দেশের কয়েকটি স্থানে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের কয়েকটি স্থানের মতো রাজধানী ঢাকায়ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার পর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হতে দেখা যায়। যা সকালেও অব্যাহত রয়েছে। এতে হালকা শীতের মধ্যে এমন বৃষ্টিতে বেকায়দায় পড়তে দেখা গেছে কর্মমুখী মানুষের। প্রচলিত রয়েছে, অগ্রহায়ণের শেষ দিকের এ বৃষ্টি হতে পারে শীতের আগামনী বার্তাও। এরই মধ্যে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে শুক্রবার গুড়ি গুডি বৃষ্টির সঙ্গে শীত জেকে বসার খবরও পাওয়া গেছে। শুক্রবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর বিভাগের দুএক জায়গায় হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়।
আজ বেগম রোকেয়া দিবস
বেগম রোকেয়া দিবস আজ। বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী বেগম রোকেয়ার আজ ১৩৭তম জন্ম ও ৮৫তম মৃতুবার্ষিকী। ১৮৮০ সালের এই দিনে তিনি রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি নারী জাগরণের অগ্রদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। বেগম রোকেয়া উনবিংশ শতাব্দীর একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় পরলোকগমন করেন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, দেশের উন্নয়নে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে সহযাত্রী হিসেবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত হবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকের এই দিনে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া নারীমুক্তি, সমাজ সংস্কার ও প্রগতিশীল আন্দোলনের পথিকৃৎ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তার বাণীতে বলেন, বেগম রোকেয়া ছিলেন নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণের অগ্রদূত। বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানদের নবজাগরণের সূচনালগ্নে নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণে তিনিই প্রধান নেতৃত্ব দেন। রোকেয়া দিবস উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আজ সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের রোকেয়া ভাস্কর্যে রযালি সহকারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। বিকাল ৩টায় ডাকসু কনফারেন্স রুমে বেগম রোকেয়ার জীবন, সংগ্রাম ও শিক্ষা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে তার জন্মস্থান রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোলমডেল
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ফলে বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোলমডেল। তিনি বলেন, নারী উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে আমরা জাতিসংঘের প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন এবং গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম প্রদত্ত এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছি। নারী ও কন্যাশিশুর সাক্ষরতা ও শিক্ষা প্রসারে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কো আমাকে শান্তিবৃক্ষ স্মারক পুরস্কারে ভূষিত করেছে। উন্নয়ন ও অগ্রগতির মহাসড়ক ধরে সরকার এগিয়ে চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এদেশের নারীসমাজ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখবেন। বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন এবং বেগম রোকেয়া পদক-২০১৭ প্রদান উপলক্ষে আজ শুক্রবার দেয়া এক বাণীতে তিনি একথা বলেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় আগামীকাল রোকেয়া দিবস উদযাপন এবং বেগম রোকেয়া পদক-২০১৭ প্রদান করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি আরো যুগোপযোগী করে আমরা নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করছি। বাল্যবিবাহ সমাজ থেকে নির্মূলের জন্য বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ প্রণয়ন করা হয়েছে। নারীর দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা, শ্রমবাজারে ব্যাপক অংশগ্রহণ ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে এবং নারীর প্রতি সামাজিক অপরাধ রোধে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়াও বর্তমান সরকার নারী শিক্ষার প্রসারে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছে। উপবৃত্তি, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শিক্ষার্থী ঝরেপড়া রোধ এবং লিঙ্গ সমতায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে । মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া ছিলেন নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণের অগ্রদূত। বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানদের নবগাগরণের সূচনালগ্নে নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণে তিনিই প্রধান নেতৃত্ব দেন। শেখ হাসিনা বলেন, সাহিত্যচর্চা, সংগঠন পরিচালনা ও শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া সমাজ সংস্কারে এগিয়ে আসেন এবং স্থাপন করেন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বেগম রোকেয়ার আদর্শ, সাহস, কর্মময় জীবন নারী সমাজের এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস । প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধানে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। নারী সমাজের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৭ সালে সর্বপ্রথম জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ঘোষণা করেন। তিনি বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচি এবং বেগম রোকেয়া পদক-২০১৭ প্রদান অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
বিশ্বের সকল মুসলিম দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখে হাসিনার
প্রধানমন্ত্রী শেখে হাসিনা বলেছেন, আমাকে কেন ক্ষমা করবে, আমি কি করেছি। বরং উনি উল্টো মাফ চাওয়া দরকার। তিনি বলেন, এই সফরে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। কম্বোডিয়ার একটি সড়ক বঙ্গবন্ধুর নামে করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর আগে সদ্য সমাপ্ত কম্বোডিয়া সফর নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় গণভবনের সংবাদ এই সম্মেলন শুরু হয়। আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রসঙ্গত ৩ দিনের সরকারি সফর শেষে গত ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার তিনি দেশে ফিরেন। জেরুজালেমকে দখলদার ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতি বিশ্বের কেউ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এটি গোটা বিশ্বের কাছেই অগ্রহণযোগ্য। গণভবনে পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। শেখ হাসিনা আমেরিকার এই ঘোষণার জবাবে বিশ্বের সকল মুসলিম দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণা কারো কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে জাতিসংঘের স্পষ্ট রেজ্যুলেশন আছে, এই ঘোষণা সেটিকেই অগ্রাহ্য করল। কেউই এটা মেনে নেবে না। এটাই আমাদেরও বক্তব্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে মনে রাখতে হবে, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া দাবি নয়, তাদের অধিকার। সবার উচিত তাদের স্বীকৃতি দেওয়া। তিনি বলেন, এটা সবারই জানা ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর পশ্চিম জেরুজালেমের ভূখণ্ডই ফিলিস্তিনের রাজধানী হওয়ার কথা ছিল। আমি মনে করি, এখনো তাদের সেটাই থাকা উচিত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমেরিকার এই ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্য ফের অশান্ত হবে। ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে অশান্তি দেখা দেবে। আমেরিকায় তাদের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, আবার তারাই অশান্তির সৃষ্টি করল। তিনি আরো বলেন, এখন মুসলিম বিশ্বের একটাই কাজ, ঐক্যবদ্ধ হওয়া। ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া। যারা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না, তারা নির্বাচনে আসবে না। এক্ষেত্রে কিছু করার নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন ,গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে আসা প্রত্যেক দলের কর্তব্য। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত দেশ। জনগণ যাতে পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা হবে। যারা জনগণের কল্যাণ চায়, তারাই নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসুক। খুনি যুদ্ধাপরাধীরা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, বিএনপি নাকে খত দিয়ে এবারের নির্বাচনে আসবে। বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। সাধাসাধির কিছু নেই। জামায়াত নিষিদ্ধ ছিল, জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। দলটি নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোটলোকিপনা যারা করে তাদের সঙ্গে কিসের আলোচনা? ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণা গ্রহণযোগ্য নয়, স্বাধীন ফিলিস্তিন হতে হবে। তারেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তাকে ফিরিয়ে আনা হবে। এ নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সৌদিতে টাকা পাচারের বিচার দেশে হবে। আগামীতে ভোট না দিলে আফসোস থাকবে না। বাংলাদেশকে বিশ্ব সমীহ করে, বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। ক্ষমতা আমাদের কাছে জনগণের সেবা করা। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে আওয়ামী লীগকে দরকার। কোনো এমপি ডেঞ্জার জোনে নেই, অন্তত রেড লাইনে নেই। নির্বাচনের হাওয়া বওয়া ভালো, গণতন্ত্র বিরাজ থাকার লক্ষণ। বিশ্বের শীর্ষ তিন সৎ নেতার মধ্যে আমি একজন। এমন কোনো দৈন্যদশা হয়নি যে আগাম নির্বাচন দিতে হবে। খালেদা জিয়ার জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সমর্থন পাচ্ছে বাংলাদেশ।
জাতীয় উন্নয়নে আওয়ামী লীগের অবদান অনস্বীকার্য :খন্দকার মোশাররফ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জাতীয় উন্নয়নে আওয়ামী লীগের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে, জাতীয় উন্নয়ন যা হয়েছে তা কেবল আওয়ামী লীগ আমলেই হয়েছে। মন্ত্রী সকালে সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন শেখের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ও অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত এমপি। মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের জনগণ কিছু পায়। আওয়ামী লীগ জনগণের দল, আমাদের রাজনীতি জনগণের জন্য। তিনি বলেন দেশে দুই প্রকারের ভোট হয়, এক পক্ষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়, অন্য পক্ষ যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না তাদের ভোট দেয়। তিনি বলেন, উন্নয়ন বিরোধী গোষ্ঠী ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হয়। আজ তারাই বলে দেশে গণতন্ত্র নাই, উন্নয়ন হয় না। শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও জনপ্রিয়তা দেখে বিরোধী পক্ষ পাগলের প্রলাপ বকছে। এর আগে মন্ত্রী কামারখন্দ উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
যথাসময়ে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে :প্রধানমন্ত্রী
মন্ত্রিসভার বৈঠকের অনির্ধারিত আলোচনায় আগাম নির্বাচনের প্রসঙ্গ উঠে এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, যথাসময়ে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে আমাদের দলের মনোনয়ন যাঁরা পাবেন, তাঁরা অবশ্যই যোগ্যতা ও মাঠপর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতেই পাবেন। মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য এনটিভি অনলাইনকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের একপর্যায়ে অনির্ধারিত আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা তোফায়েল আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আগাম নির্বাচন নিয়ে কিছুদিন ধরে একটি গুজব চলছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগাম নির্বাচনের প্রশ্ন আসবে কেন? নির্বাচন যথাসময়ে সংবিধান মোতাবেকই হবে। আগামী নির্বাচনে দলে প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূলের সঙ্গে যাঁদের সম্পৃক্ততা রয়েছে, যাঁরা যোগ্য তাঁরাই মনোনয়ন পাবেন। কোনো ধরনের ইমোশন বা আবেগ এখানে কাজে আসবে না। সৌদি আরবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বাংলাদেশ থেকেও বিপুলপরিমাণ টাকা পাচার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুনেছি ওইখানেও বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার হয়েছে। আগের সরকারের আমলের এ টাকা নিয়ে আমাদের দেশের মিডিয়ার তেমন কোনো রিপোর্ট দেখছি না। এ টাকা যদি আমাদের আমলে পাচার হতো তাহলে পত্রিকায় অনেক বড় বড় সংবাদ দেখতাম।
কৌশলে অন্য কোনো রূপে যেন ৫৭ ধারার বহিঃপ্রকাশ না ঘটে :ড. ইফতেখারুজ্জামান
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ৫৭ ধারা বাতিল করা হবে। সেটা যেন বাস্তবেই বাতিল করা হয়। কৌশলে অন্য কোনো রূপে যেন এর বহিঃপ্রকাশ না ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাবিষয়ক সংলাপ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ইফতেখারুজ্জামান। টিআইবির কার্যালয়ে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তিনি আরো বলেন, দুর্নীতি কমানোর জন্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রয়োজন। দুর্নীতি না কমলে সরকারের প্রধান লক্ষ্য দারিদ্র্য কমবে না বলেও জানান গওহর রিজভী। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য এ বছর প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার নয়জন সাংবাদিক ও ফটোসাংবাদিককে পুরস্কৃত করে টিআইবি।
কলেজ ছাত্র মোমিন হত্যা: দুই জনের মৃত্যুদণ্ড ও ছয় জনের যাবজ্জীবন বহাল
ঢাকার কাফরুলের কলেজছাত্র কামরুল ইসলাম মোমিন হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন সাজার রায় বহাল রেখেছে হাই কোর্ট। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সাখাওয়াত হোসেন জুয়েল ও তারেক ওরফে জিয়া। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন হাবিবুর রহমান তাজ, জাফর আহমেদ, মনির হাওলাদার, ঠোঁট উঁচা বাবু, আসিফুল হক জনি ও শরিফ উদ্দিন। এ মামলায় প্রধান আসামি ওসি রফিক মারা যাওয়ায় মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম। মামলার বিবরণে জানা যায়, মতিঝিল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম রফিকুল ইসলাম এ মামলার প্রধান আসামি ছিলেন। তিনি কারাবন্দি অবস্থায় ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর মারা যান। এ কারণে মামলাটি বহুল আলোচিত। ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর খুন হন কলেজছাত্র মোমিন। এ ঘটনায় ওই দিনই নিহতের বাবা আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ওসি রফিকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলায় ওসি রফিককে আসামির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ২০০৭ সালের ১৩ মে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর বিরুদ্ধে বাদী নারাজি আবেদন দিলে ডিবিকে তদন্তের দায়িত্ব দেন আদালত। ডিবিও তদন্ত শেষে ওসি রফিককে বাদ দিয়ে ২০০৮ সালের ২ মার্চ অভিযোগপত্র দেয়। এরপর বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়। ২০০৮ সালের ৩০ অক্টোবর দেওয়া এ তদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওসি রফিকসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ওই বছরের ১১ নভেম্বর এ অভিযোগপত্র গৃহীত হয়। এরপর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৩-এ ২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৪-এ স্থানান্তর করা হয়। এ আদালতে ওসি রফিকের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হয় ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি। পরে একই আদালতেই মামলার শুনানি শেষে ২০১১ সালের ২০ জুলাই রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে ওসি রফিকসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান তাজসহ ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর নিম্ন আদালত থেকে ফাঁসি অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয় হাইকোর্টে। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিরা আপিল করেন। এ আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর ১২ নভেম্বর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়।
মন্ত্রীর সঙ্গে পরিবহন নেতাদের বৈঠক
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা। মঙ্গলবার রাতে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সংসদ ভবনের অফিসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নৌমন্ত্রী বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতিও। ওই বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মো. মসিউর রহমান রাঙ্গাও মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। বৈঠকে আপিল ছাড়াও সরকারের আইন, শ্রম এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পেতে ধারাবাহিক মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া হাইকোর্টের এ রায় নিয়ে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আলাদা আলোচনা সভা আয়োজনেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক তালুকদার সোহেলসহ মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের কমবেশি ৩০ জন নেতা অংশ নেন। বৈঠক শেষে পরিবহন নেতারা পার্লামেন্ট ক্লাবে রাতের খাবার সারেন। বৈঠকে অংশ নেয়া পাঁচজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান যুগান্তরকে বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমরা আইনিভাবে বিষয়টি লড়াই করব। এর প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছি, এর বেশি কিছু নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিবহন নেতা বলেন, এর আগে এক চালককে সাজা দেয়ার ঘটনায় সারা দেশে পরিবহন ব্যবস্থা অচল করে দিয়েছিল মালিক ও শ্রমিকরা। ওই ঘটনার আগে নৌমন্ত্রীর বাসায় বৈঠক করেছিলেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকনেতারা। এবার তারেক মাসুদের পরিবারকে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার রায়ের পর শাজাহান খানের সংসদ ভবনের অফিসে বৈঠক করেন পরিবহন নেতারা। সেখানে আইনি ও কৌশলগত- উভয়ভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার এনায়েত উল্যাহ তা নিশ্চিত করে যুগান্তরকে বলেন, আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করেছি। উচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা পর্যালোচনা করে এর বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবার কোনো আন্দোলনে যাচ্ছি না। হাইকোর্টের বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তারেক মাসুদের পরিবারকে এ ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন। বৈঠকে অংশ নেয়া শ্রমিকনেতা ওসমান আলী বলেন, আমরা চারটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেগুলো হচ্ছে- রায়ের কপি পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। রায়ের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করব। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। চতুর্থত, রায়ের বিষয়টি নিয়ে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই আলোচনা সভায় নিজ নিজ সংগঠনের নেতাদের মতামত ও প্রতিক্রিয়া নেয়া হবে। বৈঠকে অংশ নেয়া এক পরিবহন নেতা বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। মালিক ও শ্রমিকনেতারা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ওই দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে দুটি মামলা হয়েছে। একটিতেই ৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার রায় এসেছে। অপর মামলায় ক্ষতিপূরণ দেয়ার রায় এলে ওই টাকার জোগান কীভাবে করা হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পরিবহন নেতারা বলেন, যে কোনো দুর্ঘটনায় এ রায়কে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে সামনের দিনগুলোয় আরও অনেক মামলা দায়ের হতে পারে। এতে পরিবহন ব্যবসা সংকটের মুখে পড়বে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করেও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মো. মসিউর রহমান রাঙ্গার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জাতীয় পাতার আরো খবর