বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার সি আর দত্ত আর নেই
২৫আগস্ট,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৪ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব:) চিত্তরঞ্জন দত্ত (সি আর দত্ত) বীর উত্তম আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর ৮ মাস। সি আর দত্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বয়েন্টনবীচ বেথেষ্ডা সাউথ হাসপাতালের হসপিস কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কনিষ্ঠ কন্যা কবিতা দাসগুপ্ত হ্যাপির ফ্লোরিডার বাসায় ছিলেন সি আর দত্ত। গত বৃহস্পতিবার ওই বাসার বাথরুমে পড়ে গিয়ে ডান পায়ের গোড়ালি ভেঙে যায় বলে তার জামাতা শংকর গুপ্ত জানান। সাথে সাথে তাকে নিকটস্থ বেথেস্ডা ওয়েস্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। এরপর চিকিৎসকরা তার গোড়ালিতে মাইক্রো সার্জারি করেন। সে সময় তাকে সম্পূর্ণভাবে অজ্ঞান (এনেসথেসিয়া) করতে হয়। সি আর দত্ত এ্যাজমায় আক্রান্ত থাকায় ওই সার্জারির পর শ্বাসকষ্ট মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। একইসাথে তার কিডনিও অচল হয়ে পড়ে। কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে জ্ঞান ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও কথা বলছিলেন অসংলগ্নভাবে।
ভ্যাকসিন যেখানে দ্রুত মিলবে সেখান থেকেই নেয়া হবে
২৪আগস্ট,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বের যেখান থেকেই দ্রুত ও সাশ্রয়ী মূল্যে করোনার কার্যকর ভ্যাকসিন বা টিকা পাওয়া যাবে সেখান থেকেই সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ ভ্যাকসিন উৎপাদনের অ্যাডভান্স স্টেজে চলে গেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, চায়নার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও রাশিয়া অ্যাডভান্স স্টেজে আছে। এছাড়া আমেরিকায় ফাইজা এবং মডার্না অ্যাডভান্স স্টেজে আছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব রোধে তাইওয়ান সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান, ঢাকায় তাইওয়ান ট্রেড সেন্টারের পরিচালক তিমথি ডব্লিড. ডি. সো, ম্যানেজার রঞ্জন চক্রবর্তী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা গত জুলাই মাসেই এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের জানিয়েছেন, যখন তারা ভ্যাকসিন পাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে তারা ২০ শতাংশ পর্যন্ত দিতে পারবে। এমন আশ্বাস তাদের কাছ থেকে আমরা পেয়েছি। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের যেসব প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন উৎপাদনে এগিয়ে আছে তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ আছে। এসব বিষয় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা জানিয়েছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীই নেবেন। যখন সময় হবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা সিদ্ধান্ত পেয়ে যাব। সে সিদ্ধান্ত পেলেই আমরা জানাতে পারব। ভ্যাকসিনের বিষয়ে বাংলাদেশ কোনো আঞ্চলিক রাজনৈতিকের শিকার হচ্ছে কি না- জানতে চাইলে জাহিদ মালেক বলেন, এটা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটা স্বাস্থ্যসেবার বিষয়। কোভিড-১৯ একটি বৈশ্বিক মহামারি। পৃথিবীর সব দেশেই এটা ছেয়ে গেছে। লাখ লাখ মানুষ মারা গেছেন। বিশ্বব্যাপী প্রায় দুই কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। কাজেই এগুলো নিয়ে কোনো রাজনীতির জায়গা হয় না। তিনি বলেন, যখন ভ্যাকসিন তৈরি হবে এবং সেটা কার্যকরী ও অ্যাভেলেবল হবে, যে ভ্যাকসিনটা সাশ্রয়ী দামে তাড়াতাড়ি পাব আমরা সেটিই সংগ্রহ করব। রাশিয়ায় ইতোমধ্যে করোনার ভ্যাকসিন বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ কি সে ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য কোনো চেষ্টা চালাচ্ছে- জবাবে মন্ত্রী বলেন, সবার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। আমাদের অ্যাম্বাসি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুই জায়গা থেকেই যোগাযোগ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দফতরও এ বিষয়ে অবহিত আছেন। সব জায়গায় যোগাযোগ করা হচ্ছে সময় মতোই আমরা ভ্যাকসিন পেয়ে যাব।
সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আইভি রহমানের অবদান রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
২৪আগস্ট,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তার ১৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে প্রয়াত এই নেত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে নিয়মিত সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্বকালে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আইভি রহমান দেশের প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী আইভি রহমান ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ২৪ আগস্ট মারা যান। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ওই গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের আরো ২১ নেতা-কর্মী নিহত হয়। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমি আজকের এই দিনে আওয়ামী লীগের ওই ২২ নেতা-কর্মী বিশেষত আইভি রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ও তাদের স্মরণ করছি, যারা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আইভি রহমান আওয়ামী লীগের প্রতিটি সভা-সমাবেশে সাধারণ কর্মীদের সাথেই বসতেন। শেখ হাসিনা বলেন, তার মতো এমন একজন চমৎকার নিরহংকারী মানুষের মৃত্যুকে মেনে নেয়া খুবই কষ্টের। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আরো বলেন, আইভি রহমান স্কুলজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন একসাথে রাজনীতি করেছি। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ২৪ আগস্ট আইভি রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে, কারণ ২০০৪ সালের এই দিনেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, আমরা জানতেও পারিনি আমাদের এই নেত্রী কখন মারা গেছেন। কারণ, ২১ আগস্ট ঘৃণ্য ওই গ্রেনেড হামলার পর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার সমন্বিত সামরিক হাসপাতালে সিএমএইচ নিয়ে যাওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আরো বলেন, ২১ আগস্টের ওই গ্রেনেড হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের চার নেত্রীসহ আমাদের ২২ নেতাকর্মী প্রাণ হারান। তিনি বলেন, এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে দুই জনকে সনাক্ত করা যায়নি। কেউ তাদের লাশ নিতেও আসেনি। তারা সন্দেহজনক হামলাকারী হতে পারে অথবা অন্য কেউও হতে পারে। তিনি আরো বলেন, আমরা এই গ্রেনেড হামলায় ২২ জন নেতাকর্মীকে হারিয়েছি। এতে আমাদের আরো ৬শ থেকে ৭শ নেতাকর্মী আহত হয়েছিলেন। আহতদের অবস্থা ছিল গুরুতর। অনেকেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও মারা যান। কারণ, তারা দেহে গ্রেনেডের স্প্রিন্টার বহন করছিলেন। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা সচিবালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।
মানবতার কোমরে দড়ি
২৪আগস্ট,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও। এরইমধ্যে হাজার হাজার বার শেয়ার হয়েছে। মা-মেয়ের কোমরে দড়ি। তাদের ঘুরানো হচ্ছে এলাকায়। আশপাশে শ শ উৎসুক মানুষ। একপর্যায়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় চেয়ারম্যান অফিসে। নিষ্ঠুর, অমানবিক এক দৃশ্য। প্রখ্যাত সাংবাদিক ফয়েজ আহমদ বহু আগে লিখেছিলেন, সত্য বাবু মারা গেছেন। সেসময় বা তার আগে পরে মানবতাও যে মারা গেছে তা একেবারেই স্পষ্ট। অথচ সংবিধানে, আইনে কত সুন্দর সুন্দর কথাই না লেখা আছে। কাউকে নিষ্ঠুর, অমানবিক সাজা দেয়া যাবে না। এটা বলে নেয়া ভালো, মা-মেয়েসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। আইনের শাসনের দাবি হচ্ছে, আইন আইনের গতিতে চলবে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে, বিচার হবে। এতেতো নিশ্চয়ই কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু বহুক্ষেত্রে আমরা দেখছি, পাবলিক কোর্টে নানা রকম অমানবিক দণ্ড দেয়া হচ্ছে মানুষকে। এটা এদেশে চলে আসছে বহুকাল। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানুষ সভ্যতার পথে হাঁটছে না। বরং তাদের একটি অংশ দিনকে দিন হয়ে ওঠছে আরো অমানিবক, নিষ্ঠুর। স্কুলে সন্তানের ভর্তির খবর নিতে যাওয়া মাকেও কী অবলীলায় তারা পিটিয়ে মেরে ফেলেন। সন্তানেরা যে সারা জীবন তার মাকে আর খুঁজে পাবে না সে কথাটা একবারও হত্যাকারী মানুষগুলো বা অমানুষগুলোর মনে আসে না। এটি একমাত্র বা শেষ ঘটনা নয়। ট্র্যাজেডি হচ্ছে এই অমানবিক এবং নিষ্ঠুরতা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয় সাধারণ আমজনতার ক্ষেত্রে। যারা হাজার কোটি টাকা চুরি করেন তাদের ক্ষেত্রে আপনি এমনটা ঘটতে দেখবেন না। তাই বলে তাদের ক্ষেত্রেও আইনের কোনো অমানবিক প্রয়োগ সমর্থন যোগ্য নয়। প্রতিটি এবং প্রত্যেকটা মানুষের ওপর আইনের সমপ্রয়োগই কেবল পারে পরিস্থিতি পাল্টাতে। না হয় ক্রসফায়ারে আপনি হয়তো হাততালি দিবেন, মিষ্টি বিতরণ করবেন, কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না। বরং সন্ত্রাসীদের ক্রসফায়ার দিতে গিয়ে আপনি কখনো কখনো আইনকেও ক্রসফায়ারে ফেলে দিতে পারেন। হত্যার শিকার হতে পারেন নিরীহ, নিরাপরাধ মানুষও। ইনসাফের অনুপস্থিতি মানুষকে ক্রমশ অমানবিক করে তোলো। আশার কথা হচ্ছে মা-মেয়েকে কোমরে দড়ি বেঁধে নির্যাতনের ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এই নিষ্ঠুরতায় জড়িতরা আইনের আওতায় আসুক সে দাবি ওঠেছে সর্বত্র। আওয়াজ ওঠেছে অমানবিকতার বিরুদ্ধে। এ আওয়াজ তোলার গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ভারতের আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী প্রশান্ত ভূষণ। অবমাননার অভিযোগে হয়তো আদালতের দণ্ড অপেক্ষা করছে তার জন্য। কিন্তু কী সাহসিকতার সঙ্গেই না তিনি উচ্চারণ করেছেন, কাল বাঁচতে হলে আজ সরব হতেই হবে।- মানবজমিন
একুশ আগস্ট হামলার দায় বেগম জিয়ারও: তথ্যমন্ত্রী
২৩আগস্ট,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায় বেগম খালেদা জিয়ারও। রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর তোপখানা রোডে জাতীয় প্রেসক্লাবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দ্রুত বিচারের দাবিতে স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। মন্ত্রী এসময় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে নিহত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্য এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান ও তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। হাছান মাহমুদ বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম জিয়া দেশের প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রীর নিরাপত্তা বিধান করতে পারেননি, সেই দায় তিনি এড়াতে পারেন না। তার জ্ঞাতসারেই এটা হয়েছে। এবং এই হামলার বিচারকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য তখন যা কিছু করা হয়েছে, সবকিছুর দায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার ওপর বর্তায়। অর্থাৎ তিনিও এই অভিযোগে অভিযুক্ত বিধায় পরিপূর্ণ বিচারের জন্য তাকেও বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন। ১৬ বছর আগে ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পাহারায় বাধা দিয়ে, গ্রেনেড হামলা করে নিহত-আহতদের উদ্ধারে ও চিকিৎসায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কথা স্মরণ করে সেই হামলায় আহত সাক্ষী হিসেবে ড. হাছান বলেন, এই গ্রেনেড হামলা শুধু বাংলাদেশের নয় পৃথিবীর ইতিহাসেই একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। সমসাময়িক বিশ্বে আর কোথায় সংসদের বিরোধী দলের নেতা যেখানে বক্তব্য রাখছেন, সেখানে এরকম গ্রেনেড হামলা করা হয়েছে?- প্রশ্ন রাখেন তিনি। হত্যা-খুনই বিএনপির রাজনীতির মূল প্রতিপাদ্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মসনদে আরোহণ করেন। তিনি ক্ষমতা নিষ্কণ্টক রাখতে সেনাবাহিনীর শতশত জওয়ানকে হত্যা করেন। বেগম জিয়াও একইপথ অনুসরণ করেন। বিএনপি আমলে শাহ এএমএস কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টার, মমতাজ উদ্দীন, মঞ্জুরুল ইমামকে জনসভার মধ্যে হামলা করে হত্যা করা হয়েছে। শেখ হেলাল, সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের ওপর হামলা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিন ক্ষমতা ধরে রাখার প্রয়াসে এবং খায়েশে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এইসব হামলা পরিচালিত হয়েছিল। তথ্য মন্ত্রী বলেন, এইসব কারণেই কানাডার আদালত বিএনপিকে একটি সন্ত্রাসী দল হিসেবে রায় দিয়েছে, অর্থাৎ আন্তর্জাতিকভাবেও বিএনপি একটা সন্ত্রাসী দল হিসেবে স্বীকৃত। তিনি বলেন, গতকাল শুক্রবার বিএনপি নেতারা অনেকে অনেক কথা বলেছেন। সেগুলো সবই ঠাকুর ঘরে কে রে! আমি কলা খাই না ধরনের কথা। তাদের উচিত এই ঘৃণ্য হামলার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। তাহলে হয়তো জনবিচ্ছিন্ন বিএনপিকে আবার জনগণ কাছে নিলেও নিতে পারে। আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার জাকির আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো: শাহাদত হোসেন টয়েলের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, এম এ করিম, আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফী, স্বাধীনতা পরিষদ সভাপতি জিন্নাত আলী জিন্নাহ প্রমুখ।- একুশে টেলিভিশন
বঙ্গবন্ধুকে জনবিচ্ছিন্ন করতে না পেরে খুন করা হয়
২৩আগস্ট,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করতে না পেরে তাকে খুন করা হয় বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, দীর্ঘদিন তারা চেষ্টা করেছিল বঙ্গবন্ধুকে জনগণের কাছ থেকে সরাতে। কিন্তু পারেনি। তাই তারা এই ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি এ সভায় অংশ নেন। ১৫ আগস্ট প্রাণে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত একটা দেশ। সেই দেশের শাসনভার হাতে নিয়ে তিনি যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছিলেন সেই সময় প্রয়োজন ছিল এদেশের সব মানুষের একাত্ব হয়ে তার পাশে দাঁড়ানো এবং সহযোগিতা করা। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য তাকে হত্যা করার এই প্রক্রিয়াটা শুরু করার জন্য দেখা গেছে আমাদের দলের অভ্যন্তরে যেমন নানা ধরনের খেলা শুরু হয় এবং কিছু লোক সবসময় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীনও দালালি করতে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। আর পাশাপাশি জানা-অজানা বা যেভাবে হোক কিছু লোক নানা ধরনের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে। যারা সে সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণের পর পর সমালোচনা করেছে বা লিখেছে- হ্যাঁ সমালোচনার প্রয়োজন আছে। কিন্তু এমনভাবে তাদের লেখনী এবং তাদের কার্যকলাপ ছিল এবং পরিকল্পিতভাবে সারা বাংলাদেশে অপবাদ ছড়ানো হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, তাদের উদ্দেশ্যটাই ছিল জাতির পিতা যে জনপ্রিয়তা, সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে যে গ্রহণযোগ্যতা সেটা নস্যাৎ করা। সেটা যখন তারা একান্তভাবে পারেই নাই তারপরই কিন্তু তারা হত্যার পথ বেছে নেয়। যে কথাটা আমরা বিবিসিকে দেওয়া কর্নেল ফারুক ও রশিদের যে ইন্টারভিউ সেখানে তারা সেই কথাটিই বলেছিল- যে দীর্ঘদিন তারা চেষ্টা করেছিল বঙ্গবন্ধুকে জনগণের কাছ থেকে সরাতে। কিন্তু জনগণের মন থেকে মুছতে পারেনি। তাই তারা এই ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা এবং এদেশের মানুষের হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালবাসার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ওই কয়েকটা খুনি, বেঈমান বা মুনাফেক ছাড়া অগণিত জনগণ জাতির পিতার জন্য কাঁদে। তারা জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার জন্য ২১ বছর চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেই নাম মুছতে পারেনি। আজকে শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম উজ্জ্বল। ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়া-মোশতাকের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে জিয়াউর রহমান জড়িত এটা কর্নেল ফারুক-রশিদ নিজেরাই বলেছেন। জিয়া সবসময় তাদের সঙ্গে ছিল তিনি বলেন, মোশতাক অবৈধভাবে যখন ক্ষমতা দখল করলো। নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করলো এই খুনিদের শক্তি নিয়েই। খুনিরাই ছিল তার পাশে। মোশতাক জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করলো। জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করে মোশতাক এটাই প্রমাণ করে দিল তারা একইসঙ্গে ছিল, একইসঙ্গে তারা চক্রান্তে সম্পৃক্ত ছিল। ১৫ আগস্টে হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমানেক আসল খলনায়ক হিসেবে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা মোশতাককে ক্ষমতায় রাখে নাই। আসল যিনি নায়ক, খলনায়ক সে চলে আসলো সামনে, সে হলো জিয়াউর রহমান। মোশতাকের পতনের পর জিয়াউর রহমানই হয়ে গেল রাষ্ট্রপতি। একাধারে সেনা প্রধান। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে খুনিরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল সেই আদর্শ ও লক্ষ্যকে ধ্বংস করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। পাকিস্তানিরা পরাজয় মানতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানিদের পক্ষে ছিল তারাও অভ্যুদয়, বাংলাদেশের বিজয় মানতে পারেনি। তখন থেকেই ষড়যন্ত্র চলছিল। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। সভায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা পাঠ করেন সাবেক মন্ত্রী সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর। অনুষ্ঠানে মুক্তির মহানায়ক শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল চিত্রকর্ম ও আলোচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। শোকাবহ যন্ত্র সংগীত দিয়ে সভা শুরু হয় এবং শ্রদ্ধা সংগীত দিয়ে শেষ হয় স্মরণসভা।
গ্রেনেড হামলায় রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হয়েছিল- ওবায়দুল কাদের
২৩আগস্ট,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হাওয়া ভবনের ছক অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে পারেনি বলেই বিএনপি ২১ আগস্টের হত্যাকে দুর্ঘটনা বলছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল সংসদ ভবন এলাকায় নিজের সরকারি বাসভবন থেকে রাজশাহী সড়ক জোনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে দেয়ার লক্ষ্যেই এ হামলা করা হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির নেতারা দিবালোকের মতো সত্যকে বিকৃত করে বলছে, ২১ আগস্ট নাকি দুর্ঘটনা। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় রাষ্ট্রযন্ত্রকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছিল, যা ছিল ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডেরই ধারাবাহিকতা। ২১ আগস্টের টার্গেট ছিল দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মুফতি হান্নানসহ অন্যদের বক্তব্য এবং দালিলিক প্রমাণে বেরিয়ে এসেছে কারা এর পেছনে মদদ দিয়েছে, কারা বৈঠক করেছে, ষড়যন্ত্র করেছে। এ হামলার মাস্টারমাইন্ড হাওয়া ভবন, তাদের নির্দেশেই এ হামলা। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সবই জানত। তারা আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল। মুছে দিতে চেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, খুনিদের নিখুঁত হত্যা পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় তারা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে দুর্ঘটনাই মনে করতে পারে। তদন্তে বাধা দেয়া, জজ মিয়া নাটক সাজানো, আলামত নষ্ট করাসহ পদে পদে বাধাদানের মাধ্যমে তাদের সংশ্লিষ্টতার অকাট্য প্রমাণ জাতির কাছে আজ স্পষ্ট। করোনাভাইরাস শিগগিরই চলে যাবে বা চলে যাচ্ছে এমন মনে করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে রয়েছে। বাড়ছেও না, আবার কমছেও না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশে তুলনামূলক অবস্থান ভালো হলেও আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। নিউজিল্যান্ড ও স্পেনসহ ইউরোপের অনেক দেশে দ্বিতীয় ওয়েব শুরু হয়ে গেছে। যেকোনো সময় পরিস্থিতির আরো অবনতি কিংবা দ্বিতীয় ওয়েভ শুরু হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, সেক্ষেত্রে করোনাভাইরাস শিগগিরই চলে যাবে বা চলে যাচ্ছে এমন মনে করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। এমন ভেবে স্বাস্থ্যবিধির প্রতি অবহেলা প্রদর্শন বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে। আমাদের অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটিয়ে তা স্বাস্থ্যবান্ধব করতে হবে। বিআরটিএ মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুপারিশ মন্ত্রণালয় হয়ে কেবিনেট ডিভিশনে প্রেরণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সংক্রমণ রোধে প্রতিরোধ ব্যবস্থায় অধিক মনোযোগ দেয়াই হচ্ছে সর্বোত্তম কৌশল। সরকার করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়। গাড়ির আসন সংখ্যা অর্ধেক খালি রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে ভাড়া সমন্বয় করে এ সময়ের জন্য। শুরুতে কিছু পরিবহন প্রতিশ্রুতি মেনে চললেও এখন অনেকেই মেনে চলছে না। আসন খালি না রাখলে এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানলে যাত্রীসাধারণ অতিরিক্ত ভাড়া কেন দেবে?
বাংলাদেশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য চীন প্রস্তুত
২৩আগস্ট,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বের বীজ বপনে অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধু চীনে সর্বদাই পরম শ্রদ্ধেয়। বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথ ধরেই তাঁর সুযোগ্য কন্যা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের নেতৃত্ব দিয়ে একজন মহান নেত্রী ও রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে নিজের অসামান্য যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। এক নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসাবে, চীন আগামী দিনে উভয় জাতির সাধারণ স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সদা প্রস্তুত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) কর্তৃক আয়োজিত বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। সভায় মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, মুহাম্মদ জমির এবং ড. শাম্মী আহমেদ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন৷
ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের ষড়যন্ত্র চলমান রেখেছে- আইসিটি প্রতিমন্ত্রী
২২আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর শেখ হাসিনার সরকার মাত্র কয়েক বছরে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছেন। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে শেখ হাসিনা কাজ করছেন। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের ষড়যন্ত্র চলমান রেখেছে। সব ষড়যন্ত্রকে রুখে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সবাইকে নিরলস পরিশ্রম ও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল বিকালে নাটোরের সিংড়া পৌর চত্বরে আয়োজিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বিচারের রায় কার্যকরের দাবিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৫ আর ২১ আগস্ট হামলা একই সূত্রে গাঁথা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হামলায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু আর বাঙালির স্বাধীনতার চেতনাকে নস্যাতের চেষ্টা করেছিল। আর বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার অসমাপ্ত স্বপ্ন যাতে বাস্তবায়ন না হয়, সেজন্য ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট হামলা চালানো হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ২১ আগস্টে সিংড়ায় প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহানের স্মরণসভা চলাকালে আমরা গ্রেনেড হামলার তথ্য জানতে পারি। ওই সময় জানা যায়, হামলায় শেখ হাসিনাও হয়তো মারা গেছেন। তাত্ক্ষণিকভাবে সভা মুলতবি করে প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। ওই সময় স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা হামলা চালিয়ে আব্দুল কুদ্দুস এমপিসহ অনেককেই রক্তাক্ত করে। পরে আবার তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলাও হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। সিংড়া উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নাটোর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর আসনের এমপি আব্দুল কুদ্দুস। সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ওহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে লালপুর-বাগাতিপাড়া আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বকুল, সিংড়া উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিক ও সিংড়া পৌর মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ গ্রেনেড হামলায় আহতদের দীর্ঘায়ু কামনা ও ১৫ আগস্টে নিহত জাতির পিতাসহ তার পরিবারের অন্য সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর