বিএনপি নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে :ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক :বিএনপি নেতাদের ফোনালাপের বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি নেতাদের মুখে এখন হতাশার সূর। তারা সম্ভবত ২০-৩০টির বেশি আসন পাবে না জেনে নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।‘তবে তাদের সকল ধরণের সহিংসতার জবাব দেওয়ার জন্য ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন।শনিবার দুপুরে নোয়াখালীর বিশিষ্ট শিল্পপতি আল-আমিন গ্রুপের চেয়ারম্যান আনোয়ার মির্জার মরদেহ দেখতে জেলা শহরের হরিণারায়ণপুরস্থ বাসায় যান ওবায়দুল কাদের।এ সময় তিনি আনোয়ার মির্জার বিভিন্ন কৃতিত্বের কথা তুলে ধরেন।শিল্পপতি আনোয়ার মির্জার নামাজে জানাজা শেষে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুরু থেকে নির্বাচনের বিষয়ে যে শঙ্কা ছিল তা এখন আর নেই। আকাশে মেঘ থাকবেই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেঘ কেটে যায়। যে কালো মেঘ ছিল তা এখন কেটে গেছে। আমার সবাই জানি শেষ ভালো যার সব ভালো তার। তিনি বলেন, ‘ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতিতে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে। আমাদের জয়ের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। বিজয়ের মাসে নৌকা বিজয় নিয়ে বন্দরে পৌঁছবে।এসময় উপস্থিত ছিলেন, নোয়াখালী-৪ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন শাহীন, পৌর মেয়র শহীদ উল্ল্যাহ খান সোহেলসহ দলের নেতৃবৃন্দ।
ভোট হবে উৎসবমুখর :ডিএমপি
অনলাইন ডেস্ক :ভোটের পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন না হতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। শনিবার ডিএমপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, উৎসবমুখর হবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সর্বদা জনগণের পাশে আছি।বিভিন্ন জাতীয় নেতাদের নিরাপত্তা হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বিভিন্ন নেতাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। কোনো ষড়যন্ত্র ইনশাআল্লাহ সফল হতে দেয়া হবে না।স্যোসাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়ে কঠোর থাকার কথা উল্লেখ করে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ফেক আইডি খুলে যারা নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে বা গোলযোগ সৃষ্টি করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সুষ্পষ্ট ও কঠোর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমস্ত বাহিনী, সাদা পোষাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, সশস্ত্র বাহিনীসহ সবাই কাজ করে যাচ্ছে। কেউ জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারবে না।
টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন ,শেখ হাসিনাই হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক :আসন্ন নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। দুই মেয়াদে তার সরকারের ব্যাপক উন্নয়নযজ্ঞের ফলে এবারের নির্বাচনেও ভোটাররা শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকেই বেছে নেবেন। গতকাল শুক্রবার প্রভাবশালী মার্কিন ম্যাগাজিন টাইম এক প্রতিবেদনে এমন আভাস দিয়েছে। তবে ওই প্রতিবেদনে ভঙ্গুর গণতন্ত্রের বিনিময়ে বাংলাদেশের অসাধারণ অর্থনৈতিক সফলতা নিয়ে শেখ হাসিনার সমালোচকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে বলেও জানিয়েছে টাইম। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশের ১১তম সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে আগামীকাল রোববার। অক্সফোর্ড পড়ুয়া ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৮২ বছর বয়সী কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন ঐক্যবদ্ধ বিরোধী শিবির ঐক্যফ্রন্টের মুখোমুখি হয়েছেন ৭১ বছরের শেখ হাসিনা। তবে শেখ হাসিনার আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ৭৪ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। বিএনপি প্রধান খালেদা দুর্নীতির দায়ে ১৭ বছরের কারাদন্ডের সাজা ভোগ করছেন। ঢাকার আদালত তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অযোগ্য ঘোষণা করেছেন। কয়েক দশক ধরে পালাক্রমে ক্ষমতা এবং কারাগারের ভেতরে-বাইরে রয়েছেন শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া। ১৬ কোটি মুসলিম অধ্যুষিত নাগরিকের দেশে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছেন। তবে ২০১৪ সালে দেশটির নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, ওই বছরের নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে মাত্র ২২ শতাংশ। সংসদের ৩০০ আসনের অর্ধেকের বেশিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনী সহিংসতায় কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটে। তবে এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি। বিশ্বের অন্যতম গণতান্ত্রিক এই দেশটিতে প্রতি ১০ জনের একজন তরুণ ভোটার। এদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন প্রথমবারের মতো এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের এক দশকের শাসনের পর খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতাকালীন প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী কামাল হোসেন শেখ হাসিনার প্রাথমিক চ্যালেঞ্জার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির স্বার্থকে আকৃষ্ট করছে কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতির অধ্যাপক আলী রিয়াজ টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, উন্নয়ন বলতে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেই বোঝায় না, এর একটি বৃহৎ অর্থ রয়েছে; যার মধ্যে মানবাধিকার, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা এবং সুশাসনও রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে এসবের অনুপস্থিতি রয়েছে।
