পুরনো রাডারে চলছে শাহজালালের কার্যক্রম
৩৫ বছরের পুরনো রাডার দিয়ে চলছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম। এ সময়ে রাডারটির সংস্কার করা হলেও এর কার্যক্ষমতা কমে গেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ কারণে অনেক বিমানেরই গতিপথ থেকে যাচ্ছে নজরদারির বাইরে। এ অবস্থায় ফ্লাইট পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে নতুন রাডার কেনার পরামর্শ তাদের। উড়োজাহাজের মসৃণ অবতরণের জন্য ইনস্ট্রুমেন্টাল ল্যান্ডিং সিস্টেম-আইএলএস আরো উন্নত করারও তাগিদ দিয়েছেন তারা। নেপালে ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর আলোচনায় আসে ত্রিভুবন বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ অবতরণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত নানা সীমাবদ্ধতার চিত্র। এই প্রেক্ষাপটে শাহজালাল বিমান বন্দরে উড়োজাহাজের পরিচালন ব্যবস্থা কতটা আধুনিক, চলে আসে সে প্রশ্নও। বিশেষজ্ঞরা জানান, নিরাপদ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য শাহজালাল বিমানবন্দরে রয়েছে নেভিগেশনাল নানা সুবিধা। তবে রাডারটি অনেক পুরনো হওয়ায় বিরূপ আবহাওয়ায় ব্যাহত হয় বিমান চলাচল। একই কারণে রাডারের দৃষ্টির বাইরে রয়ে যায় অনেক বিমান। তাই দ্রুত নতুন রাডার কেনার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। সিভিল এভিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, 'এই রাডারটা অনেক পুরনো। যদিও এটাকে কয়েকবার রিফার্বিশ করা হয়েছে তবুও এটা এখনকার সময়ের জন্য উপযোগী না। দক্ষিণ দিক দিয়ে অনেক এয়ারক্রাফট অনেক নিচে দিয়ে চয়ে যাচ্ছে আমাদের অজান্তেই কিন্তু আমরা সেগুলো দেখতে পাচ্ছি না। শীতের সময় কিন্তু ফ্লাইটগুলো দেরি হয় কারণ, রানওয়ে দেখতে পায় না।' এছাড়া শাহজালালে বিমান অবতরণ আরো সহজ করতে রানওয়ের লাইটিং এবং যান্ত্রিক অবতরণ পদ্ধতি বা আইএলএস ক্যাটাগরি- ২এ উন্নীত করার তাগিদ দিয়েছেন তারা। এতে পাইলট আরো দক্ষতার সঙ্গে উড়োজাহাজ অবতরণ করাতে পারবেন বলেন মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। গ্যালাক্সি ফ্লাইং ট্রেনিং একাডেমির সিইও উইং কমান্ডার নজরুল ইসলাম বলেন, 'লাইটং সিস্টেমটা আমরা এখনো সেভাবে উন্নতি করতে পারিনি বলে আইএলএস ক্যাটাগরি-১ এ এখনো আছে। আরও বেশি ল্যন্ডিং সিস্টেম আমরা পাবো।' আইএলএস ক্যাটাগরি টু-তে উন্নীত করা এবং নতুন রাডার ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ফ্লাইট সেফটি এন্ড রেগুলেশনের পরিচালক উইং কমান্ডার চৌধুরী জিয়াউল কবির বলেন, 'একটা ফ্রেশ রাডার কেনার জন্য একটা প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। এটিএম সিস্টেমটাও করা হচ্ছে বর্তমান সময়ের অত্যাধুনিক সিস্টেমে। ওইটা হয়ে গেলে আমরা বলতে পারবো যে, বিশ্বের যে কোন দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মতো এটিএম সিস্টেম আমাদের আছে।' ২০০৫ সালে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রাডার ক্রয়ের উদ্যোগ নিলেও অনিয়মসহ নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘ ১৩ বছরেও সেই প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি।
পাঁচ সিটিতে ভোট হবে দুই ধাপে
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দুই ধাপে পাঁচ সিটি করপোরেশনে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম ধাপে ভোট হবে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনে। এজন্য ৩১ মার্চ তফসিল ঘোষণা হবে এ দুই সিটির। আর দ্বিতীয় ধাপে ঈদুল ফিতরের পর ভোট হবে রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটিতে। এদিকে সিটি ভোটের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। মাঠ কর্মকর্তাদের ভোটার তালিকার সিডিসহ ভোট কেন্দ্রের প্রাথমিক তালিকা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এসব সিটির প্রার্থীরা দলীয় কর্মকাণ্ডের বাইরেও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, গণসংযোগ করছেন। এ বিষয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ৩১ মার্চ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত সময় রেখেই এ ভোটের তারিখ নির্ধারণ করবে ইসি। পাঁচ সিটি করপোরেশনের মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে ৪ সেপ্টেম্বর, খুলনার ২৫ সেপ্টেম্বর, রাজশাহীর ৫ অক্টোবর, সিলেটের ৮ অক্টোবর ও বরিশালের ২৩ অক্টোবর। গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ২০১৩ সালের ৬ জুলাই ও খুলনা সিটিতে ২০১৩ সালের ১৫ জুন ভোট হলেও সিটি প্রথম সভা সেপ্টেম্বরে হয়েছিল। সে হিসাবে মার্চেই ভোটের দিনক্ষণ শুরু হয়েছে। এ দুই সিটির ভোটের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিন আগের সময়ে ভোটের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশন ১০ মে ভোটের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, ২ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা রয়েছে। ১৭ মে মাহে রমজান শুরু হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ৪০-৪৫ দিন সময় রেখে মে’র দ্বিতীয়ার্ধে দুটি নির্বাচন এক দিনে করা হবে। বাকি তিন সিটি করপোরেশনের ভোটও এক দিনে করার পরিকল্পনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ঈদের পর সুবিধাজনক সময়ে ভোট করবে ইসি। সিইসি কে এম নূরুল হুদা ইতিমধ্যে বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে পাঁচ সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করা হবে। এ নিয়ে কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে জানান সিইসি। গাজীপুর সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ৬ জুলাই। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর। গত ৮ মার্চ নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হয়েছে এ সিটিতে। খুলনা সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। ৩০ মার্চ নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। রাজশাহী সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৬ অক্টোবর। এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৫ অক্টোবর। ৯ এপ্রিল নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। সিলেট সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর। এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৮ অক্টোবর। ১২ এপ্রিল নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। বরিশাল সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর। এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২৩ অক্টোবর। ২৭ এপ্রিল নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে।
বিয়ের প্রলোভনে বাড়ছে ধর্ষণ
ভালোলাগা থেকে প্রেম। সেখান থেকেই স্বপ্ন বুনন। ছেলেটি স্বপ্ন দেখায় বিয়ের। মেয়েটিও সে স্বপ্নে বিভোর থাকে। ঘর করার প্রলোভন থেকে শুরু হয় আরো ঘনিষ্ঠতা। শুধু তাই নয়, বিয়ের আগেই ছেলেটির প্রতি প্রলুব্ধ হয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন অনেকে। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই এতে নেমে আসে বিপর্যয়। একপর্যায়ে সম্পর্কে ভাঙন। সব স্বপ্ন শেষ। বিয়ের প্রলোভনে পড়ে যাকে সর্বস্ব দিয়ে দিলো সে ছেলেটি করলো প্রতারণা। কেউ কেউ এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে ধর্ষণের মামলাও করেন। দিন দিন এমন ঘটনা বাড়ছে। আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারণার মামলা হয়। ধর্ষণের মামলা হয় না। গত ৪ঠা মার্চ সাভারের ধামরাইয়ে ইমরান নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে পার্শ্ববর্তী বাসার একটি মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। মেয়েটি ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বাও ছিল। এ নিয়ে মেয়েটির বাবা থানায় মামলাও করেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল সে সময়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ফেনীর সোনাগাজীতে আল আরাফাহ্ মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। জানা যায়, উপজেলার মমতাজ মিয়ার বাজারে আল-আরাফাহ্ মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট শাখায় কর্মকর্তা হিসাবে ২০১৬ সালের ২১শে জুন নবাবপুর ইউনিয়নের মজুপুর গ্রামের এক নারী (১৯) যোগদান করেন। তার যোগদানের দেড় মাস পর ছাগলনাইয়া উপজেলার পৌর এলাকার মটুয়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে ওমর ফারুক মানিক (২৮) ওই শাখায় শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি শুরু করেন। চাকরির সুবাদে মানিক ওই নারীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে দুজনের মন দেয়া- নেয়াও হয়। সম্পর্কের এক পর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে মানিক ওই নারীকে ব্যাংকের কার্যালয়ে এবং ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হয়। পরে ওই নারী মানিককে বিয়ের জন্য চাপ দিলে মানিক বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী ওই নারী সোনাগাজী থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন। চলতি মাসেই খুলনার দৌলতপুরে এক কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে রানা হাওলাদার (২৪) নামে এক যুবক। একপর্যায়ে দুজনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় রানা মেয়েটির নগ্ন ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। ঘটনার বিস্তারিত জানতে গিয়ে জানা যায়, দৌলতপুর এলাকায় কলেজ পড়ুয়া (১৭) মেয়ে মোবাইল ফোনে গান ও গেমস আপলোড করতে গিয়ে রানার সঙ্গে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে রানার সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সুযোগে রানা মেয়েটিকে বিয়ের লোভ দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। রানা মেয়েটির অশ্লীল ছবি গোপনে মোবাইল ফোনে ধারণ করে। মেয়েটি বিয়ের কথা বললে রানা অশ্লীল ছবি দেখিয়ে মেয়েটিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিয়ে না করার টালবাহানা শুরু করে। এতে মেয়েটি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরিবারের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরবর্তীতে এলাকাবাসী কয়েকবার সালিশ বৈঠক করে। কিন্তু রানা কিছুতেই মেয়েটিকে বিয়ে করবে না। পরে থানায় মামলা করে দেয় মেয়েটির বাবা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মাহমুদ আলীর সঙ্গে ওই কলেজছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে মাহমুদ আলী বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায়। এই অবস্থায় কলেজছাত্রী গর্ভবতী হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর বিয়ের দাবিতে গত ২৭শে ফেব্রুয়ারি রাতে ওই ছাত্রী মাহমুদের বাড়িতে গিয়ে উঠলে ওই বাড়ির লোকজন ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ধর্ষণের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। এ ধরনের ঘটনা সমাজে হরহামেশায় ঘটছে বলে উদ্বিগ্ন সবাই। ঘটনার সঙ্গে মামলা হচ্ছে। অনেকে সেসব মামলায় শাস্তিও ভোগ করছেন। তবে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হলেও সেটি ধর্ষণ নয় বলে জানিয়েছেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আইনজীবী পারভীন আক্তার খানম। তিনি জানান, এ ধরনের অভিযোগগুলোকে সাধারণত প্রতারণার মামলার আওতায় আনা হয়। ৪২০ ধারায় এর শাস্তিও বলবৎ রয়েছে। পারভীন আক্তার খানম বলেন, বিয়ের প্রলোভনে কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাতে যদি ছেলেটি অস্বীকৃতি জানায় সেক্ষেত্রে সেটি প্রতারণার মামলার আওতায় আনা হয়। আমরা মামলাগুলো নিয়ে সেভাবেই কাজ করি। এ ধরনের অপরাধে ৪২০ ধারায় দুই থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এ বিষয়ে মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার চেয়ারম্যান সিগমা হুদা বলেন, আমাদের সমাজে এ ধরনের সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর জন্য অনেকটা চলমান সমাজ ব্যবস্থাও দায়ী। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে আমাদের বিশেষ করে পরিবারের অভিভাবকদের বেশি সতর্ক হতে হবে। না হলে ছেলেমেয়েদের মধ্যে চলমান এ সমস্যা দিন দিন আরো বাড়তেই থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, মূলত তিনটি কারণে এ ধরনের ঘটনা আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটছে। প্রথমত অবাধভাবে, স্বাধীনভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সাইট বন্ধ করে দেয়া আছে। কিন্তু আমাদের দেশে এর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। দ্বিতীয়ত বিচারহীনতা সংস্কৃতি। আমাদের দেশে এ ধরনের অপরাধে সুষ্ঠু বিচার হয় না। হলেও সেটা কম। তাই অনেকেই মনে করে এ কাজ করে সে কোনো না কোনোভাবে পার পেয়ে যাবে। আর শেষ যেটা বলবো আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। একটা সময় আমাদের পরিবারের অভিভাবকগণ যেভাবে সন্তানদের ভালো-মন্দে ভূমিকা রাখতেন কিংবা যে পারিবারিক বন্ধন ছিল সেটা কমে গেছে। এমনকি শিক্ষকরাও এক ধরনের ভূমিকা পালন করতেন। কিন্তু সেই সংস্কৃতি এখন নেই বললেই চলে। পারস্পরিক বন্ধনের অভাবে এ ধরনের ঘটনাগুলো অহরহ ঘটছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিচ্ছে বর্তমান সরকার
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিচ্ছে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের কবি জসীমউদ্দীন হলে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছে। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়ার সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, মুক্তিযোদ্ধা গুলজার আহমদ খান, মু. আবুল ফয়েজ শাহনেওয়াজ, সৈয়দ কবিরুল আলম মাও প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা মানেনা যারা তারা দেশবিরোধী:ইনু
তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন,যারা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা, গণহত্যা দিবস, ৩০ লাখ শহীদ, সংবিধানের চার নীতি মানে না, তারা দেশবিরোধী ও পাকিস্তানের প্রেতাত্মা। এরাই ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশকে পাকিস্তানপন্থার দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইসতাক হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান তথ্য অফিসার কামরুন নাহার ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জাকির হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় বক্তৃতা করেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি শাসকরা কোনোদিনও বাঙালিদের মেনে নিতে পারেনি। তারা বাঙালির আত্মপরিচয় মুছে ফেলতে চেষ্টা করেছে, ভাষার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছে, স্বাধিকারের দাবির জবাব দিয়েছে বর্বরতম গণহত্যা আর অকথ্য নির্যাতনে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে আজকের জঙ্গি ও তাদের সঙ্গী-পৃষ্ঠপোষকরা হচ্ছে সেই পাকিস্তানি শাসকদের প্রক্সি দালাল। জাসদ সভাপতি বলেন, পাকিস্তানের ভেতরে যেমন বাংলাদেশ যায় না, বাংলাদেশের ভেতরও তেমনি পাকিস্তানপন্থী ও রাজাকার-জঙ্গি থাকতে পারে না। দেশকে দেশের পথে রাখতে গণতন্ত্র-নির্বাচনের উছিলায় জঙ্গি-রাজাকার এবং জঙ্গিসঙ্গী রাজাকার পৃষ্ঠপোষকদের রাজনীতিতে হালাল করার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া চালু থাকবে। জঙ্গিদের ধ্বংস এবং জঙ্গিসঙ্গী পাকিস্তানপন্থীদের ক্ষমতা ও রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে।
ইউএস বাংলা বিধ্বস্তের ঘটনায় চলে গেলেন শাহীন ব্যাপারীও
কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত শাহীন ব্যাপারীও (৪২) চলে গেলেন না ফেরার দেশে। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিদের মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ জনে। সোমবার শাহীন ব্যাপারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিকেল পাঁচটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক আবুল কালাম । গত কয়েক দিন ধরে তিনি ঢাকা মেডিকেলের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ১৮ মার্চ শাহীন ব্যাপারীকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে করে দেশে আনা হয়। তাঁর গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানায়। আট বছর বয়সী এক কন্যা সন্তানের এই জনক স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন নারায়ণগঞ্জে। তিনি সদরঘাটে একটি কাপড়ের দোকানে ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত ছিলেন। উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় মাথার কিছু অংশ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শাহীনের ডান পা ভেঙে গিয়েছিল। এ ছাড়া তাঁর শরীরে পেছন দিকেও আঘাত লাগে। দুর্ঘটনার পরপর শাহীনকে নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্যরা কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ১২ মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার ড্যাশ ৮ কিউ ৪০০ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এতে ৪ ক্রুসহ উড়োজাহাজটির ৭১ জনের সবাই হতাহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৬ বাংলাদেশি , ২২ নেপালি, ১ জন চীনা নাগরিকসহ ৪৯ জন নিহত হন। আর ১০ বাংলাদেশি, ৯ নেপালি, ১ মালদ্বীপের নাগরিকসহ ২০ জন আহত হন। শাহীন ব্যাপারীর এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশিদের নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। নেপালে নিহত বাকি ২৬ জনের সবাইকে দেশে এনে সমাহিত করা হয়েছে।
পাকিস্তানি শক্তি প্রক্সি খেলছে দেশে:তথ্যমন্ত্রী
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, বাংলাদেশ এখনো আশঙ্কামুক্ত হয়নি। কারণ দেশে পাকিস্তানি শক্তি প্রক্সি খেলায় মেতে উঠেছে। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোমবার (২৬ মার্চ) সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদনে এসে তিনি এ কথা করেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, রোববার (২৫ মার্চ) ছিলো গণহত্যা দিবস। দেশের সব সংগঠন গণহত্যা দিবসে কর্মসূচি দিলেও বিএনপি কোনো কর্মসূচি দেয়নি। এরা জাতির পিতা, গণহত্যা দিবস ও ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা মানে না। এর পাকিস্তানি আদর্শে চলে। ইনু আরো বলেন, আমরা এখনো জঙ্গিবাদ ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির জন্য নিরাপদ হতে পারেনি। জঙ্গিবাদ ও রাজাকার যেমন দেশের শত্রু, তার চেয়েও বড় শত্রু তারা, যারা কি-না এদের লালন করে। আমাদের সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি হলো সঠিক সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা এবং অপরটি হলো জঙ্গিবাদ ও রাজাকার লালনকারী দল বিএনপিকে ক্ষমতার বাইরে রাখা। সকাল ৬টা ১ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদীতে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এরপর ৬টা ২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তা উন্মুক্ত দেওয়া হয়।
লাখো মানুষের ঢল
যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন উপলক্ষে এবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধারা, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এবারই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের দিন সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় শিশু কিশোর সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে সারাদেশে ও বিদেশে একযোগে একই সময়ে শুদ্ধসুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারাই আগামীতে দেশ পরিচালনা করবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন,স্বাধীনতার লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের সব মানুষ উন্নত জীবন পাবে। ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তোমরাই ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনা করবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হবে। দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসবে। আমরা যেখানে রেখে যাবো তোমরা সেখান থেকে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমরা তোমাদের জন্য বিনামূল্যে বই দিচ্ছি, বৃত্তি দিচ্ছি। সারাদেশে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছি। সেখানে কম্পিউটার ও আধুনিক প্রযুক্তির শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সন্তানের শিক্ষার জন্য এক কোটি ৩০ লাখ মায়ের মোবাইলে টাকা পাঠানো হচ্ছে। তোমরা ঠিকমতো লেখাপড়া করবে। দেশের ও মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে। শেখ হাসিনা বলেন,বাংলাদেশকে বিশ্ব সভায় মর্যাদার আসনে নিয়ে আসাই আমাদের লক্ষ্য ছিল। আমরা বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে এসেছি। কারও কাছে হাত পেতে নয়, মাথা নত করে নয়, আমরা বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবো। সবশেষে সমাবেশে উপস্থিত ছোট্ট সোনমনিদের দোয়া, আর্শীবাদ ও ভালোবাসা জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করে। এর আগে ৪৭তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশে লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হয় জাতীয় সংগীত।জাতীয় সংগীতের পর প্রধানমন্ত্রী সালাম গ্রহণ করেন শিশু-কিশোর সমাবেশের নেতার কাছ থেকে। পরে তিনি পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সমাবেশের উদ্বোধন করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর