রবিবার, মার্চ ৭, ২০২১
নাসিম ছিলেন নির্ভীক যোদ্ধা: রাষ্ট্রপতি
১৩জুন,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র, সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন নির্ভীক যোদ্ধা। তিনি জনগণের প্রিয় নেতা ছিলেন বলেই পাঁচবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার মৃত্যু বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মোহাম্মদ নাসিমের নাম চির ভাস্বর হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম গণতন্ত্র, দেশ, দল, জনগণসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে যে অবদান রেখেছেন জাতি তা চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন নিবেদিত প্রাণ রাজনীতিককে হারালো। রাষ্ট্রপতি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক
১৩জুন,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র ও সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন । মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যু সংবাদে তথ্যমন্ত্রী তার শোকবার্তায়, মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তথ্যমন্ত্রী শোকবার্তায় বলেন, জাতীয় চারনেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর পুত্র মোহাম্মদ নাসিম আজীবন জাতির পিতার আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অটল ছিলেন। মন্ত্রী এসময়, ২০১৪-২০১৮ মেয়াদে সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে স্বরাষ্ট্র, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে মোহাম্মদ নাসিমের দায়িত্ব পালনের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। ড. হাছান বলেন, মোহাম্মদ নাসিমের বর্ণাঢ্য ও কর্মময় রাজনৈতিক জীবন এদেশের মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি আজ সকালে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লহে....রাজিউন)।
একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে হারালাম: প্রধানমন্ত্রী
১৩জুন,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১৩ জুন) এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিতার (জাতীয় চারনেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী) মতোই মোহাম্মদ নাসিম আমৃত্যু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশকে ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে গেছেন। সব ঘাত-প্রতিঘাত উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠায় তিনি অনন্য অবদান রেখেছেন। শেখ হাসিনা আরও বলেন, মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন দেশপ্রেমিক ও জনমানুষের নেতাকে হারালো। আমি হারালাম একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে। প্রধানমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এর আগে সকাল ১১টা ১০ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলী বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে মোহাম্মদ নাসিম শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের মুখপাত্র বর্ষিয়ান জননেতা মোহাম্মদ নাসিম গত ৫ জুন ভোরে ব্রেন স্ট্রোক করেন। ওইদিনই জরুরিভাবে তার অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর চিকিৎসকরা তাকে ৪৮ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন। পরে গত ৬ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ৫ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। বিকেলে মেডিক্যাল রোর্ড সভা করে তার শারীরিক অবস্থা পযালোচনা করেন। চিকিৎসকদের বোর্ড তাকে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন। ওইসময়ের মধ্যে তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ডিপ কোমাতে রাখা হয় ৷ গত ১ জুন সকালে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। পরে রাতে তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্টে পজিটিভ আসে। তবে পরদিন থেকে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয় ৷ কিন্তু গত ৫ জুন সকালে মোহাম্মদ নাসিম ব্রেন স্ট্রোক করেন। এর আগে ওয়ান ইলেভেনের সময় কারাবন্দি অবস্থায় স্ট্রোক করেছিলেন নাসিম। এবার ছিল তার দ্বিতীয় দফায় স্ট্রোক। এ অবস্থায় গত ৯ জুন তার পুনরায় করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করা হয়। ওইদিন করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয় ৷ কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হওয়ায় বিদেশ নেওয়ার মতো অবস্থা থাকে না। ফলে চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি ৷
মোহাম্মদ নাসিম আর নেই
১৩জুন,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর শ্যামলী বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নাসিমের ছেলে তানভীর শাকিল জয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ১ জুন জ্বর-কাশিসহ করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। রাতে করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। পরদিন ভোর সাড়ে ৫টায় মোহাম্মদ নাসিমের ব্রেন স্ট্রোক হয়। হাসপাতালের নিউরোসার্জন অধ্যাপক রাজিউল হকের নেতৃত্বে কয়েক ঘণ্টায় তার অস্ত্রোপচার সফল হয়। সফল অস্ত্রোপচার হলেও তার মাথার ভেতরে বেশ কিছু রক্ত জমাট বেধে ছিল। স্ট্রোকের পর থেকে গত ৮ দিন তিনি অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেশন সাপোর্টেই ছিলেন। এরই মধ্যে পরপর দুইবার করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রেজাল্ট আসলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়য়ের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে সঙ্কটাপন্ন অবস্থার কারণে মোহাম্মদ নাসিমকে আপাতত দেশের বাইরে স্থানান্তরের ঝুঁকি নিতে চাননি তার পরিবারের সদস্যরা।
দেশে একদিনে চার চিকিৎসকের মৃত্যু করোনায়
১৩জুন,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে একদিনে চার চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।শুক্রবার (১২ জুন) তাদের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটি-এফডিএসআর যুগ্ম সম্পাদক ডা. রাহাত আনোয়ার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. গাজী জহির হাসান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ মনোয়ার মারা যান। সন্ধ্যায় রাজধানীর জেড এইচ সিকদার উইমেনস মেডিকেল কলেজের অপথালমোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। রাত ১২টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢামেকের ৪৯তম ব্যাচের ছাত্র ডা. আরিফের মৃত্যু হয়। প্রসঙ্গত, দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩০ জন চিকিৎসক। এছাড়া, করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরো পাঁচ জন চিকিৎসক।।
সব সমালোচনাকে অসাড় প্রমাণিত করে এবারের বাজেটও বাস্তবায়িত হবে : তথ্যমন্ত্রী
১২জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সব সমালোচনাকে অসাড় প্রমাণিত করে এবারের বাজেটও বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, গত ১১ বছর ধরে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাজেট বাস্তবায়িত হয়েছে। দেশ এগিয়ে গেছে। দারিদ্রতা কমে অর্ধেকে নেমেছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে সাড়ে তিনগুণ। জিডিপি গ্রোথ রেট পৃথিবীর অন্যতম বেশি গ্রোথ রেটের দেশে উন্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। এবারের বাজেটও বাস্তবায়িত হবে। হাছান মাহমুদ আজ বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাইফ পাওয়ার টেকের উদ্যোগে কোভিট-১৯ মোকাবেলায় একশ অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোস্তফা খালেদ আহমদ, সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি, সাইফ পাওয়ার টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন এসময় উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে চান। সেজন্য তিনি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ নানা ধরণের ভাতা চালু করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা কখনো ভাবেনি স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা পাবেন, ইউরোপের দেশেও স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা পায় না। এইধরণের ভাতায় বর্তমানে ৮৮ লক্ষ সুবিধাভোগী আছে। এইবার আরো ১১ লাখ মানুষকে নতুন করে সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়েছে। এই বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের জন্য গত বাজেটের তুলনায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে এবার বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯৫ হাজার ৫শ ৭৪ কোটি টাকা। ড. হাছান মাহমুদ বলেন,এই বাজেটে জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন। পত্রপত্রিকায় দেখলাম এত বেশি লক্ষ্যমাত্রা কেন স্থির করা হলো তা নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে। কদিন আগে আইএমএফ বলেছে যদি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব খুব সহসা কেটে যায়, এবং বৈশিক মন্দাও যদি সহসা কেটে যায় তাহলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার নয় শতাংশের বেশি হতে পারে। এটি হচ্ছে আইএমএফ এর প্রাক্কলন। সুতরাং সেটি যদি বিবেচনায় নিই তাহলে ৮.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চয়ই উচ্চাভিলাষী নয়। ড. হাছান বলেন, উচ্চাভিলাষ থাকতে হয়, উচ্চাভিলাষ না থাকলে অভিলাষ পুরণে জাতীর কোন তাগাদা থাকে না। ব্যক্তি জীবনে যেমন অভিলাষ না থাকলে সেই মানুষের লক্ষ্যে পৌঁছানোর কোন তাগাদা থাকে না। রাষ্ট্রিয় জীবনেও লক্ষ্য থাকতে হয় অভিলাষ থাকতে হয়। তাহলেই জাতি এগিয়ে যায়। যেভাবে গত ১১ বছর ধরে সেই বাজেট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে গেছে সমৃদ্ধি ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপুরণের পথে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই করোনা ভাইরাসের মহামারির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অর্থমন্ত্রী একটি সাহসি বাজেট ঘোষণা করেছেন। পত্রপত্রিকায় অনেক মন্তব্য ও বিশ্লেষণ আমরা দেখতে পাচ্ছি। অনেক বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত দিচ্ছেন। এদের মধ্যে কিছু চিহ্নিত বিশেষজ্ঞ আছে। তারা সবসময় মতামত দেন। গত ১১ বছর ধরে যখনই বাজেট ঘোষণা হয়েছে ততবারই সিপিডি কোনদিন বাজেটের প্রশংসা করতে পারেনি। প্রতিবারই তারা বলেছেন এই বাজেট উচ্ছাকাঙ্খি,এটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, কিন্তু গত ১১ বছরের আমরা যদি হিসেব নিয়ে থাকি তাহলে দেখতে পাব প্রতিবার বাজেটের ৯৩ থেকে ৯৬ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। এবারও তাদের একই কথার ধারাবাহিকতা আমরা লক্ষ্য করছি। একইভাবে তারা সমালোচনা করছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে এধরণের উচ্চাভিলাষি বাজেট কেন দেয়া হলো। এধরণের কথাবার্তা তারা বলছে। হাছান মাহমুদ বলেন, ১১ বছর ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য ছিল, সেই লক্ষ্য পুরণ করেই বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নিত করা সম্ভব হয়েছে। দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় সাড়ে তিনগুণ বৃদ্ধিকরা সম্ভব হয়েছে। দারিদ্রহার যেটি ৪০ শতাংশের বেশি ছিল সেটি ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যখন সরকার গঠন করা হয় তখন ২০০৮-০৯ সালের বাজেট ছিল ৮৮ সহাজার কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার যে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে তা ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার। ১১বছরে বাজেটের অংক সাড়ে ৬গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ সালে আমরা যখন সরকার গঠন করি তখন বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৬শ ডলার। আজকে সেটি ২ হাজার ৮০ ডলারে উন্নিত হয়েছে। অর্থাৎ মানুষের মাথাপিছু আয় সাড়ে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়নের পর মানুষের জনপ্রতি উপার্জন হবে প্রতিবছর প্রায় ২ লক্ষ টাকা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সমালোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, কালো টাকা সাদা করার সিস্টেম চালু করেছিলেন বিএনপির অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান। তিনি নিজেও কালো টাকা সাদা করেছিলেন, তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া নিজেও কালো টাকা সাদা করেছিলেন। অর্থনীতির স্বার্থে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই ধরণের অপ্রদর্শিত টাকাকে বৈধ করার সুযোগ দেয়া হয়। বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদের উচিৎ সেই তথ্য ও উপাত্ত যাচাই বাছাই করা এবং আয়নায় নিজেদের চেহারাটাও একটু দেখার জন্য বলেন তথ্যমন্ত্রী। চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের ভর্তি করা হচ্ছে না এবং চিকিৎসা না দিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে কোনভাবেই রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হচ্ছে না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে এ নিয়ে কয়েকটি সমন্বয় সভা হয়েছে। কয়েকটি হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। তবে, শুধু চট্টগ্রামে নয় শুধু, সারাদেশ এবং পৃথিবী জুড়েই আইসিইউ সঙ্কট আছে। ইতালি-নিউইর্য়কের মতো দেশে বহু বয়স্ক মানুষকে আইসিইউ সেবা দিতে না পারার কারণে মৃত্যুবরণ করেছে। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তবে, এভাবে রোগী ফেরত দেওয়া কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। যেসমস্ত প্রতিষ্ঠান এভাবে রোগী ফেরত দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সরকার এটি ধর্তব্যের মধ্যে নিচ্ছে। সময়মত তাদের বিরুদ্ধ ব্যবস্থা নেয়া হবে। শনিবার থেকে প্রশাসন মোবাইল কোর্ট শুরু করবে। প্রয়োজনে তাদের লাইসেন্সও বাতিল হবে বলে জানান তিনি।
অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু
১২জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের অর্থনীতিতে কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবকে সামনে রেখে সরকার অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন কাজ শুরু করেছে। চলতি বছর ৩০ জুনে সপ্তম পঞ্চমবার্ষিকী পরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এরই প্রেক্ষিতে কাউকে পিছনে ফেলে নয় শ্লোগানকে সামনে রেখে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন কাজ শুরু হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল গতকাল জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২০-২১ হতে ২০২২-২৩ মধ্যমেয়াদী সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে এ কথা জানান। নীতি বিবৃতিতে বলা হয়, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব মূল্যায়নে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন একটি স্টাডি সম্পন্ন করেছে। এই স্টাডির ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি দারিদ্র হ্রাস কার্যক্রম এবং প্রবৃদ্ধির ওপর কি ধরনের প্রভাব ফেলবে উক্ত স্টাডিতে এই দিকটিও বিশেষভাবে ওঠে এসেছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় যেসব বিষয় সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে ত্বরান্বিত সমৃদ্ধি ও অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি। তাই, বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সূচকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ যাতে এলএসডি হতে উত্তরণে এসডিজি বাস্তবায়নে সফল হয় সেই বিষয়টি অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কোন দরিদ্র জনগোষ্ঠী বা অঞ্চলকে পিছনে ফেলে রেখে উন্নয়ন অভীষ্ঠ লক্ষ্য এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই, ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় যাতে প্রবৃদ্ধির সুবিধা সকলের কাছে সমান ভাবে পৌঁছানো যায় তা বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে নীতি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১ এবং সরকারের ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসরণ করা হবে। বাংলাদেশ ইতেমধ্যে নি: মধ্যম আয়ের মর্যাদা অর্জন করেছে এবং স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে প্রাথমিক উত্তরণের ভিত্তি স্থাপন করেছে। আগামী পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় প্রস্তুতকৃত মূল সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে নীতি বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।
আরও ৩৪৭১ করোনা রোগী শনাক্ত, নতুন মৃত্যু ৪৬
১২জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে গত একদিনে অর্থাৎ শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন আরও তিন হাজার ৪৭১ জন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪৬ জনের। সুস্থ হয়েছেন আরও ৫০২ জন। এ পর্যন্ত একদিন ব্যবধানে যে সংখ্যক রোগী মারা গেছেন এবং শনাক্ত হয়েছেন, তার মধ্যে এ দুটোই সর্বোচ্চ; রেকর্ড। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, এ নিয়ে মোট মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৫ জনে। আর মোট শনাক্ত দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৫২৩ জনে। একইসঙ্গে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৭ হাজার ২৪৯ জন। ডা. নাসিমা বলেন, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৯টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৫০টি। নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৯০টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে চার লাখ ৭৩ হাজার ৩২২টি। মৃত্যু হওয়া ৪৬ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জন, সিলেট বিভাগে তিনজন, বরিশালে বিভাগে তিনজন, রংপুর বিভাগে পাঁচজন, রাজশাহী বিভাগে দুইজন, ময়মনসিংহ বিভাগে দুইজন, খুলনা বিভাগে একজন। ৪৬ জনের মধ্যে পুরুষ ৩৭ জন। নারী নয়জন। তাদের বয়স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১০০ বছরের ঊর্ধ্বে একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন। এরমধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩২ জন, বাড়িতে ১৪ জন। তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৪৩৬ জন। মোট আইসোলেশনে আছেন নয় হাজার ১২ জন। করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সবাইকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লকডাউন পরবর্তী সংশ্লিষ্ট দিকনির্দেশনা বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার এবং শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
আরো এক চিকিৎসকের মৃত্যু করোনায়
১২জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও এক চিকিৎসকের মৃত্যু হলো। এবার প্রাণ গেলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর পেডিয়াট্রিক সার্জারির অধ্যাপক ডা. গাজী জহির হাসানের। তিনি আজ শুক্রবার রাত দেড়টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গাজী জহির ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সসিবিলিটিসের (এফডিএসআর) জয়েন্ট সেক্রেটারি ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৮ জন চিকিৎসক মারা গেছেন। এছাড়াও, পাঁচ জন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর