১০ দিনের রিমান্ডে সাহেদ
১৬,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম এবং এমডি মাসুদ পারভেজকে ১০ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। এর আগে করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় প্রতারণার অভিযোগে সাহেদসহ গ্রেফতার সবাইকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে রিজেন্ট হাসপাতাল প্রতারণা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম শুনানি শেষে সাহেদ এবং মাসুদের ১০ দিনেরই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হাজতখানায় রাখা হয় সাহেদকে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে নিয়ে আদালতে পৌঁছায় পুলিশ। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে, আদালতে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছে। এর আগে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার সময় অবৈধ অস্ত্রসহ তাকে গ্রেফতার করে Rapid Action Battalion (Rab)। তার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায়ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস পরীক্ষা না করেই সার্টিফিকেট দেওয়াসহ নানা প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে গত ০৭ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে Rab। সেই মামলায় মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন মোট আটজন। গত ০৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালায় Rab। পরীক্ষা ছাড়াই করোনার রিপোর্ট ও সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল হাসপাতালটি। পরে ০৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতালের দুই শাখা ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেওয়া হয়।
সাহেদের গ্রেপ্তার বিএনপির কথাকে অবান্তর প্রমাণ করেছে : তথ্যমন্ত্রী
১৫,জুলাই,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি যে ক্রমাগত অবান্তর কথা বলে, সাহেদের গ্রেপ্তারে তা প্রমাণ হয়েছে। তিনি আজ দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এসময় বিএনপির সাপ্রতিক মন্তব্য দুর্নীতি-অনিয়মে সরকারি মদদ -এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী একথা বলেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সাহেদের দুর্নীতি সরকারই উদ্ঘাটন করেছে এবং সাহেদের প্রতিষ্ঠানের এমডি কে গতকালই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া তার প্রতিষ্ঠানের আরো অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছিল, সহসা সাহেদকে গ্রেপ্তার করতে তারা সক্ষম হবে। শেষ পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সাহেদকে গ্রেপ্তার করেছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, এতে প্রমাণিত হয়, বিএনপি ক্রমাগত অবান্তর কথা বলে এবং এ নিয়ে বিএনপি এতোদিন যা বলে এসেছিল, সেগুলো তারই ধারাবাহিকতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দুর্নীতি অনিয়মের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন এ ক্ষেত্রে কে কোন দল বা মতের সেটি কখনই দেখা হয়নি। যদি আওয়ামী লীগের কেউ হয়, এমনকি পদধারী নেতাও যদি হয়, তার বিরুদ্ধেও কিন্তু অতীতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আর যদি সাহেদের মদদদাতা ধরতে হয়, তাহলে হাওয়া ভবন থেকে যারা মদদ দিয়েছিল এবং স্কাইপিতে যখন তারেক রহমানের সাথে সে কথা বলেছিল, সে ব্যাপারে বিএনপি কি বলবে প্রশ্ন রাখেন তথ্যমন্ত্রী। অবশ্যই সাহেদের অপকর্মের সাথে যদি অন্য কেউ যুক্ত থাকে, তদন্তে যদি সেটি বেরিয়ে আসে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে -এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. হাছান বলেন, বিক্ষোভ যে কারো বিরুদ্ধেই হতে পারে, যে কেউ তার ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারে, এটি গণতান্ত্রিক রীতিনীতিরই অংশ। তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আমি মনে করি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যখন বিভিন্ন হাসপাতালের সাথে চুক্তি করে, তখন প্রথম থেকেই তাদের আরো সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন ছিল। তাহলে সাহেদের রিজেন্ট কিম্বা জেকেজির মতো প্রতিষ্ঠান এক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ পেতো না। অনলাইন সংবাদ পোর্টাল নিবন্ধনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। আবেদন করা অনলাইনগুলোর বিষয়ে একটি সংস্থার পক্ষ থেকে ১৬শর বেশি এবং আরেকটি সংস্থা থেকে একশর মতো তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এ মাসের মধ্যেই আরো তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা অনলাইনগুলোকে রেজিস্ট্রেশন দেয়া শুরু করবো। যে সমস্ত অনলাইনের ব্যাপারে নেতিবাচক প্রতিবেদন এসেছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা সেগুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। আর যে সমস্ত অনলাইন গুজব ছড়ায়, তাদের অনেকগুলোই আবার ক্ষণে ক্ষণে পরিচয় পরিবর্তন করে, দেশে বা বিদেশ থেকে যেসমস্ত অনলাইন পোর্টাল এভাবে পরিচয় পরিবর্তন করে পরিচালনা করছে, সেগুলোর ব্যাপারে প্রযুক্তিগতভাবে আমরা আরো দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো অনলাইনের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হলে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে : ওবায়দুল কাদের
১৫,জুলাই,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিভিন্ন খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, মুখোশের আড়ালে যতই মুখ লুকিয়ে রাখুক, কোনো অপরাধীই অপরাধ করে ছাড় পাবে না, শেষ পর্যন্ত ধরা পড়তেই হবে। অপরাধীর কোনো পরিচয় নেই, দুর্বৃত্তের কোনো দল নেই। ওবায়দুল কাদের আজ বুধবার সকালে সচিবায়লস্থ নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের মান্যবর রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি এর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজির কর্তাব্যক্তিদের গ্রেফতারই প্রমাণ করে অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান। বন্যাদুর্গত এলাকায় মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, আসন্ন ঈদে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে কোরবানীর পশুরহাট এবং অন্যান্য সমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। মাস্ক পরিধান, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা তথা স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। ক্ষণিকের অবহেলা কিংবা শৈথিল্য ঈদের সার্বজনীন আনন্দ বিষাদে রূপ নিতে পারে। ওবায়দুল কাদের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবাই যদি সচেতনতার দূর্গ গড়ে তুলি তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ ভয়কে জয় করবো ইনশাআল্লাহ। করোনা যুদ্ধে সম্মুখসারির সাহসী যোদ্ধাদের অভিনন্দন জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইতিমধ্যে অনেক সম্মুখসারির যোদ্ধা মানবতার কল্যাণে এবং সেবাকে মহান ব্রত করে প্রাণ দিয়েছেন, তাদের এ আত্মদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। জাপানের রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু এবং অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। দেশের সড়ক পরিবহনখাতে মেট্রোরেলসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। চলমান প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি নিয়ে শিগগিরই একটি সমন্বয় সভা আয়োজন করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। প্রতিনিধিদলে জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান হায়াকায়া উহো এবং বাংলাদেশস্থ জাপান দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব তাকাশি শিরাই উপস্থিত ছিলেন।
সাহেদকে নিয়ে উত্তরার অভিযানে ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার
১৫,জুলাই,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাহেদকে নিয়ে উত্তরায় একটি ভবনে অভিযান চালিয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করেছে Rab। আজ বুধবার দুপুর ৩টার দিকে Rab সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে Rab মহাপরিচালক (ডিজি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত সাহেদের দেয়া তথ্যানুযায়ী রাজধানীর উত্তরার একটি বহুতল বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব জাল টাকার নোট উদ্ধার করা হয়। আজ বুধবার সকালে সাহেদের গ্রেফতারের পর থেকে উত্তরা পশ্চিম থানার সেক্টর -১১ এর ২০ নম্বর সড়কের ৬২ নম্বর সিএইচএল বাইতুল ইহসান (কুমিল্লা হোল্ডিং এ্যাপার্টমেন্ট) ভবনটি ঘিরে রাখে Rab সদস্যরা। পরবর্তীতে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো: সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে সাথে নিয়ে ওই বহুতল ভবনের ৪ (এ) ফ্লাটে অভিযান চালায় Rab । দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে অভিযান শুরু হয়ে ১টার দিকে অভিযান শেষ হয়। জানা গেছে, আজ দুপুর ১২টা ২৬ মিনিটে Rab সাহেদকে নিয়ে ওই ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। তখন তিনি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরা ছিলেন। অভিযানকালে Rab এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমও উপস্থিত ছিলেন। উত্তরায় অভিযানে নেতৃত্ব দেন Rapid Action Battalion (Rab) গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লে. কর্ণেল সারোয়ার বিন কাশেম। এছাড় Rab সদরদপ্তর এবং Rab-1 এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সঙ্গে ছিলেন। অভিযান শেষে সাহেদকে নিয়ে Rab সদস্যরা সদর দপ্তরে ফিরে আসেন। Rab সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদের পর দ্বিতীয় দফায় সাহেদকে ফের Rab সদর দফতরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরআগে, আজ বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে একটি অবৈধ বিদেশী পিস্তল ও ম্যাগজিন ভর্তি গুলিসহ তাকে গ্রেফতার করে Rab । এরপর সেখান থেকে তাকে Rab এর নিজস্ব হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীরবর্তী সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আজ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের সময় সাহেদকে Rab সদরদপ্তরে নেয়া হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সাহেদ Rab হেডকোয়ার্টার্সে রয়েছেন। জিজ্ঞাবাদ শেষে তাকে ডিএমপির তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্থান্তর করা হবে বলে জানান Rab এর ডিজি। পুলিশ ও Rab সুত্রে জানা যায়, বিশ্বব্যাপী মরণঘাতী করোনাভাইরাস ( কোভিড-১৯) টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট প্রদান, অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো: সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে গ্রেফতার করে Rab। গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় Rab। অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে। পরে রোগীদের সরিয়ে রিজেন্টের উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দেয় হয়।
করোনায় আরও ৩৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩৫৩৩
১৫,জুলাই,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৪৫৭ জনের। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩৫৩৩ জন। সবমিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৫৯০ জনে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। নাসিমা সুলতানা বলেন, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৭৯৬ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ২৩ জন। দেশে গত ৮ মার্চ করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত (কোভিড-১৯) প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
মহাপ্রতারক সাহেদ অস্ত্রসহ গ্রেফতার
১৫,জুলাই,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়াসহ নানা ভয়াবহ প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত প্রধান পলাতক আসামি রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার Rapid Action Battalion (Rab) সদস্যরা। বুধবার (১৫ জুলাই) ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীর সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। Rab এর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (এএসপি) সুজয় সরকার বিষয়টি নিউজ একাত্তরকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বহুল আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতাল প্রতারণা মামলার প্রধান পলাতক আসামি ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। Rab এর বিশেষ অভিযানে বুধবার (১৫ জুলাই) ভোরে ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার দিকে সাতক্ষীরার সীমান্ত অবৈধ অস্ত্রসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, রিজেন্ট কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর থেকেই রিজেন্ট চেয়ারম্যান মহাপ্রতারক সাহেদ আত্মগোপনে চলে যান। তিনি সীমান্ত এলাকা হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। গত ৬ জুলাই নানা অনিয়ম, প্রতারণা, সরকারের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ, করোনা পরীক্ষার ভুয়া ফলাফল, সার্টিফিকেট দেওয়া ও রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের দুটি হাসপাতালে অভিযান চালায় Rabর ভ্রাম্যমাণ আদালত। Rabর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রতারণার সত্যতা মেলে। সেই সঙ্গে পাওয়া যায় গুরুত্বপূর্ণ আরও অনেক তথ্য। পরদিন গত ৭ জুলাই রিজেন্ট গ্রুপের মূল কার্যালয় এবং রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরের দ টি হাসপাতাল সিলগালা করে দেওয়া হয়। হাসপাতালটি প্রতারণা করে ১০ হাজারেরও বেশি করোনা পরীক্ষার ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়েছে।
স্থানীয় সরকারকে ঢেলে সাজানোর চিন্তা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
১৪,জুলাই,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্থানীয় সরকারকে ঢেলে সাজানোর ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করা দরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, মঙ্গলবার একনেক বৈঠকে ৪ হাজার ২৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুন অন্তর্ভুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ ও উন্নয়ন (ফেজ-১) প্রল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম সরকারি তহবিল থেকে এ প্রকল্পের সব ব্যয় মেটানোর সুপারিশ করেন। সরকারের তহবিল থেকে বরাদ্দ চেয়ে মেয়র বলেন, এবার আমাদের টাকা নেই। এ প্রকল্পের সব টাকা দিয়ে দেন। পরবর্তীতে আমাদের সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবো। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মেয়রকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা (ডিএনসিসি) স্থানীয় সরকারের আওতায়। আপনারা নাগরিকদের সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন। রাজস্ব আদায় করতে পারছেন না কেন? উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন- এগুলো স্থানীয় সরকারের আওতায়। এখন আমাদের সময় এসেছে এগুলো (স্থানীয় সরকার) ঢেলে সাজানোর। একদিকে এরা বলে, আমরা ( স্থানীয় সরকার) স্বাধীন, অন্যদিকে আবার টাকা ওঠাতে পারে না। কেন্দ্রীয় সরকার থেকে সহায়তা চায়। এই দুইটাতো একসঙ্গে চলতে পারে না। আপনি যদি স্বাধীন হন, তাহলে স্বাধীনভাবেই চলেন। স্থানীয় সরকারের চলমান পদ্ধতি দীর্ঘ দিনের, এটা এখন ঢেলে সাজাতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিডের কারণে টাকা শর্টেজ হবে, তারপরও প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের সবাইকে মিতব্যয়ী হতে হবে, ব্যয় সাশ্রয় করতে হবে। এমনকি গাড়ি কেনার বিষয়েও একটা বিধি-নিষেধ এসেছে। আগে আমরা সভা-সমিতি করতাম, চা-কেক খেতাম, কিন্তু (ব্যয় কমাতে) এখনতো আমরা সবাই এমনটি করি না। আমরাতো এখন সভা করি ডিজিটালি, যার যার ঘরে বসে। সুতরাং এখানেও অনেক টাকা সাশ্রয় হবে। প্রকল্পের কাজে বিদেশে যেতে হতো, এখন প্রয়োজন হয় না। গাড়ি-ঘোড়া ক্রয়, বিদেশ ভ্রমণসহ সব ব্যাপারে আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে। এদিন বৈঠকে দেশের যত্রতত্র সেতু নির্মাণ না করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন এমন একটি পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, সবাই ঘরে ঘরে সেতু চান। কিন্তু এতে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দুই দিক থেকেই ক্ষতি হয়। তাই এখন থেকে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। সেতু এভাবে বানাতে থাকলে নদী মরে যাবে। ভূমি ব্যবস্থাপনা উন্নত করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সভায় শেখ হাসিনা আরও বলেন, জমির মালিকানা নিষ্কণ্টক হতে হবে। এ জন্য ভূমি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা জরুরি। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জমি সুরক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে চাই। পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওর ও চরাঞ্চলসহ দেশের প্রত্যন্ত সব এলাকায় বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিতে হবে।- বাংলানিউজ
ডা. সাবরিনার মামলা তদন্ত করবে ডিবি
১৪,জুলাই,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস টেস্ট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এবং হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তভার পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। জানা যায়, মঙ্গলবার ডা. সাবরিনাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর আগে সোমবার রাতে মামলাটি তেজগাঁও থানা থেকে তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। গণমাধ্যমকে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওসি মো. সালাউদ্দিন বলেন, রাজধানীর তেজগাঁও থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। তবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে থেকে সাবরিনা চৌধুরীর স্বামী আরিফ চৌধুরীর সহায়তায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে ১৫ হাজার ৪৬০টি ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট প্রস্তত ও সরবরাহ করে আট কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এর আগে, গত রবিবার দুপুরে ডিএমপির তেজগাঁও উপ-কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয়ে সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে। জেকেজি হেলথ কেয়ারের সিইও আরিফ চৌধুরীর প্রতারণার নেপথ্যে ছিলেন তার স্ত্রী ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। জেকেজির চেয়ারম্যান হিসেবে সব যোগাযোগ রক্ষা করতেন সাবরিনাই। গত ২৩ জুন করোনার ভুয়া সনদ দেওয়া, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে আরিফুলসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর থানা হাজতে থাকা অবস্থায় আরিফুলের ক্যাডার বাহিনী ভাঙচুর ও হামলা করে থানায়। মারধর করে পুলিশকে। এছাড়া রাজধানীর মহাখালীর তিতুমীর কলেজে নমুনা সংগ্রহের বুথ বসিয়ে সেখানে প্রশিক্ষণের নামে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও পাওয়া যায়। কলেজের কক্ষে নারী-পুরুষের আপত্তিকর অবস্থানসহ নানা অনৈতিক কাজে বাধা দিলে তিতুমীর কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্রদের ওপরও হামলা করে আরিফুলের লোকজন। অভিযোগ পাওয়া যায়, রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্নজনকে হুমকি দিতেন আরিফ। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ব্যবহার করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালককেও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তিনি। জানা যায়, জেকেজির কর্ণধার স্বামী-স্ত্রী মিলে করোনা টেস্টের ভুয়া সনদ বিক্রি করেছেন। প্রতিটি টেস্টের জন্য জনপ্রতি নিয়েছেন সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা। আর বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি তারা নিতেন ১০০ ডলার।

জাতীয় পাতার আরো খবর