প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের আমন্ত্রণে রোববার চারদিনের সফরে ঢাকা ছাড়লেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট রোববার সকাল ৮টা ২৫মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় দুপুর পৌনে ৩টায় সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে পৌঁছাবে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। বিমান বন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে একটি মোটর শোভাযাত্রায় সাংগ্রি-লা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন। সোমবার, সিঙ্গাপুর সরকার শেখ হাসিনাকে স্বাগতিক অভ্যর্থনা জানাবে। অভ্যর্থনার পরে তিনি সিঙ্গাপুরের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হালিমা ইয়াকুবের সঙ্গে ইস্তানায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ দিন সকালে তিনি সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। এ বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো জোরদারের লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করা হবে। পরে তিনি সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান বোটানিক্যাল গার্ডেনে যাবেন। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে একটি অর্কিডের নামকরণ করা হবে। পররাষ্ট্র মনন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু;দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) ও সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল এন্টারপ্রাইজের (আইই) মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্ব বিষয়ক সমঝোতা স্মারক, এয়ার সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত কনফিডেন্সিয়াল সমঝোতা স্মারক, ডিজিটাল লিডারশিপ, ডিজিটাল ইনোভেশন ও ডিজিটাল প্রশাসন রূপান্তর সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) ও মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সঙ্গে সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়িক সংগঠন সিঙ্গাপুর ম্যানুফ্যাকচারিং ফেডারেশনের মধ্যে পৃথক দু;টি চুক্তি সমঝোতা স্মারক। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর বিজনেস ফোরাম-২০১৮ ও বালাদেশ সিঙ্গাপুর বিজনেস রাউন্ডটেবিল শীর্ষক দুটি পৃথক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন। আগামী ১৪ মার্চ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
সেতুমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালের অভিযোগ
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর জাল করে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেয়ার অভিযোগ উঠেছে জানিয়ে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি একটি অসাধুচক্র সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর স্বাক্ষর নকল করে বিভিন্ন স্থানে আধাসরকারি পত্র পাঠাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ‘প্রকৃতপক্ষে, চাকুরি প্রাপ্তি, দবদলি, পদোন্নতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রী কোনরূপ ডিওপত্র দেন না। এ সব বিষয়ে কোনো ডিওপত্র পেলে তা মন্ত্রীর দফতর থেকে (টেলিফোন নম্বর-০২-৯৫১৫৫৩৩) নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে,’ বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে আরও বলা হয়, এ অসাধু চক্রের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আমরা আশা করি সবাই নির্বাচনে আসবে :সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের জন্য নতুন করে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংলাপের সময় সকল রাজনৈতিক দলকে আসন্ন একাদশ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।’ বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা আশা করি সবাই নির্বাচনে আসবে। যখন সংলাপ হয়েছে তখন প্রত্যেকটা দলকে বলেছি, আপনারা সকলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। তাহলে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে নতুনভাবে আমরা আর কিছু করব না। আমাদের নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রত্যেকটা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আপনারাও (সাংবাদিক) কেউ কখনও আমাদের নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন করেননি, প্রশ্ন করার সুযোগও ছিল না। তেমনিভাবে নাসিরনগরে আসন্ন উপ-নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।’ নির্বাচন কমিশনের প্রতি জাতীয় পার্টির আস্থা নেই হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে নুরুল হুদা বলেন, নিরপেক্ষভাবে এবং নিষ্ঠার সাথে আমরা আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করে যাচ্ছি। আমরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছি। তিনি (এরশাদ) কেন এমন কথা বলেছেন, তার উত্তর তিনিই দিতে পারবেন। ভোটারদের এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জনের জন্য নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান সিইসি। এর আগে বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আগামী ১৩ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের উপ-নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক সভায় যোগ দেন নুরুল হুদা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. জোবায়ের হাসনাৎ ও চট্টগ্রাম বিভাগের পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ।
পৃথিবী যতদিন থাকবে মশাও ততদিন থাকবে :স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিম বলেছেন, ‘পৃথিবী যতদিন থাকবে মশাও ততদিন থাকবে। এটা সত্য। তবে আমরা পারত পক্ষে নিধনের চেষ্টা করছি। এজন্য বছরের যে সময়ে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া দেখা দেয় তা প্রতিহত করতে আগেই আমরা বসেছি। ভাল প্রস্তুতিও নিচ্ছি।’ বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে সভাকক্ষে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে গৃহীত ব্যবস্থাদি ও রোগ দমনে করণীয় সম্পর্কিত সভায় সভাপত্বিকালে এসব কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট যে, আমাদের প্রস্তুতি ভাল। এখানে সভায় দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্তাব্যাক্তিরা উপস্থিত আছেন। তারা তাদের কার্যক্রম ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। আমার মনে হয়, তাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে মশার প্রাদুর্ভাব কমে যাবে।’ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ হচ্ছে কেউ মশার কামড় খেয়ে অসুস্থ্য হলে তাকে সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া। আর মশা নিধনের কাজ হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনগুলোর। আর বাড়ির ভিতরে মশা নিধনের দায়িত্ব হচ্ছে বাড়ির মালিকের। এর সাথে বাড়ির মালিক উক্ত বাড়ির আশেপাশে পরিস্কার রাখার ব্যবস্থা করবেন।’ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ‘মশার লাষ্ট স্টেইজ হচ্ছে উড়ন্ত মশা। তার আগে এ মশাগুলোর আরও তিনটি স্টেইজ আছে। তখন তারা থাকে পানিতে। আর যে মশাগুলো উড়ে গিয়ে কামড় দেয় সেগুলো এ্যাডাল্ট বা পূর্ণবয়স্ক মশা। এসব মশা মারা এই এনভায়রনমেন্টে একটু কঠিন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা পানির প্রবাহটা যদি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি তাহলে এ ধরণের মশার ৭০ শতাংশ জন্মগ্রহণই করতো না। শহরের বেশকিছু ড্রেন আছে যেগুলো ঢাকনা দিয়ে ঢাকা থাকে। সেখানে আমরা মশা মারার প্রক্রিয়া করতে পারছি না। এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ ঢাকা শহরের চারিদিকে বেশ কিছু ডোবা আছে যেগুলো পরিকল্পিত নয়। এখানে মাছের চাষও হয় না। পরিস্কার করাও হয় না। এ জায়গাগুলো থেকেও মশা উৎপন্ন হচ্ছে বলে জানান সিটি কর্পোরেশনের এ কর্মকর্তা। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটি কথা বলতে চাই, আর তা হলো মশার কারণে মহামারি তো দূরের কথা ডেঙ্গু আক্রমণের কোনো আশঙ্কাই নেই এবার।’ এ বিষয়ে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এ বছর মশা নিধন মেশিন, জনবল ও ঔষধের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছি। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন আগামী ১৭ মার্চ উপলক্ষে মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতার জন্য একটি বিশেষ সপ্তাহ পালন করবো।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে অনেক অফিস আছে। এবছর আমরা বেশকিছু সরকারি ও বেসরকারি অফিস ভিজিট করেছি। সেখানে আমরা ডেঙ্গু রোগবাহী মশার সন্ধান পেয়েছি। গণমাধ্যমের মাধ্যমে এসব অফিসের কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করবো আপনারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন।
মেয়েদের বসে থাকলে চলবে না মেধা কাজে লাগাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মেয়েদের বসে থাকলে চলবে না। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। তাদের নিজেদের মেধা কাজে লাগিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। বেশি করে পড়ালেখা করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীরা যাতে মূল স্রোতে আসতে পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে নারীদের স্বনির্ভর হতে হবে। নারী উন্নয়ন বাস্তবায়নে আমরা সর্বদা কাজ করে যাচ্ছি। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রাধান্য দিচ্ছি। আমাদের উচ্চ আদালতে কোনও নারী ছিল না, আমি এসে সেই উদ্যোগ নিয়েছি। আমি এসে নারীদের পুলিশের এসপি পদে নিয়োগ দিয়েছি। এছাড়া প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী নেতৃত্বের স্থান করে দিয়েছি। আমরা মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি করে ছয় মাস করে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমাদের মেয়েরা খেলাধুলায় এখন আর পিছিয়ে নেই। আমাদের মেয়েরা এখন এভারেস্টেও যাচ্ছে। আমরা নারী নেতৃত্ব গ্রাম থেকে তৃণমূল পর্যায়ে আনার চেষ্টা করছি। তিনি নারীদের অবদানের কথা বলতে গিয়ে নিজের মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। বঙ্গবন্ধু জেলে থাকা অবস্থায় তিনি যেভাবে সংসার, রাজনীতি ও আন্দোলন পরিচালনায় ভূমিকা রাখতেন সেসবের স্মৃতিচারণা করেন।
৭ মার্চের সমাবেশের শ্লীলতাহানির ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী
আওয়ামী লীগ আয়োজিত ঐতিহাসিক ৭ মার্চের সমাবেশে নারীদের শ্লীলতাহানির যে অভিযোগ ফেসবুকে ঘুরছে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, ৭ মার্চের সমাবেশকে কেন্দ্র করে নারীদের শ্লীলতাহানির ভিডিও ফুটেজ হাতে এসেছে। ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক ছাড় দেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রোমোটিং এডালসেন্ট নিউট্রিশন শিরোনামে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, গতকাল বাংলামোটরে ভিকারুননিসা স্কুলের শিক্ষার্থীকে হয়রানির ঘটনার ভিডিও ফুটেজ হাতে এসেছে। দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক ছাড় দেয়া হবে না। এ বিষয়ে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস-সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন ফেসবুকে লিখেছেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের অনুষ্ঠানকে বিতর্কিত করতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কিংবা গল্পের কথা শোনা যাচ্ছে। সত্য মিথ্যা কতটুকু জানি না। হয়তো শিগগিরই তা উদঘাটিত হবে। উল্লেখিত ঘটনার আশেপাশে সবখানেই সিসি-ক্যামেরা আছে। ঘটনা ঘটলে কারা কারা দায়ী এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কি তা খুঁজে বের করা কঠিন কিছু হবে না। না ঘটলেও হয়তো রটনার রহস্য উদঘাটিত হবে। উত্তেজিত হয়ে এখনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করে অপেক্ষা করাই ভালো। উল্লেখ্য, বুধবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শাহবাগের আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় ইভ টিজিং ও নারীদের ওপর যৌন হয়রানির অভিযোগের খবর ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত এ ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাগুলো সত্য নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবার অনেকেই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আদেশ রোববার
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আগামী রোববার আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবদীন আদালতে বলেন, বিচারিক আদালত থেকে নথি আসা সংক্রান্ত আদেশের ১৬ দিন পেরিয়ে গেছে। নথি এসেছে কি না আমরা জানি না। তখন আদালত বলেন, এ বিষয়ে রোববার আদেশ দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন। এরপর তাকে পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। এরপর থেকে তিনি ওই কারাগারেই আছেন। শুরুতে খালেদা জিয়া ডিভিশন না পেলেও পরে আদালতের নির্দেশ ১১ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হয়। ওদিনই তার সঙ্গে গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগমকেও রাখার নির্দেশনা দেন আদালত। ১৯ ফেব্রুযারি সোমবার বিকেলে রায়ের সত্যায়িত কপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। বিচারক রায়ের কপি সত্যায়ন করার পর এটি খালেদার আইনজীবীদের হাতে তুলে দেন বিশেষ জজ আদালত-৫ এর পেশকার মোকাররম হোসেন। পরের দিন ২০ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতে খালেদা জিয়াকে দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নিতে দ্বিতীয় দফায় সুপ্রিম কোর্ট বারের কনফারেন্স রুমে বৈঠক করেন তার আইনজীবীরা। ২২ ফেব্রুযারি খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আপিল গ্রহণ করে বিচারিক আদালতে খালেদা জিয়াকে করা অর্থদণ্ড স্থগিতের আদেশ দেন। একই সঙ্গে এ মামলায় বিচারিক আদালতের সকল নথি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপর জামিন আবেদন শুনানির জন্য নতুন দিন ঠিক করে দেন আদালত। খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের ওপর ২৫ ফেব্রুয়ারি শুনানি হয়। নিম্ন আদালতের নথি আসার পরে এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে বলে জানান হাইকোর্ট। ফলে খালেদা জিয়ার জামিনের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়।
প্রিয়ভাষিণীর মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদন
সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রয়াত ভাস্কর-মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তার মরদেহ শহীদ মিনারে নেয়া হয়। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে শ্রদ্ধা জানাতে সকাল ১০টা থেকেই শহীদ মিনারে ভিড় জমায় হাজারো মানুষ। পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারীও আসেন শ্রদ্ধা জানাতে। সবাই হাতে ফুল দিয়ে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানায় একাত্তরের এই বীরাঙ্গণাকে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণীর মরদেহ নেয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে। সেখানে বাদ জোহর জানাজা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটায় রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালের সিসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ছাড়াও লিভার, কিডনি ও থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ৮ নভেম্বর বাথরুমে পড়ে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত পান তিনি। সেসময় তাকে হাসপাতালে নিয়ে কয়েক দফা চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রিয়ভাষিণী বাংলাদেশের ভাস্কর্য চর্চায় ব্যতিক্রমী একজন শিল্পী ছিলেন। দামি জিনিসের পরিবর্তে চারপাশে পাওয়া ডাল, পাতা, কাঠের টুকরা, শেকড়, গাছের গুড়িকে তুলে এনে শিল্পে রূপ দিতেন। শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০১০ সালে তাকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। একাত্তরের নির্মম ইতিহাসের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হন তিনি। ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সরকার।

জাতীয় পাতার আরো খবর