শনিবার, মে ৩০, ২০২০
রুম্পা হত্যার বিচার দাবিতে আজও উত্তাল স্টামফোর্ড
০৮ডিসেম্বর,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বেসরকারি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিচার দাবিতে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে তৃতীয় দিনের মতো চলছে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি।রোববার দুপুর ১২টার দিকে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধেশ্বরী শাখার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে এই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে।শিক্ষার্থীদের দাবি, রুম্পা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কিন্তু ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যারহস্যের কূলকিনারা করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থীরা বলেন, এ হত্যার সঙ্গে জড়িত যারা, তাদের যেন দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়; পাশাপাশি এ আন্দোলন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাতে শিক্ষার্থী ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। মানববন্ধনে রুম্পার সহপাঠীরা বলেন, আর যেন কোনো রুম্পাকে এভাবে মরতে দেখা না যায়। এ হত্যাকাণ্ডের একমাত্র বিচার মৃত্যুদণ্ড। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলেই আমরা রক্ষা পাব, না হলে এ রকম নির্মম হত্যাকাণ্ড চলতেই থাকবে। অন্য কোনো ইস্যুতে যেন রুম্পা হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা না পড়ে সেদিকে নজর দিতে হবে। স্টামফোর্ডের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক জেরিন বলেন, আমরা আর কোনো শিক্ষার্থীকে এভাবে হারাতে চাইনা। রুপা হত্যার সঠিক তদন্ত করে তার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। একই বিভাগের শিক্ষক সালমা বলেন, আমরা স্টামফোর্ড পরিবার ও ইংরেজি বিভাগ রুম্পা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও এই হত্যার রহস্য উৎঘাটনের দাবি জানাচ্ছি। এর আগে শনিবারও বিক্ষোভ করেন স্টামফোর্ডের শিক্ষার্থীরা। এদিন দেশের বেশ কয়েকটি ক্যাম্পাসে রুম্পা হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। উল্লেখ্য, বুধবার রাতে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে রুম্পার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ পাওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছিল আশপাশের কোনো ভবন থেকে পড়ে যাওয়াই তার মৃত্যুর কারণ। রুম্পা ঢাকার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়তেন। মালিবাগের শান্তিবাগে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন ভাড়া বাসায়। চাকরির কারণে তার বাবা রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জে থাকেন। রুম্পার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন ওই থানার এসআই আবুল খায়ের। প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর রুম্পা বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। সঙ্গে নিজের মোবাইল ফোনটিও নেননি তিনি। উঁচু থেকে পড়ে শরীরের যে ধরনের জখম হয়, রুম্পার শরীরে সে ধরনের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ বলছে, রুম্পাকে সিদ্ধেশ্বরীর কোনো একটি ভবন থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধারণা করা হচ্ছে রুম্পা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। রুম্পার মৃত্যুর বিষয়টি এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয় পুলিশের কাছে। এ জন্য ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন তারা। এমনটি জানিয়েছেন রমনার ওসি মনিরুল। তিনি বলেন, এটি হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। তবে হত্যা মামলা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে বিষয়টি। এ ঘটনায় রুম্পার এক সহপাঠীকে আটক করা হয়েছে।
নতুন বছরে মন্ত্রী রদবদল হতে পারে
০৮ডিসেম্বর,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগ সরকারের এবারের মেয়াদে বছর পার না হতেই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ও রদবদলের ব্যাপক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ২০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর পর অর্থাৎ ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম মাসে মন্ত্রিপরিষদে পরিবর্তন আসছে। কারণ মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের আসন্ন সম্মেলন এবং দল ও সরকারকে পৃথক রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, কয়েকজন সিনিয়র সাবেক মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতায় সমালোচনার কারণে বিব্রত সরকার। এ জন্য কয়েকজন মন্ত্রীকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের জাতীয় সম্মেলনের আগে মন্ত্রিসভায় রদবদল কিংবা সম্প্রসারণে হাত দেবেন না প্রধানমন্ত্রী। যা হওয়ার সম্মেলনের পর হবে। মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ওবায়দুল কাদের গত বুধবার বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতেও পারে। ব্যর্থতার দায়ে কেউ মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন কিনা- এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাদ পড়া, নতুন যুক্ত হওয়া কিংবা পদোন্নতির বিষয়টি একমাত্র প্রধানমন্ত্রীই জানেন। সূত্রমতে, গত এক বছরের মূল্যায়নে মন্ত্রিসভার কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মন্ত্রণালয় পরিচালনায় দুর্বলতার বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দৃশ্যমান হয়েছে। পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরেও সমালোচনার ঝড় বইছে। রেল মন্ত্রণালয়েও কাজের সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে মূল্যায়নে উঠে এসেছে। এ ছাড়া গত এক বছরে রোহিঙ্গা ইস্যুসহ কয়েকটি বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ কাজে আসেনি। চালের দাম বৃদ্ধি ও এর নিয়ন্ত্রণে খাদ্য মন্ত্রণালয় ব্যর্থ হয়েছে। সূত্রের খবর, চলতি মাসে অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের সম্মেলন মাথায় রেখে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ও রদবদলের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা থাকবেন, তাদের মন্ত্রিসভার বাইরে রাখতে চাইছে সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সরকারের এক বছরে মন্ত্রণালয় পরিচালনায় নানা অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতার কথা বলে আসছিলেন। অনেকে বর্তমান মন্ত্রিসভাকে অনভিজ্ঞ বলেও মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে, কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে মন্ত্রী না করায় আওয়ামী লীগ ও এর শরিক দলগুলোর ভেতরেই নানা সমালোচনা হচ্ছে। এ ছাড়া ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, গত এক বছর আওয়ামী লীগ সরকার ভালো সময় পার করেনি। বিশেষ করে, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির সঙ্গে সরকার সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততা, পেঁয়াজের দামে রেকর্ড, শেয়ারবাজারে ধস, গণপিটুনিতে মানুষ হত্যা, রিফাত, নুসরাত ও বুয়েটে আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় সরকার বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের এক বছর পূর্তি হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। মন্ত্রিসভার সদস্যদের গত বছরের পারফরম্যান্স প্রধানমন্ত্রীর কাছে আছে। যারা ইতোমধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে তাদের হয়তো কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হবে। আর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দু-একজন উপমন্ত্রী থেকে প্রতিমন্ত্রী হবেন। সরকারের ভাবমূর্তি ফেরাতে সাবেক দু-একজন মন্ত্রীকে পুনরায় মন্ত্রী করার বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা। সূত্র জানায়, বর্তমান মন্ত্রিপরিষদের একজন প্রতিমন্ত্রী পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী এবং দুজন উপমন্ত্রী থেকে প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন। আর রদবদলের অংশ হিসেবে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাককে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার পেতে পারেন অন্য কোনো মন্ত্রণালয়। বাণিজ্যমন্ত্রীকেও সরিয়ে দেওয়ার জোর গুঞ্জন রয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে, জানুয়ারিতে মন্ত্রিসভায় রদবদল করে টিপু মুনশিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে সেখানে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য তোফায়েল আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তিনি বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। তোফায়েলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাজার স্থিতিশীল করতে চান প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিসভার সিনিয়র কয়েকজন সদস্য নিয়ন্ত্রণহীন বাজারের জন্য মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কেই দুষছেন। তারা বলছেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপ ও বাজার তদারকির (মনিটরিং) অভাবে সিন্ডিকেটগুলো ইচ্ছামতো দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে চলেছে। এতে দেশের সাধারণ মানুষ সরকারের ওপর চরম বিরক্ত। মানুষ মনে করে, সরকার অন্যান্য ক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রাখলেও দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণহীন দামের লাগাম টানতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গত মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে মতবিনিময় সভায় বলেন, কেউ কেউ আমার পদত্যাগ দাবি করছেন। পদত্যাগ করলে যদি পেঁয়াজের দাম কমে যায়, এক সেকেন্ডও লাগবে না আমার মন্ত্রিত্ব ছাড়তে। সূত্র জানায়, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে ড. আবদুর রাজ্জাককে খাদ্য মন্ত্রণালয় দেওয়া হতে পারে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে আবদুর রাজ্জাককে খাদ্যমন্ত্রী করা হয়। এখন আবদুর রাজ্জাককে কৃষি থেকে সরিয়ে খাদ্যে নিয়ে আসা হলে কৃষিতে আগের মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে ফের বসানো হতে পারে। কৃষিমন্ত্রী হিসেবে তিনি বেশ সফলতার পরিচয় দিয়েছেন বলে মনে করছেন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, স্থানীয় সরকার (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামকে সরিয়ে সেখানে সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। আর তাজুল ইসলাম মন্ত্রিসভায় থাকলেও কোন দপ্তর পাবেন, তা নিশ্চিত নয়। সূত্র জানায়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীকে পদোন্নতি দিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে। এ ছাড়া পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে পদোন্নতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী করার সম্ভাবনা রয়েছে। শামীমকে প্রতিমন্ত্রী করে পানি সম্পদে রাখা হবে, না-কি অন্য মন্ত্রণালয় দেওয়া হবে তা নিশ্চিত নয়। কারণ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক দায়িত্ব পালন করছেন। নওফেল পদোন্নতি পাওয়ার পর একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার বলেন, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ কিংবা রদবদলের কোনো মেসেজ আমার কাছে নেই। কারও পদোন্নতি কিংবা বাদ পড়ার খবরও আমি জানি না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২৫ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও ৩ জন উপমন্ত্রী নিয়ে বর্তমান সরকার চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি পথচলা শুরু করে।- আলোকিত বাংলাদেশ
আইনজীবীদের ছয় বিচারপতির বেঞ্চে হাঙ্গামা: দেশের ইতিহাসে কখনও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি: তথ্যমন্ত্রী
০৭ডিসেম্বর,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন,বেগম খালেদা জিয়ার জামিন চাইতে গিয়ে বিএনপির আইনজীবীরা ছয় বিচারপতির বেঞ্চে যেভাবে হাঙ্গামা করেছেন, দেশের ইতিহাসে কখনও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। খালেদা জিয়ার জামিন হলে, তারা কি ঘটাবেন তা সহজেই অনুমেয়। চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি মাঠে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে শনিবার দুপুরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত বৃহস্পতিবার তারা বেগম খালেদা জিয়ার জামিন চাইতে গিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে প্রধান বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন। ছয় বিচারপতির বেঞ্চে তারা যেভাবে হাঙ্গামা করেছেন, যেভাবে আদালতের প্রতি হুমকি প্রদর্শন করা হলো, এটি চরম আদালত অবমাননা। আইন ও আদালতের প্রতি চরম অবজ্ঞা। ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন তারা। দেশের ইতিহাসে কখনও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদসহ সমগ্র বিশ্ব প্রশংসা করে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে আক্ষেপ করেন। অথচ শুধু প্রশংসা করতে পারে না বিএনপিসহ তাদের বিশ দলীয় জোট।সম্মেলনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সম্মেলন উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। সাধারণ সম্পাদক এমএ সালামের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।
স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে, বললেন প্রধানমন্ত্রী
০৭ডিসেম্বর,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আয়োজিত জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন-২০১৯ র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধান বিচারপতি একটি আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেছেন। আসলে এই ধারণাটা আমাদের কখনো চিন্তায় আসেনি বা কেউ বলেনওনি। আমি তো আর আইনও পড়িনি। আমি নিরেট বাংলার ছাত্রী, একেবারে সাদামাটা বাংলার ছাত্রী। আমি মনে করি যে, এটা অত্যন্ত উত্তম একটা প্রস্তাব, এটা হওয়া একান্তভাবে প্রয়োজন। প্রস্তাব নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলাপ করে স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় খুব দ্রুত যাতে হয়, সেই ব্যবস্থা করে দেব। পৃথিবীর সব দেশে আছে, আমাদের দেশে কেন থাকবে না। সভাপতির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন দেশে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্রের মত আইন শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে একটি স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।
ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায়ও রায় লেখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
০৭ডিসেম্বর,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায়ও মামলার রায় লেখার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ঘটনার দ্রুততম রায় দেওয়ায় বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা বহুগুণ বেড়েছে। তিনি বলেন, নুসরাত (ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী) হত্যাসহ অনেক মামলার রায় দ্রুত ঘোষণায় আমি মনে করি বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। জাতির পিতার হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে অনেক বাধা ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাধা সত্ত্বেও আমরা এসব মামলার বিচার করতে সক্ষম হয়েছি। সবারই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, একটি রাষ্ট্র পরিচালনায় আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর সকল নাগরিক যাতে আইগত সহায়তা পায় সেজন্য জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা- ন্যাশনাল লিগাল এইড সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। এ সময় আসামি আনা-নেওয়ায় ঝুঁকি কমাতে সরকার ভার্চুয়াল কোর্ট স্থাপনের চিন্তা করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এ ছাড়া এতে অতিথি হিসেবে একাধিক মন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা উপস্থিত আছেন। অন্যবার রাষ্ট্রপতি থাকলেও এবারই প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি হিসেবে আছেন।
একাত্তরে ভারত বাংলাদেশের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে
০৬ডিসেম্বর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী বলেছেন, একাত্তরে ভারত বাংলাদেশের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সেটা চিরকালীন এবং সময়ের পরীক্ষায় সেটি সবসময় উত্তীর্ণ হবে। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতির ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। ৪৮ বছরে বাংলাদেশের উন্নতি অনেক দেশের কাছে ঈর্ষার বিষয়ে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের উন্নতিতে নিজেদের জন্য বড় রকমের অর্থনৈতিক সুযোগ দেখি। কারণ, আমরা দুই দেশ এক সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারি- এটা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং দুই সরকারের গৃহীত বহু পদক্ষেপের ক্ষেত্রে। রীভা গাঙ্গুলী বলেন, অপারেশন সার্চলাইট, রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধ করা, একটা প্রজন্মের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা- এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে, কিংবা আরেকবার আমি বীরাঙ্গনা বলছি যেন লেখা না হয়। একটা উদার নৈতিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ কাজ করছে বা করে চলেছে, ভারত তাদের পাশে আছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভালো বলে মন্তব্য করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আজকে আমাদের সম্পর্ক বহুমুখী। আমাদের সম্পর্ক কেবল ব্যবসায়-বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো ট্র্যাডিশনাল খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। এছাড়া আমরা তথ্যপ্রযুক্তি, মহাকাশ, পারমাণবিক বিজ্ঞানের মতো নতুন নতুন ক্ষেত্রেও আমাদের সম্পর্ক বাড়াচ্ছি। নরেন্দ্র মোদির সাবকা সাত, সাবকা বিকাশ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেয়। আমাদের কাছে প্রতিবেশী প্রথম এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে বাংলাদেশ সবার আগে। বাংলাদেশকে ঋণচুক্তির আওতায় (এলওসি) ৮ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে রীভা গাঙ্গুলী বলেন, মোটামুটি এর ৮০ ভাগের বেশি অবকাঠামো ও কানেক্টিভিটি প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়েছে। অবকাঠামো ও কানেক্টিভিটির উন্নয়ন প্রবৃদ্ধির একটা ইঞ্জিন। আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের যৌথ উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে, আমাদের এই সহযোগিতা দুই দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য। সভাপতির বক্তব্যে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে তা এই অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করবে। আশা করছি, ভারত প্রাণপণ চেষ্টা করবে যাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা মৈত্রী সম্মাননা দেয়া হয় ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিসকে। তিনি বলেন, ২৫ মার্চের পরে বাংলাদেশ থেকে মানুষ ভারতে আশ্রয় নেয়া শুরু করে। এমনকি দিনে ৫০ হাজার মানুষ সীমান্ত পার হওয়ার ঘটনাও আছে। ওই সময় ভারত শরণার্থীদের দারুণভাবে সহযোগিতা করেছে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। এ সময় দেশ স্বাধীন করতে কোনো রাষ্ট্রকে এত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দুঃখের বিষয় ৭৫ এর পরে বেশিরভাগ সময় দেশ শাসন করেছে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, যারা বাংলাদেশকে বারবার ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করতে চেয়েছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত প্রমুখ।
এখন কবিতায় কুঁড়েঘর আছে বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যায়না
০৬ডিসেম্বর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য হচ্ছে, বস্তুগত উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত দেশ গঠনের পাশাপাশি একটি উন্নত জাতিও গঠন করা। আর উন্নত জাতি গঠন করার জন্য মেধা-মূল্যবোধ, দেশাত্ববোধ, মমত্ববোধের সমন্বয় প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বস্তুগত উন্নয়নের পাশাপাশি উন্নতজাতি গঠনে মানুষের আত্মিক উন্নয়ন প্রয়োজন। এটি ছাড়া শুধু বস্তুগত উন্নয়ন দিয়ে খুব বেশিদুর এগিয়ে যাওয়া যাবে না। আজ শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগেরে সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন। হাছান মাহমুদ বলেন, বস্তুগত উন্নয়নের মাধ্যমে শুধু উন্নত দেশ গঠন করা সম্ভব, সুরম্য অট্টালিকা হয়। সুরম্য সেতু হয়, নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ করা যায়, ফ্লাইওভার করা যায়, পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে ফুটো করে পথে রেল চলে। উন্নত জাতি গঠন করা ভিন্ন কাজ। তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে দুটি স্বপ্নের কথা বলেছিলেন। একটি হচ্ছে দিনবদল, আরেকটি হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ। আজকে দিনবদল হয়েছে, এখন দেশের কোন শহরের অলিগলিতে কিংবা গ্রামের মেঠোপথে মা আমাকে একটু বাসি ভাত দেন এই ডাক শোনা যায়না। তিনি বলেন, এখন কবিতায় কুঁড়েঘর আছে বাস্তবে কুঁড়েঘর খুঁজে পাওয়া যায়না। আকাশ থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকা শহর চেনা যায়না। একইসাথে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নও পূরণ হয়েছে। ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৫ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহারকারী রয়েছে। মোবাইল ফোনে শুধু কথা বলা যায়না, ভিডিও কল করা যায়। দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে টাকা পৌঁছে যায়। ভোলার মনপুরা থেকে কৃষক ভাই জমিতে দাঁড়িয়ে পোকার ছবি তুলে সদরের কৃষি অফিসারের কাছে পাঠিয়ে সরাসরি পরামর্শ নেন পোকা দমনে কোন ওষুধ দিতে হবে। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন সেবা নিচ্ছে সাধারণ মানুষ। এসব সম্ভব হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের কারণে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করার স্বপ্নের কথা বলেছেন। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা হবে দেশকে সেই স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছানো শুধু নয়, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও উন্নত জাতি গঠনের ক্ষেত্রেও স্বপ্নের ঠিকানাকে অতিক্রম করতে চাওয়া। হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের পথে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ নয়, মধ্যম আয়ের দেশ। পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এদেশে মাথাপিছু কৃষিজমির পরিমাণ পৃথিবীতে সর্বনিম্ন। ৫০এর দশকের মাঝামাঝি যখন লোকসংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৭০ লাখ তখন খাদ্য ঘাটতি শুরু হয়। আজকে লোকসংখ্যা ১৬ কোটি ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে। লোকসংখ্যা সাড়ে তিনগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মাথাপিছু কৃষি জমি কমেছে ৩০ শতাংশ। এরপরও বাংলাদেশ আজকে পৃথিবীকে অবাক করে দিয়ে খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। গত সাড়ে দশ বছরে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে জিডিপি গ্রোথ রেট বাংলাদেশের ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৌশলীদের অবদান ও ভূমিকা না থাকলে এই উন্নয়ন অগ্রগতি কখনো সম্ভব হতোনা । তিনি বলেন, বৈশ্বিকভাবে আমরা বাঙালিরা হয়তো ধনি নই, কিন্তু মেধার দিক দিয়ে পৃথিবীর অনেক দেশ ও জাতি থেকে আমরা ধনী। পৃথিবীর অনেক দেশ ও জাতিগোষ্ঠির তুলনায় আমরা মেধাবী। ইউরোপের বাইরে প্রথম যিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান তিনি কবি গুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর, গাছের যে প্রাণ আছে তা প্রথম যিনি আবিস্কার করেন তিনি বাঙালি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, পৃথিবীর সর্বোচ্চ ভবন শিকাগোর চিয়ার্স টাওয়ারের স্থপতি বাঙালি ড. এফ আর খাঁন। বর্তমানেও পৃথিবীর অনেক সুরম্য অট্টালিকা নির্মাণে বাংলাদেশ থেকে পাস করা প্রকৌশলীরা যুক্ত আছেন উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের প্রকৌশলীরা শুধু দেশে মেধার স্বাক্ষর রাখছেন তা নয়, তারা বিশ্বব্যাপী মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন। গত ৫১ বছর ধরে চুয়েট যাদের প্রকৌশলী হিসেবে তৈরি করেছে তারা আজকে পৃথিবীব্যাপী অবদান রাখছেন বলে জানান তথ্যমন্ত্রী ।
আওয়ামী লীগ পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী
০৬ডিসেম্বর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এজলাসে বিএনপির আইনজীবীরা যে অস্থিরতা তৈরি করেছে তা ক্ষমার অযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আজ শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডি কার্যালয়ে দপ্তর কমিটির বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি আদালতে যে ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে, তা ক্ষমার অযোগ্য। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ছাড়া আমরা দলের জন্য কেউ অপরিহার্য নই। একমাত্র শেখ হাসিনাই দলের জন্য অপরিহার্য। বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অচেষ্টা করছে। নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তারা ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে চায়। এসব করে নেতারা সফল হবে না। কারণ আওয়ামী লীগ পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল একটি দল। নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেবে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে বিএনপির ইন্ধন রয়েছে মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বারবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন ইস্যুতে। কিন্তু জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি। তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মহলকে উসকানি দিচ্ছে- দ্রব্যমূল্য হঠাৎ করে ঊর্ধ্বগতিতে তাদের ইন্ধন রয়েছে এবং উসকানি রয়েছে। আমরা সেই সিন্ডিকেটের অনেককেই চিহ্নিত করেছি। অবশ্যই তাদের শাস্তি হবে। সভায় আওয়ামী লীগের দফতর কমিটির আহ্বায়ক পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির জন্য এই ধরণের আচরণ কোন নতুন ঘটনা নয়
০৬ডিসেম্বর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার রায়ের সময় বিএনপি হট্টগোল সম্পর্কে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেছেন, বিএনপি যে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের অংশ, সেটি তারা তাদের আচরণ দিয়ে প্রমাণ করে। বিএনপির জন্য এই ধরণের আচরণ কোন নতুন ঘটনা নয়। আপনারা জানেন বিএনপির এর আগে কোর্ট প্রাঙ্গনের ভিতরে মিছিল করা থেকে শুরু করে তৎকালীন বিচারপতির দরজায় লাথিও মেরেছিলো। শুক্রবার সকাল ১১টায় চাঁদপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবানে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিএনপি তাদের আচার আচরণ সব সময়ই প্রকাশ করেছে। তারা বাংলাদেশের সংসদ ও আইন বিশ্বাস করে না। তারা সংসদকে তোয়াক্কা করে না। বৃহস্পতিবারের ঘটনাটিও আমি মনে করি ভিন্ন কিছু করেনি। সর্বোচ্চ আদালতে বিএনপির এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা সারাদেশের মানুষের কাছে ফুটে উঠেছে। এ সময় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফাতেমাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর