আজ ভোলায় যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
দুই দিনের সরকারি সফরে আজ ভোলায় যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। এ উপলক্ষে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে দ্বীপজেলা ভোলার চরফ্যাশন ও বাংলাবাজারে। বুধবার দুপুরে হেলিকপ্টারে করে চরফ্যাশনে যাবেন রাষ্ট্রপতি। পরে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আধুনিক ও সুউচ্চ জ্যাকব টাওয়ার, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ এবং টিচার্স টেনিং কলেজের নব নির্মিত ভবন উদ্বোধন করবেন তিনি। বুধবার বিকেলে টিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সুধী সমাবেশে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি। পরদিন সকালে চরকুকরি মুকরিতে পর্যটন কেন্দ্র ও ইকোপার্ক এবং বাংলাবাজারে স্বাধীনতা জাদুঘর উদ্বোধন করবেন তিনি।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তারেকের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু
স্পর্শকাতর ও বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় পলাতক আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। পলাতক আসামি তারেক রহমানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এ কে এম আখতার হোসেন যুক্তিতর্কে বলেন, মামলার এজাহার প্রথম অভিযোগপত্র, বিভিন্ন জিডিতে আসামি তারেক রহমানের নাম ছিল না। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার সময় তারেক রহমান কোন ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন না। ওই সময় তারেক রহমান বিএনপি এবং চার দলীয় জোট সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ের কেউ ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনি আসামিদের প্রশাসনিকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এ মামলার কোন সাক্ষীই আশ্বাসের কথা বলেননি। কোন সাক্ষীই নিজেদের সাক্ষ্যে তার নাম বলেননি। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে। এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তারেক রহমান জড়িত রাষ্ট্রপক্ষ তার সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তারেক রহমান তার তৎকালীন কার্যালয় বনানীর হাওয়া ভবনে ষড়যন্ত্র বৈঠক করেছেন তাও প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি। ওই বৈঠকের আলোকে হামলাকারীদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ মামলায় কাউকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জড়ানো হয়নি। অপরাধের সম্পৃক্ততার ভিত্তিতেই ঘটনায় জড়িতরা মামলার আসামি হয়েছেন। মামলার কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এ আদেশ প্রদান করেছেন। সোমবার ছিল এ মামলার যুক্তিতর্কের ৩৪তম দিন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান, এ্যাডভোকেট আকরাম উদ্দিন শ্যামল, এ্যাডভোকেট মোঃ আমিনুর রহমান, এ্যাডভোকেট আবু আব্দুল্লাহ ভুঞা, এ্যাডভোকেট আবুল হাসান জিহাদ। গত ১৭ জানুয়ারি মামলার আসামি মাওলানা আব্দুল হান্নান ওরফে সাব্বিরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী মঈদুদ্দিন মিয়া। তিনি সোমবারও সাব্বিরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। এ আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তার খালাসের আর্জি পেশ করা হয়। অন্যদিকে মামলার পলাতক আসামি বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এ কে এম আখতার হোসেন যুক্তিতর্কে বলেন, মামলাটির বিচারের সময় ৬১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর এক আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার পুনর্তদন্তের আদেশ হয়। পুনর্তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল কাহ্্হার আখন্দের দাখিল করা সম্পূরক অভিযোগপত্রে তারেক রহমানকে সম্পৃক্ত করা হয়। যেখানে বলা হয়, ২১ আগস্ট হামলাকারীদের ঘটনা বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারেক রহমান। আইনজীবী যুক্তিতর্কে দাবি করেন, ওই সময় তারেক রহমান বিএনপি এবং চার দলীয় জোট সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ের কেউ ছিলেন না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল জানান, আসামি আবদুল হান্নান ওরফে মাওলানা সাব্বির রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলায় যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত। এর আগে গত ১ জানুয়ারি মামলার আসামিদের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করা হয়। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষের চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান আইনী পয়েন্টে যুক্তিতর্কে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটনায় আনা মামলার তারেক-বাবরসহ ৪৯ আসামির সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেছেন। মামলার সকল আসামির বিরুদ্ধে আনীত অপরাধ স্বতন্ত্র, নিঃস্বার্থ, দালিলিক ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষীদের দ্বারা দেয়া সাক্ষ্যে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার প্রার্থী মানুষের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে আইনের বিধানের আলোকে আসামিদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করছি। এর আগে চার কার্যদিবসে পলাতক আসামি মাওলানা লিটন ওরফে জুবায়েরের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মোঃ আবদুল বাতেন, পলাতক আসামি মুফতি সফিকুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী মাজহারুল কুদ্দুস, পলাতক আসামি মোঃ ইকবালের পক্ষে আইনজীবী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, পলাতক আসামি মাওলানা তাজউদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী আশরাফুল আলম, পলাতক আসামি জাহাঙ্গির আলম বদরের পক্ষে আইনজীবী সাইদুল হক, রাতুল আহমদ বাবুর পক্ষে এ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, মহিবুল মোত্তাকিনের পক্ষে এ্যাডভোকেট হালিমা আক্তার, হানিফ পরিবহনের মালিক মোঃ হানিফের পক্ষে আইনজীবী চৈতন্য চন্দ্র হালদার, পলাতক মোঃ খলিলের পক্ষে এ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান খান, বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের পক্ষে এ্যাডভোকেট আশরাফ-উল আলম, বিএনপি নেতা পলাতক হারিছ চৌধুরীর পক্ষে এ্যাডভোকেট আবু তৈয়ব ও পলাতক আনিসুল মোরসালিনের পক্ষে এ্যাডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসেন, আসামি মুন্সি মুহিবুল্লাহ ওরফে অভির পক্ষে তার আইনজীবী সাইফুর রশিদ সবুজ ও পলাতক আসামি মুফতি আবদুল হাইয়ের পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবুল কালাম। আসামিপক্ষের এ আইনজীবীরা তাদের মোয়াক্কেলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি দাবি করে আসামিদের খালাসের আর্জি পেশ করেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়। ২১ আগস্টের ওই নৃশংস হামলায় পৃথক দুটি মামলায় মোট আসামি ৫২ জন। মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছে। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী, লে.কমান্ডার (অব) সাইফুল ইসলাম ডিউক এবং মামলার সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডির সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডির সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদসহ মোট ৮ জন জামিনে রয়েছেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মেজর জেনারেল (এলপিআর) এটিএম আমিন, লে. কর্নেল (অব) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারসহ ১৮ জন এখনও পলাতক। এছাড়া ৩ জন আসামি জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নান ও শরীফ সাইদুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
আসন্ন নির্বাচনের আগে মন্ত্রণালয়ে পড়ে থাকা সব কাজ শেষ করার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
আসন্ন নির্বাচনের আগে মন্ত্রণালয়ে পড়ে থাকা সব কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগেও তিনি এই নির্দেশ দেন। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোন মন্ত্রণালয়ে কয়টি কাজ পড়ে আছে তা জানতে চান তিনি। এর প্রেক্ষিতে মন্ত্রীরা তাদের মন্ত্রণালয়ে পড়ে থাকা কাজ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। কোন কাজ কেন পড়ে আছে তাও ব্যাখ্যা করেন কোন কোন মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী পড়ে থাকা সকল কাজ আগামী জুনের মধ্যে সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া গত বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর) মন্ত্রিসভায় নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এর আগের বছর একই সময়ে এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। মন্ত্রিসভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম এবং একটি বিশেষ সিলমোহর উন্মোচন করেছেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সংস্কার ও সমন্বয়) এন এম জিয়াউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, গত বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর) মন্ত্রিসভায় নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এর আগের বছর একই সময়ে এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। সচিব বলেন, গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮টি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। এতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ৬৮টি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে ৫৩টি। ১৫টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অপরদিকে ২০১৬ সালের একই সময়ে ১০টি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়েছে জানিয়ে সংস্কার ও সমন্বয় সচিব বলেন, ওই সময়ে সিদ্ধান্ত হয় ১১৬টি। এর মধ্যে ৮০টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন ছিল ৩৬টি। বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। জিয়াউল আলম জানান, গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে একটি নীতি বা কর্মকৌশল এবং ৮টি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়েছে। এ সময়ে সংসদে আইন পাস হয়েছে ৩টি। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৫টি নীতি বা কর্মকৌশল এবং ৫টি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়েছে। এ সময়ে সংসদে ১১টি আইন পাস হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯ ফেব্রুয়ারি: আইনমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতি পদে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে সংসদের চলতি ১৯তম অধিবেশনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন হবে। জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক । বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হবে এ বছরের ২৩ এপ্রিল। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির নির্বাচনে প্রকাশ্য ভোট দেবেন। প্রকাশ্য ভোট গণনাও হবে। ওই দিন বেলা ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী হলে ভোটের প্রয়োজন হবে না। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট হবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীরা সমান ভোট পেলে লটারি হবে। নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদই আবারও রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, এমন খবর নাকচ করছেন কি না? উত্তরে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, এটা নাকচও করছি না, নিশ্চিত করছি না। আইন অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারি (বুধবার) থেকে শুরু হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষণগণনা। ওই দিন থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২৩ এপ্রিল শেষ হবে। আর সংবিধান অনুযায়ী মেয়াদ অবসানে পূর্ববর্তী নব্বই থেকে ষাট দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে উক্ত পদ শূন্য হলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী ৯০ হতে ৬০ দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
দুই দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া আজ আদালতে যাচ্ছেন
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে আজ মঙ্গলবার আদালতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বেলা ১১টায় তিনি আদালতে যাবেন বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। রাজধানীর বকশিবাজারে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে মামলা দুটির বিচার কাজ চলছে। চলতি মাসের ১৮ জানুয়ারি সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী আহসান উল্লাহ। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় পরবর্তী যুক্তিতর্কের জন্য আদালত আজকের দিন ধার্য করেন। এর আগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর দুর্নীতির এ দুই মামলায় খালেদা জিয়া হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। প্রতিবেদন দাখিল ২৮ ফেব্রুয়ারি : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে বোমা হামলা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু পুলিশ তা দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিন প্রতিবেদন দাখিলের ওই দিন ধার্য করেন।
ভূমির মালিকানা পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীরই থাকবে : প্রধানমন্ত্রী
পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমির মালিকানা স্থানীয়দের কাছেই থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জমি-জমার মালিকানা নিয়ে ঔপনিবেশিক আইন সংশোধন করে নতুন আইনের উল্লেখ করে তিনি বলেন,আমাদের সব জায়গার মানুষ যেন তাদের ভূমির মালিকানাটা পায়। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ যেন তার ভূমির মালিকানটা সেইভাবে নিতে পারে আমরা সেই ব্যবস্থাই করতে চাই। কাজেই ওই মালিকানা তাদের নিজস্ব থাকবে এবং সেটাই আমরা নিশ্চিত করতে চাই।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যে শান্তিচুক্তি আমরা করেছি তার সিংগভাগ বাস্তবায়ন করেছি। যেটুকু বাকি আছে সেটা আমরা করব। ভূমি কমিশন আমরা গঠন করে দিয়েছি। ভূমি কমিশন যাতে নিয়মিত বসতে পারে সেই সমস্যাটারও সমাধান হতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামে (সিএইচটি) বসবাসকারী মানুষের জন্য মৌলিক সামাজিক সেবা প্রাপ্তির সুযোগ সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে চার হাজারতম পাড়াকেন্দ্র উদ্বোধন করায় সংঘাত-পরবর্তী এই এলাকার মানুষের জন্য উন্নয়ন সম্ভাবনার একটি নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। যৌথভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও ইউনিসেফ আয়োজিত এক অনুষ্ঠান থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার মিতিনগাছড়ি এলাকায় চার হাজারতম পাড়া কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম. ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপিও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং এমপি। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়িতে স্থানীয় সুবিধাভোগী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এক সময় রক্তক্ষয়ী-সংঘাত ছিল। এই সংঘাতের কারণ-সমস্যা চিহ্নিত করেই আওয়ামী লীগ শান্তি চুক্তি করে। চুক্তিতে বাধা এলেও বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়ে গেছে। এ চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। আগের সরকারগুলো সমতল ভূমি থেকে মানুষদের সেখানে নিয়ে সংঘাত উস্কে দিয়েছিল। কিন্তু শান্তি চুক্তির মাধ্যমে এই সংঘাতের পথ বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। পাহাড়ে অশান্তি প্রতিরোধে পার্বত্যবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে আমি বলব, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কারণ শান্তিপূর্ণ পবিবেশ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেটা মাথায় রেখেই আমি সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। ইনশা আল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক শাসকরা পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলেছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। সমতল ভূমি থেকে বিভিন্ন লোককে নিয়ে ওখানে বসতি করা শুরু করে দেয়। তাদের ক্যাম্পে রাখা হয় এবং সেখানে সংঘাতটা আরও উস্কে দেয়া হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে তৃতীয় শক্তির সাহায্য ছাড়া শান্তি চুক্তি করে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, সেখানে তাদের জন্য প্রশাসনিক ভবন ডরমেটরিসহ সব করা হবে। ঢাকায় কাজে আসলে সেখানে পার্বত্য এলাকার লোকজন স্বল্পখরচে থাকতে পারবেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে যেমন ঘরবাড়ি হয় তেমন দৃষ্টিনন্দন হবে এই কমপ্লেক্স। এছাড়া আমরা চাকমা, মারমা ত্রিপুরা ভাষায় যে অক্ষর আছে, আমরা সেই অক্ষরে তাদের নিজস্ব ভাষায় বই ছাপিয়ে দিয়েছি। পাহাড়ে শিক্ষাকে আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি। পার্বত্য অঞ্চলে যেন মাদক উৎপাদন না হয়। সেইসঙ্গে পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ীদের পাহাড়ী ফলের চাষ করার আহ্বান জানান। পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের (আইসিডিপি) আওতায় ইউনিসেফ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে পাড়া কেন্দ্র নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন করছে, যা বর্তমানে তিন পাহাড়ী জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির মানুষের মৌলিক সামাজিক সেবা প্রাপ্তির মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। চার হাজারতম পাড়া কেন্দ্র চালুর এই মাইলফলকের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাস করা ১৬ লাখ মানুষ ও ১১টি বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও নৃ-গোষ্ঠীর মৌলিক সামাজিক সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক হবে এবং এটি এখানকার সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। শান্তিচুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় নিপীড়ন-নির্যাতনে জুম্মদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে বলে সম্প্রতি চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমা উদ্বেগ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে প্রায় আড়াই শর মতো সেনা ক্যাম্প আমরা প্রত্যাহার করেছি। সেখানে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বর্ডার গার্ডের বিওপি তৈরি করেছি, যা আগে কখনও ছিল না। চার হাজারতম পাড়া কেন্দ্রের মাধ্যমেই শেষ হতে যাওয়া এ প্রকল্পের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন আরেকটি প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলমান প্রকল্পের জনবলকে নতুন প্রকল্পে নিয়ে যাওয়াসহ আরও কর্মসংস্থানের আশ্বাসও দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে তার সরকারের এই উন্নয়নের ধারাটা যেন অব্যাহত থাকে সেজন্যই এই নতুন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘ ২৫ বছরের অস্থিরতা নিরসনে এবং সেখানে টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি এই অঞ্চলে ইউনিসেফের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সুরক্ষা, পানি ও স্যানিটেশনের মতো ন্যায়সঙ্গত সামাজিক সেবাসমূহ নিশ্চিত করতে এখনও অনেক কাজ বাকি, বিশেষ করে, দুর্গম পাহাড়ী এলাকায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাড়া কেন্দ্রগুলো ইসিডি কেন্দ্রের সর্বোত্তম উদাহরণ এবং শৈশবকালীন প্রারম্ভিক উন্নয়নের গুরুত্ব বিবেচনায় পাড়া কেন্দ্রগুলোকে বিশেষায়িত ইসিডি কেন্দ্রে রূপান্তর করা যেতে পারে এবং বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ওয়ান স্টপ মৌলিক সামাজিক সেবা প্রদানে পাড়া কেন্দ্র পদ্ধতি এর মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে। স্বতন্ত্র জনসংখ্যাতাত্ত্বিক, ভূমি, সামাজিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্প্রদায়গুলো বহুবিধ বঞ্চনার সম্মুখীন হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশে ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জন করলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় এই অর্জনের সমান প্রতিফলন নেই এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের উন্নয়ন সহায়তা কাঠামোর জন্য এই জেলাগুলো পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উন্নয়নের মূলধারায় পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রচারণা চালাতে ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি জীবনচক্র পদ্ধতি ব্যবহার করার মাধ্যমে পাড়া/ গ্রাম কেন্দ্র পদ্ধতি প্রণয়ন করে। এর উদ্দেশ্য ছিল পাড়া কর্মীদের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সমন্বিত মৌলিক স্বাস্থ্য সেবা, পুষ্টি, শিক্ষা, ওয়াশ ও শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রান্তিক সম্প্রদায়গুলোর জন্য মৌলিক সামাজিক সেবাগুলো প্রাপ্তি ও ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি
আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তারপরই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে হবে মিয়ানমারে। রোববার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ব্রিফিংয়ে যোগ দিয়ে এমন তাগিদ দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। এসময় নির্ধারিত ২৩ জানুয়ারিতে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত নয় জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী জানান, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ভারত, চীন ও জাপানকে সম্পৃক্ত করতে মিয়ানমারকে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। ২৫শে আগস্ট রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরুর পর কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে বাংলাদেশ। গত বছরের ৯ অক্টোবর ৩২ দেশের রাষ্ট্রদূতদের ব্রিফিংয়ের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায়। শুরুতে পশ্চিমা এবং অ- মুসলিম প্রধান দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কূটনীতিকদের রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান অবহিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ব্রিফিং শেষে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশকে তাগিদ দেন কূটনীতিকরা। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট বলেন, 'আমরা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। এ মুহূর্তে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা ফিরতে চায় না। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেয়ার আগে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।' ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, 'যেকোনভাবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেয়ার পক্ষে আমরা। এখন নিরাপত্তা নেই বলা ঠিক হবে না, তবে এ পরিস্থিতি উন্নয়নে আমাদের সবাইকে অনেক কাজ কাজ করতে হবে।' যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক বলেন, 'রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার আগে অবশ্যই তাদের নিরাপত্তা, সম্মান এবং অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ তাদের মানবিক দিক আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।' পরে ওআইসিভুক্ত মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, 'যেতে না চাইলে তো আর জোরে ধাক্কা দিয়ে পাঠানো সম্ভব নয়। যখন তারা দেখবে তাদের অবস্থান ভালো হচ্ছে তখন তারাও যেতে রাজি হবে।' তিনি আরো বলেন, 'আমাদের সাইডে আমরা ইউএন হাইকমিশনার ফর রেফুজি অফিসকে আমরা যুক্ত করবো। তো তারা একটা বুঝের গ্রাফ দিয়েছে। ইন্ডিয়া, চায়না ও জাপানকে তারা যুক্ত করতে রাজি হয়েছে।' তবে মিয়ানমার সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারি প্রথম দফায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণ
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ বঙ্গভবন থেকে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতের শেষ পর্বে অংশগ্রহণ করেছেন। টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে সকালে আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে তিন দিনব্যাপী ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব সমাপ্ত হয়। রাষ্ট্রপতি দরবার হলে বঙ্গভবনের কর্মকর্তাদের নিয়ে সরাসরি সম্প্রচারকৃত আখেরি মোনাজাতে যোগ দেন। এ সময় ঢাকার কাকরাইল মসজিদের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের দেশ ও জাতিসহ মুসলিম উম্মার শান্তি, সমৃদ্ধি কামনা করে পরম করুনাময়ের কাছে মোনাজাত করেন। এরআগে গত ১২ জানুয়ারি থেকে দেশের ১৭ টি জেলার মুসল্লিদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। দিল্লী ভিত্তিক তাবলিগ-ই-জামাত ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করে আসছে। গত ২০১১ সাল থেকে মুসল্লিদের যাতায়াত ও স্থান সঙ্কলানের অসুবিধা হওয়ায় বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জেনে-বুঝে পুঁজি বাজারে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সঠিকভাবে জেনে-বুঝে পুঁজি বাজারে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেকেই পুঁজি বাজার সম্পর্কে কিছু না জেনেই বিনিয়োগ করেন, তারা মনে করেন এটা ভাগ্যের ব্যাপার, কিন্তু বিনিয়োগ করতে হলে এ সম্পর্কে কিছুটা লেখা পড়ারও দরকার। অর্থমন্ত্রী শনিবার সকাল ১১টায় সিলেট শহরের একটি কনভেনশন হলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আয়োজিত বিনিয়োগ শিক্ষা মেলা-২০১৮র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। পুজিবাজার নিয়ে মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করার জন্য দেশব্যাপি বিনিয়োগ শিক্ষা মেলা আয়োজনের অংশ হিসেবে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুঁজি বাজার সম্পর্কে মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে হবে উল্লেখ করে এএমএ মুহিত বলেন, বর্তমান সরকার মানুষের ক্ষমতায়নে কাজ করছে, আর মানুষের আর্থিক ক্ষমতায়নে গুরত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে পুঁজি বাজার। তিনি বলেন, সরকার মানুষের আর্থিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে নিরাপদ ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বিগত ৭ বছরে আমরা একটি ভিত্তি দাঁড় করাতে পেরেছি, এখন পুঁজি বাজার বিকাশের সময়। অর্থমন্ত্রী বলেন, একটা সময়ে বাংলাদেশের পুঁজি বাজারের কোনো নিয়ম নীতি ছিল না। মানুষ হুজুগে বিনিয়োগ করেছিলো। এর ফলে বাংলাদেশের পুঁজি বাজারে স্বল্প সময়ের মধ্যে দুটি বড় ধস নেমেছিল। আমাদের সরকার এবং সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন মিলে প্রাণান্ত চেষ্টা করে পুঁজি বাজারকে বর্তমান অবস্থায় এনেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের পুঁজি বাজার একটি অত্যধুনিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রথম শ্রেণীর পুঁজি বাজার। বাংলাদেশ এখন যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায় প্রচুর বিনিয়োগ দরকার উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন,আমরা যদি সঠিকভাবে জেনে বুঝে পুঁজি বাজারে বিনিয়োগ করি তবেই দেশের উন্নয়নে সবার প্রত্যক্ষ ভুমিকা পালন করা হবে। তিনি বলেন সামনে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, আমাদের সবার অংশগ্রহনেই একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ শিক্ষা মেলার স্টল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, পুঁজিবাজারে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান। সচেতন বিনিয়োগ সমৃদ্ধ আগামী- এই স্লোগানে শুরু হওয়া বিনিয়োগ শিক্ষা মেলায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. খায়রুল হোসেন। এছাড়াও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা বিষয়ক বক্তব্য রাখেন বিএসইসির কমিশনার প্রফেসর মো. হেলাল উদ্দিন নিজামী। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখবেন বিএসইসির কমিশনার মো. আমজাদ হোসেন ও খন্দকার কামালুজ্জামান।

জাতীয় পাতার আরো খবর