খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে
অনলাইন ডেস্ক :বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে নেওয়া হয়েছে। নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচারের জন্য বেগম জিয়াকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। কারাগার ভবনে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে এ মামলার বিচার অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়াকে কালো রংয়ের একটি গাড়িতে করে কারাগারের নেওয়া হয়। এ সময় গাড়ির আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিল। এদিকে সকাল ১০টার পর থেকে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল সীমিত করা হয়। হাসপাতালের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একইভাবে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারের আশপাশেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেখানেও বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া কারাগারের আশপাশের সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার সংলাপে গণভবনে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপে যোগ দিতে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জোট ঐক্যফ্রন্টের নেতারা একে একে গণভবনে ঢুকতে শুরু করেছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ড. কামাল হোসেন গণভবনে প্রবেশ করেন। এছাড়া ঐক্যফ্রন্টের বেশ কয়েকজন নেতাও গণভবনে প্রবেশ করেন। সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় দফা সংলাপ শুরু হবে। এর আগে সংলাপে অংশ নিতে সকাল পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের বাসা থেকে গণভবনের উদ্দেশে রওনা হন ড. কামাল। গণফোরামের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা লতিফুল বারী হামিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পরে সেখান থেকে সরাসরি গণভবনে যাবেন। গত ১ নভেম্বর গণভবনে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রথম সংলাপে বসে আওয়ামী লীগ। সেদিন দুই পক্ষে তিন ঘণ্টার মতো আলোচনা হলেও কোনো রকম সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয় সংলাপ। সংলাপে কিছু বিষয়ে নেতারা একমত হন বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন সংলাপ শেষে বেইলি রোডের বাসায় গিয়ে জানান, আলোচনা থেকে বিশেষ কোনো সমাধান পাননি তারা। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংলাপ শেষে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আলোচনায় তারা সন্তুষ্ট নন। প্রথম সংলাপের ফলাফলে খুশি না হয়ে সংলাপের জন্য আবারও প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন ড. কামাল হোসেন। আর প্রধানমন্ত্রী বুধবার বেলা ১১টায় সময় দেন। দ্বিতীয় দফার সংলাপে ঐক্যফ্রন্ট ১১ নেতার নাম চূড়ান্ত করে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। এরপর ড. কামাল অসুস্থ বলে খবর বেরোলে সংলাপে তার অংশ নেয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কিন্তু শেষমেশ তিনি সংলাপে অংশ নিতে সাড়ে ১০টার দিকে গণভবনে যান।
চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীর পদত্যাগ
অনলাইন ডেস্ক: সংসদ সদস্য নন, এমন মন্ত্রীদের পদত্যাগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন চারজনই। মঙ্গলবার সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সরকারপ্রধানের নির্দেশ জানানোর পর প্রথমে সন্ধ্যায় পদত্যাগ করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা নুরুল ইসলাম বিএসসি। এরপর দায়িত্ব ছাড়েন মোস্তাফা জাব্বার, ইয়াফেস ওসমান ও মতিউর রহমান চার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তারাই ঢাকাটাইমসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাপত্র পাঠিয়েছেন তারা। এর আগে সকালে গণভবনে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভায় সংসদের বাইরে থেকেও সদস্য নেয়া যায়। তবে এই সংখ্যাটি মোট মন্ত্রীদের ১০ ভাগের এক ভাগের বেশি হতে পারবে না। বর্তমান মন্ত্রিসভায় আইসিটি, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জাব্বার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি স্থান পেয়েছেন টেকনোক্র্যাট কোটায়। এই নির্দেশের পর মোস্তাফা জাব্বার বলেন,পদত্যাগে আমি প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী যখন বলবেন, তখনই তাকে পদত্যাগপত্র দেব। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইয়াফেস ওসমান মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ২০১৫ সালের ১৫ জুলাই। তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে। পদত্যাগ যদি করতেই হয় তাহলে অবশ্যই তফসিল ঘোষণার আগেই করতে হবে। বৃহস্পতিবার ঘোষণা হতে যাচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচনের তফসিল। টেকনোক্র্যাট আরেক মন্ত্রী ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মতিউর রহমান এখন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে তার প্রতিক্রিয়া যোগাড় করা যায়নি। চলতি বছর জানুয়ারিতে মন্ত্রিসভায় সর্বশেষ রদবদলের পর এতদিন ৩০ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুইজন উপমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা ছাড়াও মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বে আছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এ ছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে আছেন আরও পাঁচজন।
আ.লীগের পাশে থাকার অঙ্গীকার ইসলামী দলগুলোর
অনলাইন ডেস্ক :আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে চলমান সংলাপের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপ করেছে ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের নেতারা।আজ মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে গণভবনে ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু হয়ে বিকালে শেষ হয়। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংলাপ শেষে আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসবেন। এ ব্যাপারে ইসলামিক দলগুলোর নেতারা সার্বিক সহযোগিতায় পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। কাদের বলেন, আগামী ৯ নভেম্বর থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়ার কাজ শুরু হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমাগ্রহণ চলবে। গণভবনের এই সংলাপে ইসলামী ঐক্যজোটের ৯টি দলের ৫২ জন নেতা অংশ নেন। তাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের নেতারা। সংলাপের বিষয় তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, একটা বিষয়ে সকলে একমত হয়েছে, সেটা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ, স্বাধীনতার আদর্শের ব্যাপারে প্রত্যেকে অভিন্ন অভিমত উচ্চারণ করেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১০ বছর ধরে যেভাবে দেশ পরিচালিত করেছেন এতে প্রত্যেকেই তার ভূয়সী প্রশংসা করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসবেন এ ব্যাপারে তারা তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। সংলাপে বসা দলগুলো হচ্ছে, জাকের পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট (আইওজে), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ জালালী পার্টি, আশিক্কিনে আউলিয়া ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় ইসলামী জোট-বিএনআইএ, বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোট, ইসলামিক ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (আইডিএ)। এর আগে, গত ১ নভেম্বর গণভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল। পরদিন সংলাপ অনুষ্ঠিত হয় যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের। আগামীকাল ৭ নভেম্বরের মধ্যেই সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক :আগামী বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে আসছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই দিন বেলা সাড়ে ১২টায় গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি। মঙ্গলবার গণভবনে এক ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপ নিয়ে কথা বলবেন এবং সংলাপ পরবর্তী সিদ্ধান্তও জানাবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী সেখানে সংলাপ নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেবেন। গত ১ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সঙ্গে সংলাপ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিকল্পধারা বাংলাদেশ ও জাতীয় পার্টিও সংলাপে অংশ নেয়। ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে সংলাপ চলছে, বিকেলে বামপন্থী কয়েকটি দলের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। কাল বুধবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপ হওয়ার কথা।
দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বাস্তবায়ন করছে সরকার :প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক :দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবন-মান উন্নত করতে স্বল্প মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের চামেলী হলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাভারের চামড়া শিল্প নগরীসহ তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বেসরকারি খাত উন্মুক্ত করে দিয়েছে যার ফলে দেশের কর্মসংস্থান বেড়েছে। দেশকে আরো উন্নত করতে- দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে জাতির জনকের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু
অনলাইন ডেস্ক :দশম জাতীয় সংসদ অধিবেশনের সমাপ্তির মধ্য দিয়েই শুরু হলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা। সংবিধান অনুযায়ী ২৯ অক্টোবর থেকে ২৯ জানুয়ারির মধ্যে হতে হবে জাতীয় নির্বাচনের ভোট। রাজনৈতিক দলগুলোও এরইমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। বিএনপিসহ সরকারবিরোধী যে বৃহত্তর ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটটি সংলাপে বসতে যাচ্ছে শিগগিরই। প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশনও। শিগগিরই তফসিল ঘোষণারও আভাস পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে জমে উঠছে হচ্ছে রাজনীতির অঙ্গন। উন্নয়ন অব্যাহত, বড় প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করতে টানা তৃতীয় মেয়াদে আবারো সরকার গঠনের সুযোগ চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাপনী ভাষণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দশম জাতীয় সংসদ অধিবেশন। ফিরে দেখা দশম জাতীয় সংসদ অধিবেশন.... অধিবেশন-২৩টি কার্যদিবস-৪১০ বিল উথ্থাপন-১৯৮ বিল পাস-১৯৩ ওয়াকআউট-৪ বার। সংবিধান অনুযায়ী, পাঁচ বছর আগে ২০১৪ সালের ২৯ জানয়ারি দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে। পাঁচ বছরে মোট ২৩টি অধিবেশনে কার্যদিবস ছিল ৪১০দিন। ১৯৮টি বিল উত্থাপন করা হলেও পাস হয় ১৯৩টি। ওই সময়ের মধ্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে বিরোধীদল জাতীয় পার্টি ওয়াকআউট করেছে চার বার। তবে সব মিলিয়ে পাঁচ বছরে জাতীয় সংসদ ছিল অনেকটাই নিরুত্তাপ। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের তিন এর (ক) ধারা অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে পরবর্তী নব্বই দিন অর্থাৎ ২৯ অক্টোবর থেকে ২৯ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে। এই তিন মাস সংসদ বহাল থাকলেও কার্যকারিতা থাকছে না। এদিকে, নির্বাচন কমিশনও অচিরেই তফসিল দ্রুত ঘোষণার আভাস দিয়েছে। তবে তা আরো পরিস্কার হবে ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সাক্ষাতের পর। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সাক্ষাতের ৪/৫ দিনের মধ্যেই নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হয়ে থাকে। কমিশনের হিসাব এবার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন নাগরিক ভোটাধিকার পাচ্ছেন। আর ভোটেও যুক্ত হচ্ছে প্রযুক্তির ব্যবহার। এই চিত্রই বলে দিচ্ছে শুরু হয়ে গেল ভোটের দিনগণনা। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ততই নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট অন্যদিকে বিশ দলীয় জোট বিএনপির যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নিয়ে চলছে নতুন আলোচনা-সমালোচনা। এই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই আসছে বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসতে যাচ্ছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। যদিও একাই নির্বাচনের ইঙ্গিত দিয়েছে জাতীয় পার্টি।
তফসিল পেছানোর সুযোগ নেই :সিইসি
অনলাইন ডেস্ক :তফসিল পেছানোর সুযোগ নেই তবে সব রাজনৈতিক দল একমত হলে সেক্ষেত্রে সংবিধানের মধ্যে থেকে নির্বাচনের তারিখ পেছানো যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ইলেক্টোরাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি । তিনি বলেন, এ খন পর্যন্ত তফসিল পেছানোর সুযোগ নেই তবে বুধবারের পর বিষয়টি আমরা আমলে নেব। কে এম নূরুল হুদা বলেন, সব রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে এবং সংবিধানের আলোকে নির্বাচন করতে হবে। তবে তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রে ৭ নভেম্বরের সংলাপের ফলাফলও প্রভাব ফেলতে পারে। সেক্ষেত্রে জানুয়ারি মাসে বিভিন্ন প্রোগ্রাম রয়েছে। ‘বিশ্ব ইজতেমা রয়েছে জানুয়ারি মাসে– ১৫ থেকে ২৬ তারিখ দুই দফায় ইজতেমা হবে। তখন সেখানে সারা দেশ থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনকে নিয়োগ করতে হয়। তাই এর মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।’ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সিইসি উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, ভোটারদের ভোটের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার জন্য ইভিএমের বিকল্প নেই। ব্যালটে পেপারে নানা অসুবিধা রয়েছে। সেগুলো এড়িয়ে চলার জন্য ইভিএম চালু করা হবে। ইভিএমে ভোট কারচুপি করার সুযোগ নেই ৷ সিইসি বলেন, ইভিএম নিয়ে আগে আইনি জটিলতা ছিল সেগুলো এখন কাটিয়ে উঠেছি। রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেছেন। আর নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরীকে প্রধান করে ইভিএম কমিটি করা হয়েছে। কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিকভাবে শহর অঞ্চলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। ইটিআই মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুকের সভাপতিত্বে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ফরহাদ হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গত ৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনার শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগামী ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে ৫ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে, তফসিল স্থগিত রাখার কিংবা সংলাপের ফলাফল জেনে তফসিল ঘোষণা করার। আগামীকাল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আবার সংলাপে বসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তফসিল দিয়ে ৪৫ দিনের কাছাকাছি অর্থাৎ ২০ ডিসেম্বর কাছাকাছি দিনে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংবিধান অনুয়ায়ী, আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনের ভোটগ্রহণে বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইসির।

জাতীয় পাতার আরো খবর