শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে ঢাকার মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে শ্রদ্ধা জানান তিনি। শ্রদ্ধা জানানো হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকেও। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা জানানোর পর মন্ত্রীসভার সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী, শ্রমিক সংগঠন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। আওয়ামীলীগের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এসময় তার সঙ্গে দলের সিনিয়র নেতারা শ্রদ্ধা জানান। ১৯৭১ সালের এ দিনে দখলদার পাকহানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামস মিলিতভাবে বেছে বেছে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দার্শনিক ও সংস্কৃতিক্ষেত্রের অগ্রগণ্য মানুষকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনেই পাকিস্তানি বাহিনী ওই নিধনযজ্ঞ চালায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতার পর যেন বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে- তা নিশ্চিত করা। বিজয়ের পর রায়েরবাজারের পরিত্যক্ত ইটখোলা, মিরপুরসহ বিভিন্ন বধ্যভূমিতে হাত-পা-চোখ বাঁধা বুদ্ধিজীবীদের ক্ষতবিক্ষত মৃত পাওয়া যায়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, উদীচী, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, খেলাঘরসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন পৃথক কর্মসূচি নিয়েছে।
জঙ্গি সামাদ আটক
রাজধানীর মহাখালী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন তিন জঙ্গির একজন আবদুস সামাদ নব্য জেএমবির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তামিম চৌধুরীর সেকেন্ড ইন কমান্ডছিল বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার পুলিশের গণমাধ্যম কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সিটিটিসি বলছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে বিভিন্ন সময় নব্য জেএমবির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা গ্রেপ্তার ও নিহত হলে এই সামাদের নেতৃত্বেই জঙ্গি সংগঠনটি সংগঠিত হয়। বুধবার সন্ধ্যায় মহাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুস সামাদ ওরফে আরিফ মামু ওরফে আশিক, তার শ্বশুর জিয়াদুল ইসলাম এবং মো. আজিজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী হাসান ওরফে শিশিরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ব্রিফিংয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, তামিম চৌধুরী ও সামাদ কল্যাণপুর ও মিরপুর এলাকায় প্রায় ডজনখানেক জঙ্গি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প খুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। হলি আর্টিজান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর সামাদই সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তিনি বলেন, আজিজুল ইসলাম মেহেদী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুই বছর ধরে জঙ্গি কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। জিহাদি প্রশিক্ষণও সে নিয়েছে। আর সামাদের শ্বশুর জিয়াদুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে নব্য জেএমবির জন্য অস্ত্র-বিস্ফোরক ও ডেটোনেটর সংগ্রহের পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করতেন। মনিরুল ইসলাম বলেন, দিনাজপুরের সামাদ ২০০২ সালে দাওরাহ হাদিস এবং ২০১১ সালে ফাজিল পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। তার মধ্যেই ২০১০ সালে তিনি জেএমবিতে যোগ দেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের বরাতে মনিরুল বলেন, ২০১৪ সালে তামিম চৌধুরীর সঙ্গে মিলে জুনদ আল তাওহীদ আল খিলাফাই নামে একটি সংগঠন গড়েন সামাদ। তামিম ছিলেন সংগঠনটির প্রধান, আর সামাদ সেকেন্ড ইন কমান্ড। বোমা তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে পারদর্শী সামাদ সংগঠনের জন্য সদস্য ও অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতেন বলে মনিরুলের দাবি। তিনি বলেন, অস্ত্র চালনা ও গ্রেনেড ব্যবহারের বিষয়ে সংগঠনের নবীন সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিতেন সামাদ। নব্য জেএমবির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার ও নিহত হওয়ার পর তার নেতৃত্বে সংগঠনটির কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হয়। উল্লেখ্য, বুধবারের গ্রেপ্তার-অভিযানে তিনজনের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও ২০০ ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়।
ত্যাগের মাধ্যমেই দলের সর্বস্তরে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, আমরা পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসব ইনশা আল্লাহ এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার রাতে ফ্রান্সের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্রান্ডে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে আগামী সংসদ নির্বাচনে জিততে সব স্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্য জোরদার করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করব। কারণ, জনগণ আমাদের পক্ষে রয়েছে। জনগণ আমাদের ভোট দেয়ার জন্য প্রস্তুত। তাই আমাদের সাবধান থাকতে হবে, যাতে কেউ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে না পারে। আওয়ামী লীগের ফ্রান্স শাখা ওই সংবর্ধনার আয়োজন করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেনসহ ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রায় ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনায় যোগ দেন। একই হোটেলে বুধবার সকালে শেখ হাসিনা ফ্রান্সের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফরাসি বিনিয়োগের বিপুল সুযোগ রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য ফরাসি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগের মাধ্যমেই দলের সর্বস্তরে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। দলের মধ্যে বিভাজন ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে কিন্তু সবাই একতাবদ্ধ থাকলে সে সুযোগ তারা পাবে না। শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসিত করা শক্তি যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তাদের লুটপাট, খুন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষকে সজাগ করতে হবে। তাদের ক্ষমতায় আসা মানে আবার মানুষ খুন করা, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা, লুটপাট করা। প্রবাসীদের এ সময় দেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও ৩০ বছর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দেশ শাসন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অথচ ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই দেশের মানুষ উন্নয়নের প্রকৃত স্বাদ পায়। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য নিজেদের চ্যাম্পিয়ন দাবি করে অথচ তারা আসলে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে পুনর্বাসিত করেছিল এবং দেশে কারফিউয়ের গণতন্ত্র চালু করেছিল। বিএনপি দেশের ইতিহাসকে বিকৃত করে পুরো একটি প্রজন্মকেই দেশের প্রকৃত ইতিহাস জানা থেকে বিরত রাখে। তারা বঙ্গবন্ধু এবং তার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণকে স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বে একটি উন্নতসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেত। জাতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রবাসীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দাবিতে সুইডেনে প্রথম সভা হয়েছিল, যেখানে বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানাও ছিলেন। তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এবং দেশকে মুক্ত করায় সর্বদা ভূমিকা পালন করে এবং দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল রাখে। শেখ হাসিনা বিশেষ করে সাবেক সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তাদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, তাদের সহযোগিতা সবসময়ই তাকে (শেখ হাসিনা) শক্তি ও সাহস জোগায়। তার সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশ এবং ফ্রান্সের সম্পর্ক প্রতিটি ক্ষেত্রেই আরো জোরদার হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটও ফ্রান্সের একটি কোম্পানি তৈরি করছে এবং ২০১৮ সালের মার্চে এটি মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে। শেখ হাসিনা তার সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, সরকার এই মেয়াদে অবশিষ্ট উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতির স্বার্থে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়লাভ করতে হবে। ফরাসি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব : ফ্রান্সের বৃহত্তম নিয়োগকারী ফেডারেশন মুভমেন্ট অব দি এন্টারপ্রাইজেস অব ফ্রান্স (এমইডিইএফ) ফ্রান্সের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতঃরাশ বৈঠকের আয়োজন করে। সেখানে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে সার্বিকভাবে শিল্পায়িত করতে আমরা দেশজুড়ে একশটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। আমি মনে করি প্রচলিত বাণিজ্যিক ক্ষেত্র ছাড়াও বাংলাদেশের অবকাঠামো, জ্বালানি ও সামুদ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও আরও ফরাসি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ফ্রান্সের বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। আর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, আপনাদের যেমন প্রতিযোগিতামূলক বিকল্প উৎস খোঁজা দরকার, তেমনি আমাদেরও রফতানি গন্তব্য বহুমুখী করা প্রয়োজন। আর এ দুইয়ের সমন্বয় আমাদের দুদেশের জন্যই লাভজনক অংশীদারিত্বের একটি যথার্থ পরিবেশ তৈরি করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছর বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৪৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে সহযোগিতার সম্ভাবনাময় নতুন নতুন ক্ষেত্র নিয়ে ভাবার এটি একটি উপযুক্ত সময়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সুযোগ ও সম্ভাবনার দেশ, যার বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যনীতি এ অঞ্চলের অন্যতম সেরা বন্ধুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, অনেক সমস্যা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত বছর ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা বিপুল সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বেড়েছে দেখে উৎসাহিত বোধ করছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার দ্বিমুখী বাণিজ্যের পরিমাণ ২০০ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের কারণে পরিবেশে মারাত্মক ক্ষতি : মঙ্গলবার প্যারিসে ওয়ান প্লানেট সামিটে উচ্চপর্যায়ের সভায় দেয়া বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা আসার ফলে বাংলাদেশ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বন ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজনের ওপর মারাত্মক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, মানবিক কারণে আমরা কক্সবাজারে এক হাজার ৭৮৩ হেক্টর বনভূমির ওপর তাদের আশ্রয় দিয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। যদিও এই ঝুঁকির জন্য আমরা দায়ী নই। তিনি বলেন, আমরা সীমিত সম্পদ নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি প্রশমন ও অভিযোজন করে যাচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রণীত টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মূলসে াতে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায় জিডিপির ১ শতাংশ ব্যয় করে আসছে। সব অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশ কর্মকাণ্ডে ওয়াটার সাসটেইনেবিলিটি ইস্যুকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শেখ হাসিনা জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারপূরণ এবং ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একমাত্র দায়িত্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে নিরাপদ করতে পারি। আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার ও কর্মকাণ্ড শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।
কোনো দল নির্বাচন এলো কি এলো না এ দায় আওয়ামী লীগ সরকারের নেই :ওবায়দুল কাদের
বঙ্গবন্ধু ও বুদ্ধিজীবী হত্যায় জড়িত যেসব আসামি বিদেশে পলাতক আছে তাদের ফিরিয়ে আনতে সরকারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, সরকার তাদের ফিরিয়ে আনার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।আজ বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে দলের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিদেশে পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় যে জঠিলতা ছিলে সরকার তা অনেকটা সমাধান করেছে। এখন তাদের ফিরিয়ে আনার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে সরকার।শহীদ বুদ্ধিজীবীদের খুনে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আলবদর নেতা চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া কয়েকজন আসামি বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন।জামায়াতে ইসলাম নিষিদ্ধের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আপিল বিভাগে রয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি হলেই সরকার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কোনো দল নির্বাচন এলো কি এলো না এ দায় আওয়ামী লীগ সরকারের নেই। কেউ যদি নির্বাচনে না আসে গণতন্ত্র চলার পথে কোনো বাধা হবে বলে আমি মনে করি না। পার্লামেন্ট চলবে, গণতন্ত্রও চলবে, গণতান্ত্রিক সরকারও থাকবে। কেউ নির্বাচনে না এলে গণতন্ত্রের কী দোষ।এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ওবায়দুল কাদের ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আবদুর রাজ্জাক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ক ম মোজাম্মেল হক, নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এই সময় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের প্রাক্কালে যারা বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছিল তাদের প্রেতাত্মাদের নির্মূল করার প্রত্যয় জানিয়ে মহানগর আওয়ামী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন, সহ-সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, আলহাজ্ব নঈম উদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট সুনীল কুমার সরকার, এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী, উপদেষ্টা শফর আলী, কোষাধ্যক্ষ সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, দফতর সম্পাদক হাসান মাহমুদ শামসের, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুক, আইন সম্পাদক এডভোকেট ইফতেষার সাইমুল চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, শ্রম সম্পাদক আবদুল আহাদ, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক দেবাশীস গুহ বুলবুল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মানস রক্ষিত, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের, মহিলা সম্পাদিকা জোবায়েরা নার্গিস খান, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, উপ প্রচার সম্পাদক শহিদুল আলম, উপ দপ্তর সম্পাদক জহরলাল হাজারী, নির্বাহী সদস্য কোতোয়ালী থানার সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর, মহব্বত আলী খান, সাইফ উদ্দিন খালেদ বাহার, বেলাল আং, চকবাজার থানা সভাপতি আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক, টিংকু বড়য়া। এয়াড়া আগামীকাল শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে বিদায় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপস্থিত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। Press Release
সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয় :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। এটাই জাতির পিতা শিখিয়েছেন। এ পররাষ্ট্র নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে ফ্রান্সের ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্র্যান্ড হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু আমাদের একেবারে প্রতিবেশী, তাদের (মিয়ানমার) সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট হবে না। কিন্তু এই সমস্যাটা তাদের সৃষ্টি করা। এই সমস্যা তাদের নিরসন করতে হবে এবং মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকের সমর্থন আমরা পেয়েছি ,সকল রাষ্ট্র যেভাবে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা সমর্থন পেয়েছি সারা বিশ্বের মানুষের। সব দেশের সরকারের না, কিন্তু সারা বিশ্বের মানুষের সমর্থন পেয়েছি আমরা। আর এই ঘটনায় (রোহিঙ্গা সঙ্কট) পৃথিবীর প্রায় সকল দেশই বাংলাদেশকে সমর্থন দিচ্ছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে যে তাদের ফেরত পাঠাব। সেজন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে পারব। রাখাইনে স্থানীয় বাহিনীর সংঘাতে মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বিতাড়নের শিকার হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে চলে এসেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে:স্পিকার
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন এ বেটার স্টোরিজ আয়োজিত স্টার্ট আপ কাপ-২০১৭ এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে একথা বলেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের অবদান অপরিসীম উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাগণ দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন। তারা নিজেরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন এবং অন্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন। এটা প্রকারান্তরে দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখছে। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে তাদের এই অবদানকে বহুগুণে বৃদ্ধি করা সম্ভব বলেও তিনি অভিমত প্রকাশ করেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শত প্রতিকূলতার মধ্যে উদ্যোক্তারা কাজ করছেন। গ্রাহকের কাছে তাদের উৎপাদিত পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন। আর এ সকল উদ্যোক্তাদের সাথে মূলত: কাজ করছেন গ্রামীণ নারীরা।
আকায়েদ উল্লাহর দেশে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই: মনিরুল
নিউইয়র্কের পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালের পাতালপথে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিক আকায়েদ উল্লাহর দেশে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। মনিরুল ইসলাম বলেন, আকায়েদ উল্লাহ দেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন- এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ দেশের কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গেও তাঁর জড়িত থাকার প্রমাণ এ পর্যন্ত মেলেনি। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর ইন্টারনেটের মাধ্যমে তিনি জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারেন।তিনি বলেন, আমরা ধারণা করছি আকায়েদ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেলফ হয়েছে। তার স্ত্রী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমরা তাদের কাছ থেকে যেসব তথ্য পেয়েছি তাতে মনে হয়েছে ২০১১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আকায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ছিল।প্রসঙ্গত, গত সোমবার (১১ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ম্যানহাটনে টাইম স্কয়ার সাবওয়ে স্টেশন থেকে বাস স্টেশনে যাতায়াতের ভূগর্ভস্থ পথে বোমা হামলা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আকায়েদ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর ও তিনজন পথচারী সামান্য আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সাত বছর আগে আকায়েদ নিউইয়র্কে আসেন। ব্রুকলিনে থাকেন তিনি। আকায়েদ উল্লাহর বাড়ি চট্টগ্রামে। সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে এসেছিলেন।
জনগণ আমাদের ভোট প্রদানের জন্য প্রস্তুত :প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী সাধারণ নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি ঐক্য জোরদার করার আহবান জানিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার রাতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্র্যান্ডে আওয়ামী লীগের ফ্রান্স শাখা আয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা আরো বলেন, আমরা আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করবো কারণ, জনগণ আমাদের পক্ষে রয়েছে। জনগণ আমাদের ভোট প্রদানের জন্য প্রস্তুত। তাই আমাদের সাবধান থাকতে হবে, যাতে কেউ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে না পারে। প্রধানমন্ত্রী ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর আমন্ত্রণে ওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গত সোমবার তিনদিনের সরকারি সফরে এখানে এসেছেন। দলের নেতা-কর্মীদের দলকে শক্তিশালী করার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগের মাধ্যমেই দলের সর্বস্তরে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। দলের মধ্যে বিভাজন ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে কিন্তু সকলে একতাবদ্ধ থাকলে সে সুযোগ তারা পাবে না। আমরা পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসবো ইনশাল্লাহ এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি অব্যাহত থাকবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেনসহ ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রায় ৬ বছর পর অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনায় যোগ দেয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর