বিএনপি নেতাদের দাবির কোন বাস্তবতা নেই
অনলাইন ডেস্ক :জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরে নানা ধরনের ঘটনা বা দুঘর্টনা ঘটে। সেই ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে সরকারের ব্যর্থতা বলা হয় না। কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সরকার সেটা আমলে নিয়ে প্রতিকার করছে কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং বিএনপি নেতাদের দাবির কোন বাস্তবতা নেই। শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে জাসদ নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের “সরকারের পদত্যাগের দাবির” প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, দুর্ঘটনা চালক ঘটিয়েছে। এর সাথে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রথম দিনই চালকের বিরুদ্ধে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। এখানে সরকারের পদত্যাগ করার প্রশ্নই উঠে না। তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ছোটমনিদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও দূর্ণীতিবিরোধী আন্দোলনকে যারা সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপান্তারিত করার চেষ্টা করে তারা দেশের শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চাই। তারা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ঘোলা জলে মাছ শিকার করতে চায়। সুতরাং বিএনপিসহ যারা এ ব্যাপারে নাক গলানোর চেষ্টা করছেন তাদের বলবো সরকার ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়ে নিয়েছেন। তাই নাক গলিয়ে লাভ নেই। এ সময় কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলীসহ জাসদ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বেপরোয়া গাড়ি চলানোর দুর্ঘটনায় হত্যার বিচার একমাত্র মৃত্যুদন্ড :এরশাদ
অনলাইন ডেস্ক : সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, বেপরোয়া গাড়ি চলানোর দুর্ঘটনায় হত্যার বিচার একমাত্র মৃত্যুদন্ড। জাতীয় পার্টি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালে মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে আইন করেছিলাম। শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর মহাখালী দক্ষিণপাড়ায় বাসচাপায় নিহত দিয়ে খানম মীমের স্বজনদের সান্তনা দিতে গিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে এরশাদ এ মন্তব্য করেন। ছাত্রদের রাজপথে আন্দোলন প্রসঙ্গে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ছাত্রদের এই দাবী রাজনৈতিক নয়, তাদের এ চাওয়া বাঁচার দাবী। তিনি ছাত্রদের চলমান আন্দোলনে তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। শিশুদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের নিন্দা জানিয়েছেন এরশাদ। গণপরিবহণে নৈরাজ্য প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, এখন ১০ থেকে ১২ বছরের শিশুরাও গাড়ি চালায়। লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস যেনো দরকারই নেই। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল এক মন্ত্রী যেভাবে হেসে হেসে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তা লজ্জাজনক। শিশুদের এই আন্দোলনে পুলিশ ও শ্রমিক সংগঠনগুলো যেনো সহিংস আচরণ না করে সে জন্যও সবাইকে সহনশীল থাকতে বলেছেন এরশাদ। ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলন মেনে নিতে সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি। জাপার সবাপতি এরশাদের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন- পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, এস.এম. ফয়সল চিশতী, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, ফখরুল আহসান শাহজাদা ও আব্দুল হামিদ ভাসানী প্রমুখ।
দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ
অনলাইন ডেস্ক :নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এবার নিরাপত্তার অভাব দেখিয়ে রাজধানীসহ দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। এতে পুরো দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সরকারি ছুটির দিন আজ শুক্রবার শিক্ষার্থীদের সড়কে বিক্ষোভ করতে দেখা না গেলেও, দেখা গেছে পরিবহন শ্রমিকদের। রাজধানীতে চলাচলের বাহন হিসেবে অটোরিকশা ও রিকশায় এখন ভরসা যাত্রীদের। সেক্ষেত্রেও গুণতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে দূরপাল্লার পরিবহনের কাউন্টারগুলো বন্ধ রয়েছে। সেখান থেকে কোনো বাস ছাড়া হচ্ছে না; এমনকি কোনো বাস প্রবেশও করছে না। সেখানে কর্তা ব্যক্তিদের কাছে জানতে চাইলে তাদের সবার মোটামুটি একই বক্তব্য, সড়কে নিরাপত্তা নেই। বাস ভাঙচুর করা হচ্ছে। এই অবস্থায় নিরাপত্তার খাতিরে কোনো বাস ছাড়া হচ্ছে না। অন্যদিকে এসব বাসের মালিক ও শ্রমিকরা পরস্পরবিরোধী কথা বলছেন। মালিকরা বলছেন, ভাঙচুরের কারণে শ্রমিকরা বাস চালাতে চাইছেন না। শ্রমিকরা দাবি, মালিকরা বাস নামাতে নিষেধ করেছেন। গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গাড়ির লাইসেন্স চেক, গাড়ির লেন ঠিক করতে দেখা গেলেও শ্রমিকদের বক্তব্য তারা ভাঙচুর করছেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়ত উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীরা বাস ভাঙচুর করায় নিরাপত্তার কারণে বাসের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ভাঙচুর বন্ধ হলে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
মগবাজারে বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত, বাসে আগুন
অনলাইন ডেস্ক :রাজধানীর মগবাজারে বাসচাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ওই বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার (০৩ আগস্ট) জুমার নামাজের পর মগবাজারের ওয়ারলেস গেট সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোটরসাইকেল আরোহীর নাম সাইফুল ইসলাম রানা (২৩)। তিনি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার শেরেবাংলা বাজার গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে। রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিবুল্লাহ জানান, ‘এসপি গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার দিয়ে নেমে মালিবাগের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে আরোহী রানা ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হন। এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন চালককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। আহত রানাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে দুপুর ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান
অনলাইন ডেস্ক :শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে বিএনপি ও তার সাম্প্রদায়িক দোসররা সরকার হটানোর নিরাপদ পথ খুঁজছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এ অভিযোগ করেন কাদের। শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়ে তা কার্যকরেও সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ারও আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগ হচ্ছে, আজকে নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের মধ্যে বিএনপি এবং তার সাম্প্রদায়িক দোসররা সরকার হটানোর নিরাপদ সড়ক খুঁজছে।’ তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টাকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি করবেন না।’ শোকের মাসে দলীয় কার্যক্রম যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনে বিভিন্ন নির্দেশনা দিতেই দলের মহানগর ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে আয়োজন করা হয় এই যৌথ সভা। পরে সংবাদ সম্মেলনে বারবারই উঠে আসে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গ। তাদের সব দাবি মেনে নিয়ে সরকার তা কার্যকরেও পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে বলে জানান কাদের। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রীর নির্দেশে কোনো প্রভোকেশনে কেউ যেন ফাঁদে না পড়ে, সে ব্যাপারে আমাদের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছি। শুধু তারা লক্ষ রাখবে কারা কারা এই আন্দোলনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত করছে।’ এই আন্দোলনে বহিরাগতরা যে প্রবেশ করেছে, গেল কয়েক দিনে নোংরা স্লোগান ও অনেককে হেনস্তার মাধ্যমে তার প্রমাণ মিলেছে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে রাজনীতি প্রবেশ না করানোর অনুরোধ জানিয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দেন তিনি। দাবি আদায় হয়ে যাওয়া ও জনদুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদেরও ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ছাড়া আহত হয় বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হলো শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব। এ ঘটনার পর রাজধানীসহ সারা দেশে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। তারা নিরাপদ সড়কসহ নয় দফা দাবি তুলে করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব দাবি মেনে নিয়ে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। এরই মধ্যে কুর্মিটোলায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাসচাপায় সহপাঠীদের মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এর পর থেকে ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় বাস চলাচল একেবারেই কমে যায়। এমনকি আন্তজেলা বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরাতে বাড়ি বাড়ি যেতে আওয়ামী লীগকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
অনলাইন ডেস্ক :নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর রাজপথ অবরোধ করে রাখা শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তাদের ঘরে ফেরার বার্তা দেবে আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের এ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার পর দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের অঘোষিত এক বৈঠকে ওবায়দুল কাদের উপস্থিত থাকার সময় প্রধানমন্ত্রী মোবাইল ফোনে তাকে কল করে এ নির্দেশনা দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই ওবায়দুল কাদের লাউড স্পিকারে রেখে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দলের নেতাদের শোনান। বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা প্রতিবেদককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোবাইল ফোনে ১০ থেকে ১২ মিনিট কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মোবাইল ফোনে ওবায়দুল কাদেরকে বলেন, বিমানবন্দর সড়কে কুর্মিটোলা এলাকায় যে স্থানে দুই বাসের রেষারেষিতে দিয়া ও করিম প্রাণ হারিয়েছে, সেখানে একটি আন্ডারপাস করে দেওয়া হবে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলে ওই আন্ডারপাস নির্মাণের ব্যবস্থা করবেন তিনি। বৈঠক সূত্র জানায়, আগামীকাল শুক্রবার (৩ আগস্ট) পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করবে আওয়ামী লীগ। এরপরও যদি শিক্ষার্থীরা রাজপথ না ছেড়ে যায়, তাহলে সে বিষয়ে দলীয়ভাবে পদক্ষেপ নেবে দলটি। এর আগে, ওবায়দুল কাদের রাত ৯টার দিকে ধানমন্ডি ৩ নম্বর কার্যালয়ে আসেন। এ সময় তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন, ধানমন্ডি-জিগাতলা এলাকায় এখনও যেসব শিক্ষার্থী রাস্তায় রয়েছে, তাদের যেন বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরে যেতে বলেন। তার নির্দেশ পেয়ে নেতাকর্মীরা ধানমন্ডি-জিগাতলা এলাকার রাস্তাগুলোতে গিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখা শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন। এদিকে, আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগরের অন্তর্ভুক্ত সংসদীয় আসনের সব সংসদ সদস্য, মহানগরের সব থানার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং দলীয় কাউন্সিলরসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভা থেকে দলীয় নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হবে, তারা যেন নিজ নিজ মহল্লায় প্রতিটি বাসায় যান এবং অভিভাবকদের বুঝিয়ে বলেন যেন তাদের সন্তানেরা ক্লাসে ফিরে যায়। শুক্রবার বিকেলে ১৪ দলেরও এক বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকেও জোটের দলগুলোর নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে একই রকম নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা। এ ছাড়া, আগামীকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে ছাত্রলীগ-যুবলীগকে সতর্ক থাকার জন্যও বলা হয়েছে বলে জানায় বৈঠক সূত্র। এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য ইকবাল হোসেন অপু; ছাত্রলীগের নবঘোষিত ঢাবি শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন; ছাত্রলীগ মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি মো. ইব্রাহিম ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়; ছাত্রলীগ মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. জোবায়ের উপস্থিত ছিলেন।
দেশজুড়ে চলছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
অনলাইন ডেস্ক: ছাত্র-পুলিশ ভাই ভাই, নিরাপদ সড়ক চাই; আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে; উই ওয়ান্ট জাস্টিসসহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগানের মধ্যদিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে চলছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই বাসের রেষারেষিতে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে নিরাপদ সড়কসহ নয় দফা দাবিতে পঞ্চমদিনের মতো চলছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলেও তা উপেক্ষা করে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা, কখনো টিপটিপ, কখনো মুষলধারে বৃষ্টি কোনো বাধাই যেন বাধ সাধতে পারছে না ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অদম্য এই বাঁধভাঙা আন্দোলনের। বেআইনিভাবে উল্টোপথে গাড়ি চালানোর অভিযোগে গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের গাড়ি আটকে দিয়েছে এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাই। লাইসেন্স দেখাতে না পারার কারণে আটকে দিয়েছিল পুলিশের গাড়িও। আজ তাই পুলিশের গাড়ি চালকরাও ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছেন। এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করে মাঠে নেমেছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও উস্কানি ছাড়াই বন্ধুদ্বয়ের হত্যার প্রতিবাদে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। এবং তা করছে খুব সঠিক পদ্ধতি ও ন্যায়সঙ্গত উপায়েই। সাবাস, ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা; এগিয়ে যাও। সারাদেশের সকল পেশাজীবীর মানুষ আছে তোমাদের এই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের পক্ষে।
ঢাবির ছাত্রীদের একাত্মতা ঘোষণা ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে
অনলাইন ডেস্ক: উই ওয়ান্ট জাস্টিস ছাত্র-পুলিশ ভাই ভাই, নিরাপদ সড়ক চাই; আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরেসহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগানের মধ্যদিয়ে রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপদ সড়কসহ নয় দফা দাবিতে ফের শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) বেলা ১১টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবস্থান নিতে শুরু করে। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বৃষ্টির মধ্যেই তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বৃত্ত তৈরি করে। অন্যদিনের মতো তারা যান চলাচল বন্ধ করেনি। রিকশা ও বাসগুলোকে তারা এক লাইনে যাতায়াতের জন্য নির্দেশনা দিচ্ছে। বৃহস্পতিবারও তারা গাড়ির লাইসেন্স দেখছে। পুলিশের একটি গাড়ির চালকের লাইসেন্স না থাকায় তারা গাড়িটি আটকে দেয়। এসময় তারা কর্তব্যরত পুলিশ সার্জেন্টকে মামলা দিতে বলে। মামলা না দিলে তারা গাড়ি ছেড়ে দেবে না বলে মাইকে ঘোষণা দেয়। এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সম্মিলিত ছাত্রী ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।
নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ২০ লাখ করে অনুদান প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক: বেপরোয়া বাসের চাপায় রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে নিহত শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিমের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র অনুদানও দিয়েছেন সরকারপ্রধান। বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে দিয়া-করিমদের স্বজনদের ডেকে নিয়ে সমবেদনা জানানোর পর এ অনুদান দেন। আগে দিয়ার খালা নাজমা বেগম বলেন, বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি গাড়ি এসে দিয়ার মা রোকসানা বেগম, বাবা জাহাঙ্গীর আলম, বড় বোন রোকেয়া খানম রিয়া ও ছোট ভাই পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম আরাফাতকে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়ার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে চান, সেজন্য তাদের ডেকে নিয়েছেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর