শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২০
মাস্কের দাম ও মজুদ নজরদারিতে রাখার নির্দেশ আদালতের
০৯মার্চ,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট। কেউ যেন মাস্ক মজুদ রেখে মাস্কের দাম বেশি রাখতে না পারে তা তদারকির আদেশ দেন। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা নিতে বলেছে হাইকোর্ট। সোমবার করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কিত প্রতিবেদনের ওপর শুনানিতে আদালত এসব কথা বলেন। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই শুনানি হয়। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নেওয়া পদক্ষেপের প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়। আদালতে পাঁচ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনটি পড়ে শুনান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল-মাহমুদ বাশার। প্রতিবেদন শোনার পর আদালত নির্দেশনা দিয়ে বলেছে, দেশের অভ্যন্তরে সকল স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরগুলোতে পর্যাপ্ত থার্মাল স্ক্যানার বসাতে হবে। বিশেষ করে ঢাকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি থার্মাল স্ক্যানারের মধ্যে দুটি নষ্ট থাকায় অবিলম্বে এগুলোকে সচল করতে হবে। করোনাকে কেন্দ্র করে মাস্কসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের মূল্য নিয়ে কেউ যাতে অনৈতিক ব্যবসা করতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মনিটর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদেশ থেকে কেউ আসলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস নেই- এ সম্পর্কিত (সংশ্লিষ্ট দেশের) নিশ্চয়তাপত্র থাকতে হবে বলেও নির্দেশনায় বলা হয়। গত ৫ মার্চ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে এসব নির্দেশনা দেন আদালত।
মাদক নির্মূলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: আইজিপি
০৯মার্চ,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পাশাপাশি মাদক নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। মাদকের ভয়াবহতা ঠেকাতে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর নয়, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আজ সোমবার দুপুরে বাগেরহাটে পুলিশ সুপারের নবনির্মিত কার্যালয় উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন তিনি। আইজিপি বলেন, দেশে মাদকের সাপ্লাই যেন না আসতে পারে সে জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যে কোনো মূল্যে মাদক সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। এর প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সেক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। এর আগে আইজিপি হেলিকপ্টারযোগে খানজাহান আলী কলেজ মাঠে নামেন। সেখান থেকে শহরের খারদ্বারে নবনির্মিত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আসেন। এবং ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে নবনির্মিত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি বিভিন্ন ঐতিহাসিক টেরাকোটা ষাট গম্বুজ মসজিদ পরিদর্শন করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পুলিশের খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ কামরুজ্জামান টুকু, জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ, জেলা পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, বাগেরহাট পৌর মেয়র খাঁ হাবিবুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন, জেলা পুলিশিং কমিটির সভাপতি অ্যাড. মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শাহ আলম টুকু, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এ বাকি তালুকদারসহ বাগেরহাট পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, ৯টি পুলিশ সুপার অফিস ভবন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৯ কোটি ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে বাগেরহাট শহরের খারদ্বারে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয় নির্মাণ করা হয়।
মোদির বাংলাদেশ সফর বাতিল
০৯মার্চ,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের কারণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর বাতিল করা হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের নেয়া এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। এর আগে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে মুজিববর্ষের ১৭ মার্চের আয়োজন সীমিত করার ঘোষণা দেয়া হয়। ওই ঘোষণায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, মুজিববর্ষ হলো বছরব্যাপী আয়োজন। বিদেশি অতিথিদের আসার কথা ছিল। যেহেতু বিষয়টি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, তাই বিদেশি অতিথিরাও পরেই আসবেন। আগামী ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর (মুজিববর্ষ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামদেক হুন সেন, ইউনেস্কোর সাবেক মহাসচিব ইরিনা বোকোভাসহ বেশ কয়েকজন বিদেশি অতিথির। এছাড়া কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কোন্তের থাকার বিষয়েও আলোচনা চলছিল। প্রসঙ্গত রোববার (০৮ মার্চ) বাংলাদেশে তিন জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। তাদের দু’জন ইতালি থেকে এসেছেন এবং অপরজন সংক্রমিত একজনের সংস্পর্শে এসেছিলেন।
করোনা মোকাবেলায় সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক: বাণিজ্যমন্ত্রী
০৮মার্চ,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি বলেছেন, সরকার করোনা ভাইরাস নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। এর মোকাবেলায় সরকার সব ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস (কোভিড -১৯) র কারণে বাংলাদেশে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কি প্রভাব পড়ছে সরকার তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই ভাইরাস মোকাবেলায় সরকার সবধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আজ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (বিআইসিসি)র উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় দ্বিতীয় সেশনে নিউ ইনকোটার্মস-২০২০ রুলসের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। এর আগে টিপু মুন্সী বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে বিধিবিধান সময়োপযোগী হওয়া প্রয়োজন। বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্যে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য প্রচলিত নিয়ম-কানুনগুলোরও পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড বিজনেস অর্গানাইজেশনের সহায়তায় সময়ে সময়ে তালমিলিয়ে নতুন রুলস প্রবর্তন করা হয়। এজন্য নিউ ইনকোটার্মস-২০২০ রুলস চালু হতে যাচ্ছে। টিপু মুন্সী বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। বিদেশী বিনিয়োগও বাড়ছে। তিনি বলেন, গত বছর ৮ দশমিক ১৫ ভাগ জিডিপি অর্জিত হয়েছে। এবছর জুলাই অক্টোবর সময়ে দেশে ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেষ্টমেন্ট এসেছে। গতবছর দেশের রপ্তানি আয় ছিল ৩৯ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সালিশের মাধ্যমে দিনদিন বাণিজ্য বিরোধ সমাধানের গ্রহনযোগ্যতা বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আগামী ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। প্রতিযোগিতা করেই বাংলাদেশকে বিশ্ববাণিজ্যে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, তবে বাণিজ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধও বাড়বে, আর এটাই স্বাভাবিক। নতুন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন নতুন নিয়ম কানুন। নতুন নতুন বাণিজ্য বিরোধ সমাধানে নিউ ইনকোটার্মস-২০২০ রুলস অধিক কার্যকর হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী নিউ ইনকোটার্মস-২০২০ রুলস এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিআইসিসির প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, মিউচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ও আইসিসি বাংলাদেশ ব্যাংকিং কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সিইও মুহাম্মদ এ রুমি আলী।
করোনায় হজে যেতে না পারলে টাকা মার যাবে না: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
০৮মার্চ,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের কারণে কেউ যদি হজে যেতে না পারেন, তাহলে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন না বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ। রবিবার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে ২০২০ সালের হজ নিবন্ধন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাকা জমা দিয়ে কেউ যদি করোনা ভাইরাসের কারণে হজে যেতে না পারেন তাহলে তাদের টাকা মার যাবে না। এবার যেতে না পারলে আগামীবার যেতে পারবেন। তিনি জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে নিয়মিতভাবে যোগাযোগ হচ্ছে। তারা সব রকমের সহযোগিতা দেবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট তিনটি হজ প্যাকেজ ঘোষিত হয়েছে। প্যাকেজ-১ এ খরচ সর্বমোট চার লাখ ২৫ হাজার, প্যাকেজ-২ এ তিন লাখ ৬০ হাজার ও প্যাকেজ-৩ এ তিন লাখ ১৫ হাজার টাকা। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৩০ জুলাই (৯ জিলহজ) হজ অনুষ্ঠিত হবে। ২৩ জুন শুরু হবে হজ ফ্লাইট। আর ১৫ মার্চের মধ্যে শেষ করতে হবে নিবন্ধন।
নারী স্বাবলম্বী হলে সমাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে : প্রধানমন্ত্রী
০৮মার্চ,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নারী যত স্বাবলম্বী হবে একটা সমাজ তত দ্রুত এগিয়ে যাবে। নারীরা বিভিন্ন সময় প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। তবে আমরা সেগুলো প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। যারা নারীদের উপর পাশবিক নির্যাতন চালায় তাদেরকে মানুষ বলতে ইচ্ছে করে না। এ নির্যাতন বন্ধে পুরুষদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। আজ রোববার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি আন্দোলনে নারীরা ভূমিকা রেখেছেন। এ পথ দেখিয়েছিলেন বেগম রোকেয়া। তিনি যদি নারীদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা না করে দিতেন তাহলে নারীরা এ পর্যন্ত আসার সুযোগ পেত না। নারী দিবস মার্চ মাসে। মহান স্বাধীনতার মাস এটি। সংবিধানের মধ্যে জাতির পিতা নারীদের অধিকার দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নারী হিসেবে নিজের মায়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশে ছিলেন আমার মা। তিনি আমাদেরকে মানুষ করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। মা যদি দায়িত্ব না নিতেন তাহলে বাবা দেশ গঠনের জন্য কাজ করতে পারতেন না। ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ ভাষণের বিষয়ে মা বাবাকে বলেছিলেন, তোমার মনে যা আছে তুমি তাই বলবে। আমার বাবা ঐ দিন ভাষণে মনের কথা বলেছিলেন। কোন কাগজ ছিল না, কোন নোট ছিল না। সেই ভাষণ এখন ইউনোস্ক স্বীকৃতি দিয়েছে। নারী অধিকারে জাতির পিতার অবদানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই তিনি নারীদের জন্য সমান অধিকারের কথা বলেছেন। সে সময়ে এ কাজটা বেশ কঠিন ছিল। তিনি বলতেন, মেয়েদের জন্য শুধু অধিকারের কথা বললে হবে না। তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। একটা মেয়ে যদি বাসায় ফেরার সময় আঁচলে দশটা টাকা নিয়ে আসতে পারে তাহলে তাকে কেউ অবহেলা করতে পারবে না। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগই এক মাত্র সংগঠন যেখান বলা হয়েছে, নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের কথা। নারী যত স্বাবলম্বী হবে একটা সমাজ তত দ্রুত এগিয়ে যাবে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে নারীদের উপর বর্বর নির্যাতনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী নারীদের উপর নির্মম নির্যাতন করেছিল। এ কাজে তাদেরকে সহযোগিতা করেছিল স্বাধীনতার দোসররা। তারা হানাদারদের হাতে মেয়েদের তুলে দিতেন। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পন করলে নির্যাতিত মেয়েদেরকে উদ্ধার করা হয়। তখন জাতির পিতা নারীদের পুনঃবাসনের জন্য বোর্ড গঠন করেছিলেন। নির্যাতিত নারীদের সম্মাননা দিয়েছিলেন, বীরঙ্গনা উপাধীর মাধ্যমে। তখন অনেক বাবাই নির্যাতিত মেয়েকে ফেরত নেয়নি। সে সময় জাতির পিতা তাদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আমার মা তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। অনেক বাবাই মেয়েকে পরিচয় না দিলে বিয়ের সময় কাবিননামায় জাতির পিতা নিজের নাম লিখে তাদের বিয়ে দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা আরও বলেন, মেয়েদের অধিকার নিশ্চিত করতে জাতির পিতা সরকারী চাকরিতে ১০ ভাগ কোটার ব্যবস্থা করেছিলেন। সব ক্ষেত্রে যেন মেয়েরা অধিকার পায় তার ব্যবস্থা করেছিলেন। সে সময় বিচার বিভাগে নারীকে নিয়োগ দেওয়া হতো না। জাতির পিতা আইন করে নারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করেছিলেন। সংবিধানে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করে ছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে এসে নারীদের জন্য বিভিন্ন কাজ করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সরকারে এসে দেখলাম অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের অবস্থান নেই। আমি তখন বিভিন্ন বাহিনীতে নারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করি। আমরা বাবার নামের পাশে মায়ের নামকেও পরিচয়ে যুক্ত করি। এখন প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত মেয়েদেরকে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। খেলাধুলায় নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য আমাদেরকে অনেক প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়েছিল। নারীরা আজ খেলাধুলায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বয়ে আনছে। হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে নারী বিচারক ছিলেন না। ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করে নারী বিচারক নিয়োগের ব্যবস্থা করেছি। এ সময় নারীদের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য তার সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ছাত্রলীগের শ্রদ্ধা
০৭মার্চ,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের আহমেদ এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মো. ইব্রাহিম ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়সহ কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ নেতাকর্মীরা। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মানুষ হাজির হয়েছিলেন মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। মুক্তিকামী মানুষের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও নিরাশ করেননি তাঁদের। জনসমুদ্রের মধ্যে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯ মিনিটের যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তা ইতিহাস হয়ে আছে। এবার ৭ মার্চ জাতির সামনে অন্য মহিমায় হাজির হয়েছে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা বা ইউনেস্কো ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ঐ দিনের বিশাল জনসমাবেশে দেয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। আসন্ন যুদ্ধপ্রস্তুতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া বঙ্গবন্ধুর ঐ ভাষণই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার আহ্বানের অধীর অপেক্ষায় ছিল বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। স্লোগান ছিল ময়দানজুড়ে পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ববাসীর জন্যও প্রেরণার চিরন্তন উৎস: রাষ্ট্রপতি
০৭মার্চ,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কেবল বাঙালি জাতির নয়, বিশ্ববাসীর জন্যও প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে। তিনি ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার এক বাণীতে এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, আগামীকাল ৭ মার্চ, বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসে অবিস্মরণীয় একটি দিন। এ দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর অনন্য-সাধারণ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে অর্জন করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতা বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন, তবে তা একদিনে অর্জিত হয়নি উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, মহান ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনের এই দীর্ঘ বন্ধুর পথে বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম সাহস, সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সঠিক দিক-নির্দেশনা জাতিকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১ মার্চ থেকে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম সাহসিকতার সাথে ঢাকায় রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) লাখো জনতার উদ্দেশ্যে বজ্রকণ্ঠে যে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন তা ছিল মূলত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, অনন্য বাগ্মিতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় ভাস্বর ওই ভাষণে জাতির মুক্তির আকাঙ্খাকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধু বলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, যা ছিল মূলত স্বাধীনতার ডাক। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক সেই ভাষণের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, বাঙালি জাতির বহুকাঙ্খিত স্বাধীনতা। তাঁরই নেতৃত্বে দীর্ঘ নমাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর কালজয়ী ভাষণগুলোর অন্যতম এ কথা উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে মুক্তিকামী জনগণকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ঐ ভাষণ ছিল এক মহামন্ত্র। একটি ভাষণ কীভাবে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তোলে, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ তার অনন্য উদাহরণ। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর এ ভাষণকে ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজর মর্যাদা দিয়ে মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তিনি বলেন, বাঙালি হিসেবে এটি আমাদের বড় অর্জন। এ ভাষণের কারণে বিশ্বখ্যাত নিউজ উইক ম্যাগাজিন ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল সংখ্যায় বঙ্গবন্ধুকে পোয়েট অব পলিটিক্স হিসেবে অভিহিত করে। তাই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কেবল আমাদের নয়, বিশ্ববাসীর জন্যও প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশকে সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করাই ছিল বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লালিত স্বপ্ন-এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন,আমাদের মহান নেতার সে স্বপ্ন পূরণে আমাদের অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্ম-শতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপিত হবে। এছাড়া ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ একটি দেশে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-৪১ ঘোষণা করেছেন। রাষ্ট্রপতি এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান। সূত্র: বাসস

জাতীয় পাতার আরো খবর