৩২ ধারা সাংবাদিকদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করবে না: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা সাংবাদিকদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করবে না। সাংবাদিকদের কাজ গুপ্তচরবৃত্তি নয়। তাঁরা তথ্য সংগ্রহ করেন বা করবেন প্রতিবেদন তৈরির স্বার্থে। সরকারের গোপন তথ্য সরকারের শত্রু বা বিদেশের কাছে সরবরাহ করার জন্য নয়। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ল রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো সাংবাদিক তাঁর বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য যদি ৩২ ধারায় অভিযুক্ত হন, তাহলে তিনি (আইনমন্ত্রী) নিজে বিনা পারিশ্রমিকে তাঁর (সাংবাদিক) পক্ষে মামলা লড়বেন। গত ৩০ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয়। এর মাধ্যমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করলেও নতুন আইনে ৫৭ ধারার বিষয়বস্তুগুলো চারটি ধারায় ভাগ করে রাখা হয়েছে। এ জন্য আলাদা আলাদা শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে। আইসিটি আইনে ৫৭ ধারায় মানহানি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোসংক্রান্ত বিষয়গুলো একত্রে ছিল। নতুন আইনের ৩২ ধারা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আপত্তি উঠেছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বেআইনিভাবে প্রবেশের মাধ্যমে কোনো সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বিধিবদ্ধ কোনো সংস্থার অতিগোপনীয় বা গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কম্পিউটার, ডিজিটাল যন্ত্র, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ধারণ, প্রেরণ বা সংরক্ষণ করেন বা করতে সহায়তা করেন, তাহলে সেই কাজ হবে কম্পিউটার বা ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হবে। কেউ যদি এই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার করেন, তাহলে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে।
ভিআইপি সংস্কৃতিতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ
যানজট-ধুলাবালিসহ নানা সংকটে জর্জরিত হওয়া সত্ত্বেও রাজধানীতে গড়ে উঠেছে ভিআইপি সংস্কৃতি, যা সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলেছে। ভিআইপি সড়কে উল্টোপথে যান, তাদের চলাচলের সুবিধা করে দিতে নগরীর বেশ কিছু ব্যস্ততম সড়ক ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় ক্ষমতাশালীদের পরিবারের সদস্যরা সড়কে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পুলিশের ওপরও চড়াও হন। এমন অবস্থার মধ্যেই মন্ত্রিসভায় রাজধানীর সড়কে আলাদা ভিআইপি লেন সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। যাকে দুটো শ্রেণি তৈরির মানসিকতা বলে অনেকে অভিযোগ করছেন। আর পরিবহন বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম ভিআইপি লেন তৈরির মানসিকতার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রাজধানীতে জরুরি সেবা ও ভিআইপিদের গাড়ি চলাচলের সুবিধার জন্য সড়কে আলাদা লেন তৈরি করার প্রস্তাব দিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে ঢাকায় তীব্র যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু ঢাকার তীব্র যানজটে নগরজীবন যখন থমকে যাচ্ছে, সেই সময় ভিআইপিদের জন্য আলাদা লেন করার প্রস্তাব কতটা বাস্তব সম্মত? তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের কাছে এ প্রস্তাবের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ভিআইপিরা ডান দিক যায়, রাস্তার উল্টা দিক দিয়ে যায়। নানা রকমের ঝামেলা হয়। ভিআইপিদের অনেক সময় যাওয়া লাগে। তিনি আরও বলেন, অনেক দেশেই ভিআইপিদের জন্য আলাদা লেন আছে। আমাদের দেশেও সেটি করা যায় কিনা...। তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুতগতিতে কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছতে পারে, সে বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়া যেতে পারে। তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা লেন করার কোনো সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘যেখানে আমজনতার জন্যই বাসের লেন দিতে পারছি না, সে জায়গায় ভিআইপি মুভমেন্টের জন্য আলাদা লেন বাস্তবায়নযোগ্য নয়। সমাধান দিতে না পেরে আমরা যদি নিজেরাই প্রায়োরিটি নিয়ে নিই, তা হলে তো হিতেবিপরীত হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা শহরের কোনো কোনো রাস্তায় এখন গাড়ির গতি ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। কখনো কখনো সে গতি আরও কমে যায়। ঢাকায় যারা বাইসাইকেল চালায় তাদের তরফ থেকে শুধু বাইসাইকেলের জন্য আলাদা একটি লেনের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। সাইক্লিস্টদের সংগঠনের একজন আরিফুর রহমান বলেন, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল এটি সম্ভব নয়। এখন ভিআইপিদের জন্য আলাদা লেনের প্রস্তাবের কথা শুনে তিনি বিস্মিত। ঢাকা শহরের যানজট নিরসনের জন্য গত ১০ বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা করে ফ্লাইওভার নির্মাণসহ বেশ কিছু প্রকল্প নেয়া হয়েছে। কিন্তু সেগুলো খুব একটা কাজে দেয়নি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এসব প্রকল্প কেন খুব একটা কাজে লাগছে না সেটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার বলে মনে করেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম।
দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে চলেছেন আবদুল হামিদ
দ্বিতীয় মেয়াদে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে চলেছেন মোঃ আবদুল হামিদ। সোমবার রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে তাঁর পক্ষে মাত্র একটি মনোনয়নপত্রই জমা পড়েছে। এখন এ পদে নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণের প্রয়োজন নেই। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা। আগামীকাল বুধবার এই মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। জানা গেছে, বাছাই শেষে মনোনয়নপত্র বৈধ হলে ওইদিনই তাকে রাষ্ট্রপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার। গত শুক্রবার রাষ্ট্রপতি পদে মোঃ আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। সোমবার জমার শেষ দিনে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এসে রাষ্ট্রপতির পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সংসদে সরকারী দলের চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, হুইপ ইকবালুর রহীম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা রিয়াজুল কবীর কাওসার। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু এ পদে নির্বাচনের জন্য একটিমাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়ায় ভোটের আয়োজন করতে হবে না। রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে মোঃ আবদুল হামিদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, এতে করে তারা জনপ্রত্যাশা পূরণ করেছেন। আমাদের কাছে আছে অনেকেই। মনে হচ্ছে, তিনিই জনগণের কাছে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য, জনগণের কাছে সর্বজন শ্রদ্ধেয়। রাষ্ট্রপতি তো দলের রাষ্ট্রপতি হবে না, দেশের রাষ্ট্রপতি। কাজেই ওই ধরনের একজন মানুষকেই খুঁজে নিয়েছি। জনগণের চিন্তা-ভাবনা, চোখের ভাষায় মোঃ আবদুল হামিদই সর্বাধিক প্রত্যাশিত। মোঃ আবদুল হামিদ হচ্ছেন ভাটি বাংলার বীর পুরুষ, মুক্তিযোদ্ধা। আওয়ামী লীগের পছন্দের এ মানুষটি দেশের মানুষ গ্রহণ করছে আস্থার সঙ্গে। এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করলেই আওয়ামী লীগ খুশি। গত ২৫ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এ পদে নির্বাচনের জন্য সোমবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিল। শেষ দিনে বর্তমান রাষ্ট্রপতির পক্ষে একটি মাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে বলে কমিশন সূত্র নিশ্চিত করেছে। এখন দ্বিতীয় মেয়াদে ৭৪ বছর বয়সী মোঃ আবদুল হামিদকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। বাছাই শেষে যে কোন সময় তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। ইসির তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে আগামীকাল ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে। তফসিলে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে শেষ তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য মোঃ আবদুল হামিদের পক্ষ থেকে তিনটি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। প্রথম মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সমর্থক হয়েছেন দলের সভাপতিম-লীর সদস্য এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তার পক্ষে জমা দেয়া দ্বিতীয় মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। আর সমর্থক হয়েছেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। তৃতীয় মনোনয়নপত্রে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রস্তাবক হয়েছেন। সমর্থক হয়েছেন হুইপ মোঃ আতিউর রহমান আতিক। আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের একজন সংসদ সদস্য প্রস্তাবক এবং একজন সংসদ সদস্যকে সমর্থক হতে হয়। আর একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন। যে কোন একটি বাছাইয়ে বৈধ হলেই অন্যগুলো বাদ হয়ে যায়। গত ২ জানুয়ারি শুক্রবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আসম ফিরোজ। এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি এ পদে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাঁকেই মনোনয়ন দেয়া হয়। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় মোঃ আবদুল হামিদকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদকে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দলের মনোনয়ন প্রদানের সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেন। ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর কারণে ওই বছর ২৪ মার্চ থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন মোঃ আবদুল হামিদ। পরে ২২ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২৪ এপ্রিল। আগামী ২৩ এপ্রিল তার ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে। এরপর থেকে তিনি তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ অবসানের কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদ পূর্তির তারিখের আগের নব্বই থেকে ষাট দিনের মধ্যবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। ফলে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসেবে মোঃ আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ২১তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। দেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারেন। ফলে এবার নির্বাচিত হলে এটাই হবে মোঃ আবদুল হামিদের শেষ মেয়াদ। তৃতীয় মেয়াদে কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের সুযোগ নেই।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দিতে কেন নির্দেশ নয় :হাইকোর্ট
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দিতে সকল হাসপাতাল ও ক্লিনিককে নির্দেশনা দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। এছাড়া ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত এক ব্যবসায়ীর পরিবারকে কেন ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় কেউ আহত হয়ে হাসপাতালে গেলে অনেক সময় চিকিৎসা প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করা হয়। এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। প্রসঙ্গত, গত ২৬ জানুয়ারি গভীর রাতে সায়েদাবাদ এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান খুলনার ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম। গুরুতর আহত হয়ে ওই ব্যক্তি নিকটস্থ টিকাটুলির সালাহউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতালে গেলেও প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করেন কর্তৃপক্ষ। পরে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় রিট করে এইচআরপিবি। দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, পুলিশের আইজিসহ বিবাদীদেরকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ভিআইপি ও জরুরি সেবার জন্য আলাদা লেনের প্রস্তাব
ঢাকায় ভিআইপি (গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) ও জরুরি সেবা দেয়া সংস্থার গাড়ি চলাচলে আলাদা লেন করার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান। রাস্তায় ভিআইপিদের জন্য আলাদা একটা লেন করার জন্য মন্ত্রিসভা সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছে কি না- একজন সাংবাদিক এ বিষয়টি জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, না মন্ত্রিসভা এটা বলেনি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটা নরমালঅনুরোধ করা হয়েছে এটা পরীক্ষা করে দেখার জন্য। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভিআইপিরা ডান দিক দিয়ে যায়, উল্টো দিক দিয়ে যায়। ভিআইপিদের অনেক সময় (উল্টো পথে) যাওয়া লাগে, প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, অন্যান্য অনেক দেশেই ভিআইপিদের জন্য আলাদা লেন আছে, আমাদের দেশেও সেটা করা যায় কি না সেটা পরীক্ষা করে দেখবে (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়)। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন,(আলাদা লেন) বিশেষ করে ইর্মাজেন্সির জন্য, ভিআইপিরা অত বেশি ইম্পর্ট্যান্ট না। অ্যাম্বুলেন্সে যে লোকটা মারা যাচ্ছে, এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, অ্যাক্সেস পায় না- এসব ইমার্জেন্সি সার্ভিস। পুলিশেরও (দ্রুত যাওয়ার) দরকার হয় অনেক সময়।
প্রেসিডেন্ট বেরসে এর বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন
রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে সফররত সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বেরসে। সোমবার দুপুরে ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করেন সফররত এ সুইস প্রেসিডেন্ট। এ সময় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। পরে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান অ্যালেইন বেরসে এবং সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। সফররত প্রেসিডেন্টকে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখান রাদওয়ান সিদ্দিকী ববি। পরে স্মৃতি বইতে তিনি মন্তব্য লিখেন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সফররত সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বেরসে। শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করার পর এক মিনিট নীরবতা পালন করেন তিনি। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল শহীদদের সম্মানে কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বেরসে স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইতে নিজের অনুভূতি লিপিবদ্ধ করেন এবং স্মৃতিসৌধের ভিআইপি বাগানে একটি নাগেশ্বর চাপা গাছের চারা রোপণ করে স্মৃতিসৌধ এলাকা ত্যাগ করেন। এর আগে সড়ক পথে সফর সঙ্গীদের নিয়ে স্মৃতিসৌধে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান, সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, ঢাকা জেলা প্রশাসক সালাউদ্দিন আহমেদ ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ্ মিজান শাফিউর রহমান। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি নিজ চোখে দেখতে এবং দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য চারদিনের সফরে গতকাল (রবিবার) ঢাকায় আসেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বেরসে।
রাষ্ট্রপতি পদে আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্র দাখিল
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান মো. আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্র জমাপড়েছে নির্বাচন কমিশনে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সোমবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছিল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ রয়েছে। বুধবার যাচাই বাছাইয়ের পর ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্রা প্রত্যাহার করা যাবে। প্রার্থীর সংখ্যা একজনের বেশি না হলে তাকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর একাধিক প্রার্থী হলে ১৮ ফেব্রুয়ারি সংসদের অধিবেশন কক্ষে বিধিমালা অনুযায়ী ভোট হবে। সেখানে সংসদ সদস্যরাই ভোট দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নেবেন। সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপ্রধানের পদে ৭৪ বছর বয়সী আবদুল হামিদের দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়া আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. আবদুল হামিদ। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ অবসানের কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির তারিখের আগের নব্বই থেকে ষাট দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। ফলে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। গত ৩১ জানুয়ারি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় আবদুল হামিদকে আবারও রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শুক্রবার আবদুল হামিদের পক্ষে জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং রবিবার রাষ্ট্রপতি ওই মনোনয়নপত্রে সই করেন। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসেবে আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি। বাংলাদেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারেন। ফলে এবার নির্বাচিত হলে এটাই হবে আবদুল হামিদের শেষ মেয়াদ।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রধান বিচারপতি নিয়োগে সংবিধানে জ্যেষ্ঠতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি বলেছেন, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিবেন। সেখানে কোথাও লেখা নেই যে, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে হবে। রাষ্ট্রপতি তাঁর বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্তে আমরা শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। আইনমন্ত্রী রোববার রাজধানীর গুলশানস্থ লেকশোর হোটেলে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন আয়োজিত হিউম্যান রাইটস, সাসটেইনিবিলিটি রিপোর্টিং অ্যান্ড রেসপন্সিবল বিজনেস কনডাক্ট- হোয়াট ডাজ বিজনেস নিড টু নো শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্াব মিঞার পদত্যাগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি পদত্যাগ করতেই পারেন। এটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এখানে আইনমন্ত্রীর কিছু বলার নেই। বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে খুব শিগগিরই বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হবে। নিম্ন আদালত নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যেও পরিপ্রেক্ষিতে আনিসুল হক বলেন, উনি যে কথা বলেছেন, সেটা অসত্য। আমরা সকলেই বাংলাদেশের বিচার বিভাগের এবং বিচারালয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সেটাই সকলের ব্যক্ত করা উচিত। তিনি বলেন, আমি দুঃখিত যে উনি একথা বলেছেন। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ অসত্য। আইনমন্ত্রী বলেন, আগেও বলেছি এখনও বলছি, বিচার হয়েছে আদালতে, সাক্ষ্য প্রমাণ হয়েছে এবং সেই সাক্ষ্য প্রমাণাদি বিশ্লেষণ এবং বিবেচনায় নিয়ে বিচারক রায় দিবেন। এটুকুই জানি, তার বেশি জানি না। বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক এমপ্লয়ার্স সংস্থার মহাসচিব লিন্ডা ক্রোমজং, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ও ডেইলি সান পত্রিকার সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আশরাফ শামীম বক্তৃতা করেন।
শীঘ্রই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পরিম-লে সতর্ক কূটনৈতিক কার্যক্রম চালিয়েছে যাচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধানে আমরা বহুদূর অগ্রসর হয়েছি। আমরা আশা করি যে, জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাসমূহের সহযোগিতায় আমাদের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক আদান-প্রদান ও পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে অতি শীঘ্রই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোরশেদ আলমের পৃথক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মন্ত্রী আরও জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বৈষম্য ও নির্যাতনের ফলে বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। বর্তমানে দশ লাখেরও অধিক মিয়ানমার নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এদের মধ্যে ৬ লাখ ৮৮ হাজার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা গত বছরের ২৫ আগস্ট বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের অবস্থান বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক আর্থ-সামাজিক, পরিবেশগত এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। তিনি জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সমস্যা একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনসহ রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরও জানান, বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সরকার জোরালো দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ এবং একইসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সরকারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংগৃহীত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক তথ্য এবং ইউএনএইচসিআর-এর পরিবার ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে বাংলাদেশ এবং ইউএনএইচসিআর-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। সংসদ সদস্য মোছাঃ সেলিনা জাহান লিটার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, রাখাইন রাজ্যে ঐতিহাসিকভাবে মুসলিমদের বসবাস ছিল। রোহিঙ্গাদের স্বতন্ত্র জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি দিলে আদিবাসী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিয়ানমার রোহিঙ্গা জাতিসত্ত্বা অস্বীকার করে আসছে। তিনি জানান, রাখাইন রাজ্যে রাখাইন সম্প্রদায় সংখ্যাগরিষ্ঠ। রাখাইনরাও রোহিঙ্গাদের বহিরাগত মনে করে এবং তাদের নাগরিকত্বের অধিকার বঞ্চিত করার উদ্দেশে রোহিঙ্গা জাতিসত্ত্বা অস্বীকার করে। সেনাবাহিনী, উগ্র জাতিয়তাবাদী রাখাইন, উগ্রবাদী বৌদ্ধ এবং ভিক্ষুদের একটি অংশ একাত্ম হয়ে রোহিঙ্গা জাতিসত্ত্বা অস্বীকার এবং রোহিঙ্গা নামকরণের বিরোধিতা করে আসছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর