হাজারীবাগে আকলিমা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে অ্যাসিড নিক্ষেপ
সোমবার সকালে রাজধানীর হাজারীবাগে আকলিমা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখানো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত আকলিমা আক্তারের স্বামী জুবায়ের হোসেন জানান, সোমবার সকালে বড় মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় হাজারীবাগ ঝাউচর শাজাহান মার্কেট এলাকায় পৌঁছলে আকলিমার ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করে একব্যক্তি পালিয়ে যায়। এতে আকলিমার মুখের ডান পাশ, বুক ও গলা দগ্ধ হয়েছে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক পার্থ শঙ্কর পাল জানান, আকলিমা আক্তারের ৫ শতাংশ শরীর দগ্ধ হয়েছে।
আরও এক বছর সময় মঞ্জুর বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে
রাজধানীর হাতিরঝিল লেকে অবৈধভাবে নির্মিত বহুতল ভবন ভাঙতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতিকে (বিজিএমইএ) আরও এক বছর সময় মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ভবন ভাঙতে আর সময় চাইবে না বলে সংশোধিত মুচলেকা জমা দেয়ার পর সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, এবার যেন বাস্তবায়ন হয়, ১২ মাস ১০ দিন সময় পাচ্ছেন এটি মনে রাখবেন। আদালতের এ আদেশের ফলে বিজিএমইএ ১৬তলা ভবনটি ভাঙার জন্য ২০১৯ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় পেল। আদালতে বিজিএমইএর পক্ষে মুচলেকা জমা দেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। পরে ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম বলেন, আদালত আমাদের মুচলেকা গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে ভবন ভাঙতে আমাদের ২০১৯ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এক বছর ১০ দিন সময় দিয়েছেন। গত ৫ মার্চ বহুতল ভবনটি ভাঙতে আরও এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। ২৫ মার্চ বিজিএমইএর আবেদনের ওপর শুনানি শেষ করে ২৭ মার্চ আদেশের দিন নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ। এদিন আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে বিজিএমইএর আইনজীবীকে বলেন, ভবন কতদিনের মধ্যে ভাঙবেন, সে বিষয়ে মুচলেকা দিতে হবে। অন্যথায় কোনো সময় আবেদন গ্রহণ করা হবে না। বারবার সময় আবেদন করেন, এতে আমাদেরই লজ্জা লাগে। আদালত বলেন, সময় আবেদনের বিষয়ে মুচলেকা দেয়ার পরেই আদেশ দেয়া হবে। ২৮ মার্চ শেষবারের মতো এক বছরের সময় চেয়ে লিখিত মুচলেকা দেয় বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পরিষদ। লিখিত মুচলেকায় বলা হয়, এর পর আমরা আর সময় চাইব না। তবে সময় না চাওয়ার শর্ত স্পষ্ট না থাকায় মুচলেকাটি সংশোধন করে পুনরায় জমার নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে আজ আদেশের দিন নির্ধারণ করেন আদালত। সংশোধিত মুচলেকা জমা দেয়ার পর আজ আদালত আদেশ দেন। উল্লেখ্য, জলাধার আইন ভেঙে নির্মিত বিজিএমইএ ভবনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যান্সার আখ্যা দিয়ে একে ভেঙে ফেলার আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ২০১৭ সালের ৫ মার্চ আপিল বিভাগ বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলতে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেন। তখন ভবন ভাঙতে কত দিন সময় লাগবে তা জানিয়ে আবেদন করতেও নির্দেশ দেন আদালত। বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ভবন সরাতে তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করেন। এর পর ওই বছরের ১২ মার্চ আপিল বিভাগ আবেদন নিষ্পত্তি করে ভবন সরাতে ছয় মাস সময় দেন। এর পর বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ফের আবেদন করলে গত বছরের ৮ অক্টোবর ভবন ভেঙে ফেলতে পোশাক রফতানিকারকদের এ সংগঠনকে আরও সাত মাস সময় দেন সর্বোচ্চ আদালত। দ্বিতীয় দফায় পাওয়া ওই সময়সীমা ১১ এপ্রিল শেষ হবে। তবে এর আগেই তৃতীয় দফায় আবেদন করে ভবন ভাঙতে আরও এক বছর সময় পেল বিজিএমইএ।
চরম আর্থিক সংকটে ফারমার্স ব্যাংক গ্রাহকরা এখন কী করবে!
বেসরকারি ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের পথেই হাঁটছে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া দি ফারমার্স ব্যাংক। ছয় মাস ধরে সুদের হার দ্বিগুণ বাড়িয়েও আমানত পাচ্ছে না ব্যাংকটি। এ অবস্থায় চরম আর্থিক সংকটে পড়ে এখন আমানতকারীদের টাকাও ফেরত দিতে পারছে না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অনেক গ্রাহককে পে-অর্ডার দিয়ে সাময়িকভাবে শান্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। আর বেশিরভাগ গ্রাহককে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানানো হয়েছে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে। দেশের অর্থনীতিবিদরাও গ্রাহকদেরকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। ফারমার্স ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। ২০১৩ সালের ৩ জুন প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকটি মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস থেকে। বর্তমানে এ সংকট এতটাই তীব্র যে গ্রাহকরা তাদের ছোট-বড় আমানতও তুলতে পারছেন না মাসের পর মাস। ব্যাংকটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন আশঙ্কায় ছোট বড় সব ধরনের গ্রাহক নিজেদের আমানত ওঠানোর আবেদন করে রেখেছেন। কিন্তু ব্যাংক প্রতিবারই তাদের আবেদন ফেরত পাঠাচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, সরকারের জমা রাখা জলবায়ু তহবিলের টাকাও ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে ব্যাংকটি। এ প্রসঙ্গে ফারমার্স ব্যাংকের উপদেষ্টা প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, নতুন করে কোনও আমানত আমরা পাচ্ছি না বললেই চলে। যাদের আমানত ছিল তারা এখনও তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। শাখাগুলোয় অনেকেই ভিড় করছেন। আমরা আমানতকারীদের শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। আমানতকারীদেরকে আমরা অপেক্ষা করতে বলছি, তাদেরকে ধৈর্য ধরতে বলছি। এখন অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনও পথও খোলা নেই। কারণ, এ মুহূর্তে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। তার দাবি, সংকটে পড়ার পরও গ্রাহকদের ২৬০ কোটি টাকা আমানত ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে যদি টাকা পাওয়া যায়, তাহলে সমস্যার সমাধান হতে পারে। সম্প্রতি ফারমার্স ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকরা তাদের টাকা ওঠানোর জন্য ভিড় করছেন। ফারমার্স ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও অনেককে টাকার জন্য ব্যাংকের ম্যানেজারের সঙ্গে বাজে আচরণ করতেও দেখা গেছে। গ্রাহক আরিফুজ্জামান চৌধুরী এই ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় তিনটি ডিপিএস করেছেন। এই ডিপিএসের টাকা ওঠানোর জন্য তিনি গত কয়েকদিন ধরে শাখার ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। লিখিতভাবে টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করেও সাড়া পাচ্ছেন না বলে তিনি জানান। তার মতো আরেক গ্রাহক অ্যাডভোকেট রিপন বিশ্বাস। তিনি মতিঝিল শাখায় ১০ লাখ টাকার ডাবল স্কিমের এফডিআর রেখেছেন। এই টাকা ওঠানোর জন্য তিনিও গত কয়েক মাস ধরে চেষ্টা করছেন বলে জানান। আরও একজন গ্রাহক মাসুম চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনের কাছে হতাশার কথা জানিয়ে বলেন,আমার আড়াই লাখ টাকার এফডিআর ও ৫০ হাজার টাকার ডিপিএস ওঠানোর জন্য ঘুরছি। কিন্তু টাকা পাচ্ছি না। ব্যাংক শুধু সময় দিচ্ছে। এদিকে ব্যাংকের মতিঝিল শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,আমাদের টাকা না থাকার কারণে গ্রাহকদেরকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। গ্রাহকরা আমাদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করছে। এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বেসরকারি ফারমার্স ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেছে। ব্যাংকটি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। এখন আমানত ফেরত পেতে দীর্ঘসময় গ্রাহকদের অপেক্ষা করতে হবে। শুধু ফারমার্স ব্যাংকই নয়, আরও কয়েকটি ব্যাংক ইতোমধ্যে দেউলিয়া পর্যায়ে চলে গেছে। এ জন্য মূলত সুশাসন না থাকা এবং সরকারের অবহেলা দায়ী। কারণ ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের সর্তক থাকার দরকার ছিল। তিনি বলেন,যে কোনও ব্যাংককে দেউলিয়া ঘোষণা করা হলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে ওই ব্যাংকের আমানতকারীরা। কারণ, তাদের টাকা আটকে যাবে। এ জন্য ভিত্তি দুর্বল বা দেউলিয়া পর্যায়ের কোনও ব্যাংকে আমানত না রেখে সর্তক হয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ভালো ব্যাংকে আমানত রাখা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, কোনও ব্যাংকই ঘোষণা দিয়ে দেউলিয়া হয় না। যখন আমানতকারীরা টাকা ফেরত পায় না, তখনই বুঝে নিতে হয় ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেছে। এদিকে, ফারমার্স ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে সেই শেয়ারের অর্থ আমানতধারীদের ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের অর্থ ফেরত দিতে ফারমার্স ব্যাংকের ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) টিআইবির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সংকটে পড়া ফারমার্স ব্যাংক ২০১৭ সালে ৫৩ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে। বছর শেষে ব্যাংকটির আমানত কমে হয়েছে ৪ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা। অথচ ব্যাংকটির ঋণ ৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন,ফারমার্স ব্যাংকের গ্রাহকদের এখন অপেক্ষা করতে হবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ব্যাংক আমানত বীমা নামে একটি তহবিল আছে। কোনও ব্যাংক দেউলিয়া হলে আমানতকারীদের ওই তহবিল থেকে কিছু টাকা দেওয়ার সুযোগ আছে। তবে দেউলিয়া ঘোষিত ব্যাংকে প্রশাসক বা অবসায়ক নিয়োগ পাওয়ার পরও বড় গ্রাহকদের আমানত ফেরত পেতে অপেক্ষা করতে হয় ব্যাংকের সম্পদের ওপর ভিত্তি করে। এ জন্য এখন সময় এসেছে ব্যাংক আমানত বীমা তহবিল সংস্কার করার। এই তহবিলও বাড়ানো দরকার। কারণ এখন অনেকগুলো ব্যাংক দেউলিয়া পর্যায়ে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মাসের পর মাস গ্রাহক তার আমানত ফেরত না পেলেও বাংলাদেশে কোনও ব্যাংককে দেউলিয়া ঘোষণা করা হবে না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন,ব্যাংক যত খারাপই হোক না কেন দেউলিয়া ঘোষণা করলে ব্যাংকের মালিকরা সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। সমাজেও তাদেরকে খারাপ বলা হবে। আবার কোনও ব্যাংক দেউলিয়া ঘোষণা হলে এর প্রভাব অন্য ব্যাংকেও পড়বে। কারণ,গ্রাহক অন্য ব্যাংক থেকেও টাকা উঠানো শুরু করে দেবে। জানা গেছে, বর্তমানে ব্যাংক আমানত বীমা তহবিলে র্ব্তমানে পাঁচ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা জমা আছে। প্রতি ছয় মাস পর ব্যাংকগুলোকে মোট আমানতের ওপর নির্দিষ্ট হারে প্রিমিয়াম জমা দিতে হয়। কোনও ব্যাংক নির্ধারিত সময়ে প্রিমিয়াম পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে তার রক্ষিত হিসাব থেকে প্রিমিয়ামের সমপরিমাণ অর্থ কেটে নেয়। ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ভালো হলে কম প্রিমিয়াম এবং খারাপ হলে বেশি হারে প্রিমিয়াম দিতে হয়। স্বাভাবিক ব্যাংকগুলোকে প্রতি ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ৮ পয়সা হারে প্রিমিয়াম জমা দিতে হচ্ছে। এছাড়া সতর্কতামূলক অবস্থায় (আরলি ওয়ার্নিং) থাকা ব্যাংকের ক্ষেত্রে ৯ পয়সা হারে এবং সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক (প্রবলেম ব্যাংক) ১০ পয়সা হারে প্রিমিয়াম জমার বিধান করা হয়েছে। এর আগে প্রতি ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ৭ পয়সা হারে প্রিমিয়াম জমা দিতে হতো। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন,কোনও ব্যাংকের অবসায়ন ঘটলে ব্যাংকের গ্রাহকদের এই বীমার আওতায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত অবসায়িত ব্যাংকে আমানতকারীর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হতো। কোনও আমানতকারীর এক লাখ টাকা জমা থাকলে তিনি পুরো অর্থই ফেরত পেতেন। তবে বেশি থাকলেও সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা দেওয়া হতো। জানা গেছে, ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর দেউলিয়া হওয়া পাইওনিয়ার ব্যাংক এবং ক্যালকাটা মর্ডান ব্যাংকের লিকুইডেশনের সমস্যা এখনও সমাধান হয়নি। তবে সর্বশেষ ২০০৬ সালে দেউলিয়া হয় ওরিয়েন্টাল ব্যাংক। মালিকপক্ষের লুটপাটের কারণে অতিরুগ্ন হয়ে পড়লে ওই বছরের ১৯ জুন ব্যাংকটির দায়িত্ব নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে মালিকপক্ষের ৮৬ শতাংশ শেয়ারের বড় অংশ কিনে নেয় আইসিবি গ্রুপ। তারপর ব্যাংকটির নাম পরিবর্তন করে করা হয় আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। কিন্তু ওরিয়েন্টালের গ্রাহকরা এখনও টাকা ফেরত পাননি। ১৯৯২ সালে ব্যাংক অব ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ইন্টারন্যাশনাল (বিসিসিআই) বিলুপ্ত হয়ে ইস্টার্ন ব্যাংক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু, বিসিসিআইর বিভিন্ন দেশের গ্রাহকরা এখনও টাকা ফেরত পাননি।এ অবস্থায় দেখার বিষয়, ফারমার্স ব্যাংকের গ্রাহকরা কবে তাদের অর্থ ফেরত পান।
সমাজে প্রশ্ন ফাঁসের প্রভাব ভবিষ্যতে কী হতে পারে?
যে গাছের গোড়াতেই পচন ধরে সে গাছে ফুল ও ফল ফলে না, তেমনি আজকের প্রজন্ম ফাঁসকৃত প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে ভাল রেজাল্ট করে পার পেয়ে গেলেও ভবিষ্যতে যে দেশের কোন উপকারে আসবে না তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য তারা শুধু বোঝাই নয়, মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। নিউটনের গতির তিন নং সূত্রানুসারে প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। আর প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো না গেলে এর প্রতিক্রিয়া সমান নয়, হবে আরো ভয়াবহ ও ভয়ংকর। সমাজে প্রশ্ন ফাঁসের ভয়াবহতা এখনই উপলব্ধি করা না গেলেও অদূর ভবিষ্যতে হাড়ে হাড়ে আমরা টের পাবো এর ফলাফল। কারণ ফাঁসকৃত প্রশ্নে ভালো রেজাল্ট করা শিক্ষার্থীরাই হবে ভবিষ্যতের চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, ব্যাংকার কিংবা সরকারি কর্মজীবী। শিক্ষাজীবনে যারা ফাঁসকৃত প্রশ্ন পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে তারা কি পারবে ভবিষ্যতে তাদের পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথ ভাবে পালন করতে? যারা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়েছে তারা কি করে গুরুত্বপূর্ণ পেশায় সততার পরিচয় দেবে? একবার ভেবে দেখুন তো যে নিজে সব পরীক্ষার প্রশ্ন আগে থেকে পেয়ে চিকিৎসক হবে, সে কিভাবে একজন মৃত্যুপথযাত্রী রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দেবে? কি করে সঠিক বিদ্যা ছাড়া একজন প্রকৌশলী তৈরী করবে নির্ভুল স্থাপনা? ভেবে দেখুন এরকম যদি হয় ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অবস্থা তাহলে আপনি কতটা নিরাপদ? শুধু ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে বাঁচাতে নয়, স্বার্থপর দৃষ্টিকোণ থেকে নিজেকে বাঁচাতে হলেও আমাদেরকে রুখে দিতে হবে প্রশ্ন ফাঁসের এই ভয়াল চর্চাকে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম থাকুক নিরাপদ।
অপারেশনে চোখ হারানো ২০ জনকে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টে রিট
চুয়াডাঙ্গার ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে অপারেশনে চোখ হারানো ২০ জনকে এক কোটি করে মোট ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত রোববার হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করেন। রিট দায়েরের পর তিনি জানান, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিটের ওপর শুনানি হতে পারে। গত ২৯ মার্চ দৈনিক সমকালের প্রথম পাতায় চক্ষু শিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন! শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। গত ৫ মার্চ চুয়াডাঙ্গার কেদারগঞ্জের ইম্প্যাক্টে ২৪ জন নারী-পুরুষের একটি করে চোখের ছানি অপারেশন করা হয়। অপারেশন বাবদ কারও কাছে দুই হাজার, কারও কাছে তিন হাজার ৫০০ টাকা করে নিয়েছিল ইম্প্যাক্ট। ২৪ জনের মধ্যে ২০ জনের অপারেশন করা চোখে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে। তাদের চোখে জ্বালা-যন্ত্রণা ও পানি ঝরতে থাকে। ইম্প্যাক্টে যোগাযোগ করেন তারা। পরদিনই তারা যোগাযোগ করেন ইম্প্যাক্ট হাসপাতালে। তাদের তখন গুরুত্ব না দিয়ে কোনোরকম চিকিৎসা দিয়ে আবারও বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু যন্ত্রণা অসহনীয় হয়ে উঠলে ফের তারা ইম্প্যাক্টে যান। রোগীদের অপারেশন করা চোখের অবস্থা ভয়াবহ দেখে টনক নড়ে ইম্প্যাক্ট কর্তৃপক্ষের। ১৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ঢাকার খামারবাড়ির ইস্পাহানী ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতাল এবং মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের দৃষ্টি চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয় ২০ জনকে। সেখানে ২০ জনের মধ্যে ১৯ জনের একটি করে চোখ তুলে ফেলতে হয়। তবে তাদের আরও আগে ঢাকায় আনলে হয়তো চোখ বাঁচানো সম্ভব ছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন। হায়াতুন নামের এক বৃদ্ধের চোখের অবস্থাও ভালো নয়। সেটি তুলে ফেলা হতে পারে। ঢাকা থেকে অপারেশন করা চোখ তুলে ফেলার পর রোগীদের বাড়ি পাঠিয়েই নিজেদের দায় সারে ইম্প্যাক্ট কর্তৃপক্ষ। পরে রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগও রক্ষা করেনি তারা। ২০ জনের চোখ হারানোর বিষয়ে ২৯ মার্চ সমকালে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ইম্প্যাক্টের সংশ্নিষ্টরা রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। রোগীদের তুলে ফেলা চোখের খোঁজ-খবর নেয়। গত শুক্রবার রোগীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অপারেশনের সময় নেওয়া দুই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আসে ইম্প্যাক্ট।
যোগ্য হয়ে গড়ে উঠতে হবে স্কাউটদের:প্রধানমন্ত্রী
স্কাউটদের দেশের জন্য যোগ্য হয়ে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সকালে চাঁদপুরের হাইমচরের চরভাঙ্গায় বাংলাদেশ স্কাউটসের ষষ্ঠ জাতীয় কমডেকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আগামী প্রজন্মকে সন্ত্রাস ও মাদক থেকে দূরে রাখতে সবার সহযোগিতা চান। স্কাউটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই আমাদের ভবিষ্যত। এদেশের কাণ্ডারী। তোমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। এ সময় শেখ হাসিনা যুব সমাজের জন্য তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন। এর আগে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে বেলা পৌনে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরের হাইমচরে পৌঁছান। স্কাউট সম্মেলনের বক্তব্য শেষে তিনি বিকেলে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দিবেন। সেখানেই তিনি চাঁদপুরে ৪৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। দীর্ঘ আট বছর পর প্রধানমন্ত্রীর এই সফর উপলক্ষে চাঁদপুরে সাজসাজ রব বিরাজ করছে। তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীসহ নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ ও বিলবোর্ড দিয়ে সড়ক সাজিয়েছেন। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচনের জন্য বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে
ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ন বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ সরকার। এমনিতেই দেশটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতি নাজুক এবং উচ্চমাত্রায় উদ্বেগজনক। তার ওপর ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিক্ষোভে প্রায়শই সহিংস মনোভাব প্রদর্শন করছে দেশের আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিগুলো। এ অবস্থায় ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের জন্য বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সেই নির্বাচন হতে হবে সবার অংশগ্রহণমূলক। এ দিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নজর দিতে হবে। মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন এক বিবৃতিতে এসব কথা লিখেছে। এর শিরোনাম বাংলাদেশ: ক্র্যাকডাউন অন অপজিশন প্রায়র টু ইলেকশনস ডেটেরিওরেটস দ্য হিউম্যান রাইটস সিটুয়েশন। বেশ দীর্ঘ ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাপক আকারে মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটছে কর্তৃপক্ষের অধীনে। সব নাগরিকের যে খেয়ালখুশিমতো স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার আছে, তা এরই মধ্যে ঝুঁকিতে পড়েছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুম হয়েছেন ৪২২ জন। এতে জড়িত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দায়মুক্তি পেয়ে গেছে। সম্প্রতি পার্লামেন্টে এক বক্তব্যে এর পক্ষে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গুমকে জাস্টিফাই করেছেন। বলেছেন, বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্রেও তো বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ হন। আবারো জোরপূর্বক গুমকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও এ অঞ্চলে কয়েক দশক ধরে গুমের ঘটনা ঘটে আসছে। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন বলেছে, তবে প্রকৃত সত্য হলো, প্রধানমন্ত্রী যেসব দেশে গুমের কথা বলেছেন সেখানে কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে জোরপূর্বক গুমের ঘটনা ঘটেনি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় ও ১৯৯৬ সালের জুন মাস বাদে অন্য কোনো দশকে কিন্তু বাংলাদেশে গুম হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে। এরপর থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- হয়েছে ১৪৮০টি। এই ধারা অব্যাহত আছেই। নিরাপত্তা হেফাজতে পর্যায়ক্রমিক নির্যাতনে প্রাণ গেছে আরো ১২০ জনের। অন্যদিকে পুলিশি নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা অবস্থায় কয়েক ডজন ভিক্টিমের পায়ে গুলিতে তারা স্থায়ীভাবে বিকলাঙ্গ হয়ে গেছেন। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন ওই বিবৃতিতে আরো লিখেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির মামলাকে কেন্দ্র করে ও ওই মামলায় পাঁচ বছরের জেল দেয়ার আগে পরে বিভিন্ন বাহিনী তাদের নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গণহারে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পোশাক পরা বা সাধারণ বেশে থাকা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন। এ বছর ৩০শে জানুয়ারি থেকে বিরোধী দলের কমপক্ষে ৫ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার, আটক বা নির্যাতন করা হয়েছে। সম্প্রতি গণহারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে। যাদের আটক করা হয়েছে তাদের পরিণতি এখনও জানা যায়নি। পুলিশ এখনও এসব আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রকাশ করেনি যে, তারা কোথায় আছে। আটক ব্যক্তিদের পরিবারগুলো অভিযোগ করছে, তাদের প্রিয়জনকে আটক রাখা হয়েছে কোনো গোপন বন্দিশিবিরে। সেখান থেকে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব নয়। তাদের অব্যাহতভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। নিখোঁজ করে দেয়া হচ্ছে। যেমনটা ঘটেছিল ২০১৩ সালের শেষের দিকে ও ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচনের সময়কালে। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন তার বিবৃতিতে আরো লিখেছে, এরই মধ্যে এক ভয়াবহ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় এক্টর, যেমন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দেখা যাচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সহায়তা করছে, নজরদারি হিসেবে। এক্ষেত্রে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিরোধী দলের ছাত্রবিষয়ক একজন নেতা জাকির হোসেনকে আটক করে পুলিশ রিমান্ডে নেয়া হয়। এর তিন দিন পরে ১২ই মার্চ তিনি মারা যান নির্যাতনে। তার সারা শরীরে ছিল ক্ষতচিহ্ন। তার হাত ও পায়ের আঙুলের নখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন ওই বিবৃতিতে আরো লিখেছে, সর্বশেষ ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে যে দমনপীড়ন চলছে তা যুক্ত হয়েছে সরকারের অব্যাহতভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ বা জনসভার অধিকার প্রত্যাখ্যানের রীতির সঙ্গে। সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য জনসভায় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও তার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বেশির ভাগ সংবাদমাধ্যম হোক সেটা ইলেক্ট্রনিক বা ছাপার সংস্করণ, তার বেশির ভাগেরই মালিক অথবা নিয়ন্ত্রণ করেন সরকারপন্থি ব্যবসায়ী বা সাংবাদিক। নির্বাসনে থাকা একজন বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশ করার কারণে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে খেয়াল-খুশিমতো গ্রেপ্তার করা হয়। ওই আটকের পর তিনিসহ আরো দুজন সাংবাদিক মাহাথির ফারুকী খান ও কনক সারোয়ার বিচারের মুখোমুখি। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন আরো লিখেছে, ওই টেলিভিশনটর মালিকানা এর চেয়ারম্যানের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে সরকারপন্থি একজন ব্যবসায়ীকে দেয়ার চেষ্টা করছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা অব্যাহতভাবে সরকারের নজরদারিতে, পর্যবেক্ষণে, হুকমিতে, নিয়ন্ত্রণে ও প্রতিশোধপরায়ণতার মুখে রয়েছে- এটা হলো তার একটিমাত্র উদাহরণ। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন লিখেছে, গত নয় বছর ধরে অব্যাহতভাবে যেভাবে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে তা এটা নিশ্চিত করে যে, নির্যাতিতদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার কোনো স্থান নেই অথবা তাদের সেই সক্ষমতা নেই। এক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়টি আসতে পারে। তাকে জোর করে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। তার অপরাধ তিনি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বিরুদ্ধে ছিলেন। অথচ সরকার চাইছিল এটা পাস করতে। বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কি পরিস্থিতি তা এর মধ্য দিয়েই উদাহরণ হিসেবে ফুটে উঠেছে। বিশ্বাসযোগ্য মানবাধিকার বিষয়ক ডকুমেন্টে এসব ঘটনাই নিশ্চিত করে। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গুম করে দিতে বা ব্যাপক হারে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বাস্তবায়ন করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যস্ত রেখেছে সরকার। এসব ঘটানো হয়েছে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারিরর নির্বাচনকে সামনে রেখে। সব বিরোধী দল ওই নির্বাচন বর্জন করে। ফলে ক্ষমতাসীন দল ও তার মিত্ররা ১৫৩টি আসন নিয়ে নেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। নির্বাচনে একটি ভোট পড়ারও আগে এ ঘটনাটি ঘটেছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আসন রয়েছে মোট ৩০০। এখন সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মনোভাব দেখে মনে হচ্ছে তারা সেই একই ধারায় অগ্রসর হচ্ছে। একই রকমভাবে দমনপীড়ন চালাবে। যাকেই তারা শাসকগোষ্ঠীর জন্য হুমকি মনে করবে তার বিরুদ্ধেই এমন ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাংলাদেশ সরকার দাবি করেছে, এখানে জাতীয় প্রবৃদ্ধি শতকরা ৭ ভাগের ওপরে। যুদ্ধকবলিত দেশগুলো থেকে ২০১৭ সালে ইউরোপে যেসব উদ্বাস্তু বা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন তার মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক হলো বাংলাদেশি। বিশ্বে শতকরা ৭ ভাগের বেশি জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে এমন কোনো দেশের এমন সংখ্যক শরণার্থী নেই। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন লিখেছে, বাংলাদেশে মানবাধিকার বিপর্যয়ের এত সব বাস্তবতা সত্ত্বেও অপ্রত্যাশিতভাবে নীরব রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এক্ষেত্রে সরকার আন্তর্জাতিক দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু ইস্যুতে। দেশের অভ্যন্তরে যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে তাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য শক্ত বর্ম হিসেবে রোহিঙ্গা ইস্যুকে ব্যবহার করছে বাংলাদেশ। সুষ্ঠু প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার জন্য বাংলাদেশে সবার অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য একটি নির্বাচনের পরিবেশ জরুরি ভিত্তিতে সৃষ্টি করা প্রয়োজন। ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের পরিবর্তে একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতন্ত্রের জন্য মানবাধিকার পরিস্থিতিতে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।
বাংলাদেশি নারীদের কান্না সৌদিতে
বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে যাওয়া নারীদের ভয়াবহ অবস্থা তুলে ধরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই। প্রকাশিত প্রতিবেদনে পত্রিকাটি জানিয়েছে, নিয়োগকারীদের দ্বারা যৌন ও শারীরিকভাবে নিপীড়নের শিকার হয়ে শত শত নারী কাজ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এসব নারীদের থাকার জন্য আশ্রয় কেন্দ্র (সেইফ হোম) খুলতে হয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে। রিয়াদ থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ফাঁস হওয়া গোপনীয় কূটনৈতিক বার্তা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে বলে দাবি মিডলইস্ট আইর। ঢাকার একজন কূটনীতিককে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,পালিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আসা নারীরা অভিযোগ করেন নিয়োগকর্তারা তাদের ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন চালান। কেউ আবার অসুস্থ হয়েও আসেন।