রবিবার, জানুয়ারী ১৭, ২০২১
আজ থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর বন্ধ থাকবে
২২ মে,শুক্রবার,আখাউড়া প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পবিত্র ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে শুক্রবার (২২ মে) থেকে ২৯ মে পর্যন্ত টানা আট দিন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিষয়টি ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। আগামী ৩০ মে থেকে এ স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম ফের শুরু হবে। তবে লকডাউনের কারণে ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে আসতে পারলেও স্বাভাবিক যাত্রী পারাপার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। এদিকে সরকারি ছুটির দিন ছাড়া আখাউড়া স্থল শুল্কস্টেশন ও বন্দরের কার্যক্রম খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ।
করোনা উপসর্গ নিয়ে বগুড়ার সাবেক এমপি কামরুন্নাহার পুতুলের মৃত্যু
২২ মে,শুক্রবার,বগুড়া প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বগুড়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নারী বিষয়ক সম্পাদক কামরুন্নাহার পুতুল (৬৫) করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত সাড়ে ১১টায় তিনি মারা যান। তিনি আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান পটলের স্ত্রী। তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জননী। বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কামরুন্নাহার পুতুল গত তিন দিন ধরে করোনা উপসর্গ নিয়ে বগুড়া শহরের শিববাটি এলাকায় বাসায় অসুস্থ ছিলেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তার ফলাফল পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা গেছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কামরুন্নাহার পুতুল বগুড়া-জয়পুরহাট জেলার সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য মনোনীত হন। তার স্বামী মোস্তাফিজার রহমান পটল ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বগুড়ার গাবতলী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কামরুন্নাহার পুতুল এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগে রূপালী ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন।
আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা
২২ মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা। অর্থাৎ রমজান মাসের শেষ শুক্রবার। দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য ব্যাকুল থাকেন মুমিন-মুসলমানরা। দয়াময় রবের দরবারে হাজিরা দিয়ে বিগলিত চিত্তে মাগফিরাত কামনা করেন। হাদিসে আছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা:) বলেছেন রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারী, মুসলীম)। তাই সারা বছরের মাঝে মুমিনের কাছে রমজান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জুমাতুল বিদার মাধ্যমে কার্যত রোজাকে বিদায় জানানো হয়। ইসলামের সূচনাকালে মদিনায় যখন রমজানে রোজার বিধান নাজিল হয়, তখন থেকেই প্রতিবছর রমজানের শেষ জুমাকে বিশেষ গুরুত্বসহকারে আদায় করে আসছে মুসলিম উম্মাহ। বিশ্ব মুসলিমের কাছে সপ্তাহের অন্য দিনের চেয়ে শুক্রবারের মর্যাদা অধিক। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে আসা রমজান মাসের শুক্রবারগুলোর মর্যাদা আরও অধিকতর। শেষ শুক্রবার জুমাতুল বিদার মধ্য দিয়ে পবিত্র মাহে রমজানকে এক বছরের জন্য বিদায় সম্ভাষণ জানানো হয়। আজ মুসল্লিরা আগে আগে মসজিদে যাবেন। জুমার নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করবেন। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনায় যত ভুলত্রুটি হয়েছে তার জন্য ক্ষমা যাবেন, আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের কামনায় চোখের পানি ঝরাবেন। দোজখের আগুন থেকে বাঁচার আকুতি জানাবেন। জীবনের পথ যেন কল্যাণময় হয় তার জন্য হাত তুলবেন। তবে এবার করেনা মহামারীর কারণে স্বল্প পরিসরে জুমার নামাজে অংশ নেবেন মুসল্লিরা। যারা মসজিদে জুমার জামাতে যাবেন তারা অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানবেন।
করোনা ভাইরাস আমাদের অর্থনীতিতেও আঘাত হেনেছে
২১মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনা মহামারির বাস্তবতায় বিশ্বে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারসহ জলবায়ু পরিবর্তনে সমন্বিত নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এ প্রকোপ সামলে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সব দেশকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিল- এসকাপ এর ৭৬তম ভার্চুয়াল সেশনের ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার সাথে সাথে কোভিড -১৯ মহামারির কারণে বিশ্ব শতাব্দীর এক অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ ভাইরাস আমাদের অর্থনীতিতেও আঘাত হেনেছে। এ মহামারি আরও দেখিয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের উপায় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা মোকাবিলার বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টার পরিবর্তনের শিক্ষা। এ মহামারির সমাধান আমাদের একত্র হয়েই করতে হবে।
আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
২১মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের আজ থেকেই ঘর নির্মাণ, অর্থ ও ত্রাণ সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ও পরিচালকরা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য জেলা প্রশাসকদের সাথে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঈদের ছুটির সময়ও সক্রিয় থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) প্রেস উইং এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, লকডাউন পরিস্থিতে সরকারি ছুটির দিনেও সবসময় খোলা ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। অনলাইন ও অফলাইনে নিয়মিত ফাইল দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিচ্ছেন। এছাড়াও মন্ত্রিসভা, একনেক, বাজেট, ৬৪ জেলার সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত সভা, সর্বশেষ গতকাল জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ের সচিব মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতি মুহূর্তে তথ্য নিচ্ছেন। তাঁর নির্দেশে ঈদের ছুটির মধ্যেও অফিসের সকলে সক্রিয় থাকবেন। আজ সকাল থেকেই করোনা এবং ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি একই সাথে পর্যবেক্ষণ ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সব জেলা উপজেলা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সাথে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য। তিনি আরো বলেন, আজ সকাল থেকেই সচিব ও পরিচালকরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও জেলা প্রশাসকদের সাথে সমন্বয় করে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু করেছেন। বিশেষ করে গত দুইদিন ধরেই উপকূলীয় এলাকার লোকজনদের নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, তাদের খাবার ব্যবস্থা করা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রাখার জন্য ব্যস্ত সময় পার করেছেন। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ করে ত্রাণ বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে আজ সকাল থেকেই। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ লাইন মেরামত কৃষি ও গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, সড়ক বাঁধ ও ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজও চলছে।বাসস
করোনা: আরো এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু,আজ পুলিশের দুই সদস্যের মৃত্যু ঘটেছে
২১মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ দিলেন আরো এক পুলিশ সদস্য। তিনি নায়েক মো. আল মামুন অর রশীদ। আজ দুপুরে মারা যান তিনি। এ নিয়ে করোনায় আজ পুলিশের দুই সদস্যের মৃত্যু ঘটেছে। প্রাণঘাতি করোনায় এ পর্যন্ত পুলিশের মোট ১১ সদস্য প্রাণ হারালেন। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেল রানা জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের নায়েক আল মামুন অর রশীদের মৃত্যু ঘটে। আল মামুন অর রশীদ ঢাকা মেট্টোপলিন পুলিশে কর্মরত ছিলেন।মানবজমিন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে তার আগে আজ সকালে মারা গেছেন কনস্টেবল মো. মোখলেছুর রহমান। তিনি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অধীন সদর কোর্টে কর্মরত ছিলেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৩৩০০ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন প্রায় ৫০০ পুলিশ সদস্য।
করোনা চিকিৎসায় জেনেরিক রেমডেসিভির বাজারজাত শুরু
২১মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বনামধন্য ওষুধ প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (বেক্সিমকো ফার্মা, বিপিএল বা কোম্পানি) আজ রেমডিসিভির (ব্র্যান্ড নাম বেমসিভির) বাজারজাত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। এন্টি-ভাইরাল ওষুধ রেমডিসিভির সম্প্রতি কোভিড-১৯ চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারি সংস্থার (এফডিএ) জরুরি- ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। বহুল প্রতীক্ষিত এই ওষুধের জেনেরিক সংস্করণ বাজারজাতকরণে বেক্সিমকো ফার্মাই বিশ্বের প্রথম। সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের রেপ্লিকেশন বা বংশ-বৃদ্ধি রোধে প্রথম কার্যকরী ওষুধ হিসেবে রেমডিসিভির প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশে বেক্সিমকো ফার্মাই সর্বপ্রথম ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের আবেদন করে। ওষুধের অনুমতির জন্য প্রযোজ্য সকলবিধি বিধান অনুযায়ী আবেদনের সকল ধাপ সুসম্পন্ন করে। পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা শেষে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার জরুরি ব্যবহারের জন্য বেমিসিভির ব্র্যান্ড নামে বেক্সিমকো ফার্মার উৎপাদিত রেমডিসিভির ইঞ্জেকশন এর চুড়ান্ত অনুমোদন দিল।মানবজমিন। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক গিলিয়াড সাইন্সেস রেমডিসিভির এর উদ্ভাবক। প্রত্যক্ষ এন্টিভাইরাল হিসেবে রেমডিসিভির ভাইরাসের আরএনএ সংশ্লেষন প্রতিরোধে সরাসরি কাজ করে। রেমডিসিভির রক্তনালীতে ইঞ্জেকশন হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। কোভিড-১৯ এ গুরুতর অসুস্থ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে।সাম্প্রতিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় রেমডিসিভির ব্যবহারে কোভিড-১৯ আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের দ্রুততম সময়ে সুস্থ হয়ে উঠার প্রমাণ মিলেছে। জাপান সরকারও কোভিড-১৯ এ গুরুতর অসুস্থ রোগীর ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসা হিসেবে রেমডিসিভির ব্যবহারের বিশেষ অনুমতি দিয়েছে। জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের ক্ষেত্রে রেমডিসিভির ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহের রোগীদের জন্য সর্বাধুনিক যুগান্তকারী ওষুধ সহজলভ্য করা সবসময়েই একটি দুরহ বিষয়। বাংলাদেশের ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, বেক্সিমকো ফার্মা শুধুমাত্র কোভিড-১৯ চিকিৎসায় নির্ধারিত হাসপাতাল সমূহেই রেমডিসিভির (বেমসিভির) সরবরাহ করবে, কোন ফার্মেসিতে সরবারাহ করবে না। ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রাপ্তির প্রথম দিনেই বেক্সিমকো ফার্মা বিপুল পরিমানে রেমডিসভির (বেনসিভির) কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য অনুদান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব নাজমুল হাসান এমপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহেদ মালিকের কাছে এই ওষুধ হস্তান্তর করেন। অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা সচিব জনাব মোঃ আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা সচিব জনাব মোঃ আলি নুর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ মাহবুবুর রহমান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ এ বি এম আব্দুল্লাহ এবং কেন্দ্রীয় ঔষধাগার এর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। উপিস্থিত সকলে মহামারি করোনা মোকাবেয়াল বেক্সিমকো ফার্মার গৃহীত সকল উদ্যোগসমুহের প্রশংসা করেন। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান বলেন, কোভিড-১৯ রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ওষুধটি আনার ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম জেনেরিক কোম্পানী হতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, নতুন এই মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হাতিয়ার এই ওষুধটি উৎপাদন মূলত যুগান্তকারী আবিস্কার সমূহকে সহজলভ্য করার আমাদের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতার কারনেই স্বল্পোতম সময়ে রোগীদের জন্য এই ওষুধ নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। এজন্য তাদের প্রতি আমরা সবিশেষ কৃতজ্ঞ। সামাজিক দায়বদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা সরকারের কর্মকান্ডে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব। মহামারি করোনাভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে, কোভিড-১৯ আক্রান্তদের জন্য বিশ্বের সর্বাধুনিক বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেক্সিমকো ফার্মা সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলছে। নিজস্ব আধুনিক গবেষণা ও উৎপাদন সক্ষমতার আলোকে, নতুন এই মহামারির বিরুদ্ধে যুদ্ধে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহনে বেক্সিমকো ফার্মা অঙ্গীকারাবদ্ধ। বেক্সিমকো ফার্মা ইতোমধ্যেই কোভিড-১৯ চিকিৎসায় আরেকটি এন্টি-ভাইরাল ওষুধ ফেভিপিরাভির (ব্র্যান্ড নামঃ ভিরাফ্লু) এবং কোভিড চিকিৎসায় ব্যবহৃত ও সম্ভাবনাময় ওষুধ এন্টিম্যালারিয়াল হাইড্রোক্সিক্লোরকুইন (ব্র্যান্ড নামঃ কোভিসিন) ও এন্টি-প্যারাসাইটিক ইভারমেক্টিন (ব্র্যান্ড নামঃ ইভেরা) উৎপাদন শুরু করেছে। বেক্সিমকো ফার্মা বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ওষুধ রপ্তানিকারী প্রতষ্ঠান। বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে প্রতিষ্ঠানটির উপস্থিতি আছে। বেক্সিমকো ফার্মার সর্বাধুনিক উৎপাদন স্থাপনা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জিসিসি ও লাতিন আমেরিকা সহ বিশ্বের অনেক ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক সনদপ্রাপ্ত। ২০১৫ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ বেক্সিমকো ফার্মার উৎপাদন স্থাপনাকে অনুমোদন প্রদান করে। এরপর ২০১৬ সালের আগস্টে প্রথম বাংলাদেশি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওষুধ রপ্তানি শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। আরও তথ্য জানতে ভিজিট করুন www.beximcopharma.com
কূটনীতিকদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী, বাংলাদেশে মিডিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীন
২১মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশে মিডিয়া পুরোপুরি স্বাধীনতা ভোগ করছে এবং দেশের মানুষ মুক্তভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারছে বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপের ১০ দূতের সঙ্গে বুধবার এক ভিডিও কনফারেন্সে মন্ত্রী মোমেন এ দাবি করেন। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ইইউ দূতরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন এবং এ নিয়ে আলোচনা করেন। মন্ত্রী মুক্তভাবে মানুষের মত প্রকাশের অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রদূতদের এমন বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তবে তিনি এটাও বলেন, বাংলাদেশে ৩৩টি প্রাইভেট টেলিভিশন নেটওয়ার্ক রয়েছে, শত শত দৈনিক পত্রিকা বের হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইন সার্ভিসগুলো তথ্য প্রবাহ নয়, রীতিমত তথ্যের বন্যা বয়ে দিচ্ছে। এমনটি দুনিয়ার বহু দেশ তো নয়ই, এমনকি ইউরোপেও নেই। মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সঙ্গে অবশ্যই দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। তা না হলে সমাজে অরাজকতা তৈরি হবে। উদাহরণ দিয়ে ইউরোপের দূতদের তিনি বলেন, মুক্ত ইচ্ছার নামে প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে শপিং মলে কিংবা স্কুলে ঢুকে কাউকে হত্যা করতে দেয়া যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি মিথ্যা বা বানোয়াট খবর পরিবেশন করে মানুষকে উত্তেজিত করতেও দেয়া যায় না। মন্ত্রী আরো বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে সুশাসন নিশ্চিতে মুক্ত সংবাদ মাধ্যমকে একটি গুরুত্বপূর্ণ টুলস হিসাবে সরকার বিবেচনা করে সব সময়। ভার্চুয়াল ওই বৈঠকে ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশন প্রধান অংশ নেন। ইইউ'র ফান্ড ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চায় ঢাকা এদিকে ওই বৈঠকে মন্ত্রী ড. মোমেন করোনা পরিস্থিতি ছাড়াও রোহিঙ্গা ইস্যু, বাক স্বাধীনতাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের জিজ্ঞাসার জবাব দেন। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা প্রদানের ঘোষণায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ওই ফাণ্ডসহ উন্নয়ন অংশীদারদের ব্যবহৃত সমুদয় এইড বা ত্রাণ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। বলেন, এ জন্য কোথায় কত টাকা ব্যয় হচ্ছে তা প্রকাশ করা উচিত। এতে দাতা দেশগুলোর কর দাতারাও জানতে পারবে তাদের দেয়া অর্থ কোথায় কীভাবে খরচ করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ, ওদিকে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রী ও দূতদের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সের আলোচনায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য ফোর-জি নেটওয়ার্ক চালুর প্রসঙ্গ আসে। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি বন্ধ করা হয়েছে নিরাপত্তার জন্য। যাতে করে মাদক চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচারসহ অন্যান্য অপকর্ম রোধ করা যায়। ওই ক্যাম্পে টু-জি নেটওয়ার্ক আছে যার মাধ্যমে রোহিঙ্গারা কথা বলতে পারে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনার ব্যাপক বিস্তার রোধে সরকার সচেষ্ট রয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের ১১ লাখ নাগরিকদের অস্থায়ী আশ্রয়ের ৩ বছরে একজনকেও ফেরানো সম্ভব না হওয়ায় চরম হতাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি ঝুলে যাওয়া প্রত্যাবাসনে প্রক্রিয়ায় গতি আনতে ইউরোপের সক্রিয় সহায়তা কামনা করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর