প্রকাশ্যে ভোট দেয়া বেআইনী: ইসি রফিকুল ইসলাম
অনলাইন ডেস্ক: প্রকাশ্যে ভোট দেয়া বেআইনী, কাউকে এ ধরনের কর্মকান্ডের অনুমতি না দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আজ প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম এ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, আপনারা কাউকে ব্যালট পেপার দিয়ে দিলেন, উনি গোপন কক্ষে না গিয়ে প্রকাশ্যে ভোট দিলেন। এটা বেআইনী, যেহেতু আইনে এটা পারমিট করে না, আপনারাও তা অ্যালাউ করবেন না। প্রশিক্ষণার্থীকেও (প্রিজাইডিং, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার) বলবেন- ডোন্ট অ্যালাউ ইট। কারণ এ ধরনের কর্মকান্ড নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। রফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তার জন্য চিন্তা করবেন না। একেবারে চৌকিদার থেকে সেনা বাহিনীর কেউ বাদ থাকবে না। নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সবাই যুক্ত থাকবেন। জীবন, মালামাল নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আপনারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখবেন। আপনার অনুমতি ছাড়া তারা যেন কোথাও যেতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রে আসতে পারবে কি না, কেন্দ্রে গেলেই তো ভোট দেবো এ রকমও প্রশ্ন আসতেছে। এটা আপনাদের বিষয়। এর জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে। দরকার হলে আরো ব্যবস্থা নেব যাতে ভোটাররা ভোট দিতে কেন্দ্রে আসতে পারেন। তারপরও যদি কোনো এক্সিডেন্ট হয়, তাহলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব। তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে নির্বাচন করেন আপনারা। নির্বাচনের প্লানিংটা করে নির্বাচন কমিশন ও সচিবালয়। আমাদের মান সম্মান ইজ্জত আপনাদের হাতে ন্যস্ত। নির্বাচনের সব দায়িত্ব আপনারা পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনের দিন পত্রিকা টেলিভিশনে দেখা যায়, একজন ভোটার এসে বলছে আমার ভোটটা দেয়া হয়ে গেছে। যদি নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ঠিকমত তার কাজটা করেন। তাহলে একজনের ভোট আরেকজনের দেয়ার কথা নয়। নির্বাচনী আইন ফলো করলে নির্বাচনকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারবে না। তিনি বলেন, ছবিসহ ভোটার তালিকা রয়েছে। ঠিক মতো যদি আইডিন্টেফিকেশন হয়। যদি আপনারা কাউকে জোর করে বের করে না দিয়ে এজেন্টদের ঠিকমত রাখেন। তাহলে কোনোক্রমেই একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারবে না। ইসির কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেনের মরদেহ হোটেল কক্ষে
অনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান আলোকচিত্রী ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন আনুর (৭০) লাশ পাওয়া গেছে রাজধানীর একটি হোটেলে। শনিবার সকালে রাজধানীর পান্থপথে হোটেল ওলিওর একটি কক্ষে এই আলোকচিত্রীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তিনি কিছুদিন আগেই ফ্রান্স থেকে দেশে এসেছেন। পুলিশ জানায়, সকালে পান্থপথের হোটেল ওলিওর একটি কক্ষে আনোয়ার হোসেনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সম্প্রতি তিনি ফ্রান্স থেকে দেশের ফেরেন। আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৪৮ সালে, পুরান ঢাকায়। ১৯৬৭ সালে আলোকচিত্রী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। আনোয়ার হোসেনের বাবা সিনেমা অফিসে চাকরি করতেন বলে প্রচুর ছবি দেখার সুযোগ পেতেন। সেখান চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। সেই আগ্রহের কারণে স্থিরচিত্রের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য বেশি কিছু ছবির সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন তিনি। সূর্যদিঘল বাড়ি, এমিলির গোয়েন্দা বাহিনী, লালসালু, অন্যজীবন-এর মতো কালজীয় ছবিতে চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন আনোয়ার হোসেন। অসাধারণ চিত্রগ্রহণের জন্য তিনি পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
মার্কিন কংগ্রেসে জামায়াতের বিরুদ্ধে বিল পেশ
অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন কংগ্রেসে মৌলবাদী সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র-শিবিরকে দেশের স্থিতিশীলতা ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের জন্য চলমান হুমকি উল্লেখ করে বাংলাদেশ সরকারকে তাদের রুখে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী ইন্ডিয়ানা স্টেটের কংগ্রেসম্যান জিম ব্যাংকস বাংলাদেশে সক্রিয় ধর্ম-রাষ্ট্রিক সংগঠনগুলোর সৃষ্ট গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি হুমকির বিষয়ের উদ্বেগ প্রকাশ শীর্ষক এ বিলটি গত ২০ নভেম্বর হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে উত্থাপন করেন। ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী হাউজ রেজাল্যুশন ১১৫৬ হাউজ ফরেন এ্যাফেয়ার্স কমিটিতে রেফার করা হয়েছে। বিলটিতে ইউনাইটেড স্টেট এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএইড) ও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরকে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উগ্র মৌলবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সকল গ্রুপের সঙ্গে সব ধরনের অংশীদারিত্ব ও তহবিল ব্যবস্থাপনা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। খবর বাসসর বিলটিতে বলা হয়, বাংলাদেশে বিগত নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। যার ফলে ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৯৫টি হিন্দু বাড়ি ধ্বংস করা হয়। ৫৮৫টি দোকানে হামলা ও লুট এবং ১৬৯টি উপাসনালয় ভাঙচুর করা হয়। বিলটিতে আরো বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী কর্মীরা সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে উল্লেখ করে বিলটিতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে সাড়া দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিলটিতে বাংলাদেশের ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধে হতাহতদের কথা এবং বাংলাদেশ যে ধর্ম-নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর প্রতিষ্ঠিত তাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। বিলে বাংলাদেশের মানুষ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে এবং একটি ধর্ম-নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে উল্লেখ করে বলা হয়, এই স্বাধীনতা অর্জিত হয় প্রায় ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু, এক কোটির বেশি মানুষের উদ্বাস্তু হওয়া ও দুই লাখ নারী ধর্ষিত হওয়ার বিনিময়ে। আর এর অনেক ঘটনা ঘটেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ইসলামপন্থী উগ্রবাদীদের হাতে। বিলটিতে বলা হয়, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর উপর্যুপরি হামলা ধর্মীয় অসহিংসতা বাড়াচ্ছে এবং জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উগ্র মৌলবাদী সংগঠনগুলোর সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে। এদিকে ফিলাডেলফিয়া ভিত্তিক থিংকট্যাংক মিডল ইস্ট ফোরাম (এমইএফ) এক বিবৃতিতে এ বিলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে,জামায়াতে ইসলামী একটি প্রভাবশালী ও বিপজ্জনক ইসলামী গ্রুপ, যাদের সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গত অক্টোবরে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন হাইকোর্টের একটি আদেশ অনুযায়ী বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন বাতিল করে। ২০১৩ সালের আগস্টে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক চাঁদপুরী ও অপর ২৪ জনের দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের প্রেক্ষাপটে হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে। এ পিটিশনে তারা বলেন, জামায়াত একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল এবং এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।
একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক তারামন বিবি আর নেই
অনলাইন ডেস্ক: একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক তারামন বিবি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে...রাজিউন)। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলা সদরের নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তারামন বিবি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট আর ডায়েবেটিসে ভুগছিলেন। গত মাসেও তাকে ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। শুক্রবার রাতে তার অবস্থা খারাপের দিকে যায়। রাত ১টা ২৭মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি তার স্বামী আবদুল মজিদ, এক কন্যা ও এক পুত্র রেখে গেছেন। বীরপ্রতীক তারামন বিবির মুত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম পৃথকভাবে তারামন বিবির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপতি মরহুমার রুহের শান্তি ও মুক্তি কামনা এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, জাতি এবং স্বাধীনতা প্রিয় জনগণ চিরকাল তারামন বিবিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবির অসামান্য অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন,মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে তারামন বিবি অস্ত্র হাতে নিয়ে যে সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তার সেই অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আজ দুপুরে রাজিবপুর উপজেলার কাচারীপাড়া তালতলা কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তারামন বিবির দাফন হওয়ার কথা। তার আগে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। কুড়িগ্রামের শংকর মাধবপুরে ১১ নম্বর সেক্টরে কমান্ডার আবু তাহেরের অধীনে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তারামন বিবি। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা, তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পাকিস্তানিদের খবর সংগ্রহের পাশাপাশি অস্ত্র হাতে সম্মুখ যুদ্ধেও তিনি অংশ নিয়েছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালে তারামনকে বীর প্রতীক খেতাব দেয়। পরে সরকারের পক্ষ থেকে তারামন বিবির হাতে সম্মাননা তুলে দেয়া হয়।
হাইকোর্টের আদেশ সুপ্রিম কোর্টে স্থগিত ,সাজা স্থগিত হলে করতে পারবেন নির্বাচন
অনলাইন ডেস্ক: বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা কিংবা দণ্ড স্থগিত হলে দণ্ডিত ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার জজ আদালত। ফলে কোন ব্যক্তির সাজা স্থগিত হলেও তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। শনিবার চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামীকাল পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে এই মামলার শুনানির দিন ঠিক করেন আদালত। শনিবার আদালত বন্ধ থাকলেও বিশেষ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে এর ওপর শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গত ২৯ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে ঝিকরগাছা উপজেলার চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানাকে বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা ও দণ্ড স্থগিত করে বিচারপতি মোহাম্মদ রইস উদ্দিনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশ দেন। পরে সাবিরা সুলতানার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম জানান, বিচারিক আদালতের দেওয়া সাবিরা সুলতানার সাজা ও দণ্ড স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে এই আদেশের পর থেকে যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান তারা হাইকোর্টে সাজা বা দণ্ড স্থগিত চেয়ে আবেদন করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছিলেন, সংবিধান অনুসারে ২ বছরের অধিক সাজাপ্রাপ্ত ব্যাক্তির নির্বাচনে অংশ নিতে অযোগ্য হবেন। তাই হাইকোর্টের এই একক বেঞ্চের আদেশের বিরুদ্ধে আমরা আপিলে যাবো। সাবিরা সুলতানার ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ২৪ মে সাবিরা সুলতানা তার ৫৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৩৫ টাকা সম্পদের হিসাব জমা দেন দুদকে। পরবর্তী সময়ে দুককের অনুসন্ধানে দেখা যায় ৪৫ লাখ টাকার সম্পদের বিষয়ে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য দেওয়াসহ ১ কোটি ৭৮ হাজার ১৩৫ টাকার সম্পত্তি অসাধু উপায়ে অর্জন করেছেন সাবিরা সুলতানা। যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। ওই ঘটনায় গত ২০১০ সালের ২০ জুলাই সৈয়দ আহমেদ (দুদকের সহকারী পরিচালক) বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর ওই বছর ২৫ জুলাই ৯ জনকে সাক্ষী করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০১১ সালের ৯ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
আদালতের এখতিয়ার জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। সামনে নির্বাচন। মাত্র ২৮ দিন বাকী আছে। এই মুহূর্তে জামায়াত কিংবা অন্য কোনো দলকে নিষিদ্ধের বিষয়ে সরকারের পক্ষে কিছু করা সম্ভব না। তিনি বলেন, বিএনপি এবং জামায়াতের সম্পর্ক একেবারেই আদর্শিক। তারা সারা বছর এক সঙ্গেই কাজ করে।
রাজধানীর উত্তরায় তাবলিগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর উত্তরায় তাবলিগ জামাতের সাদপন্থী ও যোবায়েরপন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ১০টার পর উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরে বিশ্বনবী (স.) দারুল উলুম মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এখনও দুই পক্ষে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল ১০টার পর সাদপন্থীরা একটি মিছিল নিয়ে বিশ্বনবী (স.) দারুল উলুম মাদ্রাসার সামনে আসে। এসময় তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই মাদ্রাসায় হামলা চালায়। এতে ওই মাদ্রাসায় অবস্থানরত যোবায়ের পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয়পক্ষের ২০-২৫ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে সকালে বিমানবন্দর গোলচত্বরে তাবলিগের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ বলছে, শনিবার ভোর থেকে তাবলিগের এক পক্ষ সড়কের একপাশে অবস্থান নেয়। টঙ্গীর আব্দুল্লাহপুরেও অবস্থান নিয়েছে আরেক পক্ষ। এতে উত্তরাগামী সড়কে ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। এ কারণে মহাখালী থেকে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উত্তরা জোনের ট্রাফিকের সহকারী কমিশনার জুলফিকার জুয়েল গণমাধ্যমকে বলেন, ভোর থেকেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক
অনলাইন ডেস্ক: মাঠের বিরোধীদল বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে বাংলাদেশে সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধি দলের সদস্য ডেবিট নোয়েল ওয়ার্ড, এটনি মারিয়া গুনারি এবং ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত রেনজি টেরিংক উপস্থিত আছেন। বিএনপির পক্ষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা ও নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। আর বুধবার (২৮ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়েছিল, এবার তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে না।
ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে মুখোমুখি যারা
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনটি আসন ফাঁকা রেখেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির পক্ষ থেকেও প্রার্থী দেওয়া হয়েছে ১৭ আসনে। এখন পর্যন্ত দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থানে আছেন অনেকে। তবে আওয়ামী লীগ অথবা মহাজোটের প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও বিএনপি এবং তার দুই জোট ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত নয়। কারণ, বিএনপি একাধিক প্রার্থী জমা দিয়েছে। ফলে চূড়ান্ত প্রার্থী কারা, সেটা জানার সুযোগ নেই। তবে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা কারা সেটা জানা যাচ্ছে। ঢাকা-১ (দোহার ও নবাবগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালমান এফ রহমান। বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম। আসনটিতে বিএনপি মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে সায়মা হোসেন বুবলী, খন্দকার আবু আশফাক ও অন্তরা সেলিমা হুদাকে। ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ-কামরাঙ্গীরচর ও সাভারের অংশবিশেষ) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে। বিএনপি এখানে মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে দুজনকে। আমানউল্লাহ আমান ও তার ছেলে ইরফান ইবনে আমান। তবে আইনি জটিলতায় আমানের ভোটে দাঁড়ানো অনিশ্চিত। ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন নসরুল হামিদ বিপু। তার বিপরীতে বিএনপি প্রার্থী করেছে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং তার পুত্রবধূ নিপুণ রায় চৌধুরীকে। ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসন এখন পর্যন্ত ফাঁকা রেখেছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দল এখানে জাতীয় পার্টিকে সমর্থন দেবে এবং দলটি প্রার্থী করেছে সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাকে। আসনটির বিএনপির মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন সালাউদ্দিন আহমেদ এবং তার ছেলে তানভীর আহমেদ রবিন। ঢাকা-৫ (ডেমরা-যাত্রাবাড়ী) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন দুজন। হাবিবুর রহমান মোল্লা অথবা মিজানুর রহমান মনু দাঁড়াবেন নৌকা প্রতীক নিয়ে। আসনটিতে বিএনপি মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে নবী উল্লাহ নবী ও সেলিম ভুঁইয়াকে। ঢাকা-৬ (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেয়নি। জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদকে দলটি সমর্থন দেবে। এই আসনে বিএনপির মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন ইশরাক হোসেন ও কাজী আবুল বাশার। ঢাকা-৭ (লালবাগ-চকবাজার) আসনে আওয়ামী লীগের চিঠি পেয়েছেন হাজী মো. সেলিম এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত। ঢাকা-৭ আসনে বিএনপি মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে নাসিমা আক্তার কল্পনা এবং রফিকুল ইসলাম রাসেলকে। ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল) আসন ফাঁকা রেখেছে আওয়ামী লীগ। এখানে জোটের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে সমর্থন দেবে ক্ষমতাসীন দল। এই আসনে বিএনপি চিঠি দিয়েছে দলের সভাপতিম-লীর সদস্য মির্জা আব্বাসকে। ঢাকা-৯ (মুগদা-সবুজবাগ) আসনে নৌকা প্রতীকে লড়বেন সাবের হোসেন চৌধুরী। এখানে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে হাবীব-উন-নবী খান সোহেল ও আফরোজা আব্বাসকে। যদিও সোহেল জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই আসন থেকে ভোটে লড়বেন না। ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি-হাজারীবাগ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। আসনটিতে বিএনপির মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন নাসিরউদ্দিন অসীম ও আবদুল মান্নান। ঢাকা-১১ (বাড্ডা-ভাটারা) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন এ কে এম রহমতুল্লাহ। আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী করেছে শামীম আরা বেগম এবং এ জি এম শামসুল ইসলামকে। ঢাকা-১২ (তেজগাঁও) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হবেন সাইফুল আলম নীরব অথবা আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার। ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শেরেবাংলা নগর) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান। এই আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম তালুকদার অথবা আতাউর রহমান ঢালী দাঁড়াবেন ভোটে। ঢাকা-১৪ (মিরপুর-শাহ আলী) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সাংসদ আসলামুল হক আসলাম। তার বিপরীতে বিএনপির আমিনুল ইসলাম ও সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক (সাজু)-কে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঢাকা-১৫ (কাফরুল) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার। আসনটিতে এখনো প্রার্থী দেয়নি বিএনপি। ঢাকা-১৬ (পল্লবী-রূপনগর) আসনে নৌকা প্রতীকে লড়বেন ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ। তার বিপরীতেও আহসান উল্লাহ হাসান ও মোয়াজ্জেম হোসেন দুজনকে প্রার্থী রেখেছে বিএনপি। ঢাকা-১৭ (গুলশান-ক্যান্টনমেন্ট) আসনে আকবর হোসেন পাঠান (অভিনেতা ফারুক) অথবা আবদুল কাদের খান লড়বেন নৌকার পক্ষে। এই আসনে ধানের শীষের চিঠি পেয়েছেন রুহুল আলম চৌধুরী, ফরহাদ হালিম ডোনার ও কামাল জামান মোল্লা। ঢাকা-১৮ (উত্তরা-খিলক্ষেত) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সাহারা খাতুন। আসনটিতে বিএনপি চিঠি দিয়েছে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও বাহাউদ্দীন সাদীকে। ঢাকা-১৯ (সাভার) আসনে নৌকার মাঝি এনামুর রহমান। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান মো. সালাহ্উদ্দিন। ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বেনজীর আহমেদ। আর বিএনপি থেকে জিয়াউর রহমান ও সুলতানা আহমেদকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর