তনুর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আবারও তনুর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। গোয়েন্দাদের তলবে তনুর বাবা-মাসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য আজ বুধবার সকালে সিআইডি কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এ নিয়ে কয়েক দফায় তনুর পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করল সিআইডি। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, এই হত্যার রহস্যের জট খুলতে কাজ করছে সিআইডি। ‘আমি আশা করি, তনু হত্যার মূল ঘটনা তারা উদঘাটন করবে। আজকে যে প্রশ্নটা আসছে, তনুর আত্মীয়স্বজনকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। এটা একটা তদন্তের অংশ। তদন্ত চলছে। কাজেই আমি মনে করি, তদন্তে সত্যিকারের ঘটনাটা উদঘাটিত হবে’, যোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গত সোমবার কুমিল্লা সিআইডি কার্যালয় থেকে তনুর পরিবারকে চিঠি দিয়ে- তনুর মা-বাবা, দুই ভাই ও চাচাতো বোনকে নিয়ে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে যেতে বলা হয়। গত বছরের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
উন্নয়ন ও দুর্নীতি যমজ ভাই : ইকবাল মাহমুদ
বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনো বড় দুর্নীতিবাজদের ধরতে পারেনি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। দুদকের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এমন কোন মামলা করি না যেটা আমরা প্রমাণ করতে পারবো না। আমরা বড় দুর্নীতিবাজদের এখনও ধরতে পারিনি। তবে আমরা তাদের দিকে (বড় দুর্নীতিবাজদের) হাত বাড়ালে সে হাত আর তুলে আনবো না।’ ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘উন্নয়ন ও দুর্নীতি যমজ ভাই।’ উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতি যেন না বাড়ে সে ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা চান তিনি। বড় দুর্নীতিবাজদের প্রতি ইঙ্গিত করে ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘‘ধরতে হবে মাথা’ তাহলেই দুর্নীতি কমে আসবে।’ তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সবার সজাগ থাকতে হবে। দুদক একা কাজ করলে হবে না। সমাজের সব সেক্টরকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জনগণকে দুর্নীতির কুফল বোঝাতে হবে।
ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না, ইতিহাস নিজেই তার অবস্থান করে নেয় :প্রধানমন্ত্রী
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সশস্ত্র বাহিনী, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীতে যারা কর্মরত ছিলেন তাদের এবং তাদের পরিবারকে ভাতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী জানুয়ারি মাস থেকে এই ভাতা চালু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা/তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিকালীন সেনা/নৌ/বিমান বাহিনী পদক এবং অসামান্য সেবা পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের নিকটাত্মীয়সহ ১০১ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীর হাতে সম্মানি চেক, শাল, মোবাইল ট্যাব উপহার হিসেবে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলেন, খোঁজখবর নেন। ২০১৬-২০১৭ সালের শান্তি, ২০১৬-২০১৭ সালে সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিকালীন সেনা/নৌ/বিমান বাহিনী পদক ও অসামান্য সেবা পদকপ্রাপ্ত মোট ২৬ জন সদস্যকে পদক পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীতে যারা কর্মরত ছিলেন, চাকরি করার কারণে তাদের তখন ভাতা দেয়া হয়নি। তাদের বেশি ভাগই, প্রায় সবাই এখন অবসরে। তাদের পরিবার আছে, অনেকে কষ্টে আছেন। বাহিনীতে কর্মরত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যারা বিভিন্ন বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ গ্রহণ করেছিলেন তাদের এবং তাদের পরিবারকে ভাতা দেব। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে তাদের ভাতা দেয়া হবে। ভাতা বৃদ্ধি, চাকরিতে কোটাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে নেয়া বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্যে দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা। যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, অবদান রেখেছেন আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে তাদের সম্মানিত করার চেষ্টা করছি। শেখ হাসিনা বলেন, যারা একটি দেশ, একটি জাতি গঠনের জন্য কাজ করেছেন তাদের অনুভূতি থাকে। আর যারা উড়ে এসে জুড়ে বসে তাদের কোনো দেশ-জাতির প্রতি কোনো দরদ থাকে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না, ইতিহাস ঠিক তার স্থান করে নেয়। এটা আরেকবার প্রমাণ হয় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর। সে সময় দেশে শুধু উন্নয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সময় পেয়েছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। তিনি আরও সময় পেলে বাংলাদেশ অনেক আগেই বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারতো। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ঘাতকরা ৭ মার্চের ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলোর চেষ্টা করেছিল। সেই ৭ মার্চের ভাষণ এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না, ইতিহাস নিজেই তার অবস্থান করে নেয়।
সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সর্বাত্মক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সর্বাত্মক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’ সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। দিবসটি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব এবং উন্নত নৈতিকতার আদর্শে স্ব স্ব দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার সার্বিক নির্দেশনায় ১৯৭৪ সালে প্রণীত হয় জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি। এই নীতির আলোকে বর্তমান সরকার ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে। এ ছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামো নির্মাণ, আর্তমানবতার সেবা, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা এবং দেশ গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছে বলে বাণীতে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালে ২১ নভেম্বর দেশপ্রেমিক জনতা, মুক্তিবাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও বিভিন্ন আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ করেন। সম্মিলিত আক্রমণের ফলে ১৬ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রা ও বিজয়ের স্মারক হিসেবে প্রতিবছর ২১ নভেম্বর ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস’ পালন করা হয়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সমগ্র বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাঁর দূরদর্শিতা, সাহস, ন্যায়ের প্রতি অবিচল আস্থা এবং ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য।’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন দেশমাতৃকার জন্য জীবন উৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের পাশাপাশি জাতির পিতা একটি আধুনিক ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। সেনাবাহিনীর জন্য তিনি মিলিটারি একাডেমি, কম্বাইন্ড আর্মড স্কুল ও প্রতিটি কোরের জন্য ট্রেনিং স্কুলসহ আরো অনেক সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং ইউনিট গঠন করেন। তিনি চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ঘাঁটি ঈশা খাঁ উদ্বোধন করেন। বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৎকালীন যুগোশ্লাভিয়া থেকে নৌবাহিনীর জন্য দুটি জাহাজ সংগ্রহ করেন। যেগুলো প্রায় ৪০ বছর পর আজও চালু আছে। একইভাবে বিমানবাহিনীর জন্য বঙ্গবন্ধু তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে সুপারসনিক মিগ-২১ জঙ্গি বিমানসহ হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান ও রাডার সংগ্রহ করেন।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে শিখা অনির্বাণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় রাষ্ট্রপতি ও সোয়া ৮টায় প্রধানমন্ত্রী এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় শহীদদের উদ্দেশে সশস্ত্র সালাম নিবেদন করেন তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শিখা অনির্বাণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর সেখানে নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ ও বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল আবু এসরার। এ ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনীর ঘাঁটির মসজিদগুলোতে ফজরের নামাজ শেষে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। তা ছাড়াও দিবসটি পালনে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সেনা গ্যারিসন, নৌ জাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতেও নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা (সদরঘাট), নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশালে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনীর জাহাজগুলো আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।