক লোক, তমুক লোক, প্রায় হাজারখানেক লোককে রাস্তায় দাঁড় করায়ে নানাভাবে তাদেরকে কাজে লাগায়। তাদের কথা চিন্তা করেই কিন্তু আমি যেতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের এই গৌরব সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছি। ভাষার অধিকার, পৃথিবীর সব হারিয়ে যাওয়া ভাষা সংরক্ষণ ও ভাষা গবেষণার জন্য আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট করে দিয়েছি। এখানে ভাষা যাদুঘর করা হয়েছে। এটা বাংলাদেশের জন্য একটা সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তিন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পদক তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে প্রতি দু বছর অন্তর মাতৃভাষার সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন ও বিকাশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদানের জন্য এ পদক দেয়া হবে। জাতীয় পর্যায়ে মাতৃভাষার সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন ও বিকাশে অবদানের জন্য জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ছাড়াও এবারের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক-২০২১ পেয়েছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণে অবদানের জন্য খাগড়াছড়ির জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা পান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উজবেকিস্তানের গবেষক ইসমাইলভ গুলম মিরজায়েভিচ ও লাতিন আমেরিকার আদি ভাষাগুলো নিয়ে কাজ করা বলিভিয়ার অনলাইন উদ্যোগ অ্যাক্টিভিজমো লেংকুয়াস এ বছর বাংলাদেশ সরকারের এ সম্মাননা পেয়েছেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী। এতে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি বিয়াট্রিস কালদুন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জিনাত ইমতিয়াজ আলী প্রমুখ।
ভাষাসৈনিকরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অধিকার আদায়ের আন্দোলনের নিদর্শন : পলক
২১,ফেব্রুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ভাষাসৈনিকেরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নিদর্শন স্থাপন করে গেছেন। তিনি বলেন, ২০২১ সালে আমরা যখন মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করছি তখন কিন্তু বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, একুশের চেতনাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। জুনাইদ আহমেদ পলক আজ সিংড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। সিংড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এম. এম. সামিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট গবেষক ড. আশরাফুল ইসলাম। এতে অন্যান্যোর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিংড়া পৌরসভার মেয়র মো. জান্নতুল ফেরদৌস, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান কামরান, উপজেলার সরকারি ভূমি কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকীসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ। বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে উল্লেখ করে পলক বলেন, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত । তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এবং আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদের নির্দেশনায় আইসিটি বিভাগ থেকে গবেষণার মাধ্যমে বাংলাকে আরো সমৃদ্ধ করার জন্য একটি (গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তি বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ) প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যার মাধ্যমে বাংলাতে যেন আরো বেশি স্বাচ্ছন্দে আমাদের সন্তানেরা সকল বিষয়গুলো জানতে পারে, শিখতে পারে সেটিকে আরো সহজ করে আনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১১ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে। ইন্টারনেটে বাংলাতে আরও সহজভাবে সকলের কাছে সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করার জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন সারাদেশে ১৩ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে এবং আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে আরও ৩৫ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হবে। পরে প্রতিমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতা বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন।
প্রথমবার ৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পেলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক
২১,ফেব্রুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তিন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক পেয়েছেন। প্রথমবারের মতো রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এ পদক তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি দুবছর অন্তর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মাতৃভাষার সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন ও বিকাশে অবদানের জন্য এ পদক দেয়া হবে। এদিন মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান ও মাতৃভাষা পদক ২০২১ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চার দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় পর্যায়ে মাতৃভাষার সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন ও বিকাশে অবদানের জন্য এবারের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক-২০২১ পেয়েছেন জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণে অবদানের জন্য খাগড়াছড়ির জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা পান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উজবেকিস্তানের গবেষক ইসমাইলভ গুলম মিরজায়েভিচ ও লাতিন আমেরিকার আদি ভাষাগুলো নিয়ে কাজ করা বলিভিয়ার অনলাইন উদ্যোগ অ্যাক্টিভিজমো লেংকুয়াস এ বছর বাংলাদেশ সরকারের এ সম্মাননা পেয়েছেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন। মূল প্রবন্ধ ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী, জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জিনাত ইমতিয়াজ আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি বিয়াট্রিস কালদুন।
ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে মানুষের ঢল
২১,ফেব্রুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে জাতি। প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জানানো পরপরই ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নামে মানুষের ঢল। ফুল হাতে শহীদ মিনারে হাজির হন সর্বস্তরের মানুষ। এর আগে রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের প্রতিনিধিদল, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার ব্যক্তিবর্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে সাধারণ মানুষের জন্য শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ খুলে দেয়া হয়। সারিবদ্ধভাবে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফিরে যাচ্ছেন তারা। তবে এবারের শহীদ মিনারে আগত ব্যক্তিদের মানতে হচ্ছে বিশেষ সতর্কতা। মাস্ক পরা এবং নির্দিষ্ট রুটম্যাপ অনুসরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন তারা। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ এবং ব্যক্তি পর্যায়ে দুইজন করে শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার নির্দেশনা কর্তপক্ষের। একুশের প্রথম প্রহরে ফুল দেয়ার জন্য ছাত্র-জনতা ব্যানার, পোস্টার, ফুলের তোড়া নিয়ে প্রণীত রুটম্যাপ অনুযায়ী পলাশীর মোড় হয়ে জগন্নাথ হলের সামনে অপেক্ষা করতে থাকে ছাত্র-জনতা। রাত ১২ টা ২০ মিনিটের দিকে সর্বসাধারণের জন্য গেট খুলে দিলে দলবদ্ধ ও এককভাবে শহীদ মিনারে প্রবেশ করে শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হওয়া মানুষ।
ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
২১,ফেব্রুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিনম্র শ্রদ্ধা, যথাযথ মর্যাদা ও পূর্ণ ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে জাতি ভাষা শহীদদের স্মরণের মাধ্যমে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন শুরু করেছে। অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত ১২টা ১টি মিনিটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাদের সামরিক সচিবরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাহউদ্দিন ইসলাম এবং এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকীব আহমেদ চৌধুরী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় অমর একুশের কালজয়ী গান আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি বাজানো হয়। তারা কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতির পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী ও কর্নেল (অব.) ফারুক খান এবং তথ্যমন্ত্রী ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জি.এম কাদের, তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, Rapid Action Battalion (Rab) প্রধান এবং আনসার বাহিনী প্রধান পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া জাসদ, ন্যাপ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারবৃন্দ, বিদেশী সংস্থার প্রধানগণ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতি
২০,ফেব্রুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঘিরে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চলছে শেষ মুহূর্তের রংতুলির ছোঁয়ায় আল্পনার কাজ। হু হু বাতাসে মন উদাস করা সুর। আর শিমুল পলাশের আগুনঝরা রং স্মরণ করিয়ে দেয় ছালাম বরকতের দ্রোহের রক্তকে। শেষ হয়েছে আলপনা, শেষ সময়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। মধ্যরাত থেকেই জাতি শ্রদ্ধা জানাবে ভাষা শহীদদের প্রতি। তবে সারাদিন শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেখা মিলেছে দর্শনার্থীদের। এদিকে দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিরাপত্তার প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন Rab মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। পরে, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পুরো এলাকায় স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতির জন্য Rabর বোমা স্কোয়াড এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত থাকবে বলেও জানান তিনি। ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশাপাশি দেশের সব শহীদ মিনারেও যথেষ্ট পরিমাণ Rab সদস্য মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি।
২১ ফেব্রুয়ারি নিয়ে সতর্ক বাহিনী, নাশকতার আশঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২০,ফেব্রুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২১ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে কোনো নাশকতার সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এ বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে আছে। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জুম বাংলাদেশ স্কুলের আয়োজনে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা যাতে পথভ্রষ্ঠ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুম বাংলাদেশের সভাপতি রুহুল আমিন সেলিম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জুম বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রকৌশলী খালেদ হুসাইন, প্রধান পৃষ্ঠপোষক মনিরুজ্জামান, সহসভাপতি জেরিন সুলতানা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জুম বাংলাদেশের শুভাকাঙ্খী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় জুম বাংলাদেশ স্কুলের শিক্ষার্থীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এসটি শাহীন প্রধান। পরে বিভিন্ন শাখার শিশু ও সমন্বয়কদের হাতে শিক্ষাসামগ্রী ও পুরস্কার বিতরণ করেন আগত অতিথিরা। উল্লেখ্য, জুম বাংলাদেশ বিগত ৫ বছর ধরে ঢাকা, গাইবান্ধা, যশোর ও চট্টগ্রামসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য কাজ এ আসছে। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন সংকটকালে বিশেষ করে করোনাকালে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর