স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে, বললেন প্রধানমন্ত্রী
০৭ডিসেম্বর,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আয়োজিত জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন-২০১৯ র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধান বিচারপতি একটি আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেছেন। আসলে এই ধারণাটা আমাদের কখনো চিন্তায় আসেনি বা কেউ বলেনওনি। আমি তো আর আইনও পড়িনি। আমি নিরেট বাংলার ছাত্রী, একেবারে সাদামাটা বাংলার ছাত্রী। আমি মনে করি যে, এটা অত্যন্ত উত্তম একটা প্রস্তাব, এটা হওয়া একান্তভাবে প্রয়োজন। প্রস্তাব নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলাপ করে স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় খুব দ্রুত যাতে হয়, সেই ব্যবস্থা করে দেব। পৃথিবীর সব দেশে আছে, আমাদের দেশে কেন থাকবে না। সভাপতির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন দেশে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্রের মত আইন শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে একটি স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।
ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায়ও রায় লেখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
০৭ডিসেম্বর,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায়ও মামলার রায় লেখার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ঘটনার দ্রুততম রায় দেওয়ায় বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা বহুগুণ বেড়েছে। তিনি বলেন, নুসরাত (ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী) হত্যাসহ অনেক মামলার রায় দ্রুত ঘোষণায় আমি মনে করি বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। জাতির পিতার হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে অনেক বাধা ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাধা সত্ত্বেও আমরা এসব মামলার বিচার করতে সক্ষম হয়েছি। সবারই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, একটি রাষ্ট্র পরিচালনায় আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর সকল নাগরিক যাতে আইগত সহায়তা পায় সেজন্য জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা- ন্যাশনাল লিগাল এইড সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। এ সময় আসামি আনা-নেওয়ায় ঝুঁকি কমাতে সরকার ভার্চুয়াল কোর্ট স্থাপনের চিন্তা করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এ ছাড়া এতে অতিথি হিসেবে একাধিক মন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা উপস্থিত আছেন। অন্যবার রাষ্ট্রপতি থাকলেও এবারই প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি হিসেবে আছেন।
একাত্তরে ভারত বাংলাদেশের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে
০৬ডিসেম্বর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী বলেছেন, একাত্তরে ভারত বাংলাদেশের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সেটা চিরকালীন এবং সময়ের পরীক্ষায় সেটি সবসময় উত্তীর্ণ হবে। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতির ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। ৪৮ বছরে বাংলাদেশের উন্নতি অনেক দেশের কাছে ঈর্ষার বিষয়ে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের উন্নতিতে নিজেদের জন্য বড় রকমের অর্থনৈতিক সুযোগ দেখি। কারণ, আমরা দুই দেশ এক সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারি- এটা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং দুই সরকারের গৃহীত বহু পদক্ষেপের ক্ষেত্রে। রীভা গাঙ্গুলী বলেন, অপারেশন সার্চলাইট, রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধ করা, একটা প্রজন্মের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা- এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে, কিংবা আরেকবার আমি বীরাঙ্গনা বলছি যেন লেখা না হয়। একটা উদার নৈতিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ কাজ করছে বা করে চলেছে, ভারত তাদের পাশে আছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভালো বলে মন্তব্য করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আজকে আমাদের সম্পর্ক বহুমুখী। আমাদের সম্পর্ক কেবল ব্যবসায়-বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো ট্র্যাডিশনাল খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। এছাড়া আমরা তথ্যপ্রযুক্তি, মহাকাশ, পারমাণবিক বিজ্ঞানের মতো নতুন নতুন ক্ষেত্রেও আমাদের সম্পর্ক বাড়াচ্ছি। নরেন্দ্র মোদির সাবকা সাত, সাবকা বিকাশ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেয়। আমাদের কাছে প্রতিবেশী প্রথম এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে বাংলাদেশ সবার আগে। বাংলাদেশকে ঋণচুক্তির আওতায় (এলওসি) ৮ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে রীভা গাঙ্গুলী বলেন, মোটামুটি এর ৮০ ভাগের বেশি অবকাঠামো ও কানেক্টিভিটি প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়েছে। অবকাঠামো ও কানেক্টিভিটির উন্নয়ন প্রবৃদ্ধির একটা ইঞ্জিন। আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের যৌথ উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে, আমাদের এই সহযোগিতা দুই দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য। সভাপতির বক্তব্যে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে তা এই অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করবে। আশা করছি, ভারত প্রাণপণ চেষ্টা করবে যাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা মৈত্রী সম্মাননা দেয়া হয় ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিসকে। তিনি বলেন, ২৫ মার্চের পরে বাংলাদেশ থেকে মানুষ ভারতে আশ্রয় নেয়া শুরু করে। এমনকি দিনে ৫০ হাজার মানুষ সীমান্ত পার হওয়ার ঘটনাও আছে। ওই সময় ভারত শরণার্থীদের দারুণভাবে সহযোগিতা করেছে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। এ সময় দেশ স্বাধীন করতে কোনো রাষ্ট্রকে এত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দুঃখের বিষয় ৭৫ এর পরে বেশিরভাগ সময় দেশ শাসন করেছে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, যারা বাংলাদেশকে বারবার ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করতে চেয়েছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত প্রমুখ।
এখন কবিতায় কুঁড়েঘর আছে বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যায়না
০৬ডিসেম্বর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য হচ্ছে, বস্তুগত উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত দেশ গঠনের পাশাপাশি একটি উন্নত জাতিও গঠন করা। আর উন্নত জাতি গঠন করার জন্য মেধা-মূল্যবোধ, দেশাত্ববোধ, মমত্ববোধের সমন্বয় প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বস্তুগত উন্নয়নের পাশাপাশি উন্নতজাতি গঠনে মানুষের আত্মিক উন্নয়ন প্রয়োজন। এটি ছাড়া শুধু বস্তুগত উন্নয়ন দিয়ে খুব বেশিদুর এগিয়ে যাওয়া যাবে না। আজ শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগেরে সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন। হাছান মাহমুদ বলেন, বস্তুগত উন্নয়নের মাধ্যমে শুধু উন্নত দেশ গঠন করা সম্ভব, সুরম্য অট্টালিকা হয়। সুরম্য সেতু হয়, নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ করা যায়, ফ্লাইওভার করা যায়, পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে ফুটো করে পথে রেল চলে। উন্নত জাতি গঠন করা ভিন্ন কাজ। তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে দুটি স্বপ্নের কথা বলেছিলেন। একটি হচ্ছে দিনবদল, আরেকটি হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ। আজকে দিনবদল হয়েছে, এখন দেশের কোন শহরের অলিগলিতে কিংবা গ্রামের মেঠোপথে মা আমাকে একটু বাসি ভাত দেন এই ডাক শোনা যায়না। তিনি বলেন, এখন কবিতায় কুঁড়েঘর আছে বাস্তবে কুঁড়েঘর খুঁজে পাওয়া যায়না। আকাশ থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকা শহর চেনা যায়না। একইসাথে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নও পূরণ হয়েছে। ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৫ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহারকারী রয়েছে। মোবাইল ফোনে শুধু কথা বলা যায়না, ভিডিও কল করা যায়। দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে টাকা পৌঁছে যায়। ভোলার মনপুরা থেকে কৃষক ভাই জমিতে দাঁড়িয়ে পোকার ছবি তুলে সদরের কৃষি অফিসারের কাছে পাঠিয়ে সরাসরি পরামর্শ নেন পোকা দমনে কোন ওষুধ দিতে হবে। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন সেবা নিচ্ছে সাধারণ মানুষ। এসব সম্ভব হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের কারণে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করার স্বপ্নের কথা বলেছেন। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা হবে দেশকে সেই স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছানো শুধু নয়, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও উন্নত জাতি গঠনের ক্ষেত্রেও স্বপ্নের ঠিকানাকে অতিক্রম করতে চাওয়া। হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের পথে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ নয়, মধ্যম আয়ের দেশ। পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এদেশে মাথাপিছু কৃষিজমির পরিমাণ পৃথিবীতে সর্বনিম্ন। ৫০এর দশকের মাঝামাঝি যখন লোকসংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৭০ লাখ তখন খাদ্য ঘাটতি শুরু হয়। আজকে লোকসংখ্যা ১৬ কোটি ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে। লোকসংখ্যা সাড়ে তিনগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মাথাপিছু কৃষি জমি কমেছে ৩০ শতাংশ। এরপরও বাংলাদেশ আজকে পৃথিবীকে অবাক করে দিয়ে খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। গত সাড়ে দশ বছরে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে জিডিপি গ্রোথ রেট বাংলাদেশের ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৌশলীদের অবদান ও ভূমিকা না থাকলে এই উন্নয়ন অগ্রগতি কখনো সম্ভব হতোনা । তিনি বলেন, বৈশ্বিকভাবে আমরা বাঙালিরা হয়তো ধনি নই, কিন্তু মেধার দিক দিয়ে পৃথিবীর অনেক দেশ ও জাতি থেকে আমরা ধনী। পৃথিবীর অনেক দেশ ও জাতিগোষ্ঠির তুলনায় আমরা মেধাবী। ইউরোপের বাইরে প্রথম যিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান তিনি কবি গুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর, গাছের যে প্রাণ আছে তা প্রথম যিনি আবিস্কার করেন তিনি বাঙালি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, পৃথিবীর সর্বোচ্চ ভবন শিকাগোর চিয়ার্স টাওয়ারের স্থপতি বাঙালি ড. এফ আর খাঁন। বর্তমানেও পৃথিবীর অনেক সুরম্য অট্টালিকা নির্মাণে বাংলাদেশ থেকে পাস করা প্রকৌশলীরা যুক্ত আছেন উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের প্রকৌশলীরা শুধু দেশে মেধার স্বাক্ষর রাখছেন তা নয়, তারা বিশ্বব্যাপী মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন। গত ৫১ বছর ধরে চুয়েট যাদের প্রকৌশলী হিসেবে তৈরি করেছে তারা আজকে পৃথিবীব্যাপী অবদান রাখছেন বলে জানান তথ্যমন্ত্রী ।
আওয়ামী লীগ পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী
০৬ডিসেম্বর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এজলাসে বিএনপির আইনজীবীরা যে অস্থিরতা তৈরি করেছে তা ক্ষমার অযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আজ শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডি কার্যালয়ে দপ্তর কমিটির বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি আদালতে যে ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে, তা ক্ষমার অযোগ্য। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ছাড়া আমরা দলের জন্য কেউ অপরিহার্য নই। একমাত্র শেখ হাসিনাই দলের জন্য অপরিহার্য। বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অচেষ্টা করছে। নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তারা ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে চায়। এসব করে নেতারা সফল হবে না। কারণ আওয়ামী লীগ পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল একটি দল। নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেবে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে বিএনপির ইন্ধন রয়েছে মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বারবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন ইস্যুতে। কিন্তু জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি। তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মহলকে উসকানি দিচ্ছে- দ্রব্যমূল্য হঠাৎ করে ঊর্ধ্বগতিতে তাদের ইন্ধন রয়েছে এবং উসকানি রয়েছে। আমরা সেই সিন্ডিকেটের অনেককেই চিহ্নিত করেছি। অবশ্যই তাদের শাস্তি হবে। সভায় আওয়ামী লীগের দফতর কমিটির আহ্বায়ক পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির জন্য এই ধরণের আচরণ কোন নতুন ঘটনা নয়
০৬ডিসেম্বর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার রায়ের সময় বিএনপি হট্টগোল সম্পর্কে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেছেন, বিএনপি যে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের অংশ, সেটি তারা তাদের আচরণ দিয়ে প্রমাণ করে। বিএনপির জন্য এই ধরণের আচরণ কোন নতুন ঘটনা নয়। আপনারা জানেন বিএনপির এর আগে কোর্ট প্রাঙ্গনের ভিতরে মিছিল করা থেকে শুরু করে তৎকালীন বিচারপতির দরজায় লাথিও মেরেছিলো। শুক্রবার সকাল ১১টায় চাঁদপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবানে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিএনপি তাদের আচার আচরণ সব সময়ই প্রকাশ করেছে। তারা বাংলাদেশের সংসদ ও আইন বিশ্বাস করে না। তারা সংসদকে তোয়াক্কা করে না। বৃহস্পতিবারের ঘটনাটিও আমি মনে করি ভিন্ন কিছু করেনি। সর্বোচ্চ আদালতে বিএনপির এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা সারাদেশের মানুষের কাছে ফুটে উঠেছে। এ সময় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফাতেমাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশকে জনবান্ধব ও মানবিক পুলিশে পরিণত হতে হবে
০৫ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম:দক্ষতার সঙ্গে সঠিকভাবে মামলা তদন্ত ও তদারকির জন্য জেলার পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি বলেন, নারী নির্যাতন মামলা বিশেষ করে ধর্ষণ ও গণধর্ষণ মামলা নিবিড়ভাবে তদারকির মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রত আইনের আওতায় আনতে হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রেঞ্জ কার্যালয়ে রেঞ্জের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন নির্দেশ দেন তিনি। আইজিপি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাজারবাগে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ সপ্তাহে পুলিশকে জনগণের পুলিশ হওয়ার আহবান জানিয়েছিলেন। আমরা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণের পুলিশ হতে চাই। পুলিশি সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমাদেরকে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। তাদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। পুলিশকে জনবান্ধব ও মানবিক পুলিশে পরিণত হতে হবে। জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে কোনো ব্যক্তি যেনো পালিয়ে না থাকতে পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। পরোয়ানা তামিলে গুরুত্ব দিতে হবে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার নির্বাচিত হন। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় রেঞ্জের ১৩টি জেলার পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র উদ্ধার হয়
০৫ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিউজ চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে আমাদের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় সাধারণ মানুষের বাক-মতামত ও চিন্তার স্বাধীনতা। অনেক চক্রন্তার পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র উদ্ধার হয়। শেখ হাসিনা একজন অনুকরনীয় নেতৃত্ব-খাদ্য নিরাপত্তা, শান্তি চুক্তি, সমুদ্র বিজয়, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নতি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষায় সমুজ্জ্বল। তার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র এখন মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আরো বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার যে লক্ষ্য ছিলো তা আজো আমরা পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে একটি তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গঠনে রূপকল্প-২০২১ এবং রূপকল্প-২০৪১ সহ শতবছর মেয়াদী ব-দ্বীপ ২১০০ পরিকল্পনা নিয়েছেন। এসব মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আজকের শিক্ষিত তরুণরাই এ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আততায়ীর হাতে নিহত বাবা মা, খুনীর রক্তে রঞ্জিত তার ভাইয়েরা, শেখ হাসিনা আসলে শত্রুর আগুনের ছাই থেকে উঠে আসা এক মানুষ যিনি দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।
আদালতে বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: আইনমন্ত্রী
০৫ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোল করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার চিকিৎসার প্রতিবেদন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে না আসায় শুনানি পিছিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বেঞ্চ। এরপরই হট্টগোল করেন বিএনপিপন্থীরা। এদিকে আদালতে বিএনপিপন্থীদের হট্টগোল নিয়ে কথা বলেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, বিএনপির কাছে দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানই নিরাপদ নয়। বৃহস্পতিবার গুলশানের নিজ বাসায় সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় উচ্চ আদালতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোলের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালতে বিশৃঙ্খলা করে। যা কোনোমতেই কাম্য নয়। বিএনপির কাছে দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানই নিরাপদ নয়। আইনের শাসনের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাবোধ নেই। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর