আমাদের প্রবাসী বাঙালি যেন কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হন :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
কূটনীতিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের প্রবাসী বাঙালি যাঁরা আছেন, যেন কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হন। তাঁদের দিকে মানবিক দৃষ্টি দিয়ে আচার-আচরণ করবেন। তাঁদের একটা আস্থার জায়গায় এনে দেবেন। আজ রোববার প্রথমবারের মতো আয়োজিত দূত সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর একটি হোটেলে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রবাসীদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, অর্থনীতিতে তাঁরা বিরাট অবদান রাখছেন। আমরা এতগুলো কূটনীতিক মিশন চালাচ্ছি, এর সিংহভাগ উপার্জন কিন্তু তাঁরা করছেন। বিদেশের বিভিন্ন দূতাবাস ও মিশনে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে দূত সম্মেলন। যেখানে অংশ নিয়েছেন ৫৮টি দেশে কর্মরত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে বিদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাধীনতাবিরোধী ও কয়েকটি এজেন্সির লোকজন বিদেশে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে উল্লেখ করে তা মোকাবিলায় তৎপর হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়া প্রবাসীদের ভালো-মন্দ খেয়াল রাখতেও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গ। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বৃহস্পতিবার মিয়ানমারে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিকে সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু প্রতিবেশী দেশ, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে একটা ভালো সদ্ভাব রেখে আমরা কিন্তু সমস্যাটা সমাধান করতে চাই। এ ব্যাপারে সমাধান করে মিয়ানমারের লোকদের যেন মিয়ানমারে পাঠাতে পারি, সে ব্যাপারেও আপনারা আরো সক্রিয় থাকতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। এ সময় বর্তমান সরকারের নেওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন আর কেউই বাংলাদেশকে করুণার চোখে দেখে না, বরং সমীহ করে। তবে অনেকেই বিদেশে বসে পরিকল্পিতভাবে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যা মোকাবিলায় বিদেশি মিশনগুলোকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা তো ক্ষমতায় ছিল ২১ বছর। অর্থ, সম্পদ অঢেল তাদের। তারা আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার বিভিন্ন দেশে চালাচ্ছে। সেই সাথে কিছু কিছু সংস্থাও আছে। পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচারগুলো চালানো হচ্ছে, সেদিকেও আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। শেখ হাসিনা আরো বলেন, যেটা বাস্তব যেটা সত্য, সেটা যেন সে দেশগুলোতে তুলে ধরা যায়, সেদিকে আপনারা দৃষ্টি দেবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ যদি আবার ভোট দেয় আসব। আর যদি না দেয়, আসব না। কিন্তু এ উন্নয়নের ধারাটা যেন অব্যাহত থাকে। প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। আর অন্য দেশের সন্ত্রাসীদেরও কোনোভাবেই বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
আওলাদে রাসুল আল্লামা তাহের শাহ চট্টগ্রামে
আনজুমান–এ–রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’র ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম ও ঢাকায় আসন্ন পবিত্র জশ্নে জুলুসে ঈদ- এ- মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জুলুস ও মাহফিলে নেতৃত্বদানের লক্ষে আওলাদে রাসুল, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরিকত আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী, শাহাজাদা হযরতুলহাজ আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী ও শাহাজাদা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ হামেদ শাহ্ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী দোহা থেকে বাংলাদেশ বিমানযোগে গতকাল শনিবার বন্দরনগরী চট্রগ্রামস্থ হযরত শাহ আমানত (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুভাগমন করেন এবং সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে আসেন আনজুমান ট্রাস্ট’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ মোহাম্মদ মহসিন। হুজুর কেবলায়ে আলম ও শাহাজাদাদ্বয়কে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন আনজুমান ট্রাস্ট’র সেক্রেটারি জেনারেল আলহাজ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি আলহাজ মোহাম্মদ সিরাজুল হক, এসিসটেন্ট জেনারেল সেক্রেটারি আলহাজ এসএম গিয়াস উদ্দিন শাকের, গাউসিযা কমিটি বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান আলহাজ পেয়ার মোহাম্মদ, পিএইচপি ফ্যামেলির চেয়ারম্যান আলহাজ সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, কেন্দ্রীয় পর্ষদ, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, সদস্যবৃন্দ।
পোপের বাংলাদেশ সফরে ডিএমপির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
খ্রিষ্ট ধর্মের রোমান ক্যাথলিক শাখার প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশ সফরে আসছেন। আগামী ৩০ নভেম্বর তিনদিনের সফরে তাঁর বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। পোপের আগমন উপলক্ষে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম-বার,পিপিএম। আগামী ৩০ নভেম্বর ঢাকায় আসবেন পোপ ফ্রান্সিস। আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফিরে যাবেন ২ ডিসেম্বর। ডিএমপি সদর দপ্তরে আজ রবিবার ২৬ নভেম্বর তাঁর আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তা, আইন শৃংখলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্তে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কমিশনার বলেন, জাতীয় স্বার্থে তাঁকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া হবে। পোপ ফ্রান্সিস বিশ্বের অন্যতম একজন সম্মানীয় ব্যক্তি। তাঁর বাংলাদেশ সফর আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের। সফরের সকল ভেন্যু, হোটেল ও বিমানবন্দরকেন্দ্রীক থাকবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গমনাগমনকালে পোশাকে এবং সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। স্ট্যান্ডবাই হিসেবে প্রস্তুত থাকবে সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। তিনি আরও বলেন, ধর্মগুরু পোপের আগমন সফল করতে আগত বিদেশী অতিথিদের জন্য নির্ধারিত হোটেল, সম্মেলনস্থলসহ প্রত্যেকটি ভেন্যু সুইপিংসহ সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আর্চওয়ে স্থাপন এবং পুরুষের পাশাপাশি মহিলা স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হবে। আবাসনস্থল ও যাতায়াত রাস্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রুফটপ ডিউটি, মোবাইল ডিউটি মোতায়েন থাকবে। সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি ও সরকারী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণসহ বাংলাদেশে পোপের সফর উপলক্ষে গঠিত নিরাপত্তা ও স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক নির্মল রোজারিও এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত
আজ ২৬ নভেম্বর-২০১৭ সকাল ১০.০০ টায় দামপাড়াস্থ পুলিশ লাইনস্ ড্রিল শেডে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ ইকবাল বাহার বিপিএম, পিপিএম মহোদয়ের সভাপতিত্বে কল্যান সভা নভেম্বর-২০১৭ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের মাঝে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়াও বেলা ১২.৩০ ঘটিকায় সিএমপি’র সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অক্টোবর/২০১৭ মাসের মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ কমিশনার মহোদয় তার বক্তব্যে গত অক্টোবর/২০১৭ মাসে নগরীর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় সিএমপি’র পুলিশ সদস্য সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সকল ইউনিটকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার জন্য সকল থানা, ডিবি সহ অন্যান্য সংস্থাকে যৌথভাবে কাজ করার পরামর্শ প্রদান করেন। উক্ত সভায় অক্টোবর/২০১৭ মাসে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামী গ্রেফতার ও ভাল কাজের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন স্তরের ৯৫ (পঁচানব্বই) জন পুলিশ সদস্য ও সিভিল স্টাফ’দেরকে নগদ অর্থ ও সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়। অক্টোবর/২০১৭ মাসে শ্রেষ্ঠ বিভাগ, শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার, শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি), শ্রেষ্ঠ থানা, শ্রেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক এর সম্মাননা সনদ প্রাপ্ত হয়েছেন যথাক্রমে উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) জনাব জনাব হারুন-উর-রশিদ হাযারী, সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন) জনাব মোঃ কামরুল হাসান, সিনিঃ সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি-পশ্চিম) জনাব মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক জনাব প্রনব চৌধুরী, অফিসার ইনচার্জ, বাকলিয়া থানা, এসআই/মোঃ মনিরুল ইসলাম, পতেঙ্গা থানা। সভায় পুলিশ কমিশনার মহোদয় অপরাধ দমন ও যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্য সহ সম্মানিত নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
মনিটরিং বৃদ্ধি করায় বিআরটিএর সেবা গ্রহিতাদের হয়রানি কমেছে
মনিটরিং বৃদ্ধি করায় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিতে (বিআরটিএ) সেবা গ্রহিতাদের হয়রানি কমেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ সকালে আকস্মিক মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয় পরিদর্শনে গেলে সেবা গ্রহিতারা তাকে জানান, পরিবহন সেবায় ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োগে মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে আগের তুলনায় দালালদের দৌরাত্ম্য কমেছে এবং সেবার মানও বেড়েছে। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সেবা গ্রহিতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিআরটিএ’র বিভিন্ন শাখা ঘুরে দেখেন। এসময় তিনি সেবার মান বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিবিড় তদারকি বৃদ্ধি, সার্বক্ষণিক ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরায় সেবা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং হেল্প-ডেস্কের সেবা আরও বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। বাসস
শাহজালালে ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের সিগারেট আটক
হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ হাজার ১৭৮ কার্টন আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি সিগারেট আটক করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের এয়ারফ্রেইট ইউনিট। ঢাকা কাস্টমস হাউসের উপ-কমিশনার সুমন চাকমা আজ বাসসকে জানান আটক করা ব্ল্যাক ব্র্যান্ডের সিগারেটগুলোর বাজার মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। তিনি জানান, শনিবার দুপুরে দুবাই থেকে উইন্টার ফ্যাশন নামে ব্যক্তিগত পণ্যদ্রব্য নামে চালানটি ঘোষণা করা হয়। ইনভেনট্রি করার সময় চালান খুলে তার ভেতরে লুকায়িত অবস্থায় ১ হাজার ১৭৮ কার্টন বিদেশি সিগারেটের সন্ধ্যান পায় কাস্টমস কর্মকর্তরা। পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদেশী সিগারেটের চালানটি আটক করা হয়। এঘটনায় এখনও কাউকে আটক করা যায়নি।বাসস
দুই দিনের সফরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কক্সবাজারে
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দুই দিনের সফরে আজ কক্সবাজার যাচ্ছেন। সেখানে তিনি উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন বাসসকে বলেন, আবদুল হামিদ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবেন, যারা মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক চরমভাবে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি কক্সবাজার সফরের সময় রোহিঙ্গা জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন এবং তাদের পালিয়ে আসার কাহিনি শুনবেন। রাষ্ট্রপতি এমনই একসময় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাচ্ছেন, যখন বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, গত ২৫ আগস্টের পর থেকে ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এসব বাস্তুচ্যুত মানুষ আঘাতপ্রাপ্ত, ক্ষুধার্ত এবং কেউ কেউ বন্দুকের গুলি, চাকু, আগুন ও স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত হয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। সূত্র জানায়, এর আগে বিভিন্ন সময় ৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেন, রাষ্ট্রপতি আগামীকাল সোমবার কক্সবাজারের ইনানী বিচ-সংলগ্ন হোটেল রয়েল টিউলিপে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নৌবাহিনী সিম্পোজিয়াম (আইওএনএস)-এর আন্তর্জাতিক সমুদ্র মহড়ার (আইএমএমএসএআরএফইএক্স-২০১৭) উদ্বোধন করবেন। তিনি জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, ৯টি পর্যবেক্ষক দেশসহ প্রায় ৩২টি দেশের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, নৌপ্রধান, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মেরিটাইম বিশেষজ্ঞগণ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। রাষ্ট্রপতি আগামী মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় ফিরবেন।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের উদ্যোগ সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে:প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্তর্জাতিক মহলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যে জনমত সৃষ্টি হয়েছে তা আওয়ামী লীগ সরকারের জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী আজ সংসদে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে আরো বলেন, মিয়ানমারের নাগরিকদের স্বদেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিকভাবে সকলের প্রত্যাশা। তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা বা আরাকানের মুসলমানদের ওপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞসহ পৃথিবীর সকল জঘন্যতম হত্যাকান্ডকে হার মানিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারে পরিচালিত হত্যাযজ্ঞের প্রেক্ষিতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত লাখো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় প্রদানের ফলে বাংলাদেশের উদ্যোগ সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশ সকল সময় যে কোনো সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী। ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেছিলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ এবং ‘সকল বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান হইবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়া ছিল সরকারের একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এ কারণে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব নের্তৃবৃন্দের কণ্ঠে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে উচ্চাতি হচ্ছে। সরকার এদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতসহ এ সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। শেখ হাসিনা বলেন, চার দশক ধরে মিয়ানমারের সাথে অনিষ্পন্ন থাকা সমুদ্রসীমা নির্ধারণ সরকার আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ২০১২ সালে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করেছে। মিয়ানমারের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখে বিদ্যমান সমস্যার ক্ষেত্রেও সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, চলতি বছর ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও মানবতা বিরোধী অপরাধ শুরু করার পর থেকেই বাংলাদেশ সোচ্চার হয়েছে। অতিদ্রুত বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অত্যাচার-নির্যাতনের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে সহায়তা করা হয়েছে। অসহনীয় নির্যাতন এবং মানবতা বিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠন ও মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য কূটনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজ দেশে নাগরিক হিসেবে বসবাসের অধিকার এবং নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের জোর প্রচেষ্টা চালানোর ফলে রোহিঙ্গাদের অধিকারের পক্ষে আজ বিশ্ব জনমত গঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সকল রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং এ সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক পর্বের বক্তৃতায় আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সুনির্দিষ্ট পাঁচ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেছি। পাঁচ দফার মধ্যে অন্যতম ছিল জোরপূর্বক বিতাড়িত সকল রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত প্রত্যাবর্তন। আমার এই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্ক পর্ব ছাড়াও অন্যান্য সকল বহুপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আমি রোহিঙ্গা সমস্যার ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করি। শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দূর করতে মুসলিম বিশ্বের আরও জোরালো ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে আমি ওআইসি ‘কনটাক্ট গ্রুপ’এর বৈঠকে ও সকল মুসলিম নের্তৃবৃন্দকে আহ্বান জানিয়েছি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের মাধ্যমে তারা এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করার উদ্দেশ্যে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অফিসের মন্ত্রী সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেন। মিয়ানমারের মন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যকার বৈঠকে প্রত্যাবাসন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সূত্রপাত হয়। প্রত্যাবাসনের জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ একটি খসড়া হস্তান্তর করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার সফর করে এসেছেন। সেখানে তিনি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি এবং মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে পৃথকভাবে বৈঠকে মিলিত হন। দু’পক্ষেই প্রত্যাবাসন চুক্তি দ্রুত সম্পাদন এবং চলতি বছর নভেম্বরের মধ্যে ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনে সম্মত হয়েছে। এ বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের দপ্তরের ৩টি প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গাদের পরিদর্শন করে এ যাবত দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, এগুলো হলো ২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ‘ফ্লাশ রিপোর্ট’ এবং ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবরে প্রকাশিত ‘অফিস অব দ্যা হাইকমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস’ (ওএইচসিএইচআর)-এর র‌্যাপিড রেসপনস মিশনস রিপোর্ট। মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের দপ্তরের রিপোর্টে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতনের তথ্য উঠে এসেছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল গঠিত অনুসন্ধানী দল ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন’ ইতোমধ্যে কক্সবাজার সফর করে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছে। তাঁরা মিয়ানমারে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করে। এছাড়া কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়টি আজ সকলের দাবি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকেও সকল রাষ্ট্রও কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পক্ষে মত প্রদান করছে এবং সুপারিশ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণে মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের বাসস্থানের জন্য জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠনসমূহে ‘ইউএনএইচসিআরআই এবং আইওএম-এর সহায়তায় প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার পরিবারের অস্থায়ী শেল্টার নির্মাণের কাজ চলছে। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ্আশ্রয় কেন্দ্রের এলাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া, ছয় লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নির্মাণের লক্ষ্যে উখিয়াতে সম্প্রতি ৩ হাজার ৫শ’ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। আমরা ‘ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি)’ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় খাদ্যের ব্যবস্থা করেছি। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষও সচেষ্ট রয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালের পর ২০১৭ সালে ২ সেপ্টেম্বরে এবার প্রথম জাতিসংঘ মহাসচিব নিরাপত্তা পরিষদের নিকট পত্র প্রেরণ করেন। গত এক দশকে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা প্রশ্নে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরে একটি বিবৃতি প্রদান করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিলের পক্ষ থেকে মিয়ানমার বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া গত ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবরে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত ইন্টারপার্লামেন্টারী ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর ১৩৭তম সভায় জরুরি বিষয় হিসেবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। শেখ হাসিনা বলেন, সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৬৩তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারী কনফারেন্স (সিপিসি) সর্বসম্মতভাবে গৃহীত এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানবিক সংকট সমাধানে আন্তজৃাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।বাসস
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন সারা বিশ্বের বিস্ময় :ওবায়দুল কাদের
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতার নেত্রী উল্লেখ করে তাকে এখন সারা বিশ্বের বিস্ময় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার শক্তিপুর নূরজাহান ভবন চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মযহারুল ইসলামের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতার নেত্রী উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‌‘মহান আল্লাহপাক বঙ্গবন্ধুকে সৃষ্টি করেছেন বাংলার স্বাধীনতার জন্য আর শেখ হাসিনাকে সৃষ্টি করেছেন মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য। শেখ হাসিনা এখন সারা বিশ্বের বিস্ময়।’ বিএনপির আন্দোলন আর কোনোদিন সফল হবে না বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আলোর পথে রয়েছে। আর বিএনপি মানে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি ও লুটপাট, বিএনপি মানে অগ্নিসন্ত্রাস। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ আবারও অন্ধকারে পতিত হবে। বাংলার মানুষ আর বিএনপির অন্ধকারে ফিরে যাবে না।’ নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘দলে অনুপ্রবেশকারী আগাছাদের ঠাঁই দেবেন না। দল ক্ষমতায় না থাকলে পাঁচ হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ অধ্যাপক ড. মযহারুল ইসলাম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আবদুল খালেক। স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, মেরিনা ইসলাম কবিতা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু, সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম, সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলাম, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুইট, জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিনসহ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর