চারটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বিএনপি সরকারের সময় দেশে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। আর এখন ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেন, বিএনপির সময় দেশে বিদ্যুৎ ছিল না, রাজধানীর অনেক এলাকা অন্ধকারে ছিল। আমরা এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিয়ে যাত্রা করেছিলাম, এখন ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। আশা করি দেশের মানুষ তা মনে রাখবেন। আজ রবিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১০ উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প ও চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক ই ইলাহি চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সৌদি আরব ও কুয়েতের রাষ্ট্রদূত এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।যে চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন হয়েছে সেগুলো হলো- শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট, সাল্লা ৪০০ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ এবং সরিষাবাড়ী তিন মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র।যে ১০টি এলাকা ইতোমধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতায় আনা হয়েছে সেগুলো হলো- ফরিদপুর সদর, মাদারীপুরের রাজৈর, নওগাঁ সদর, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, মাগুরার শালিখা, মেহেরপুর সদর, নেত্রকোণার মদন এবং নরসিংদীর বেলাবো।দেশের বিভিন্ন এলাকায় শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পেরে খুশি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এটা বঙ্গবন্ধুর অন্যতম স্বপ্নের বাস্তবায়ন।শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দেখলাম বিদ্যুতের রিজার্ভের পরিমাণ ১৫/১৬শ মেগাওয়াট মাত্র। তখন রাজধানীর অনেক এলাকাও ছিল অন্ধকারে। আমরা ক্ষমতায় এসে বেসরকারি উদ্যোগে বিদ্যুৎকেন্দ্র করার সুযোগ করে দিলাম, যাতে রিজার্ভের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেইবার পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে চার হাজার ৩০০ মেগাওয়াট রিজার্ভ রেখে গিয়েছিলাম। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। নয় বছর পর ক্ষমতায় এসে দেখলাম আমাদের রেখে যাওয়া বিদ্যুতের পরিমাণ কমে তিন হাজার ২০০ মেগাওয়াট হয়েছে। বিএনপি সরকার বিদ্যুতের রিজার্ভ বৃদ্ধি তো করেইনি, বরং কমিয়েছে।তিনি বলেন, শিল্প উন্নয়নসহ যে কাজই করতে যাই বিদ্যুৎ প্রয়োজন। তাই আমাদের লক্ষ্য ছিল কত দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি। আমাদের লক্ষ্য ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। দুর্গম এলাকায়ও সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছি। এখন গ্রামে বসে কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছি। মানুষের জীবন সুন্দর ও সহজ করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় এসে আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ঘরে ঘরে আলো জ্বালাবো, মানুষকে সুশিক্ষা শিক্ষিত করবো। প্রতিটি অঞ্চল উন্নত করা এবং সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা। আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশ।শেখ হাসিনা বলেন, লুটপাট, মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি, ঘুষ, অত্যাচার, নির্যাতন ছিল বিএনপির কাজ। তাদের কাছে ক্ষমতা মানেই ভোগ বিলাসে গা ভাসানো। ক্ষমতায় থাকতে তারা দেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান বানিয়েছিল। জঙ্গিবাদ ও বাংলা ভাইয়ের সৃষ্টি, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন, আমার ওপর গ্রেনেড হামলাই ছিল তাদের কাজ। মানুষের উন্নয়নে তারা কোন কাজ করেনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে বিদ্যুৎ। এজন্য তার সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষভাবে মনোযোগ দিয়েছে। শুধু শহরে নয়, গ্রাম পর্যায়ে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে চেষ্টা করছে সরকার। তিনি বলেন, আমরা বিদ্যুৎকে বহুমুখী করেছি। সৌরবিদ্যুৎ, পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প, কয়লাভিত্তিক ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছি। আমরা ভারত থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশে নারী জাগরণে বিপ্লব ঘটেছে :প্রধানমন্ত্রী
নিজ মেধা ও ক্ষমতার ওপর আস্থা রাখার জন্য দেশের নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । তিনি বলেছেন, নারী ও পুরুষ উভয়ে মিলেই দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোকেয়া দিবস ও রোকেয়া পদক-২০১৭ বিতরণ উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই দেশের সব নারী-পুরুষ দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করবে। মেয়েদেরকেও সবসময় এটা ভাবতে হবে, যার যে মেধা, যার যে শক্তি, সে যেন সেটাকে বিকশিত করে। নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়িয়েই চলতে হবে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেটা নিজেদের উদ্যোগে হতে হবে, কারো মুখাপেক্ষী হয়ে নয়। চলার পথে নানা বাধা থাকে, বাধা আসবেই, সেই বাধাকে অতিক্রম করে আমাদের নারীদের এগিয়ে যেতে হবে। সব মা-বোনের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, সবার উচিত, আমাদের সমাজে যারা একেবারে অবহেলিত তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং তাদের সহযোগিতা করা। বেগম রোকেয়া পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বক্তৃতা করেন মাজেদা শওকত আলী। এবছর পাঁচজনকে বেগম রোকেয়া পদক ২০১৭-তে ভুষিত করা হয়। তারা হলেন- সংগঠক মাজেদা শওকত আলী, মাহফুজা খাতুন বেবী মওদুদ (মরণোত্তর) চিত্রশিল্পী সুরাইয়া রহমান, লেখক শোভা রানী ত্রিপুরা এবং সমাজকর্মী মাসুদা ফারুক রত্না। প্রধানমন্ত্রী গত বছর বেগম রোকেয়া পদক বিতরণের সময় ঘোষণা দিয়েছিলেন, এ বছর থেকে দুজনের পরিবর্তে আরো বেশি সংখ্যক নারীদের, বিশেষ করে যারা নিভৃতে নারী উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের মাঝে এই পদক বিতরণ করা হবে। ১৯৯৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৪৬ জন নারীকে এ পদক দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ট্রেডে নারীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, যাতে দেশে-বিদেশে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। কাজেই আমরা চাই যে, সবাই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই দেশকে উন্নত করার কাজ করবে । নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে তার সরকারের ব্যাপক কার্যক্রমের সাফল্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একের পর এক স্বীকৃতি এনে দিয়েছে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে লিঙ্গসমতায় বাংলাদেশ শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে। তিনি আরো বলেন, ১৯৯৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার সরকার ইউনিয়ন পর্যায়ে সংরক্ষিত আসনে মহিলা কাউন্সিলর এবং পরবর্তী সময়ে উপজেলা পর্যায়ে ভাইস চেয়ারম্যানের পদ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সরকারে বর্তমানে ১২ হাজার ৮২৮ জন নির্বাচিত মহিলা সদস্য দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত আছেন। স্থানীয় সরকারের অন্তত পাঁচটি কমিটিতে তারা চেয়ারপারসনের দায়িত্বে আছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি। নারী শিক্ষিকার সংখ্যা ৬০ভাগে উন্নীত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশে নারী জাগরণে বিপ্লব ঘটেছে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার একজন নারী। তিনি কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদ উপনেতা ও বিরোধী দলীয় নেত্রীও নারী। খেলাধুলাসহ সর্বক্ষেত্রে এই নারীরা এখন অগ্রগামী। শেখ হাসিনা বলেন, নারী নীতিমালা প্রণয়ন, নারী উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্র সম্প্রসারণ, দরিদ্র-অবহেলিত নারীদের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় আনা এবং সর্বোপরি সমাজের প্রান্তিক, অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র নারীদের উন্নয়নে সরকার বিশেষ নজর দিয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বেতনসহ ৪ মাস থেকে ৬ মাস করা হয়েছে। সন্তানের পরিচয়ের ক্ষেত্রে মায়ের নাম লেখা বাধ্যতামূলক এবং জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৫০ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নারী উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রসঙ্গে বলেন, পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ এবং পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা ২০১৩ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০১০- এ আইন আমরা প্রণয়ন করেছি। তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে যুগব্যাপী জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৩-২০২৫) প্রণয়ন করা হয়েছে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৪ এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ সংশোধন করে যৌতুক নিরোধ আইন-২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। নারী উদ্যোক্তারা পুরুষদের থেকে ৫ থেকে ৬ শতাংশ কম সুদে ঋণ পাচ্ছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র মাদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করেছে। ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল থেকে গার্মেন্টসে কর্মরত দুগ্ধদায়ী ও গর্ভবতী মাকেও ভাতা দেওয়া হচ্ছে। মহিলা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ১৭ হাজার ৬৩৯টি সমিতিতে সরকার অনুদান দিচ্ছে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ৬৪টি জেলায় ৪৮৯টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৪৭টি ইউনিয়নে দুস্থ মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) কর্মসূচি চালু রয়েছে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ওয়ান স্টপ সেন্টারের ভূমিকা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) সেপ্টেম্বর, ২০১৫ পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮৮৮ জন নারীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল জানুয়ারি ২০১৩ সাল হতে সেপ্টেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত ১৬ হাজার ১৭৯ জন নির্যাতনের শিকার নারীকে সহায়তা দিয়েছে। দেশের আটটি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে প্রাক্তন ভিকটিমদের নিয়মিত মাসিক ফলোআপ সভা হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, সেপ্টেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিতে ৩ হাজার ২০০টি মামলার ডিএনএ পরীক্ষা হয়েছে। ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার ১০ হাজার ৯২১টি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও বাল্যবিবাহ বন্ধে কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। জাতীয় মহিলা সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেল এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ন্যাশনাল সেন্টার অন জেন্ডার বেজড ভায়োলেন্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিধবা ও নিগৃহিত মহিলা ভাতাপ্রাপ্তদের সংখ্যা ১০ দশমিক ১২ লাখ থেকে ১১ দশমিক ১৩ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। সন্তানসম্ভবা ও ধাত্রী মায়ের ভাতা ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এতে তাদের পরিবারে একটা অবস্থান থাকছে। প্রধানমন্ত্রী বেগম রোকেয়ার জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক নেপথ্য কারিগর তার মা বেগম মুজিবের বিভিন্ন সাহসী ভূমিকার কথাও ভাষণে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মায়ের একটা দৃঢ়চেতা মনোভাব ছিল। সময়োচিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল। আমার মা রাজনীতিতে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। বাবার পাশেই সব সময় থেকেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজের জীবনের তিনটি ঘটনা তুলে ধরে তার মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের দৃঢ়চেতা এবং দূরদর্শী চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে আলোকপাত করেন। প্রথমত, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় ৬ মাস বাবার কোনো খোঁজ পাইনি । তাকে জেলখানা থেকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি বেঁচে আছেন কি মরে গেছেন জানি না। সে সময় মামলার যেদিন শুনানি সেদিনই তার দেখা পাই। সে সময় আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতারা বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে আইয়ুব খানের সঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহণের কথা বলেছিলেন। কিন্তু আমার মা বললেন, না, প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বঙ্গবন্ধু আলোচনার জন্য যাবেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় বেগম মুজিবের ম্যাসেজ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় যে, প্যারোলে মুক্তি নেওয়া যাবে না। কারণ তার মা বলেছিলেন, এই মামলার আরো ৩৪ জন সদস্য রয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যদি প্যারোলে মুক্তি নেন তাহলে অন্যদের কী হবে? সে সময় অনেক কষ্টে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করার পর বাসায় ফিরে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ নেতাদের তোপের মুখে পড়ার কথা স্মরণ করে বলেন, সে সময় ক্ষুব্ধ নেতারা বলছিলেন- তুমি কেমন মেয়ে হে, বাবার মুক্তি চাও না, তোমার মা তো বিধবা হবেন। তিনি বলেন, মা-ই তখন সেসব নেতাদের বলেছেন এবং আমাকে অভয় দিয়েছেন, নিশ্চয়ই তোমার বাবা ফিরে আসবে, এত বড় অন্যায় কখনো হতে পারে না। তার সেই সময়োচিত সিদ্ধান্তে বাংলার মুক্তির সংগ্রাম তখন নতুন করে গতি পায় বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে ভাষণ আজ শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে পৃথিবীতে স্বীকৃতি পেয়েছে। ইউনেস্কো তাদের ওয়ার্ল্ড মেমোরি রেজিস্টারে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সেই ভাষণ দেওয়ার দিনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকাল থেকেই নানাজনে নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন- এটা বলতে হবে, ওটা না বললে হবে না। কিন্তু মা ভাষণ দেওয়ার কিছু আগে বঙ্গবন্ধুকে একটু বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ করে দেন এবং একটি আলাদা ঘরে নিয়ে বলেন (যে ঘরে প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন), তুমি জান কী বলতে হবে। এই বাংলার মানুষের জন্য তুমি আজীবন সংগ্রাম করেছ। তোমার সামনে লাঠি হাতে জনগণ, পেছনে পাকিস্তানিদের উদ্যত বন্দুক। তাই তুমি জান তোমাকে কী বলতে হবে। কারো পরামর্শ শোনার দরকার নেই। এরপর সমগ্র বিশ্ব দেখেছে কোনো কাগজ ছাড়া বঙ্গবন্ধু সেই ভাষণ দিয়ে সমগ্র দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। অপর ঘটনাটি বলতে গিয়ে অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী। সেটি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই কাল রাতের ঘটনা। সিঁড়ির ওপর বঙ্গবন্ধুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে যান এবং সৈনিকরা তখন তাকে অন্যত্র নিয়ে যাবার উদ্যোগ নিলে তিনি বলেন, তিনি জাতির পিতাকে এখানে ফেলে রেখে কোথাও যাবেন না। প্রধানমন্ত্রী বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, তার মা বলেছিলেন, তোমরা তাকে (বঙ্গবন্ধু) গুলি করে মেরেছ। আমাকেও গুলি করে মারো। আমি কোথাও যাব না। জাতির জনকের কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মা অন্য সবার মতো সেদিন কিন্তু নিজেকে বাঁচাবার চেষ্টা করেননি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাবার কারান্তরীণ থাকার সময়গুলোতে মায়ের বলিষ্ঠ ভূমিকা তখন বিপন্ন জাতিকে পথ দেখিয়েছে ।
মির্জা ফখরুলকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে : হানিফ
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আল্টিমেটাম দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার সন্তানদের সৌদি আরবে শপিংমল ও কাতারে বাণিজ্যিক ভবনের মালিকানার যে তথ্য দিয়েছেন, তা নাকচ করে দিয়ে এটাকে সর্বৈব মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কাচের ঘরে বসে অন্যের ঘরে ঢিল ছুড়বেন না। বেআইনি মিথ্যা তথ্য প্রচার বন্ধ করুন এবং এই মানহানিকর মিথ্যা তথ্য প্রচারের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আমরা বাধ্য হব। এর জবাবে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, দুর্নীতিবাজ বেগম খালেদা জিয়া এবং তার পুত্র তারেক রহমান উচ্চ আদালতের রায়ে দোষী প্রমাণিত হয়েছে। ঠিক এই সময় বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় সৎ ও যোগ্য রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল যে দম্ভোক্তি করেছেন এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলেছেন, তার জন্য তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় জনগণ মির্জা ফখরুলের বিচার করবে। পটিয়া উপজেলা পরিষদের বঙ্গবন্ধু চত্বরে অনুষ্ঠিত এ ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ। আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ আরও বলেন, মির্জা ফখরুলের এই অশোভন বক্তব্যবের জন্য তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।
দেশের মানুষও আজ বুঝতে পেরেছে শেখ হাসিনার কোনও বিকল্প নেই :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। প্রতিদিন নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় প্রধানমন্ত্রীকে। তাকে ১৯ বার হত্যা চেষ্টা করা হয়েছিল। দেশের মানুষের ভাগ্য বদলের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আল্লাহ রক্ষা করেছেন। শনিবার ভোলার লালমোহন উপজেলায় আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা বলেন তা করে দেখিয়েছেন। ২০০৮ সালে তিনি বলেছিলেন বাংলাদেশকে পাল্টে দেবেন, তিনি গোটা দেশটাকে বদলে দিয়েছেন। দেশের মানুষও আজ বুঝতে পেরেছে শেখ হাসিনার কোনও বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সরকার দারিদ্র্য সীমা কমিয়ে ২২ ভাগে নিয়ে এসেছে। ২০২০-২১ সালের মধ্যে এটাকে ১২ ভাগে আনা হবে। ২০ সালের মধ্যে দেশের ৭৫ ভাগ মানুষকে শিক্ষিত করা হবে। ২০৪০ সালে শতভাগ মানুষ শিক্ষিত হবে। সাড়ে তিন হাজার মেঘোওয়াট বিদ্যুৎ নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছিলেন। আজকে আমরা প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। সবক্ষেত্রে সরকার এগিয়ে চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের জঙ্গি দমনে জীবনের মায়া ত্যাগ করে তারা কাজ করছে। তাই সাধারণ মানুষের পুলিশের প্রতি আস্থা ফিরে এসেছে। এর আগে মন্ত্রী প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যায়ে লালমোহন নবনির্মিত আধুনিক থানা ভবনের উদ্বোধন করেন। আর বিকালে তজুমুদ্দিন থানা ভবন উদ্বোধন করবেন। খবর বাসস।
সমাজে দুর্নীতিবাজ শকুনের উৎপত্তি ঘটেছে :দুদক চেয়ারম্যান
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, সমাজে দুর্নীতিবাজ শকুনের উৎপত্তি ঘটেছে। এসব শকুনদের উৎখাত করতে চাই। দুর্নীতিবাজরা সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তাদের বিষ দাঁত ভেঙে দেওয়ার এখনই সময়। শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতিবাজরা ব্যাংক লুট করছে, সরকারি কাজে ঘুষ নিচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে অনৈতিক কাজ করছে, শিক্ষা ব্যবস্থায় অনৈতিক কাজ করছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত সমস্যা তৈরি করছে। এরা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সবাই এক হয়ে দুর্নীতিবাজদের সমুচিত জবাব দিতে হবে। দুদকের একার পক্ষে জবাব দেওয়া সম্ভব না। আমরা কেবল অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারি। দল-মত-নির্বিশেষে সকল মানুষের রুখে দাঁড়ানো ছাড়া দুর্নীতিবাজদের রুখে দেওয়া যাবে না। হযরত ওমর (রা.)- এর একটি উদ্ধৃতি দিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ওমর (রা.) বলেছিলেন- তোমরা রাতে এমন কাজ কর না, যাতে করে দিনের বেলায় মুখ লুকাতে হয়। আবার দিনে এমন কাজ কর না, যাতে রাতে অন্ধকারে মুখ লুকাতে হয়। তাঁর এই বক্তব্যের বিশেষত্ব হলো- লজ্জা বা আত্মপ্রবঞ্চনা মানুষের থাকতে হয়। এই সত্যটা সবার বোঝা উচিত , তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজদের বোঝা উচিত তারা যে সম্পদ দুর্নীতি করে অর্জন করেন, তা তারা ভোগ করতে পারেন না। এই সম্পদ তারা শরীর স্বাস্থ্য কিংবা বয়সের জন্য ভোগ করতে পারে না। তারা মূলত দুর্নীতি করে টাকা ও ক্ষমতার নেশার কারণে। এই ধরনের নেশা আমরা বন্ধ করতে চাই। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ভবিষ্যুত প্রজন্মের জন্য এমন একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ো, যাতে দুদকের মত প্রতিষ্ঠান দরকার না হয়। তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তোমরা বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাও। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত কর। তাহলে যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এদেশ সৃষ্টি হয়েছে, তাদের আত্মা শান্তি পাবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, দুদক সচিব ড. শামসুল আরেফিন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে:ওবায়দুল কাদের
পদ্মাসেতু ও মেট্রোরেল প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটি পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য খণ্ডনে বিএনপি মহাসচিব যে দাবি করেছেন সেটা আষাড়ে গল্প। এটাই তাদের আসল চরিত্র। দুদকে গিয়ে প্রমাণ করুন আপনাদের নেত্রী (খালেদা জিয়া) দুর্নীতিবাজ নয়। সংবাদ সম্মেলন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন ৫ নারী
সমাজে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালের বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন ৫ নারী। দেশের স্বনাম ধন্য পাঁচ নারীর হাতে রোকেয়া পদক-২০১৭ পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে বেগম রোকেয়া দিবস-২০১৭ উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই পদক প্রদান করেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিবছর বেগম রোকেয়া দিবসে পদক প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। নারী কল্যাণ সংস্থা ১৯৯১ সাল থেকে রোকেয়া পদক প্রদান করা শুরু করে। সরকারিভাবে ১৯৯৬ সাল থেকে এই পদক দেয়া হচ্ছে। এ বছরে বেগম রোকেয়া পুরস্কার পেলেন- মুক্তিযোদ্ধা মাজেদা শওকত আলী, শিক্ষক শোভা রাণী ত্রিপুরা, গ্রাম বিকাশ সহায়তা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাসুদা ফারুক রত্না, চিকিৎসক ব্রি.জে (অব) সুরাইয়া রহমান এবং সাংবাদিক মাহফুজা খাতুন বেবী মওদুদ (মরোণত্তর)। আজ (৯ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে দশটায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার তাদের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর এ দিন সারাদেশে সরকারিভাবে রোকেয়া দিবস পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারো রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন উপমহাদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনি আমাদের (নারীদের) জন্য নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে দিয়েছিলেন। তার জন্যই আজ আমরা এগিয়ে যেতে পেরেছি।
