মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২, ২০১৯
গায়েবি মামলা বলে কোনো কিছু নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: গায়েবি মামলা বলে কোনো কিছু নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা হয়। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে ১৯ জানুয়ারির বিজয় সমাবেশ সফল করতে আয়োজিত কর্মিসভায় এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, গায়েবি মামলা বলতে কোনো কিছু আমাদের অভিধানে নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে পুলিশি তদন্তে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে খালাস পাবেন, যোগ করেন মন্ত্রী। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, যে সব মামলা হয়, সে সব মামলায় আসামি দোষী প্রমাণিত হলেই কেবল বিচার বিভাগ তার বিচার করেন। এনটিভি
বুধবার নবনির্বাচিত এমপিদের শপথের বৈধতার রিটের শুনানি
অনলাইন ডেস্ক: দশম জাতীয় সংসদ না ভেঙে দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নেওয়া শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানির জন্য আগামীকাল বুধবার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে গতকাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এ রিট দায়ের করেন। গত ৮ জানুয়ারি সংবিধান অনুসারে দশম জাতীয় সংসদ না ভেঙে দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নেওয়া শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তাহেরুল ইসলাম তাওহীদের পক্ষে নোটিশটি পাঠান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। নোটিশে বলা হয়, সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদে সংসদ ভেঙে দিয়ে পুনরায় সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু সে অনুচ্ছেদ প্রতিপালন না করে পুনরায় সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ায় বর্তমানে দুটি সংসদ বহাল রয়েছে, যা সংবিধান পরিপন্থী। কিন্তু সে নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। গত ৭ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার ৪৭ সদস্য। নিয়মানুযায়ী প্রথমে প্রধানমন্ত্রী এবং পরে পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা শপথ নেন।
উপজেলা নির্বাচন মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে: ইসি সচিব
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে বিভাগওয়ারী ধাপে ধাপে উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হবে। এ নির্বাচনে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিস্তারিত তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং উপজেলা সদরগুলোতে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হবে। আজ নির্বাচন কমিশন ভবনে ৪২তম কমিশন সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব এ কথা বলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মাহবুব তালুকদার ছাড়া অন্য কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। তিনি চিকিৎসার জন্য ভারত সফরে রয়েছেন। এ সময় সচিব বলেন, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে বিভাগ অনুযায়ী ভোটগ্রহণ করা হবে। যেহেতু এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা, সামনে পবিত্র রমজান এই তিনটি বিষয় মাথায় রেখে প্রশাসনিক বিভাগ অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমরা সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। আশা করছি ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিস্তারিত তফসিল ঘোষণা করতে পারব। উপজেলাগুলোর মধ্যে সদর উপজেলাগুলোয় ইভিএম ব্যবহারের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। সদর উপজেলার পুরোটাই ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে। ইসি সচিব বলেন, উপজেলা নির্বাচন বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করছি, আট বিভাগে চার ধাপে আর যেগুলো পরবর্তীতে মেয়াদপূর্ণ করবে, সেগুলো একসঙ্গে করব। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে উপজেলা সদরগুলোতে ইভিএমে ভোট হবে।
২১ জানুয়ারি বর্তমান মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক
অনলাইন ডেস্ক: বর্তমান সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১ জানুয়ারি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মনিরা বেগম বলেন, আগামী ২১ জানুয়ারি সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা হচ্ছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রধান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যতীত মন্ত্রিসভার পূর্ণমন্ত্রী ২৪ জন, প্রতিমন্ত্রী ১৯ জন ও উপমন্ত্রী হলেন তিনজন। গত ৬ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করা হয়। পরের দিন ৭ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
নবম ওয়েজবোর্ডের প্রজ্ঞাপন ২৮ জানুয়ারির মধ্যে: তথ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে সংবাদপত্র কর্মীদের জন্য নবম ওয়েজবোর্ডের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ইলেকট্রনিক মিডিয়াকেও ওয়েজবোর্ডের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন হাছান মাহমুদ। এ সময় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে ওয়েজবোর্ডের আওতায় আনা প্রয়োজন মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ওয়েজবোর্ড যখন শুরু হয় তখন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ছিল না। সেজন্য এটি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় ইলেকট্রনিক মিডিয়া আছে। তাই আমি মনে করি, ইলেকট্রনিক মিডিয়াকেও ওয়েজবোর্ডের আওতায় আনা প্রয়োজন। পরে জাতীয় প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় করেন তথ্যমন্ত্রী। এ সময় অনলাইন মিডিয়ার জন্য আলাদা নীতিমালা করার কথা জানান হাছান মাহমুদ। মানসম্পন্ন গণমাধ্যম যেন হারিয়ে না যায়, সে লক্ষ্যে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি। তথ্য মন্ত্রণালয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান নতুন দায়িত্ব পাওয়া এই মন্ত্রী।
বর্ষা মৌসুমের আগেই সড়ক সংস্কার কাজ শেষ করার নির্দেশ মন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই সড়ক মেরামত ও সংস্কার কাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ সোমবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তর প্রধান, চলমান প্রকল্পসমূহের প্রধান এবং সড়ক ও জনপথের জোন প্রধানদের সভায় এ নির্দেশনা দেন সেতুমন্ত্রী। সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশের সড়ক-মহাসড়কের ওপর স্থাপিত কাঁচাবাজার ও ভাসমান দোকানপাট উচ্ছেদ করে মূল সড়ক উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে, এ কাজ সফলভাবে শেষ করতে হবে। পরবর্তী পর্যায়ে সড়কপাশের অবৈধ স্থাপনা সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া পৌরসভা এলাকায় মহাসড়কের পার্শ্ব আবর্জনামুক্ত রাখতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে কঠোর নির্দেশনা দেন। সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা পর্যটনের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি সড়কের বেইলি সেতুসমূহ প্রতিস্থাপনসহ চলমান নির্মাণকাজ যথাসময়ে শেষ করতে হবে। এরইমধ্যে দেশের প্রথম সীমান্ত সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সম্প্রসারণ করে বত্রিশ ফুটে উন্নীত করা হবে। পর্যটকদের সুবিধার্থে সৈকতসংলগ্ন সড়কে বাতি স্থাপন, বিভিন্ন পয়েন্টে বিশ্রামাগার নির্মাণের পাশাপাশি মেরিনড্রাইভে পর্যটকদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, আগামী মাসে দ্বিতীয় সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্পের আওতায় প্রায় বারো হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এলেঙ্গা-রংপুর জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণকাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এরই মাঝে জয়দেবপুর-এলেঙ্গা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ শেষ হতে চলেছে। আগামী জুনে নির্মাণকাজ শেষে সড়কটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, বিআরটিএর চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমান, বিআরটিসির চেয়াম্যান ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া, ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান প্রকল্পসমূহের পরিচালক, সওজ অধিদপ্তরের জোন প্রধানগণসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভেঙে ফেলা হবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন: গৃহায়ণমন্ত্রী
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, শিগগিরই বসবাস অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলা হবে। অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী। রেজাউল করিম বলেন, যে সকল ইমারতগুলি বসবাস অনুপযোগী, ঝুঁকিপূর্ণ; এ সকল বিল্ডিংকে ভেঙে ফেলার জন্য তাদেরকে (ভবনের মালিক) তাগিদ দেব। তারা যদি ভাঙতে না চান, আমাদের নিজ উদ্যোগে আইনগতভাবে আমরা ব্যবস্থা নেব। অতীতে কী হয়েছে জানি না। এখন থেকে অপরিকল্পিত কোনো দালান নির্মিত হবে না। যে দালান বেআইনিভাবে নির্মিত হয়েছে সেক্ষেত্রে আইন তার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেন মন্ত্রী।
নতুন সরকারের প্রতি ওআইসি দেশগুলোর সমর্থন
অনলাইন ডেস্ক: ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সকল দেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে প্রতিটি ক্ষেত্রে এ সরকারের সাফল্য কামনা করেছে। বাংলাদেশে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতগণ প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর দলের নির্বাচনী বিজয় এবং টানা তৃতীয় বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর নবগঠিত সরকারকে শুভেচ্ছো জানাতে ওআইসিভুক্ত দেশের রাষ্ট্রদূতগণের ১৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রোববার সন্ধ্যায় গণভবনে আসেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দানকারী ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান বলেন, আমরা সকল মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূতগণ একত্রে গণভবনে এসে আপনার অবিস্মরণীয় বিজয়ে আপনাকে (প্রধানমন্ত্রী) শুভেচ্ছা জানাতে পারায় গভীর সম্মানিত বোধ করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শক্তি আসলে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শক্তিকেই চিহ্নিত করে। কাজেই আপনাকে সবরকমের সহযোগিতা প্রদান করা একটি মুসলিম দেশ হিসেবে এটা আমাদের প্রত্যেকের এবং সম্মিলিত দায়িত্ব-কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মিশর, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, তুরষ্ক, কুয়েত, মরক্কো, মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত এবং ইরাক, ওমান, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সগণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। রাষ্ট্রদূতগণ তাঁদের বক্তৃতায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়কে শেখ হাসিনার প্রতি জনগণের বিশ্বাস এবং আস্থার প্রতিফলন বলেই উল্লেখ করেন। তারা বলেন, গত ১০ বছরে আপনি যে কঠোর পরিশ্রম করেছেন তারই ফলশ্রুতিতে এই বিজয়। তাদের মতে বাংলাদেশের জনগণ উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করেছে এবং তাঁরা আগামীতে আরো উন্নত নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রত্যাশী। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের দেশকে সেরা হিসেবে পেতে চায়, দেশের অগ্রগতি চায়। আপনার পিতা বঙ্গবন্ধু এদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেতেন তাঁরা সেই লক্ষ্য অর্জন করতে চায়। রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ বুঝেছে যে, আমরা তাদের জন্যই কাজ করি। আর তাই তাঁরা আমাদেরকে ভোট দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের জনগণের জীবন-মানের উন্নয়নই আমার লক্ষ্য, যাতে তাঁরা খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসাসেবা এবং শিক্ষাসহ সকল মৌলিক সুবিধাগুলো পেতে পারে। এর জন্যই আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। রাষ্ট্রদূতদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা তাঁর সরকারকে অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ওআইসিভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি রাষ্ট্রদূতগণের এবং ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে সবসময় সহযোপিতা পেয়ে এসেছেন উল্লেখ করে বলেন, আপনাদের সহযোগিতাই আমাকে আমার জনগণের জন্য বেশি বেশি কাজের শক্তি জোগায়, যাদের জন্য আমি আমার সমগ্র জীবনকে উৎসর্গ করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ অতীতে অনেক দুঃখ, কষ্ট সহ্য করেছে এবং তিনি তাঁদের উন্নত জীবন ব্যবস্থা প্রদানের মাধ্যমে এই দুর্দশা ঘোচাতে চান। দেশকে আগামী প্রজন্মের জন্য তৈরী করেও রেখে যেতে চান। আর এজন্যই দেশের জনগণ বিশেষ করে নারী এবং তরুণ প্রজন্ম আওয়ামী লীগকে ব্যাপকহারে ভোট প্রদান করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন স্বাগত বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাজ্জাদুল হাসান এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে তাঁর সরকারের প্রতি ওআইসিভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমি খুব গর্ব অনুভব করছি। কারণ ভাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এখানে এসেছেন এবং আমাদের সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু এদেশকে স্বাধীন করে গেছেন। কিন্তু তাঁর কাজ শেষ করে যেতে পারেননি। আমি সবসময়ই মনে করি এটা (ক্ষমতা) আমার পিতার স্বপ্ন পূরণের জন্য আমার কাছে একটা সুযোগ এবং সেটাই আমি সর্বান্তকরণে করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এটা জেনে খুব খুশী হবে যে, সকল মুসলিম দেশ আমাদের সরকারকে সমর্থন করছে এবং আমরা একযোগে কাজ করবো সমগ্র বিশ্বের মুসলিম ভাইদের অগ্রগতির জন্য। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং প্রত্যেকে শান্তিতে তাঁদের নিজ নিজ ধর্ম-কর্ম পালন করতে পারে। তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর