বিএনপির আন্দোলন করার সক্ষমতা নেই :সেতুমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক :বিএনপিকে আবারও ‘নালিশ পার্টি’ হিসেবে আখ্যা দিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘এখন দেখছি বিদেশিদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিয়ে নালিশ করা হচ্ছে। এই পার্টি আবারও প্রমাণ করলো, বিএনপি- বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি নয়; বাংলাদেশ নালিশ পার্টি।’ বুধবার (৮ আগস্ট) ঢাকার আজিমপুরে এতিমখানায় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৮৮তম জন্মবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে দেশে আন্দোলন হওয়ার মতো বস্তুগত পরিস্থিতি বিরাজমান নেই। নানা খেলা চলছে। নানা অশুভ খেলা চলছে। আন্দোলন একবার কোটা আন্দোলনে ভর করে, একবার শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের ওপর ভর করে। শিশুরা বাড়ি ফিরে গেছে। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে ভর করে সফলতা আসেনি।’ বিএনপির আন্দোলন করার সক্ষমতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘নিজেদের আন্দোলন করার সক্ষমতা নেই। ব্যর্থ হয়ে বিদেশিদের কাছে দেশের কথা বলছে—এরা দেশপ্রেমী নয়।’ ‘আক্রান্ত হয়েও আওয়ামী লীগকে আক্রমণকারী বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে কাদের বলেন, ‘আমাদের ৪৬ নেতাকর্মী আহত। শিলা-পাথর ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যাগে ছিল না। অরাজনৈতিক আন্দোলনে যে রাজনীতিক অনুপ্রবেশ ঘটেছে, তারাই পাথর বহন করেছে। মিরপুর থেকে হাজার হাজার স্কুলড্রেস ও ব্যাগ সংগ্রহ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নীলক্ষেত থেকে ভুয়া আইডি কার্ড সংগ্রহ করে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনকে নোংরা রাজনীতিক আন্দোলনের দিকে নিয়ে যাওয়ার অশুভ এজেন্ডা যাদের, তাদের আমরা নিন্দা জানাই। তাদের ধিক্কার জানাই। আজ আরাফাত নামে আমাদের এক কর্মীকে বিদেশে পাঠাতে হচ্ছে। তার একটি চোখ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।’ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে—এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো মিডিয়ায় এবং কোনো কোনো কাগজে এমনকি ফেসবুকে যেভাবে অপপ্রচার হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছিল সে (আরাফাত) আন্দোলনরত ছাত্র। তার চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। সে যে আমাদের দলের সেটা বলা হয়নি।’ বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার উৎস; সাহসের উৎস। বেগম মুজিব সহধর্মিণী ছিলেন বলে শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু হয়েছিলেন। এ কথা অস্বীকারের কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশে বহু ফাস্টলেডি দেখেছি কিন্তু বেগম মুজিবকে আমরা পদ ও প্রদীপের আলোয় খুব একটা দেখিনি। তিনি সব সময় ছিলেন পর্দার অন্তরালে।’ অনুষ্ঠান শেষে দুস্থদের মধ্যে খাবার ও বস্ত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সি। সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী।
বিএনপি এখন দেওলিয়া হয়ে গেছে :হানিফ
অনলাইন ডেস্ক :এতিমের টাকা মেরে খাওয়ায় খালেদা জিয়াকে সাজা আদালত দিয়েছে বলে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘একমাত্র আদালতই পারে তাকে মুক্তি দিতে। আন্দোলন ও বিদেশিদের কাছে নালিশ করে তাকে মুক্ত করা যাবে না।’ বুধবার (৮ আগস্ট) সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে স্মার্ট পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি এখন দেওলিয়া হয়ে গেছে, তাই তাদের রাজনীতি এখন নালিশ করা—এমন মন্তব্য করে হানিফ বলেন, ‘এ দেশের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ যাদের ভোট দেবে তারা ক্ষমতা আসবে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। কে আসল আর কে না আসল তার জন্য নির্বাচন থেমে থাকবে না।’ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলাকালে তাদের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা ঢুকে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি তদন্ত করে বিচার দাবি করছি। সরকার ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের অনেক দাবি মেনে নিয়েছে। বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গেছে। সড়ক মৃত্যুর মিছিল যাতে কমে সেজন্য কঠোর আইন করা হয়েছে। আইনের প্রয়োগে শুরু হলেই দেশের সড়ক নিরাপদ হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে।’ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি রবিউল ইসলাম, পৌর মেয়র আনোয়ার আলী, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নওয়াবুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার সোহেল রহমান, এডিএম হাসান হাবিব, স্থাণীয় সরকারের উপ-পরিচালক মোস্তাক আহমেদ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা। এ সময় মাহবুবউল আলম হানিফ সাত সিনিয়র নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ৯ আগস্ট থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত এ কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চলবে।
ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু
অনলাইন ডেস্ক :আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের জন্য আজ বুধবার থেকে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি চলবে ১২ আগস্ট পর্যন্ত। সকাল আটটা থেকে ২৬টি কাউন্টার থেকে টিকিট দেওয়া হচ্ছে । টিকিটের জন্য কমলাপুর রেলস্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মানুষ। সকাল থেকে টিকিট কাউন্টারগুলোর সামনে লাইনে দাঁড়ান এসব টিকিটপ্রত্যাশীরা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। আজ দেওয়া হচ্ছে ১৭ আগস্টের টিকিট। ৯ আগস্ট ১৮ আগস্টের, ১০ আগস্ট ১৯ আগস্টের, ১১ আগস্ট ২০ আগস্টের এবং ১২ আগস্ট ২১ আগস্টের অগ্রিম টিকিট দেওয়া হবে। একইভাবে ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হবে ঈদ ফেরত যাত্রীদের জন্য ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি। ঈদ ফেরত অগ্রিম টিকিট রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টায় বিক্রি শুরু হবে। ২৪ আগস্টের ফিরতি টিকিট দেওয়া হবে ১৫ আগস্ট। একইভাবে ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্ট যথাক্রমে পাওয়া যাবে ২৫, ২৬, ২৭ ও ২৮ আগস্টের টিকিট।
রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারকে বোঝান: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশ থেকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারকে রাজি করানোর জন্য জাপানসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের অবশ্যই তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে, এজন্য মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য বোঝাতে হবে।’ সফররত জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে শেখ হাসিনা একথা বলেন। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছরের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বহুসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী এসে এদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে এবং তারা সংখ্যায় কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও ছাড়িয়ে যাওয়ায় নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ এ কারণে ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, কারণ তাদের চাষাবাদের জমিগুলোতে পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নিতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাই আমরা স্থানীয় জনগণকেও সহায়তা প্রদান করছি।’ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যদিও নিপেডো রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল তথাপি তারা এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, ‘আমরা এসব রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকরা রোহিঙ্গাদের কষ্ট লাঘব করতে কক্সবাজারে কাজ করে যাচ্ছে; তারাও দেশে ফেরার পর এসব রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারে। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, তিনি তার সাম্প্রতিক মিয়ানমার সফরে দেশটির রাষ্ট্রপতি উইস মিন্ট এবং স্টেট কাউন্সিলর অং সাং সুচির সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারের নেতৃবৃন্দ তাকে জানান, তারা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ফিরে যাবার পর যাতে ভালো পরিবেশে তারা বসবাস করতে পারে সেজন্য রাখাইন স্টেটে ঘরবাড়ি এবং স্কুল নির্মাণ কর্মসূচি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আমি তাদের বলেছি।’ তারো কোনো বলেন, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলো যাতে তাদের প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে পরিদর্শন করানো হয় এবং রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার বিষয়ে তারা যেন বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সেজন্যও তিনি মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষতে আহ্বান জানিয়েছেন। আলোকিত বাংলাদেশ
প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানো হবে আহতদের
অনলাইন ডেস্ক:নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ অফিসে দুর্বৃত্তদের হামলায় দলের আহত কর্মীদের দেখতে চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সেখানে চিকিৎসা নিতে যাওয়া অাহত কর্মীদের প্রয়োজনে বিদেশে নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান তিনি। হাসপাতালে দুর্বৃত্তদের হামলায় এক চোখ বিকল হয়ে যাওয়া সেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আরাফাতুল ইসলাম বাপ্পিসহ চারজনের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে তাদের বিদেশে পাঠাতে নির্দেশ দেন তিনি। এই সময় দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. রুহুল হক এমপি, ডা. হাবিবে মিল্লাত এমপি ও দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, শনিবার ও রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় দলের উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন।
দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ আলোকচিত্রী শহিদুলকে
অনলাইন ডেস্ক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেফতার দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে দ্রুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এ চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মো. দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি ইকবাল কবীরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়া, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট তানিম হোসেন শাওন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। সেইসঙ্গে বোর্ড গঠন করে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে প্রতিবেদন দাখিলের জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সেদিন বাকি শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানিয়েছেন হাইকোর্ট। এর আগে শহিদুল আলমের ৭ দিনের রিমান্ড চ্যালেঞ্জ ও তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। গতকাল সোমবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় শহিদুল আলমের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. আসাদুজ্জামান নূর রিমান্ডের আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) আরমান আলী সোমবার বিকেলে শহিদুলকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
বোমারু মিজান ভারতে গ্রেফতার
অনলাইন ডেস্ক: নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির শীর্ষ নেতা মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজানকে ভারতে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ভারতের বেঙ্গালুরু শহরের এক গোপন আস্তানা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা-এনআইএ। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয় বলে মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে টাইমস অব ইনডিয়া। ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংয়ের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে বোমা মেরে ও গুলি করে আরও দুই জঙ্গির সঙ্গে বোমারু মিজানকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বাকি দুই জঙ্গি ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি ও রাকিব ও রাকিবুল হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদ। এর মধ্যে হাফেজ মাহমুদকে ওই দিন দুপুরেই টাঙ্গাইলে স্থানীয় জনতার সহায়তায় আটক করে পুলিশ। পরে গভীর রাতে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন তিনি। অন্যদিকে বোমারু মিজান ও সালেহীনের আর খুজেঁ পাওয়া যায়নি। পরে ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমান শহরের খাগড়াগড়ের একটি দোতলা বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দুই জঙ্গি নিহত এবং একজন আহত হন। এই ঘটনার পর ভারতীয় সংস্থা এনআইএ জানতে পারে, খাগড়াগড়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণের অন্যতম হোতা বোমারু মিজান। তিনি পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান নিয়ে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পরে খাগড়াগড় মামলার আসামি হিসেবে বোমারু মিজানকে ধরতে ১০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
জাতিসংঘ ও মার্কিন দূতাবাস যে বক্তব্য দিয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক
অনলাইন ডেস্ক: তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন,সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন দূতাবাস যে বক্তব্য দিয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা বলেছেন, শিশুদের আন্দোলনকে বর্বরোচিত হামলার মধ্য দিয়ে দমন করা হয়েছে। অথচ এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। কোনো গণমাধ্যমে এমন কোনো রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি। শিশুরা আন্দোলন করেছে, সমাবেশ করেছে তাদের ওপর কোনো হামলা করা হয়নি। মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দফতরে চলমান ঘটনা নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আন্দোলন চলাকালে ঢাকা শহরের প্রকৃত চিত্র নিয়ে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি মার্কিন দূতাবাস। তারা মনগড়া বিবৃতি দিয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদেরও দেয়া বিবৃতির মধ্যে দিয়ে মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়ে শিষ্টাচারবহির্ভূত নাক গলানোর অপপ্রয়াস করেছেন। আমরা এর নিন্দা করি। বিবৃতিকে প্রত্যাখ্যান করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন,মার্কিন দূতাবাসকে এ বিবৃতি প্রত্যাহার করার অনুরোধ করছি। একইসঙ্গে বাংলাদেশে নিয়োজিত জাতিসংঘের যে প্রধান তিনিও এ ধরনের একটি বিবৃতি দিয়েছেন। আমার কথা হচ্ছে এ দুটো বিবৃতিই নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের বিষয়ে সঠিক নয়। মন্ত্রী বলেন,বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা যখন মাঠে নেমে কোনো অরাজকতা ছাড়াই বিভিন্ন যানবাহনে লাইসেন্স চেকিং করে তখন আমরা পুলিশকেও বলেছি, তারা যেন শিক্ষার্থীদের একাজে বাধা না দেয়। এ ফাঁকে তারা বিভিন্ন পরিবহনে অনিয়মগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। প্রশাসন এসময় তাদের পাহারা দিয়ে রাখে। ইনু বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধান করেন এবং তাদের নয় দফা দাবি মানতে নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে কিছু দাবি প্রধানমন্ত্রী ত্বরিৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্যদিয়ে কার্যকর করা শুরু হয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন,ঠিক সেই মুহূর্তে আমরা খেয়াল করলাম বাইরে থেকে কেউ কেউ উস্কানি দিচ্ছে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার একটা অপচেষ্টা করা হচ্ছে। কতিপয় চিহ্নিত মহল আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে আক্রমণ করে। সেই ক্ষেত্রে যখন বাইরের উস্কানিদাতাদের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের সংঘর্ষ হয় এবং আমরা শিশুদের রক্ষার চেষ্টা করি। তবে পরিষ্কার কথা হচ্ছে শিশুদের ওপর কোনো দমন পীড়ন করা হয়নি। তিনি বলেন,আমি সরকারের পক্ষ থেকে দেশের তথ্যমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘের এ বিবৃতি অনভিপ্রেত মনে করি। এটা অযাচিত বলে মনে করি। মন্ত্রী বলেন,আপনারা জানেন নয় দফা দাবি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হচ্ছে। সড়ক পরিবহন আইন তৈরি করা হয়েছে। সব ধরনের দাবিতে সরকারের আন্তরিকতা আছে। আর যারা মিথ্যাচার করার চেষ্টা করেছে তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে ইনু বলেন, কিছু জায়গায় সাংবাদিক বন্ধুদের যারা হামলা করেছে এটা দুঃখজনক ঘটনা। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করতে আমরা আজই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিব। তবে আমাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মৌখিকভাবে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। তবে আমি আবারও বলবো কর্তব্যরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমি এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য আমরা সজাগ থাকবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারিদের ছবি আমরা সংগ্রহ করেছি। তাদের বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আপনারা বলছেন সাংবাদিকদের ওপর হামলা হলে তথ্য মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এটা সঠিক নয়। আমরা এর আগেও যেসব ঘটনা ঘটেছে সেখানেও ভূমিকা রেখে তা সমাধানের চেষ্টা করেছি। আপনারা খেয়াল করেছেন সম্প্রতি সাংবাদিকরা জঙ্গি হামলার শিকার হচ্ছে বেশি। সরকারের কোনো বাহিনীর হামলার শিকার হচ্ছে না।
মার্শা বার্নিকাটের গাড়িতে হামলার তদন্তভার যাচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশে
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকার মোহাম্মদপুরে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়িতে হামলার তদন্তভার যাচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ। মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার যে সাধারণ ডায়েরি করেছেন, তার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে দুয়েক দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি মহানগর পুলিশ ওই ঘটনার ছায়া তদন্তে থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা তদন্ত করে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য বলা সম্ভব নয়। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। শনিবার রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের বাড়িতে নৈশভোজ করে বের হওয়ার সময় হামলার মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের গাড়ি। ওই সময় বদিউল আলম মজুমদারের বাড়িতেও ঢিল ছোড়া হয়। পুরো ঘটনা নিয়ে তিনি পরে থানায় জিডি করেন। রোববার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মোটরসাইকেল আরোহীসহ একদল সশস্ত্র লোক শনিবার মোহাম্মদপুর এলাকায় ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে বহনকারী দূতাবাসের একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলায় কারো কোনো ক্ষতি হয়নি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রদূত ও তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত দল অক্ষত অবস্থায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে রাষ্ট্রদূতের নিরাপত্তা দলের দুটি গাড়ির কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এদিকে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বদিউল আলম মজুমদারের বাসায় সেই নৈশভোজে ড. কামাল হোসেন, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, হাফিজউদ্দীন, বিচারপতি আব্দুর রউফসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত থাকলেও জিডিতে কেবল বার্নিকাটের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, শুধু বার্নিকাটের নাম দেয়ার পেছনে অন্য কোনো বিষয় আছে কিনা, তাও তদন্তে আসবে। তা ছাড়া ওই বাসায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের যাওয়ার বিষয়ে পুলিশকে না জানানোর কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব বিষয়ে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের কোনো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এখন পর্যন্ত পায়নি বলে জানান তিনি।

জাতীয় পাতার আরো খবর