আগামীকাল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন,ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন
নিজেস্ব প্রতিবেদক :সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল রোববার হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটাররা বিরতিহীনভাবে ভোট দেবেন। এরপরই প্রকাশ হবে ফলাফল। এতেই নির্ধারণ হবে কোন দল সরকার গঠন করবে। এ মুহুর্তে ভোটের মাঠে রয়েছে প্রায় সব রাজনৈতিক দল। তবে ভোট শান্তিপূর্ণ হবে কিনা সেটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও রয়েগেছে শঙ্কা। ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন কিনা এমন শঙ্কা কাজ করছে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও তাদের প্রার্থীদের মধ্যে। একই শঙ্কা প্রকাশ করেছে সরকারি দল আওয়ামী লীগও। এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও ভয় কাজ করছে। তবে ইলেকশন কমিশন বলছে, ভোট নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হবে। এ নির্বাচনের নিরাপত্তায় থাকবেন সেনা ও নৌবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় সাত লাখ সদস্য। এর মধ্যে ভোট কেন্দ্র পাহারায় থাকবেন ৬ লাখ ৮ হাজার সদস্য। এছাড়া ভোট গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন ৬ লাখ ৬২ হাজার কর্মকর্তা। মাঠে রয়েছেন ২ হাজারের বেশি জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, ভোট হবে উৎসবমুখর। কোনো ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নেই। এ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সহযোগিতা চেয়ে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য তিনি ভোটারদের আহ্বান জানান। নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কের বিষয়ে যেসব অভিযোগ উঠছে তা ভুল প্রমাণ হবে।
এ যেন ঈদের মৌসুম,নিরিবিলি ঢাকা নির্বাচনী হাওয়ায়
অনলাইন ডেস্ক: এ যেন ঈদের মৌসুম। পুরো ঢাকায় নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক তিন দিনের ছুটিতে অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে নাড়ীর টানে বাড়ির উদ্দেশে ছেড়েছেন রাজধানী শহর। গণপরিবহন যা চলছে রাস্তার সেগুলোও বেশিরভাগ যাত্রীশূণ্য। কর্মব্যস্ত ঢাকা এখন জিরিয়ে নিচ্ছে বেশ। আজ রাত ১১টা থেকে সারা দেশে সব ধরনের যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় রাত ৮টার পরই গাড়ি বন্ধ করে দেবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন মালিকরা। রাজধানীর পাশাপাশি শহরতলির গণপরিবহনেরও একই চিত্র। অফিস বন্ধ থাকায় শনিবার সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা চলাচলকারী বন্ধন, উৎসবও শীতল এবং সোনারগাঁও থেকে চলাচলকারী দোয়েল, স্বদেশ ও বোরাক পরিবহনেও একই চিত্র চোখে পড়েছে। এ ব্যাপারে দোয়েল পরিবহনের চেয়ারম্যান জানান, টানা তিন দিনের ছুটি পেয়ে মেঘনা শিল্পাঞ্চলের অনেকেই সপরিবারে বাড়ি চলে গেছে। তাই রাত ১১টা পর্যন্ত যান চলাচলে বাধা না থাকলেও যাত্রী সংকটে আগভাগেই বন্ধ করতে হতে পারে। রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা মতিঝিল ও গুলিস্তান- জিরো পয়েন্টেও বিরাজ করছে জনশূন্যতা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কঠোর নিরাপত্তায় ভোট কাল
অনলাইন ডেস্ক: কাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কাল। ৫ বছর পর দেশের ১০ কোটি ৪২ লাখ ভোটার মূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন পরবর্তী সরকার। রোববার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯৯টি আসনে। প্রস্তুত ৪০ হাজার ১৮৩টি ভোটকেন্দ্রের প্রায় ৭ লাখ কর্মকর্তা। মাঠে রয়েছেন সেনাবাহিনী, পুলিশ, Rab ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৬ লাখের বেশি সদস্য। মুখোমুখি নৌকা আর ধানের শীষ। সেটি আবার দীর্ঘ দশ বছর পর। প্রস্তুত লড়াইয়ের মাঠ। প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন। ক্ষমতা পালাবদলের এই ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৩৯টি দলের সব'কটি। প্রার্থীর মৃত্যুতে একটি আসনের নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় রোববার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২৯৯টি আসনে। এরমধ্যে ৬টি আসনে ভোট হবে ইভিএমের মাধ্যমে। সারাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১৮শ ৬১ জন। এরমধ্যে স্বতন্ত্র ১২৮ এবং রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১৭শ ৩৩ জন। ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের লাল-সবুজের এই বাংলাদেশে ১৬ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার মধ্যে ভোটার ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৭জন। পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৫ জন। আর নারী ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩১২ জন। ৪০ হাজার ১৮৩টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে দায়িত্ব পালন করবেন একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার। আর ২ লাখ ৭ হাজার ৩১২টি ভোটকক্ষের প্রতিটিতে থাকবেন একজন সহকারী প্রিজাইডিং এবং দু'জন করে পোলিং অফিসার। ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত ৬ লাখ ৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যের মধ্যে শুধু পুলিশের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার। ভোটের মাঠে মোতায়েন ১২ হাজার ৪২০ জন্য সেনাসদস্য, ৯৮৩ প্লাটুন বিজিবি, ৬শ প্লাটুন Rab, ৪২ প্লাটুন কোস্টগার্ড ও ৪৮ প্লাটুন নৌবাহিনী। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। কে হতে যাচ্ছে একাদশ সংসদের কাণ্ডারি, সে রায় দিতে ভোটারদের অপেক্ষার ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর