বুধবার, নভেম্বর ২১, ২০১৮
স্নিগ্ধা যা বলেছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্বামী রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন স্নিগ্ধা ভৌমিক। পরকীয়া প্রেমিক কামরুলের সঙ্গে মিলে হত্যার নির্মম বর্ণনা দিয়েছেন ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে। স্নিগ্ধা বলেন, রথীশকে হত্যা করলে সবাই ভাববে জঙ্গিরাই তাকে মেরেছে- এ ভাবনা নিয়েই তাকে হত্যা করা হয়। এর কারণ হিসাবে জানায়, রথীশ ছিল জেএমবির হামলায় নিহত জাপানি নাগরিক ও মাজার খাদেম হত্যা মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী। আর এ কারণেই জঙ্গিরা তাকে হত্যা করেছে- এমনটা বিশ্বাসযোগ্য হবে। বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিন মুক্তার খাস কামরায় স্নিগ্ধা ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি দেন। সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে দেয়া জবানবন্দিতে স্নিগ্ধা জানায়, ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি। ওদিকে স্নিগ্ধা ভৌমিকের পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলামের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিন মুক্তা তার এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপরদিকে স্নিগ্ধা ভৌমিকের পাশাপাশি দুই স্কুলছাত্র সবুজ ইসলাম (১৭) ও রোকনুজ্জামানের (১৭) আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। জবানবন্দি শেষে স্কুলের দুই ছাত্রকে গতকাল সকালে যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বিচারক আরিফা ইয়াসমিন মুক্তার কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সূত্র ধরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক আল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে দীপা তার স্বামীকে হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং কামরুলের ইসলামের পরকীয়ার কথাও স্বীকার করেন। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, দুই কিশোর তাদের জবানবন্দিতে শিক্ষক কামরুলের নির্দেশে তার নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত বাড়ির একটি কক্ষে গর্ত খোঁড়ার কথা স্বীকার করে। ওই গর্তেই রথীশের মাটিচাপা দেয়া লাশ পাওয়া গিয়েছিল। আলাদাভাবে জবানবন্দি নেয়ার পর স্নিগ্ধা ও দুই কিশোরকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন বিচারক মুক্তা। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অ্যাডভোকেট রথীশ ভৌমিককে হত্যা করার পর লাশ ঘরের মেঝেতে রেখে তার স্ত্রী স্নিগ্ধা ও কামরুল শারীরিক মেলামেশা করে রাতভর। তাদের পরকীয়া প্রেমের কাহিনী জানতো অ্যাডভোকেট রথীশের ব্যক্তিগত সহকারী মিলন মোহন্ত। আর এ কারনে খুনের সঙ্গে জড়িত বাবু সোনার সহকারী মিলন মোহন্তকে এই মামলায় বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়। ওদিকে সূত্র জানায়, স্নিগ্ধা ও কামরুল গোপনে দেশ ছাড়তে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তারা পালাতে পারেননি। উল্লেখ্য, আইনজীবী রথীশ ভৌমিক বাবু সোনা ৩০শে মার্চ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাসা থেকে নিখোঁজ হন। পাঁচ দিন তদন্ত শেষে র‌্যাব-পুলিশ তার রহস্য উদঘাটন করে। ২৯শে মার্চ রাত ১০টার দিকে নগরীর তাজহাট বাবুপাড়ার নিজ বাসাতেই ঘুমের বড়ি খাইয়ে অচেতন করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় তাকে। ৪ঠা এপ্রিল দিনগত রাতে তার তাজহাট মোল্লাপাড়ার কামরুলের নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত বাসা থেকে বাবু সোনার লাশ উদ্ধার করে র‌্যাব। বাবু সোনা জাপানি নাগরিক ও খাদেম হত্যা মামলার বিশেষ পিপি, যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী নেতা এটিএম আজাহারুল ইসলামের সাক্ষী ছিলেন। এছাড়া তিনি জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক, আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্র্যাস্টেও ট্র্যাস্টি, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। এদিকে অ্যাডভোকেট রথীশের হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিকের প্রেম কাহিনী মানুষের মুখে মুখে। রথীশ ও স্নিগ্ধার বিয়ে প্রায় ২ যুগ পার হলেও স্নিগ্ধার স্বামী অ্যাডভোকেট রথীশ এখনও বেশ সুদর্শন। পাশাপাশি কামরুল ইসলাম বিয়ের প্রায় দেড় যুগ হলেও তার ঘরে রয়েছে সুন্দরী স্ত্রী রোজ।
জাতিসংঘ মহাসচিবের ফোন প্রধানমন্ত্রীকে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেস। শুক্রবার রাতে তিনি এই ফোন করেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। তিনি বলেন,টেলিফোনে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এ সময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের সহযোগিতা চেয়েছেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে জাতিসংঘ মহাসচিবকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত নয়টা ২৫ মিনিটের দিকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেস বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেন। তারা প্রায় ১২ মিনটি কথা বলেন। উল্লেখ্য, গতবছরের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। জাতিসংঘসহ পশ্চিমা বিশ্ব মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে জাতিগত নিধন এবং সেখানে গণহত্যা চালানো হয়েছে বলে দাবি করে। যদিও মিয়ানমার শুরু থেকেই এ দাবি নাকচ করে বলছে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আইনগত অভিযান চালিয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে।
ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা থেকে সরিয়ে নিতেই জঙ্গিবাদ : প্রধানমন্ত্রী
ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা থেকে সরিয়ে নিতে এবং ধর্মের সুনাম ক্ষুন্ন করতেই জঙ্গিবাদসহ কিছু মহলের উত্থান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কোম্পানীগঞ্জ-মুরাদনগর-হোমনা মহাসড়ক ও গৌরীপুর-হোমনা সেতু, কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা রেলওয়ে ওভারপাস এবং কুমিল্লার পদুয়া বাজার রেলওয়ে ওভারপাসের উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গলা পুরোপুরি ঠিক না হওয়ায় এবং চিকিৎসকের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলে মিলে দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে। আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। মাথা নত নয়, আমরা মাথা উঁচু করে চলবো বিশ্বদরবারে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। এ অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মেখ মুজিবুর রহমানসহ চার নেতা এবং ৩০ লাখ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আমি চারটি প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করছি। এ উন্নয়নের ফলে সোনার বাংলা বিনির্মাণের কাজ আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা প্রান্তে বক্তব্য রাখেন- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মন্ত্রণালয়ে নজরুল ইসলাম। কুমিল্লা প্রান্তে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় এমপি আ. ক. ম বাহাউদ্দিন বাহার ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবিএম তাহের বক্তব্য রাখেন। কুমিল্লা প্রান্তে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর।
গণবিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী বাংলা ভাষা শিখতে
বাংলা ভাষা শিখতে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা-যোগাযোগ ও সংস্কৃতি বিভাগে ২০১৮ সেশনের সার্টিফিকেট কোর্সে ভর্তি হয়েছেন তিন জাপানি নাগরিক। বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. লায়লা পারভীন বানুর কার্যালয়ে এসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা। এরা হলেন হিতোমি হাসিমোতো, হারু কাৎমাতা এবং কেকো কাৎমাতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেন এবং ভাষা-যোগাযোগ ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ আবু রায়হান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা-যোগাযোগ ও সংস্কৃতি বিভাগে আরও তিন জাপানিজ শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন করে একই বিভাগে বর্তমানে ডিপ্লোমা কোর্সে অধ্যয়ন করছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে এ পর্যন্ত আট জন বিদেশি ছাত্র বাংলা ভাষা কোর্স সম্পন্ন করেছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
আমদানি নিষিদ্ধ সিগারেট জব্দ ৫ কোটি টাকার:শাহজালাল বিমানবন্দরে
বুধবার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাল্লাশি চালিয়ে আমদানি নিষিদ্ধ সাড়ে ৮ আট হাজার ৪শ’ ৫০ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। যার বাজার মূল্য ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর সূত্র জানায়, বুধবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে দুবাই থেকে আসা ফ্লাইট ইকে-৫৮৪ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দারা বিমানবন্দরের এপ্রোন এলাকায় বিশেষ নজরদারি বজায় রাখে। নজরদারির অংশ হিসেবে শুল্ক গোয়েন্দারা কার্গোহোল থেকে ফ্রেশ ফ্রুট ঘোষণায় আনা তিনটি প্লেট শনাক্ত ও আটক করা হয়। পরে ওই কার্টনগুলো কাস্টমস রুমে এনে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয়। পরে সাড়ে ৮হাজার ৪শ ৫০ কার্টনে মোট ১৬ লাখ ৯০ হাজার শলাকা আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। জব্দ হওয়া সিগারেট ৩০৩ ও ৫৫৫ ব্ল্যাক ব্র্যান্ডের। জব্দকৃত পণ্যের বিষয়ে শুল্ক আইনে এবং অন্যান্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানায় ওই সূত্র।
জঙ্গিবাদ দমনে বিশ্বে বাংলাদেশ পুলিশ রোল মডেল: পুলিশ মহাপরিদর্শক
হলি আর্টিজানে হামলার খুব অল্প সময়ে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি, যেভাবে ১৯৭১ সালে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম। এরপর থেকে দেশব্যাপী জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ যে ভূমিকা পালন করেছে তা বিশ্বের কাছে বিস্ময়। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বিশ্বের কাছে রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আয়োজিত সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক বিরোধী সমাবেশে এসব কথা বলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। বুধবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এই সমাবেশের আয়োজন করে রাজশাহী মেট্রোপলিট পুলিশ। সমাবেশে পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে প্রধান বাধা মাদক ও জঙ্গিবাদ। এসমস্যা বর্তমান আমাদের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি শুধু কোন পুলিশি সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক সমস্যা। এই সমস্যাকে রুখে দিতে হলে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা বিশ্বাস করি, আপনাদের সহযোগিতা পেলে জঙ্গিবাদ ও মাদককে আমরা বাংলাদেশ থেকে অচিরেই নির্মূল করতে পারবো। তিনি আরও বলেন, তরুনরা হতাশার কারণে সন্ত্রাসবাদের দিকে ঝুঁকছে, মাদক নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসব থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। এজন্য শিক্ষকদের ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে একজন করে কাউনসেলর রাখা প্রয়োজন। যেন কোন শিক্ষার্থী হতাশাগ্রস্ত হলে যথাযথ পরামর্শ পায় এবং বিপথে না যায়। এ সমাবেশে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, আমরা সন্ত্রাসবাদ দমনে কাজ করছি, মাদক ঠেকিয়ে রাখছি। কিন্তু তাতে সমাজ থেকে এই সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদক ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সকলের দায়িত্ব রয়েছে। আপনাদের পরিচিতদের মধ্যে যারা ভুল পথে গিয়েছে, তাদের ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। আপনারা আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে এই সমস্যা সমাধানে আমাদের বেগ পেতে হবে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে মাদক উৎপাদন হয়না, সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢোকে। সীমান্তের কোন এক জায়গা দিয়ে যদি এক লাখ ইয়াবা দেশে ঢোকে তখন তা আটকানো সহজ। কিন্তু একবার এই ইয়াবা দেশের ভেতর ঢুকে পড়লে তা আটকানো খুব কঠিন। তবুও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি মাদক নির্মূল করতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. খুরশীদ হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু, রাবি স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি সুমাইয়া রহমান কান্তি ও আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু জাকি আল মুনজির। সঞ্চালনা করেন আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাদাকাত মাহমুদ ও মেহজাবিন কথা। এসময় সমাবেশে সমবেত কণ্ঠে কয়েক হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদককে না বলেন। সমাবেশ আয়োজনে সহযোগিতা করে রাজশাহী স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং।
এসএমই মেলায় নারী উদ্যোক্তাদের সাফল্য চান বললেন প্রধানমন্ত্রী
এসএমই মেলার সাফল্য কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন,এ মেলায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অধিকাংশই নারীদের। এটা খুব ভালো লক্ষণ। আমাদের নারীরা সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে এটাও তার প্রমাাণ। নারী উদ্যোক্তারা সফল হোক আমি এটাই চাই। বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৬ষ্ঠ এসএমই মেলা-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তবে গলার অবস্থা খারাপ থাকায় তিনি সরাসরি বক্তব্য দিতে পারেননি। তার লিখিত বক্তব্য উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী মাইকে দাঁড়িয়ে শুধু বলেন,আমার গলার অবস্থা ভাল নয়। এ জন্য বক্তব্য দিতে পারছি না, দুঃখিত। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিল্প সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কে এম হাবিবুল্লাহ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী মেলায় অংশ নেয়া বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এবারের মেলায় মোট ২৯৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। যার অধিকাশই নারীদের প্রতিষ্ঠান। এসএমই শিল্পে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৫ জনকে ট্রফি, সার্টিফিকেট ও চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,বাংলাদেশে শিল্পের প্রসারে ১০০টি ইকোনোমিক জোন করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের প্রসারে বিভিন্ন ট্রেডে ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা আছে। ভালো মানের পণ্যে উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য আমরা পুরস্কার দিচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন,আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছি। ২০২১ সালে আমরা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
বাসায় বাসায় গ্যাস বোমা,সাবধান!
আপনি হয়তো জানেনই না যে, আপনার প্রিয় বাসাটি একটি বড় গ্যাস চেম্বার বা বোমায় পরিণত হয়ে আছে। এই বোমাটি একটি ইলেক্ট্রিক স্পার্কিং কিংবা যুতসই থার্মাল সোর্স (আগুন) পেলেই বিস্ফোরিত হয়ে কেড়ে নিতে পারে আপনার পুরো পরিবার। অবাক হচ্ছেন? না, অবাক হবেন না। কারণ, এদেশের বর্তমান ত্রুটিপূর্ণ নগর ব্যবস্থার অসংখ্য বাসাবাড়ির ক্ষেত্রেই এই কথাটি প্রযোজ্য। ইদানীং কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা থেকে বিষয়টি হয়তো অনেকের নজরে এসেছে। কিন্তু, আমরা (বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সিটিটিসি, ডিএমপি) দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই ঢাকা শহরেই প্রায় অর্ধশত বাসা, দোকান এবং অফিস কক্ষে এই ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে দেখেছি। এসব ঘটনায় মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে নিহত এবং আহত মানুষের সংখ্যা এই শহরের সন্ত্রাসী বোমা হামলায় হতাহতদের মোট সংখ্যার থেকেও অনেক বেশি। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এভাবেই সতর্ক করেছেন গ্যাস বোমার ব্যাপারে। সম্প্রতি গ্যাস বোমায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে গত ২৪শে মার্চ রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায়। গ্যাস থেকে ঘটা ওই বিস্ফোরণে মারাত্মক দগ্ধ হন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাওহীদুল ইসলাম, শাহীন মিয়া, হাফিজুর রহমান ও দীপ্ত সরকার। তাওহীদুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকিরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এই চার মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যু সারা দেশের মানুষকেই নাড়া দিয়েছে। শোকের সাগরে ভাসিয়েছে তাদের সহপাঠীদের। গত ২৭শে মার্চ পল্লবীর মুসলিমবাগ এলাকায় একটি বাড়িতে পানির ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন দগ্ধ হয়। ওই বাড়ির নিচতলায় থাকা পানির ট্যাঙ্কে পানি আছে কিনা, তা দেখার জন্য দেশলাই জ্বালাতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ধরে যায়। এতে দগ্ধ হন পাঁচ জন। তাদের মধ্যে হাসিন আরা বেগম, হাসান এবং ৩ বছর বয়সী শিশু রুহী মারা যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল জানান, দগ্ধদের মধ্যে হাসিন আরা খানমের ৯৫ শতাংশ, রুহির ৯০ শতাংশ ও হাসানের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। জানা যায়, ঘটনার দিন ১১টার দিকে ওই বাড়ির রিজার্ভ ট্যাংক পরিষ্কার করার জন্য হাসান নামে একজন শ্রমিক ট্যাঙ্কের ঢাকনা খুলে টর্চলাইট দিয়ে আর্বজনা দেখছিলেন। এসময় তিনি ট্যাঙ্কের মধ্যে গ্যাসের গন্ধ পান। সেটা দূর করতে তিনি সেখানে মোম জ্বালান। তখনই বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়। এতে সেখানে থাকা পাঁচজনই দগ্ধ হন। পুলিশ কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেনের স্ট্যাটাসে দেয়া তথ্যে আরো বেশকিছু দুর্ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়। ২০০৯ সালে গুলশানের একটি বাসায় এমন একটি বিস্ফোরণের ফলে বিল্ডিং-এর দেয়াল প্রায় ১০/১২ ফুট দূরে গিয়ে একটি গাড়ির ওপর পড়ে। টয়লেটে গিয়ে সিগারেট ধরাতেই এই ঘটনাটি ঘটে। এতে ওই ব্যক্তি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ার পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেয়ার পথে মারা যান। ২০১১ সালের দিকে কোতোয়ালি এলাকায় একটি সেলুনে বিস্ফোরণ ঘটে। একই বছর এলিফ্যান্ট রোডের একটি শোরুমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ২০১২ সালে মিরপুরের একটি বাসায় বিস্ফোরণ হয়। ২০১৩ সালে ভূতেরগলির একটি বাসায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ২০১৫ সালে হাজারীবাগে একটি টয়লেটে বসে সিগারেট ধরাতে গেলে বিস্ফোরণ ঘটে। অনুসন্ধান করে দেখা যায় যে, বাসার টয়লেটের লাইনের একটি ছিদ্র গ্যাস লাইনের একটি ছিদ্রের সঙ্গে কাকতালীয়ভাবে একটি জায়গায় মিশে গেছে। সেই ছিদ্র দিয়ে গ্যাস প্রবেশ করায় দুতলার ঐ টয়লেটটি একটি গ্যাস চেম্বার-এ পরিণত হয়। এতেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ২০১৮ সালে ভালুকা এবং পল্লবী ছাড়াও কুমিল্লায় একটি ঘটনা ঘটেছে। এভাবে গত ১০ বছরে প্রায় একশটি ঘটনা বা বিস্ফোরণ ঘটেছে। ঢামেকের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, প্রতিদিন ইনডোরে গড়ে ৩০-৪০ জন দগ্ধ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এছাড়া আউটডোরে প্রায় ১০০-১৫০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আগুনে দগ্ধ হয় রান্না করতে গিয়ে। তিনি বলেন, ৮০%, ৯০% বার্ন আমরা কোনোদিন বাঁচাতে পারবো না। আমরা প্রতিদিনই আপনাদের বলবো যে রোগীর শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। এটা কোনো সমাধান নয়। মানুষ যাতে না পোড়ে সেদিকে আমাদের নজর দিতে হবে। এটা হচ্ছে আমাদের সকলের এখন মেইন কাজ। নির্দিষ্ট একটি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে। গতকাল রাতে ও আজ সকালে তিনজন এসেছে। এভাবে আসতেই থাকবে। চারটা ব্রিলিয়ান্ট ছেলে যারা মারা গেল তাদেরকে বাবা-মা কতো কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও তাদের বাঁচানো গেল না। কারণ একজন মানুষের শরীরের ৯০% যখন পুড়ে যায় সেই রোগী আর বাঁচে না। এ বিষয়ে সোচ্চার না হলে শুধু আমরা কি চিকিৎসা করলাম আর আপনারা কি প্রতিবেদন লিখলেন এটা কোনো সমাধান নয়। সামন্ত লাল বলেন, আমাদের দেশের অধিকাংশ দুর্ঘটনার বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সত্ত্বেও আমরা দুর্ঘটনার শিকার হই। এর প্রধান কারণ হচ্ছে সচেতনতার অভাব। এক্ষেত্রে ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগ, তিতাস প্রত্যেকেরই উচিত গণ ও জনসচেতনতা তৈরি করা। পোশাক কারখানার দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাবো মালিকরা কোনোদিন ব্রয়লার ঠিকমতো চেক করে দেখে না। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৬ লাখ মানুষ আগুনে দগ্ধ। যদি একটু সচেতনতা তৈরি করা যায় তাহলে এই ৬ লাখ মানুষের বেশিরভাগকেই সুরক্ষা দেয়া সম্ভব। এদিকে শ্রমিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর তথ্যমতে, ২০১৭ সালের প্রথম ১০ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেপটিক ট্যাঙ্কে নেমে ৩১ জন শ্রমিক মারা গেছেন, যা বিগত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সাবধানতার পরামর্শ পুলিশ কর্মকর্তার: নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট স্পেশাল অ্যাকশন ডিভিশন, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম, ডিএমপি মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরো লিখেছেন, গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের ত্রুটিপূর্ণ চুলা বা সরবরাহ লাইনের ত্রুটির কারণে গ্যাস লিকেজ হয়ে ঘরের আনাচে কানাচে তা জমে থাকে। জমে থাকা এই গ্যাস কোনো আগুন কিংবা ইলেক্ট্রিক শর্টসার্কিটের সংস্পর্শে আসা মাত্র প্রজ্বলিত (ওমহরঃবফ) হয়ে প্রচুর তাপ, চাপ ও শব্দের উৎপত্তি করে বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। এভাবেই কিছু বুঝে ওঠার আগে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে অগণিত শহুরে মানুষের প্রাণ। এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনাই সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ পেলেও ত্রুটিবিচ্যুতি নির্ণয় করে পুরোপুরি সচেতন করা সম্ভব হয়নি। সেই সঙ্গে কোনো সমন্বিত উদ্যোগও চোখে পড়েনি। গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা ত্রুটিবিচ্যুতিগুলো তুলে ধরায় কিছু কিছু মানুষ জানলেও তা মোট নগরবাসীর তুলনায় অপ্রতুল। ফলে অনেকের অগোচরেই একেকটি বাসা একটি বৃহৎ গ্যাস বোমায় পরিণত হয়ে যাচ্ছে। এতে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে পরে যাচ্ছে আমাদের আধুনিক, তবে ত্রুটিপূর্ণ নগর সভ্যতার অসংখ্য বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। শুধুমাত্র একটু সচেতন হলেই সবাই সপরিবারে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ। আমি কাউকে আতকিঙ্কত করছি না, আবার একেবারে নিরাপদ আছেন তাও বলছি না। বরং সচেতন হতে পরামর্শ দিচ্ছি। আর করণীয় সম্পর্কে একটু ধারণা দিচ্ছি: ১. ত্রুটিমুক্ত গ্যাসের চুলা এবং মানসম্মত গ্যাস পাইপ ব্যবহার করে তা নিয়মিতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। ২. বাসার আর্কিটেকচারাল ডিজাইন প্রস্তুত করার সময় নিশ্চিত রাখতে হবে যেন পুরো বাসার আনাচে কানাচে বাতাস অবিরাম যাতায়াত (Cinstant Flow-CF) করতে পারে। ৩. বাসা দীর্ঘ সময় ধরে বদ্ধ থাকলে দরজা- জানালা খুলে এয়ার ফ্লো নিশ্চিত করে বিদ্যুতের সুইচ চাপতে হবে, কিংবা চুলায় আগুন জ্বালাতে হবে। ৪. রান্নাঘরে সর্বোচ্চ পরিমাণ ভেন্টিলেশন সিস্টেম নিশ্চিত করতে হবে। ৫. বাসার ভেতর কোনো গ্যাস সিলিন্ডার রাখা যাবে না। পাইপের মাধ্যমে দূর থেকে চুলায় গ্যাস সংযোগ নিতে হবে। ৬. বাসার ইলেক্ট্রিক ওয়ারিং-এ ভালো মানের তার ব্যবহার করতে হবে। তারের মধ্যে কোনো প্রকার জোড়াতালি থাকা যাবে না। ত্রুটিমুক্ত সুইচ ব্যবহার করতে হবে। ৭. বাসায় ত্রুটিপূর্ণ কোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস না রাখাই ভালো। কেননা, ইলেক্ট্রিক এবং থার্মাল- এই দুটো ইগনিশন সোর্সই যেকোনো ত্রুটিপূর্ণ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস থেকে সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি খোদ ডিভাইসটিও বিস্ফোরিত হতে পারে। ২০১০ সালে রামপুরায় একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেন বিস্ফোরিত হয়ে ব্যবহারকারী দগ্ধ হয়ে মারা যায়। ৮. বাসার ভেতর আবদ্ধ জায়গায় মোমবাতি জ্বালানো এবং ধূমপান করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম। ৯. বাসার ভেতর জমে থাকা গ্যাসের অস্তিত্ব নিশ্চিত করার জন্য স্বল্প মূল্যের এক ধরনের গ্যাস ডিটেকশন ডিভাইস পাওয়া যায়। সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনারা সবাই সপরিবারে সুস্থ থাকুন এবং অন্যদের সুস্থতাও নিশ্চিত করুন।
১২০ সংস্থা প্রাথমিকভাবে মনোনীত নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে
নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ১২০টি সংস্থা প্রাথমিকভাবে মনোনীত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন পর্যবেক্ষক হতে এসব সংস্থার বিরুদ্ধে কোনো দাবি, আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা আগামী ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে ইসি সচিব বরাবর লিখিত আবেদন জানাতে বলেছে কমিশন। সোমবার ইসির যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান জানান, কারো বিরুদ্ধে কোনো দাবি, আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তার স্বপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণাদিসহ অভিযোগকারী নাম, ঠিকানা ফোন নাম্বার উল্লেখপূর্বক ৬ সেট আপত্তি দাখিল করতে হবে। শুনানি শেষে তা গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। গণবিজ্ঞপ্তিটি কমিশনের ওয়েবসাইটে www.ecs.gov.bd পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি। ইসি সূত্রে তথ্য জানা যায়, যাচাই-বাছাই, আপত্তি শেষে যোগ্যতা সম্পন্ন সংস্থাগুলোকে পাঁচ বছরের জন্য নিবন্ধন দিবে কমিশন। এর আগে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ইসি। আগ্রহী সংস্থাগুলোর আবেদন করার সময় ছিল গত বছরের ৭ নভেম্বর। নির্দিষ্ট সময়ে প্রায় ২ শতাধিক সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষকের জন্য নিবন্ধনের আবেদন করে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা-২০১৭ অনুসারে পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধনে আগ্রহী বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করে কমিশন। ইসি কর্মকর্তারা জানান, এবার নাম সর্বস্ব কোনো পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এজন্য নীতিমালায় কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। এ নীতিমালা অনুসারে গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। পাশাপাশি যাদের নিবন্ধিত গঠনতন্ত্রের মধ্যে এসব বিষয়সহ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে নাগরিকদের মধ্যে তথ্য প্রচার ও উদ্বুদ্ধ করণের অঙ্গীকার রয়েছে। শুধু সেসব বেসরকারি সংস্থাই নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা হওয়ায় অগ্রধিকার পাবে। এছাড়া নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন বা আছেন কিংবা নিবন্ধন পাওয়ার জন্য আবেদন করা সময়ের মধ্যে কোনো নির্বাচনের প্রার্থী হতে আগ্রহী ব্যক্তির সংস্থাও এবারে নিবন্ধন দেওয়া হবে না বলে জানান তারা। ইসি সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আরপিও-১৯৭২ সংশোধন করে প্রথমবারের মতো নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নবম সংসদ নির্বাচনের সময় প্রথমবারের মতো পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। একইসঙ্গে পর্যবেক্ষক নীতিমালাও তৈরি করা হয়। এরপর ২০১০ সালে নীতিমালা সংশোধন করে তৎকালীন এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন পর্যবেক্ষকদের নিবন্ধনের মেয়াদ বাড়িয়ে পাঁচ বছর করে। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশন ১৩৮টি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে। পরে ২০১৩ সালে নিবন্ধন নীতিমালা সংশোধন করে ১২০টি সংস্থাকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে কমিশন। যাদের পাঁচ বছর মেয়াদকাল ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শেষ হয়। পরে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন বিগত কমিশন নতুন করে নিবন্ধনের সুযোগ সৃষ্টি না করে ওই সংস্থাগুলোর নিবন্ধনের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে দেয়। ফলে সংস্থাগুলো মেয়াদকাল ২০১৭ সালে জানুয়ারিতে শেষ হয়ে যায়। পরে নতুন করে নিবন্ধনের জন্য আবেদন না চেয়ে বর্তমান কে এম নুরুল হুদা কমিশন গত ২৮ মার্চ নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর নিবন্ধনের মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়িয়ে দেয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর