ইতালি সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন বিকালে
ইতালি সফর শেষে ফেরার পর সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় গণভবনে এই সংবাদ সম্মেলন হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশ সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এলেও সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসা অধিকাংশ সময় থাকে দেশের রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে। ফলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার দণ্ডের পর শেখ হাসিনার এই সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি যে আলোচনায় উঠেবে, সে ধারণা করা যায়। জাতিসংঘের কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় অংশগ্রহণ এবং ভ্যাটিকান সফর শেষে শনিবার রাত সোয়া ৮টায় দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পোপ ফ্রান্সিস ও আইএফএডির প্রেসিডেন্ট গিলবার্ট এফ হংবোর আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে রোববার রোম যান প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে বৃহস্পতিবার সকালে রোম থেকে আবুধাবির উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। সেখানে একদিন যাত্রাবিরতির পর দুপুরে দেশের পথে রওয়ানা হন তিনি। সোমবার সকালে ভ্যাটিকান সফর করে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। পরদিন আইএফএডির ৪১তম গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি। ওই দিন বিকালে রোমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন রাষ্ট্রপতি
দেশে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারা সংহত রাখতে আরো তৎপর হতে সাংবাদিকদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশের গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারা সংহত রাখতে আরো তৎপর হতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি গতকাল বিকেলে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে এ আহ্বান জানান। স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে পারে, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংবাদপত্রের দায়িত্বশীল ও পেশাদারী ভূমিকা সাধারণ জনগণকে সঠিক তথ্য প্রদান করে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। আবদুল হামিদ বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও মতামত পরিবেশনের মাধ্যমে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পাঠকদের সত্য ও কল্যাণের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের পবিত্র দায়িত্ব। বর্তমান সরকারের আমলে দেশে বহু বেসরকারি টিভি চ্যানেল, এফএম রেডিও, অনলাইন রেডিও, অনলাইন টেলিভিশন এবং কমিউনিটি রেডিওসহ মিডিয়া হাউস দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি দেশের গণমাধ্যমের এই বিকাশ ও তার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর জোর দেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, অসত্য, উস্কানিমূলক কিংবা হলুদ সাংবাদিকতা কখনই জনগণ ও গণতন্ত্রের বন্ধু হতে পারে না। আবদুল হামিদ সুষ্পষ্টভাবে বলেন, আপনারা সমালোচনা করবেন। তবে তা যেন তথ্যভিত্তিক হয়। কোনভাবেই যেন একপেশে না হয়। গঠনমূলক সমালোচনা সরকার পরিচালনা ও জাতি গঠনে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রাষ্ট্রপতি সাংবাদিকদের ব্যাপারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক মন্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, আপনারা সাংবাদিক। আপনাদের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে আপনারা নিজেরাও আত্মসমালোচনা করুন। আপনারা শিক্ষিত, আপনারা লেখক, আপনারা ভালো মানুষ। আপনারাই বলুন, কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভিশন-২০২১ ও ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের চলমান নানা বাস্তবমুখী উদ্যোগ ও কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতা কামনা করেন। বক্তৃতার শুরুতে রাষ্ট্রপতি হামিদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও দেশের অন্যান্য গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী অকুতোভয় শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। চলতি বছর সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের জন্য ৬ ক্যাটাগরিতে ৫ সাংবাদিক ও একটি সংগঠনকে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পুরস্কার প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ করেন। প্রত্যেক বিজয়ীকে ৫০ হাজার টাকা, একটি ক্রেস্ট ও একটি সার্টিকিট প্রদান করা হয়। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক এমপি, প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এমপি, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম রহমতউল্লাহ এমপি, ভারপ্রাপ্ত তথ্য সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, বিচারক মন্ডলীর চেয়ারম্যান ও সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার এবং প্রেস কাউন্সিল সদস্য ও সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক, দেশের প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কূটনীতিক, বিদেশী অতিথি, সংসদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট সচিবগণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
সচিবদের সঙ্গে বসছেন প্রধানমন্ত্রী
৮ মাসের মাথায় আবারও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৪ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ওই বৈঠক ডাকা হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে এ বৈঠকের আয়োজন বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত বছরের ২ জুলাই শেখ হাসিনা সচিবদের নিয়ে সর্বশেষ বৈঠক করেন। এ বৈঠক সামনে রেখে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে জোর তৎপরতা চলছে। বিশেষ করে সরকারের বিগত দিনের উন্নয়ন চিত্র, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ ও ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের অবস্থা, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন ইস্যুর সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ চলছে। ইতিমধ্যে ২৬ দফার তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের তালিকা তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় এ বিষয়সহ ২৬টি নির্দেশনা দেন তিনি। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ২৩ জুলাই সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবকে চিঠি দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। চিঠিতে বলা হয়- ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এবং ২০০৯ থেকে বর্তমান মেয়াদ পর্যন্ত সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি এসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রামাণ্যচিত্র আকারে তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ২৬টি বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে চেয়ে ৮ ফেব্রয়ারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সচিব এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো একতরফা নির্বাচন করতে চায় না সরকার। মাঠের বিরোধী দল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এমতাবস্থায় সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে কাজ চলছে। জনগণের ভোট পেতে হলে দৃশ্যমান কিছু থাকতে হবে। পাশাপাশি যে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। এসব বিষয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী করণীয় নির্ধারণ করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। বিসিএস ১৯৮৪ ব্যাচের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক সচিব যুগান্তরকে বলেন, সরকারের উন্নয়নমূলক দৃশ্যমান অনেক কার্যক্রম রয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে এসব কার্যক্রম গণমাধ্যমে তুলে ধরা হলে আগামীতে আবারও দেশ পরিচালনার সুযোগ পাবেন তারা। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের তুলনায় বর্তমান সরকারের সময় বেশি উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হয়েছে বলে তাদের বিশ্বাস। এ কারণে সচিব সভায় জনপ্রশাসনকে আরও বেশি জনবান্ধব ও সক্রিয় করাসহ সচিবদের উদ্দেশে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগেও তিনি ২৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। জানতে চাওয়া হয়েছে ২৬ নির্দেশনার অগ্রগতি : গত সচিব সভায় ৭১ জন সচিব অংশ নেন। সেখানে ১৬ জন সচিব বক্তব্য রাখেন। তাদের ২৬ দফা নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে রয়েছে- রফতানি আয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য কাস্টমস ও ব্যাংকিং কার্যক্রম সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা; দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকাসহ পাহাড় ও টিলা-অধ্যুষিত এলাকার পরিবেশ রক্ষা করা; ভূমিধস প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালনে আরও আন্তরিক হওয়া এবং দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য পর্যাপ্ত জরুরি অর্থ বরাদ্দ রাখা; রাস্তাঘাট নির্মাণের সময় প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ ও রাস্তার দুই পাশে বৃক্ষ রোপণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজন, সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বনায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা; অঞ্চলভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্প কর্মসূচি গ্রহণ করা; জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থবছরের প্রথম ৩ মাস প্রকল্পের পেপারওয়ার্ক সম্পন্ন করে শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু এবং একই সঙ্গে কাজের গুণগতমানের বিষয়টি নিশ্চিত করা; বাজেট প্রাপ্তির পরপরই অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প বাছাইপূর্বক তা বাস্তবায়ন করা; প্রকল্প প্রণয়নে ব্যাংক সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিসকাউন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণ করা; পদ্মা সেতুসহ বড় বড় প্রকল্পের মালামাল পরিবহনে আন্তঃদেশীয় সমস্যার বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে দ্রুততার সঙ্গে অবহিত করা; বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার আরও বাড়ানো; অর্থবছরের শেষ দিকে তাড়াহুড়া না করে বছরের শুরু থেকেই বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে ব্যবস্থা নেয়া; সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া; সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের সেবা ও শুদ্ধাচার ব্যবস্থা জোরদার করা; ভালো কাজের পুরস্কার আর মন্দ কাজের জন্য তিরস্কার ব্যবস্থা কার্যকর করা; সেবাদাতা সংস্থাগুলো থেকে সেবা পেতে জনগণের ভোগান্তি কমানো; আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর করে সবার ন্যায়সঙ্গত পদোন্নতি ও পদায়ন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা; অপেক্ষাকৃত তরুণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানে অগ্রাধিকার দেয়া; সংবিধান, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি এবং সংসদ পরিচালনা-সংক্রান্ত কার্যক্রমের বিষয়ে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া; জঙ্গিবাদ দমন ও মাদক নিয়ন্ত্রণেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এসব ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের তাগিদ দেয়া হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও এসডিজির সফল বাস্তবায়নে মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষিজমি নষ্ট না করে এলাকাভিত্তিক ঘোষিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প-কারখানা গড়ে তোলারও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া বিচারাধীন সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মামলা পরিচালনার জন্য বর্তমান ব্যবস্থার পাশাপাশি অভিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগে অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে ও মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। যেসব জেলা নিজ উদ্যোগে তহবিল গঠন করে ভিক্ষুকমুক্ত করার পদক্ষেপ নেবে, সেই তহবিলে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ধীর কৌশল অবলম্বন করছে মিয়ানমার
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বারবার ধীরগতির কৌশল অবলম্বন করছে মিয়ানমার। সাড়ে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিবন্ধন শেষ হলেও মাত্র ৮ হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর, তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাইকে মিয়ানমারের টালবাহানা বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে দ্রুত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সরকারের তৎপরতা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। মিয়ানমারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, গেল ২২ জানুয়ারি থেকেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দেশটি নানা টালবাহানায় তা হয়ে উঠেনি। গত শুক্রবার সচিবালয়ে দুদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে পালিয়ে আসা সাড়ে ১০ রাখের বেশি মিয়ানমার নাগরিকের নিবন্ধন শেষ হলেও মাত্র এক হাজার ৬৭৩টি রোহিঙ্গা পরিবারের আট হাজার ৩২ জনরে তালিকা হস্তান্তর করা হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার বার বার ধীরগতির কৌশল অবলম্বন করছে বলে মনে করনে তারা। স্থানীয়রা বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফেরত যাবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এ প্রক্রিয়া নিয়ে মিয়ানমারের এত বাহানা বাংলাদেশের সঙ্গে এক রকম ছলচাতুরী। তারা শুধু বৈঠক করছেন। কিন্তু রোহিঙ্গারা এখানেই অবস্থান করছেন। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে দ্রুত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর কোনো বিকল্প নেই বলে জানালেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের এ নেতা। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহামুদুল হক চৌধুরী বলেন, যতদ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করতে হবে। তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর আগে পর্যন্ত আমরা অশ্বস্তিতে থাকব। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য জানালেন, নিরাপদে যাতে রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যেতে পারেন সরকারের পক্ষ থেকে সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, মিয়ানমার চাইবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নিতে। কিন্তু আমাদের আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে তাদের নিরাপদে দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে দুদেশের মধ্যে বৈঠক হলেও গত এক সপ্তাহে নতুন করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে এক হাজারের অধিক রোহিঙ্গা।
খালেদা জিয়া ছাড়াও বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে এটাই আমার সুদৃঢ় বিশ্বাস : ওবায়দুল কাদের
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়া ছাড়াও বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে এটাই আমার সুদৃঢ় বিশ্বাস। বিএনপি নেত্রী আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কি পারবেনা সেটা সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। সে ব্যাপারে সরকার বা আমার দলের কোন হস্তক্ষেপ নেই। খালেদা জিয়া যে মামলায় দন্দিত হয়েছেন সে মামলা বিগত ১০ বছর পূর্বে ফখরুউদ্দিন সরকারের আমলে দায়ের করা হয়েছিল। দুদক বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেছিল। আর এ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে ৯ বছর। এ সরকার যদি তার মামলায় হস্তক্ষেপ করত তাহলে মামলাটি এত বছর চলল কিভাবে ? ১০ বছর পর যে মামলার রায় হয়েছে তাতে এ সরকারের কি দোষ ? তিনি ১৫০ বার মামলায় সময় নিয়েছেন। বিএনপি প্রচার করে এটা আ.লীগ সরকারের আমলের মামলা, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আগের কারাগারটি ঢাকার কেরাণীগঞ্জে স্থানান্তর করায় সেটি পরিত্যাক্ত রয়েছে। জেল সুপারের কার্যালয়ে তাকে রাখা হয়েছে। জেলখানা সুখের জায়গা নয়, কারাগারতো নির্জন হবে। তারপরও তিনি ডিভিশনাল বন্দি হিসেবে জেল কোড অনুযায়ী সব সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। তার মর্যদার কথা চিন্তা করে তার সাথে একজন গৃহকর্মীও দেয়া হয়েছে। যার নজির পৃথীবীর কোন দেশে নেই। তিনি আরো বলেন, ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সার্টিফাইড কপি পেতে যুক্তিসংগত সময় লাগবে। যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে তারা সার্টিফাইড কপি পেয়ে যাবেন। এ ব্যাপারে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। বিএনপির আন্দোলনের ব্যাপারে তিনি বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সম্পূর্ণ অক্ষম। বিএনপি ভেবেছিল খালেদা জিয়াকে আটকের পর দেশে উত্তাল তরঙ্গের মত আন্দোলন হবে। তাদের ডাকে কেউ সাড়া দেয়নি। তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করতে জানেনা। তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূিচর ইতিহাস নেই। তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে অক্ষম। খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের পূর্বে হাইকোটের সামনে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে তারা আসামি ছিনিয়ে নিয়েছে। তারা লন্ডনে বাংলাদেশী দূতাবাসে হামলা-ভাঙচুর করেছে। শুধু তাই নয়, তার জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর করে চরম অবমাননা করেছে। সে বিষয়টি এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্রমন্ত্রণায় তদন্ত করছে। বিএনপি রাতের আঁধারে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ৭ ধারা বাদ দিয়ে দÐিত ব্যাক্তি তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার মামলার ব্যাপারে সরকার বিদেশী কোন চাপ অনুভব করছেননা বলে তিনি দাবি করেন। উন্নয়নের ব্যাপারে তিনি বলেন এ সরকারের আমলে যে উন্নয়ন হয়েছে তা নজিরবিহীন। এ দেশের ইতিহাসে বিস্ময়কর উন্নয়ন হয়েছে। আগে মানুষ রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নের দাবি নিয়ে আসতো, কিন্তু এখন আর সেটি হয়না। এখন শুধু মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নের দাবি নিয়ে আসে। নির্বাচনের আগে আর কোন উন্নয়ন কাজ বাকী থাকবেনা। এ সরকারের আমলে ১৬ হাজার মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন, পদ্মা সেতু নির্মাণ, ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে ফোর লেন নির্মাণ, প্রত্যেক ইউনিয়নে ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বের ৫টি উন্নত দেশের সাথে প্রতিযোগিতা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। পাকিস্তান শুধু পরমাণ অস্ত্র ছাড়া আমাদের সাথে আর কোন কিছুতেই এগিয়ে নেই। আর্থসামাজিক উন্নয়নে আমরা রোল মডেল। নির্মাণ কাজের মেয়াদের ৬ মাস পূর্বেই উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হয়েছে এক মাত্র বাংলাদেশেই এ নজির রয়েছে। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু আজ দৃশ্যমান। আমাদের সরকারের আমলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে দেয়নি। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারায় আমাদের একাধিক এমপি, মন্ত্রী বা মেয়র আদালত কর্তৃক কারাগারে রয়েছেন। এসব সুশাসনের অংশ। এব্যাপারে ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মোটেও বিচলিত নয়। গতকাল শনিবার সকালে ফেনী সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় ফেনী জেলা প্রশাসক মনোজকুমার রায়, পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান, জেলা আলীগের সভাপতি আবদুর রহমান বিকম, ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার সোহেল, ফেনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী সহ বিপুল সংক্ষক সংবাদ কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
১৮ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ দুই দিনব্যাপী জাতীয় মৌ মেলা-২০১৮
রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, স্বাস্থ্য, মেধার উন্নতি ও বিকাশে নিয়মিত মধু সেবনসহ পুষ্টি যোগানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন অত্যাবশ্যক। জাতীয় মৌ মেলা, ২০১৮ উপলক্ষে আজ এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। আগামীকাল থেকে তিন দিনের জাতীয় মৌ মেলা শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ১৮ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ দুই দিনব্যাপী জাতীয় মৌ মেলা-২০১৮এর আয়োজন একটি সময়োচিত পদক্ষেপ। মৌ মেলার প্রতিপাদ্য ফসলের মাঠে মৌ পালন, অর্থ পুষ্টি বাড়বে ফলনঅত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিকভাবে নির্ধারিত হয়েছে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি ফসলের মাঠে মৌ চাষিকে উৎসাহিত করছে। চিরায়ত বাংলার মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই মধুকে পথ্য হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। তখন থেকেই মধুর পুষ্টি ও ভেষজগুণ সকলেরই জানা। শারীরিক শক্তি ও মেধা বিকাশে মধুর গুণ অপরিসীম। আবদুল হামিদ বলেন, পতঙ্গ বিজ্ঞানীদের মতে, এক কেজি মধু উৎপাদনের জন্য মৌমাছিকে প্রায় একলক্ষ কিলোমিটার উড়তে হয়। সেই সাথে সংগৃহীত মধুর মূল্যের চেয়ে মৌমাছি পরাগায়নের মাধ্যমে ফসলের ফলন বৃদ্ধিতে ৭০ গুণ বেশি অবদান রাখে। এক সময় মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের সময় মৌমাছির হুল সহ্য করতে হতো। প্রযুক্তির উন্নয়নে সেই মৌমাছি আজ মধুসহ খাদ্যের যোগান দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিজ্ঞানের এই চমৎকার উদ্ভাবনটি খাদ্য উৎপাদনে কাজে লাগানোর ফলে দেশের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা আরো জোরদার হবে। মৌমাছি আপন মনে নীরবে জীববৈচিত্র রক্ষায় যে কাজ করে যাচ্ছে তা মানবসভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখার অন্যতম হাতিয়ার। রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান মানবসভ্যতার অকৃত্রিম বন্ধু মৌমাছি যেন আর কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে দিকে সমাজের সকলকে নজর দিতে হবে। একই সাথে মৌমাছি এবং মানবসমাজ একে অপরের পরিপূরক এই সত্যটি সবাইকে মনে রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
ইতালির রোম এবং ভ্যাটিকান সিটিতে চার দিনের সরকারী সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি থেকে তাঁকে বহনকারী ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট শনিবার রাত ৮টার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, আওয়ামী লীগসহ সরকার দলীয় জোটের রাজনৈতিক নেতারা ও বিভিন্ন বাহিনী প্রধান এবং সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তারা। গত বুধবার স্থানীয় সময় রাতে রোম থেকে দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। বিমানবন্দরে শেখ হাসিনাকে বিদায় জানান ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান শিকদারসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রী ইতালি ও ভ্যাটিকান সিটিতে চার দিনের সরকারী সফর শেষ করে স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৩টা) আবুধাবির উদ্দেশে রোমের লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন সংস্থা (ইফাদ)-এর প্রেসিডেন্ট গিলভার্ড হুয়াংবো’র আমন্ত্রণে ইফাদের পরিচালনা পর্ষদের বার্ষিক বৈঠকে যোগদান করেন। পোপ ফ্রান্সিসের আমন্ত্রণে শেখ হাসিনা হলি সি (ভ্যাটিকান সিটি) সফর করেন এবং পোপ ও সেক্রেটারি স্টেট অব ভ্যাটিকান সিটি কার্ডিনাল পিয়েত্রো প্যারোলিনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখলেন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল শনিবার উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া ও মধুরছড়াসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প ও বস্তি এলাকা ঘুরে দেখেছেন। তারা রোহিঙ্গাদের জীবনমান, থাকা-খাওয়া, স্বাস্থ্য,চিকিৎসাসেবা, পয়োনিষ্কাশন ও খাবার পানি সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন সাপ্লাই সেন্টার পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে সেন্টারে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সংকট,সমস্যা আছে কিনা তা জানতে চান। যুক্তরাষ্ট্রের পলিটিক্যাল ইকোনমিক সেন্টারের টিম লিডার উইলিয়াম মমলারের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদল ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে কিনা জানতে চান। এ সময় রোহিঙ্গারা প্রতিনিধিদলকে বলেন, তাদের নাগরিক অধিকারসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রত্যাবাসনের পরপরই নিজ বাড়িঘরে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে। তাছাড়া মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখাসহ তাদের যেসব ক্ষয়ক্ষতি মিয়ানমার সামরিক জান্তারা করেছে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তাছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে তারা যেন বিরত থাকে তা-ও নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের প্রধান রোহিঙ্গাদের আশ্বস্ত করে বলেন, মিয়ানমারে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। সেখানে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে শনিবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের উদ্দেশে ক্যাম্প ত্যাগ করেন।
চলতি বছরের শেষেই অবসর নেবেন জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী
বছরের শেষেই অবসর নেবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর শুক্রবার করা এক মন্তব্যের জবাবে একথা জানান তিনি। শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অগ্রণী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি একথা জানান। এ সময় তিনি আরো বলেন, প্রকল্প এবং ঋণ গ্রহীতার ব্যাপারে সঠিকভাবে বিচার বিশ্লেষণ করেই কেবল ঋণ দেয়া উচিৎ। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আরও বলেন, 'খবরে দেখলাম এদেশের একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে উপদেশ দিয়েছেন। দু'জন ব্যক্তিকে, যেখানে কাজ কম সে মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে দিতে বলেছেন। তবে তাঁদের পদচ্যুত করা নিয়ে তিনি কোনো দাবি করেন নি। সে দুজন ব্যক্তির মধ্যে আমার বন্ধু, আমাদের সুযোগ্য বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আর দুই নম্বর ব্যক্তি হচ্ছে আমি, আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রী।' এসময় তিনি জানান, 'আমি সত্যিকার অর্থে জানি, আমি অবসর নিতে যাচ্ছি। এ বছরে অবসরে যাবো। ডিসেম্বর মাসে।' সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সম্পর্কে তিনি বলেন, 'বদরুদ্দোজা চৌধুরীর হয়তো অবসর নিয়ে কোনো ধারণা নেই (এসময় অর্থমন্ত্রীসহ উপস্থিত সবাই হেসে পড়েন)। এজন্য তাঁকে উপদেশ দিতে চেয়েছিলাম, জীবনে একটা সময় আসে বোধ হয়, তখন অবসর নেয়াটাই আমাদের জন্য ভালো।' অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত। উপস্থিত ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব ইউনুসুর রহমান, ব্যাংকের এমডি শাসমুল ইসলামসহ ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের অন্য কর্মকর্তারা।

জাতীয় পাতার আরো খবর