সারাদেশে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ শুরু ১৫ মে থেকে
আসছে ১৫ মে থেকে সারাদেশে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন। ২৫ এপ্রিল প্রথম ধাপে কাতার থেকে ৫শ' এমএমসিএফটি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করা হবে বলেও জানান তিনি। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, 'আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি যে, গ্যাস আসতেছে এবং আমরা ২০ তারিখ সিস্টেমে দিব। মিটারগুলো সিস্টেম করা আছে। তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী আরো বলেন, 'যে কোন করতে রিহার্সাল করতে হয়। সে হিসেবে কিছুদিন সময় লাগবে। এজন্যই ২৫ এপ্রিল সময় নেয়া হয়েছে। নীট মে আপনারা গ্যাস পাবেন। সে হিসেবে আপনারা প্রস্তুতি নেন।' এসময় তিনি আরো বলেন, '২৫ তারিখের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। সেজন্য আমরাও এসেছি। আনোয়ারা থেকে ফৌজদারি যে পাইপলাইন আছে, সেখানে কিছু সমস্যা ছিল। সেটা আমরা দেখছি।
দিনাজপুর দিয়ে ভারতের সঙ্গে রেল ট্রানজিট
উত্তরের জেলা দিনাজপুর দিয়ে ভারতের সঙ্গে রেল ট্রানজিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দুই দেশের মধ্যে রেল ট্রানজিট গড়তে রংপুরের কাউনিয়া থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত বিদম্যান ৫৭ কিলোমিটার মিটারগেজকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গতকাল (মঙ্গলবার) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পার্বতীপুর হতে কাউনিয়া পর্যন্ত মিটারগেজ রেলওয়ে লাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরশিরোনামের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে এক হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। এরমধ্যে ভারত সরকারের কাছ থেকে ঋণ পাওয়া যাবে এক হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। বাকি ৩১৫ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে যোগান দেওয়া হবে। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে বিদ্যমান মিটারগেজকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের কাজ শেষ করা হবে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দিনাজপুরের পার্বতীপুর হতে রাধিকাপুর এবং পার্বতীপুর হতে কাউনিয়া সেকশনটি এখন মিটারগেজে চলছে। মিটারগেজের কারণে বিরল সীমান্ত দিয়ে ব্রডগেজ লাইনের মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় রেল যোগযোগ স্থাপন করা যাচ্ছে না। এজন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের পার্বতীপুর-কাউনিয়া সেকশনের বিদ্যমান মিটারগেজকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে যাত্রী, মালামাল পরিবহন ও ট্রান্স বর্ডার রেলওয়ে ট্রাফিক সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে রোহানপুর-সিঙ্গাবাদ ব্রডগেজ রেলওয়ে লিংক এবং রাধিকাপুর-বিরল ব্রডগেজ রেলওয়ে লিংক করিডোর দুটির মাধ্যমে ভারতসহ নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে রেলওয়ে ট্রানজিট স্থাপন করা সম্ভব হবে। এদিকে ২০১৬ ও ২০১৭-ওই দুই বছরে বন্যায় যেসব জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব জেলার অবকাঠামো উন্নয়নে গতকালের একনেক সভায় আলাদা একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন শিরোনামের প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে দুই হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। পুরো টাকাই খরচ হবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। ২০২০ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্পের আওতায় উপজেলা পর্যায়ে দুই হাজার ৫০০ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসন করা হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে এক হাজার কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসন করা হবে। এছাড়া নতুন করে সড়ক নির্মাণ ও পুরনো সেতু নির্মাণ হবে তিন হাজার ৩০০ মিটার। ৬৪ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩৮ টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। গতকালের একনেক সভায় পূর্বাঞ্চলের গ্রিড নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়াতে আলাদা একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় জেলা কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুত বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা। এরমধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ পাওয়া যাবে তিন হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। বাকি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে যোগান দেওয়া হবে। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, একনেক সভায় সড়ক, রেল, বিদ্যুতসহ মোট ১৫ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে ১৭ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। এরমধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে আসবে ১১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। বাকি টাকা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ পাওয়া যাবে। মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুত আমাদের প্রাণ। দেশের যে কোনো ধরনের শিল্পায়নের জন্য বিদ্যুত জরুরি। আবাসিক খাতে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যে পরিমাণ বিদ্যুত জাতীয় গ্রিডে রয়েছে, সঞ্চালন ব্যবস্থার ত্রটির কারণে তার সবটুকু গ্রাহক পর্যন্ত পৌঁছানো যাচ্ছে না। সে কারণে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, আমরা বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়িয়েছি তিনগুণ; আর বিদ্যুতের সঞ্চালন ব্যবস্থা বেড়েছে দুই গুণ। এখন বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতাও বাড়ানো হবে। সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকার শিল্পায়নের দিকে মনোযোগ বাড়ালেও কৃষিকে বাদ দেওয়া যাবে না। কৃষিতে পুরনো কর্মকৌশলের পরিবর্তে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এটি করতে পারলে উৎপাদন বাড়ানো, সময় ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি তরুণ প্রজকে কৃষিতে আগ্রহী করে তোলা সম্ভব হবে। ব্যাংক খাতের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের টাকা না নিলেও এবার বিমা খাতের উন্নয়নে বহুজাতিক সংস্থাটির কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে সরকার। গতকাল একনেক সভায় বিমা খাতের উন্নয়নে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৬৩২ কোটি টাকা। এরমধ্যে বিশ্বব্যাংক ঋণ দেবে ৫১৩ কোটি টাকা। বাকি টাকা সরকার যোগান দেবে। যদিও দেশের সরকারি ব্যাংকগুলোর আর্থিক অনিয়ম বন্ধ করতে গত বছর বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংকিং খাতের গোপনীয় তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে এমন আশঙ্কা থেকে ওই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের টাকা নেয়নি সরকার। গতকালের একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ৮১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালীতে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট এর জন্য ভমি অধিগ্রহণ, ভমি উন্নয়ন ও সংরক্ষণ, ৩১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কৃষক প্রশিক্ষণ, ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন, ৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন, ৪৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন নবসংযুক্ত নাসিরাবাদ, দক্ষিণগাঁও, ডেমরা ও মান্ডা এলাকার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, এবং ৬৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরন (বরিশাল জোন) প্রকল্প।
মেডিক্যাল চেকআপ শেষে ঢাকায় রাষ্ট্রপতি
সিঙ্গাপুরে মেডিক্যাল চেকআপ সম্পন্ন করে ঢাকায় ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স-এর একটি ফ্লাইটে করে মঙ্গলবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীরা হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেন । বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতির সহকারি প্রেস সচিব ইমরানুল হাসান। বিমানবন্দরে রাস্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তিন বাহিনী প্রধান, পররাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা। এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি মেডিক্যাল চেকআপের জন্য রাস্ট্রপতি ঢাকা ত্যাগ করেন।
রাজধানী ঢাকাকে বাঁচাতে বর্তমান সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ :শিল্পমন্ত্রী
রাজধানী ঢাকাকে বাঁচাতে বর্তমান সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ঢাকার শিল্পকারখানাগুলোকে ঢাকার বাইরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এ লক্ষ্যে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় প্লাস্টিক শিল্পনগরী ও মুদ্রণ শিল্পনগরী, কেরানীগঞ্জ উপজেলায় সোনাগান্ধা মৌজায় কেমিক্যাল পল্লী এবং মুন্সিগঞ্জ জেলার টংগীবাড়ি উপজেলায় বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সুবিদ আলী ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা জানান। আমির হোসেন আমু বলেন, ইতিমধ্যেই ঢাকার হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্পকারখানাগুলোকে ঢাকার বাইরে সাভারে উন্নত ও পরিবেশবান্ধব স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে এবং পরিবেশবান্ধবহীন স্থানে গড়ে ওঠা প্লাস্টিক এবং মুদ্রণশিল্পকে পরিকল্পিতভাবে একটি পরিবেশবান্ধব স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) আওতায় মুন্সিগঞ্জের সিরাজগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় প্লাস্টিক শিল্পনগরী ও মুদ্রণ শিল্পনগরী বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এছাড়া পুরনো ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হতে কেমিক্যাল মজুদাগার/কারখানা দ্রুত সরানোর জন্য বিসিকের আওতায় কেরানীগঞ্জ উপজেলায় সোনাগান্ধা মৌজায় কেমিক্যাল পল্লী স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ইলেকট্রিক্যাল গুডস ম্যানুফেকচারিং অ্যান্ড লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পগুলো স্থানান্তরের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেলার টংগীবাড়ি উপজেলায় বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী।
৩ মার্চ খুলনা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা সফরকালে নগরী ও জেলায় সম্পন্ন হওয়া ৪৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৫২টি নতুন ও সম্প্রতি শুরু হওয়া প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। আগামী ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনার খালিশপুরে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি)-এর সম্মেলনে এবং বিকেলে নগরীর সার্কিট হাউস মাঠে এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। জেলা প্রশাসক আমিন-উল-আহসান মঙ্গলবার বাসসকে জানান, জনসভায় বক্তৃতার পূর্বে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে শেষ হওয়া ৪৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৫২টি নতুন ও সম্প্রতি শুরু হওয়া প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার গত ৯ বছরে এই ৪৭টি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও শেষ করেছে। জেলা প্রশাসক বলেন, খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ), গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি), এলজিইডি, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), বাংলাদেশ রেলওয়ে, জেলা ক্রীড়া পরিষদ, জেলা পরিষদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা ওয়াসা গত ৯ বছরে এই ৪৭টি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করেছে। সব কয়টি বিভাগ নতুন ৫২টি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের মধ্যে বেশকিছু প্রকল্পের কাজ এ বছরই ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এদিকে খুলনা নগর ও জেলা ১৪ দল এবং বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি (জিকেইউএসএসসি) আজ খুলনা প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বৃহত্তর খুলনায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। প্রকল্পগুলো হলো : খান জাহান আলী বিমানবন্দর, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, খুলনা-মংলা রেলওয়ে লাইন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, আইটি ভিলেজ, মংলা বন্দরের উন্নয়নে নদী খনন, ভোমরা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং মংলায় ইপিজেড স্থাপন। তারা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বেসরকারি শিল্প বিকাশে পাইপ লাইনের মাধ্যমে দ্রুত গ্যাস সরবরাহের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান মিজান এমপি এবং জিকেইউএসএসসির মহাসচিব শেখ আশরাফুজ্জামান পৃথকভাবে তাদের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন, তালুকদার আবদুল খালেক এমপিসহ ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ এবং খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুন সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। উভয় সংগঠনের নেতারা পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বলেন, এই সেতু চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হলে দেশের যোগাযোগ ইতিহাসে নবদিগন্তের সূচনা হবে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।
আমাদের দলের সবাইকে মন্ত্রী বানান :রওশন এরশাদ
মন্ত্রিসভা থেকে জাতীয় পার্টির মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বাদ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। তিনি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দয়া করে আপনার মন্ত্রিসভা থেকে জাতীয় পার্টির মন্ত্রীদের বাদ দিন। আপনি চাইলেই এটা হয়। কেন চান না- বুঝি না। আপনি আমার দলের মন্ত্রীদের বাদ দিলে জাতীয় পার্টি বেঁচে যেত। আর তা না হলে আপনি আমাদের দলের সবাইকে মন্ত্রী বানান। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে রওশন এরশাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে এসব কথা বলেন। এ সময় রওশন এরশাদ বলেন, কোথাও গেলে কথা বলতে পারি না। লজ্জা লাগে। সাংবাদিকদের সঙ্গেও লজ্জায় কথা বলি না। তাদের এড়িয়ে চলি। তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে পারি না। আমরা সরকারি দল না বিরোধী দল পরিষ্কার করে কিছু বলতে পারি না। আপনি বিদেশে যান, সেখানে গিয়ে কি বলতে পারেন যে দেশে বিরোধী দল আছে? আমি তো দেশ-বিদেশে কোথাও জোর গলায় বলতে পারি না যে, জাতীয় পার্টি বিরোধী দল। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আরও এক বছর আছে, দেখেন সেটা। আপনি নির্দেশ দিলে মানবে না কে? আপনি তো দিলেন না?এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায় আমি তো বলেছিলাম। জবাবে রওশন এরশাদ বলেন, না দেন নাই, দেন নাই, না. না.. না। তিনি আরও বলেন, আমরা কোথাও কথা বলতে পারি না। সাংবাদিকরা ধরলেই বলেন আপনারা কোথায় আছেন। কোথাও কথা বলতে পারি না। লজ্জা লাগে। আমরা সরকারি দল না বিরোধী দল। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি বলতে পারেন বিরোধী দল আছে? আমরাও বলতে পারি না। বিরোধীদলীয় নেতার পর আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে এই আলোচনায় অংশ নেন- আওয়ামী লীগ নেতা শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আসম ফিরোজ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধীদলের আসনে বসে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। রওশন এরশাদ হন বিরোধীদলীয় নেতা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে জাতীয় পার্টির একজনকে মন্ত্রী এবং দুজনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বরাবরই প্রশ্নের মধ্যে পড়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। এ সময় তিনি যানজট, খাদ্যে ভেজাল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, নগরীতে মশার উপদ্রপ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মসহ নানা ইস্যুতে কথা বলেন। রওশন এরশাদ বলেন, পদ্মা সেতু শুরু হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এখনও কাজ চলছে। এখন সেখানে বালু উত্তোলন চলছে। পদ্মা সেতুর আশপাশে অনেকে জায়গা দখল করে হোটেল-মোটেল তৈরি করা হয়েছে। এগুলো তৈরির অনুমতি কে দিয়েছে? কারা দিয়েছে? এসব হলে পদ্মা সেতু রিস্কের মধ্যে পড়ে যাবে। এগুলো দেখা দরকার। তিনি বলেন, সোনার বাংলাদেশ গড়তে হলে সোনার ছেলে তৈরি করতে হবে। সেটা কোথায় তৈরি হচ্ছে। আজকাল বাচ্চাদের খেলার জন্য কোনো মাঠ নেই। সব দখল হয়ে গেছে। খেলাধুলা করতে না পারলে বাচ্চাদের শরীর ভালো থাকে না। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি সবকিছু মায়ের মমতায় সমাধান করে থাকেন। এখন চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা যে আন্দোলন করছেন তা সমাধান করে ফেলা উচিত।
যুবশক্তি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা যুবশক্তিকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে বর্ণনা করে এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশবাসীর ওপর আমার আস্থা আছে, বিশ্বাস আছে। আমাদের তরুণ সমাজ অনেক উদ্যোগী সেটাই আমাদের সব থেকে বড় সম্পদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় এ কথা বলেন। তিনি দেশবাসীর ওপর আস্থা রেখে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে পারবেন বলে পুনরায় দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করেছেন। তাঁর সরকার দেশে যে একশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে তাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে মানুষের আকাংখা বেড়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে তাঁর সরকারের বিগত ৯ বছর এবং পূববর্তী ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মেয়াদে সরকারে থাকার সময়কার দেশের উন্নয়নের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনাদের জীবনমান সহজ করা এবং উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আপনারা আজ সেসব সেবা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, দেশে ১৩ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন। ৯ বছর একটানা জনসেবার সুযোগ পেয়েছি বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। জনগণ এর সুফল ভোগ করছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। হতদরিদ্র ২৪ দশমিক ২৩ ভাগ থেকে ৭ দশমিক ৯ ভাগে নেমে এসেছে। আমরা আগামী মার্চ মাসেই বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্রাজুয়েশন লাভ করতে যাচ্ছি। তখন কেউ আর আমাদের অবহেলা করতে পারবে না। তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিলো ৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক দুই-আট শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। সরকার প্রধান বলেন, ২০০৮-০৯ বছরে মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মুল্যস্ফীতি ৫ দশমিক আট-চার শতাংশে নেমে আসে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার প্রায় ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপির আকার ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৪ দশমিক আট-পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৩ দশমিক চার-চার বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগের জন্য সারাদেশে একশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকার প্রধান বলেন, ২০১৭ সালে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১০ লাখ ৮ হাজার ১৩০ জনের। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিটেন্স এসেছে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাঁর সরকার ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। স্বাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে জনগণের দোরগোঁড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করেছে তাঁর সরকার সেখান থেকে ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন দেশে ১৬ হাজার ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে শতকরা ৯০ ভাগ মানুষকে বিদ্যুতের সুবিধা প্রধান করা হচ্ছে। দেশে ১১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং দেশে ৪৫ লাখ সোলার প্যানেল স্থাপন করে যেসব স্থানে বিদ্যুতের গ্রিড লাইন নেই সেখানে বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর সরকার খাদ্য উৎপাদন ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৪র্থ। তাঁর সরকার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হতদরিদ্র ৩৫ লাখ মানুষকে বয়স্ক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, দুস্থ নারী ভাতা উপকারভোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৬৫ হাজার। ৮ লাখ ২৫ হাজার জন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। ৮০ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শিক্ষা ভাতা পাচ্ছে। তিনি বলেন, সারাদেশে ২ কোটি ২৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৭ জন কৃষকের মধ্যে কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় ৯৮ লাখ কৃষক ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খুলে ভর্তুকির টাকা পাচ্ছেন। সরকারের শিক্ষা সম্প্রসারণের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাইমারি থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি ও পিএইচডি পর্যন্ত ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থী বৃত্তি ও উপবৃত্তি পাচ্ছে। ১ কোটি ৩০ লাখ প্রাইমারি শিক্ষার্থীর মায়ের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। শিক্ষা খাতে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৭ হাজার। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতিমালা ১৯৭৪-এর আলোকে ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করছি। সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনীসহ পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর যেসব খুনীরা এখনও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছে তারা নানামুখী ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করাতেও তাঁর সরকার সচেষ্ট রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এবং মাদক সম্পর্কে অভিভাবকদের সতর্ক করে দিয়ে তাদের সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুর মত সম্পর্ক গড়ে তুলে তারা কি করছে, কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, তা খোঁজ রাখার আহবান জানান। তিনি এ সময় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির পুনরোল্লেখ করে অভিভাবক, শিক্ষক, মসজীদের ইমাম, জনপ্রতিনিধিসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে তাঁর জঙ্গিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে যোগ দিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সকলকে কাজ করে যাওয়ারও আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব সর্বান্তকরণে সমর্থন করেন।
সেতু মন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মা বেগম ফজিলাতুন্নেসার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি আজ এক বিবৃতিতে মরহুমা বেগম ফজিলাতুন্নেসার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, বেগম ফজিলাতুন্নেসার মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গভীর শোকাহত। তিনি ছিলেন রত্নগর্ভা মহিয়সী নারী। বেগম ফজিলাতুন্নেসা আজ রাত ১০টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তিনি ৪ ছেলে, ৫ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন

জাতীয় পাতার আরো খবর