বিএনপি নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে : হানিফ
অনলাইন ডেস্ক :পরাজয়ের আশংকায় বিএনপি নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়ায় জেলার ক্রীড়াবিদদের সাথে মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। হানিফ বলেন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে বিএনপি ক্ষমতায় থাকতেও জনবিচ্ছিন্ন ছিল, আবার ক্ষমতার বাইরে থেকেও জনবিচ্ছিন্ন। তিনি বলেন, বিএনপি জানে নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে তাদের জয়লাভের কোন সুযোগ নেই। শুরুতে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করতে না পেরে নির্বাচন বানচালের চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পর নিশ্চিত পরাজয়ের আশংকায় এখন তারা নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এ সময় জেলা ক্রীড়া সংস্থর সাধারণ সম্পাদক অনুপ নন্দী, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদসহ জেলার ক্রীড়াবিদ ও সংস্থার সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন আজ
অনলাইন ডেস্ক: আজ শুভ বড়দিন। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব আজ। দুই হাজার বছর আগে এই শুভদিনে পৃথিবীকে আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট। বেথেলহেমের এক গোয়ালঘরে কুমারীমাতা মেরির কোলে জন্ম হয়েছিল যিশুর। খ্রিস্ট ধর্মানুসারীরা বিশ্বাস করেন, যিশু ঈশ্বরের পুত্র। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদযাপন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়। আজ সরকারি ছুটির দিন। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি দেশের খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, এ পৃথিবীতে মহামতি যীশু খ্রিস্টের আবির্ভাব ছিল এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। তিনি ছিলেন মানবজাতির মুক্তির দূত, আলোর দিশারী। পৃথিবীকে শান্তির আবাসভূমিতে পরিণত করতে বহু ত্যাগের বিনিময়ে সৃষ্টিকর্তার মহিমা ও খ্রিস্টধর্মের সুমহান বাণী প্রচার করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, যিশুখ্রিস্ট পথভ্রষ্ট মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে আহ্বান জানান। তিনি মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সেবা, ক্ষমা, মমত্ববোধ, সহানুভূতি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাসহ শান্তিপূর্ণ অবস্থানের শিক্ষা দেন। জাগতিক সুখের পরিবর্তে যিশুখ্রিস্ট ত্যাগ, সংযম ও দানের মাধ্যমে পরমার্থিক সুখ অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। জাতিতে জাতিতে সম্প্রীতি ও ঐক্য স্থাপনসহ অশান্ত বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যিশু খ্রিস্টের শিক্ষা ও আদর্শ খুবই প্রাসঙ্গিক। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সম্প্রদায়ের সব সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খ্রিস্টান ধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট এ দিনে বেথেলহেমে জন্মগ্রহণ করেন। পৃথিবীতে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই ছিল যিশুখ্রিস্টের অন্যতম ব্রত। বিপন্ন ও অনাহারক্লিষ্ট মানুষের জন্য মহামতি যিশু নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাঁর জীবনাচরণ ও দৃঢ় চারিত্রিক গুণাবলীর জন্য মানব ইতিহাসে তিনি অমর হয়ে আছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকে এ দেশে সব ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে বসবাস করে আসছে। বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা রয়েছে। সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে এ দেশে সব ধর্মীয় উৎসব আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হয়। বড়দিন উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব চার্চ ও তারকা হোটেলগুলোকে ক্রিসমাস ট্রি রঙিন বাতি, বেলুন আর ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি হোটেল ও পরিবারগুলোতে নানা ধরনের কেক, পিঠা ও বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জায় বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। গির্জা ও এর আশপাশে রঙিন বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রচুর জরি লাগিয়ে গির্জার ভেতর সুসজ্জিত করা হয়েছে। ভেতরে সাজানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি। বড়দিন উপলক্ষে বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও এবং মহাসচিব হেমন্ত আই কোড়াইয়া এক যুক্ত বিবৃতিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজনকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
শিশু উন্নয়ন এবং অটিজম বিষয়ে সবাই মিলে সমন্বিতভাবে কাজ করুন: সায়মা ওয়াজেদ
অনলাইন ডেস্ক: শিশু উন্নয়ন এবং অটিজম বিষয়ে সবাই মিলে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। ওই সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন শিশু উন্নয়ন ও শিশু সুরক্ষামূলক প্রকল্প এবং কর্মসূচিসমূহের মধ্যে সমন্বয় ও একটি সমন্বিত গাইড লাইন প্রণয়নের লক্ষ্যে সোমবার সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে মতবিনিময় সভায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপার্সন, সূচনা ফাউন্ডেশন ও চেয়ারপার্সন, অটিজম এবং নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারস বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি এবং এশিয়া অঞ্চলে অটিজম বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শুভেচ্ছা দূত সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় মহিলা ও শিশুদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করছে। এ কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তরসমূহকে একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান সায়মা ওয়াজেদ। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম এনডিসি'র সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক শিশুসাহিত্যিক আনজীর লিটন, সূচনা ফাউন্ডেশনসহ মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সচিব নাছিমা বেগম এনডিসি বলেন, সুুষ্ঠু ও সুন্দর জাতি গঠনে নিরাপদ মাতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিকে অক্সিজেন সিলিন্ডার স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নিরাপদ মাতৃত্ব শিশুদের ডিজঅ্যাবিলিটি কমিয়ে আনবে বলে তিনি সভায় অভিমত ব্যক্ত করেন।
সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক: সেতুমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, পুলিশ, প্রশাসনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিতর্কিত করেছে। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক, সেনাবাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ বা বিতর্কিত না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। সেনাবাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে মোতায়েন হয়েছে, সিভিল প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্বাচনের মাঠে দায়িত্ব পালন করতে এসেছে। সেনাবাহিনী কোন দল বা জোটের নয়, তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবে। সোমবার দুপুরে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা সদরে কামাল আতাতুর্ক হাইস্কুল মাঠে ফেনী-৩ আসনের মহাজোট প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকের লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বিএনপি কথার লোক, কাজ করে না, বছরের পর প্রতারণা করেছে, কলা দেখাচ্ছে, মুলা ঝুলাচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে মহিলা ও তরুণ ভোটাররা নৌকা-লাঙ্গল জয়ের প্রধান হাতিয়ার। মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা আবার ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক পারিবারের একজন বেকারকে চাকরি দেয়া হবে। ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে। সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনার সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী নাসিম, ফেনী-২ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রাথী নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি, ফেনী-৩ মহাজোটের মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী: সিইসি
অনলাইন ডেস্ক: সেনাবাহিনী মাঠে রয়েছে, তারা নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেছেন, আমি মনে করি যে অল্প কিছু অরাজকতা ছিল তা এখন দূর হবে। সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে যেকোনো ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারবে। এই বিষয়ে আইন আছে, সে অনুসারে তারা কাজ করবে। সোমবার ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে নির্বাচন কমিশন আয়োজিত চলমান ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। অল্প সংখ্যক কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত বিচার-বিশ্লেষণ করে পাইলট প্রকল্প হিসেবে মাত্র ছয়টি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করছি। যদিও ইভিএমের ব্যাপারে আমাদের কোনো সন্দেহ ছিল না। কিন্তু তাদের সন্দেহ থাকার কারণে আমরা খুব অল্প সংখ্যক ইভিএম ব্যবহার করছি। যারা সন্দেহ প্রকাশ করেছিল তারা এখন এসে দেখুন, এর সম্পর্কে জানুন। আশা করি তাদের সন্দেহ ভেঙে যাবে। তিনি আরো বলেন, মূলত ইভিএম পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। এছাড়া সেনাবাহিনীর এ বিষয়ে ট্রেনিংপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আমরা অনুরোধ করেছিলাম। তাই তারাও সহযোগিতা করবে। ছয়টি নির্বাচনী এলাকার প্রত্যেকটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার হবে। সেটার জন্য এখানে যে ট্রেনিং কার্যক্রম চলছে সেটা আমি পরিদর্শন করলাম। এখানে প্রত্যেকেই ভালোভাবে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এখানে সবাই জানে কীভাবে ইভিএম ব্যবহার করতে হয়, কীভাবে ভোট শেষ করে গণনা করতে হয়। এ ছাড়াও নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে নুরুল হুদা বলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে ভোটের আস্থা ফিরে আসবে। এ উদ্দেশ্যেই সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিলাম। রাজনৈতিক দলগুলোকে আবারো অনুরোধ জানাবো, হাঙ্গামা সহিংসতা আন্তঃকোন্দল দূর করে শুধু দলীয় প্রচারণার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে।
সেনাবাহিনীর সতর্কতা অনলাইনে ভুয়া প্রচার নিয়ে
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার নামে ভুয়া ওয়েবসাইট, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ইউটিউব চ্যানেলের বিষয়ে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো আইএসপিআরের এক সতর্কবার্তায় এ আহ্বান জানানো হয়। আইএসপিআরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম শাম্মী স্বাক্ষরিত ওই সতর্কবার্তায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এসব ভুয়া পেজের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ও প্রপাগান্ডা প্রচারের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সুনাম ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চলছে। সতর্কবার্তায় সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার প্রকৃত ওয়েবসাইট সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। আসল ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ বাদে অন্য কোথাও প্রকাশিত বানোয়াট তথ্য ও প্রপাগান্ডার বিষয়ে জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সেনাবাহিনী সম্পর্কে ভুয়া তথ্যসংবলিত কোনো পোস্ট শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার জন্য বলেছে আইএসপিআর। সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের নাম: Bangladesh Army, ওয়েব অ্যাড্রেস: https://www.facebook.com/bdarmy.army.mil.bd এবং Join Bangladesh Army অ্যাড্রেস: https://joinbangladesharmy.army.mil.bd| এছাড়া সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেইজের লিংক: https://www.facebook.com/bdarmy.army.mil.bd | ইউটিউব চ্যানেলের নাম: https://www.youtube.com/channel/UCpkg5RjtYqjRbxwL9Gf5Tfw।
ঢাকায় পাতাল রেল ক্ষমতায় ফিরলে: শেখ হাসিনা
অনলাইন ডেস্ক: আরেকবার ক্ষমতায় আসলে রাজধানীতে পাতাল রেল নির্মাণসহ যানজট নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, উন্নয়ন চালু রাখতে হলে সরকারের ধারাবাহিকতা জরুরি। সোমবার রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটকে সামনে রেখে এটাই ছিল স্বশরীরে প্রধানমন্ত্রীর শেষ জনসভা। তবে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি আরো জনসভায় অংশ নেবেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজধানীর পরিস্থিতি স্মরণ করিয়ে তার সরকারের আমলের উন্নয়নের বর্ণনাও দেন প্রধানমন্ত্রী। তুলে ধরেন ভবিষ্যত পরিকল্পনা। ঢাকায় মেট্রোরেলের নির্মাণ চলার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ভবিষ্যত কর্মসূচি হলো ঢাকায় আমরা পাতাল রেল নির্মাণ করব। যার সমীক্ষার কাজ ইতিমধ্যে আমরা করেছি। ঢাকাকে ঘিরে ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। বলেন, ঢাকা শহর ঘিরে আমরা একটা রিং রোড তৈরি করব, যা হবে সম্পূর্ণ এলিভেটেড। এতে দ্রুতগামী সকল যানবাহন চলতে পারে। ঢাকাশহর ঘিরে পাঁচটি নদীর নাব্যতা ফেরাতে খনন করা হবে এবং নদীগুলোর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ভবন করে আরো উন্নত করতে মহাপরিকল্পনা নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এর ডিজাইনও আমি দেখে রেখেছি। আগামীবার ক্ষমতায় আসলে এই হাসপাতালকে নতুন আঙ্গিকে আরও আধুনিকভাবে সাজাব। ঢাকা ঘিরে যে যে অঞ্চলে চিকিৎসা কেন্দ্র নাই, সেখানে আমরা হাসপাতাল তৈরি করে দিচ্ছি। বস্তিবাসীদের জন্য বহুতল ফ্ল্যাট নির্মাণেরও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, এর মধ্যে কামরাঙ্গীরচরেই হবে ১০ হাজার। এসব ফ্লাটে বস্তিবাসীরা দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভাড়া দিয়ে থাকতে পারবে। কেবল বড়লোকরা ফ্ল্যাটে থাকবে-এটা আমি চাই না।। আমি চাই না বস্তিতে কেউ মানবেতন জীবন যাপন করুক। সরকারের ধারাবাহিকতায় গুরুত্বারোপ ৩০ ডিসেম্বর নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ১০ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে এবং আগামীর উন্নয়নের জন্য যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারের ধারাবাহিকতা একান্ত প্রয়োজন। সারাদেশেকে ঘিরে আমরা উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা নিয়েছি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হয়েছে। বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নের মহাসড়কে, এর ধারবাহিকতা বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। তাই আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করব আগামী নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকতে কোন কিছু করেনি। কিন্তু নিজেরা অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছে, বিদেশে অর্থ পাচার করেছে। সেই অর্থ পাচার করতে গিয়ে ধরাও খেয়েছে। তারা এ দেশের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। তারা সন্ত্রাস, দুর্নীতি এবং লুটপাট ছাড়া কিছুই করতে পারে না। তারা মানুষকে কিছু দিতে পারে না, শুধু নিতে পারে। আওয়ামী লীগ আসে মানুষকে দিতে। আওয়ামী লীগ জনগণের কল্যাণে কাজ করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরপর দুই বার নির্বাচিত হয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পরেছি। মানুষের জীবন মান বদলেছে, মানুষের জীবন উন্নত হচ্ছে, স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। নিজের ভাগ্য গড়ার জন্য কিছু করিনি; মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সব করেছি। আর আমার রাজনীতিও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। লাঙ্গলকে নৌকায় তোলার ঘোষণা জনসভায় ঢাকা-৪ আসনে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবুল হোসেন বাবলা, ঢাকা-৬ আসনেও কাজী ফিরোজ রশীদ, ঢাকা-৭ আসনে নৌকার প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ সেলিম, ঢাকা-৮ আসনে রাশেদ খান মেনন, ঢাকা-৯ আসনের সাবের হোসেন চৌধুরীকে পরিচয় করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী নসরুল হামিদ বিপু ও ঢাকা-১০ আসনের শেখ ফজলে নূর তাপস নির্বাচনী প্রচারণায় থাকায় এই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন না। সিলেটের জনসভার মতো কামরাঙ্গীরচরের জনসভাতেও জোটের শরিক জাতীয় পার্টির নেতাদেরকে আওয়ামী লীগে নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথা জানান দলের সভাপতি। ঢাকা-৬ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশীদকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যদিও ছাত্রলীগ করেছিলেন, এখন করেন জাতীয় পার্টি।...কোনো অসুবিধা নাই, ভবিষ্যতে আমরা লাঙ্গল নৌকায় তুলে নেব। তবে এখন লাঙ্গল মার্কায় ঢাকা-৬ আসনে কাজী ফিরোজ রশীদের জন্য আমরা ভোট চাচ্ছি। ঢাকা-৪ আসনের জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু আমাদের মহাজোটে প্রার্থী, তাই সেখানে নৌকার প্রার্থী দেই নাই, তাই লাঙ্গল মার্কাকে মহাজোটের মার্কা হিসাবে বাবলাকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করছি। ঢাকা-৭ আসনের হাজী সেলিম জনপ্রিয় একজন নেতা। যদিও অসুস্থ, তারপর আমরা তাকে মনোনয়ন দিয়েছি। আমরা চাই জনগণের সেবা সবসময় তিনি করে যান।
বিজয়ের মাসে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি পরাজিত হবে :কাদের
অনলাইন ডেস্ক :আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি এখন এলোমেলো, হারার আগেই হেরে গেছে, বিএনপি কখনো বিজয়ী হতে পারবে না। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের এই বিজয়ের মাসে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি পরাজিত হবে। বিএনপির মধ্যে আছে সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ আর খুনী। সারাদেশের জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা যদি ক্ষমতায় আসে আবার হাওয়া ভবন তৈরি হবে, দুর্নীতিতে দেশ আবার চ্যাম্পিয়ন হবে। শেখ হাসিনা দেশকে আলোর পথে এনেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ আবার অন্ধকারে ফিরে যাবে।কাদের আজ নোয়াখালী-৩ নির্বাচনী আসনের সেনবাগ উপজেলার সেনবাগ সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। এসময় এ এলাকার আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম মোরশেদ আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মানিক, সেনবাগ উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, পাঁচ বছর বিএনপি ক্ষমতায় থেকেও এ এলাকার কোন উন্নয়ন হয় নাই। অথচ গত পাঁচ বছরে ৯৬ ভাগ বিদ্যুৎ সংযোগসহ স্কুল-কলেজ ভবন পাকাকরণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন হয়েছে। এ উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হলে সকল ভেদাভেদ ভুলে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে, তা না হলে এলাকার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হবে। এ সময় মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে দুইশটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার গ্রামীণ জনগণকে তথ্য প্রযুক্তি সেবা দিয়ে যাচ্ছে, সকল রাস্তা পাকা হয়ে গেছে। এবার সরকার গঠন করলে প্রত্যেক পরিবার থেকে একজন বেকারকে চাকরি দেয়া হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে, লাশের পাহাড় গড়ে তুলবে।২০১৪ সালের আগুন সন্ত্রাসীদের যদি দেখতে না চান তাহলে আগামী ৩০ ডিসেম্বর নৌকায় ভোট দিয়ে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। আওয়ামী লীগ যদি আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ না হয় তাহলে আওয়ামী লীগের বিজয় অনিবার্য।বাসস
সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে বিএনপি : এইচ টি ইমাম
অনলাইন ডেস্ক :আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত নীল নকশা অনুযায়ী নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে।এরই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবার তারাই আওয়ামী লীগের ওপর পাল্টা হামলার অভিযোগ করছে। নির্বাচন নিয়ে মিথ্যাচার করছে।এইচ টি ইমাম আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।এসময় তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়াসহ নির্বাচনের লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রতিষ্ঠার জন্য ইসি ও প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান। এইচ টি ইমাম বলেন, বিএনপি-জামায়াত ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা-কর্মীকে হত্যা এবং ২৫০ জনকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। তারা আওয়ামী লীগের শত শত দলীয় কার্যালয় ভাংচুর করেছে।তিনি বলেন, দেশের ২৪টি স্থানে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর বোমা, পেট্রলবোমা হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছে। তারা ১১টি যানবাহন ভাংচুর করেছে এবং পুলিশের দুটি গাড়িতে হামলা চালিয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, বিএনপি-জামায়াত সারাদেশে নাশকতার মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। তারা ২০০১ সালের মত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালানোর পথ বেছে নিয়েছে।সারাদেশে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপি-জামায়াতকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই হাজার হাজার বিএনপির নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে আবারো দেশ পরিচালনার সুযোগ দেবে বলেও তিনি নিজ বিশ্বাসের কথা দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন।সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য খন্দকার বজলুল হক, রশিদুল আলম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের আকতার উজ জামান, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ দলীয় নেতা-কমীরা উপস্থিত ছিলেন।বাসস