তল্লাশির সময় ভিডিও করার অধিকার কি পুলিশের আছে?
অনলাইন ডেস্ক: সম্প্রতি ঢাকায় পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে তল্লাশি চালানোর সময় এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঐ ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে, পুলিশি অভিযানের সময় ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশের এই ধরণের আচরণ কতটা আইনসম্মত? আইনজীবিদের মতে, কোনো নারী পুলিশের অনুপস্থিতিতে একজন নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার অনুমতি ছাড়াই সেই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করে আইনগতভাবে অপরাধ সংঘটন করেছেন ঐ নিরাপত্তা চৌকির পুলিশ সদস্যরা। আইনজীবি তানজীব উল আলম বিবিসি বাংলাকে বলেন, ঐ নারীর সাথে তিনটি অন্যায় করেছে পুলিশ। কোনো নারী পুলিশ সদস্য ছাড়া তাঁকে তল্লাশি করা, তল্লাশির সময় ঘটনার ভিডিও করা এবং ঐ ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা। আইনজীবি আলমের মতে, আইন অনুযায়ী এরকম ক্ষেত্রে একজন সাধারণ নাগরিককে হয়রানির দায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরো পুলিশ বাহিনীর ওপর বর্তায়। পুলিশের মিডিয়া শাখার অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল রানা জানান, এই ঘটনায় কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবে ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ তদন্ত চলছে। বাংলাদেশে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশি তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ বা অভিযান চলার সময় সেই ঘটনার ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাই। কিন্তু তদন্ত বা জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ কেন সেসবে ঘটনার ভিডিও করছে? পুলিশের মিডিয়া শাখার অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল রানা জানান, বিশেষ অভিযানের ক্ষেত্রে প্রমাণ হিসেবে পুলিশ ঘটনার ভিডিও করে থাকে। অস্ত্র উদ্ধার, মাদক উদ্ধারের মত গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের ক্ষেত্রে পুলিশ সাধারণত ঘটনার ভিডিও করে যা পরবর্তীতে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে সম্প্রতি আলোচনায় আসা ঘটনাটির ক্ষেত্রে পুলিশের তদন্তকারী দল ভিডিও করার যৌক্তিকতা খুঁজে পাননি বলে নিশ্চিত করেন মি. রানা। তবে আইনজীবিদের মত পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারাও বলছেন, প্রমাণ রাখার স্বার্থে পুলিশের ভিডিও করার এখতিয়ার থাকলেও, অনুমতি ছাড়া সেগুলো সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা সন্দেহাতীতভাবে বে আইনি একটি কাজ। সূত্র: শীর্ষ নিউজ
মানুষ পুড়িয়ে আন্দোলন হোক, আর চাই না: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ পুড়িয়ে কোনো আন্দোলন হোক, আর চাই না। অতীতে জনগণ তাদের প্রতিরোধ করেছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিরোধ করেছে। ভবিষ্যতেও সরকার যা যা পদক্ষেপ নেওয়ার নেবে। কেউ যেন ভবিষ্যতে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করতে না পারে। বুধবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট এ প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট বলছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছি আমরা। এরই অংশ হিসেবে এই বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট করা হয়েছে। এখান থেকে বিশ্বমানের চিকিৎসা দেওয়া হবে। এছাড়া ভবিষ্যতেও প্রতিটি জেলা হাসপাতালে বার্ন ইউনিট গড়ে তোলা হবে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাখাতে তার সরকারের নানা কর্মসূচি তুলে ধরার পাশাপাশি বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিটি বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। তিনি পুড়ে যাওয়া মানুষের চিকিৎসায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে এবং ২০১৫ সালে সরকার উৎখাতের নামে হাজার হাজার মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, পেট্রোল বোমা মারা হয়েছে গাড়িতে। আগুন দিয়ে রেল পুড়িয়েছে, লঞ্চ পুড়িয়েছে, ৫৮২টি স্কুল পুড়িয়েছে। এখনো সেই পোড়া ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে মানুষ। তিনি বলেন, আমরা গড়ে তুলি, বিএনপি-জামায়াত ধ্বংস করে। তাদের অগ্নিসন্ত্রাসে সেসময় পোড়া মানুষগুলোকে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। আগুনে পুড়ে ৫০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। যারা গাড়ি-ব্যবসা হারিয়েছে, তাদের সাধ্যমতো সাহায্য করেছি। আহতদের অনেককে বিদেশ থেকেও চিকিৎসা করিয়ে এনেছি। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষ পুড়িয়ে কোনো আন্দোলন হোক, আর চাই না। অতীতে জনগণ তাদের প্রতিরোধ করেছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিরোধ করেছে। ভবিষ্যতেও সরকার যা যা পদক্ষেপ নেওয়ার নেবে। কেউ যেন ভবিষ্যতে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করতে না পারে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের সুযোগ দিয়েছে, আমরা উন্নয়ন করছি। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ হয়েছি। আগামীতেও তারা যদি নৌকায় ভোট দিয়ে কাজের সুযোগ দেন, যে উন্নয়ন কাজ আমরা শুরু করেছি, সেসব সম্পন্ন করতে পারবো। ২০২০ সালের মধ্যে আমরা গড়ে তুলবো ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ।
মইনুলের গ্রেপ্তার রাজনীতির কারণে নয়: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়া মইনুল হোসেনকে ব্যক্তিগত অপরাধের কারণে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, তাতে তাকে গ্রেপ্তার করাটাই জরুরি ছিল। মঙ্গলবার সকালে সচিবলায়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন কাদের। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা গত ১৩ অক্টোবর বিএনপি, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য মিলে গঠন করা ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেন। ১৬ অক্টোবর বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তরের লাইভে এসে নারী সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহী বলে সমালোচনার মুখে পড়েন। আর মামলার পর সোমবার রাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। বিএনপি অভিযোগ করছে, মইনুল হোসেন গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেন বলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি ঐক্যফ্রন্টের নব্য নেতা, এসব বিবেচনা করে তাকে (মইনুল) গ্রেপ্তার করা হয়নি। ব্যক্তি হিসেবে তিনি যে অপরাধ করেছন সেজন্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখানে কোন জোটের বিষয় নয়, এখানে ব্যক্তি অপরাধের বিষয়। তিনি একজন নারী সাংবাদিককে যেভাবে অ্যাবিউজ করেছেন এটা কি কোন ভদ্র লোকের পক্ষে এ ধরনের আচরণ করা সম্ভব? তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করাটাই জরুরি ছিল। পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পার পেয়ে গেলে অনেকেই এ ধরনের অপরাধ করতে পারে মন্তব্য করে কাদের আরও বলেন, যাকে তাকে যে কেউ অশোভন, অমার্জিত গালি দিতে পারেন না। জাতীয় নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার পর নির্বাচনী আচারণবিধি পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের আওতায় চলে যাবে। কমিশনের আচারণবিধি অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক দলগুলো যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন তারা নির্বাচন কমিশনের আওতায় চলে যাবে, তখন মন্ত্রীদের দায়িত্ব কর্তব্য সীমিত হয়ে যাবে। তখন কেবিনট শুধু মাত্র রুটিন ওয়ার্ক করবে, কোন ধরনের মেজর ডিসিশন নিতে পারবে না।
মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর, ফিঙ্গার প্রিন্টও পাল্টাচ্ছে অপরাধীরা
অনলাইন ডেস্ক: অপহরণ, হত্যা-গুমের মতো অপরাধ করে মোবাইল ফোনের আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর পাল্টে ফেলার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুধু তাই নয়, ফিঙ্গার প্রিন্টও পাল্টে দিত একটি চক্র। গুলিস্তান নির্ভর এই চক্রের কাজটি করে দিতেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। তার নাম মাসুদ লাকুরিয়া। তিনশ টাকার বিনিময়ে এই কাজটি করতেন তিনি। দিনে ডজনখানেকের বেশি মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পাল্টাতেন তিনি। মাসুদ এই কাজে জড়িত এক বছর ধরে। তিনি এটি শিখেছেন তার এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে। তিনি দেশের বাইরে চলে যাওয়ার পর মাসুদ এই চক্রের নেতা হন। একটি ফোনের স্বতন্ত্র সিরিয়াল নম্বর হচ্ছে আইএমইআই। এটি থাকে ফোনের ভেতরে। এই নম্বর দিয়েই একটি ফোন থেকে আরেকটিকে আলাদা করা যায়। আর এই নম্বর ব্যবহার করেই পুলিশ মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে। মোবাইলের সিম পাল্টালেও আইএমইআই নম্বর দিয়েই অপরাধী শনাক্ত করা যায়। এই নম্বর পাল্টানো সম্ভব, এটি এতদিন জানা যায়নি। এখন প্রমাণ পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রীতিমতো উদ্বিগ্ন। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কোন নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না-সেটি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে র‌্যাব। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এই ব্যাপারে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছে বাহিনীটি। র‌্যাব জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চোরাই ও ছিনতাই হওয়া দামি মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পাল্টে দিত। পরে মোবাইলগুলো অপরাধীরা কিনে জঙ্গি কার্যক্রম, অপহরণ, হত্যা, গুম ও মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহার করত। ফলে এই মোবাইলগুলো ট্র্যাকিং করেও অপরাধীদের শনাক্ত করা যায় না। সোমবার রাজধানীর গুলিস্থান এলাকায় দিনভর অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূলহোতা ১৫ জনকে গ্রেপ্তারের করা হয়। এসময় আইএমইআই পরিবর্তন করা বিপুল পরিমাণ মোবাইল, আইএমইআই পরিবর্তনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমরানুল হাসান। তিনি জানান, গুলিস্থান পাতাল মার্কেটের বিসমিল্লাহ টেলিকমে অভিযান চালিয়ে মাসুদকে মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা অবস্থায় হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে মাসুদের দেয়া তথ্যে মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম মার্কেটের ১১ দোকানে অভিযান চালানো হয়। এসময় বিভিন্ন ব্রান্ডের ৫৩১টি মোবাইল, একটি ল্যাপটপ, দুইটি কম্পিউটার, আইএমইআই পরিবর্তনের ছয়টি ডিভাইস জব্দ ও ১৫ জনকে আটক করা হয়। এ সময় মাসুদ ছাড়াও আটক হন মো. রিপন, রাশেদ খান, আনিস মোল্লা, জাহিদুল ইসলাম, মো. পলক, মো. রাশেদুল ইসলাম, মো. নাইম সরদার, মো. স্বপন, মো. মোতালেব, রানা হামিদ, আব্দুল মান্নান, মাসুদ রানা, মো. নাজিম ও কামাল হোসেন। র‌্যাব কর্মকর্তা এমরানুল হাসান জানান, ‘আমরা বিভিন্ন অভিযানের সময় আটককৃতদের মোবাইল ফোনে বেশ কিছু অসঙ্গতি দেখতে পাই। তার কারণ অপরাধের পরই অপরাধীরা মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে ফেলে। এই অভিযানে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মোবাইল সিম উদ্ধার করা হয়েছে।
পাঁচ দিনের সরকারি সফরে জেনেভায় রাষ্ট্রপতি
অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিশ্ব বিনিয়োগ ফোরাম- ২০১৮ এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য পাঁচ দিনের সরকারি সফরে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পৌঁছেছেন। খবর বাসসের। রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী আমিরাত এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ২২ অক্টোবর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সোমবার) জেনেভার কোয়েনট্রিন বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে তিনি দুবাইয়ে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সাড়ে ১০ ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করেন। আমিরাত এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট (ইকে ৫৮৫) রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ৩ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। ২২ অক্টোবর থেকে আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ইউরোপের জাতিসংঘ সদরদপ্তর জেনেভার প্যালেইস দ্যাস নেশন্সস-এ এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে টেকসই উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ। পরে সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘ অফিসে স্থায়ী প্রতিনিধি শামীম আহসান, জেনেভা সরকারের স্থানীয় প্রতিনিধি এবং বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলনের (ইউএনসিটিএডি) প্রতিনিধি রাষ্ট্রপতিকে বিমান বন্দরে অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দর থেকে রাষ্ট্রপতিকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রান্ড হোটেল কেমপিনস্কিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সুইজারল্যান্ড সফরকালে তিনি এখানেই অবস্থান করবেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতি বিশ্বায়নের নতুন যুগে বিনিয়োগ বিষয় গ্লোবাল লিডার্স ইনভেস্টমেন্ট সামিটে (সেশন-১)প্রথম বক্তা হিসেবে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব একথা জানিয়েছেন। বিনিয়োগ সম্মেলনে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নিয়ে মতবিনিময়ে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ, মন্ত্রীবৃন্দ এবং বিশ্বের কোম্পানিগুলোর সিইওরা যোগ দেবেন। বিশ্বের বিনিয়োগ সংক্রান্ত ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সংলাপ ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে ডবিউআইএফর দ্বিবার্ষিক এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বহুপাক্ষিক স্টেকহোল্ডাররা সমবেত হয়েছেন। এতে বিশ্বায়ন ও শিল্পায়নের নতুন যুগের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে। টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে অবদান রাখতে উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা ও সংলাপের একটি প্লাটফরম এই সম্মেলন। এর ফলে বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারেন এধরনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের স্টেকহোল্ডার ও জাতিসংঘ সদস্যদেশগুলোকে একটি প্লাটফরমে নিয়ে আসতে বিশ্ব বিনিয়োগ ফোরাম সক্ষম হবে। এই দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে ১৬০টি দেশের চার হাজারেরও বেশি স্টেকহোল্ডার সমবেত হয়েছেন। ফোরামের এই শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিভিন্ন দেশের নেতাদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাঁচ দিনের সফর সমাপ্ত করে রাষ্ট্রপতি ২৭ অক্টোবর দেশে ফিরবেন।
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ
অনলাইন ডেস্ক: উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এর বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ২৭ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৫৯ মিনিটে।
ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে যোগ দিতে আজ জেনেভা যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
অনলাইন ডেস্ক: ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে যোগ দিতে আজ রবিবার জেনেভা যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। পাঁচ দিনব্যাপী এ সম্মেলনে যোগ দিতে রাতে রওনা দেবেন তিনি। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিনিয়োগ বিষয়ে বিশ্ব নেতাদের এবং হোমল্যান্ড অ্যান্ড গ্লোবাল সিকিউরিটি বিষয়ক ২০তম বার্ষিক অধিবেশন আগামী ২২ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর জেনেভায় জাতিসংঘ দফতরে অনুষ্ঠিত হবে। প্রেস সচিব বলেন, সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরাসহ মন্ত্রী এবং বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলোর সিইওরা যোগ দেবেন। তারা তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করবেন। ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের দ্বিবার্ষিক এই সম্মেলনে বিশ্বের ১৬০টি দেশের ৪ হাজারের বেশি বিনিয়োগ স্টেকহোল্ডার অংশ নেবেন। সম্মেলনে বিশ্বায়ন ও শিল্পায়নের নতুন যুগে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের জন্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই সম্মেলনে প্রতিপাদ্য হচ্ছে টেকসই উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ। ফোরামের ২০১৮ সম্মেলনের মূল অধিবেশনের উদ্বোধনসহ ৫০টির বেশি ইভেন্ট থাকবে। রাষ্ট্রপতি জেনেভায় তাঁর ৫ দিনের সফর সমাপ্ত করে ২৬ অক্টোবর দেশে ফিরবেন। -বাসস।
দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশন বসছে আজ
অনলাইন ডেস্ক: দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশন বসছে আজ । আজ রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় অধিবেশন শুরু হবে। এর আগে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। তবে এ অধিবেশন সর্বোচ্চ পাঁচ দিনের হতে পারে বলে জানায় সংসদ সচিবালয় সূত্র। আজ শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনে ১৩টি বিল কার্যতালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি নতুন বিল উত্থাপিত হবে এবং আটটি বিল পাসের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর ২২তম অধিবেশন শেষ হয়। সংবিধান অনুযায়ী এক অধিবেশন শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হতে যাচ্ছে। ২৮ জানুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে আর সংসদ অধিবেশন বসবে না। তবে বিশেষ প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি যে কোনো সময় অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল একই বছরের ২৮ জানুয়ারি। দশম সংসদের মেয়াদকালে ২৩টি অধিবেশন বসে। এর আগে নবম সংসদে ১৯টি অধিবেশন বসেছিল। আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একাদশ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণ হতে পারে ডিসেম্বরের শেষভাগে অথবা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে।

জাতীয় পাতার আরো খবর