মিয়ানমারকে চাপ দিতে ভারত সরকারের প্রতি সেতুমন্ত্রীর আহবান
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ দেয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হোটেল রেডিসন ব্লুতে তিনদিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত মিডিয়া ডায়ালগ-২০১৮ এর সমাপণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান। ইউজিসি'র চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এবং ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ড. আদ্রেশ সৈকত। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের নিয়ে বেশ ক্রাইসিসে আছি। ভারত আমাদের ক্রাইসিস মুহূর্তে (মুক্তিযুদ্ধে) সহযোগিতা করেছিল, আশা করি এবারের ক্রাইসিস মুহূর্তেও সহযোগিতা করবে। এসময় ভারত থেকে আসা গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও দেশটির সরকারের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা জানি মিয়ানমারের সঙ্গে আপনাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। আপনারা আমাদের দীর্ঘ দিনের বন্ধু। আপনাদের সম্পর্ক অব্যাহত রেখে মিয়ানমারকে চাপ দিন। তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার আমলেই তিস্তা সমস্যার সমাধান হবে। আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই আমাদের সরকারের শেষ সময় চলে এসেছে। আর হয়তো ৯/১০ মাস সময় আছে। আমাদের জনগণের কাছে যেতে হবে। তাই তিস্ত ইস্যু সমাধান করুন। এজন্য তিনি ভারতের গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জিকে বলুন, তিনি যেন দিল্লি­সরকারকে তিস্তা ইস্যুর সমাধানে সহযোগিতা করেন।
রাজশাহী নাটোরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ৬ষ্ঠ কোর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেলা ১১ টায় হেলিকপ্টারে করে নাটোরে কাদিরবাদ সেনানিবাসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক। সেনানিবাসের প্যারেড গ্রাউন্ডে পুনর্মিলনী প্যারেড পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর অভিবাদন মঞ্চে থেকে সালাম গ্রহণ ও বাহিনীর কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন তিনি। মনোজ্ঞ এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা, বিমান ও নৌবাহিনী প্রধানসহ ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সেনা পরিবার। দুপুর ২টায় রাজশাহী নগরীর মাদ্রাসা মাঠে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ৩১টি উন্নয়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এছাড়া, ৪ স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর পঞ্চম সফর এটি। এর আগে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজশাহী সফরে এসেছিলেন তিনি। এছাড়া ২০১১ সালের ২৪ নবেম্বর রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানে, ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাগমারায় এবং ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চারঘাটে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা
বাংলাদেশ শীঘ্রই উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ শীঘ্রই উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাচ্ছে; উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য যত শর্ত রয়েছে, তার সবই বাংলাদেশ পূর্ণ করেছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থানটাকে উন্নত করতে পারব, সেই পর্যায়ে আমরা এসে গেছি, সেই ঘোষণা আপনারা (দেশবাসী) শীঘ্রই পাবেন, ইনশা আল্লাহ! বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সেগুনবাগিচায় মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট কর্তৃক গৃহীত চার দিনব্যাপী কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা আদায়ে আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। ইতোমধ্যে আমাদের নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু যে জাতি রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে, তাদের সঙ্গে তো নিম্ন শব্দটি থাকতে পারে না। আমাদের এখন একটি সুযোগ এসে গেছে। যে কয়টি ক্যাটাগরিতে অর্জন থাকলে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেতে পারি, তার প্রতিটি শর্তই বাংলাদেশ এখন পূর্ণ করেছে। কাজেই আমাদের মর্যাদাটা আরও একধাপ উপরে এগিয়ে নিতে পারব। শ্রীলঙ্কায় এবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রসঙ্গ টেনে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা সেখানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের কিছু কিছু চিত্র দেখেছি। এজন্য সত্যিই আমরা আনন্দিত। জাতিসংঘ সদস্যভুক্ত সব দেশে যেন এই দিবসটি পালিত হয়, আমরা এর জন্য তথ্য সব জায়গায় পাঠিয়েছি। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকেও প্রতিবছর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া উচিত। তাহলে সবাই বিষয়টি জানতে পারবে। তিনি বলেন, আমরা ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছি। এটা আমাদের জন্য বিরাট গর্বের। কাজেই এই ভাষার ব্যবহার ও চর্চা ভুলে গেলে চলবে না। বাঙালী হিসেবে সব ঐতিহ্য আমাদের ধারণ করতে হবে, চর্চা করতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন শ্রীলঙ্কার জাতীয় দাফতরিক ভাষা বিষয়ক সচিব ডব্লিউএমপিজি উইক্রমাসিংহে। আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী ও ঢাকার ইউনেস্কোর আবাসিক প্রতিনিধি বি খালদুন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সোহরাব হোসেন স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. জিনাত ইমতিয়াজ আলী। সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্য, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, লেখক, সাহিত্যিক, কবি, সাংবাদিক, একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্টজনরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলা ভাষার ওপর পাকিস্তানের বারংবার আক্রমণের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাষা নিয়ে আমাদের অনেক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। এক সময় আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হলো বাংলা অক্ষরে বাংলা ভাষা লেখা যাবে না, আরবী হরফে বাংলা ভাষা লিখতে হবে। এরপরে রোমান হরফে বাংলা ভাষা লিখতে হবে। বাঙালী জাতি এর প্রতিবাদ করে। এর পরে বলা হলো রবীন্দ্রনাথ পড়া যাবে না। হিন্দুর লেখা পড়লে নাকি আমাদের মুসলমানিত্ব নষ্ট হয়ে যাবে। এ জন্য রবীন্দ্রনাথের লেখা নিষিদ্ধ করা হলো। জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম যে সমস্ত লেখা লিখেছেন তাকে মুসলমানি ভাষা দেয়া হলো। তাঁর ‘মহাশ্মশান’ পরিবর্তন করে লেখা হলো ‘গোরস্থান’। ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি’- এই কবিতা পরিবর্তন করে করা হলো- ‘ফজরে উঠিয়া আমি দিলে দিলে বলি’ করা হলো। ছাত্র জীবনে আমাদের কত ধরনের যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে তা বুঝতেই পারছেন। তিনি বলেন, আমি বাংলা বিভাগের ছাত্রী ছিলাম। আমাদের বিভাগের প্রধান ছিলেন হাই সাহেব। তখন এখানকার গবর্নর ছিলেন মোনায়েম খান। রবীন্দ্রনাথ পড়া নিষিদ্ধের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে প্রতিবাদ শুরু হলো। বিরক্ত হয়ে মোনায়েম খান হাই সাহেবকে ডেকে বললেন- আপনারা শুধুই রবীন্দ্র সঙ্গীত রবীন্দ্র সঙ্গীত করেন কেন? আপনারা কী দুই চারটা রবীন্দ্র সঙ্গীত নিজেরা লিখে ফেলতে পারেন না? জবাবে হাই সাহেব বিনয়ের সঙ্গে বলেছিলেন- ‘স্যার, আমি লিখতে পারি। তবে আমি লিখলে তো সেটা রবীন্দ্র সঙ্গীত হবে না, সেটা হাই সঙ্গীত হয়ে যাবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি আমরা শহীদ দিবস হিসেবে পালন করছি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করছি। রক্তের অক্ষরে আমরা মাতৃভাষার মর্যাদাকে রক্ষা করেছি। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে, এটা আমাদের জন্য গর্বের। কাজেই এই ভাষার চর্চা ও ভাষার ব্যবহারের কথা আমাদের ভুললে চলবে না। বাঙালী হিসেবে আমাদের ঐতিহ্য সব ধরে রাখতে হবে, চর্চা করতে হবে, সংরক্ষণ করতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ প্রদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমি প্রতিবারই জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে থাকি। একুশ আমাদের শেখায় মাথা নত না করা। একুশের পথ ধরেই কিন্তু আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কারণ, একুশে ফেব্রুয়ারি বুকের রক্ত দিয়ে ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। একটা জাতিকে ধ্বংস করার জন্য সব সময় তাদের সংস্কৃতি ও ভাষার ওপর আঘাত করা হয়। সেই ষড়যন্ত্রটাই পাকিস্তানী শাসকরা করেছিল। আর যার ফলে আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছি, একটি রাষ্ট্র পেয়েছি। আমাদের লক্ষ্য: জাতির পিতা যে লক্ষ্য নিয়ে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত হিসেবে গড়ে উঠবে, বাঙালী জাতি হিসেবে বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে মর্যাদার সঙ্গে চলবে। বাংলাদেশ হবে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে উঠবে উন্নত, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ। আমরা তা গড়ে তুলতে পারব, ইনশা আল্লাহ! কারণ, আমরা অনেকদূর এগিয়ে গেছি। আজকে আমরা সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি। জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ের তোলার পর আমরা নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলাম। এখন সবদিক থেকে আমাদের একটা সুযোগ এসে গেছে। আমরা প্রবৃদ্ধি ও মাথা পিছু আয় অর্জন করেছি। যে কয় ক্যাটাগরিতে অর্জন থাকলে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেতে পারি, তার প্রতিটি শর্তই কিন্তু বাংলাদেশ এখন পূর্ণ করেছে। তাই এখন আমাদের দেশকে মর্যাদায় আরও একধাপ উপরে নিয়ে যেতে পারব। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ বলা হয়েছে। কিন্তু আমি সব সময় মনে করি, যে জাতি রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে সেই জাতির সঙ্গে ‘নিম্ন’ শব্দটি থাকতে পারে না। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত হিসেবে আমরা গড়ে তুলব। আজকে আমরা আর নিম্ন আয়ের দেশ না, আমাদের এই অঞ্চলের সব দেশই কিন্তু উন্নয়নশীল দেশ। কাজেই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা নিজের অবস্থানটা উন্নত করতে পারব। সেই পর্যায়ে আমরা এখন এসে গেছি। সেই ঘোষণা অচিরেই দেশবাসী পাবেন, ইনশা আল্লাহ! ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাঙালী জাতির দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের ৫৬ ভাগ জনগোষ্ঠী বাঙালী হলেও আমাদের বাংলা ভাষার কোন অধিকার ছিল না। ’৪৮ সালে করাচীতে যখন উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার কথা ঘোষণা করা হয় তখন বাঙালী জাতি প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। তিনি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলেন, রাষ্ট্রভাষা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলেন। এ কারণে গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু। সারাদেশে বাঙালী জাতি ফুঁসে ওঠে। তিনি বলেন, ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কারাগারে বসেও অনশন শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে বঙ্গবন্ধুকে হানাদাররা মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বিজয়ী হলে ক্ষমতায় যাওয়ার পর পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র রচনা করা হয়। সেই শাসনতন্ত্রে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও রাষ্ট্রীয়ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। শুধু বাংলাকে স্বীকৃতিই নয়, ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস এবং সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়। শহীদ মিনার নির্মাণের নক্সাও প্রণয়ন করা হয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ওই সময় ক্ষমতায় না এলে কোনদিনই বাংলা রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেত না। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি পাওয়ার ইতিহাস তুলে ধরে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরে বাংলা ভাষার চর্চা ও উৎকর্ষ সাধনে কাজ শুরু করে। তখন রফিক ও সালাম নামে কানাডায় বসবাসরত দুই প্রবাসী বাঙালী ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য জাতিসংঘে আবেদন করেন। তখন তাঁদের বলা হয়, কোন সদস্যরাষ্ট্র যদি এ আবেদন করে তখন বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। আমাকে এটা জানালে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেই এবং জাতিসংঘে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রস্তাব দেই। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বীকৃতি প্রাপ্তির পর সারা বিশ্বের মাতৃভাষা সংরক্ষণ, গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য এখানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারে আসার পর অন্যান্য প্রকল্পের মতো এই ইনস্টিটিউট নির্মাণের কাজও বন্ধ করে দেয়। ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় এসে এই ইনস্টিটিউট নির্মাণ ও উদ্বোধন করি। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা আইন জাতীয় সংসদে পাস করি। বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা এটার নির্মাণ কাজ বন্ধ না করলে আমরা ক্ষমতায় এসে এটি নির্মাণ ও উদ্বোধন করার সৌভাগ্য আমার হতো না। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকে ক্যাটাগরি-২ তে উন্নীত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী এ সময় ইউনেস্কোকে ধন্যবাদও জানান। বাংলাকে দাফতরিক ভাষার স্বীকৃতি দিন- জাতিসংঘকে কাদের ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি মানুষের ভাষা বাংলাকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষার মর্যাদা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের কাছে আজকে আমাদের একটাই দাবি বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি ভাষাভাষী বাঙালী জাতির ভাষা বাংলাকে দাফতরিক ভাষার মর্যাদা প্রদান করুন। এটাই আমাদের প্রত্যাশা বাঙালী জাতির পক্ষ থেকে। বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বাংলা ভাষা আজকে সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। বাংলা ভাষা বিশ্বস্বীকৃত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং একুশে ফেব্রুয়ারির মর্যাদা প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে শহীদদের আত্মবলিদান সার্থক হয়েছে। একুশ এবং একাত্তর একই চেতনার ওপর প্রতিষ্ঠিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২১ এবং ৭১ এর চেতনায় আমরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে গড়ে তুলব।
একুশে ফেব্রুয়ারির নিরাপত্তার জন্য তৈরি RAB
একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে RAB। মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে RABএর মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এসময় নিরাপত্তা জোরদারের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, 'সবাইকে আগে পলাশীর মোড়ে আসতে হবে। সেখান থেকে জগন্নাথ হলের পাশ দিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছাতে হবে। নির্দেশনাটি মানতে সকল জনগণকে আমরা অনুরোধ করবো।' RABএর মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ আরো বলেন, 'আর একটা বিষয় হচ্ছে এই দিন রাতে নিরাপত্তার জন্য আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করবো। নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানে RAB তৎপর থাকবে।'
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র বিক্রির আগে ক্রেতার অতীত পর্যালোচনার কার্যক্রম জোরদারের বিষয়টি সমর্থন দেবার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ বলছে, ইতিমধ্যেই আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক হবার ক্ষেত্রে নিয়মকানুন শক্ত করার জন্য ট্রাম্প রিপাবলিকান সিনেটর জন করনিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় একটি বিল আনার ব্যপারে কথা বলেছেন। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে অ্যামেরিকায় গড়ে উঠা জন দাবীর মুখে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প। আগে একবার আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছিলেন, অস্ত্র রাখার ক্ষেত্রে মানুষের যে ব্যক্তিগত অধিকার আছে সেখানে কিছুতেই তিনি হস্তক্ষেপ করবেন না। বুধবার ফ্লোরিডায় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৭জনকে হত্যা করা হয়েছিলো যে সেমি-অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে, সেটি বৈধভাবেই কিনেছিলেন হামলাকারী নিকোলাস ক্রুজ। এই ঘটনার পর, হামলাকারীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠে এবং জানা যায় ২০১৬ সালেই মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। ক্রুজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এই তথ্য সামনে আসার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবী আরো জোরালো হয়। দুদিন আগে ফ্লোরিডা হামলায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া ডেভিড হগ ট্রাম্পকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবী জানান। হগ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, হাউস অফ রেপ্রেজেন্টেটিভ কিংবা সিনেট, সবকিছুই আপনার নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু এরপরও মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য আপনি একটি বিলও আনেননি। এটি সত্যিই হতাশাজনক। আপনি কর ব্যবস্থায় সংস্কার করেছেন অথচ আমাদের শিশুদের জীবন রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেননি। এমন সমালোচনার মুখেই, হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের নতুন অবস্থান। অস্ত্র বিক্রির আগে ক্রেতার অতীত সম্পর্কে ভালো মত খোঁজ খবর পক্ষে সমর্থন দেবার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও ফ্লোরিডার এ ঘটনার আগে, সবসময়ই তিনি ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন।
ইউনিসেফ-এর উপ-আঞ্চলিক পরিচালকের স্পিকারের সাথে সাক্ষাৎ
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে ইউনিসেফ-এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপ-আঞ্চলিক পরিচালক ফিলিপ কোরি সোমবার সংসদ ভবনে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা শিশুর অধিকার, ইউনিসেফের সাহায্যে চলমান প্রকল্প, জেন্ডার সংবেদনশীল ও শিশু বাজেট প্রনয়ণ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেন। স্পিকার এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ইউনিসেফের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন তার জন্মের পূর্বে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করা- কেননা এসময় শিশুর বুদ্ধির বিকাশ ঘটে। তিনি এই সময় গর্ভবতী মায়েদের প্রতি যতœশীল হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সামাজিক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান বাজেট ব্যবস্থাকে একটি মডেল বাজেট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিশু বাজেট এবং জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রেও এই বাজেট অনন্য। এর ফলে জেন্ডার সমতার বিষয়টি এদেশে মূল উন্নয়ন গতিধারায় সম্পৃক্ত হয়েছে। ফিলিপ কোরি দক্ষিণ এশিয়ার সংসদ সদস্যদের নিয়ে শিশুদের অধিকার বিষয়ক এক মত বিনিময় সভা বাংলাদেশে আয়োজন করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সভার গুরুত্ব স্পীকারকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্তত পঞ্চাশ জন সংসদ সদস্য নিয়ে এ মতবিনিময় সভা হতে পারে- যেখানে শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ে আলোচনা হবে। তিনি আরও বলেন, শিশুরাই ভবিষ্যত নেতৃত্ব- তাদের সুস্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবন মানোন্নয়নই এ ধরনের সভা আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনিসেফ-এর আবাসিক প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বেগবেদার উপস্থিত ছিলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ
এলক্ষ্যে মাদক ও এ সম্পর্কিত ব্যবসা ও কর্মকান্ড প্রতিরোধে সংস্থাটিকে অধিকতর দক্ষ ও কার্যকর করতে নতুন জনবল কাঠামো, আগাম তথ্য সংগগ্রহের জন্য গোয়েন্দা শাখা শক্তিশালী করা, আগ্নেয়াস্ত্র, র্যাঙ্কব্যাজসহ ইউনিফরম, নতুন আইন ও নতুন চাকরি বিধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অধিদফতরটির মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন আহমেদ সোমবার বাসসকে বলেন, আমরা পর্যাপ্ত স্টাফের জন্য বর্তমান জনবল ১৭০৬ থেকে বৃদ্ধি করে ৮৫০৫ জন এবং গোয়েন্দা শাখা শক্তিশালী করার প্রস্তাব দিয়েছি। এছাড়া অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা খুবই খুঁকিপূর্ণ। এজন্য আগ্নেয়াস্ত্রের প্রস্তাব করা হয়েছে। অবশ্য আগ্নেয়াস্ত্র প্রদানের ব্যাপারে সরকার নীতগতভাবে সম্মত হয়েছে। প্রস্তাবে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে। এতে ইয়াবা ব্যবসাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হুকা-ছিলিম মাদকদ্রব্যের তালিকাভুক্তি এবং বিভাগীয় শহরে ২শ শয্যার নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান বলেন, এই সামাজিক অভিশাপের হাত থেকে রেহাই পেতে কেবল একটি সংস্থাই যথেষ্ট নয়। এজন্য সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে আসতে হবে। সংস্থাটির পরিচালক (অপারেশন) সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, সংস্থাটির সক্ষমতা বাড়াতে ১৮ থেকে ২০টি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় ভিত্তিক ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক ও বিভাগীয় শহরগুলোতে ৪টি কেমিক্যাল ল্যাবরেটরী স্থাপন, প্রশিক্ষণ, জেলা কার্যালয়গুলোতে একটি করে যানবাহন, অনলাইনে সংস্থাটির ৩৭টি সেবার ব্যবস্থা এবং মাদকদ্রব্য সনাক্তের নতুন মেশিন কেনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
জরুরি সভা ডেকেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়
প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবার প্রথমবারের মতো সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ, রেব ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বয় সভা ডেকেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সভায় তিনজন মন্ত্রীসহ সাতজন সচিবকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমন্বয় সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) চৌধুরী মুফাদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পাবলিক পরীক্ষা আয়োজনের সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয় ছাড়া প্রশ্নফাঁস ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই আগামী পরীক্ষাগুলো সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতেই এই সভা ডাকা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ধারবাহিকভাবে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। সঙ্গে উত্তরপত্রও। শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণাসহ নানা উদ্যোগ নিলেও প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো যায়নি। বরং পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। সর্বশেষ সোমবারের পরীক্ষায়ও প্রশ্ন ফাঁস হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য যাছাই-বাছাই কমিটিও প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পেয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়েও চরম আতঙ্কে রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানোর কৌশল বের করতেই সভাটি ডাকা হয়েছে।
আপিল মোকাবেলায় প্রস্তুত দুদক
দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক সোমবার রাতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের কপি পেয়েছে। এর পর রাতেই রায় পড়ে শেষ করেছেন সংস্থাটির আইনজীবীরা। তারা বলছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যদি আজ জামিন আবেদন ও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন, তা হলে তা মোকাবেলার জন্য দুদক প্রস্তুত আছে। মঙ্গলবার সকালে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এ কথা জানান। দুদকের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাতেই দণ্ডিত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। ওই দিনদুপুরে মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত। এর ১২ দিন পর সোমবার একই আদালত এ মামলার এক হাজার ১৭৪ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ করেন। এদিন খালেদা জিয়াসহ মামলার আসামিদের ও দুদককে রায়ের কপি সরবরাহ করা হয়। উল্লেখ্য, রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এ ছাড়া মামলায় অন্য আসামি তার ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর