মঙ্গলবার, মার্চ ৯, ২০২১
মানবপাচার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন, সুখবর বাংলাদেশের
২৬,জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক বৈশ্বিক মানবপাচার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আমাদের জন্য একটি সুখবর। এই বছরের প্রতিবেদনে টায়ার-টু ওয়াচ লিস্ট থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ( ২৬ জুন) এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান। ড. মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এই বছরের ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্ট শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। এটা আমাদের জন্য বড় একটি সুখবর। আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে আরও এক ধাপ নিচে যাই, অর্থাৎ টায়ার থ্রিতে চলে যাই, তাহলে আমরা নানা সমস্যায় পড়ে যাবো। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এইড, ঋণ সুবিধা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ইত্যাদি ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে যেত। ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশ মানবপাচার প্রতিরোধে সচেষ্ট। আমরা মানবপাচার প্রতিরোধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছি। সাতজন বিচারক এই ট্রাইবুনালে নিযুক্ত রয়েছেন। গত বছর ৪০৩টি মানবপাচার মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১২টি মামলা আমরা প্রসিকিউট করি। ২৫ জনের সাজা হয়। মানবপাচারে জড়িত থাকার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৬২টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স সাসপেন্ড করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি লিবিয়ায় মানবপাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। আমার অনুরোধ, আপনার সন্তানকে অবৈধভাবে বিদেশে পাঠাবেন না। আর মানবপাচারে জড়িত অসাধু চক্র ও রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারকে সহায়তা করুন। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের চলতি বছরের ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। গত বছরের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ টায়ার-টু ওয়াচ লিস্টে ছিল। সেবারসহ ওয়াচ লিস্টে বাংলাদেশ ছিল টানা তৃতীয়বারের মতো। এ বছর সেই ওয়াচ লিস্ট থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ।
আবুধাবি থেকে ফিরলেন ২৪৩ বাংলাদেশি
২৬,জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ২৪৩ বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। বিজি ৪১৪৮ ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিমানের পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট বিমানের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে বিশেষ এ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে। করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটিতে আটকা পড়েন বাংলাদেশিরা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার নিউজ একাত্তরকে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মাওলানা মুছার মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক
২৬,জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাঙ্গুনিয়ার আল জামেয়া আল কোরআনিয়া চন্দ্রঘোনা ইউনুছিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মো. মুছার (৫৫) মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তথমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। শুক্রবার (২৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শোক বার্তায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, মাওলানা মুছা পবিত্র ধর্ম ইসলামের প্রচার এবং প্রসারে নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। তার মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়াবাসী একজন নিবেদিত প্রাণ আলেমে দ্বীনকে হারালো। মাওলানা মুছা দ্বীনের বহুমূখী খেদমত করে গেছেন। মহান আল্লাহ’র কাছে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিনগত রাত দু
রিফাত হত্যার এক বছর: ন্যায় বিচারের অপেক্ষায় পরিবার
২৬,জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের বহুল আলোচিত ঘটনার একটি রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড। মানবতাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল এই ঘটনা। দেশের সীমানা পেরিয়ে এই হত্যাকাণ্ড আলোচিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে। বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হলো আজ (২৬ জুন)। ২০১৯ সালের ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাতকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী। এরপর বিকেলেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল (শেবাচিম) কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন রিফাত। এ নির্মম হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় দেশে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও ন্যায়বিচার পায়নি রিফাতের পরিবার। ঘটনার পরদিন ২৭ জুন রিফাতের বাবা মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ছেলে হত্যার অভিযোগে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১২-১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দ্রুত গতিতে এ মামলার বিচার কাজ চলমান ছিল। কিন্তু দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আদালত বন্ধ হয়ে গেলে থেমে যায় বিচার কাজও। এছাড়াও রিফাত হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এখনও পলাতক রয়েছে এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ৬ নম্বর আসামি মো. মুসা বন্ড। রিফাতের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে তার বন্ধুরা। নিহত রিফাতের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে পারিবারিকভাবেও। এছাড়াও স্বল্প পরিসরে দোয়ার আয়োজন করেছেন রিফাতের শ্বশুর মো. মোজাম্মেল হোসেন কিশোরও। পুলিশ ও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে রিফাতকে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায় বন্ড বাহিনী। রিফাতের ওপর এমন হামলার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর এ হামলার ঘটনায় দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। দাবি ওঠে, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের। রিফাতের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হামলার দিন সন্ধ্যায় এক কিশোরকে গ্রেফতারের মধ্যে দিয়ে এ মামলার আসামিদের গ্রেফতার শুরু করে পুলিশ। এরপরই একে একে গ্রেফতার হতে থাকে এ মামলার অন্য আসামিরা। এরই মধ্যে রিফাতের ওপর হামলার ছয়দিন পর ওই বছরের ২ জুলাই ভোররাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় এ মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড। অন্যদিকে রিফাত হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর একই বছরের ১৬ জুলাই নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রধান সাক্ষী থেকে মিন্নি আসামি হয়ে যাওয়ায় মামলাটি মোড় নেয় অন্যদিকে। রিফাতের উপর নৃশংস হামলা এবং ঘটনার ব্যাপকতায় এ হত্যাকাণ্ড সংশ্লিষ্ট সংবাদ স্থান পায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও। মিন্নিকে গ্রেফতারের পর দেশের নারীবাদী সংগঠনগুল সরব হলেও এক সময় নিরব হয়ে যায়। নানা মহলেও শুরু হয় নানা গুঞ্জন। তথ্য সূত্রে জানা গেছে, রিফাত হত্যাকাণ্ডের দুই মাস ছয়দিন পর গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এদের মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক আসামি এবং ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তদন্ত প্রতিবেদনে নিহত রিফাতের স্ত্রী এবং এ মামলার প্রধান সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা আদালত সূত্রে আরও জানা গেছে, বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচার কাজ শুরুর জন্য ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলাটি বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠান। এরপর গত ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার ৭৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্নের মধ্য দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিরুদ্ধের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে আদালত। আর এ মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিচার কাজ শুরুর সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও গত ৮ জানুয়ারি জেলা নারী ও শিশু আদালতে পাঠান সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এরপর এ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ ব্যতীত অন্য ৭৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন আদালত। নিহত রিফাতের বাবা ও মামলার বাদী আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বলেন, আমি প্রত্যাশা করি খুব দ্রুত আবার আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে এবং আমার ছেলে হত্যার বিচার কাজ আবার শুরু হবে। ছেলে হত্যার ন্যায় বিচার চেয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সরকার এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার এবং দ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন করার জন্য যথেষ্ট আন্তরিক ছিল বলে রিফাত হত্যা মামলার বিচারকাজ দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার পথে। প্রতিটি ঘটনায় যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমন আন্তরিক থাকে তাহলে এদেশ থেকে একদিন অপরাধ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। গণমাধ্যমের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একমাত্র ছেলের শোক আজ মুছে যায়নি রিফাতের মায়ের। রিফাতের মা ডেইজি বেগম বলেন, রিফাতের জন্মের পর আমি ওকে ছাড়া কোথাও গিয়ে থাকিনি। আজ এক বছর হলো রিফাত নেই। সন্তান হারানোর ব্যথা একমাত্র মা-ই জানে। তিনি বলেন, রিফাত মারা যাওয়ার পর আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কারণে আমাদের উপার্জনে চরম ব্যাঘাত ঘটেছে। একটি বছর পার করেছি অনেক কষ্টে। একমাত্র ভাইকে হারানো কত কষ্ট তা আমার মেয়ে বুঝতে পারছে। রিফাতের শ্বশুর মো. মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, আমি রিফাতের রুহের মাগফেরাত কামনা করি এবং সকলের কাছে রিফাতের জন্য দোয়া চাই। রিফাতের মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হওয়ায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, রিফাতকে আমি তিনমাস আমার ছেলের মতোই লালন-পালন করেছি। কুচক্রি মহলের কারণে রিফাত নিহত হলো এবং রিফাতকে বাঁচানোর জন্য মিন্নি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করলো, তা সবই বিফলে গেল। প্রভাবশালী মহলের স্বার্থে মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মিন্নিকে আসামি করা হয়েছে জানিয়ে মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, এ মামলায় তিনি ন্যায় বিচার পাবেন। মিন্নি এ মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পাবেই। এদিকে এ মামলার এখনও পলাতক এক আসামিকে গ্রেফতার প্রসঙ্গে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহজাহান হোসেন বলেন, এ মামলার পলাতক আসামি মুসা বন্ডকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে জেলা নারী ও শিশু আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, রিফাত হত্যা মামলা দেশের বহুল আলোচিত মামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ মামলার রায়ের অপেক্ষা করছে পুরো দেশবাসী। তিনি বলেন, জেলা নারী ও শিশু আদালতে বিচারাধীন এ মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির মধ্যে সাতজন জামিনে আছে। এছাড়াও এই মামলার ৭৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি আছে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আদালতের কার্যক্রম সীমিত আকারে পরিচালিত হওয়ার কারণে মামলার বিচার কার্যক্রম এখন বন্ধ আছে। দেশে করোনার প্রভাব না থাকলে এতোদিনে এ মামলার রায় ঘোষণা সম্পন্ন হতো জানিয়ে তিনি বলেন, আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে এ মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হতে বেশি সময় লাগবে না। এ বিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ভূবন চন্দ্র হালদার বলেন, জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আর মাত্র তিন-চারটি কার্যদিবস পেলেই প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মামলার রায় ঘোষণা হবে। রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন- রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান, মো. মুসা, আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন। অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন- মো. রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজী, মো. রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, মো. আবু আবদুল্লাহ রায়হান, মো. ওলিউল্লাহ অলি, জয় চন্দ্র সরকার চন্দন, মো. নাইম, মো. তানভীর হোসেন, নাজমুল হাসান, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, মো. সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ মহিবুল্লাহ, মারুফ মল্লিক, প্রিন্স মোল্লা, রাতুল সিকদার জয় এবং আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ।
করোনা মোকাবেলায় সুযোগ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ সেনা প্রধানের
২৫,জুন,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ করোনা মোকাবেলায় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে সেনাবাহিনীকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল্যবোধকে ধারণ করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষার জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তত থাকার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের প্রতি আহবান জানান। জেনারেল আজিজ আজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল পদবীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও ঘূর্ণিঝড় আম্ফানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্যে এ আহবান জানান। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত চলমান নির্দেশনা অনুসরণ করে এই দরবারের আয়োজন করা হয়। ভিটিসির মাধ্যমে সকল সেনানিবাসে একযোগে সেনাবাহিনী প্রধান বক্তব্য প্রদান করেন। শুরুতেই তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এছাড়াও তিনি ভাষা আন্দোলন এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত:দানকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা মোকাবেলায় যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আমরা সৈনিক এবং এই যুদ্ধে সর্বোতভাবে নিয়োজিত থেকে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ ও জনগণের কল্যানে আত: নিবেদন করছি। দেশের এই ক্রান্তিকালে সেনাবাহিনীকে জনগণের সেবায় আত্ম নিয়োগের সুযোগ প্রদানের জন্য সেনাবাহিনীর সকল সদস্যের পক্ষ থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি করোনা মোকাবেলায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী তথা সকল পদবীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ভূয়সী প্রসংশা করেন। একই সাথে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় জনগণের সাহায্যে নিরলস প্রচেষ্টার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান। সেনা প্রধান জাতি গঠনমূলক কর্মকান্ড যেমন : এন-৮ এক্সেস কন্ট্রোলড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ অন্যান্য গুনুত্বপূর্ণ কাজে সেনাবাহিনীকে সুযোগ দেয়ার জন্যও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। সকল সেনাসদস্যকে নিষ্ঠার সাথে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন তিনি। জেনারেল আজিজ আহমেদ সেনাবাহিনীর সদস্যদের মনোবল অটুট রাখার লক্ষ্যে গৃহিত সময়োপযোগী কল্যাণমূলক পদক্ষেপসমূহ সবাইকে অবহিত এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসমূহ উপস্থাপন করেন। তিনি সেনাসদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধান, জীবন বীমা সুবিধা চালু করা, দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য কল্যানমূলক কর্মকান্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি শৃঙ্খলা সেনাবাহিনীর প্রাণ এবং আনুগত্য সেনাবাহিনীর চালিকা শক্তি-এই চেতনাকে ধারণ করে সকলকে চেইন অব কমান্ড অনুসরণ করা এবং কোন ধরনের গুজবে প্ররোচিত না হওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যখনই দেশে কোন ভাল কাজ হয় তখনি স্বার্থান্বেষী মহল সেই কৃতিত্বকে মলিন করার অপচেষ্টা করে আসছে। সাম্প্রতিক কালে সেনাবাহিনী করোনা যুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যখন ভাল কাজ করছে তখন ঐ কুচক্রী মহল সেনাবাহিনীকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চারাচ্ছে। সুশৃংখল সেনাবাহিনীকে অতীতের ন্যায় এধরনের অপচেষ্টা বা প্রপাগান্ডার বিরূদ্ধে সতর্ক থাকতে উপদেশ দিয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সবসময় সরকার, দেশের সংবিধান ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারাবদ্ধ ।
করোনা পরবর্তী প্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থান তৈরীতে কাজ করছে সরকার : পলক
২৫,জুন,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেছেন, করোনা পরবর্তী সময়ে বিশ্বের কর্মসংস্থান হবে প্রযুক্তি নির্ভর। এই কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দেশের যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করে তাদের সুযোগ তৈরীতে কাজ করছে সরকার। তৈরী হচ্ছে ভার্চুয়াল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার জেলার সিংড়া উপজেলা কোর্ট মাঠে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০ জন বালিকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাইকেল প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি উত্তর সময়ে বিশ্বে কর্মসংস্থানের প্রেক্ষাপট বদলে যাবে। কর্মসংস্থান হবে প্রযুক্তি নির্ভর। দেশের সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থীকে প্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে সরকার কাজ করছে। ভার্চুয়াল ইউনিভার্সিটি অফ ম্যানেজমেন্ট এন্ড মাল্টিমিডিয়া ইনোভেশন স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে সরকার। আগে থেকেই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাধ্যমিক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়কে বাধ্যতামূলক করে প্রতিষ্ঠানিক শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের মাধ্যমে প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, করোনাকালীন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা অব্যাহত রাখেতে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার ৬২১টি ক্লাস নেয়া হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্যে ডিজিটাল ক্লাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে- যার মাধ্যমে পাঠগ্রহণ ছাড়াও শিক্ষার্থীরা থিসিস পেপার জমা দেয়ার মত কাজ করতে পারবেন। করোনাকালীন সময়কে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি দক্ষতা অর্জনের জন্যে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী পলক একই সাথে পারিবারিক কৃষির আওতায় সব্জি পুষ্টি বাগান স্থাপনের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সব্জি বীজও বিতরণ করেন। উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, উপজেলার ৩৫২ জন কৃষককে তাদের বাড়ির আঙিনায় সব্জি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে আট প্রকার সব্জি বীজ প্রদান ছাড়াও সব্জি বাড়ান পরিচর্যা, বেড়া ও জৈব সার বাবদ জনপ্রতি এক হাজার ৯০০ টাকা করে বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে প্রেরণ করা হবে বলে। একই মাঠে প্রতিমন্ত্রী জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব মোকাবেলায় দেশব্যাপী ব্যাপক বনায়নের লক্ষ্যে উপজেলায় মোট ২৫ হাজার চারা বিতরণ করা হবে বলে জানান জেলা অতিরিক্ত বন কর্মকর্তা সত্যেন্দ্র নাথ সরকার। পরে প্রতিমন্ত্রী পলক উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা ৫০টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪ লাখ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করেন এবং উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। সবগুলো অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নাসরিন বানু।
রেমিটেন্স যোদ্ধাদের দুর্দশা লাঘবে মিশনপ্রধানদের সচেষ্ট থাকার আহবান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
২৫,জুন,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন বর্তমান করোনা মহামারির সময়কে একটি বড় যুদ্ধ পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবে সচেষ্ট থাকতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মিশন প্রধানদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি আজ মধ্যপ্রাচ্যের ৯ টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে এ আহবান জানান। এ সময় ড. মোমেন প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিটেন্স-যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে তাদের কেউ যেন অভুক্ত না থাকে সেটা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রদূতগণকে সচেষ্ট থাকতে নির্দেশনা দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বালাদেশের কৃষি শ্রমিকরা অত্যন্ত দক্ষ। তিনি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য কৃষি উৎপাদন, মৎস্য চাষসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানে রাষ্ট্রদূতগণকে সক্রিয় থাকতে নির্দেশনা প্রদান করেন। করোনা পরবর্তী পৃথিবীর খাদ্য চাহিদা পুরণে মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কৃষিকাজে বাংলাদেশের শ্রমিকরা অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী শ্রমিকরা বিভিন্ন দেশের উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখে। কেউ যেন হঠাৎ চাকুরিচ্যুত না হয় এবং চাকুরিচ্যুত হলে যেন ৬ মাসের বেতন ও অন্যান্য ভাতা পায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে রাষ্ট্রদূতগণকে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোয়ারেন্টাইন সুবিধা নিশ্চিত করে প্রবাসীদের কেউ দেশে ফিরতে চাইলে তাদেরকে ধাপে ধাপে দেশে ফেরত আনা হবে। ড. মোমেন সকল বৈদেশিক মিশনকে আরো আন্তরিকতার সাথে কনস্যুলার সেবা প্রদান করার আহবান জানান। মিশনসমূহে বঙ্গবন্ধু কর্ণার স্থাপন করা হয়েছে বলে এ সময় রাষ্ট্রদূতগণ অবহিত করেন। কাতার, কুয়েত, সৌদিআরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, লেবানন, ওমান, ইরাক এবং জর্ডানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানগণ এ ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন। ভিডিও কনফারেন্সে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন সংযুক্ত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর