৪ জানুয়ারি দেশের প্রথম ছয় লেন উড়ালসেতুর উদ্বোধন
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপালে দেশের প্রথম ছয় লেন উড়ালসেতুর উদ্বোধন আগামী ৪ জানুয়ারি।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই উড়ালসেতু উদ্বোধন করবেন। সোমবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উড়ালসেতুর কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। উড়ালসেতুর নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, উড়ালসেতু ছয় লেনের হলেও সেতুর নিচের দুই পাশে আরও চার সার্ভিস লেন চালু থাকবে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জানান, আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ থাকলেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এর নির্মাণ কাজ ৬ মাস আগেই শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ১৮১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। মূল উড়ালসেতুর দৈর্ঘ্য ৬৬০ মিটার, প্রস্থ ২৪ দশমিক ৬২ মিটার, সার্ভিস রোডের দৈর্ঘ্য এক হাজার ৩৭০ মিটার, সার্ভিস রোডের প্রস্থ ৭ দশমিক ৫ মিটার, অ্যাপ্রোচ রোডের দৈর্ঘ্য এক হাজার ১৬০ মিটার, ১১টি স্প্যান, ফুটপাতের দৈর্ঘ্য দুই হাজার ২১০ মিটার, পিসি গার্ডার ১৩২টি। পরিদর্শন কালে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রধান মেজর জেনারেল ছিদ্দিকুর রহমান সরকার, জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আবেশষে অনশন ভাঙলেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্ত্মাফিজুর রহমান ফিজারের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো আশ্বাস না পেলেও নেতাদের অনুরোধে অনশন ভেঙেছেন 'বেতনবৈষম্য' নিরসনের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তিন দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা প্রাথমিক শিক্ষকরা। শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সোমবার দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনার পর সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি পানি ও ফলের রস খাইয়ে শিক্ষকদের অনশন ভাঙান। বাংলাদেশ প্রাথমিক সরকারি শিক্ষক মহাজোটের নেতা মো. শামসুদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, 'মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা অনশন কর্মসূচি স্থগিত করলাম। আমরা মন্ত্রীর সঙ্গে আরও আলোচনা চালিয়ে যাব।' সরকারি প্রাথমিক স্কুলে একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যেখানে একাদশ গ্রেডে বেতন পান সেখানে একই শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে চাকরিতে ঢোকা সহকারী শিক্ষকরা পান চতুর্দশ গ্রেডে। এই 'বৈষম্য' কমিয়ে দ্বাদশ গ্রেডে বেতনের দাবিতে গত শনিবার থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন শুরম্ন করেন সারাদেশ থেকে আসা শিক্ষকরা। জাতীয় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ নামে তিনটি সংগঠনসহ সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশ প্রাথমিক সরকারি শিক্ষক মহাজোটের ব্যানারে এই কর্মসূচিতে কয়েকশ শিক্ষক অংশ নেন। অনশনে গত তিন দিনে অন্ত্মত ৬০ জন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে সোমবার দুপুরের পর শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্ত্মাফিজুর রহমান ফিজার। তার মিন্টো রোডের বাসায় প্রায় এক ঘণ্টার ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১৫ জন শিক্ষক প্রতিনিধি। বৈঠকের পর সরকারি শিক্ষক মহাজোটের প্রতিনিধি মো. শামসুদ্দীন বলেন, 'মন্ত্রী সন্ধ্যায় শহীদ মিনারে যাবেন। আলোচনায় নেয়া সিদ্ধান্ত্মগুলো অনশনরত শিক্ষকদের সামনে তুলে ধরে অনশন ভাঙানোর চেষ্টা চালাবেন। মন্ত্রীর কথা শুনে শিক্ষকরাই সিদ্ধান্ত্ম নেবেন- তারা অনশন ভাঙবেন কি না।' সে অনুযায়ী সন্ধ্যার আগে আগে শহীদ মিনারে গিয়ে অনশনরত শিক্ষকদের মুখোমুখি হন মোস্ত্মাফিজুর রহমান ফিজার। তিনি বলেন, 'প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যকার বেতনবৈষম্য রয়েছে কি না- এটা আমরা খতিয়ে দেখব। তবে পুরো বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। আলোচনা না করে এবং যৌক্তিকতা বিবেচনা না করে এখনই আমি আপনাদের কাগজপত্র দিয়ে দিতে পারব না।' আন্দোলনরত শিক্ষকরা এ সময় চিৎকার করে মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। শিক্ষক মহাজোটের নেতারা তখন তাদের শান্ত্ম করার চেষ্টা করেন। মো. শামসুদ্দীন শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, 'আমার আহ্বানে আপনারা অনশনে এসেছিলেন। আমরা এখন এই কর্মসূচি স্থগিত করতে চাই। আপনারা আমাকে এক মাস সময় দেন। এর মধ্যে আমি দাবি আদায় করে ছাড়ব।' এরপর একপর্যায়ে মন্ত্রী বলেন, 'আপনারা শান্ত্ম হন। আমাকে আমার কাজ করতে দেন।' এরপর মন্ত্রীর হাত থেকে ফলের রস ও পানি নিয়ে কয়েকজন শিক্ষক নেতা অনশন ভাঙলে বাকিরাও অনশনের সমাপ্তি টানেন।
বড়দিন উপলক্ষ্যে চলছে সাজ সাজ রব
খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। তাই চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সারা বিশ্বে পালিত হবে দিনটি। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। বন্দর নগরী চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশেই খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষ্যে চলছে সাজ সাজ রব। যীশুর গোয়াল ঘর, ক্রিসমাস ট্রি থেকে শুরু করে প্রতিটি ঘর আকর্ষণীয় সাজে সাজানো হচ্ছে। পাশাপাশি গির্জাগুলোতেও চলছে এক রকম উৎসবমুখর। তাই এ উপলক্ষে নগরীর হোটেলগুলোতে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। উৎসবের আলোয় নিজেদের রাঙিয়ে তুলতে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ। বেথেলহেমের গোয়াল ঘরে জরাজীর্ণ পরিবেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যীশু। আর তারই আদলে প্রতিটি খ্রিস্টান পরিবারে সাজানো হচ্ছে গোয়াল ঘর। এছাড়া বড়দিনের যে মূল আকর্ষণ ক্রিসমাস ট্রি তাও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী ও কার্ডের মাধ্যমে সাজানো হচ্ছে। সেই সাথে প্রতিটি ঘরই বর্ণিল আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হচ্ছে। শিশুদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বাড়তি আনন্দ। যে কোন উৎসবেই সবচেয়ে বেশি আনন্দের ঢেউ লাগে তাদের মনে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রতি বছর এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকে তারা। বড়দিনে তাদেরও রয়েছে নানান ধরনের পরিকল্পনা। বড়দিনে দেশী-বিদেশী দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে নগরীর নামিদামী তারকা হোটেলগুলোতে নেয়া হয়েছে নানা ধরনের ব্যবস্থা। ক’দিন ধরেই নাচে-গানে চলছে গ্রাহকদের আকর্ষণ করার প্রস্ততি। চট্টগ্রাম রেডিসন ব্লু হোটেল ব্যবস্থাপনা পরিচালক রবিন এডওয়ার্ডস বলেন, 'বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে হোটেল র‍্যাডিসন ব্লুতে। ক্রিসমাসকে চিন্তা করে আমরা ডিনার বুফের আয়োজন করেছি। সাথে থাকছে বিশেষ মিষ্টান্ন।' বিশ্বের সকল মানুষের শান্তি কামনায় ও দেশের সকল মানুষ যাতে সুখে, শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেই জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রামের আর্চ বিশপ। ২৪ ডিসেম্বর রাত ৯ টায় প্রথম ও ১২টায় দ্বিতীয় প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ২৫ ডিসেম্বর সকাল ৮ টায় আরো একটি প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। আর যে কোনো ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে :আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, মেয়েকে ন্যূনতম স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিন। ১৮ বছরের আগেই বিয়ে দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না। রোববার রাজধানীর মিরপুরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের অর্থায়নে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত ৩০১৯ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত প্রধান অতিথি ছিলেন। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সায়েম আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ সময় ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা ও ডাচ-বাংলা ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম সাহাবুদ্দিন আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে। তাই তাদের মেধা বিকাশে সঠিক যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সবসময় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংক সরকারের এ চেষ্টায় সহযোগিতা করছে। মেধাবী অথচ আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। এ মহতি কার্যক্রম ডাচ-বাংলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত এবং দেশ ও জাতি গঠনে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। নতুন বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, আধুনিক যুগোপযোগী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে সিলেবাস প্রণয়ন, উপবৃত্তি প্রদান, শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা প্রণয়ন, কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও মাদরাসা শিক্ষা আধুনিকায়নসহ সরকার নানা কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মেয়েকে ন্যূনতম স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিন। ১৮ বছরের আগে বিয়ে দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না। সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য। সরকারের একার পক্ষে এ বিশাল দায়িত্ব পালন করা দুরূহ ব্যাপার। সে জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমনকি ব্যক্তি বিশেষকেও এগিয়ে আসতে হবে।
সবাই মিলে কাজ করলে মাদক সমস্যার সমাধান হবে :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান বন্ধে কোস্টগার্ডকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের জন্য দুটি জাহাজ মোংলা সমুদ্রবন্দরে এসে পৌঁছেছে। আর বিজিবিতে ১৫ হাজার লোকবল বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আজ রবিবার পিলখানায় 'সীমান্ত সম্পর্কিত সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কে করণীয়' বিষয়ক সীমান্ত এলাকার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সভায় সীমান্ত সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা ও করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্যের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে মাদক তৈরি হয় না। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও টেকনাফ থেকে মাদকদ্রব্য আসে। দেশে যাতে কোনো মাদক না ঢুকতে পারে, সে জন্য বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও রযাবকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলে এই সমস্যার সমাধান হবে। এ ছাড়া সীমান্ত হত্যা কমেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে সীমান্তে হত্যার শিকার হয়েছেন ৬৮ জন, ২০১৭ সালে তা নেমে এসেছে ২১ জনে। এতে প্রমাণ করে বাংলাদেশ-ভারতের সঙ্গে আগের চেয়ে সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। আমাদের আশা সীমান্ত হত্যা জিরোতে চলে আসবে। আমরা চাই না একজন মানুষও সীমান্তে খুন হোক। সভায় আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামালউদ্দীন, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, রযাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন আহমেদ এবং সীমান্তবর্তী এলাকার ৩৩ সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে আগাম নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই :ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আসলে বিএনপি আন্দোলন করতে ব্যর্থ, এখন ছোটখাটো ভায়োলেন্সের ঘটনা দেখিয়ে তারা বাংলাদেশে আছে, একশনে আছে। এটা কর্মীদেরকে বোঝাতে চায়। এটা হচ্ছে মূল কথা। আজ রবিবার দুপুরে কুমিল্লার পদুয়াবাজার বিশ্বরোড রেলওয়ে ওভারপাস পরিদর্শনে এসে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় সেতুমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তিনি যখনই আদালতে যান তখনই তার লোকেরা মারামারিতে লিপ্ত হয়। পুলিশকে তারা উসকানি দেয়, রাস্তা দখল করে তারা পুলিশের প্রতি ইটপাটকেল ছোড়ে। পুলিশ তখন কী করবে? পুলিশকে বাধ্য হয়ে একশনে যেতে হয়। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে আগাম নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এমন কোনো খারাপ কাজ করেনি, যে ইস্যু দেখিয়ে বিএনপি আন্দোলন করবে। ক্ষমতা কি মামার বাড়ির আবদার নাকি, যে মানুষের কাছে চাইলে দিয়ে দিবে। এখন আর মিথ্যাচারের ভাঙা ঢোল বাজিয়ে কোনো লাভ নেই। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সওজ কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহাব উদ্দিন খান, সওজ চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক অরুণ আলো চাকমা ও সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী তোফাজ্জল হায়দার।
মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারকে শান্তনা প্রধানমন্ত্রীর
চট্টগ্রামের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও তিন তিনবার নির্বাচিত সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ষোলশহর চশমা হিলের বাসায় পৌছছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রবিবার বিকেল ৪টা ০৫ মিনিটের সময় প্রধামসন্ত্রীর গাড়ীবহর মরহুম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় পৌছেন।সদ্য প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারকে শান্তনা জানাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাসায় যান। মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী ও নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন, ছেলে ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান নওফেলসহ পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এদিকে মহিউদ্দিনের চশমাহিলের বাসায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইন শৃংখলা বাহিনী। এ কারণে এলাকার দোকান পাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। তবে নগরীর আগ্রাবাদ থেকে ষোলশহর দুই নম্বার গেইট এলাকা পর্যন্ত এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের দুইপার্শ্বে আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ যুবলীগ ও অন্যন্য অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দুপুর থেকে অবস্থান নেয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে।
যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিছপা হব না :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়ী জাতি। অন্যায়ের কাছে মাথানত অথবা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিছপা হব না। তিনি আজ রবিবার সকালে চট্টগ্রামে নেভাল একাডেমিতে নৌবাহিনীর বিএনএ ফ্লোটিলায় রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ মিডশিপম্যান- ২০১৫ পরিদর্শন শেষে দেয়া বক্তব্যে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে জাতির অস্তিত্বের ইতিহাস প্রতিফলিত হয়েছে। আমার মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব ভাষণ দিতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রাক্কালে বাবাকে পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নয়, তার বিবেক যা বলে- সেই কথাগুলোই ভাষণে বলে আসতে। আমার মা বুঝতেন, জাতির পিতাই বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ-বঞ্চনার কথা সবচেয়ে ভালো জানেন। বাঙালি জাতির প্রতি তার মতো গভীর আন্তরিকতা আর কারো নেই।রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নবীন নৌ সদস্যদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের স্বাধীন, সার্বভৌম রক্ষা ও আত্মনিয়োগের জন্য নবীন নৌ সদস্যদের কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে তোমরা এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্বে আত্মনিয়োগ করবে। একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য হিসেবে সর্বদা ঊর্ধ্বতনদের প্রতি আনুগত্য ও অধঃস্তনদের সহমর্মিতা প্রদর্শন করবে। চেইন অব কমান্ড মেনে চলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে বিশ্ব দরবারে আরও গৌরবোজ্জ্বল আসনে অধিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। এর আগে সকাল ১১টার দিকে ঢাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তার গাড়ী বহর নেভাল একাডেমিতে পৌঁছান। এসময় নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল মুহাম্মদ নিজামউদ্দিন আহমেদ তাঁকে স্বাগত জানান। পরে একটি খোলা জিপে করে বার্ষিক প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তিনবাহিনীসহ সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে নগরীর চশমা হিলে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সিটি মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় যাবেন শেখ হাসিনা। সেখানে মহিউদ্দিনের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।
লেবানন সফররত বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাত লেবানিজ নৌ বাহিনীর প্রধানরে
বাংলাদেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনতে চায় লেবানন। লেবানন সফররত বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতকালে এ ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন লেবানিজ নৌ বাহিনীর প্রধান। বিষয়টিকে নৌ কূটনৈতিক তৎপরতার ইতিবাচক নমুনা হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী। বিশ্বের একমাত্র মেরিটাইম টাস্কফোর্সের অধীনে ভূ-মধ্য সাগরে লেবাননের জলসীমায় শান্তি রক্ষায় আরো ৫ টি দেশের ৭ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী। দক্ষতা যোগ্যতা আর কর্মতৎপরতায় ইতোমধ্যেই জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি কেড়েছে এই বাহিনী। এরই প্রতিফলন দেখা যায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে লেবানিজ নৌ বাহিনী প্রধানের বৈঠকে। শুক্রবার বৈরুতে লেবানন নৌ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন দেশটির নেভাল চিফ। লেবানন নৌ বাহিনীর কমান্ডার ইন চীফ আর এ হোসনী দাহের বলেন, 'বাংলাদেশ নৌবাহিনী অন্যদের চেয়ে আলাদা। লেবানিজ এবং বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর মধ্যে সুসম্পর্ক বিরাজ করছে। আশা করি, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সহযোগিতা অব্যাহত রেখে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে বাংলাদেশ।' লেবানন নৌ বাহিনীকে সাধ্যমতো সব ধরনের সহায়তা করার আশ্বাস দেন বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর কমোডর এম নাজমুল করিম কিসলু বলেন, 'বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে লেবাননের নৌবাহিনীর উন্নতির জন্য বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রস্তাব আমরা করেছি। তারাও এই ধরণের প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী। একই সঙ্গে তারা হয়তো আমাদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরণের সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি কেনা এবং এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ নেবে।' দক্ষতা বাড়াতে লেবানিজ নৌ বাহিনীকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়ারও আশ্বাস দেন তারা। বাংলাদেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনে নিজেদের শক্তি বাড়াতে চায় লেবানিজ নৌবাহিনী। এতেকরে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের বাজার তৈরির হাতছানি দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় পাতার আরো খবর