শাহজালালে ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের সিগারেট আটক
হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ হাজার ১৭৮ কার্টন আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি সিগারেট আটক করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের এয়ারফ্রেইট ইউনিট। ঢাকা কাস্টমস হাউসের উপ-কমিশনার সুমন চাকমা আজ বাসসকে জানান আটক করা ব্ল্যাক ব্র্যান্ডের সিগারেটগুলোর বাজার মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। তিনি জানান, শনিবার দুপুরে দুবাই থেকে উইন্টার ফ্যাশন নামে ব্যক্তিগত পণ্যদ্রব্য নামে চালানটি ঘোষণা করা হয়। ইনভেনট্রি করার সময় চালান খুলে তার ভেতরে লুকায়িত অবস্থায় ১ হাজার ১৭৮ কার্টন বিদেশি সিগারেটের সন্ধ্যান পায় কাস্টমস কর্মকর্তরা। পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদেশী সিগারেটের চালানটি আটক করা হয়। এঘটনায় এখনও কাউকে আটক করা যায়নি।বাসস
দুই দিনের সফরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কক্সবাজারে
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দুই দিনের সফরে আজ কক্সবাজার যাচ্ছেন। সেখানে তিনি উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন বাসসকে বলেন, আবদুল হামিদ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবেন, যারা মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক চরমভাবে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি কক্সবাজার সফরের সময় রোহিঙ্গা জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন এবং তাদের পালিয়ে আসার কাহিনি শুনবেন। রাষ্ট্রপতি এমনই একসময় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাচ্ছেন, যখন বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, গত ২৫ আগস্টের পর থেকে ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এসব বাস্তুচ্যুত মানুষ আঘাতপ্রাপ্ত, ক্ষুধার্ত এবং কেউ কেউ বন্দুকের গুলি, চাকু, আগুন ও স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত হয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। সূত্র জানায়, এর আগে বিভিন্ন সময় ৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেন, রাষ্ট্রপতি আগামীকাল সোমবার কক্সবাজারের ইনানী বিচ-সংলগ্ন হোটেল রয়েল টিউলিপে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নৌবাহিনী সিম্পোজিয়াম (আইওএনএস)-এর আন্তর্জাতিক সমুদ্র মহড়ার (আইএমএমএসএআরএফইএক্স-২০১৭) উদ্বোধন করবেন। তিনি জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, ৯টি পর্যবেক্ষক দেশসহ প্রায় ৩২টি দেশের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, নৌপ্রধান, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মেরিটাইম বিশেষজ্ঞগণ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। রাষ্ট্রপতি আগামী মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় ফিরবেন।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের উদ্যোগ সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে:প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্তর্জাতিক মহলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যে জনমত সৃষ্টি হয়েছে তা আওয়ামী লীগ সরকারের জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী আজ সংসদে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে আরো বলেন, মিয়ানমারের নাগরিকদের স্বদেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিকভাবে সকলের প্রত্যাশা। তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা বা আরাকানের মুসলমানদের ওপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞসহ পৃথিবীর সকল জঘন্যতম হত্যাকান্ডকে হার মানিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারে পরিচালিত হত্যাযজ্ঞের প্রেক্ষিতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত লাখো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় প্রদানের ফলে বাংলাদেশের উদ্যোগ সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশ সকল সময় যে কোনো সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী। ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেছিলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ এবং ‘সকল বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান হইবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়া ছিল সরকারের একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এ কারণে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব নের্তৃবৃন্দের কণ্ঠে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে উচ্চাতি হচ্ছে। সরকার এদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতসহ এ সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। শেখ হাসিনা বলেন, চার দশক ধরে মিয়ানমারের সাথে অনিষ্পন্ন থাকা সমুদ্রসীমা নির্ধারণ সরকার আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ২০১২ সালে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করেছে। মিয়ানমারের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখে বিদ্যমান সমস্যার ক্ষেত্রেও সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, চলতি বছর ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও মানবতা বিরোধী অপরাধ শুরু করার পর থেকেই বাংলাদেশ সোচ্চার হয়েছে। অতিদ্রুত বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অত্যাচার-নির্যাতনের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে সহায়তা করা হয়েছে। অসহনীয় নির্যাতন এবং মানবতা বিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠন ও মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য কূটনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজ দেশে নাগরিক হিসেবে বসবাসের অধিকার এবং নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের জোর প্রচেষ্টা চালানোর ফলে রোহিঙ্গাদের অধিকারের পক্ষে আজ বিশ্ব জনমত গঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সকল রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং এ সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক পর্বের বক্তৃতায় আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সুনির্দিষ্ট পাঁচ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেছি। পাঁচ দফার মধ্যে অন্যতম ছিল জোরপূর্বক বিতাড়িত সকল রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত প্রত্যাবর্তন। আমার এই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্ক পর্ব ছাড়াও অন্যান্য সকল বহুপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আমি রোহিঙ্গা সমস্যার ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করি। শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দূর করতে মুসলিম বিশ্বের আরও জোরালো ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে আমি ওআইসি ‘কনটাক্ট গ্রুপ’এর বৈঠকে ও সকল মুসলিম নের্তৃবৃন্দকে আহ্বান জানিয়েছি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের মাধ্যমে তারা এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করার উদ্দেশ্যে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অফিসের মন্ত্রী সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেন। মিয়ানমারের মন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যকার বৈঠকে প্রত্যাবাসন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সূত্রপাত হয়। প্রত্যাবাসনের জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ একটি খসড়া হস্তান্তর করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার সফর করে এসেছেন। সেখানে তিনি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি এবং মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে পৃথকভাবে বৈঠকে মিলিত হন। দু’পক্ষেই প্রত্যাবাসন চুক্তি দ্রুত সম্পাদন এবং চলতি বছর নভেম্বরের মধ্যে ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনে সম্মত হয়েছে। এ বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের দপ্তরের ৩টি প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গাদের পরিদর্শন করে এ যাবত দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, এগুলো হলো ২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ‘ফ্লাশ রিপোর্ট’ এবং ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবরে প্রকাশিত ‘অফিস অব দ্যা হাইকমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস’ (ওএইচসিএইচআর)-এর র‌্যাপিড রেসপনস মিশনস রিপোর্ট। মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের দপ্তরের রিপোর্টে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতনের তথ্য উঠে এসেছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল গঠিত অনুসন্ধানী দল ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন’ ইতোমধ্যে কক্সবাজার সফর করে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছে। তাঁরা মিয়ানমারে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করে। এছাড়া কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়টি আজ সকলের দাবি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকেও সকল রাষ্ট্রও কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পক্ষে মত প্রদান করছে এবং সুপারিশ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণে মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের বাসস্থানের জন্য জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠনসমূহে ‘ইউএনএইচসিআরআই এবং আইওএম-এর সহায়তায় প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার পরিবারের অস্থায়ী শেল্টার নির্মাণের কাজ চলছে। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ্আশ্রয় কেন্দ্রের এলাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া, ছয় লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নির্মাণের লক্ষ্যে উখিয়াতে সম্প্রতি ৩ হাজার ৫শ’ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। আমরা ‘ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি)’ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় খাদ্যের ব্যবস্থা করেছি। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষও সচেষ্ট রয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালের পর ২০১৭ সালে ২ সেপ্টেম্বরে এবার প্রথম জাতিসংঘ মহাসচিব নিরাপত্তা পরিষদের নিকট পত্র প্রেরণ করেন। গত এক দশকে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা প্রশ্নে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরে একটি বিবৃতি প্রদান করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিলের পক্ষ থেকে মিয়ানমার বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া গত ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবরে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত ইন্টারপার্লামেন্টারী ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর ১৩৭তম সভায় জরুরি বিষয় হিসেবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। শেখ হাসিনা বলেন, সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৬৩তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারী কনফারেন্স (সিপিসি) সর্বসম্মতভাবে গৃহীত এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানবিক সংকট সমাধানে আন্তজৃাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।বাসস
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন সারা বিশ্বের বিস্ময় :ওবায়দুল কাদের
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতার নেত্রী উল্লেখ করে তাকে এখন সারা বিশ্বের বিস্ময় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার শক্তিপুর নূরজাহান ভবন চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মযহারুল ইসলামের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতার নেত্রী উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‌‘মহান আল্লাহপাক বঙ্গবন্ধুকে সৃষ্টি করেছেন বাংলার স্বাধীনতার জন্য আর শেখ হাসিনাকে সৃষ্টি করেছেন মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য। শেখ হাসিনা এখন সারা বিশ্বের বিস্ময়।’ বিএনপির আন্দোলন আর কোনোদিন সফল হবে না বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আলোর পথে রয়েছে। আর বিএনপি মানে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি ও লুটপাট, বিএনপি মানে অগ্নিসন্ত্রাস। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ আবারও অন্ধকারে পতিত হবে। বাংলার মানুষ আর বিএনপির অন্ধকারে ফিরে যাবে না।’ নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘দলে অনুপ্রবেশকারী আগাছাদের ঠাঁই দেবেন না। দল ক্ষমতায় না থাকলে পাঁচ হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ অধ্যাপক ড. মযহারুল ইসলাম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আবদুল খালেক। স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, মেরিনা ইসলাম কবিতা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু, সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম, সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলাম, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুইট, জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিনসহ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার সারাদেশে একযোগে আনন্দ শোভাযাত্রা
নভেম্বর শনিবার আনন্দ শোভাযাত্রায় সরকারি চাকরিজীবীদের অংশ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ ভাষণ ইউনেস্কোর ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’ এ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ‘বিশ্বপ্র্রামাণ্য ঐতিহ্যের’ স্বীকৃতি লাভ করায় আগামী ২৫ নভেম্বর ঢাকা মহানগরীসহ সব জেলা ও উপজেলায় আনন্দ শোভাযাত্রা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচি একযোগে সারাদেশে উদযাপনের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে নির্দেশনায় জানানো হয়। কর্মসূচিটি যথাযথভাবে উদযাপনের জন্য মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের ঢাকায় অবস্থানরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠেয় কর্মসূচিতে এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মো. সাজজাদুল হাসান স্বাক্ষরিত নির্দেশনাটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব (সিনিয়র সচিব/ভারপাপ্ত সচিব), সকল বিভাগীয় কমিশনার এবং মাঠ পর্যায়ের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে (জেলা ও মাঠ প্রশাসন) দেয়া হয়েছে।
তনুর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আবারও তনুর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। গোয়েন্দাদের তলবে তনুর বাবা-মাসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য আজ বুধবার সকালে সিআইডি কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এ নিয়ে কয়েক দফায় তনুর পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করল সিআইডি। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, এই হত্যার রহস্যের জট খুলতে কাজ করছে সিআইডি। ‘আমি আশা করি, তনু হত্যার মূল ঘটনা তারা উদঘাটন করবে। আজকে যে প্রশ্নটা আসছে, তনুর আত্মীয়স্বজনকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। এটা একটা তদন্তের অংশ। তদন্ত চলছে। কাজেই আমি মনে করি, তদন্তে সত্যিকারের ঘটনাটা উদঘাটিত হবে’, যোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গত সোমবার কুমিল্লা সিআইডি কার্যালয় থেকে তনুর পরিবারকে চিঠি দিয়ে- তনুর মা-বাবা, দুই ভাই ও চাচাতো বোনকে নিয়ে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে যেতে বলা হয়। গত বছরের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
উন্নয়ন ও দুর্নীতি যমজ ভাই : ইকবাল মাহমুদ
বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনো বড় দুর্নীতিবাজদের ধরতে পারেনি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। দুদকের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এমন কোন মামলা করি না যেটা আমরা প্রমাণ করতে পারবো না। আমরা বড় দুর্নীতিবাজদের এখনও ধরতে পারিনি। তবে আমরা তাদের দিকে (বড় দুর্নীতিবাজদের) হাত বাড়ালে সে হাত আর তুলে আনবো না।’ ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘উন্নয়ন ও দুর্নীতি যমজ ভাই।’ উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতি যেন না বাড়ে সে ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা চান তিনি। বড় দুর্নীতিবাজদের প্রতি ইঙ্গিত করে ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘‘ধরতে হবে মাথা’ তাহলেই দুর্নীতি কমে আসবে।’ তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সবার সজাগ থাকতে হবে। দুদক একা কাজ করলে হবে না। সমাজের সব সেক্টরকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জনগণকে দুর্নীতির কুফল বোঝাতে হবে।
ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না, ইতিহাস নিজেই তার অবস্থান করে নেয় :প্রধানমন্ত্রী
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সশস্ত্র বাহিনী, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীতে যারা কর্মরত ছিলেন তাদের এবং তাদের পরিবারকে ভাতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী জানুয়ারি মাস থেকে এই ভাতা চালু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা/তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিকালীন সেনা/নৌ/বিমান বাহিনী পদক এবং অসামান্য সেবা পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের নিকটাত্মীয়সহ ১০১ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীর হাতে সম্মানি চেক, শাল, মোবাইল ট্যাব উপহার হিসেবে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলেন, খোঁজখবর নেন। ২০১৬-২০১৭ সালের শান্তি, ২০১৬-২০১৭ সালে সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিকালীন সেনা/নৌ/বিমান বাহিনী পদক ও অসামান্য সেবা পদকপ্রাপ্ত মোট ২৬ জন সদস্যকে পদক পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীতে যারা কর্মরত ছিলেন, চাকরি করার কারণে তাদের তখন ভাতা দেয়া হয়নি। তাদের বেশি ভাগই, প্রায় সবাই এখন অবসরে। তাদের পরিবার আছে, অনেকে কষ্টে আছেন। বাহিনীতে কর্মরত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যারা বিভিন্ন বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ গ্রহণ করেছিলেন তাদের এবং তাদের পরিবারকে ভাতা দেব। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে তাদের ভাতা দেয়া হবে। ভাতা বৃদ্ধি, চাকরিতে কোটাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে নেয়া বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্যে দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা। যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, অবদান রেখেছেন আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে তাদের সম্মানিত করার চেষ্টা করছি। শেখ হাসিনা বলেন, যারা একটি দেশ, একটি জাতি গঠনের জন্য কাজ করেছেন তাদের অনুভূতি থাকে। আর যারা উড়ে এসে জুড়ে বসে তাদের কোনো দেশ-জাতির প্রতি কোনো দরদ থাকে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না, ইতিহাস ঠিক তার স্থান করে নেয়। এটা আরেকবার প্রমাণ হয় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর। সে সময় দেশে শুধু উন্নয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সময় পেয়েছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। তিনি আরও সময় পেলে বাংলাদেশ অনেক আগেই বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারতো। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ঘাতকরা ৭ মার্চের ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলোর চেষ্টা করেছিল। সেই ৭ মার্চের ভাষণ এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না, ইতিহাস নিজেই তার অবস্থান করে নেয়।
সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সর্বাত্মক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সর্বাত্মক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’ সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। দিবসটি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব এবং উন্নত নৈতিকতার আদর্শে স্ব স্ব দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার সার্বিক নির্দেশনায় ১৯৭৪ সালে প্রণীত হয় জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি। এই নীতির আলোকে বর্তমান সরকার ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে। এ ছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামো নির্মাণ, আর্তমানবতার সেবা, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা এবং দেশ গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছে বলে বাণীতে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালে ২১ নভেম্বর দেশপ্রেমিক জনতা, মুক্তিবাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও বিভিন্ন আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ করেন। সম্মিলিত আক্রমণের ফলে ১৬ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রা ও বিজয়ের স্মারক হিসেবে প্রতিবছর ২১ নভেম্বর ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস’ পালন করা হয়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সমগ্র বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাঁর দূরদর্শিতা, সাহস, ন্যায়ের প্রতি অবিচল আস্থা এবং ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য।’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন দেশমাতৃকার জন্য জীবন উৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের পাশাপাশি জাতির পিতা একটি আধুনিক ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। সেনাবাহিনীর জন্য তিনি মিলিটারি একাডেমি, কম্বাইন্ড আর্মড স্কুল ও প্রতিটি কোরের জন্য ট্রেনিং স্কুলসহ আরো অনেক সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং ইউনিট গঠন করেন। তিনি চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ঘাঁটি ঈশা খাঁ উদ্বোধন করেন। বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৎকালীন যুগোশ্লাভিয়া থেকে নৌবাহিনীর জন্য দুটি জাহাজ সংগ্রহ করেন। যেগুলো প্রায় ৪০ বছর পর আজও চালু আছে। একইভাবে বিমানবাহিনীর জন্য বঙ্গবন্ধু তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে সুপারসনিক মিগ-২১ জঙ্গি বিমানসহ হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান ও রাডার সংগ্রহ করেন।