তাই তারা এখানে আশ্রয় নিতে চান। ২০১৫ সালে লেখা ওই কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ জন নারী আশ্রয় কেন্দ্রে আসেন। অব্যাহতভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে আসা নারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তারা আশ্রয় কেন্দ্রে আরো আসন বৃদ্ধি ও সিসিটিভি-সিস্টেম পাঠানোর অনুরোধ করেছেন ওই বার্তায়। এছাড়া একজন কাউন্সেলর পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বার্তায় আরো বলা হয়, আশ্রয় কেন্দ্রে আসা নারীদের সহযোগিতার জন্য দূতাবাসে কোনো নারী কূটনীতিক নেই। আশ্রয় নেয়া নারীরা দেশে ফিরে আসতে দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাদের সঙ্গে পাসপোর্ট বা অন্যান্য কাগজপত্র থাকে না। মিডলইস্ট আইকে কয়েকজন নারী জানিয়েছেন, সৌদি আরবে পৌঁছার পর পরই গৃহকর্তারা তাদের কাছ থেকে সব ধরনের কাগজপত্র নিয়ে নেয়। এতে অনেকের পক্ষে সহজে দেশে ফিরে আসা সম্ভব হয় না। আবার কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করে তাদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেন নিয়োগকর্তারা। ফাঁস হওয়া কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছে, এমন ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর দেশে ফিরতে কখনো ১৫ দিন বা এক মাস আবার কখনো ৬ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। সৌদিতে এ ধরনের আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা কত তার কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বার্তায় দেয়া হয়নি। তবে ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, জেদ্দা এবং রিয়াদে অন্তত ২৫০ জন নারী আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলেন। গত চার বছরে সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী যাওয়ার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৭ বছরে ৫ হাজারের কিছু বেশি নারী সৌদি গিয়েছিলেন। এরপর ২০১৫ সালে যান ২১ হাজার, ২০১৬-তে ৬৮ হাজার, ২০১৭-তে ৮৩ হাজার। আর চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে গেছেন ১৬ হাজারের বেশি। উল্লেখ্য, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো মানবজমিনকে জানিয়েছে, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের কূটনীতিকরা দেশটিতে নারী শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে আসছেন অনেক দিন ধরে। নারী শ্রমিকদের সুরক্ষায় সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি সরকারের সঙ্গে ঢাকার প্রতিনিধিদের আলোচনাও হয়েছে। সেগুনবাগিচার কূটনীতিকরা বলছেন, সৌদিতে নারী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধে বাংলাদেশ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি তৎপর রয়েছে। সেই তৎপরতার সুফলও পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি ঢাকার কর্মকর্তাদের।
রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেন স্বাধীনতা বিরোধীরা আসতে না পারে:সাহারা খাতুন
স্বাধীনতাবিরোধীরা যেন কোনোভাবেই রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে না পারে সেদিকে সবাইকেই লক্ষ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এক শ্রেণির লোক আছে যারা অর্থের বিনিময়ে জামায়াত-শিবির ও বিএনপিকে আওয়ামী লীগে ঢোকানোর জন্য আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ওইসব বিএনপি-জামায়াতকে আওয়ামী লীগে ঢোকানোর কোনো দরকার নেই। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে এই দেশকে আর কেউ গরিব দেশ বলে ডাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। আলোচনা সভায় চিত্রনায়ক মাসুম পারভেজ রুবেল বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু সিনিয়র নেতার কারণে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ১৬ কোটি মানুষের। যেমন ভারতের মহাত্মা গান্ধী, রাশিয়ার লেলিন, চীনের মাও সেতুং, ঠিক তেমনই বাংলাদেশের জনক শেখ মুজিবুর রহমান। সংগঠনের সভাপতি মাসুম পারভেজ রুবেলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় কবি ও নাট্যকার কাজী রোজী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মুকুল বোস, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পরিমল ঘোষ রঞ্জিত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর