বিজয়ের মাসে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি পরাজিত হবে :কাদের
অনলাইন ডেস্ক :আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি এখন এলোমেলো, হারার আগেই হেরে গেছে, বিএনপি কখনো বিজয়ী হতে পারবে না। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের এই বিজয়ের মাসে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি পরাজিত হবে। বিএনপির মধ্যে আছে সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ আর খুনী। সারাদেশের জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা যদি ক্ষমতায় আসে আবার হাওয়া ভবন তৈরি হবে, দুর্নীতিতে দেশ আবার চ্যাম্পিয়ন হবে। শেখ হাসিনা দেশকে আলোর পথে এনেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ আবার অন্ধকারে ফিরে যাবে।কাদের আজ নোয়াখালী-৩ নির্বাচনী আসনের সেনবাগ উপজেলার সেনবাগ সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। এসময় এ এলাকার আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম মোরশেদ আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মানিক, সেনবাগ উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, পাঁচ বছর বিএনপি ক্ষমতায় থেকেও এ এলাকার কোন উন্নয়ন হয় নাই। অথচ গত পাঁচ বছরে ৯৬ ভাগ বিদ্যুৎ সংযোগসহ স্কুল-কলেজ ভবন পাকাকরণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন হয়েছে। এ উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হলে সকল ভেদাভেদ ভুলে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে, তা না হলে এলাকার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হবে। এ সময় মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে দুইশটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার গ্রামীণ জনগণকে তথ্য প্রযুক্তি সেবা দিয়ে যাচ্ছে, সকল রাস্তা পাকা হয়ে গেছে। এবার সরকার গঠন করলে প্রত্যেক পরিবার থেকে একজন বেকারকে চাকরি দেয়া হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে, লাশের পাহাড় গড়ে তুলবে।২০১৪ সালের আগুন সন্ত্রাসীদের যদি দেখতে না চান তাহলে আগামী ৩০ ডিসেম্বর নৌকায় ভোট দিয়ে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। আওয়ামী লীগ যদি আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ না হয় তাহলে আওয়ামী লীগের বিজয় অনিবার্য।বাসস
সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে বিএনপি : এইচ টি ইমাম
অনলাইন ডেস্ক :আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত নীল নকশা অনুযায়ী নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে।এরই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবার তারাই আওয়ামী লীগের ওপর পাল্টা হামলার অভিযোগ করছে। নির্বাচন নিয়ে মিথ্যাচার করছে।এইচ টি ইমাম আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।এসময় তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়াসহ নির্বাচনের লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রতিষ্ঠার জন্য ইসি ও প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান। এইচ টি ইমাম বলেন, বিএনপি-জামায়াত ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা-কর্মীকে হত্যা এবং ২৫০ জনকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। তারা আওয়ামী লীগের শত শত দলীয় কার্যালয় ভাংচুর করেছে।তিনি বলেন, দেশের ২৪টি স্থানে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর বোমা, পেট্রলবোমা হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছে। তারা ১১টি যানবাহন ভাংচুর করেছে এবং পুলিশের দুটি গাড়িতে হামলা চালিয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, বিএনপি-জামায়াত সারাদেশে নাশকতার মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। তারা ২০০১ সালের মত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালানোর পথ বেছে নিয়েছে।সারাদেশে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপি-জামায়াতকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই হাজার হাজার বিএনপির নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে আবারো দেশ পরিচালনার সুযোগ দেবে বলেও তিনি নিজ বিশ্বাসের কথা দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন।সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য খন্দকার বজলুল হক, রশিদুল আলম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের আকতার উজ জামান, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ দলীয় নেতা-কমীরা উপস্থিত ছিলেন।বাসস
দেশের উন্নয়নে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে এনডিসি গ্রাজুয়েটদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহবান
অনলাইন ডেস্ক :রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি) এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সে (এএফডব্লিউসি) অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতার সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নে আরো অবদান রাখার আহবান জানিয়েছেন। এখানে মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে এনডিসি ও এএফডব্লিউ কোর্স ২০১৮ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে আজ তিনি বলেন, আশা করি সদ্য সমাপ্ত প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আপনারা চ্যালেঞ্জসমূহ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে আরো বেশী অবদান রাখবেন। সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করার জন্য কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন,আমার বিশ্বাস অর্জিত জ্ঞান, ইচ্ছাশক্তি এবং অঙ্গীকারকে সামনে রেখে আপনারা জনগণকে আরো বেশি সেবা দিতে পারবেন এবং দেশকে টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে বাংলাদেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখছে। সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়- বঙ্গবন্ধু সূচিত এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে আমাদের পররাষ্ট্র নীতি পরিচালিত হচ্ছে। আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী। প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ কারণে নানাবিধ সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও নির্যাতিত লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রেখে সরকার দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অসামান্য উন্নয়নের নজির স্থাপন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় রূপকল্প-২০২১, রূপকল্প-২০৪১ এবং ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ অনুসরণ করে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এ যাত্রায় সফলতার পাশাপাশি অনেক চ্যালেঞ্জও আছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক অফিসারগণকে স্ট্র্যাটেজিক বিষয় ছাড়াও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে কৌশলগত দিক সম্পর্কে উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদান করে যাচ্ছে। ফলে অফিসারগণ সামরিক ও বেসামরিক বিষয়ে নীতিগ্রহণ ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছেন। তিনি বলেন, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের সুখ্যাতি এবং বহির্বিশ্বে এর সুপরিচিতি আমাদের জন্য সত্যিই একটি গর্বের বিষয়। এনডিসির শিক্ষা কার্যক্রমে অব্যাহত উঁচুমান ইতোমধ্যে এটিকে আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি যে-কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে। এ ছাড়াও দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নসহ জাতিসংঘ মিশনে অংশ নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে । রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করে বলেন, জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে এই অংশীদারিত্ব সময়ের পরিক্রমায় আরও বলিষ্ঠ হবে। সশস্ত্র বাহিনী দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের উঁচুমান সর্বদা বজায় রাখবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি পেশাদার ও প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব অর্জনের জন্য সদা পরিবর্তনশীল যুদ্ধ-কৌশল ও তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রযুক্তির প্রসার সাইবার ক্রাইমের মাত্রাকেও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই তথ্যপ্রযুক্তি ও তার অপপ্রয়োগ সম্পর্কেও কর্মকর্তাদের সম্যক ধারণা থাকা অনস্বীকার্য। একবিংশ শতাব্দীর বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ফোর্সেস-গোল ২০৩০ বাস্তবায়ন করছে। বন্ধুপ্রতীম দেশগুলো থেকে কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশে বছরব্যাপী অবস্থান কালে আপনারা যে মূল্যবান জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা ভবিষ্যতে আপনাদের আলোকিত করবে। এছাড়াও পেশাদারিত্বের সম্পর্ক ও নিয়মিত কর্মসূচীর বাইরে উষ্ণ সামাজিক বন্ধন ও বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে। আপনারা এখান থেকে নিজ নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আপনারা বাংলাদেশের শুভেচ্ছা দূত হবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তিন বাহিনী প্রধানগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সিনিয়র বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।বাসস
স্পিকার শিরীনের জন্য ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক :দশম জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জন্য ভোট চেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, এই পীরগঞ্জ আমার আসন। আমার এই মেয়েকে আপনাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। তাকে নৌকায় ভোট দেওয়া মানে আমাকে ভোট দেওয়া।রোববার বিকেলে রংপুর পীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিরীন শারমিন চৌধুরী যদি আবারও নির্বাচিত হয় এবং আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে তাকে আবারও স্পিকার করা হবে।স্পিকারের পদ হচ্ছে পার্লামেন্ট সর্বোচ্চ পদ, রাষ্ট্রপতি পদের পরেই হচ্ছে স্পিকার আর তারপরে হলো প্রধানমন্ত্রী। কাজেই আপনাদের সৌভাগ্য আমি আরো বড় একজনকে আপনাদের মাঝে এনে দিয়েছি।তিনি যোগ করে বলেন, তিনি (শিরীন) যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে আপনাদের এই দীর্ঘদিন পীরগঞ্জে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন, আমার পক্ষে তো থাকা সম্ভব হতো না। কাজেই আমি দোয়া করি আপনারা তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।বিএনপির সমালোচনা করে এ সময় শেখ হাসিনা বলেন,ওই জামায়াত ১৯৭১ সালে ছিল যুদ্ধাপরাধী। তারা গণহত্যা চালিয়েছে, মা-বোনের ইজ্জত লুটেছে, তারা এদেশের মানুষকে খুন করেছে, আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। ওই বিএনপি মিঠাপুকুর থেকে শুরু করে পুরো এলাকায় বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, ট্রাক পুড়িয়েছে, রাস্তাঘাট কেটে দিয়েছেন, গাছ কেটেছে কাজেই তাদের থেকে সাবধান থাকবেন।তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া চুরি করে, এতিমের টাকা মেরে খেয়ে জেলে রয়েছে। আর তার ছেলে টাকা পাচার করেছে দশ ট্রাক গ্রেনেড হামলায় সাজাপ্রাপ্ত, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সাজাপ্রাপ্ত। এদের থেকে দেশবাসীকে সাবধান হতে হবে।
আবারও ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক :আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, নৌকা ক্ষমতায় আসলেই দেশের উন্নয়ন হয়। আবারও ক্ষমতায় এলে প্রতিশ্রুত সব উন্নয়নের ঘোষণা দেন তিনি।রোববার রংপুরের তারাগঞ্জ ও পীরগঞ্জে দুটি জনসভায় তিনি বলেন, দেশে আর মঙ্গা হবে না। এ ব্যাপারে সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।এ সময় বিএনপি-জামায়াত জোটের অপশাসনের কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার একটাই লক্ষ্য। আপনার ভালো থাকবেন। দু বেলা পেট ভরে ভাত খাবেন। ছেলেমেয়ে লেখাপড়া শিখবে। যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।তাদের আমরা ট্রেনিং দিয়ে দিচ্ছি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ট্রেনিং দিয়ে দিচ্ছি যাতে তারা কাজ করে খেতে পারে। কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে দুই লাখ টাকা মাত্র দুই পার্সেন্ট সার্ভিস চার্জে ঋণের সুযোগ করে দিয়েছি। কৃষকরা ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। ভর্তুকির টাকা ব্যাংকে চলে যাচ্ছে।তিনি যোগ করে বলেন: কৃষকদের উপকারভোগী কার্ড দিয়েছি। এই কার্ড দিয়ে স্বল্পমূল্যে কৃষি উপকরণ কিনতে পারে। সার-বীজ সব সহজলভ্য করে দিয়েছি। কৃষক যাতে তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান তার ব্যবস্থাও করে দিয়েছি। দেশকে আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। একটি বাড়ি একটি খামার করে দিয়েছি। কোনও দিন যাতে খাদ্য নিরাপত্তায় ঘাটতি না হয়, মঙ্গা না হয় সেজন্যই একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প করে দিয়েছি।প্রায় ১৬ বছর পর নির্বাচনী সভা করতে রংপুরের তারাগঞ্জে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই শীত সকালের আড়মোড়া ভেঙে, নির্বাচনী উত্তাপ আর উষ্ণতায় সকাল থেকেই উৎসবমুখর তারাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মাঠ। বিমানে ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে নেমে সড়কপথে, দুপুর নাগাদ সভা মঞ্চে পৌঁছালে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানায় উপস্থিত জনতা। তাদের অভিবাদনের জবাব দিয়ে উন্নয়নের কথা বলেন অঞ্চলের পুত্রবধূ।রংপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউককে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তার জন্য ভোট চান প্রধানমন্ত্রী।এসময় উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে টানা দুই মেয়াদে তার সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলোর কথা মনে করিয়ে দেওয়া পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জোটের ধ্বংসাত্মক রাজনীতিরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।নির্বাচন নিয়ে বিরোধী জোটের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে দেশবাসীকে আহ্বানও জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা।
অসুস্থ টেলি সামাদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক :চলচ্চিত্রের শক্তিমান কমেডি অভিনেতা টেলি সামাদ ভীষণ অসুস্থ। তার খোঁজ খবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আজ (রবিবার) সকালে বর্তমান শারীরিক অবস্থা জানার জন্য টেলি সামাদের কাছে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিকিৎসক জুলফিকার লেলিন। জনপ্রিয় এই অভিনেতা অসুস্থ থাকায় টেলি সামাদের মেয়ে সোহেলা সামাদ কাকলীর সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ওই চিকিৎসক। টেলি সামাদের মেয়ে দুপুরে চ্যানেল আই অনলাইনকে এ খবর জানিয়েছেন।সোহেলা সামাদ কাকলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সকাল ৯ টার দিকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক লেলিন সাহেব হাসপাতলে ফোন করে বাবার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। খুব আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের জন্য আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন কিনা! আমি বলেছি, আর্থিক সহায়তা দিলে খুব উপকার হবে। এর আগে ১৬ দিন স্কয়ার হাসপাতালে বাবা ভর্তি ছিলেন। সেখানে অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে।সোহেলা সামাদ কাকলী আরও বলেন, বাবার জন্য এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তা চাইনি। উনি নিজেই কোনো সহায়তার প্রয়োজন কিনা জানতে চেয়েছেন। নির্বাচনী ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি আমার বাবার কথা মনে করেছেন, এটা অনেক বড় পাওয়া। হাসপাতের ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে। যদি উন্নতি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, আমার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ব্যবস্থা করবেন।৪ ডিসেম্বর অসুস্থ হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন টেলি সামাদ। তখন ডাক্তার বলেছিলেন, টেলি সামাদের খাদ্য নালীতে সমস্যা রয়েছে। শুধু তাই নয়, তার বুকে ইনফেকশন ছিল, ডায়াবেটিস ছিল। রক্তের প্লাটিলেটও কমে যাচ্ছিলো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। সেখানে ১৬ দিন চিকিৎসা নেওয়া পর বাসায় ফিরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন চলচ্চিত্রের এক সময়কার দাপুটে অভিনেতা।সেজন্য তাকে গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এখন সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার জানিয়ে সোহেলা সামাদ কাকলী বলেন, বাবার শারীরিক অবস্থা খুব ভালো না। অক্সিজেনের সমস্যা হচ্ছে, রক্তের হিমোগ্লোবিন কমে যাচ্ছে। এখনও আইসিইউতে রয়েছেন। বাবার সুস্থতা কামনায় পরিবারের পক্ষে দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছি।অভিনেতা টেলি সামাদ ১৯৭৩ সালে কার বউ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। চার দশকে পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। টেলি সামাদ একসময় তুমুল ব্যস্ত ছিলেন অভিনয়ে। কিন্তু এখন আর কোনো ছবিতে কাজ করছেন না। তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি মুক্তি পায় জিরো ডিগ্রী ( ২০১৫)। অসুস্থতার আগে তিনি সারাদিন বাসায় থাকেন। টিভি দেখতেন, ছবি আঁকতেন।
নৌকা মার্কায় ভোট চান জাহিদ হাসান
অনলাইন ডেস্ক :সিরাজগঞ্জে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ ও প্রচারণায় নেমেছেন টিভি ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান পুলক। শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ শহরসহ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নে গুনেরগাঁতীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারের উন্নয়ন চিত্র সম্বলিত লিফলেট হাতে নিয়ে মানুষের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চান এবং উঠান বৈঠক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।গণসংযোগ করতে করতে নিত্য রানী সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত উঠান বৈঠকে যোগ দেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না ও অভিনেতা জাহিদ হাসান।এ সময় জাহিদ হাসান বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করা। যারা মানুষকে মানুষ মনে করে না, তারা কিভাবে আবার ধানের শীষে ভোট চায়? এটা আমরা বুঝি না। ধানের শীষে ভোট মানেই দুর্নীতি, এতিমের টাকা আত্মসাৎ, মানি লন্ডারিং। আর নৌকা মার্কা মানে স্বাধীনতা, মানুষের উন্নতি। দেশের মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছিলো বলেই তার সুফল এখন দেশবাসী পাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনা করে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নয়। এজন্য সিরাজগঞ্জ-২ আসনের নৌকার প্রার্থী অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্নাকে ৩০ ডিসেম্বর সারাদিন নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করুন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে নৌকা মার্কায় ভোট দিন।এ সময় বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের বর্তমান সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ বেলাল হোসেন, খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ মোল্লা, খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।
আগামীকাল মাঠে নামছে সেনাবাহিনী
অনলাইন ডেস্ক :আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র ও ভোটগ্রহণের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে এবং নির্বাচনী এলাকায় যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে আগামীকাল সোমবার (২৪ডিসেম্বর) থেকে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী। ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবে। নির্বাচনে ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার অনুযায়ী কাজ করবেন সশস্ত্র বাহিনীর এ সদস্যরা। তারা জেলা/উপজেলা/মহানগর এলাকার সংযোগস্থলে ও অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করবেন। তারা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী টহল ও অন্যান্য আভিযানিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্রে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মপরিধিতে বলা হয়েছে-নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা সহায়তা চাইলে আইনশৃঙ্খলা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে পুলিশসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তারা সহায়তা করবেন। পাশাপাশি রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী উপজেলা/থানায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ দেয়া হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বা ভোট গণনাকক্ষের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।
জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় আ.লীগ ক্ষমতায় থাকলে: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দলকে পুনরায় নির্বাচিত করার জন্য দেশবাসীর কাছে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য আমি আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই, যাতে করে পুনরায় আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার দুপুরে তারাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন। এর আগে তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকের নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে তারাগঞ্জে পৌঁছেন। ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তিনি সড়কপথে তারাগঞ্জ এসে পৌঁছান। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে দলের নেতাকর্মীসহ লাখো জনতা শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান। এরপর পীরগঞ্জে ওই আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে বলেন, জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিল বলেই বাংলা ভাষায় কথা বলার সুযোগ পেয়েছে, আজকে স্বাধীনতা পেয়েছে। আর নৌকা যখন ক্ষমতায় আসে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়। অতীতের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই এলাকা তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জসহ সমগ্র বাংলাদেশ তিনি ঘুরে দেখেছেন দরিদ্র মানুষ, মানুষের দুর্দশা এবং হাহাকারের করুণ চিত্র। এইসব এলাকায় ছিল মঙ্গা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে ২০০৮ সালে আর ২০০৯ সালে সরকার গঠন করেছে। সে থেকে এ পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে কোনো মঙ্গা হয়নি। খাবারের কোনো কষ্ট হয়নি। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ফসল উৎপাদন হচ্ছে, খাবারের ব্যবস্থা আমরা করতে পেরেছি। তিনি এ সময় তাঁর আগামী সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, একটি মানুষও অনাহারে থাকবে না। কারণ গৃহায়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা ঘরবাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি। প্রতিটি মানুষ যাতে চিকিৎসা পায়, সে জন্য আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি। সেখান থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবাসহ ৩০ প্রকারের ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। তাঁর সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ছেলেমেয়েদের জন্য বই আর মা-বাবাকে কিনতে হয় না, তাঁর সরকার এই দায়িত্ব নিয়েছে। দুই কোটির বেশি শিক্ষার্থীকে ট্রাস্ট ফান্ড করে বৃত্তি-উপবৃত্তি প্রদানের উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ মায়ের মোবাইল ফোনে মাসের শুরুতে বৃত্তির টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স্ক এবং বিধবা-ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা দিচ্ছি, যাতে করে কোনো মা-বোন কোনো ধরনের দুর্গতিতে পড়লে তাঁকে যেন কষ্ট করতে না হয়। এ সময় রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পুল, ব্রিজ, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং যেসব স্থানে বিদ্যুতের লাইন নেই, সেখানে সোলার প্যানেল করে দিয়ে দেশের ৯৩ শতাংশ ঘর আলোকিত করার সরকারের সাফল্যও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পুরো রংপুর এলাকা দুর্ভিক্ষপীড়িত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে সেই দুর্দিন চলে গেছে। আজকে সুদিন এসে গেছে। এখন আর মঙ্গা ও দুর্ভিক্ষ নেই। প্রত্যেক মানুষের খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান সবকিছুর ব্যবস্থাই আওয়ামী লীগ সরকার করে দিয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করে দিচ্ছে, সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ কাম কালচারাল সেন্টারের আওতায় প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক মসজিদ নির্মাণ করা হবে, প্রতিটি এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। সৈয়দপুর বিমানবন্দর এবং উত্তরা ইপিজেডও আমরা করে দিয়েছি। তিনি বলেন, আমার একটাই লক্ষ্য, আপনারা ভালো থাকবেন, দুবেলা পেট ভরে ভাত খাবেন, ছেলেমেয়ে লেখাপড়া শিখবে, সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি এ সময় যুবসমাজের কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে মাত্র ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জে বিনা জামানতে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদানের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর সরকার ১০ টাকায় কৃষকদের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করেছে এবং যেখানে তাদের ভর্তুকির টাকাও পৌঁছে যাচ্ছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, কৃষকদের কৃষি উপকরণ কার্ড দেওয়া হয়েছে। এ কার্ড দিয়ে স্বল্প মূল্যে তাঁরা কৃষি উপকরণ যাতে কিনতে পারেন, তার ব্যবস্থা করে সার, বীজ, কটনাশক প্রতিটি জিনিস সহজলভ্য করা হয়েছে। কৃষক যাতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান, তার ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছে। সমবায়ের মাধ্যমেও চাষবাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুবিধাও কৃষকরা পাচ্ছেন। আর যেন কোনো দিন এ দেশে খাদ্যাভাব বা মঙ্গা না দেখা দেয়, এ জন্য প্রতিটি ইঞ্চি জমিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে তাঁর সরকার, বলেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা আরো বলেন, জনগণ বারবার নৌকায় ভোট দিয়েছে বলেই তাঁর সরকারের পক্ষে এসব উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এ সময় এই আসনের নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউককে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তাঁকে জনগণের হাতে সোপর্দ করেন। তিনি উপস্থিত সকলের কাছে নৌকায় ভোট প্রদানের প্রতিশ্রুতি চাইলে জনগণ দুহাত তুলে তাতে সম্মতি জানায়। তিনি বলেন, আপনারা ডিউককে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন, যাতে করে আমরা আবারও আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাই। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর নির্বাচনী মহাজোটের উল্লেখ করে যেসব স্থানে মহাজোটের প্রার্থী রয়েছে, সেসব আসনের জনগণকে মহাজোটের প্রার্থীকেও ভোট প্রদানের আহ্বান জানান।

জাতীয় পাতার আরো খবর