সরকারী সফরে ঢাকায় তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী তাকে স্বাগত জানান। পরে রাষ্ট্রীয় আচার অনুযায়ী তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানানো হয়। এসময় গার্ড পরিদর্শন করেন ইলদিরিম। মঙ্গলবার সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও ধানমন্ডিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি। সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বেশকিছু চুক্তি ও সমঝোতায় স্বাক্ষর ও যৌথ বিবৃতি দেয়ার কথা রয়েছে। বুধবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার।
এটি আপনাদের দেশ এবং যে কোন সময় এখানে আপনাদের স্বাগত জানাই-প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত ও রাশিয়ার বীর যোদ্ধা এবং তাদের পত্নীদের সংবর্ধনা প্রদান করেছেন। ৪৭তম বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে তারা বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। বিকেলে গণভবনের লনে আয়োজিত এ সংবর্ধনায় ভারতের ২৭ জন বীর যোদ্ধা, তাদের পত্নী ও সন্তানরা এবং রাশিয়ার ৪ জন বীর যোদ্ধা ও তাদের পত্নীরা যোগ দেন। এ ছাড়া বর্তমানে কর্মরত ভারতের ৪ সামরিক অফিসার ও কর্মকর্তা এবং রাশিয়ার কর্মরত ৪ সামরিক অফিসার ও দু’দেশের হ্ইাকমিশন ও দূতাবাসের কর্মকর্তারাও সংবর্ধনায় যোগ দেন। সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সবসময়ই আপনাদের অবদানের কথা স্মরণ করি। আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। আপনারা এতে সবরকম সহায়তা ও সমর্থন দিয়েছেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার জন্য আপনারা লড়াই করেছেন, আমরা কখনো এ কথা ভুলবো না।’ প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বাংলাদেশে আসা বীর যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এটি আপনাদের দেশ এবং যে কোন সময় এখানে আপনাদের স্বাগত জানাই।’ ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতা লে. জেনারেল জয় ভগবান সিং যাদব বলেন, বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারা তাদের জন্য বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবস্থানকালে তারা শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় এ দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর ব্যাপক অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই নিরাপত্তা শুধু আপনার দেশের নয় সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার।’ জেনারেল ভগবান ১৯৭১ সালের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, আপনারা বর্বরতা ও আতঙ্কের মধ্যে ৯ মাস অতিবাহিত করেছেন। কিন্তু ‘মুক্তি ভাইরা সাহসী প্লাটফর্মসহ এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যাতে আমরা আপনাদের এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারি।’ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দীপনামূলক নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। এটি সম্ভব হয়েছে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শেখ হাসিনার সাহসী ভূমিকার কারণে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব আরো বিকশিত এবং সকল নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক শক্তি পরাজিত হবে বলে জেনারেল ভগবান আশা প্রকাশ করেন। রুশ প্রতিনিধিদলের নেতা নৌবাহিনীর প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমোডর জি এস সালকার স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান বিজয় উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের লড়াইতে রাশিয়া আন্তরিকভাবে সমর্থন দিয়েছে। সালকার বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের ১২ নম্বর স্পেশাল টাস্ক ফোর্স সহায়তায় এগিয়ে আসে এবং চট্টগ্রাম বন্দর ও আশপাশের এলাকা মাইন মুক্ত করে। আমন্ত্রণ জানানোর জন্য রুশ প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কমোডর সালকার বলেন, ভাদিভস্তকে ফিরে গিয়ে তিনি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনে বাংলাদেশের জনগণের মহান সাফল্য ও অর্জনের কথা তার দেশের জনগণ ও গণমাধ্যমকে অবিহিত করবেন। জেনারেল ভগবান কিছু বই, ক্রেস্ট এবং বঙ্গবন্ধুর কিছু দুর্লভ ছবি প্রধানমন্ত্রীকে প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বাংলাদেশে আসার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর বোনের ছেলে রাদোয়ান মুজিব সিদ্দিক, সাবেক মন্ত্রী এ বি এম তাজুল ইসলাম এমপি, মাহজাবিন খালেদ এমপি এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সোবহান গোলাপ।
সিএনজি অটোরিকশার প্রথম অ্যাপ যাত্রা
আসছে নতুন বছর, আর এই নতুন বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিন থেকে ঢাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা মিলবে নতুন অ্যাপে। এটাই হবে সিএনজি অটোরিকশার প্রথম অ্যাপ যাত্রা। অ্যাপে রিকোয়েস্ট দিয়ে যেমন সিএনজি মিলবে তেমনি অ্যাপ ছাড়া শুধু চালকের মোবাইল ব্যবহার করে চলাচল করা যাবে। এজন্য দুই হাজার স্মার্টফোন চালকের হাতে তুলে দিয়ে এ সেবা শুরু করবে গতি-লেটসগো নামের অ্যাপ। ১ জানুয়ারি থেকেই এ যাত্রা শুরু বলে- জানিয়েছেন গতি-লেটসগো অ্যাপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এন. আই. বিআইজেড-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) এন জামান চৌধুরী জেমস। প্রকৌশলী জেমস বলেন, অন দ্যা গো- যাদের কাছে অ্যাপস নেই তারাও অ্যাপভিত্তিক সেবাটি ব্যবহার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে যাত্রীর মোবাইলে প্রয়োজন নেই। চালক তার মোবাইলে একটি যাত্রা স্টার্ট দিলেই মিটারের মতো কাজ করবে। ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন জামান চৌধুরী জেমস বলেন, সিএনজি অটোরিকশায় যে মোবাইল ফোন দেওয়া হবে সেগুলোকে শুধু গতি অ্যাপসের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়ার চিন্তা করছেন তারা। যাতে সেখানে অন্য কোনো অ্যাপ না চলে। সেক্ষেত্রে প্রযক্তিগত বিষয়গুলো এখন বিবেচনা করা হচ্ছে। অ্যাপ বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং পার্টনার চপল জানান, সিএনজি অটোরিকশার মালিককে মূলত মোবাইল ফোনটি দেওয়া হবে। কারণ একজন মালিকের একাধিক সিএনজি রয়েছে। আবার একটি সিএনজি ২ থেকে ৩ জন চালক চালান। যখন যে চালাবে তার আইডি লগইন করে চালাতে পারবে। আর সিএনজি মালিক অ্যাপটির ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজস্ব আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকে দেখতে পারবে কতটি ট্রিপ কোথায় কোথায় হয়েছে। ২১ থেকে ৩১ ডিসেম্বর রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শেষ করে ১ জানুয়ারি ৩ হাজারের বেশি সিএনজি অটোরিকশা অ্যাপে ছাড়ার ইচ্ছা তাদের। চপল আরো জানান, সিএনজি চালকদের অ্যাপে নিয়ে আসতে যেসব প্রতিবন্ধকতা তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। শুরুতে সিএনজি চালক আর মালিকদের বহু সমিতি দেখে পরে পৃথকভাবে মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেই অ্যাপ সেবার কথা তুলে ধরেছিলেন। এতেই মালিকপক্ষ রাজি হয়। তবে রাইড শেয়ারিং যে নীতিমালা করছে সরকার সেখানে সবশেষ খসড়ায় সিএনজি অটোরিকশাকে অ্যাপ সেবার বাইরে রাখার বিধান যুক্ত করা হয়। যদিও সরকার নির্ধারিত মিটার কার্যত অচল।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০১৭ সনদ বিতরণে প্রধানমন্ত্রী
নানা সীমাবদ্ধতা মধ্যেও সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকার সবধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- আগামীতে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে আরো আধুনিক ও প্রযুক্তিসম্পন্ন করে গড়ে তোলা হবে সশস্ত্র বাহিনীকে। সোমবার সকালে রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০১৭ এর সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময়, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মানবিকতার মানদণ্ডে বাংলাদেশ প্রশংসিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন, গভীর পর্যবেক্ষণ এবং উচ্চতর গবেষণার জন্য ১৯৯৬ সালে মিরপুর সেনানিবাসে স্থাপিত হয় ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ। যেখানে প্রতিবছর সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেশ পরিচালনায় কৌশলগত প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে। সোমবার সকালে মিরপুর সেনানিবাসে এ বছর সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করায় কর্মকর্তাদের হাতে সনদ তুলে দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময়, দেশের সামরিক-বেসামরিক মিলে ৫৩ জন কর্মকর্তা এবং বিদেশের ২৭ জনের হাতে তুলে দেয়া হয় ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্সের সনদ। এছাড়া, আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সে তিন বাহিনী থেকে ৩৫ জন কর্মকর্তা অর্জন করেন এএফডব্লিউসি সনদ। এ সময়, কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, জাতীয় বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্বেও সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের সশস্ত্রবাহীনিকে আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন এবং প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। 'প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নিরাপদ করাসহ দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান উজ্জ্বল। আগামীতেও দেশের জন্য একাত্ম হয়ে কাজ করার আহ্বান সরকারপ্রধানের। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের সশস্ত্রবাহীনি শুধু মাত্র ক্যাম্পে বসে থাকার জন্য না। আমাদের দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সশস্ত্রবাহীনি নিযুক্ত থাকছে। 'পরে, কর্মকর্তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবার সোনার খনি
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় সাড়ে সাত কেজি সোনাসহ তিনজনকে আটক করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেনটিভ টিম। জব্দকৃত সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার দিবাগত রাতে এসব সোনার বার আটক করা হয়। ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার (প্রিভেনটিভ টিম) সাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাইদুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের বহনকৃত ট্রলি ব্যাগের হাতলের পাইপের ভেতর লুকানো অবস্থায় থেকে ৭৪ পিস সোনার বার উদ্ধার করা হয়। জব্দ সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় শুল্ক আইন ১৯৬৯ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
দেশের উত্তরাঞ্চলে হটাৎ শীতের প্রকোপ,
এবার একটু দেরিতে হলেও তীব্র শীত জেঁকে বসছে গাইবান্ধা ও পঞ্চগড়সহ দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় কুয়াশা; সঙ্গে বাড়তে থাকে শীতের প্রকোপ। আর শেষ রাতে হিমেল বাতাস। সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনা। শীতের প্রকোপে শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ বেড়েছে। এদিকে গরম কাপড়ের অভাবে কষ্টে আছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। পঞ্চগড়: শনিবার থেকে হঠাৎ করেই শীত বাড়তে শুরু করেছে পঞ্চগড়ে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। আর ঘন কুয়াশায় দুর্ঘটনা এড়াতে সকালেও হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এদিকে তীব্র শীতে গরম কাপড়ের অভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে। কুড়িগ্রাম: উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীত পড়তে শুরু করেছে কুড়িগ্রামেও। কুয়াশার কারণে গত শনিবার থেকে সূর্যের দেখা মিলছে না এ জেলায়। সোমবার সকাল ৯টায় জেলায় ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। গাইবান্ধা পৌষের শুরুতেই শীতের তীব্রতা বেড়েছে উত্তরের জনপদ গাইবান্ধায়। সূর্যের দেখা মেলে নি গত দু'দিনে। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে পথ ঘাট ও ক্ষেত খামার। এদিকে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোগান্তি বেড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের। তীব্র শীত আর কুয়াশার কারণে কাজে যেতে পারছেন না তারা। এছাড়া নওগাঁ ও বগুড়াসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো পৌষের শুরুতেই তীব্র শীতের কবলে পড়েছে।
ঘন কুয়াশায় ব্যাহত জান চলাচল
ভোর থেকেই কুয়াশার ফিনফিনে চাদরে ঢাকা পড়েছিল রাজধানী ঢাকার অনেক এলাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা পার্ক, ধানমন্ডি লেক, হাতিরঝিল, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গতকাল রোববার যেন সত্যিকারের শীতের সকাল ধরা দিয়েছিল। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রাজধানীতে জাঁকালো শীতের দেখা পেতে জানুয়ারি নাগাদ অপেক্ষা করতে হবে। গতকাল সারা দিনই ক্ষণে ক্ষণে মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ছিল সূর্য। ধোঁয়াটে কুয়াশার ভাব ছিল শহরজুড়েই। কুয়াশার কারণে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠা-নামার সময় আর পরিকল্পনাতেও বদল আনতে হয়। বিমানবন্দর সূত্রে জানাযায় কুয়াশার কারণে সকালে চারটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকায় নামতে পারেনি। সিঙ্গাপুর আর শারজাহ থেকে ছেড়ে আসা দুটি ফ্লাইট গন্তব্য বদলে কলকাতায় নামে। কুয়ালালামপুর আর মাস্কট থেকে আসা দুটি ফ্লাইট ঢাকার বদলে চট্টগ্রামে অবতরণ করে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে প্রতিটি ফ্লাইটই নির্ধারিত সময়ের পর ছেড়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায় কয়েক দিনের বৃষ্টির পর এখন তাপমাত্রা কমেছে। তাই কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। নদী অববাহিকায় এ সপ্তাহ থেকেই ঘন কুয়াশা থাকবে। আর জানুয়ারির ৯ থেকে ১০ তারিখ নাগাদ তীব্র শীত পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সড়কপথ কুয়াশার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। গত শনিবার রাত ১১টা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে থেমে থেমে যানবাহন চলে। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার কুর্ণী থেকে গোড়াই শিল্পাঞ্চলের স্কয়ার এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। গতকাল ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নৌপথের চিত্র কুয়াশার কারণে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া রুটে গতকাল ভোর পাঁচটা থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয় ঘাট কর্তৃপক্ষ। পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চলাচল স্বাভাবিক হয়। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথেও চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
ছায়েদুল হকের প্রথম জানাজা আজ রোববার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রী ছায়েদুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মোনাজাত করছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রী-সাংসদেরা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হকের প্রথম জানাজা আজ রোববার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরে আরেক দফা জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে। এদিকে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে ছায়েদুল হকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। তাঁরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান হিসেবে দলের নেতাদের নিয়ে ছায়েদুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর মুক্তিযোদ্ধা এই মন্ত্রীকে সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানায় ঢাকা জেলা প্রশাসন। পাঁচবার নির্বাচিত এই সাংসদের জানাজায় মন্ত্রী, সাংসদ ও দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। ছায়েদুল হকের একমাত্র ছেলে এস এম রায়হানুল হক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী ছায়েদুল হক গতকাল শনিবার সকালে ঢাকার বিএসএমএমইউতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃর্ত্যু তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
শিক্ষাসংক্রান্ত নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে এক যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শিক্ষকেরাই আসল প্রশ্নফাঁসকারী। আজ রোববার সচিবালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন। শিক্ষাসংক্রান্ত নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে এই যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নফাঁস বন্ধে বহু ধরনের সাজেশন এসেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পরীক্ষার দিন আধঘণ্টা আগে প্রশ্ন ছাপিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার কথা হয়েছে। কিন্তু আমরা যখন বুঝলাম, আসল প্রশ্নফাঁসকারী তো শিক্ষক, তখন আধাঘণ্টা আগে দিয়েই লাভ কী। মন্ত্রী আরও বলেন,;আমি যখন আমার শিক্ষকের হাতে প্রশ্ন তুলে দেব, তখন তো নিরাপদ হয়ে ঘুমাতে যাওয়া উচিত। কিন্তু কিছু শিক্ষক সে সময় প্রশ্ন ফাঁস করে দেন। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে আধঘণ্টা আগেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রে ঢোকার পর প্রশ্নপত্রের খাম খোলা হবে। মন্ত্রী বলেন, কিছু শিক্ষক ক্লাসে না পড়িয়ে বাড়িতে বা কোচিংয়ে পড়ান। যত বড় ভালো শিক্ষক, তত ক্লাসে কম পড়ান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দুদকের সঙ্গে তারা একসঙ্গে কাজ করবে। সভায় দুদকের কমিশনার নাসির উদ্দিন আহমেদ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসসহ শিক্ষায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে জানতে চান, বছরের পর বছর যেসব শিক্ষক ঢাকায় আছেন, তাঁদের বদলি করা হয় না কেন? একই সঙ্গে পাঠ্যপুস্তক ছাপানোয় দরপত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিভি) চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চান দুদক কমিশনার।