বঙ্গবন্ধুর ৯৮ তম জন্মদিন আজ
আজ ১৭ মার্চ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত এই নেতা ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় এই বয়সী অনেক রাজনেতিক এবং বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিত্বের নেতৃত্ব এবং স্ব-স্ব কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থাকার নজির থাকলেও আমাদের জাতির পিতাকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মাত্র ৫৫ বছর বয়সে প্রাণ দিতে হয়েছিল। জাতি যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আগামীকাল দিবসটি উদযাপন করবে। দিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দেন । এ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়াতেও প্রতিবারের মত বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল সকাল দশটায় টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণসহ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে শেখ রাসেল স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ,আমাদের ছোট রাসেল সোনা শিশু গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, সেলাই মেশিন বিতরণ, উঠব জেগে, ছুটব বেগে শীর্ষক ভিডিও প্রদর্শন, শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদান, বইমেলা উদ্বোধন ও শিশুদের আঁকা আমার ভাবনায় ৭ই মার্চ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশী দূতাবাসসমূহে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার সারাদিন ধরেই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের রেকর্ড বাজানো হবে। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে সারাদেশে বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। জাতীয় দৈনিকগুলো প্রকাশ করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমানে মওলানা আজাদ কলেজ) ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু ১৯৪৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের পূর্ব পাকিস্তান শাখার যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে তিনি পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকেটে ইস্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ এসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন। ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আজীবন সোচ্চার এই অবিসংবাদিত নেতাকে রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ করতে হয়। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬-দফা ও পরবর্তীতে ১১ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ করেন। তাঁর সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ধাপে-ধাপে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে থাকে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হলেও তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বাঙালি জাতির ওপর নানা নির্যাতন শুরু করে। বঙ্গবন্ধু একাত্তরের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। যা ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার এ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব-প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। অন্যদিকে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালীর বহু আকাঙ্খিত বিজয় ও স্বাধীনতা অর্জিত হয়। বিংশ শতাব্দীতে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যারা বিশ্বনন্দিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের অন্যতম। সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিরামহীন সংগ্রামে অবদান রাখার জন্য তিনি বিশ্বশান্তি পরিষদের জুলিও কুরি পদকে ভূষিত হন। বিবিসির এক জরীপে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী নির্বাচিত হন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু যখন বিভিন্নমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করতে শুরু করেন ঠিক সেই মুহূর্তে স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তি ও কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং ওই ষড়যন্ত্রেরই অংশ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনে কতিপয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নিহত হন। বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখে বঙ্গবন্ধু ক্ষণজন্মা পুরুষ। অনন্য সাধারণ এই নেতাকে স্বাধীনতার প্রতীকবা রাজনীতির ছন্দকার খেতাবেও আখ্যা দেয়া হয়। বিদেশী ভক্ত, কট্টর সমালোচক এমনকি শত্রুরাও তাদের নিজ-নিজ ভাষায় তাঁর উচ্চকিত প্রশংসা করেন। বিগত বিংশ শতাব্দীর কিংবদন্তী কিউবার বিপ্লবী নেতা প্রয়াত ফিদেল ক্যাস্ট্রো বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হিমালয়ের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। ক্যাস্ট্রো বলেন, আমি হিমালয়কে দেখেনি, তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসে এই মানুষটি ছিলেন হিমালয় সমান। সুতরাং হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতা আমি লাভ করেছি। ১৯৭৩ সালে আলজেরিয়ায় জোট-নিরপেক্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ক্যাস্ট্রোর সাক্ষাত ঘটে। শ্রীলংকার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লক্ষ্মণ কাদির গামা (নৃশংস হত্যার শিকার) বাংলাদেশের এই মহান নেতা সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছিলেন, দক্ষিণ এশিয়া গত কয়েক শতকে বিশ্বকে অনেক শিক্ষক, দার্শনিক, দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক, রাজনৈতিক নেতা ও যোদ্ধা উপহার দিয়েছে। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান সবকিছুকে ছাপিয়ে যান, তাঁর স্থান নির্ধারিত হয়ে আছে সর্বকালের সর্বোচ্চ আসনে।
ফিজিওথেরাপি সেবা বাড়াতে হবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে :ডেপুটি স্পিকার
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেছেন, স্ট্রোক পরকর্তী পুনর্বাসন চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপির বিকল্প নেই। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগে ফিজিওথেরাপির বিষয়ে সচেতনতা কম। এ ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নয়ন ও প্রসারের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার। শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) আয়োজিত ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন চিকিৎসায় তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্ব শীর্ষক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের ডাটাবেজ উদ্বোধন করেন। ডেপুটি স্পিকার বলেন, ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা শুধু রাজধানী ও অন্যান্য বড় শহর কেন্দ্রিক হলে চলবে না। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরণের চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্র আরও বেশি সম্প্রসারিত করতে হবে। ফিজিওথেরাপিস্টদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা স্ট্রোক পরবর্তী পুনর্বাসন চিকিৎসার মাধ্যমে মানবসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কিন্তু শুধু বিত্তবানদের এ সেবা দিলে চলবে না। দেশের দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্যও আপনাদের সেবার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করতে হবে। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক নাসিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. গোলাম রাব্বানীসহ অন্যান্যেরা বক্তব্য রাখেন।
সব দলের অংশগ্রহণে হবে আগামী নির্বাচন: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। আমি আশা রাখছি, সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে। শুক্রবার সকালে দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় সেক্ষেত্রেও প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। স্মার্টকার্ড বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্মার্টকার্ড সুন্দরভাবে ছাপানো হচ্ছে। এ কাজে অনিয়ম করায় ইতিমধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব নাগরিকের হাতে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র তুলে দেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাতের সঞ্চালনায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। মতবিনিময় সভায় রাজশাহীর পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আমীরুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সমর কুমার পাল, রাজপাড়া থানা নির্বাচন কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম প্রামাণিক, দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, দুর্গাপুর থানার ওসি রুহুল আলম ও পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান, দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবিসহ সরকারের সব দফতরের কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা সকাল ১০টা ২০ মিনিটে দুর্গাপুরে পৌঁছান। এরপর তিনি উপজেলা নির্বাচন অফিস ও সার্ভার স্টেশন পরিদর্শন করেন এবং নির্বাচন অফিসের শূন্য পদে জনবল বাড়ানোর কথা বলেন।
বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার সব খরচ দেবে সরকার
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার সব খরচ সরকারের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। এছাড়া শিগগিরই নিহতদের মরদেহ নেপাল থেকে দেশে আনা হবে। শুক্রবার বেলা ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন শাহরিন আহমেদকে দেখতে এসে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় শাহরিনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আমরা আপনার পাশে আছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আপনার সঙ্গে আছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখছেন। বার্ন ইউনিট থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে সাক্ষাতের কথা তুলে ধরেন সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, শাহরিন আমাকে বললেন, এটা তার জীবনে একটা প্রোমেটিক এক্সপেরিয়েন্স। এরমধ্যেও তিনি টিকে আছেন। এটা আসলে বিরাট ব্যপার, তার মধ্যে সাহস এবং দৃঢ়চেতা আছে। তিনি আমাকে বলেছেন, দোয়া করার জন্য। কাঠমান্ডুতে দুর্ঘটনার শিকারদের বিষয়ে সরকারের কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের আট সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল নেপালে গিয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত আরও তিনজন শুক্রবার দেশে আসছেন। তিনি বলেন, নেপালে নিহতদের ময়নাতদন্ত-ডিএনএ টেস্ট করার কাজ ধীরগতিতে চলছিল। আমাদের চিকিৎসক প্রতিনিধি দল যাওয়ার পর গতি এসেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের সঙ্গে দেখা করছি। গতকালও পৃথুলা রশীদের বাসায় গিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য গিয়েছি। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি শিগগিরই মরদেহ দেশে আনা হবে। পাশাপাশি আহতদের দেশে এনে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
কুতুবদিয়ায় আধুনিকায়ন ও কোস্টাল রেডিও স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় বিদ্যমান লাইটহাউস আধুনিকায়ন ও কোস্টাল রেডিও স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। জিএমডিএসএস এবং ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম স্থাপন প্রকল্পের অধীনে শুক্রবার (১৬ মার্চ) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, এমএ লতিফ প্রমুখ। এসময় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে নৌমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। কুতুবদিয়ায় ঐতিহ্যবাহী বাতিঘরটি আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এখানে এলএনজি টার্মিনাল হবে। আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হবে। খালেদা জিয়াকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, তার জন্ম তারিখ পাঁচটি। একজন মানুষের পাঁচটি জন্ম তারিখ হয় না। তারা যখন ক্ষমতায় ছিল তখন দেশে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য ছিল। এতিমদের টাকা মেরে দিয়েছিল। আদালত তাদের সাজা দিয়েছেন। আর শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এলে দেশে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দুয়ার খুলে দেন। যে চট্টগ্রাম বন্দরে সাড়ে তিন হাজার টাকা এফডিআর ছিল তা এখন সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আজিজ, জেসিআই চিটাগাংয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ এলিট, বর্তমান সভাপতি গিয়াস ফয়সাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাল পতাকা মিছিল জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের
রাজধানীর আশুলিয়ার কাঠগড়ায় অবস্থিত কোরিয়ান মালিকানাধীন হেসং করপোরেশন লিমিটেড (গার্মেন্টস) বন্ধ ঘোষণা, ২৭ শ্রমিককে চাকরিচ্যুত, মজুরি সংক্রান্ত মালিকের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদ জানিয়ে লাল পতাকা মিছিল করেছে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিলে বক্তারা বলেন, হেসং কর্পোরেশন লিমিটেড-এর মালিকের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং ২৭ জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদ করায় গত ১৪ মার্চ কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। মালিকের এই বে-আইনি কার্যকলাপকে অন্ধভাবে সমর্থন করছে শিল্প পুলিশ। অন্যদিকে মালিকের ভাড়াটিয়া মাস্তানদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন নিরীহ শ্রমিকেরা। অবিলম্বে কারখানা খুলে দিতে, চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের চাকরিতে পুনঃবহাল, ইউনিয়ন গঠনের সব বাধা অপসারণের জন্য সরকার, বিজিএমইএ, বায়ার এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানায় জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন। ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মিস্ শাফিয়া পারভীন, ফারুখ খান, কবির হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, নাসিমা আক্তার, হেসং এর চাকরিচ্যুত শ্রমিক হাসান, সামিউল, জাকির, সবুজ, জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।
আগামী জুলাই মাসে ৫ সিটির নির্বাচন
আগামী জুলাই মাসে রাজশাহীসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সিইসি বলেন, গাজীপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই। কখন কোন তারিখে নির্বাচন হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে বলতে পারি, সব নির্বাচন হবে জুলাই মাসের মধ্যে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। এই পাঁচ সিটি করপোরেশনের বর্তমান নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে। এর মধ্যে গাজীপুরের ৪ সেপ্টেম্বর, খুলনার ২৫ সেপ্টেম্বর, রাজশাহীর ৫ অক্টোবর, সিলেটের ৮ অক্টোবর ও বরিশালের ২৪ অক্টোবর নির্বাচনের পাঁচ বছর পূর্ণ হবে। এ অবস্থায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ৯ এপ্রিল থেকে ৫ অক্টোবর, খুলনায় ৩০ মার্চ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর, বরিশালে ২৭ এপ্রিল থেকে ২৩ অক্টোবর, সিলেটে ১৩ মার্চ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর এবং গাজীপুরে ৮ মার্চ থেকে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সিইসি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি অথবা এই বছরের আগামী ডিসেম্বরের শেষের দিকে। অর্থাৎ ডিসেম্বরের ২০ তারিখের পর থেকে জানুয়ারির ২০ তারিখের মধ্যেই এই নির্বাচনও হবে। তবে কোন দল নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, তা তাদের দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন,আমরা আশাবাদী যে সব দলই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এই মুহূর্তে বড় বড় পাঁচ সিটির নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে কমিশন। তিনি বলেন, এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। তবে সেটা কি পরিমাণে ব্যবহার করা হবে তা নির্ভর করবে ইভিএম মেশিন সম্পর্কে প্রশিক্ষণের ওপর। এ সময় বিএনপিসহ সকল দল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এর আগে কেএম নুরুল হুদা উপজেলার দামকুড়াহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে স্মার্টকার্ড বিতরণ পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত পাল, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান ও পবা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহানাজ পারভীন উপস্থিত ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা বিকালে রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি আগামী সিটি ও জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে কমিশনের এ অঞ্চলের কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
১৬ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী আটক বেনাপোল সীমান্তে
যশোরের বেনাপোল সীমান্ত পথে অবৈধভাবে ভারত থেকে ফেরার সময় ১৬ বাংলাদেশি নারী, পুরুষ ও শিশুকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় জড়িত কোনো পাচারকারীকে আটক করা যায়নি। বেনাপোল সীমান্তের নারী, শিশু পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত দৌলতপুর এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে ৪৯ ব্যাটালিয়নের বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করেন। আটকদের মধ্যে ছয় পুরুষ, ছয় নারী ও তিন শিশু রয়েছে। তাদের বাড়ি বাগেরহাট, খুলনা ও বরিশাল জেলার বিভিন্ন এলাকায়। বেনাপোল চেকপোস্ট আইসিপি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার আবুল হোসেন জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে তারা খবর পায় ভারত সীমান্ত পার হয়ে বেশ কিছু নারী পুরুষ এপারে এসে বেনাপোলের দৌলতপুর সীমান্তে অবস্থান করছে। পরে বিজিবি সদ্যসরা অভিযান চালিয়ে ১৬ বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে আটক করতে সক্ষম হয়। তিনি আরও জানান, আটকদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে।
ব্লগার অভিজিৎ হত্যা মামলার প্রতিবেদন পিছিয়ে ১৫ এপ্রিল
বিজ্ঞান মনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী ১৫ এপ্রিল ধার্য করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্ত এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী প্রতিবেদন দাখিলের নতুন এ তারিখ ঠিক করেন। উল্লেখ্য, অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে বই প্রকাশ ও প্রকাশনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সস্ত্রীক দেশে আসেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিজিৎ রায়। ওই দিন রাতে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় টিএসসির সামনে অভিজিৎ ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যার ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান অভিজিৎ। গুরুতর আহত হন বন্যা। ওই ঘটনায় অভিজিতের বাবা অধ্যাপক ড. অজয় রায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর