ধরা পড়া সবাই একসময় যুবদল-বিএনপি করত
২৩সেপ্টেম্বর,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে ধরা পড়া সবাই একসময় যুবদল, বিএনপি, জামায়াত অথবা শিবির করত। রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সভা পূর্বে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে যাদের ধরা হয়েছে তারা সবাই অনুপ্রবেশকারী। আপনারা জানেন যে, আমাদের দলে দীর্ঘদিন থেকে একটি দাবি উঠছিল এসব অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের ভয়ানক ক্ষতি করছে। তাদের এখন আমরা চিহ্নিত করেছি। চিহ্নিত করে দেখা যাচ্ছে সবাই একসময় হয় যুবদল করত, না হলে বিএনপি করত, না হলে জামায়াত-শিবিরের সদস্য ছিল। এইচ টি ইমাম বলেন, কাজেই এদেরকে খুঁজে খুঁজে যেহেতু আমরা বের করে ফেলেছি, এ জন্য তাদের পক্ষ হয়ে এতদিন যারা কাজ করছিল তারা চিহ্নিত হয়ে গেছে। তাদের গাত্রদাহটা ওইখানে। তিনি বলেন, এখন তো ইনভেস্টিগেশন হচ্ছে, এদের রিমান্ডে দেয়া হয়েছে। রিমান্ডে দেয়ার পর তথ্য পাওয়া যাবে। সে সব তথ্য নিয়ে বিচার করা হবে যে, কার কার কোথায় সম্পৃক্ততা আছে। এইচ টি ইমাম আরো বলেন, আমাদের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজেও বলেছেন এবং আমাদের সাধারণ সম্পাদক বার বার বলেছেন যে, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। সে যে পর্যায়েরই হোক না কেন। অতএব এই যে আমাদের নীতি এখানে খুব পরিষ্কার। আমরা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা দলকে পরিচ্ছন্ন করতে চাই। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমীন, উপ-কমিটির সদস্য ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী আশরাফ সিদ্দিকী বিটু, আনিস আহম্মেদ প্রমুখ।
নদী রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে আজ পালিত হচ্ছে- বিশ্ব নদী দিবস
২২সেপ্টেম্বর,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের চতুর্থ রোববার বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে দিবসটি। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো- নদী একটি জীবন্ত সত্তা, এর আইনি অধিকার নিশ্চিত করুন। সূত্র: জাগো নিউজ এদিকে ঢাকাসহ দেশের বেশিরভাগ নদ-নদী এখন দখলদারদের কবলে। ভয়ানক দূষণের শিকার প্রতিটি নদী। নানা কারণে মরতে বসেছে দেশের নদ-নদী। পাথর ও বালু উত্তোলনের কারণে অনেক নদী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি হিসাবে নদী দখলের সঙ্গে প্রায় ৪৭ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত। যদিও বাস্তবে এ সংখ্যা লক্ষাধিক। দখলবাজরা পানি প্রবাহে বাধা দিয়ে করছে মাছ চাষ। তারা দখল করেছে নদীর দুই পাড়। এমনকি প্রবহমান নদীর পানিতে বাঁশ-কাঠের মাচা তুলে বানিয়েছে ঘরবাড়ি-দোকানপাট। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার টঙ্গী থেকে সদরঘাট হয়ে ডেমরার সুলতানা কামাল ব্রিজ পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদ দূষণে জড়িত ১২০ প্রতিষ্ঠান। নারায়ণগঞ্জে নদী দূষণের তালিকায় রয়েছে ৭৪টি প্রতিষ্ঠান। এদিকে দূষণকারীদের মধ্যে একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা ওয়াসা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন নদীতে ২২৫ কোটি লিটার পয়ঃবর্জ্য ফেলছে ঢাকা ওয়াসা। নদী ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা বলেছেন, বাস্তবে ঢাকার চারপাশের চার নদী এবং নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর অবস্থা আরও করুণ। আর সারা দেশে দূষণের চিত্র ভয়ঙ্কর ও চরম উদ্বেগজনক। ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী- ৬২ জেলায় নদী দখলবাজের সংখ্যা ৪৬ হাজার ৮৩৯ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দখলবাজ কুমিল্লা জেলায়। এর সংখ্যা ৫৯০৬ জন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে নোয়াখালী ও কুষ্টিয়া। এর সংখ্যা যথাক্রমে ৪৪৯৯ ও ৩১৩৪ জন। ঢাকায় এ সংখ্যা ৯৫৯ জন। তালিকা হলেও দখলবাজদের উচ্ছেদ-অভিযান খুব একটা হয় না। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে নদী-দখলবাজ উচ্ছেদে অভিযান নেই বললেই চলে। ঢাকায় মাঝে-মধ্যে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অভিযান শুরুর পর অদৃশ্য কারণে তা স্থায়ী হয় না। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে দেয়া নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালানোর কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়- ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের দুই পাশে ১৬ হাজার ২২৫টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাকা ২ হাজার ৫৭৭টি, আধাপাকা ১ হাজার ৬৯৬টি ও অন্যসব স্থাপনা ১১ হাজার ৯৫২টি। উদ্ধার হওয়া তীরভূমি ও জায়গার পরিমাণ ৬০১ দশমিক ৩২ একর। উচ্ছেদ চালানোর সময়ে ঢাকা নদী বন্দরে ৪১ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরে ২১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে চলতি বছরে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ৩ হাজার ২০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ৯১ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়। নদী দিবস সামনে রেখে গতকাল (শনিবার) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নদী রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেই উদ্যোগ ব্যাহত হয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানের কারণে নদী রক্ষাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয়া হয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জ প্রতিহত করতে দখলদাররা নানাভাবে চেষ্টা করছে। আইনিভাবে কেউ যাতে এ কাজে বাধা দিতে না পারে, সেই লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। নদী আন্দোলনের সঙ্গে সরকার নিজেই সম্পৃক্ত। সুতরাং এ আন্দোলন সফল হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, নদীর সংকটে পড়ার আরেকটি বড় কারণ দূষণ। ঢাকার চারপাশের চার নদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদীর দূষণ সীমাহীন। মাত্রাতিরিক্ত দূষণে সদরঘাটের বুড়িগঙ্গার পানি কুচকুচে কালো, হাজারীবাগের পানি রক্তের মতো লাল। তুরাগের পানি কোথাও কালো, কোথাও গাঢ় নীল। বালু নদের পানি ধূসর বর্ণ ধারণ করেছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, সারা দেশের নদ-নদী দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ তালিকা ধরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। এ লক্ষ্যে এক বছর মেয়াদি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেয়া হয়েছে। ক্র্যাশ প্রোগ্রামের মধ্যে রয়েছে- নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নদীর সীমানা চিহ্নিত করা, মরা নদীর জমি চিহ্নিত করতে জরিপ করা ও জমি সংরক্ষণ করা, নদীর জমি লিজ দেয়া হলে এবং ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে নদী রেকর্ড হয়ে থাকলে তা বাতিল করা।
কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের চেয়ারম্যান ফিরোজ আটক
২০সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এবার রাজধানীর ধানমণ্ডি কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে ক্যাসিনোর সন্ধানে অভিযানে নেমেছে Rapid Action Battalion(Rab)। ক্রীড়াচক্রের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম ফিরোজকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নিয়ে গেছে Rab। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে এ অভিযান শুরু করে Rab-২। অভিযানের নেতৃত্বে Rab-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ। এর আগে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের চেয়ারম্যান এবং কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও বায়রার সিনিয়র সহসভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নিয়ে গেছে Rab। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে শফিকুল আলমকে Rab হেফাজতে নেয়া হয়। জানা গেছে, আজ বিকেল থেকে পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে Rab। অভিযানে চলাকালে ভেতরের কাউকে বাইরে আসতে দেয়া হচ্ছে না। আর বাইরের কোনো লোকজনকে ভেতরেও প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। Rab সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে Rab জানতে পারে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের এই ক্লাবে ক্যাসিনো ও জুয়া আসর চলছে। এ খবর পেয়েই সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে কালো তালিকাভুক্ত ২৭ এমপি,অভিযান যে কোন সময়
২০সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিভিন্ন অপরাধ এবং অনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত ২৭জন এমপিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এরা দলের জন্য ক্ষতিকর। এমপি হয়ে এরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব টীম দিয়ে এই অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছেন। ধারণা করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ফিরে আসার পর এমপিদের বিরুদ্ধেও এই ক্রাশ প্রোগ্রাম অব্যাহত করা হবে। শুধু ছাত্রলীগ, যুবলীগ নয়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এমনকি মন্ত্রী, এমপিদেরও অপকর্মের তদন্ত করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রধানমন্ত্রীর একটি নিজস্ব টীম এই কাজ প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, এই ২৭জন এমপির মধ্যে ঢাকার এমপি অন্তত তিনজন। এদের একজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শ্মশানঘাটের জমি দখল করার অভিযোগ রয়েছে। আরেক এমপির বিরুদ্ধে রয়েছে টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের লালন পালনের অভিযোগ। বিভিন্ন সূত্র বলছে, মতিঝিল এলাকায় যেমন যুবলীগের ক্যাসিনোর বিষয়ে সাংসদ রাশেদ খান মেননের সম্মতি ছিল ঠিক তেমনি ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এমপিদের যোগসাজশ রয়েছে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের একজন প্রভাবশালী এমপি যার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব দেখা দেয় তাঁকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল, যশোর, রাজশাহীসহ অন্তত ১৭টি জেলার ২৭ এমপির বিরুদ্ধে এধরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এসব অভিযোগের ব্যাপারে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করেছেন। তিনি একাধিক শীর্ষ নেতাকে বলেছেন, শুধুমাত্র ছাত্রলীগ, যুবলীগ নয় যারাই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এটাও বলেছেন যে, দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। এমপিদের বিরুদ্ধে নানারকম অবৈধ তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদেরকে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সতর্ক করে দিয়েছেন। শেষ সতর্কবার্তা যদি তারা গ্রহণ না করেন সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সংগঠনের নামে কেউ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করলে বা সন্ত্রাসীকে লালন করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউন্সিলের আগে দলের একটি ক্লিন ইমেজ আওয়ামী লীগ সভাপতি তৈরি করতে চান। এই ক্লিন ইমেজের অংশ হিসেবেই তিনি এই অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন বলে দলের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত: তথ্যমন্ত্রী
২০সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মেলবন্ধন দুই দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আমাদের সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। দুই দেশের উন্নয়নের সাথে সাথে আমাদের মধ্যে যোগাযোগ সেতুবন্ধ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এখন সময় এসেছে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ এবং সেতুবন্ধ আরও বাড়ানোর। তাহলে আমাদের পুরো অঞ্চল একসাথে সমৃদ্ধশালী হবে, পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকবে। বৃহস্পতিবার রাতে ভারতীয় হাইকমিশনে আইটেক দিবসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল মালেক। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইটেক দিবস একটি অত্যন্ত চমৎকার ধারণা। এভাবে একটা দিবস নির্ধারণ করে যারা ভারতে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছে তাদের একত্রিত করা সত্যিই চমৎকার উদ্যোগ। আজ প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে এক ধরনের আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দুই দেশের মেলবন্ধন ও উন্নয়নে এ ধরণের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রচুর শিক্ষার্থীকে বিশেষ করে সরকারি পর্যায়ে অনেকে এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ভারতে প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বা তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আমাদের দেশে ডিজিটাল বাংলাদেশের শ্লোগান দিয়ে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছি। ভারতও বিভিন্ন জায়গায় আইসিটি-হাব গড়ে তুলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে থাকায় আমরা কাছাকাছি সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্বে যুক্ত হতে সক্ষম হয়েছি। মন্ত্রী বলেন, ভারত এবং বাংলাদেশের গ্রাজুয়েটরা এখন ইউরোপ, আমেরিকাতে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের সমৃদ্ধি আমাদের সন্তানদের দিয়ে হচ্ছে। তাই আমাদের মধ্যে সহযোগিতা এই পুরো অঞ্চলকে সমৃদ্ধ করবে। তিনি বলেন, ব্যবহারিক সহযোগিতা, জ্ঞান ও ভাবের আদান-প্রদান পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শামীমের কার্যালয়ে মিলল টাকার খনি
২০সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর নিকেতনে তার ব্যবসায়িক কার্যালয় ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র, মাদক, নগদ ১০ কোটি টাকা ও প্রায় ২শ কোটি টাকার এফডিআর চেক উদ্ধার করা হয়। Rabর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম তার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে এ টাকা উদ্ধার করেন। এর আগে শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর নিকেতনে শামিমের ব্যবসায়িক কার্যালয় জি কে বিল্ডার্সে র‌্যাবের একটি দল এসে তাদের তুলে নিয়ে যায়। জিকে বিল্ডার্সের কর্মচারী দিদারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর নিকেতনে শামীমের ব্যবসায়িক কার্যালয় জিকে বিল্ডার্সে Rabর একটি দল এসে তার ৬ বডিগার্ডকে তুলে নিয়ে যায়। ভোরবেলা সিটি কর্পোরেশনের লোক বলে Rab শামীমের কার্যালয়ে ঢোকে বলে জানার দিদারুল ইসলাম। পরে Rab পরিচয়ে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। Rab-১ সূত্রে জানা গেছে, শামীমের দেহরক্ষীদের থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র লাইসেন্সকৃত কিনা তা যাচাই করা হবে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রRabর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং) এএসপি মিজানুর রহমান বলেন, এ মুহূর্তে গণমাধ্যমকে কিছুই জানাতে পারছি না। পরে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
উদ্বোধনের দিনই পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চলবে: রেলমন্ত্রী
১৭সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: উদ্বোধনের দিনই স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে পুরোদমে রেল লাইনের কাজ চলছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রেলভবন মিলনায়তনে রেলমন্ত্রীর ভারত ও চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে রেলপথের কাজ শুরুর পর তা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার কথা রয়েছে। তবে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার রেলপথ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খুলে দেওয়ার জন্যে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, দুই ধাপে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার ও দ্বিতীয় ধাপে ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত ৮৫ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মিত হবে। এ ছাড়া ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে মাওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের কাজে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে। পদ্মা সেতুর অগ্রগতি হয়েছে এখন পর্যন্ত ৭৩ শতাংশ। স্বপ্নের এ সেতু উদ্বোধনের দিনেই এর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল করবে। মন্ত্রী এ সময় ভারত ও চীন সফর নিয়ে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আমরা ভারতের ট্রেন, তাদের ট্রেনে আধুনিকতা সরেজমিনে দেখে এসেছি। আমাদের দেশে চলাচল করা ২৬৩ ট্টেনের ৬৮ শতাংশ মেয়াদ আছে, বাকিগুলোর নেই। আমরা ভারতের কাছে থেকে কিছু ইঞ্জিন কেনার প্রস্তাব দিলে তারা বন্ধুত্বের নিদর্শন স্বরূপ ২০টি ইঞ্জিন উপহার দেবে, যেগুলো তিন বছর পর ফেরত দেবো। ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল সপ্তাহে চার দিন থেকে বাড়িয়ে ছয় দিন করতে ভারতীয় রেলওয়েকে রাজি করিয়েছেন বলেও জানান সুজন। খুলনা-কলকাতা রুটের বন্ধন এক্সপ্রেসের যাত্রা বাড়ানোর আশাও করেন তিনি। রেলমন্ত্রী বলেন, এখন মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন সপ্তাহে চার দিন চলাচল করে। এটাকে বাড়িয়ে ছয় দিন করতে চাই। মানে ছয় দিনে ১২ বার চলাচল করবে। বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনটি এক দিনের বদলে সপ্তাহে যেন তিন দিন চলতে পারে, সে বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সংবাদ সম্মেলনে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন, মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ২৯ আগস্ট সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ২০২১ সালের জুনে পদ্মাসেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে। সেদিন তিনি আরো জানান, পদ্মাসেতুর কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭৩ শতাংশ। তার মতে, ২০২০ সালের মধ্যে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হতে আরো ৫ থেকে ৬ মাস লাগবে বলেও উল্লেখ করেন সেতুমন্ত্রী।
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী অত্যাধুনিক-রাজহংস,উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
১৭সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চতুর্থ ড্রিমলাইনার রাজহংস উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে বিমানের বহরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির চতুর্থ ও শেষ ড্রিমলাইনারটি সংযুক্ত হলো। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে ফিতা কেটে রাজহংসের উদ্বোধন করেন তিনি। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর বিকাল পৌনে ৪টায় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার- রাজহংস (বিজি-৫০০৪) উড়োজাহাজটি দেশে পৌঁছায়। এটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৬তম উড়োজাহাজ। এর আগে গত বছরের আগস্ট ও ডিসেম্বর মাসে- আকাশবীণা ও হংসবলাকা নামের প্রথম ও দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার বোয়িং ৭৮৭-৮ বাংলাদেশে আনা হয়। গত জুলাই মাসে তৃতীয় বিমান- গাংচিল আনা হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিমানগুলোর নামকরণ করেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। ইতিমধ্যে চারটি নতুন বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ বিমানবহরে যুক্ত হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হতে যাওয়া চারটি ড্রিমলাইনারের নাম পছন্দ ও বাছাই করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এগুলো হল- আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস। এর আগে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, ২টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ইআরের নামও প্রধানমন্ত্রীর দেয়া যথা- পালকী, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ, রাঙা প্রভাত, মেঘদূত ও ময়ূরপঙ্খী।

জাতীয় পাতার আরো খবর