দ্বিতীয় মেয়াদের চার বছরের পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শুক্রবার তাঁর সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের চার বছরের পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেছেন, বর্তমান সরকার অতীতের সফলতা এবং ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমরা অতীতকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই না, তবে এটা ভুলে গেলেও আমাদের চলবে না। আমাদের অতীতের সাফল্য এবং ব্যর্থতার মূল্যায়ন এবং ভূল-ক্রুটিগুলো সংশোধন করেই এগিয়ে যেতে হবে। তিনি শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছি, কাজেই পেছনে ফিরে তাকানোর আর সুযোগ নেই এবং আশা করছি বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পথে সকল বাধা অপসারণের দায়িত্ব নেবে। শেখ হাসিনা ১০ বছর আগে দেশটির অবস্থান কি ছিল তা স্মরণ করেই আগামীতে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহবান জানান। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দেশটির গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে এবং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশন এখন মানুষের আস্থা অর্জন করছে। সরকার প্রধান বলেন, রাষ্ট্রপতি একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এই কমিশনের অধীনে দু’টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠুও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি একইসঙ্গে আগামী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নির্বাচনের আগে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, তাই জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরবর্তী নির্বাচন ২০১৮ সালের শেষে অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনের আগে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সকল প্রকার সহায়তা দেবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি চায়। তারা নির্বাচন বানচালের কোন পদক্ষেপ এবং আন্দোলনের নামে জনগণের সম্পত্তি ধ্বংস করা বরদাশত করবে না। তাঁর পুরো বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের দাবি জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি সুষম, সুখী এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য দল এবং সর্বস্তরের মানুষের মতামতকে সন্মান দিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর দৃঢ় সংকল্প পুণর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে শুধু বসে থাকতে চাই না। আমরা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ৪৭ বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং এখন আমরা বিশ্ব দরবারে মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলতে চাই। তিনি বলেন, যদি আপনাদের এটাই প্রত্যাশা হয় তাহলে সবসময়ই আমরা আপনাদের পাশে থাকবো। তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে গভীর চক্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া হল না। এরপর দেশবাসী দেখেছেন রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন; অর্থ লুটপাট, হাওয়া ভবনের দৌরাত্ম্য, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাইয়ের উত্থান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী ও দুই সংসদ সদস্যসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও হত্যা, জমি, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজি, মানিলন্ডারিং, দুর্নীতি। ৬৩ জেলায় একসঙ্গে ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা হয়। শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৪ সালে ২১শে আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধি সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা করে ২২ নেতাকর্মী হত্যা, সিলেটে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলা, দেশব্যাপী নারীদের উপর পাশবিক অত্যাচার- সমগ্র দেশ যেন জলন্ত অগ্নিকুন্ডে পরিণত হয়েছিল। দেশবাসী প্রতিনিয়ত সে যন্ত্রণায় দাহ হচ্ছিলেন। এমনি পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ বছর দুঃসহ যন্ত্রনা ভোগ করার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি । তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট থেকে ১৯৯৬ সালের ২৩শে জুন পর্যন্ত ২১ বছর এবং ২০০১ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ বছর- এই ২৮ বছর বাংলাদেশের জনগণ বঞ্চিত থেকেছে। তিনি বলেন, যারা ক্ষমতা দখল করেছে তারা নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিল। জনগণের কল্যাণে তারা কোন ভূমিকা রাখেনি। বরং আমরা জনকল্যাণে যেসব কাজ হাতে নিয়েছিলাম তারা তা বন্ধ করে দেয়। ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে আশু করণীয়, মধ্য-মেয়াদি ও দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, গ্রহণ করেছি দশ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিৎ পরিকল্পনা। আমরা দিন বদলের সনদ ঘোষণা দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনাদের জীবনমান সহজ করা এবং উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আপনারা আজ সেসব সেবা পাচ্ছেন। দেশে ১৩ কোটি মোবাইল সীম ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপন করে ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন। ৯ বছর একটানা জনসেবার সুযোগ পেয়েছি বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্বেও আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। জনগণ এর সুফল ভোগ করছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি’র আকার ছিল ৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক দুই-আট শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল শুন্য দশমিক ৭৪৪ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার প্রায় ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সে সময় এডিপি’র আকার ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপি'র আকার ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৪ দশমিক আট-পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ছিল ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ২০০৫ সালে ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থান হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১০ লাখ ৮ হাজার ১৩০ জনের। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ২০০৫-০৬ বছরে ছিল ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিটেন্স এসেছে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি বলেন, বিগত ৯ বছরে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। ১ হাজার ৪৫৮টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি আমরা। ৩৬৫টি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম স্থাপন করেছি। বছরের প্রথম দিনে সারাদেশে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। স্বাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করেছে। তাঁর সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদন ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৪র্থ। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭২ বছর। জাতির পিতা হত্যাকারী এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিডিআর হত্যার বিচার হয়েছে। আমরা সফলতার সঙ্গে জঙ্গিবাদ দমন করেছি। জনসচেতনতা সৃষ্টি করে এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি এজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলির বলিষ্ঠ ভূমিকার উল্লেখ করে তাদের ধন্যবাদ জানান। সরকার প্রধান বলেন, সরকারি কর্মচারিদের বেতনভাতা ১২৩ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছি। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কেউ বেকার এবং দরিদ্র থাকবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য আমরা বেশ কয়েকটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। পদ্মা সেতুর কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় মেট্টোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। সমগ্র বাংলাদেশকে রেল সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা হবে। পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এবং রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন,সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’- জাতির পিতার এই আপ্তবাক্য আমাদের পররাষ্ট্র নীতির মূল প্রতিপাদ্য। এই নীতি অনুসরণ করে আজ প্রতিবেশি দেশগুলিসহ সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মানবিক কারনে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংশিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যাচার এবং নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি। তাদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে রিলিফ বিতরণ করা হচ্ছে এবং চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, আপনারাই সকল ক্ষমতার মালিক। কাজেই লক্ষ্য আপনাদেরই ঠিক করতে হবে- আপনারা কী চান! আপনারা কি দেশকে সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখতে চান, না বাংলাদেশ আবার পিছনের দিকে চলুক তাই চান। একবার ভাবুন তো মাত্র ১০ বছর আগে দেশের অবস্থানটা কোথায় ছিল? তিনি বলেন, আপনারা কি চান না আপনার সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হোক? আপনারা কি চান না প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যাক! আপনারা কি চান না প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হোক! মানুষ দুবেলা পেট পুরে খেতে পাক! শান্তিতে জীবনযাপন করুক! প্রধানমন্ত্রী দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় একযোগে কাজ করে যাবার জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামীকাল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামীকাল শুক্রবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন। সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার প্রধানমন্ত্রীর এ ভাষণ এক যোগে সম্প্রচার করবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরংকুশ বিজয় নিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ঐকমত্যের সরকার। দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনের এক সপ্তাহ পর ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারের চার বছর পূর্ণ হবে শুক্রবার। জানা গেছে, জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চার বছরের শাসনামলের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরবেন। পাশাপাশি এবার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দিকনির্দেশনামুলক বক্তৃতা করবেন তিনি। গত বছর এবং এর আগের বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর ১২ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তার সরকারের শাসনামলের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেছিলেন। সেখানে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গেও কথা বলেছিলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেছিলেন, সরকারের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে সব দলের অংশ গ্রহণের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।
এক-এগারো থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা নিয়েছে-সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এক-এগারো থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা নিয়েছে। বিএনপির কারণে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থাকলেও এটা আর ঘটবে না। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভয়-আশঙ্কা আছে এই কারণে যে ওয়ান-ইলেভেন থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। কিন্তু বিএনপি নেয়নি। বিএনপি তার বর্তমান অবস্থা জেনে গেছে। নির্বাচনের আগেই সারা দেশে আওয়ামী লীগের জোয়ার দেখে বিএনপি বুঝে গেছে যে আগামী নির্বাচনে তাদের পরিণতি কী।’ তিনি বলেন, বিএনপি ভোট পাওয়ার মতো কোনো কাজ করেনি। সে কারণে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ বিএনপির সেই দুরভিসন্ধি বাস্তবায়ন করতে দেবে না, বাংলাদেশে আর এক-এগারোর পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচন বিষয়ে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রার্থী ঘোষণার আগে কেউ প্রার্থী নন। অনেকে নিজের মতো করে দলের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন। অনেকে দেখা করছেন। এতে প্রমাণিত হয় না যে প্রার্থী মনোনয়ন করা হয়ে গেছে। তবে আতিকুল ইসলাম দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন। সে সময় সভানেত্রী তাঁকে কাজ করার কথা বলেছেন, সিদ্ধান্ত জানাননি। আওয়ামী লীগ–মনোনীত মেয়র প্রার্থী কে হবেন, সে বিষয়ে ১৬ জানুয়ারি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ ক্রমে ব্যবসায়ীদের দিকে ঝুঁকছে, এ বিষয়ে দল কী ভাবছে—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের প্রার্থী, দলীয় নেতা আর নির্বাচন এটার মধ্যে পার্থক্য আছে। এটা রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি। স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্স। নির্বাচনে স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্স হয়।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘একজন রাজনীতিবিদ কি ব্যবসা করতে পারেন না? তাঁরা চাঁদাবাজি করে খাবেন?’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক আহমদ হোসেন, এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, শিক্ষা ও মানবসম্পদ–বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
দেশের উন্নয়ন করতে হলে নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই- প্রধানমন্ত্রী
নিরাপত্তা খাতে টাকা দেয়া বরাদ্দ নয়, বিনিয়োগ পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আইনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা খাতে দেয়া টাকাকে অনেকেই বরাদ্দ বলে থাকেন। আমি বলি এটি বরাদ্দ নয়, বিনিয়োগ। এ খাতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। দেশের উন্নয়ন করতে হলে এ খাতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই। এই বিনিয়োগই উন্নয়ন। একদিন এই বিনিয়োগই দেশ ও জাতিকে চরম স্বস্তি এনে দিবে। দেশ ও জাতিকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যাবে। আর আইনশৃঙ্খলা খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেশ থেকে চিরতরে নির্মূল করতে হবে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ। এক্ষেত্রে পুলিশকে আরও জনবান্ধব হতে হবে। জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলে। পুলিশের দায়িত্ব অপরিসীম। দায়িত্ব আরও বাড়াতে হবে। বাড়তি দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ বাহিনীতে আরও ৪৪ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সোমবার জাতীয় পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমনটাই জানালেন। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা স্বাধীন দেশের পুলিশ। জনগণের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব অপরিসীম। আপনারা নিজেদের জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলবেন। দেশ ও জাতির স্বার্থে আপনাদের প্রত্যেকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। প্রতিটি পুলিশ সদস্য অসহায় ও বিপন্ন মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন। নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপি-জামায়াতের পেট্রোলবোমা হামলা আর আগুন সন্ত্রাসে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ পুলিশ সদস্য। আমি তাদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি। এমন ভয়াল তা-বের পরও পুলিশ অত্যন্ত সাহসিকতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। যা খুবই বিরল। বিএনপি-জামায়াতের সেই তা-ব অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশ মোকাবেলা করেছে। সেই সাহসিকতার জোরেই দেশ থেকে সন্ত্রাস জঙ্গীবাদ চিরতরে নির্মূল করতে হবে। এজন্য পুলিশে জনবল বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। নতুন পদ সৃষ্টি হচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। যাতে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করতে পারে। ইতোমধ্যেই সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ল্যাবরেটরি, ডিএনএ ল্যাব হয়েছে। মানিলন্ডারিংয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ টিম হয়েছে। তারা কাজ করছেন। সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাফল্য আসছে। ডিএনএ ল্যাব হওয়ার কারণে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে। যার সুফল পাচ্ছেন অনেকেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হলি আর্টিজানে হামলার পর দেশ-বিদেশে আমাদের দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল। স্বল্প সময়ের মধেই আমরা সেই নেতিবাচক ধারণার উত্তরণ ঘটাতে পেরেছি। অল্প সময়ের ব্যবধানে আমরা জঙ্গীবাদ বিষয়ে ইতিবাচক ধারায় উন্নীত হতে পেরেছি। দেশে একের পর এক জঙ্গী আস্তানা আবিষ্কৃত হয়েছে। অভিযান হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে জঙ্গীরা। অভিযান চালাতে গিয়ে বীরত্বের সঙ্গে জীবন উৎসর্গ করেছেন অনেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। তাদের প্রতি রইল আমার আন্তরিক দোয়া। আর তাদের পরিবারের প্রতি রইল সর্বোচ্চ সহমর্মিতা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে নস্যাৎ হয়ে গেছে বড় বড় সব নাশকতার পরিকল্পনা। গুঁড়িয়ে গেছে জঙ্গী আস্তানা, যা নিঃসন্দেহে যা প্রশংসার দাবিদার। এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশ পুলিশ চলমান রোহিঙ্গা সমস্যার ক্ষেত্রেও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের দেশে রয়েছে। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা থেকে শুরু করে তাঁবু বানানো, খাবার দেয়া, মেডিক্যাল সুবিধাসহ আনুষঙ্গিক নানা কাজে পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। যা এককথায় অতুলনীয়। পুলিশ ইতোমধ্যেই জাতীয় জরুরী সেবা হিসেবে ৯৯৯ নম্বর চালু করেছে। যার সুফল পাচ্ছেন জনগণ। ভবিষ্যতে এই সেবার মান আরও বাড়ানো হবে। এই নম্বরের মাধ্যমে এ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সেবা পাচ্ছেন নাগরিকরা। পর্যায়ক্রমে সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা ভাল কাজ করবেন, তাদের অভিনন্দন জানানো হবে। যারা খারাপ কাজ করবেন তারা তিরস্কৃত হবে। প্রতিটি পুলিশ সদস্যের উচিত তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে নিজেদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তাতেই জনগণ অনেক সুফল পাবে। ইতোমধ্যেই পুলিশ সদর দফতরের আইজিপি কমপ্লেইন সেল স্থাপন করা হয়েছে। যা বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেছেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের আন্তরিকতা, কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেশবাসীর কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। জঙ্গীবাদ নির্মূলে দেশের সকলকে এক হতে হবে। কারণ জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কারও বন্ধু হতে পারে না। তারা দেশ ও জাতির শত্রু। জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস দমনে গঠিত পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট ইতোমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই ইউনিট জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং এদের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এছাড়া পুলিশের অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্ভিস ও মোবাইল এ্যাপ প্রবর্তনের উদ্যোগকেও প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানান। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে বলেন, দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরজমান রাখার জন্য দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার কোন বিকল্প নেই। এজন্য এ খাতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। এ খাতে দেয়া অর্থকে অনেকেই বরাদ্দ বলে থাকেন। আমি বলি এটি বিনিয়োগ। এই বিনিয়োগই উন্নয়ন। একদিন দেশ ও জাতিকে এই বিনিয়োগ স্বস্তিতে রাখবে। উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যাবে। এর আগে পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে খোলা জিপে করে প্যারেড পরিদর্শন করে সালাম ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ১১টি কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের নয়নাভিরাম প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সাহসিকতা ও সেবামূলক কাজের জন্য ১৮২ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পরিয়ে দেন। ২০১৭ সালে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য ৩০ জন বিপিএম এবং ৭১ জন পিপিএম পেয়েছেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৮ জন পেয়েছেন বিপিএম সেবা পদক এবং ৫৩ জন পেয়েছেন পিপিএম সেবা পদক।
চলতি সপ্তাহ থেকেই দেশব্যাপী ধরপাকড় অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে দুর্নীতি মামলার রায়ে সাজা হলে দেশ আবার হামলা, ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতির ফাঁদে পড়তে পারে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলো সংঘাত-সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ারও জোরালো আশঙ্কা রয়েছে উন্মুক্ত স্থানে সভা-সমাবেশে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা, মিছিলে বাধা এবং বিভিন্ন মামলায় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের হিড়িকে বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে কোনঠাসা থাকলেও এবার আরও কঠোর হচ্ছে সরকার। সে লক্ষ্যে কৌশলী নানা ছক এঁটে মধ্য জানুয়ারি থেকে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলতি সপ্তাহ থেকেই দেশব্যাপী ধরপাকড় অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রগুলো জানায়, স্বল্প সময়ের মধ্যেই খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তা তার বিরম্নদ্ধে যাওয়ার বিষয়টিও ক্রমশ পরিষ্কার হয়ে আসছে। এমনটা হলে সরকারবিরোধী এ দলটি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তাপ ছড়ানোর চেষ্টা করবে। ঘোষণা হতে পারে সরকারবিরোধী এক দফার কর্মসূচি। সর্বাত্মক কর্মসূচি ঘোষণা করে দলের নেতাকর্মীরা যে কোনো মূল্যে রাজপথে নামার চেষ্টা করবেন। এতে হামলা, ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতির ফাঁদে পড়তে পারে দেশ। টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলো সংঘাত-সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ারও জোরালো আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়াও এর সঙ্গে আগামী জাতীয় একাদশ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশের বিষয়টিও অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত। তাই দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার আগেভাগেই হার্ডলাইনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে সরকারের এ কৌশলী পরিকল্পনায় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অহেতুক হয়রানি-নির্যাতনের কোনো ছক নেই বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতনরা। তারা জানান, জঙ্গি দমন, মাদক নির্মূল, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক শান্ত্মি বিনষ্টে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র বানচাল, রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে সৃষ্ট নৈরাজ্য ঠেকিয়ে নির্বাচনী লেভেল পেস্নয়িং ফিল্ড তৈরির লক্ষ্যে সরকার আগাম এ তৎপরতা চালাচ্ছে। এ অভিযানে সরকারি দলের ব্যানারে থাকা চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ভূমিদসু্য এবং অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ীরাও রেহাই পাবে না। এ ব্যাপারে মাঠ প্রশাসনকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হবে বলেও নিশ্চিত করেন সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, গত নভেম্বরের মাঝামাঝিতে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত্ম ছক তৈরি করা হলেও রংপুর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তা এতোদিন স্থগিত রাখা হয়। তবে সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট শেষ হওয়ায় এবার 'অ্যাকশন পস্নান' কার্যকরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী অস্ত্রধারী পলিটিক্যাল ক্যাডারদেরও এ অভিযানের আওতায় ধরপাকড় করা হবে। বিশেষ করে নানা উস্কানিতে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার মিশনে নামা ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রকারীচক্র এবং এর নেপথ্য মদদদাতাদের বিরম্নদ্ধে কঠোর 'অ্যাকশনে' নামার ছক তৈরি করা হয়েছে। পুলিশের এআইজি পদমর্যদার একজন কর্মকর্তা জানান, বিগত সময়ে বিভিন্ন সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় শুধু সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের বিরম্নদ্ধে মামলা করা হলেও এখন থেকে এ ব্যাপারে আরও কঠোর হবে পুলিশ। এ ধরনের ঘটনা দ্রম্নত তদন্ত্ম করে এর নেপথ্য মদদদাতা ও হুকুমদাতাকেও আসামি করা হবে। এতে গোপন বৈঠক করে পলিটিক্যাল গডফাদারদের নাশকতা চালানোর অপতৎপরতা কমবে। বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ঠেকাতে গুলির নির্দেশও দেয়া হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা। এদিকে সরকারের হার্ডলাইনে নামার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কারো কাছ থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও থানার ওসিরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ কর্মপরিকল্পনার নানা কৌশলের কথা জানিয়েছেন। মামলা ও ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়ানো রাজনৈতিক ক্যাডারদের গ্রেপ্তারে উপরমহলের জোরালো তাগিদের বিষয়টিও তারা স্বীকার করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিরপুর জোনের একটি থানার একজন ওসি (তদন্ত্ম) যায়যায়দিনকে জানান, বিএনপি-জামায়াত ও শিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় নেতাকর্মীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এরই মধ্যে তারা জোগাড় করেছেন। এদের কার বিরম্নদ্ধে কতটি মামলা রয়েছে, কোনো মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কিনা এবং কে কোথায় অবস্থান করছেন- সে তথ্যও তাদের হাতে রয়েছে। ক্যাটাগরিওয়াইজ নেতাদের তিনভাগে ভাগ করে সে তালিকা প্রতিটি থানার সাব-ইন্সপেক্টরদের মধ্যে বণ্টন করে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের কোনো সক্রিয় নেতা ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালি কারো ঘাড়ে ভর করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কিনা তা খুঁজে বের করারও নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্যাডারদের প্রশ্রয়দাতা পুলিশ কর্মকর্তাদেরও চিহ্নিত করা হবে। বিগত সময়ে বোমাবাজি, নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত কোনো ক্যাডারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতা ছাড়িয়ে নেয়ার তদবির করলে তাকেও আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংশিস্নষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এ মিশন সফল করতে থানা পুলিশের সঙ্গে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) ও ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)সহ গোয়েন্দা সংস্থা সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয় করবে। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে রিজার্ভ ফোর্সের সহায়তাও নেয়া হবে। এরই মধ্যে এ প্রস্তুতি চূড়ান্ত্ম করে প্রতিটি থানায় দুই বা ততোধিক বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতি টিমে একজন পরিদর্শক, দুইজন সাব-ইন্সপেক্টর ও চারজন কনস্টেবল রয়েছে। ডিএমপির একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতার সঙ্গেই বিরোধী শিবিরের গোপন আঁতাত রয়েছে। এদের কেউ কেউ গোপন ও প্রকাশ্যে একসঙ্গে একাধিক ব্যবসা চালাচ্ছেন। এমনকি তারা মিলেমিশে টেন্ডারবাজি, ভূমি দখল ও চাঁদাবাজি করছেন। এ তালিকা তৈরির কাজও পুলিশ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এ সব 'ডুয়েল পেস্নয়ারদেরও' কঠোর নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে সরকার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে হার্ডলাইনে নামার কথা বললেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এতে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাদের ভাষ্য, একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরেই আবর্তিত হবে চলতি বছরের রাজনীতি। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলার রায় সবচেয়ে বড় 'টার্নিং পয়েন্ট' হতে পারে। কেন না এই রায়ের পরই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে, আগামী দিনের রাজনীতি কোনো দিকে মোড় নেবে। এ মামলার রায় বিএনপি চেয়ারপারসনের বিপক্ষে গেলে যেমন রাজপথ উত্তপ্ত হতে পারে, তেমনি পক্ষে গেলে দলের নেতাকর্মীরা নতুনভাবে চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী যুদ্ধের প্রস্তুতিতে জোরেশোরে মাঠে নামবে বিএনপি। তাই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী ও জঙ্গি দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে সরকার মূলত প্রশাসনকে দিয়ে বিরোধী দলকে কোনঠাসা করে রাখতে চাইছে। তবে এসব কৌশলিী পরিকল্পনা বাস্ত্মবায়নের চেষ্টা চালিয়ে সরকার তার মূল টার্গেটে আদৌও পৌঁছাতে পারবে কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশেস্নষকদের যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। তাদের মতে, গত দু'বছর ধরে বিএনপি অনেকটা ইতিবাচক রাজনীতি করছে। এমনকি ছোট-বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে নানাভাবে সরকারের রোষানলে পড়লেও তা সয়ে নিচ্ছে। সংঘাত বা সহিংসতা এড়িয়ে তারা সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির দিকে গুরম্নত্ব দিচ্ছে। সর্বশেষ ৫ জানুয়ারি 'গণতন্ত্র হত্যা দিবস' পালনের লক্ষ্যে বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে প্রত্যাখিত হলেও এর প্রতিবাদে কঠোর কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করেনি। এর আগে রোহিঙ্গা শিবিরে ত্রাণ দিতে আসা-যাওয়ার পথে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা ও নানাভাবে প্রতিবন্ধকতার ঘটনাতেও বিএনপি নীরব ভূমিকা পালন করেছে। এতে দলটি পরোক্ষভাবে লাভবানই হয়েছে। ঠিক একইভাবে নির্বাচনী বছরের শুরম্নতে বিরোধী দলকে চাপে রাখতে সরকার হার্ডলাইনে নামলে এ কৌশল ক্ষমতাসীনদের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাদের ভাষ্য, বিএনপিকে ছাড়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচন আজও সরকারের জন্য দেশ-বিদেশে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে। সে জন্য বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিশেষ নজর থাকবে। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের ওপর যত কৌশলেই নির্যাতনের খড়গ নামানো হোক না কেন তাতে সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ন্ন হবে। যার নেতিবাচক প্রভাবে আগামীর নির্বাচনের মাঠে পড়বে। তবে সরকার যেভাবে হার্ডলাইনে নামতে চাইছে তাতে সে চাপ সামাল দিয়ে বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা আদৌ রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। তাদের ধারণা, সরকারবিরোধী রাজনীতিকদের কঠোর চাপে রাখা হলে অনেকেই এ অঙ্গন থেকে সরে দাঁড়াবে। বিশেষ করে অস্ত্রধারী ক্যাডাররা গা ঢাকা দেবে। এতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক অঙ্গনে এককভাবে দাপিয়ে বেড়ানোর সুযোগ পাবে। তবে এতে আইন শৃঙ্খলাসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে এক ধরণের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে। এমনকি রাজনৈতিক কোনঠাসা দশার সুযোগে নতুন করে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সরকারের নানামুখী কঠোর চাপে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা কোনঠাসা না হয়ে বরং প্রচ- ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে জ্বালাও-পোড়াও ও ভাঙচুরসহ নানামুখি নৈরাজ্যে জড়িয়ে পড়তে পারে। যা ২০১৪ সালের জানুয়ারির মতো বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাযজ্ঞের আরও একটি কালো অধ্যায়ের সৃষ্টি করবে।
হয়রানি মুক্ত সেবা পাওয়া জনগণের সাংবিধানিক অধিকার-রাষ্ট্রপতি
হয়রানি মুক্ত সেবা প্রদানে পুলিশের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহবান। রাষ্ট্রপতি এম আব্দুল হামিদ সেবা প্রার্থীদের হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদানে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে পুলিশের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হয়রানি মুক্ত সেবা পাওয়া জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। এ কথা বিবেচনায় রেখে জনগণের জন্য হয়রানি মুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সোমবার পুলিশ সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক নৈশ ভোজসভায় বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেন, দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ সাধারণত থানা অথবা পুলিশের কাছে যেতে চায় না। তারা খুব অসহায় হয়ে পড়লেই তখন বাধ্য হয়ে পুলিশের সাহায্য নেয়। সারাদেশে তৃণমূল পযার্য়ে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, পুলিশের ওপর যখন জনগণের পূর্ণ আস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তাদের দুঃসময়ে কাংক্ষিত সেবা পাবে, তখনি তারা মনে করবে পুলিশ তাদের বন্ধু। তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, পুলিশ সন্ত্রাসী ও জঙ্গি তৎপরতা দমনে, অপরাধীদের আটক করতে এবং স্পর্শকাতর মামলার চার্জ শিট দ্রুত প্রদানের পাশাপাশি সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রেখে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অগ্রগতি প্রসঙ্গে আবদুল হামিদ বলেন, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা বিঘিত হলে উন্নয়ন থেমে যাবে, মানুষ অনিরাপদ বোধ করবে, বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি ঘটবে। তিনি বলেন, সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ক্রমান্বয়ে সাইবার অপরাধ বাড়ছে এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বেশির ভাগই কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম। মাদকাসক্তি ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার তরুণদের অপরাধের দিকে ধাবিত করছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি অবৈধ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করে যে, দেশ ও দেশের মানুষের আকাংখা পূরণে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। বক্তব্যের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দেশপ্রেমিক সৈনিকগণ বিশেষ করে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে নৃশংসভাবে নিহত পুলিশ সদস্য এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগী লোকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল এমপি, জননিরাপত্তা বিভাগের সচি মোস্তফা কামার উদ্দিন, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ এবং রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২৫এর আয়োজক দেশ হতে সমর্থন চেয়েছে ফ্রা
ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২৫-এর আয়োজক দেশ হতে বাংলাদেশের সমর্থন চেয়েছে ফ্রান্স। আজ রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এই সমর্থন চান ফ্রান্স সরকারের বিশেষ দূত ও ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের সাবেক মহাপরিচালক প্যাসকেল লামি। এ সময় তাঁকে এ বিষয়ে সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দেন শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এহসানুল করিম। এ সময় কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন প্যাসকেল লামি। আর ফ্রান্স সফরের সময়ে দেশটির প্রেসিডেন্টের আতিথেয়তার প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে সমুদ্রসম্পদ ব্যবহার করে ব্লু ইকোনমিতেও অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা করছে। এ জন্য ফ্রান্সের সহায়তাও চান প্রধানমন্ত্রী। ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২৫-এর আয়োজক হতে চায় আরো তিনটি দেশ। এগুলো হলো জাপান, রাশিয়া ও আজারবাইজান। চলতি বছরের নভেম্বরে ব্যুরো ইন্টারন্যাশনাল দেস এক্সপজিশনসের ১৬৪তম বার্ষিক সাধারণ সভায় আয়োজন দেশ নির্বাচনে ভোট দেবে সংস্থার ১৭০ সদস্য রাষ্ট্র। আর এর মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে কোন দেশ ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজক হবে, সে বিষয়টি।
১৯তম জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু রাষ্ট্রপতির সূচনা ভাষণের মধ্যদিয়ে
রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ স্বাধীনতা সমুন্নত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুজ্জ্বল রাখতে দেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ সম্পূর্ণরূপে নির্মূলের মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে বাঙালী জাতিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একাত্তরের শহীদানদের কাছে আমাদের অপরিশোধ্য ঋণ রয়েছে, ধর্মবর্ণগোত্র নির্বিশেষে এবং দলমতপথের পার্থক্য ভুলে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরাম্বিত করার মধ্য দিয়ে আসুন আমরা লাখো শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রবিবার ১৯তম জাতীয় সংসদ অধিবেশনের সূচনা দিনে প্রদত্ত ভাষণে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের যে পথ আমরা পরিক্রমণ করছি, তা আমাদের বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশ্বসভায় ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামাজিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি সম্মানজনক অবস্থানে সমাসীন হয়েছে এবং অচিরেই একটি উন্নত দেশ হিসাবে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ মধ্য-আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০৪১ সালে বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে, এটাই জাতির প্রত্যাশা। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী- সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ন এবং সমাজের সকল স্তরে প্রত্যক্ষ জনসম্পৃক্তির মধ্য দিয়ে আমরা নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ অর্জনসহ একটি আদর্শ সমাজভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হব। সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যা ৬টায় কালো হাল্কা এ্যাশ কালারের স্যুট-প্যান্ট ও লাল টাই পরিহিত রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদ অধিবেশনে প্রবেশের সময় বিউগলে তার আগমনী বার্তা বাজানো হয়। অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে এ সময় বিউগলে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অধিবেশনে প্রবেশ করেই রাষ্ট্রপতি স্পীকারের ডান পাশে রাখা নির্ধারিত আসনে আসন গ্রহণ করেন। এরপর ৬টা ৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ১৫৭ পৃষ্ঠাব্যাপী ভাষণের সংক্ষিপ্তসার তাঁর ভাষণে উত্থাপন করেন। টানা প্রায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিটের ভাষণের সময় মাঝে মাঝেই সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তুমুল টেবিল চাপড়িয়ে রাষ্ট্রপতিকে উজ্জীবিত রাখেন। ভিভিআইপি লাউঞ্জেও দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, কূটনীতিক এবং ও সামরিক- বেসামরিক উর্ধতন কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যক্ষ করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বর্তমান সরকারের গত চার বছরের উন্নয়ন-সফলতাগুলো বিস্তারিতভাবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ শেষ করেন। টেবিলে উত্থাপিত তাঁর পূর্ণাঙ্গ ভাষণটি সংসদীয় কার্যক্রমে পঠিত বলে গণ্য করা হয়। ভাষণ শেষে বিউগলে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন ত্যাগ করেন। এরপর স্পীকার সংসদ অধিবেশন আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণের শুরুতেই দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশ সংবিধান সমুন্নত এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখে ২০১৪ সালে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ওপর দেশ পরিচালিনার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। গত মহাজোট সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার রূপকল্প- ২০২১দিন বদলের সনদ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্য-আয়ের দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিমধ্য-আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এখন জাতির দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে ২০৪১ সালের দিকে- বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়ার মানসে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সরকার উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রেখে জাতির আকাক্সক্ষা পূরণে সফল হবে। রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার দারিদ্র্যনিরসন এবং বৈষম্য দূর করে আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প হিসেবে বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৫-২০ মেয়াদে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ, দারিদ্র্য হ্রাস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, যা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনায় গড়ে বার্ষিক ৭ দশমিক ৪ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২০ সাল নাগাদ ৮ শতাংশে পৌঁছবে। সহরাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি)র অনর্জিত লক্ষ্যসমূহ শনাক্তকরণসহ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহ সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করে তা অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ সকল পরিকল্পনার মৌলিক উদ্দেশ্য হলো উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে উন্নীতকরণ। সরকার কর্তৃক এ সকল কার্যক্রম গ্রহণের ফলে জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থার দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটছে এবং বাংলাদেশ প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করে যাচ্ছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকার নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে। সংসদ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমান সরকার সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে অর্ভূতপূর্ব গতিশীলতা সঞ্চারণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও আলোকিত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরন্তর ঐকান্তিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহতকরণ এবং জাতির অগ্রযাত্রার স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষার সফল বাস্তবায়নে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলসহ সকলকে সম্মিলিতভাবে যথাযথ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই।
জনগণের আস্থা অর্জনের নিরন্তর প্রচেষ্টাও এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের উন্নয়ন, প্রগতি এবং মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশকে নিরপেক্ষতার মূর্ত প্রতীক হতে হবে। সেবা প্রত্যাশীদের সর্বোত্তম আইনগত সহায়তা দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের নিরন্তর প্রচেষ্টাও এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের থাকতে হবে। তিনি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের প্রতিটি সদস্য স্বীয় দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করবেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে সেবা, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত, সমৃদ্ধ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সচেষ্ট হবেন। প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আজ দেয়া এক বাণীতে একথা বলেন। আগামীকাল ৮ জানুয়ারি থেকে পুলিশ সপ্তাহ শুরু হচ্ছে। বাণীতে তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশ পুলিশকে একটি দক্ষ, জনবান্ধব ও প্রতিশ্রুতিশীল বাহিনীতে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুলিশের জনবল বৃদ্ধি, প্রযুক্তির সংযোজন, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ, বিশেষায়িত নতুন নতুন ইউনিট গঠনসহ বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে আমরা পুলিশ এন্টি টেররিজম ইউনিটগঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিটে প্রতিনিয়ত নারীর অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অপরিসীম ত্যাগ ও বীরত্বগাঁথার ইতিহাসকে ধারণ করে সগৌরবে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ পুলিশবাহিনী। দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে এই বাহিনী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে পুলিশবাহনীর সদস্যগণ ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের ভয়াল রাতে পাকিস্তান হানাদারবাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ও বিভিন্ন সময়ে দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী দেশপ্রেমিক বীর পুলিশ সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর