নির্বাচনে অযোগ্যই থাকছেন দণ্ডিতরা
অনলাইন ডেস্ক: দুই বছরের অধিক দণ্ডিত ব্যক্তির সাজা স্থগিত করে তাঁকে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া একটি আদেশ পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের কারা দুটি আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান জানান, আপিল বিভাগের এই আদেশের কারণে কোনো সাজাপ্রাপ্ত প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এর আগে শনিবার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করে এ বিষয়ে মীমাংসার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদনটি পাঠিয়ে দেন বলে বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার যশোর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার দুর্নীতির মামলা স্থগিত করে তাঁকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিতে আদেশ দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আবেদন করে দুদক। অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় গত ১২ জুলাই, জেলা বিশেষ জজ আদালত ঝিকারগাছা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
পাশে থাকুন শেখ হাসিনার: সাকিব আল হাসান
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পাশে থেকে দেশের অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিতে তরুণ সমাজকে আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব ক্রিকেটের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সম্প্রতি আমার জয়ে বাংলা জয় শ্লোগানের এক ভিডিও বার্তায় এই আহ্বান জানান তিনি। সেখানে নৌকা প্রতীকের উল্লেখ না করলেও বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করে দলটিকে আবারও বিজয়ী করার ইঙ্গিত দেন সাকিব। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটে নামার কথা ছিল সাকিব আল হাসানের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটের স্বার্থে তিনি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও সাকিবকে খেলায় মনযোগ দিতে বলেন। ভিডিও বার্তায় সাকিব বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবারের সবাইকে হারিয়ে দেশকে জেতানোর লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন। বাংলাদেশটাই এখন তার পরিবার। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের মানুষের ভালো থাকার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে তরুণদের নিয়ে। সব ক্ষেত্রেই তিনি সমৃদ্ধ আগামীর বাংলাদেশ গড়ার নীতি গ্রহণ করেছেন। শেখ হাসিনার এই উন্নয়ন ও অগযাত্রাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সাকিব। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে বহুদূর এগিয়ে নিতে তোমাদের সক্রিয় সমর্থন প্রয়োজন। আমার বিশ্বাস, আমরা দাড়ালে এই দেশ কখনোই হারবে না। কারণ তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশের ভালো-মন্দে আমাদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। বিশ্বসেরা এই ক্রিকেটার বলেন, প্রতিটি মানুষই যার যার মতো করে আলাদা। কিন্তু প্রাণের এই বাংলাদেশের ব্যাপারে আমরা সবাই এক। দেশের মানুষকে ভালো রাখা, এগিয়ে যাওয়ার দুর্বার যাত্রায় বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক ও মানব উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অগ্রগতিতে বাংলাদেশকে বিশ্বে উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে। প্রশ্ন রেখে সাকিব বলেন,নিজের মাকে নিয়ে আমরা যেভাবে ভাবি, দেশ নিয়ে কি সেভাবে ভাবি? অথচ দেশ কিন্তু আমাদের নিয়ে ঠিকই ভাবছে। নজর রাখছে ভালো-মন্দের। তার ভালো থাকায় আমাদেরও ভালো থাকা। আর সবার ভালো থাকা মানেই দেশের ভালো থাকা। তাই দেশকে নিয়ে এবার ভাবার সময় এসেছে। কারণ দেশ মানে আর কিছু নয়, আমি-তুমি-আমরা। বাংলাদেশ ক্রিকেটের অতীতের উদাহরণ টেনে সাকিব বলেন, ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত আমরা ৭২টি ম্যাচ খেলেছি। বেশিরভাগই হেরেছি। কিন্তু আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল, আমরা জিততে চেয়েছিলাম। কারণ এটা শুধু আমাদের কাছে খেলা নয়, দেশের সম্মান। এ জন্যই আমরা ঘুরে দাড়াতে পেরেছিলাম। নিজের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মাত্র ১৯ বছর বয়সে আমি ক্রিকেট শুরু করেছিলাম। এতো বছর পরেও যখন ক্রিজে দাড়াই, আমার সঙ্গে দাড়ায় বাংলাদেশ। আজ তোমরা যারা তরুণ, তোমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই স্বপ্ন আছে। কিন্তু শুধু স্বপ্ন থাকলেই হবে না। ব্যক্তির স্বপ্নকে দেশের স্বপ্ন করতে হবে। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নিজেকে তৈরি করতে হবে, চিনে নিতে হবে সঠিক পথ।
প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু
অনলাইন ডেস্ক: প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক বিষয় নিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ কথা বলেন। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা প্রশাসক ও দুজন বিভাগীয় কমিশনার রয়েছেন, যারা এ বিষয়টির দায়িত্বে থাকেন। জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের প্যানেল যাচাই করেন মনোনয়নপত্রে যে তথ্যগুলো চাওয়া হয়েছে, প্রার্থীরা সেগুলো দিয়েছে কিনা। প্রার্থীর নাম, পিতা-মাতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, প্রস্তাবকের নাম, সমর্থকের নাম, প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষর, তিনি হলফনামা যথাযথভাবে পূরণ করেছেন কিনা, প্রার্থীর নামে কোনো ফৌজদারি মামলা আছে কিনা। এ ছাড়া প্রার্থী ও তার পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণ সংযুক্ত করতে হয় মনোনয়নপত্রের সঙ্গে। প্রার্থিতা কেন বাতিল হয় এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, প্রার্থীর নামে ফৌজদারি মামলা থাকলে বা প্রার্থী যদি কোনো তথ্য গোপন করেন, তা হলে তার প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। এ ছাড়া প্রার্থী অভিযুক্ত আসামি বা ঋণখেলাপি হলেও তার প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। এমনকি প্রার্থী যদি মনোনয়নপত্রে ভুলবশত স্বাক্ষরও না দেন, তা হলেও তার বাদ পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
নির্বাচনের পর ইজতেমার সময় নির্ধারণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমার তুরাগ মাঠ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। নির্বাচনের পর আলোচনা করে ইজতেমার সময় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শনিবার (১ ডিসেম্বর) ইজতেমার মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে মাওলানা সাদ ও ইব্রাহিম গ্রুপের বিবাদ নিষ্পত্তি করতে ডাকা বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এসব কথা বলেন। সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের কথাও জানান মন্ত্রী। এ সময়ের মধ্যে দুগ্রুপের বিবাদ নিষ্পত্তি করার উদ্যোগও নেয়া হবে বলে জানান তিনি। সভায় মাওলানা সাদ-এর সমর্থিত গ্রুপের ওয়াসিফুর ইসলাম ও ইব্রাহিম দৌলা সমর্থিত গ্রুপের মাওলানা জুবায়ের হোসেনের পক্ষে আশরাফ আলী ও আব্দুল কুদ্দুস সভায় অংশ নেন। প্রায় দুঘণ্টার সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়াসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসঊদ উপস্থিত ছিলেন। শনিবার বিকেল ৩টায় বৈঠক শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তাবলিগ জামাতের দুপক্ষ আসতে দেরি করে। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সভাস্থলে আসেন সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, মাওলানা জুবায়ের পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দ বিকেল পৌনে ৫টায় আসলে বৈঠক শুরু হয়।
গাজীপুরে তাবলিগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১
অনলাইন ডেস্ক: গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় আয়োজনকে কেন্দ্র করে তাবলিগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইসমাইল মণ্ডল (৬৫) নামে এক মুসল্লি নিহত হয়েছেন। এতে উভয়পক্ষের অন্তত তিন শতাধিক মুসল্লি আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, টঙ্গী, গাজীপুরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নিহত ইসমাইল মণ্ডল মুন্সীগঞ্জের মিলিয়াপাড়া গ্রামের খলিল মণ্ডলের ছেলে ও মাওলানা সাদ গ্রুপের অনুসারী। শনিবার ভোর থেকে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। টঙ্গীতে ইজতেমা ময়দানের ১ নম্বর প্রবেশ ফটকে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে ৫০ থেকে ৬০ জন আহত হন। টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মাথা ও শরীরে ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তিনি ইজতেমা ময়দানেই প্রতিপক্ষের হামলায় মারা গেছেন। ইজতেমা সূত্র এবং স্থানীয়রা জানান, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে মাওলানা জুবায়ের ও মাওলানা সাদ- এই দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়ে মুসল্লিরা। জোড় ইজতেমা উপলক্ষে মাওলানা জুবায়ের পক্ষের মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছিল। শনিবার সকাল থেকেই সাদপক্ষের অনুসারীরা ইজতেমা ময়দান এলাকায় আসতে শুরু করে এবং ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাদপক্ষের মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠের চারপাশ এবং সংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পশ্চিম লেনে অবস্থান নেয়। এতে ওই লেনে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয়। একপর্যায়ে দুপুরের দিকে সাদপক্ষের মুসল্লিরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জুবায়ের পক্ষের মুসল্লিদের ওপর হামলা চালায়।
প্রকাশ্যে ভোট দেয়া বেআইনী: ইসি রফিকুল ইসলাম
অনলাইন ডেস্ক: প্রকাশ্যে ভোট দেয়া বেআইনী, কাউকে এ ধরনের কর্মকান্ডের অনুমতি না দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আজ প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম এ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, আপনারা কাউকে ব্যালট পেপার দিয়ে দিলেন, উনি গোপন কক্ষে না গিয়ে প্রকাশ্যে ভোট দিলেন। এটা বেআইনী, যেহেতু আইনে এটা পারমিট করে না, আপনারাও তা অ্যালাউ করবেন না। প্রশিক্ষণার্থীকেও (প্রিজাইডিং, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার) বলবেন- ডোন্ট অ্যালাউ ইট। কারণ এ ধরনের কর্মকান্ড নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। রফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তার জন্য চিন্তা করবেন না। একেবারে চৌকিদার থেকে সেনা বাহিনীর কেউ বাদ থাকবে না। নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সবাই যুক্ত থাকবেন। জীবন, মালামাল নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আপনারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখবেন। আপনার অনুমতি ছাড়া তারা যেন কোথাও যেতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রে আসতে পারবে কি না, কেন্দ্রে গেলেই তো ভোট দেবো এ রকমও প্রশ্ন আসতেছে। এটা আপনাদের বিষয়। এর জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে। দরকার হলে আরো ব্যবস্থা নেব যাতে ভোটাররা ভোট দিতে কেন্দ্রে আসতে পারেন। তারপরও যদি কোনো এক্সিডেন্ট হয়, তাহলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব। তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে নির্বাচন করেন আপনারা। নির্বাচনের প্লানিংটা করে নির্বাচন কমিশন ও সচিবালয়। আমাদের মান সম্মান ইজ্জত আপনাদের হাতে ন্যস্ত। নির্বাচনের সব দায়িত্ব আপনারা পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনের দিন পত্রিকা টেলিভিশনে দেখা যায়, একজন ভোটার এসে বলছে আমার ভোটটা দেয়া হয়ে গেছে। যদি নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ঠিকমত তার কাজটা করেন। তাহলে একজনের ভোট আরেকজনের দেয়ার কথা নয়। নির্বাচনী আইন ফলো করলে নির্বাচনকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারবে না। তিনি বলেন, ছবিসহ ভোটার তালিকা রয়েছে। ঠিক মতো যদি আইডিন্টেফিকেশন হয়। যদি আপনারা কাউকে জোর করে বের করে না দিয়ে এজেন্টদের ঠিকমত রাখেন। তাহলে কোনোক্রমেই একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারবে না। ইসির কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেনের মরদেহ হোটেল কক্ষে
অনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান আলোকচিত্রী ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন আনুর (৭০) লাশ পাওয়া গেছে রাজধানীর একটি হোটেলে। শনিবার সকালে রাজধানীর পান্থপথে হোটেল ওলিওর একটি কক্ষে এই আলোকচিত্রীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তিনি কিছুদিন আগেই ফ্রান্স থেকে দেশে এসেছেন। পুলিশ জানায়, সকালে পান্থপথের হোটেল ওলিওর একটি কক্ষে আনোয়ার হোসেনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সম্প্রতি তিনি ফ্রান্স থেকে দেশের ফেরেন। আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৪৮ সালে, পুরান ঢাকায়। ১৯৬৭ সালে আলোকচিত্রী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। আনোয়ার হোসেনের বাবা সিনেমা অফিসে চাকরি করতেন বলে প্রচুর ছবি দেখার সুযোগ পেতেন। সেখান চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। সেই আগ্রহের কারণে স্থিরচিত্রের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য বেশি কিছু ছবির সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন তিনি। সূর্যদিঘল বাড়ি, এমিলির গোয়েন্দা বাহিনী, লালসালু, অন্যজীবন-এর মতো কালজীয় ছবিতে চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন আনোয়ার হোসেন। অসাধারণ চিত্রগ্রহণের জন্য তিনি পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
মার্কিন কংগ্রেসে জামায়াতের বিরুদ্ধে বিল পেশ
অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন কংগ্রেসে মৌলবাদী সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র-শিবিরকে দেশের স্থিতিশীলতা ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের জন্য চলমান হুমকি উল্লেখ করে বাংলাদেশ সরকারকে তাদের রুখে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী ইন্ডিয়ানা স্টেটের কংগ্রেসম্যান জিম ব্যাংকস বাংলাদেশে সক্রিয় ধর্ম-রাষ্ট্রিক সংগঠনগুলোর সৃষ্ট গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি হুমকির বিষয়ের উদ্বেগ প্রকাশ শীর্ষক এ বিলটি গত ২০ নভেম্বর হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে উত্থাপন করেন। ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী হাউজ রেজাল্যুশন ১১৫৬ হাউজ ফরেন এ্যাফেয়ার্স কমিটিতে রেফার করা হয়েছে। বিলটিতে ইউনাইটেড স্টেট এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএইড) ও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরকে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উগ্র মৌলবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সকল গ্রুপের সঙ্গে সব ধরনের অংশীদারিত্ব ও তহবিল ব্যবস্থাপনা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। খবর বাসসর বিলটিতে বলা হয়, বাংলাদেশে বিগত নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। যার ফলে ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৯৫টি হিন্দু বাড়ি ধ্বংস করা হয়। ৫৮৫টি দোকানে হামলা ও লুট এবং ১৬৯টি উপাসনালয় ভাঙচুর করা হয়। বিলটিতে আরো বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী কর্মীরা সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে উল্লেখ করে বিলটিতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে সাড়া দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিলটিতে বাংলাদেশের ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধে হতাহতদের কথা এবং বাংলাদেশ যে ধর্ম-নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর প্রতিষ্ঠিত তাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। বিলে বাংলাদেশের মানুষ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে এবং একটি ধর্ম-নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে উল্লেখ করে বলা হয়, এই স্বাধীনতা অর্জিত হয় প্রায় ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু, এক কোটির বেশি মানুষের উদ্বাস্তু হওয়া ও দুই লাখ নারী ধর্ষিত হওয়ার বিনিময়ে। আর এর অনেক ঘটনা ঘটেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ইসলামপন্থী উগ্রবাদীদের হাতে। বিলটিতে বলা হয়, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর উপর্যুপরি হামলা ধর্মীয় অসহিংসতা বাড়াচ্ছে এবং জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উগ্র মৌলবাদী সংগঠনগুলোর সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে। এদিকে ফিলাডেলফিয়া ভিত্তিক থিংকট্যাংক মিডল ইস্ট ফোরাম (এমইএফ) এক বিবৃতিতে এ বিলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে,জামায়াতে ইসলামী একটি প্রভাবশালী ও বিপজ্জনক ইসলামী গ্রুপ, যাদের সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গত অক্টোবরে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন হাইকোর্টের একটি আদেশ অনুযায়ী বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন বাতিল করে। ২০১৩ সালের আগস্টে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক চাঁদপুরী ও অপর ২৪ জনের দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের প্রেক্ষাপটে হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে। এ পিটিশনে তারা বলেন, জামায়াত একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল এবং এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।
একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক তারামন বিবি আর নেই
অনলাইন ডেস্ক: একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক তারামন বিবি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে...রাজিউন)। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলা সদরের নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তারামন বিবি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট আর ডায়েবেটিসে ভুগছিলেন। গত মাসেও তাকে ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। শুক্রবার রাতে তার অবস্থা খারাপের দিকে যায়। রাত ১টা ২৭মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি তার স্বামী আবদুল মজিদ, এক কন্যা ও এক পুত্র রেখে গেছেন। বীরপ্রতীক তারামন বিবির মুত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম পৃথকভাবে তারামন বিবির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপতি মরহুমার রুহের শান্তি ও মুক্তি কামনা এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, জাতি এবং স্বাধীনতা প্রিয় জনগণ চিরকাল তারামন বিবিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবির অসামান্য অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন,মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে তারামন বিবি অস্ত্র হাতে নিয়ে যে সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তার সেই অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আজ দুপুরে রাজিবপুর উপজেলার কাচারীপাড়া তালতলা কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তারামন বিবির দাফন হওয়ার কথা। তার আগে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। কুড়িগ্রামের শংকর মাধবপুরে ১১ নম্বর সেক্টরে কমান্ডার আবু তাহেরের অধীনে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তারামন বিবি। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা, তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পাকিস্তানিদের খবর সংগ্রহের পাশাপাশি অস্ত্র হাতে সম্মুখ যুদ্ধেও তিনি অংশ নিয়েছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালে তারামনকে বীর প্রতীক খেতাব দেয়। পরে সরকারের পক্ষ থেকে তারামন বিবির হাতে সম্মাননা তুলে দেয়া হয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর