রবিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৮
ট্রাফিক আইন: ১৪ কোটি টাকা জরিমানা আদায়
অনলাইন ডেস্ক: শেষ হলো সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ ও ট্রাফিক সচেতনতামূলক অভিযান। এ সময় ক্রুটিপূর্ণ যানবাহন চালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ট্রাফিক বিভাগ। ১৪ কোটি টাকারও বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাস জুড়ে চালানো অভিযানে অনেক কিছু হয়েছে। ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এত বিশৃঙ্খলা দূর করতে হলে জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে তাদের সহযোগিতাও করতে হবে। এ কারণে অভিযানের পুরোপুরি টার্গেট এখনও শেষ হয়নি। তবে ট্রাফিক পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে সবাইকে ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আর আইন না মানলে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়। শুক্রবার ট্রাফিক বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, এ সময় ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অপরাধে ১ লাখ ৭২ হাজার ৬০০টি মামলা করে ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ। এর মধ্যে ফিটনেস সংক্রান্ত ৭ হাজার ৬২৮টি, পারমিট না থাকায় ৬ হাজার ৪৯৫টি, ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত ৩০ হাজার ৫৬৪টি, উল্টোপথে চলাচলের কারণে ১৩ হাজার ৮৮টি, মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে ৬৫ হাজার ৮০৩টি মামলা হয়। জরিমানা করা হয় ১৪ কোটি ১৯ লাখ ৪৭৯ টাকা। এ সময় বেশ কিছু যানবাহনকে ডাম্পিং করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত ইন্দোনেশিয়াকে সহায়তার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিকম্প ও সুনামির ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় ইন্দোনেশিয়াকে সম্ভব সবধরনের সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। গত শুক্রবার দেশটিতে প্রচণ্ড ভূমিকম্প ও সুনামিতে সহস্রাধিক লোকের মৃত্যু এবং ব্যাপক সম্পদহানি হয়। আজ বিকালে সন্ধ্যায় ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করলে তার সঙ্গে আলাপকালে শেখ হাসিনা এই প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, ১০ মিনিটের টেলিফোন সংলাপকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ায় প্রাণ ও সম্পদহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহানুভূতি জানান এবং এই ঘটনায় আহত লোকদের আশু সুস্থতা কামনা করেন। প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই কঠিন সময়ে ইন্দোনেশিয়া একা নয়, বাংলাদেশ আপনাদের পাশে থাকবে। সম্ভব সব ধরনের সহায়তা নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় এই মুহূর্তে তার দেশের কি প্রয়োজন তা প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর জন্য জোকো উইদোদোকে অনুরোধ করেন। ইন্দোনেশিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় সুলাবেসি দ্বীপে শুক্রবার ভূমিকম্প ও সুনামিতে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান দেশে-বিদেশে পৌঁছে দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি
অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বহিঃবিশ্বে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান দেশে-বিদেশে পৌঁছে দিতে হবে। রাষ্ট্রপতি বুধবার নেত্রকোনার মুক্তারপাড়া মাঠে প্রথম আন্তর্জাতিক লোকসংস্কৃতি উৎসব-২০১৮ উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। তিনি আন্তর্জাতিক লোকসংস্কৃতি উৎসব ২০১৮-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহ সংস্কৃতি ফোরাম বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট লোকগীতি গবেষকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক যতীন সরকার। খবর বাসসের। যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাজ্জাদুল হোসেন, বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর সবুজ কলি সেন এবং বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট সচিবগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে রাষ্ট্রপতি শেখ কামাল আইটি পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেন, আকাশ সংস্কৃতির ডামাডোলে গা ভাসিয়ে দিলে চলবে না। বরং তা থেকে ভাল দিকগুলো গ্রহণ করে মন্দ দিকগুলো বর্জন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলার সংস্কৃতি দেশে-বিদেশে পৌঁছে দিতে কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার, নির্মাতা, গবেষকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবে। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করে বলেন, জাতিসত্তা বিকাশে বৃহত্তর ময়মনসিংহের রয়েছে অনন্য ভূমিকা। স্বাধিকার ও মহান মুক্তিযুদ্ধসহ তিনটি ক্ষেত্রেই এই অঞ্চলের জনগণের সাহসী ভূমিকা ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। মনসা মঙ্গল কাব্যের রচয়িতা কবি দ্বিজ বংশীদাস, বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী, শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্র কিশোর রায়, সুকুমার রায়, বিখ্যাত ফারসি গ্রন্থ শাহনামা অনুবাদক মনির উদ্দীন ইউসুফ, সাহিত্যিক অধ্যাপক নিরোদ চন্দ্র চৌধুরী, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, চলচ্চিত্রকার সত্যজিত রায়সহ বহু গুণী এ ভূখণ্ডে জন্মেছেন। তিনি বলেন, এ অঞ্চল থেকেই মৈমনসিংহ গীতিকার মতো বিশ্বসাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হওয়ার পর তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক সাড়া জাগায়। বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনালেখ্য হয়ে উঠে বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। বাংলার বিদগ্ধ জনসহ ইউরোপ, আমেরিকা ও প্রাচ্যদেশীয় অনেক জ্ঞানী-পণ্ডিত মৈমনসিংহ গীতিকা;র বিভিন্ন পালা মহুয়া, মলুয়া, দেওয়ানা মদিনা ও বীরাঙ্গনা সখিনার সাহিত্যিক সুষমায় মুগ্ধ হয়েছেন। ফরাসি সাহিত্যিক ডক্টর সিলভ্যাঁ লেভি অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, মহুয়া পড়িয়া মনে হইলো এই শীতের দেশে থাকিয়াও যেন আমি ভারতবর্ষের বসন্ত ঋতু উপভোগ করিতেছি। শুধু পূর্ববঙ্গই নয়, দেশের রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলেও এখনো অনেক পালাগান অবিচল ধারায় গীত হয়ে আসছে। লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ড. মনসুরউদ্দীন ও কবি জসীমউদ্দীন এসব পালাগানের সংকলন প্রকাশ করেছেন। লোকগানের চলমান ধারা বহতা নদীর মতো, আজো বাংলার পথে প্রান্তরে ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালি, মুর্শিদী, বাউলগীতি ও পালাগান ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।' রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতির বিশাল প্রান্তরে আমাদের অমূল্য গাঁথাগুলো জাতিসত্তার প্রয়োজনে সংরক্ষণ করা দরকার। বিশেষ করে বাংলার প্রাচীন লোকসাহিত্যসহ আধুনিক লোকগীতি ও লোকসংস্কৃতির গবেষণার জন্য একটি লোকসংস্কৃতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতি ফোরাম ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরে তিন একর জমিতে একটি আন্তর্জাতিক লোকসংস্কৃতি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেনে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিতেও এই উন্নয়নের ছোঁয়া আজ স্পষ্ট। এমনি যুগসন্ধিক্ষণে দেশি-বিদেশি লোকসংস্কৃতি গবেষক ও শিল্পীদের নিয়ে আজকের আন্তর্জাতিক লোকসংস্কৃতি উৎসব নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর মাধ্যমে বাংলার মান, বাংলার জান ও বাংলার লোকসংস্কৃতি আবারো চাঙ্গা ও গতিশীল হবে। বিশ্ব সাংস্কৃতিক ধারায় সম্পৃক্ত হবে এদেশের সংস্কৃতির অনন্যগাঁথা।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই
অনলাইন ডেস্ক: মিথ্যা তথ্য দিয়ে যারা সংবাদ প্রচার করবে না তাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তবে যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করবে তাদের শাস্তি পেতে হবে। কেউ তথ্য দিলে তার সত্যতা তাকে প্রমাণ করতে হবে। জাতিসংঘের ৭৩তম অধিবেশন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বুধবার বিকেল ৪টায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। আগামী নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কোনো আলোচনা হয়নি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে কেউ পরামর্শও দেয়নি। বরং উৎসাহ পেয়েছি। যেসকল রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের সাথে কথা হয়েছে, তারা চায় আবার দেখা হবে। জনগণ ভোট দিলে আছি। না দিলে নাই। শেখ হাসিনা বলেন, ৬ হাজারেরও বেশি নির্বাচন হয়েছে। কোনো নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করা হয়নি। রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা নিয়ে মিয়ানমায়ের সাথে চুক্তি হয়েছে। তারা ফিরিয়ে নিতে চেয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদানের লক্ষ্যে গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। শেখ হাসিনা গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন। তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা, এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্রেস্টি কালজুলেইদ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। সপ্তাহব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে সোমবার সকালে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি।
কাদেরের প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর-না
অনলাইন ডেস্ক: পদ্মা সেতুর নামকরণ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের প্রস্তাবে না করে দিয়েছেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে সোমবার সকালে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। দেশে ফেরার পর গণভবনে ওবায়দুল কাদের পদ্মা সেতুর নাম শেখ হাসিনা সেতু হবে-এমন প্রস্তাব করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, না, পদ্মা সেতুর নাম পদ্মা সেতুই হবে। অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে অনেক কষ্ট করে, দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছি নিজের নামের জন্য নয়। এই সেতু হবে দেশের মানুষের জন্য। উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে শরীয়তপুরের সিনোহাইড্রোর জাজিরা ঘাট এলাকায় পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন গিয়ে পদ্মা সেতুর নাম বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নামে করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের।
আত্মতুষ্টিতে না ভুগে নির্বাচনে বিজয়ের জন্য কাজ করুন
অনলাইন ডেস্ক: আত্মতুষ্টিতে না ভুগে আগামী নির্বাচনে প্রত্যেকটি আসনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য একযোগে কাজ করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আগামীতে ক্ষমতায় আসার বিষয়ে আমাদেরকে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। মাত্রাতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বর্তমান সাংসদদের বিরুদ্ধে যেকোন ধরণের কুৎসা রটনা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং প্রত্যেকটি আসনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য একযোগে কাজ করে যেতে হবে। যাতে করে ১৯৯১ সাল এবং ২০০১ সালের মত আওয়ামী লীগকে খেসারত দিতে না হয়। এ ব্যাপারে নেতা কর্মীদেরকে সজাগ থাকতে হবে। শেখ হাসিনা আজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩ তম অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরে গণভবনে এসে পৌঁছলে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে আসা দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার এবং দলের বিরুদ্ধে দেশী- বিদেশী চক্রান্ত আগেও ছিল এবং এখনও এ চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, ৭৫-এর পর থেকেই একটা বৈরী পরিবেশে তার দল সংগ্রাম করে করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা ১৯৯১ সালে দলের ভেতরে ও বাইরে থাকা ষড়যন্ত্রের কথা স্মরণ করে বলেন, একটি অংশ তাকে বাদ দিয়েই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে চেয়েছিল। আর এটা করতে গিয়ে অনেক যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে ভূল প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তিনি বলেন, এদেশে একটা ষড়যন্ত্র সবসময়ই চলে আসছে যাতে আওয়ামী লীগ অথবা বঙ্গবন্ধু পরিবারের কেউ যেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না আসতে পারে। তাদের একটাই ভয় তাহলে জনগণ সেই নেতৃত্বের ওপর ভর দিয়ে শক্তি সঞ্চয় করে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। ৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায়ের পর ৬ বছর প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হলে দেশে ফিরে আসার সময়কার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটা সময়ে আমি দেশে ফিরেছিলাম যখন দেশে খুনীদের রাজত চলছিল, যুদ্ধাপরাধীরাই দেশ চালাচ্ছিল। তারা আমার উপর হামলা চালিয়েও বেশ কয়েকবার প্রাণনাশের চেষ্টা করেছে, কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই আমাকে বাঁচিয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করেই আমরা তিন তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছি এবং সুশাসনের মাধ্যমে দেশকে পরিচালনা করে আর্থসামাজিক উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন দেশের বর্তমান উন্নয়নের পেছনে দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে তাঁর সরকারের সুচিন্তিত এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনা। যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়ক হয়েছে। আওয়ামী লীগ বিরোধীরা এখনও ভীষণভাবে সক্রিয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ৭৫ পরবর্তী সামরিক শাসক শ্রেণির উচ্ছিষ্টভোগী ও সুবিধাভোগীরা এখনও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে চলেছে। যদিও জনগণের মধ্যে তাদের কোন ভিত্তি নেই, কিন্তু তারা ক্ষমতা লিপ্সু। ক্ষমতার লোভে তারা স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি এবং খুনী চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে, -বলেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা এক শ্রেণির সংবাদপত্রের সমালোচনা করে বলেন, তাঁর দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য নিয়ে কয়েকটি পত্রিকা বসেই আছে, জনগণকে তাঁর সরকার সম্পর্কে বিভ্রান্ত করার জন্য নির্বাচনের সময় তারা একটার পর একটা ছেড়ে দেবে। দলের সফল নেতা ও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এরা দুর্ভাগ্যজনক ভাবে লেগেই থাকে অভিযোগ করে তিনি এদের বিরুদ্ধে সকলকে সতর্ক থাকার আহবান জানান । সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এদিন প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তাঁরা শেখ হাসিনাকে তাঁর ৭২ তম জন্মদিনেরও শুভেচ্ছা জানান। ২৮ সেপ্টেম্বও ছিল তাঁর জন্মদিন। সেদিন তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদানের জন্য নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩ তম অধিবেশনে যোগদান, বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং এসময়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসু হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্ নেতৃবৃন্দ এখন বাংলাদেশকে মর্যাদার চোখে দেখছে। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা নিজেকে বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, বাংলাদেশকে অধিষ্ঠিত করেছিলেন বিশ্বে মর্যাদার আসনে। যেকোন আন্তর্জাতিক ইভেন্টে তিনি যেতেন সেখানেই তিনি থাকতেন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। কিন্তু, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর বাঙালি জাতি বিশ্বে সেই মর্যাদার আসনটি হারিয়ে ফেলে। আমরা সেই হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে সবসময়ই সচেষ্ট ছিলাম তাই বঙ্গবন্ধু খুনিদের বিচার করেছি এবং দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে গেছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা দাবি করতেই পারি যার অনেকটাতেই আমরা সফল হয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জাতির পিতার খুনী এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সম্মুখীন করে জাতির ললাটে লেপ্টে থাকা কালিমা দূর করেছি। জাতির পিতা যেমনটি বলেছিলেন, বাঙালিদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না, সেটা আজ বিশ্বে প্রমাণিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সকলকে পুণরায় সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আমাদেরকে মনে রাখতে হবে অনেক খুনী এবং বিশ্বসঘাতকের জন্মও এদেশে হয়েছে যারা এ মাটির সন্তান হয়েও বাংলাদেশের অভ্যুদ্দয়কে কখনও মেনে নিতে পারেনি। তারা একসময় পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছিল এবং পাকিস্তানি প্রভুদেরই তারা দাসত্ব করতে চায়, তাদের বংশধরেরাও রয়ে গেছে, যারা এই ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে, -যোগ করেন তিনি। ভোটের রাজনীতি প্রসংগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই এখন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোটের কথা বলেন, কিন্তু তারা জিয়াউর রহমানের হ্যাঁ-না ভোটের কথা ভুলে গেছেন। তিনি বলেন, তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই দেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, গত সাড়ে নয় বছরে উপনির্বাচন, পৌরসভা, মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ দেশে ছয় হাজারের বেশি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেউ এসব নির্বাচন নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলতে পারে নি। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর ট্রাম্পের সংগে কথা হয়েছে। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেয়া জাতির পিতার খুনি রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং মার্কিন প্রেসিডন্ট সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী এবারের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক কারণে আশ্রয় প্রদান এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষে শান্তিপূর্ণ কূটনীতি পরিচালনায় অবদানের জন্য ইন্টারপ্রেস সার্ভিসেস নিউজ এজেন্সি এবং গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন-এর কাছ থেকে পাওয়া দু-টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও এসময় দেশের জনগণকে উৎসর্গ করেন।
এসকে সিনহার বিরুদ্ধে নাজমুল হুদার মামলা
অনলাইন ডেস্ক: দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। সোমবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগ থানায় নাজমুল হুদা নিজে গিয়ে মামলাটি দায়ের করেন। নাজমুল হুদার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শামীম আহসান সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান জানান, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তিনি বলেন, ‘মামলাটি নাজমুল হুদা করেছেন গত ২৭ সেপ্টেম্বর। মামলা নং ৪৯। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টার থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’ একটি বই প্রকাশের জের ধরে সম্প্রতি সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। নিউইয়র্কে ওই বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সিনহাকে নিয়ে আলোচনার মধ্যেই সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার ভাই অনন্ত কুমার সিনহার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার একটি অভিযোগের অনুসন্ধানে নামার কথা জানিয়েছে। এরপরই জানা গেল বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হতে চাওয়া নাজমুল হুদার মামলা করার কথা। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছাড়াও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এবং সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন। কয়েক বছর আগে বিএনপি ছেড়ে প্রথমে বিএনএফ গঠন করেন। সেটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর তৃণমূল বিএনপি নামে দল গঠন করেন নাজমুল হুদা। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএ) নামে একটি জোট গঠন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলে যোগ দেয়ার চেষ্টা করছেন। আলোকিত বাংলাদেশ
ভোটের রাজনীতিতে পারবে না যারা তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: যারা ভোটের রাজনীতিতে পারেনি তাদের ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকাল ১০ টার দিকে গণভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দেয়া সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ আছে। তাদের চক্রান্ত অনবরত চলছে। তারা জানে, তারা ভোটের রাজনীতি পারবে না। কিন্তু ক্ষমতার লোভ আছে। তাই একাত্তরের পরাজিত শক্তির সাথেই হাত মেলায়, খুনি-ঘাতকদের সাথে হাত মিলিয়ে সারাক্ষণ আমাদের বিরুদ্ধে লেগে থাকে। তিনি বলেন, ২০০১ সালে গভীর চক্রান্ত করে আমাদের আসতে দেয়নি এবং ১৯৯১ সালে এই চক্রান্ত আমার দলের ভিতরেও ছিল বাইরেও ছিল। দলের ভিতর চক্রান্তটা কোথায়? যাই হোক, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসুক আমি যেন কিছু না হতে পারি। ওটা করতে গিয়ে এমন এমন প্রার্থীদের বেছে নেওয়া হল যারা জিতে আসতে পারেনি। আর যাদের আমরা মনোনয়ন দেই নাই। দিলে তারা জিততো তাদের তারা লুফে নিলো, এরকম বহু ঘটনা ও অভিজ্ঞতা আমি বলছি এবং বহু আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে শক্তি চক্রান্ত করে ১৫ আগস্ট ঘটাল এদেশে। যে শক্তি বারবার আঘাত হেনেছে। শুধু ২১ আগস্ট না, ৮৮ সালে ২৪ জানুয়ারি বা ৮১ সাল থেকে আমি বাংলাদেশে পা দেওয়ার পর থেকেই একের পর এক যে ঘটনাগুলি ঘটেছে, তার পেছনে তারা রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, আল্লাহর ইচ্ছা ছিল বোধহয় সেজন্য বাঁচিয়ে রেখেছে। কিন্তু ওই রকম বারবার মৃত্যুকে মুখোমুখি নিয়ে চলা, এটা অনেকেই চলতেও পারে না। সে সাহসও পায় না। সেভাবে করতেও পারে না। তারপর আবার আন্তর্জাতিক চক্রান্ত মোকাবিলা করতে হয়েছে। কারণ আমাদের দেশে একটা শ্রেণি; ৭১ সালে যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনঅর সাথে জড়িত তারা তো রয়ে গেছে। তাদের বংশধর তো রয়ে গেছে। তাদের চক্রান্ত তো অনবরত চলছে এবং তারা করেই যাচ্ছে। সেখান থেকে একটা শ্রেণি গড়ে উঠেছে, তারা জানেই যে তারা ভোটের রাজনীতি পারবে না। তারা জানে যে তারা দল করতে পারে না। তারা মাঠে যেতে পারে না। কিন্তু ক্ষমতার লোভ তাদের। শেখ হাসিনা বলেন, এই ক্ষমতার লোভে একাত্তরের পরাজিত শক্তির সাথেই তারা হাত মেলায়, খুনিদের সাথে ঘাতকের সাথে হাত মিলায় এবং তারা কিন্তু সারাক্ষণ আমাদের বিরুদ্ধে লেগেই থাকে। সেটা আমাদের সব সময় মাথায় রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু পত্রিকা আছে আমি জানি তারা প্রস্তুত অনেকগুলি তথ্য নিয়ে বসে। তারা একটার পর একটা ছাড়বে। যেখানেই আমাদের কোন অর্জন, যেখানেই মানুষ একটা বাহবা দিচ্ছে, সেখানেই প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একটা মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা। আর আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমাদের মন্ত্রণালয় থেকেই হোক বা দুর্নীতি দমন কমিশন থেকেই হোক সেগুলোকে খুব গুরুত্ব দিয়েই আমাদের লোকগুলোর বিরুদ্ধে লেগে যায়। কাজেই এইসব ব্যাপারে আমাদের কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, যত অর্জন তা জনগণের দান। সুযোগ দিয়েছে বলেই বলেই এতো সাফল্য সাফল্য। ১৯৭৫ এর পর বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর পিছিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সম্মান আজ ফিরে পেয়েছে। এর আগে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকাল ৯টার পর প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশের উদ্দেশে রওনা দেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সংবাদ সম্মেলন আজ
অনলাইন ডেস্ক: আলটিমেটামে সাড়া না দেয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে নতুন কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। ঐক্য প্রক্রিয়ার নতুন কর্মসূচির জানান দিতে আজ সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আবম মোস্তফা আমিন। ধানমণ্ডির কার্যালয়ে বেলা ১১টায় এ সংবাদ সম্মেলন থেকে পরবর্তী করণীয়সহ কর্মসূচির বিষয়টি অবহিত করা হবে। ২২ সেপ্টেম্বর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু, নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ পাঁচ দফা দাবি মেনে নিতে সরকারকে সময় বেঁধে দেন ড. কামাল হোসেন। এতে বলা হয়েছিল, দাবি আদায়ে ১ অক্টোবর থেকে যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা সারা দেশে সভা-সমাবেশ করবেন। একই সঙ্গে সারা দেশে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য নামে কমিটি গঠনের আহ্বানও জানানো হয়। কিন্তু এর মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। ২৬ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে চিকিৎসা নিতে ব্যাংকক যান ড. কামাল হোসেন। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা জানান, চিকিৎসা শেষে ৬ বা ৭ অক্টোবর ড. কামাল দেশে ফিরবেন। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা রোববার বিকালে তাদের ধানমণ্ডির কার্যালয়ে বৈঠক করেন। পরবর্তী করণীয় বিষয়ে জানান দিতে এ বৈঠকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেন। এ প্রসঙ্গে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় নেতা ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারকে দেয়া আলটিমেটাম মাত্র শেষ হল। আমরা বসে আমাদের পরবর্তী করণীয় ঠিক করব। তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন অসুস্থ। হাঁটুর চিকিৎসা নিতে তিনি এখন ব্যাংককে। তার অনুপস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা বসে কর্মসূচি ঠিক করবেন। এক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এবং যুক্তফ্রন্ট যৌথভাবেও বৈঠকে বসবে। এ বৈঠকে আলাপ আলোচনা করে নতুন কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা একটি জাতীয় ঐক্যের ধারা সৃষ্টি করেছি। এ ধারাকে এগিয়ে নেবই। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আবম মোস্তফা আমিন বলেন, আগামী ৭ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমরা মানববন্ধন করব। সেখান থেকে নতুন কর্মসূচি আসতে পারে। এর আগে সংবাদ সম্মেলন করে আমরা আমাদের কথা জানান দেব।

জাতীয় পাতার আরো খবর