আজ আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস
আজ ৯ ডিসেম্বর, জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য আসুন দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হই। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০১৭ উপলক্ষে শনিবার বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সে হিসেবে আজ পঞ্চদশ আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। দুদক ২০০৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন শুরু করে। যদিও এ বছরই প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুদক জানায়, ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের অনুরোধ জানিয়ে ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দেয় সংস্থাটি। পরে সরকার চলতি বছরে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ঘোষণা করে। পাশাপাশি এই দিনটিকে দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে পালনের লক্ষ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন সংক্রান্ত পরিপত্রের খশ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণের সিদ্ধান্ত নেয়। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০১৭ উপলক্ষে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দুদক। সকাল সোয়া ৯টায় কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ কমিশনের সামনের সড়কে শান্তির প্রতীক পায়রা ও ফেস্টুন উড়িয়ে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। একই সঙ্গে তিনি কমিশনের মিডিয়া সেন্টারের রক্ষিত রেজিস্ট্রারে নিজ স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী গণস্বাক্ষর কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। রেজিস্ট্রারটি ৯ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বসাধারণের স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। শনিবার সকাল ১০টায় কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নেতৃত্বে কমিশনের প্রধান কার্যালয় ও ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ, দুদকের প্যানেল আইনজীবী, ঢাকা মহানগর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য, গার্লস গাইডস, বয়েজ স্কাউট, আনসার ও বিএনসিসির সদস্যরা সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১১টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে এতে প্রধান অতিথি থাকবেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। শিশুপার্ক, গুলিস্তান, ফার্মগেটসহ জনসমাগম হয় এমন স্থানে দুর্নীতিবিরোধী তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের প্রতিটি মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানববন্ধন, আলোচনা সভা, তথ্য চিত্র প্রদর্শন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মসূচিতে শোভাযাত্রা বের করে মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করা যাবে না, তাই শোভাযাত্রা না করে দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধন করছি আমরা। মানববন্ধনে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা, এনজিও ও সামাজিক সংগঠনসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের উপস্থিত থাকবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি শুধু বাংলাদেশের একক কোনো সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দুর্নীতিকে অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
দেশের কয়েকটি স্থানে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের কয়েকটি স্থানের মতো রাজধানী ঢাকায়ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার পর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হতে দেখা যায়। যা সকালেও অব্যাহত রয়েছে। এতে হালকা শীতের মধ্যে এমন বৃষ্টিতে বেকায়দায় পড়তে দেখা গেছে কর্মমুখী মানুষের। প্রচলিত রয়েছে, অগ্রহায়ণের শেষ দিকের এ বৃষ্টি হতে পারে শীতের আগামনী বার্তাও। এরই মধ্যে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে শুক্রবার গুড়ি গুডি বৃষ্টির সঙ্গে শীত জেকে বসার খবরও পাওয়া গেছে। শুক্রবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর বিভাগের দুএক জায়গায় হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর