ইজারা দুর্নীতির একটি মামলায় খোকাসহ চার জনের ১০ বছরের জেল
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর বনানী সুপার মার্কেটের কারপার্কিং ইজারায় দুর্নীতির একটি মামলায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকাসহ চার আসামির দশ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের অর্থদণ্ডও দেয়া হয়েছে। সাদেক হোসেন খোকাকে ২০ লাখ টাকা ও অপর তিন আসামিকে দশ লাখ করে টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর আগে অপর একটি মামলায় সাদেক হোসেন খোকার কারাদণ্ড হয়েছে। তিনি বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন। মামলার অপর তিন আসামি এ মামলায় জামিনে ছিলেন। আজ রায় ঘোষণার সময় তারা হাজির না হওয়ায় তাদের জামিন বাতিল করে সাজা পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। মামলার অপর তিন আসামি হলেন, বনানীর ঢাকা সিটি করপোরেশনের ইউনিক কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল বাতেন নকি, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান আজাদ ও গুডলার্ক কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থাপক এইচ এম তারেক। ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান খান সকাল ১১টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন। গত ১২ নভেম্বর মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য ১৯ নভেম্বর দিন ঠিক করেছিলেন। কিন্তু ওইদিন রায় প্রস্তুত করা সম্ভব না হওয়ায় তা পিছিয়ে ২৮ নভেম্বর ধার্য করা হয়। ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর মামলাটিতে বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত এ আসামির বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা চার্জগঠন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে পাঠানো হয়। ২০১২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগ থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় চার্জশিট দাখিল হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডিসিসির বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং কমপ্লেক্সর বেজমেন্টের কার পার্কিং ইজারার জন্য ২০০৩ সালের দরপত্র আহ্বান করেন। অংশগ্রহণ করা ৪টি দরপত্রের মধ্যে মিজানুর রহমান নামে জনৈক ব্যক্তি বার্ষিক এক লাখ ১০ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হন। কিন্তু পরবর্তীতে সাদেক হোসেন খোকা অপর আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ইজারার কার্যক্রম স্থগিত করেন। এর মাধ্যমে ফেব্রুয়ারি ২০০৩ সাল হতে ফেব্রুয়ারি ২০১১ সাল পর্যন্ত ৩০ লাখ ৮২ হাজার ৩৯৯ টাকা ঢাকা সিটি করপোরেশনের ক্ষতি করেছেন। ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যানের ১৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ১১ লাখ টাকা জরিমানার রায় দিয়েছে আদালত।
আ.লীগ-জাপায় টানাটানি ১৮ আসন নিয়ে
অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যেসব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তার ১৭টি চাইছে জোটের আলোচনায় থাকা শরিক জাতীয় পার্টি (জাপা)। ফাঁকা রাখা আরেকটি আসন আওয়ামী লীগ অন্য একটি দলকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও সেখানেও প্রার্থী দিতে চাইছে জাপা। আসন নিয়ে মতভেদের অবসান না হওয়ায় জোটের প্রার্থী তালিকা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। জাতীয় পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য সুনীল শুভ রায় ঢাকা টাইমসকে বলেন, মহাজোটের কাছে আমরা আমাদের মতো আসন দাবি করেছি। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। আশা করছি, প্রতীক বরাদ্দের আগেই আসন নিয়ে মতভেদের অবসান হবে। জাতীয় পার্টি প্রথমে ১০০টি আসন চেয়েছিল। পরে সেটি কমিয়ে ৭৬টি করা হয়, এরপর নামে ৫১টিতে। পরে সেখান থেকেও ছাড় দিয়ে ৪৭টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে তারা। তবে এই ৪৭টি আসনের ১৭টিতে আওয়ামী লীগও প্রার্থী দিয়েছে। আবার একটি আসন ইসলামী ঐক্যজোটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রার্থিতা নিয়ে এই মতভেদে ক্ষোভ আছে খোদ জাতীয় পার্টিতে। আর মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তোপের মুখে জবাব দিতে না পেরে দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার তালিকা ঘোষণা করতে পারেননি সংবাদ সম্মেলন করেও। পরে গণমাধ্যমকে মেইল করে দেওয়া হয় সেই তালিকা। গত রবিবার আওয়ামী লীগ যেসব আসনে মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে তার মধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এবং মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের আসনও রয়েছে। ঢাকা-১৭ আসন চাইছেন এরশাদ। ২০০৮ সালে এখানে তিনি মহাজোটের প্রার্থী হয়ে জেতেন। তবে এবার আওয়ামী লীগ এই আসনে প্রার্থী করেছে আকবর হোসেন পাঠান (নায়ক ফারুক)-কে। রওশন এরশাদ মনোনয়নপত্র তুলেছেন ময়মনসিংহ-৭ আসন থেকে। ২০১৪ সালে আসনটি আওয়ামী লীগ দেয় জাতীয় পার্টিকে। জেতেন এম এ হান্নান। আসনটি রবিবার ফাঁকা রাখলেও পরদিন রুহুল আমিন মাদানীকে দেয় আওয়ামী লীগ। একই দিন রওশনের নামে কেনা হয় মনোনয়নের চিঠি। জাপার মহাসচিব হাওলাদারের পটুয়াখালী-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে শাহজাহান মিয়াকে। ২০১৪ সালে এখানে নৌকার প্রার্থী ছিল না, যদিও আগের নির্বাচনে জেতেন শাহজাহান। জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম-৯ আসনে ছাড় দেয় আওয়ামী লীগ। এবার সেখানে দলটি প্রার্থী করেছে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে। এই আসনটির বদলে বাবলুকে কক্সবাজার-৩ আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা হয়েছে দুই দলের আলোচনায়। তবে সেখানেও বর্তমান সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন। ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেওয়া ময়মনসিংহ-৫ আসনে এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছে ২০০৮ সালে জয়ী কে এম খালেদ বাবুকে। তবে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদকে এখানে প্রার্থী করেছে। কুমিল্লা-২ আসনে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদ সদস্য আমির হোসেন ভূঁইয়াকে প্রার্থী করেছে। তিনি ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে জেতেন। তবে এবার ক্ষমতাসীন দল সেখানে মনোনয়ন দিয়েছে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সেলিনা আহম্মেদ মেরীকে। খুলনা-১ আসন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। সেখানে এবার নৌকা পেয়েছেন গত দুই নির্বাচনের বিজয়ী পঞ্চানন বিশ্বাস। তবে জাতীয় পার্টি সেখানে লাঙ্গল প্রতীক দিয়েছে সুনীল শুভ রায়কে। আওয়ামী লীগের দখলে থাকা বরিশাল-২ এবার নিজেদের করতে চাইছে জাতীয় পার্টি। বর্তমান সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস সেখানে নৌকা পেলেও লাঙ্গল নিয়ে দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছে মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা)-কে। রবিবার আওয়ামী লীগ হবিগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থী না দিয়ে ফাঁকা রাখে। ধারণা করা হচ্ছিল এটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে সোমবার সেখানে মনোনয়নের চিঠি পান গাজী মো. শাহনেওয়াজ মিল্লাত। তিনি আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা দেওয়ান ফরিদ গাজীর ছেলে। তবে জাতীয় পার্টি এখানে প্রার্থী করেছে আতিকুর রহমানকে। জাতীয় পার্টি গাইবান্ধা-৩ আসনে প্রার্থী করেছে দিলারা খন্দকারকে। যদিও সেখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন ইউনুস আলী সরকার। তিনি সেখানে বর্তমান সংসদ সদস্য। গাইবান্ধা-৫ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ফজলে রাব্বী মিয়াকেই নৌকা দেওয়া হয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি সেখানে দাঁড় করিয়েছে এইচ এম গোলাম শহীদকে। রাজশাহী-৫ আসনে আওয়ামী লীগ প্রতীক দিয়েছে মনসুর রহমানকে। সেখানে জাতীয় পার্টি দাঁড় করাতে চাইছে আবুল হোসেনকে। সাতক্ষীরা-২ আসনে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত, সেখানে ভোটে লড়বেন বর্তমান সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। তবে জাতীয় পার্টি সেখানে দাঁড় করিয়েছে আজাহার হোসেনকে। কুষ্টিয়া-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে সরোয়ার জাহান বাদশাকে। সেখানে দলটির আরেক নেতা আফাজ উদ্দিন সরকারের সমর্থকেরা মনোনয়ন পাল্টানোর দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ করছেন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি আবার সেখানে প্রার্থী করতে চাইছে শাহরিয়ার জামিলকে। নাটোর-১ আসনে নৌকা পেয়েছেন শহীদুল ইসলাম বকুল। সেখানে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টি প্রার্থী করতে চাইছে আবু তালহাকে। দিনাজপুর-৬ আসন আওয়ামী লীগ রেখেছে বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের জন্য। সেখানে জাতীয় পার্টি দেলোয়ার হোসেনকে প্রার্থী করেছে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আওয়ামী লীগ জাকির হোসেনকে প্রার্থী করে বাকি তিনটি জাতীয় পার্টির জন্য ফাঁকা রেখেছে। তবে জাকিরের বদলে সেখানে আশরাফ উদ দৌলাকে প্রার্থী করতে চায় এরশাদের দল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি আওয়ামী লীগ দিতে চাইছে ইসলামী ঐক্যজোটের আবুল হাসানাত আমিনীকে। এই আসনে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে ছাড় দেওয়া হয় জাতীয় পার্টিকে। দলটি সেখানে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নোয়াখালী-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছে এইচ এম ইব্রাহীমকে। তবে জাতীয় পার্টি তার জোটের শরিক আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুককে (ইসলামি জোট) সেখানে প্রার্থী করতে চায়। যেসব আসন নিয়ে মতভেদ নেই তবে ২৯টি আসন জাতীয় পার্টির পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। এর মধ্যে রংপুর বিভাগের আসনগুলো হলো: রংপুর-১ মসিউর রহমান রাঙ্গা, রংপুর-৩ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, গাইবান্ধা-১ শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কুড়িগ্রাম-১ এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম-২ পনির উদ্দিন আহমেদ, কুড়িগ্রাম-৩ আক্কাস আলী সরকার, নীলফামারী-৩ রানা মোহাম্মদ সোহেল/ফারুক কাদের, নীলফামারী-৪ শওকত চৌধুরী বা আদেলুর আদেল, লালমনিরহাট-৩ জি এম কাদের। রাজশাহী বিভাগে জাতীয় পার্টির নিশ্চিত আসনগুলো হলো: বগুড়া-২ শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, বগুড়া-৩ নুরুল ইসলাম তালুকদার, বগুড়া-৬ নুরুল ইসলাম ওমর, বগুড়া-৭ আলতাফ আলী। ঢাকা বিভাগে জাতীয় পার্টির নিশ্চিত আসনগুলো হলো: ঢাকা-৪ সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ঢাকা-৬ কাজী ফিরোজ রশীদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ লিয়াকত হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ সেলিম ওসমান, কিশোরগঞ্জ-৩ মুজিবুল হক চুন্নু। ময়মনসিংহ বিভাগে জাতীয় পর্টির নিশ্চিত আসনগুলো হলো: ময়মনসিংহ-৪ রওশন এরশাদ, ময়মনসিংহ-৮ ফখরুল ইমাম। বরিশাল বিভাগে জাতীয় পার্টির নিশ্চিত আসনগুলো হলো: বরিশাল-৬ নাসরিন জাহান, পিরোজপুর-৩ রুস্তম আলী ফরাজী। সিলেট বিভাগে জাতীয় পার্টির নিশ্চিত আসনগুলো হলো: সিলেট-২ ইয়াহহিয়া চৌধুরী, সিলেট-৫ সেলিম উদ্দিন ও সুনামগঞ্জ-৪ পীর ফজলুর রহমান মেজবাহ। চট্টগ্রাম বিভাগে জাতীয় পার্টির যেসব আসন নিয়ে সংশয় নেই, সেগুলো হলো: চট্টগ্রাম-৫ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কুমিল্লা-৮ নুরুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর-২ মো. নোমান, ফেনী-৩ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। আ.লীগের ফাঁকা রাখা এক আসনে প্রার্থী দেয়নি জাপা আওয়ামী লীগ যে কয়টি আসন ফাঁকা রেখেছে তার একটি জামালপুর-২। সেখানে জাতীয় পার্টি এবার প্রার্থী দিতে চায় বলে প্রচার ছিল। কিন্তু দলটির প্রার্থী তালিকায় সেখানে কাউকে রাখা হয়নি। জাতীয় পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য সুনীল শুভ রায় বলেন, জামালপুর-২ আসনে মোস্তফা আল মাহমুদের ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
বুধবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগামীকাল বুধবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। বুধবার (২৮ নভেম্বর) বিকেল ৫টার মধ্যে রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও তা পুরণ করে জমা দেয়া যাবে। সরাসরি ছাড়াও এবারই প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেয়া যাবে। মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীদের আচরণবিধি প্রতিপালন করতে হবে। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়ার সময় প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো ধরনের শোডাউন করা যাবে না। ইসির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমা দেয়ার সময় ৫ জনের বেশি লোক রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভিড় করতে পারবেন না। প্রার্থীদের পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। রিটার্নিং অফিসারের অনুকূলে এ টাকা জমা দিতে হবে। প্রার্থীরা ইউনিয়নভিত্তিক ভোটার তালিকার সিডি প্রতিটি ৫শ টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারবেন। আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচন সামনে রেখে কোনো প্রার্থী জনসভা, মিছিল, মিটিং করতে পারবেন না। কেবল পথসভা করতে পারবেন। প্রার্থীদের পোস্টার হতে হবে সাদাকালো। প্রতিটি পোস্টারের নিচে পোস্টারের সংখ্যা, প্রেসের ঠিকানা, প্রকাশকের নাম দেয়া বাধ্যতামূলক। না হলে সেসব পোস্টার নির্বাচন কমিশনের কাছে অবৈধ বলে বিবেচিত হবে। পোস্টারের সাইজ হতে পারবে সর্বোচ্চ ২৩ ইঞ্চি বাই ১৮ ইঞ্চি। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার ছাড়া কাউকে পোলিং এজেন্ট করা যাবে না। নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা আগে পোলিং এজেন্টদের দুই কপি ছবি এবং নামের তালিকা রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় হলফনামা আকারে ৮টি তথ্য দিতে হবে। ব্যয়ের উৎসের বিবরণী, আয়কর রিটার্নের কপি জমা দিতে হবে। মনোনয়ন ফরমে কোনো ভুল হলে প্রার্থিতা বাতিল হবে। তাই সম্ভাব্য প্রার্থীকে সতর্কতার সঙ্গে মনোনয়নপত্র পূরণ করতে হবে। মনোনয়ন দাখিলের আগে প্রার্থীকে অবশ্যই যে কোনো তফসিলী ব্যাংকে নতুন হিসাব খুলতে হবে। নির্বাচনের সমুদয় ব্যয় এ একাউন্ট থেকেই করতে হবে। এই একাউন্টের নম্বর, ব্যাংক ও শাখার নাম মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করতে হবে। নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব রিটার্নিং অফিসার এবং কমিশনে জমা দিতে হবে। এছাড়া ব্যক্তিগত খরচের হিসাব ফল প্রকাশের ৭ দিনের মধ্যে কমিশনে জমা দিতে হবে। কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। লিখিত ছাড়া কোন এজেন্টের অভিযোগ কমিশন আমলে নেবে না। কোনো ভোটার ব্যালট পেপার ব্যালট বাক্সে না ফেলে বাইরে নিয়ে এলে কমিশন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া অন্য কোনোভাবে কোনো ব্যালট পেপার বাইরে চলে এলে ওই ব্যালট পেপার যে প্রদর্শন করবেন কমিশন তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেবে। ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান জানান, নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ, এপিবিএন এবং ব্যাটালিয়ান আনসার মোতায়েন করা হবে। তারা মোবাইল বা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি মোবাইল বা স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে ১ জন করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে। নির্বাচনী অপরাধসমূহ বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োগ দেয়া হবে। বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা যে কোনো অনিয়মের জন্য ৬ মাসের কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবেন। ভোটের দিন নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি থাকবে। ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ব্যতিত কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর এবং ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর।
নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না খালেদা জিয়া: অ্যাটর্নি জেনারেল
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় আপিলে খালাস পেলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল এ মন্তব্য করেন। নির্বাচনে অংশ নিতে হলে খালেদা জিয়াকে মুক্তির পরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানান তিনি। মাহবুবে আলম বলেন,বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমান ও মো. আবদুল ওহাব দণ্ড স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আদালতে আমি বলেছিলাম, ফৌজদারি আদালত, বিশেষ করে ফৌজদারীরি আপিল আদালত অবশ্যই তাঁদের সাজা স্থগিত করতে পারেন। কিন্তু কনভিকশন বা তাঁকে যে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেটির স্থগিত নেই। বিশেষ করে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২(ঘ) উল্লেখ করে বলেছিলাম, সেই সমস্ত ব্যক্তি জাতীয় সংসদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বা সংসদ সদস্য হতে পারবে না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কারণে অন্যূন দুই বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হন এবং মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর সময় অতিবাহিত না হয়। যাঁরা দরখাস্ত করেছিলেন, তাঁরা সবাই দণ্ডপ্রাপ্ত। তাঁদের দণ্ড থেকে মুক্তি লাভ করেননি। তাঁদের পাঁচ বছর সময় অতিবাহিত হয়নি। এমতাবস্থায় যদি তাঁদের দণ্ড স্থগিত করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়, তা হবে আমাদের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। কাজেই আদালত আমাদের আবেদন গ্রহণ করে তাঁদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোনো অবকাশ থাকবে না বলে আমি মনে করি। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে কি না জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অবশ্যই। এটি সাংবিধানিক বিধিবিধান। এখানে শর্ত হলো দুটি। তা হলো, তিনি যদি দণ্ডিত হন, তাহলে পারবেন না। এরই মধ্যে তিনি যদি তাঁর দণ্ড বা সাজা থেকে মুক্তিলাভ করেন, তাহলে তাঁর সাজা বাতিলের তারিখ থেকে পাঁচ বছর তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কাজেই খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে দুটি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। যেকোনো আদালত তাঁর রায় দিয়ে এই সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করতে পারেন না। আমাদের আপিল বিভাগ কিংবা হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধান দ্বারা তৈরি। তাদের সংবিধান দিয়ে চলতে হবে। কাজেই কোনো আদালত এটাকে অগ্রাহ্য করতে পারেন না। আপিল বিভাগ এই দণ্ড স্থগিত করতে পারেন কি না জানতে চাইলে মাহবুবে আলম বলেন,আপিল বিভাগ কী করবে, সেটা আমি বলতে পারি না।
আওয়ামী লীগের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছেন সশস্ত্র বাহিনীর ১৪৭ সাবেক কর্মকর্তা
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছেন সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ১৪৭ সেনা কর্মকর্তা। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি শেখ হাসিনার হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে এই সমর্থন জানান তারা। মঙ্গলবার বিকালে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তারা যান গণভবনে। বলেন, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাক, এটাই চান তারা। সেখানে শেখ হাসিনাও তাদেরকে অভিনন্দন জানান। বলেন, জনগণ আবার নির্বাচনে তাদেরকে বেছে নেবে বলে আশাবাদী তিনি। গণভবনে যাওয়া অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেলরা হলেন: মোল্লা ফজলে আকবর ও আবদুল ওয়াদুদ, সাব্বির আহমেদ অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেলরা হলেন নাসির উদ্দিন আহমেদ, হোসাইন সাদেক, শাহ মো. মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ আলী ম-ল, মাহমুদুল হক, এম এইচ সালাহউদ্দিন, আবুল হাশিম খান, রকিবুর রহমান, মমিনুল হক, হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ সেলিম, নুরুল বশীর, এস এম ইকবাল হোসেন, নজরুল ইসলাম সরকার, এ কে এম শফিউল মাওলা, আবুল কালাম আজাদ, মো. শাহজাহান, তোজাম্মেল হক, মাসুদ হোসেন প্রমুখ। অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেলরা হলেন জি এইচ মোর্শেদ খান, কাজী আশফাক আহমেদ, মোহাম্মদ আলী, শিকদার মো. শাহাবুদ্দীন, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ, এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার, রফিকুল আলম, আব্দুর রশীদ, আবুল হোসেন, আব্দুস সালাম খান, ইমরুল কায়েস, কাজী ফকরুদ্দীন আহমেদ, জাহিদুর রহমান, আবদুল মতিন, আশরাফ আবদুল্লাহ ইউসুফ, সালাহউদ্দিন মিয়াজী, হারুনুর রশিদ, ফেরদৌস মিয়া। এ ছাড়া কর্নেল, লে. কর্নেল, মেজর পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন সেখানে। নৌ বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার এডমিরালদের মধ্যে ছিলেন আবুল কালাম মোহাম্মদ আজাদ, হারুন-উর-রশিদ, এ এস এম আব্দুল আওয়াল, অবসরপ্রাপ্ত কমোডরদের মধ্যে আছেন ওবায়দুল হক, এম জিয়াউল আহসান শেখ, আবদুল মমিন মিয়া, কাজী এমদাদুল হক, এস এস নিজাম, এস সামছুল কবীর প্রমুখ। এ ছাড়া ছিলেন লে. কমোডর, ক্যাপ্টেন, ই. ক্যাপ্টেন পর্যায়ের বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল কাজী নজরুল হক, অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর কাজী দেলোয়ার হোসেন, মোস্তাক আহমেদ এবং বেশ কয়েকজন গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডারও গণভবনে যান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কান্নার অর্থ বিএনপির অবস্থা ভালো নয়: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন ঘোষণার সময় বিএনপি মহাসচিবের কান্নার অর্থ বুঝতে পেরেছেন ওবায়দুল কাদের। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কান্নার অর্থ হলো, ভোটের বাজারে বিএনপির অবস্থা ভালো নয়। মঙ্গলবার বেলা একটায় নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সল আহম্মদের কাছে নোয়াখালী-৫ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন কাদের। এ সময় তিনি এক প্রশ্নে উপরোক্ত কথা বলেন। আগের দিন গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে মনোনয়নের চিঠি দলের নেতাদের হাতে তুলে দেন মির্জা ফখরুল। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। কাদের বলেন, দলছুট এবং জনবিচ্ছিন্ন নেতারা যতই বিএনপির সাথে হাত মেলাচ্ছে দলটি ততই জনসমর্থন হারিয়ে ফেলছে। বিএনপির ভাঙা হাড় নেতায় নেতায় ঐক্য হচ্ছে, ভাঙা হাড় জমছে না। দেশে এখন আওয়ামী লীগের জোয়ার বইছে দাবি করে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই জোয়ারে ভাসতে ভাসতে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাসে বন্দরে গিয়ে পৌঁছবে নৌকা। বিএনপি ভোটে থাকতে চায় কি না, এ নিয়েও সন্দিহান কাদের। বলেন, এই মুহূর্তে সিইসির পদত্যাগ চাওয়ার অর্থ তারা নির্বাচন চায় না, বানচাল করতে চায়। বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হক নাজিম, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খিজির হায়াত খান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম তানভীর প্রমুখ।
গোপালগঞ্জ-৩ আসনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তিন মনোনয়নপত্র জমা
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে গোপালগঞ্জের তিনটি স্থানে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা এই মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্রথমে বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ টুঙ্গিপাড়ার সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাকিব হাসান তরফদারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়া উপজেলায় সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মাহাফুজুর রহমানের কাছে দ্বিতীয় মনোনয়নটি জমা দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। বেলা সাড়ে ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিন এমপির নেতৃত্বে গোপালগঞ্জের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকারের কাছে তৃতীয় মনোনয়নপত্রটি জমা দেয়া হয়। এসময় তিনটি স্থানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, শেখ কবির হোসেন, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপির ছেলে ও বাগেরহাট-২ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত শেখ সারহান নাসের তন্ময়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, শেখ ফজলুর রহমান মারুফ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হালিম, সাধারণ সম্পাদক আবুল বসার খায়ের, টুঙ্গিপাড়া পৌর মেয়র শেখ আহম্মদ হোসেন মির্জা, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, সাবেক পৌর মেয়র ইলিয়াস হোসেন, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবাস চন্দ্র জয়ধর, সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবির, উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস, জেলা পরিষদ সদস্য দেবদুলাল বসু পল্টু রীনা রানী মন্ডলসহ স্থানীয় জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে তার কবর জিয়ারত করেন নেতাকর্মীরা। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়ন এবং কোটালীপাড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-৩ আসন। এই আসনটিতে বর্তমান সাংসদ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদেশে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর ১৯৮৬ সাল থেকে এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন শেখ হাসিনা।
প্রকল্প বাস্তবায়নের তথ্য জানা যাবে বাটন চেপেই
অনলাইন ডেস্ক: পদ্মাসেতু অথবা মেট্রোরেল প্রকল্পের অগ্রগতি কতটুকু? কবে নাগাদ এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হবে? এমন তথ্য অনেকেই জানতে চান। এসব তথ্য জানতে আর প্রকল্প এলাকায় যেতে হবে না। মোবাইলের বাটন টিপলেই প্রকল্পের হালনাগাদ তথ্য জানা যাবে। উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের ডিজিটাল মনিটরিংয়ের অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চালু করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। ডিজিটাল মনিটরিংয়ের অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের নাম দেওয়া হয়েছে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (পিএমআইএস)। এ সফটওয়্যার বলে দেবে প্রকল্পের হালনাগাদ তথ্য। সোমবার (২৬ নভেম্বর) পিএমআইএস অ্যাপস সবার জন্য উন্মুক্ত করেছে আইএমইডি। আইএমইডি সূত্র জানায়, আইমএইডির অন্যতম কাজ হচ্ছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করা। একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়ে এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এ বিভাগের মূল কার্যক্রম শুরু হয়। অনুমোদিত প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতি আইএমইডি সংগ্রহ করে। উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের ডিজিটাল মনিটরিংয়ের লক্ষ্যে অনলাইন সফটওয়্যার পিএমআইএস-এর যাত্রা শুরু হলো। বর্তমানে আইএমইডির চলমান ম্যানুয়াল রিপোর্টিং ফরম্যাটকে এক করে অনলাইনে একটি প্লাটফর্মের মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া সমাপ্ত প্রকল্পের পিসিআর (সমাপ্ত ঘোষিত প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রতিবেদন) তৈরির ব্যবস্থাও পিএমআইএস-এ রাখা হয়েছে। পিএমআইএস ১ হাজার ৯৬৩ জন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণও দিয়েছে। ১ হাজার ৪০০ এর অধিক প্রকল্পের তথ্য এবং ৩৫২ এর অধিক প্রকল্পের সর্বশেষ আর্থিক অগ্রগতি সম্পর্কিত তথ্য এ সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত আছে। এডিপিতে বরাদ্দ অর্থের কী পরিমাণ খরচ হলো এটা সহজেই বের করা যাবে। প্রকল্প পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এতে লগইন করতে পারবেন। একটি প্রকল্প অনুমোদিত হওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে আইএমইডি থেকে এসএমএস ও ই-মেইলের মাধ্যমে পিএমআইএস-এর লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। আইএমইডি সচিব মফিজুল ইসলাম বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশে বাস করছি। দেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদের পেছনে ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। সোনার বাংলাদেশ গড়তে এবং দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে আমাদের প্রকল্প বাস্তবায়ন গতি বাড়াতে হবে। প্রকল্প জনকল্যাণে নেওয়া হয়, সঠিক সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে অর্থের অপচয় হয় এবং জনগণ সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। অনেক সময় প্রকল্পের হালনাগাদ তথ্য পেতে নানা কাপজপত্র খুলে খবর নিতে হয়। পিএমআইএস-এর মাধ্যমে হাতের মুঠোয় চলে এলো প্রকল্পের হালনাগাদ তথ্য। বাটন চাপ দিলেই প্রকল্পের সমস্ত তথ্য আমার চোখের সামনে ভাসবে। প্রকল্পের অগ্রগতি কেমন হলো, কত খরচ হলো- সব তথ্য জানতে পারবো এই ডিজিটাল সফটওয়্যারের মাধ্যমে। দীর্ঘ পরিশ্রমের ফলেই এটা করতে পেরেছি। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোনার বাংলা গড়তে চান। ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত দেশে আসবো। এ জন্যই আমরা অনলাইন প্রকল্প মনিটরিং ব্যবস্থা শুরু করলাম। প্রকল্প বাস্তবায়ন তদারকি আরো গতি পাবে এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে। সচিব জানান, পিএমআইএস-এ লগইন করে প্রকল্প পরিচালকেরা ব্যয় ও সঠিক সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন তথ্য পাবেন। প্রকল্প অনুমোদনের তথ্য, অঙ্গভিত্তিক ব্যয়, উচ্চ টার্গেট, পরিকল্পনা ও প্রকল্পের আওতায় সকল কিছু কেনাকাটার তথ্য পিএমআইএস-এ এন্ট্রি করতে পারবেন প্রকল্প পরিচালক। প্রকল্প সংশোধন ও আন্তঃখাত সমন্বয় করা হলে সেই তথ্য এখানে যুক্ত হবে। প্রকল্প পরিচালকেরা বার্ষিক বরাদ্দ, ক্রয় পরিকল্পনা, কর্মপরিকল্পনা, অর্থছাড় ও মাসিক অগ্রগতির তথ্য পিএমআইএস-এ এন্ট্রি করবেন। সূত্রে জানা যায়, পিএমআইএস-এ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছু তথ্য পাওয়া যাবে। যেমন প্রকল্পের মাসিক অগ্রগতি, বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা, ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) চাহিদার বিপরীতে প্রাপ্ত বরাদ্দ, অর্থায়নের ভিত্তিতে প্রকল্পের বিন্যাস, এডিপি অগ্রগতি, ব্যয় ও সময়সীমার তথ্য পাওয়া যাবে। এছাড়া প্রকল্পের হালনাগাদ তথ্য পিএমআইএস-এ এন্ট্রি করার জন্যও থাকছে আলাদা জনবল।

জাতীয় পাতার আরো খবর