সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২০
করোনায় বিদেশে ১২৩৮ বাংলাদেশির মৃত্যু
২৪,জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিদেশেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুর মিছিল থেমে নেই। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস, প্রবাসে কমিউনিটি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী বুধবার (২৪ জুন) পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিদেশে অন্তত ১২৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছেন। সূত্র জানায়, বিশ্বের মধ্যে সৌদি আরবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার পর্যন্ত শুধু সৌদি আরবেই করোনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪১৫ জন বাংলাদেশির। বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির মুখে রয়েছেন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এছাড়া সেখানে আরও কয়েকশ বাংলাদেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সৌদি আরবের পর সবচেয়ে বেশি প্রবাসী নাগরিক মারা গেছেন যুক্তরাজ্যে। সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন অন্তত ৩০৬ বাংলাদেশি। সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যে করোনায় সবচেয়ে বেশি প্রকোপ বেশি সংখ্যক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২৭২ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০৪, কুয়েতে ৪৫, ওমানে ২০ জন, কাতারে ১৮, ইতালিতে ১৪, কানাডায় ৯ জন, বাহরাইনে ৯ জন, সুইডেনে ৮, ফ্রান্সে ৭, স্পেনে ৫, লিবিয়ায় ১, পর্তুগালে ১, গাম্বিয়ায় ১, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১, মালদ্বীপে ১ ও কেনিয়ায় ১ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সিঙ্গাপুরে প্রথম বাংলাদেশি প্রবাসীরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। সেখানে এই পর্যন্ত ২৬ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে সেখানে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
এবার এমপি পাপুলের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চাইলো এনবিআর
২৪,জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পর এবার কুয়েতে আটক লক্ষ্মীপুর-২ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের ব্যাংক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের কাছে সিআইসি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে পাপুল ছাড়াও তার স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলামের ব্যাংক লেনদেনের তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে। চিঠি পাঠানোর সত্যতা নিশ্চিত করে সিআইসির মহা-পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, এমপি পাপুল ও তার স্ত্রীর ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চেয়ে আজ (মঙ্গলবার) আমরা ব্যাংকগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। চিঠিতে পাপুল ও তার স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রক্ষিত সব ধরনের হিসাবের বিপরীতে লেনদেনের তথ্য জানাতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত সোমবার (২২ জুন) দুদকও একইভাবে পাপুল, তার স্ত্রী, কন্যা ও একজন অত্মীয়ের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য জনানোর জন্য চিঠি দেয়।
করোনায় আরও ৪৩ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৪১২
২৩,জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ৪১২ জন। এনিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৫৪৫ জনের। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ১৯৮ জনে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮৮০ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছে ৪৭ হাজার ৬৩৫ জন। তিনি আরো জানান, ৬৫টি ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৫৬৩টি। মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৬ হাজার ২৯২টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ছয় লাখ ৪৪ হাজার ১১টি। নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৪৩ জনের মধ্যে ৩৮ জন পুরুষ ও নারী পাঁচ জন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছেন ১৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ছয় জন, খুলনা বিভাগে দুই জন, ময়মনসিংহ বিভাগে দুই জন, সিলেট বিভাগে এক জন, বরিশাল বিভাগে এক জন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩০ জন, বাসায় মারা গেছেন ১২ জন ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান এক জন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুই জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছয় জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এক জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন একজন। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৬৮০ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ২১ হাজার ১১২ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১২ হাজার ৯১৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২২০ জন। এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন আট হাজার ১৮৫ জন।
খয়রাতির জন্য ক্ষমা চেয়েছে আনন্দবাজার
২৩,জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা একটি প্রতিবেদনে- খয়রাতি শব্দ ব্যবহার করার জন্য ক্ষমা চেয়েছে। মঙ্গলবারের (২৩ জুন) পত্রিকায়- ভ্রম সংশোধন দিয়ে ক্ষমা চায় আনন্দবাজার কর্তৃপক্ষ। আনন্দবাজার ভ্রম সংশোধন শিরোনামে লিখেছে লাদাখের পরে ঢাকাকে পাশে টানছে বেজিং- শীর্ষক খবরে খয়রাতি শব্দের ব্যবহারে অনেক পাঠক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থী। গত ২০ জুন আনন্দবাজার পত্রিকায় লাদাখের পরে ঢাকাকে পাশে টানছে বেজিং- শীর্ষক এক প্রতিবেদনের শুরুতেই বাণিজ্যিক লগ্নি আর খয়রাতির সাহায্য ছড়িয়ে বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা চীনের নতুন নয় বলে লেখা হয়। এ নিয়ে বাংলাদেশের অনেক নাগরিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে আনন্দবাজার পত্রিকার নানা সমালোচনা করছেন। গত ২১ জুন আনন্দবাজার পত্রিকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি কুদ্দুস আফ্রাদ এই রিপোর্টের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমি স্পষ্ট করে জানাতে চাই, এ রিপোর্ট আমার লেখা নয়। আমি নিজে এ রিপোর্টের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। রিপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের প্রতিক্রিয়ার কথা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
দলকে টিকিয়ে রেখেছে তৃণমূল আওয়ামী লীগ: শেখ হাসিনা
২৩,জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিভিন্ন সময় নির্যাতন ও নিপীড়নের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে মন্তব্য করে দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মী, সমর্থকরা জীবন দিয়ে সকল প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দলকে টিকিয়ে রেখেছে, শক্তিশালী করেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, গণজমায়েত না করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আওয়ামী লীগের এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করারও আহবান জানান তিনি। মঙ্গলবার (২৩ জুন) আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (২২ জুন) দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি। ১৯৮১ সালে থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসা শেখ হাসিনা বলেন, সদ্য স্বাধীন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে যখন জাতির পিতা তার স্বপ্নের সোনার বাংলায় রূপান্তরের সংগ্রামে নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তখনই ঘাতকেরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে তাকে সপরিবারে হত্যা করে। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে ৩ নভেম্বর কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত এবং স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ও অবৈধ সেনা শাসকদের নির্যাতন আর নিপীড়নের মাধ্যমে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে। কিন্তু কোনো অপচেষ্টা কখনো সফল হয়নি। আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মী, সমর্থকরা জীবন দিয়ে সকল প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দলকে টিকিয়ে রেখেছে, শক্তিশালী করেছে। আওয়ামী লীগের অবদান ও ত্যাগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জাতির প্রতিটি মহৎ, শুভ ও কল্যাণকর অর্জনে আওয়ামী লীগের ভূমিকা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে আমরা আজ আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছি। আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান শেখ হাসিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক সামসুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, জাতীয় চার নেতাসহ স্বাধিকার আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে শহীদ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের কথা স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জাতির মুক্তি ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ শে জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ ভুখন্ডে প্রতিটি প্রাপ্তি ও অর্জন সবই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হয়েছে। আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের আত্মপরিচয়ের সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৫২র ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২র আইয়ুবের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৪র দাঙ্গার পর সাম্পদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, ১৯৬৬র ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯র গণঅভ্যুত্থানসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এ দেশের মাটি ও মানুষের দল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই অর্জন করেছে মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক এবং মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্বদানের সুমহান গৌরব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর পরবর্তী সামরিক শাসকদের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই খাদ্য ঘাটতির দেশ বাংলাদেশকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত করে। আওয়ামী লীগ সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় মহান ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পায়। ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কারও মধ্যস্থতা ছাড়াই স্বাক্ষরিত হয় পার্বত্য শান্তি চুক্তি। আওয়ামী লীগের এই পাঁচ বছরের শাসনামলে জাতীয় ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের অপশাসন, দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে পুনরায় বিজয় অর্জন করে। ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সরকার গঠন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে আওয়ামী লীগ সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত সাড়ে ১১ বছরে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে মন্তব্য করে টানা তিন বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। স্বাস্থ্যসেবা এখন মানুষের দোরগোড়ায়। মানুষ বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ পাচ্ছেন। শিশু ও মাতৃ-মৃত্যুর হার কমেছে, গড় আয়ু বেড়ে ৭৩ বছরে পৌঁছেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, সাক্ষরতার হার ৭৩ ভাগের উপরে উন্নীত করা, ৯৬ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে, নারী শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, মাদ্রাসা শিক্ষা আধুনিক ও কর্মমুখী করা, শহরের নাগরিক সুবিধা গ্রামে পৌছে দেওয়া হচ্ছে, বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করে মহাকাশ বিজয় করেছে বাংলাদেশ, ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল, ২৮টির অধিক হাই-টেক পার্ক, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২, গভীর সমুদ্রবন্দর, পদ্মাসেতু, এলএনজি টার্মিনাল, এক্সপ্রেসওয়ে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, আমরাই বিশ্বে প্রথম শত বছরের ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ বাস্তবায়ন শুরু করেছি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করেছি। ওয়াদা অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য পরিচালনা করছি। জঙ্গিবাদ ও হরতালের অবসান ঘটিয়ে দেশকে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমরা ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। মুজিব বর্ষকে ঘিরে দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ থেকে বছরব্যাপী জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী-মুজিব বর্ষ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে আমরা মুজিবর্ষের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জনসমাগম না করে টেলিভিশনের মাধ্যমে সম্প্রচার করেছি। তবে মুজিববর্ষে গৃহহীনদের ঘর করে দেওয়া হবে। এদেশে কেউ গরিব, গৃহহীন থাকবে না। চলমান করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি সংকট উত্তরণে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করে যাবে এবং দল হিসেবেও আওয়ামী লীগ জনগণকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ, উন্নত ও আধুনিক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে প্রিয় বাংলাদেশ। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন খাতে মোট প্রায় ১ লাখ ১ হাজার ১১৭ কোটি টাকার ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারকে এককালীন ২৫০০ টাকা করে অনুদান প্রদান, সম্প্রতি ২ হাজার ডাক্তার ও ৫ হাজার ৫৪ জন নার্সকে নিয়োগ দেওয়াসহ আরও প্রায় ৩ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ গৌরবের ৭২ বছরে
২৩,জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের একেকটি সিঁড়ি বেয়ে ৭২ বছরে পদার্পণ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মঙ্গলবার (২৩ জুন)। নানা ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উতরাই ও সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে আজকের এই অবস্থানে উপনীত হয়েছে আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ ৭১ বছরে দলটি অনেক ঐতিহ্য-গৌরব স্থাপনে সক্ষম হয়েছে। পশ্চাৎপদ ও ভ্রান্ত দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে জন্ম নেওয়া পাকিস্তানের অধিনে থাকা পূর্ব বাংলার জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরনো ঢাকার কেএন দাস লেনের রোজ গার্ডেনে আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে দলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন মুসলিম লীগের নেতাকর্মীদের অসাম্প্রদায়িক একটি অংশ বেরিয়ে গিয়ে রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে নতুন দল গঠন করে। প্রতিষ্ঠার সময়ই দলের অসাম্প্রদায়িক নামকরণের দাবি উঠলেও সমাজ বাস্তবতা ও তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলটি প্রতিষ্ঠার প্রায় চার বছর পর ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ করে। আওয়ামী লীগ নামে বাঙালির অধিকার আদায়ের লড়াই সংগ্রমের ব্রত নিয়ে এ রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠে আওয়ামী লীগ। প্রথম সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। এ সময় শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কারাগারে। প্রথম কমিটিতে তিনি কারাগারে থেকেই যুগ্ম সম্পাদক পদ পান। নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার একপর্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমানই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন। ১৯৬৬ সালের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত হন। হয়ে উঠেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক শেখ মুজিব। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলে রূপান্তরিত হয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তানের শাসন-নির্যাতন, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আন্দোলন, ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের সব আন্দোলন একপর্যায়ে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা অর্জিত হয়। সেদিন বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ৫২র ভাষা আন্দোলন, ৫র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়ের পথ ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়ে দলটি অগ্রসর হয়। ৬৬র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচনে বিপুল বিজয় ও স্বাধীনতার সংগ্রাম আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই গড়ে উঠে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে ৭১ এ সংগঠিত মহান মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দেয়। পাকিস্তানি শাসন আমলে এবং স্বাধীনতার পর ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী দীর্ঘ সময় দেশে একের পর এক আসা সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সব ধরনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছে ঐতিহ্যবাহী দলটি। এই সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আওয়ামী লীগকে অনেক প্রতিকুল পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। অনেক চড়াই-উতরাই এবং ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে এগোতে হয়েছে। কখনও নেতৃত্ব শূন্যতা, কখনও দমন-পীড়ন, কখনও ভাঙনের মুখে পড়তে হয়েছে দলটিকে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা এবং ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর নেতৃত্ব শূন্যতায় পড়ে আওয়ামী লীগ। এই শূন্যতা থেকেই দলের মধ্যে একাধিক ভাঙন ও গ্রুপিং ও বহু ধারার বিভক্তি দেখা দেয়। এরপর দলের চরম ক্রান্তিকালে ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে শক্ত হাতে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দ্বিধা-বিভক্ত আওয়ামী লীগ আবার ঐক্যবদ্ধ হয়। প্রায় চার দশক ধরে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পরিচালিত হচ্ছে। এই সময়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি চার বার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। তবে ৭১ বছরের মধ্যে প্রায় ৫০ বছরই আওয়ামী লীগকে থাকতে হয়েছে রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে, রাজপথে, আন্দোলন-সংগ্রামে। ৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়ের পর ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ মন্ত্রিসভা গঠন করলেও তা বেশি দিন টেকেনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকারের সাড়ে তিন বছর এবং ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পাঁচ বছর এবং বর্তমানে টানা সাড়ে ১২ বছর আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে।- বাংলানিউজ
বঙ্গবন্ধু একটি সুখী ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন: রাষ্ট্রপতি
২২,জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মো. আবদুল হামিদ স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসাবে সততা, আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও শৃংখলার সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন করার আহবান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে আজ এক বাণীতে তিনি এ আহবান জানান। আগামীকাল বিশে^র অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে এ দিবস পালিত হবে। আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবস ২০২০ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রজাতন্ত্রের সব কর্মচারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তের আলোকে ২০০৩ সাল থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবস পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এ দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারের পালিত হয়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার ১৭ মার্চ ২০২০ হতে পরবর্তী এক বছরকে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে। জাতির পিতা বাংলাদেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জনস্বার্থে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, এ বছর আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে এ্যাকশন টু-ডে, ইমপেক্ট টুমরো : ইনোভেটিং এন্ড ট্রান্সফরর্মিং পাবলিক সার্ভিসেস এন্ড ইনস্টিটিউট টু রিয়েলাইজ দ্যা সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোল। ২০১৯ সালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এসডিজি সামিটে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য অর্জনের জন্য জাতিসংঘ থেকে দশ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। তারই আলোকে ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্চারীদের মধ্যে ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠেীর মানসিকতা পরিহার করে ক্রমান্বয়ে জনগণের সেবকে রূপান্তরের বিষয়টি লক্ষণীয়। সরকারি সেবা নাগরিকদের সহজে প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে তারা নিত্য নতুন বিষয় উদ্ভাবন করছেন। জনসেবা প্রদানে অনন্য ও উদ্ভাবনী কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার ২০১৬ সাল হতে জনপ্রশাসন পদক প্রদান করে আসছে। আবদুল হামিদ বলেন, নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের উদ্যোগ ও সেবা প্রদানের মানসিকতা খুবই প্রশংসনীয়। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ত্রাণ বিতরণ, প্রয়োজনে ঘরে-ঘরে ত্রাণ পোঁছে দেয়ার কাজও তারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে করছেন। জনসাধারণ যাতে এ সময় ঘর থেকে বের না হয় সেজন্য মোবাইল বাজার, স্থানীয় পর্যায়ে ই-কমার্স প্ল্যাটফরম তৈরীর মতো উদ্ভাবনীমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ ও সংক্রমণ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। তিনি বলেন, এসডিজি অর্জনে সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনীমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে সহজে জনসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনীমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের যে ধারা অব্যাহত রয়েছে তা আমাদের এসডিজি অর্জনে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
বাঙালি জাতির প্রতিটি মহৎ, শুভ ও কল্যাণকর অর্জনে আওয়ামী লীগের ভূমিকা রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
২২,জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাঙালি জাতির প্রতিটি মহৎ, শুভ ও কল্যাণকর অর্জনে আওয়ামী লীগের ভূমিকা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে আমরা আজ আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছি। সংকট উত্তরণে তার সরকার সব ধরণের সহযোগিতা করে যাবে এবং আওয়ামী লীগ দল হিসেবেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ, উন্নত ও আধুনিক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে প্রিয় বাংলাদেশ। আগামীকাল আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ দেয়া এক বাণীতে তিনি আরো বলেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। দেশের বিভিন্ন খাতে মোট প্রায় ১ লাখ ১ হাজার ১১৭ কোটি টাকার ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারকে এককালীন ২৫০০ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি ২ হাজার ডাক্তার ও ৫ হাজার ৫৪ জন নার্সকে নিয়োগ দেওয়াসহ আরও প্রায় ৩ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবন ও জীবিকা রক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে প্রয়োজনীয় অফিস-আদালত-কলকারখানা চালু করা হয়েছে। সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় যে কোন জরুরি চাহিদা মেটাতে ২০২০-২০২১ সালের অর্থবছরে ১ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই দুর্যোগে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এ সংকট উত্তরণে আমাদের সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করে যাবে। আওয়ামী লীগ দল হিসেবেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছে, বলেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের অগণিত নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি স্মরণ করেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক সামসুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে। আমি স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতাসহ স্বাধিকার আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে শহীদ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের-যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ গণমানুষের এক সুবৃহৎ সংগঠনে পরিণত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জাতির মুক্তি ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ শে জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ ভুখন্ডে প্রতিটি প্রাপ্তি ও অর্জন সবই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস উল্লেথ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের আত্মপরিচয়ের সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৫২র ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২র আইয়ুবের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৪র দাঙ্গার পর সাম্পদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, ১৯৬৬র ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯র গণঅভ্যূত্থানসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এ দেশের মাটি ও মানুষের দল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই অর্জন করেছে মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক এবং মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্বদানের সুমহান গৌরব। ১৯৭০ নির্বাচনে বাঙালি জাতি আওয়ামী লীগের পক্ষে নিরঙ্কুশ রায় দেয়। যার ধারবাহিকতায় ১৯৭১র ৭ই মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা ঘোষণা করেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চের কালরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু করে ইতিহাসের নির্মমতম গণহত্যা। গ্রেফতার করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে। গ্রেফতারের পূর্বে ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু তৎকালীন ইপিআর-এর ওয়ারলেসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়। ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগরে এই সরকার শপথ গ্রহণ করে। আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত সফল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙ্গালি জাতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের ফসল-স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। সদ্য স্বাধীন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে যখন জাতির পিতা তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলায় রূপান্তরের সংগ্রামে নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তখনই ঘাতকেরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে ৩ নভেম্বর কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত এবং স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ও অবৈধ সেনাশাসকদের নির্যাতন আর নিপীড়নের মাধ্যমে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে। কিন্তু কোন অপচেষ্টা কখনও সফল হয়নি। আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মী, সমর্থকরা জীবন দিয়ে সকল প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দলকে টিকিয়ে রেখেছে, শক্তিশালী করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ সরকারই খাদ্য ঘাটতির দেশ বাংলাদেশকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত করে। আওয়ামী লীগ সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পায়। ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কারও মধ্যস্থতা ছাড়াই স্বাক্ষরিত হয় পার্বত্য শান্তি চুক্তি। আওয়ামী লীগের এই পাঁচ বছরের শাসনামলে জাতীয় ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের অপশাসন, দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে পুনরায় বিজয় অর্জন করে। ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সরকার গঠন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে আওয়ামী লীগ সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত সাড়ে ১১ বছরে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। স্বাস্থ্যসেবা এখন মানুষের দোরগোড়ায়। মানুষ বিনামূল্যে ৩০ ধরণের ওষুধ পাচ্ছেন। শিশু ও মাতৃ-মৃত্যুর হার কমেছে, গড় আয়ু বেড়ে ৭৩ বছরে পৌঁছেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে। সাক্ষরতার হার ৭৩ ভাগের উপরে উন্নীত হয়েছে। ৯৬ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। নারী শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, হয়েছে নারীর ক্ষমতায়ন। আমরা মাদ্রাসা শিক্ষা আধুনিক ও কর্মমুখী করেছি। শহরের নাগরিক সুবিধা গ্রামে পৌছে দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করে মহাকাশ বিজয় করেছে বাংলাদেশ। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল, ২৮টির অধিক হাই-টেক পার্ক, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২, গভীর সমুদ্রবন্দর, পদ্মাসেতু, এলএনজি টার্মিনাল, এক্সপ্রেসওয়ে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমরাই বিশ্বে প্রথম শত বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন শুরু করেছি, বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করেছি। ওয়াদা অনুযায়ী য্দ্ধুাপরাধীদের বিচার কার্য পরিচালনা করছি। জঙ্গিবাদ ও হরতালের অবসান ঘটিয়ে দেশকে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমরা ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ থেকে বছরব্যাপী জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী-মুজিব বর্ষ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ফলে আমরা মুজিবর্ষের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জনসমাগম না করে টেলিভিশনের মাধ্যমে সম্প্রচার করেছি। তবে মুজিব বর্ষে গৃহহীনদের ঘর করে দেয়া হবে। এদেশে কেউ গরীব, গৃহহীন থাকবে না। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশে পরিণত করবেন আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে পারব। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, গণজমায়েত না করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় পাতার আরো খবর