রিফাত হত্যার ঘটনায় পুলিশ অপরাধীদের ধরতে কাজ শুরু করে দিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৭জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বরগুনার রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ বসে নেই। ইতোমধ্যে পুলিশ দু জনকে গ্রেফতার করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সার্বিকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) চট্টগ্রাম বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ অপরাধীদের ধরতে কাজ শুরু করে দিয়েছে। ১০ বছর আগের পুলিশ আর এখনকার পুলিশের দক্ষতায় পার্থক্য আছে। ইতোমধ্যে দু জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সবাইকে আইনের আওতায় আনবে বলেও জানান তিনি। এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রিফাত হত্যাকারীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় অলরেডি একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেফতার করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, পুলিশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে আছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। উল্লেখ্য, বুধবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফ নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।নিহত রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তার বাবার নাম আ. হালিম দুলাল শরীফ। মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন রিফাত।
রিফাত হত্যা: অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
২৭জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রকাশ্যে সড়কে রিফাত শরীফ (২৩) নামে এক যুবককে তার স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে তিনি এ নির্দেশ দেন। এদিকে বরগুনায় দিনে দুপুরে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে আদালত বিস্ময় প্রকাশ করেন। আদালত বলেন, একটা মানুষকে প্রকাশ্যে কোপানো হলো, কিন্তু একটা মানুষও এগিয়ে আসলো না? সবাই দাঁড়িয়ে ভিডিও করলেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসলেন না? প্রত্যেকটা জনগণের ব্যর্থতা। আদালত বলেন, সবাই এগিয়ে আসলে তো খুনিরা সাহস পেত না। তবে খুনিরা পাওয়ারফুল বলে কেউ এগিয়ে আসেনি বলেও মন্তব্য করেন আদালত। এ ঘটনায় বরগুনার ডিসি ও এসপি কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তা জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। অন্যদিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চন্দন নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৬ জুন) রাতে চন্দনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন। তিনি বলেন, বুধবার রাতে নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলার ৪ নম্বর আসামি চন্দন। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বুধবার বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সকাল ১০টার দিকে নয়নের নেতৃত্বে ৪-৫ জন সন্ত্রাসী রিফাতকে দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যায়। এ সময় বারবার সন্ত্রাসীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। নিহত রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তার বাবার নাম আ. হালিম দুলাল শরীফ। মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন রিফাত। এদিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে যে নৃশংস দৃশ্য দেখা যায়, যা কারও কাম্য নয়। কিন্তু যে দুই যুবক এই হত্যালীলা চালালেন, তারা কারা? এ প্রশ্ন এখন দেশবাসীর। সবাই জানতে চাচ্ছেন, এদের শক্তির উৎস কী? স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকারী দুই জনের একজন রিফাত ফরাজী। আরেকজনের নাম নয়ন (২৫) বন্ড। দুইজনই অনেক আগে থেকেই অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ। তাদের কারণে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে যুক্ত ছিলেন রিফাত ফরাজী। এ কারণে স্থানীয়দের কাছে একটি আতঙ্কের নাম রিফাত ফরাজী। রিফাতের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন, এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের ওপর হামলা, মারধর রিফাতের কাছে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এসব কারণে কয়েকবার গ্রেফতার হলেও অজ্ঞাত এক কারণে খুব স্বল্প সময়েই মুক্তি পান তিনি। ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তরিকুল ইসলাম (২১) নামে এক প্রতিবেশীকে কুপিয়ে মারাত্মক যখম করেন রিফাত ফরাজী। তরিকুল জানান, একদিন সামান্য কথা কাটাকাটি হয় রিফাত ফরাজীর সঙ্গে তার। তখন রিফাত ফরাজী তাকে কুপিয়ে যখম করার হুমকি দেন। রিফাত ফরাজীর ভয়ে তিনি দেড় মাস রিফাত ফরাজীর বাসার সামনে দিয়ে না গিয়ে আধা কিলোমিটার পথ ঘুরে তার বাসায় যাওয়া আসা করতেন। হুমকি দেয়ার দেড় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর একদিন সন্ধ্যায় রিফাত ফরাজীর বাসার সামনে দিয়ে তরিকুল তার বাসায় যাওয়ার পথে রিফাত ফরাজী দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার মাথায় গুরুতর যখম করেন। এ ঘটনায় তরিকুলের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। একই বছর রিফাত বরগুনার হোমিও চিকিৎসক ডা. আলাউদ্দিন আহমেদের ডিকেপি রোডের বাসার ছাত্র মেসে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে বাসায় থাকা সব ছাত্রদের জিম্মি করে, তাদের ১৪টি মোবাইল ছিনতাই করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ রিফাতের বাবা দুলাল ফরাজীকে আটক করে মোবাইলগুলো উদ্ধার করেন। এ বিষয়ে ডা. আলাউদ্দিন আহমেদের ছেলে ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান,ডিকেপি রোডের আমাদের ভাড়া দেয়া বরগুনা পলিট্যাকনিক ইনিস্টিটিউটের মেসে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে ১৪টি মোবাইল ছিনতাই করেন রিফাত ফরাজী। এ ঘটনা জানার পর আমি বরগুনা সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ করায় রিফাত ফরাজীর বাবা দুলাল ফরাজীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে তিনি রিফাতের কাছ থেকে ছিনতাই করা ১৪টি মোবাইলের মধ্যে ১১টি উদ্ধার করেন। আর বাকি তিনটি মোবাইল উদ্ধার করতে না পেরে নতুন মোবাইল কিনে দিয়ে থানা থেকে মুক্তি পান। ২০১৭ সালে বরগুনায় ইয়াবা, ফেন্সিডিল, হেরোইন ও দেশীয় অস্ত্রসহ নয়নসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা মারজানা মনি বলেন,২০১৭ সালের রমজানে আমার একমাত্র ছোট ভাই হাফেজ মো. মেহেদী হাসান বরগুনার হোমিও চিকিৎসক আলাউদ্দিন ডাক্তারের বাসা সংলগ্ন মসজিদে তারাবির নামাজ পড়ায়। তখন রিফাত ফরাজী একদিন মেহেদীর কাছ থেকে স্যামস্যাং গ্যালাক্সি কোর প্রাইম মডেলের বিদেশ থেকে আনা একটি ফোন ছিনিয়ে নেন। বিষয়টি রিফাত ফরাজীর মা-বাবাসহ স্থানীয় অনেককে জানানোর পরও আমার ভাইয়ের মোবাইলটি কেউ উদ্ধার করে দিতে পারেনি। পরে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করার পর সাড়ে সাত হাজার টাকার বিনিময়ে মোবাইলটি ফিরিয়ে দিয়ে হুমকি দেন রিফাত ফরাজী। পরে রিফাত ফরাজীর হুমকিতে ওই এলাকা ছেড়ে একপ্রকার পালিয়ে আসে আমার ভাই। বরগুনা সরকারি কলেজের দক্ষিণ-পশ্চিমে বরগুনা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে নয়ন বন্ডের (২৫) বাসা। নয়নের বাবা মৃত ছিদ্দিকুর রহমান। দুই ভাইয়ের মধ্যে নয়ন ছোট। নয়নের বড় ভাই মিরাজ দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুর প্রবাসী হওয়ার কারণে মাকে নিয়েই ওই বাসায় বসবাস করছেন নয়ন। ২০১৭ সালের ৫ মার্চ রাত ১১টার দিকে নয়ন বন্ডের বাসায় অভিযান চালায় বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক, দুটি দেশীয় অস্ত্র ও এক সহযোগীসহ নয়ন বন্ডকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসব মাদকের মধ্যে ছিল ৩০০ পিস ইয়াবা, ১২ বোতল ফেনসিডিল ও ১০০ গ্রাম হেরোইন। এ ঘটনায় দেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগী ইমামের গ্রেফতারের সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগী ইমামের বিরুদ্ধে। পরে তাদের জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে আসেন নয়ন বন্ড। জেল থেকেই বেরিয়ে মূলত এ হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি। এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবীর হোসেন মাহমুদ বলেন, নয়ন বন্ডের মাদক বাণিজ্যের কথা আমরা জানি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলার কথাও আমরা জেনেছি। এর আগে নয়ন ও তার সহযোগী জেল খেটেছে। জামিনে তারা বেরিয়ে যায়। রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়নসহ সবাইকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলদের পদত্যাগের নির্দেশ
২৭জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০১৭ সালের আগে নিয়োগ পাওয়া সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলদের পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার মধ্যে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের এমন নির্দেশের পর ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান রুবেল জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তাদের ডেকে নিয়ে বিকাল ৪টার মধ্যে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের সবাইকেই পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। তবে এর সংখ্যা কত তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। এরই মধ্যে কয়েকজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
আজ বসছে পদ্মাসেতুর ১৪তম স্প্যান
২৭জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ পদ্মা সেতুতে বসবে ১৪তম স্প্যান। সকালে স্প্যানটি কুমারভোগের বিশেষায়িত ইয়ার্ড থেকে ভাসমান ক্রেনবাহী জাহাজে করে খুঁটির কাছে নেয়া হচ্ছে। ১৪তম স্প্যানটি বসানো হবে সেতুর মাওয়া প্রান্তের ১৫ ও ১৬ নম্বর খুঁটিতে। সেতু বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, খুঁটি দুটি স্প্যান বহনের সম্পূর্ণ উপযোগী করা হয়েছে। ৩-সি নম্বর স্প্যান বসানোর সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। বসানোর উপযোগী করে স্প্যানটি ইয়ার্ডের জেটির কাছে রাখা হয়েছে। সেতুর মোট ২৯৪টি পাইলের মধ্যে পাইল ড্রাইভ সম্পন্ন হয়েছে ২৯০টি। বাকি চারটি পাইলের কাজ মধ্য জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা আছে। সেতুর মোট ৪২টি পিলারের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হয়েছে ২৯টির। জাজিরায় সেতুর ২৬ ও ২৭ নম্বর পিলারে পাইলের কাজ চলছে। ২৬, ২৭ নম্বর পিলারে সাতটি পাইলের মধ্যে ৫টি পাইল ড্রাইভ সম্পন্ন হয়ে গেছে। চীন থেকে আরও দুইটি স্প্যান মাওয়ার পথে রয়েছে। ৮টি স্প্যান ইয়ার্ডে ফিটিং করা হচ্ছে। ১৫ তম স্প্যান মাওয়ায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। ডাঙ্গায় থাকা দুই পিলারে ১৬টি পাইল। পদ্মাসেতুর পিলারের একেকটি পাইল লোড ৮ হাজার ২০০ টন। সেতুর ৫ নম্বর মডিউল এর ৫-ডি স্প্যানটি স্টোর করা হয়েছে। ২৮ ও ২৯ নম্বর পিলারের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এর পাশে রাখা হয়েছে। ৫-ই স্প্যানটিও রাখা হয়েছে, যা বসবে ২৯ ও ৩০ নম্বর পিলারে। রেলওয়ে স্ল্যাব বসেছে ৩২০টি ও রোডওয়ে স্ল্যাব ৩০টি। এদিকে চীনে প্রস্তুত বাকি ১৫টি স্প্যান যথাসময়ে মাওয়ায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। ৬ দশমিক ১৫ কিলেমিটার মূল সেতুটির সংযোগ সেতুসহ দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৯ কিলোমিটার। এ সেতু ২০২০ সালের শেষের দিকে চালু করা হবে। এদিকে চীন থেকে আরও দুটি স্প্যানবাহী জাহাজ মাওয়ার পথে রয়েছে। সমুদ্রপথে স্প্যান দুটি নিয়ে ১০ দিন আগে যাত্রা করা জাহাজটি কয়েক দিনের মধ্যে মোংলা বন্দরে পৌঁছবে। সেখান থেকে তা অন্য জাহাজে করে নদীপথে আনা হবে মাওয়া কুমারভোগের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে। চীন থেকে এ পর্যন্ত আসা ২৪টি স্প্যানের মধ্যে ১৫টি পরিপূর্ণ অবস্থায় ইয়ার্ড থেকে বের করে আনা হয়েছে। যা ১৩টি খুঁটিতে উঠানো হয়েছে। আর দুটি স্টোর করা হয়েছে খুঁটির কাছাকাছি মাঝের চরের প্লাটফরমে এরমধ্য থেকেই একটি বসতে যাচ্ছে ১৫ ও ১৬ নম্বর খুঁটিতে। আর বাকি ৮টি স্প্যান ইয়ার্ডে ফিটিং করা হচ্ছে।
দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে রোহিঙ্গারা: প্রধানমন্ত্রী
২৬জুন২০১৯,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন করা না গেলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত হতে পারে। আজ বুধবার (২৬ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা অধিবাসীরা অসন্তুষ্টিতে ভুগছে। তাদের অনেক অভাব অভিযোগ রয়েছে। তাদের প্রত্যাবাসনে সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের ১১ লাখের অধিক নাগরিকের জন্য অনির্দিষ্টকাল ধরে খাদ্য, পোশাক ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা আমাদের জন্য খুব কঠিন ব্যাপার,যোগ করেন তিনি। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের নাগরিকদের স্বেচ্ছায় আসেননি এখানে। সেদেশের সেনাবাহিনী তাদের জোর করে বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করেছে। তাদের খাদ্য, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক মানবিক সহায়তা জরুরি ছিল। আমরা তাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দিয়েছি। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্থানীয় এনজিওর সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের আমরা আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদান করছি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার অপপ্রচার চালাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মহল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যথাযথ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছে। আমরা বিভিন্ন ফোরামে বলেছি এসব বাস্তুচ্যুত জনগণের ফেরত মিয়ানমার সরকারের ওপর বর্তায় এবং তাদেরকেই উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য, মিয়ানমার সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি হয়নি। উপরন্তু মিয়ানমার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে এবং বলছে, বাংলাদেশের অসহযোগিতার কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হচ্ছে। বিশ্ব জনমত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অব্যাহতভাবে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনে একটি রিপোর্ট প্রেরণ করেছে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার তাদের এ বিষয়ে কাজ করতে দিচ্ছে না। মিয়ানমারের অসহযোগিতা সত্ত্বেও আমরা দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক দুইটি পথই খোলা রেখেছি।
১০ লাখ টাকা পাবে রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার
২৬জুন২০১৯,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। নিহতদের পরিবার পাবে ১০ লাখ টাকা ও আহতদের দেয়া হবে ১০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। বুধবার সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেয়ার সময় এ কথা বলেন রেলমন্ত্রী। তিনি বলেন, আহতদের সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে, আহতদের চিকিৎসায় যেন কোনো রকম অবহেলা করা না হয়। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থাই রাখা হবে। এর আগে রোববার রাতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচালে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার পর আহতদের খোঁজখবর এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে মঙ্গলবার রাত ১০টায় উপবন এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। ৮ ঘণ্টায় ৩১৯ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে সিলেটে পৌঁছান রেলপথমন্ত্রী। সিলেট রেলস্টেশনে কথা বলেন যুগান্তরের সঙ্গে। প্রথমেই তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ৩১৯ কিলোমিটার ৮ ঘণ্টা সময় লেগেছে ট্রেনের এটি স্বাভাবিক কিনা। এমন প্রশ্নে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল এই রেল বিভাগ। ২০১১ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রেলপথের উন্নয়নে হাত দিয়েছে। সারা দেশেই মিটারগেজ রেললাইনগুলো ডুয়েল গেজে রূপান্তরের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া এই লাইনগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত ভালো অবস্থায় নেয়া না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত সময় তো লাগবেই। তিনি আরও বলেন, ঢাকা-সিলেট রেলপথে আখাউড়া পর্যন্ত ডুয়েল গেজে রূপান্তরিত হয়েছে। আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েল গেজে রূপান্তরিত করতে ইতিমধ্যে ১৬ হাজার ১৪৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করেছে। দ্রুত তা বাস্তবায়নে কাজ চলছে। এই প্রকল্পের অধীনে এই রুটে আরও ১৬টি নতুন রেলস্টেশন নির্মাণ হবে এবং সিলেট রেলস্টেশনকে আরও আধুনিকভাবে নির্মাণ করা হবে। সবশেষে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে কিনা এমন প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তদন্তে কারও গাফিলতি কিংবা কাজে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ৯টায় প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে যান মন্ত্রী। পরে সেখান থেকে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সবশেষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তার।
সরকারি চাকরিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৫জুন২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশে ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) বাধ্যতামূলক হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত অনুমোদন নেয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই তথ্য জানান তিনি। আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা মাদকাসক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখন চাকরিতে প্রবেশের সময় আমার ডোপ টেস্ট বাস্তবায়ন করছি। চাকরি প্রার্থীর রক্তে যদি মাদকের আলামত পাওয়া যায় তাহলে তার আবেদন হয়তো বাতিল করে দেয়া হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমারের সরকার প্রধান আমাদের সঙ্গে তারা অনেক কথাই বলেন কিন্তু কিছুই কার্যকর হয় না।
ক্রিকেটারদের আরো সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
২৫জুন২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্রিকেটারদের আরো সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। সব ধরনের জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়রা অবসরের পরেও যাতে সুযোগ-সুবিধা পায় সে ব্যবস্থা করা হবে। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আগামীতে যাতে খেলোয়াড়েরা সারাবছর খেলাধুলার সাথে থাকতে পারেন সেজন্য বিশেষ তহবিল করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রিকেট খেলায় জয়ের ধারা ধরে রাখায় খেলোয়াড়দেরও প্রশংসা করেন। ক্রিকেটারদের জন্য আরো সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ অবসরের পরেও সব ধরনের জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়রা যাতে সুবিধা পায় সে ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেন তিনি। একনেক সভায় আজ ৬ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সন্ত্রাস মোকাবেলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ মোট ১০টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক। একনেক সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, ফুটপাত, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। সেই সাথে রেলওয়ের ২১টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেক্ট্রনিক লোকোমিটিভ নব রূপায়ন প্রকল্পটিও উপস্থাপন করা হয়। এসময় সরকার প্রধান প্রকল্পগুলোর গুণগত মান নিশ্চিতসহ নির্দিষ্ট সময় শেষ করার তাগিদ দেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর