প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে সত্যিকারের ডাক্তার তৈরি হচ্ছে কি না দেখা দরকার:
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘প্রাইভেট বহু মেডিকেল কলেজ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সেখানে আদৌ কোনো পড়াশুনা হচ্ছে কি না, কি পড়াশুনা হচ্ছে। সত্যিকারের ডাক্তার তৈরি হচ্ছে নাকি রোগী মারা ডাক্তার হচ্ছে। সেটিও আমাদের দেখা দরকার।’ আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) এক হাজার শয্যার সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও ডক্টরস ডরমেটরির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পারবে সেটা নজরদারিতে রাখতে। যাতে একটা মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। সেই ব্যবস্থা করে চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন করতে চাই।’ আগামীতে ক্ষমতায় এলে প্রত্যেকটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আকাশবীণার র‌্যাফট খুলে পড়ার ঘটনায় ৩ সদস্যের কমিটি
অনলাইন ডেস্ক: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার আকাশবীণার সামনের একটি ইমার্জেন্সি এক্সিট ডোরের র‌্যাফট খুলে পড়ার ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিমানের ডেপুটি চিফ অব ফ্লাইট সেফটি ক্যাপটেন এনামুল হক তালুকদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন- বিমানের কর্পোরেট কোয়ালিটি ম্যানেজার নিরঞ্জন রায় ও প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার রবিউল আমিন। তিনি আরও বলেন, এখানে কারো গাফিলতি ছিল কি না তা তারা খতিয়ে দেখবেন। বিমান সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে মালয়েশিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফেরে আকাশবীণা। যাত্রী নেমে যাওয়ার পর নিয়মিত গ্রাউন্ড চেকের অংশ হিসেবে বিমানের প্রকৌশল বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা ড্রিমলাইনার পরিষ্কার করে। পরে সিঙ্গাপুর ফ্লাইটের আগে বিএফসিসির খাবারের গাড়ি আসলে দরজা খোলার সময় বিমানের প্রকৌশল বিভাগের স্টাফ মোস্তাফিজুল হক র‌্যাফটটি খুলে ফেলেন। পরবর্তীতে সেটি বিমানের প্রকৌশল বিভাগে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় পরবর্তী ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের বিজি-৮৪ ফ্লাইটটি ছাড়ার নির্ধারিত সময় ৮টা ২৫ মিনিট থাকলেও ফ্লাইটটি ঢাকা ছাড়ে ৯টার দিকে। তখন র‌্যাফট ছাড়াই ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় বিমানের প্রকৌশল বিভাগ। প্রসঙ্গত, জরুরি অবস্থায় যাত্রীদের বিমান থেকে বের হওয়ার জন্য দরজার সঙ্গে থাকে এই র‌্যাফট। এটার মাধ্যমে যাত্রীরা বিমান থেকে দ্রুত বের হয়ে যেতে পারেন। আকাশবীণার একটি ইমার্জেন্সি দরজা দিয়ে ৫৫ জন যাত্রী বের হতে পারেন। চারটি ইমার্জেন্সি এক্সিট ডোরের একটির র‌্যাফট না থাকায় ৫৫ জন যাত্রী কম নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হচ্ছে বিমানকে। এদিকে, র‌্যাফট খুলে পড়ার ঘটনায় বিমানের প্রকৌশল বিভাগের মোস্তাফিজুল হককে সাময়িক বরখাস্ত এবং শোকজ করা হয়েছে বলে বিমান সূত্রে জানা গেছ। প্রসঙ্গত, গত ৫ সেপ্টেম্বর ড্রিমলাইনার আকাশবীণার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উড়োজাহাজটির আসন সংখ্যা ২৭১টি। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি, আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। আকাশবীণা দিয়ে প্রাথমিকভাবে ঢাকা-সিঙ্গাপুর- ঢাকা ও ঢাকা-কুয়ালালামপুর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।
সুপার স্পেশালাইজড- হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। আগামী ২০২১ সালে ১৩তলা বিশিষ্ট এই হাসপাতালের উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে এক ছাদের নিচেই সবধরনের স্বাস্থ্য সেবা মিলবে বলে বলা হচ্ছে। বিএসএমএমইউর উত্তর পাশে ৩ দশমিক ৪ একর জায়গায় এক হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক বিশেষায়িত (সুপার স্পেশালাইজড) হাসপাতালটি। নির্মাণ ব্যয়ের মধ্যে এক হাজার ৪৭ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশ সুদে ৪০ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যার মধ্যে গ্রেস পিরিয়ড থাকবে ১৫ বছর। প্রকল্পের আওতায় প্রথম ফেজে দুটি বেজমেন্টসহ ১১তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরবর্তী দুই তলা উর্ধমুখী সম্প্রসারণ করা হবে। ১৩ তলা হাসপাতাল ভবনটিতে থাকবে এক হাজার শয্যা। দেশের প্রথম সেন্টার বেইজড চিকিৎসা সেবা চালু হবে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটিতে। বর্তমানে সিঙ্গাপুর, কোরিয়াসহ বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত দেশে সেন্টার বেইজড চিকিৎসা সেবা পদ্ধতি চালু আছে। গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া জানান, নবনির্মিত হাসপাতাল ভবনের প্রথম ফেজে থাকবে স্পেশালাইজড অটিজম সেন্টারসহ ম্যাটারনাল এ্যান্ড চাইল্ড হেলথ কেয়ার সেন্টার, ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল কেয়ার সেন্টার, হেপাটোবিলিয়ারি ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সেন্টার, কার্ডিও ও সেরিব্রো ভাসকুলার সেন্টার এবং কিডনি সেন্টার। আর দ্বিতীয় ফেজে থাকবে রেসপিরেটরি মেডিসিন সেন্টার, জেনারেল সার্জারি সেন্টার, অফথালমোলজি/ডেন্টিস্ট্রি/ডার্মাটোলজি সেন্টার, ফিজিক্যাল মেডিসিন/রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার ইত্যাদি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল হবে একটি রোগীবান্ধব সুবজ হাসপাতাল। এতে থাকবে সানকেন গার্ডেন, রুফটপ গার্ডেন ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব সুযোগ-সুবিধা। সুপরিসর এই হাসপাতালে বহির্বিভাগ ও ইনফো ডেস্ক থাকবে। হসপিটাল ইনফরমেশন সেন্টার চালু করার মাধ্যমে রোগী ও হাসপাতাল পরিচালনা হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে। কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের চলমান উন্নয়নের ধারায় অন্যতম উপাদান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল এই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজকে এ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের মানুষের আকাঙক্ষার জায়গায় পৌঁছেছে। বর্তমানে ১৯০৪ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৭০০০ থেকে ৮০০০ রোগী এবং বৈকালিক স্পেশালাইজড আউটডোরে ৯০০ থেকে ১০০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬২টি রেসিডেন্সি কোর্সসহ পোস্ট গ্রাজ্যুয়েট কোর্সের সংখ্যা ৯৫টি। বিভাগের সংখ্যা ৫৬টি। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ রোগীদের আধুনিক ও উন্নতসেবা প্রদান করায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় রোগীদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
আজ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: নতুন রুপে সাজানো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল উদ্বোধন করা হবে আজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে হোটেলটির উদ্বোধন করবেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ শেষে আগামী নভেম্বরে হোটেলটি বাণিজ্যিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শাহজাহান কামাল এই তথ্য জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিমান ও পর্যটন সচিব মো. মহিবুল হক, বিএসএল (বাংলাদেশ সার্ভিস লি.) এর এমডি মোকাব্বের হোসেন প্রমুখ। ১৯৬৬ সালে যাত্রা শুরু হয়ে দেশের প্রথম পাঁচতারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের। স্থপতি উইলিয়াম বি ট্যাবলারের চমৎকার নকশার এই হোটেলটি আজও চমৎকার স্থাপত্য শিল্পের নিদর্শন। এটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল নামেই চলে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত। এরপর স্টারউড কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হওয়ায় ১৯৮৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ঢাকা শেরাটন হোটেল নামে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলে। শেরাটনের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ‘রূপসী বাংলা হোটেল’ নামে এটি পরিচালিত হয়। ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হোটেলটির মালিক কোম্পানি বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেড ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেডের (আইএইজি) সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদী চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ধের পর ২০১৫ সালের মার্চে সংস্কারকাজ শুরু হয়। রূপসী বাংলা হোটেলে কক্ষ ছিল ছোট-বড় মিলিয়ে ২৭২টি। সংস্কারের পর সংখ্যা কমে ২৩১টিতে দাঁড়িয়েছে। আয়তনের দিক থেকে কক্ষের আকার দাঁড়িয়েছে ২৬ থেকে ৪০ স্কয়ার মিটার। বিশ্বমানের অতিথি সেবা নিশ্চিত করতে পরিবর্তন করা হয়েছে সুইমিং পুল ও ডাইনিং হলের স্থান। এর আগে হোটেলটির বলরুম ছিল একদিকে, উইন্টার গার্ডেন নামে সবচেয়ে বড় হলরুমের অবস্থান ছিল আরেক দিকে। এখন দুটি এক করে দেয়া হয়েছে। হোটেলটির মূল ফটকও সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ভেতরের সুইমিং পুলটিও স্থানান্তর করে সাজানো হয়েছে নতুন করে। গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় নিয়ে বাড়ানো হয়েছে সুযোগ-সুবিধা। সংস্কার কাজে প্রায় ৬২০ কোটি টাকা ব্যায় হয়েছে। ৭১’র ২৫ মার্চের কালরাতে জীবনবাজি রেখে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যার ছবি ধারণ করেছিলেন হোটেলে অবস্থানরত বিবিসির বিখ্যাত সাংবাদিক মার্ক টালি ও সাইমন ড্রিং, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পাকিস্তান ব্যুরোর প্রধান আর্নল্ড জেইটলিন, ক্লেয়ার হলিংওর্থ, ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদক ডেভিড গ্রিনওয়ে। এসব ছবির মাধ্যমে বিশ্ব জানতে পেরেছিল বাংলাদেশ কী নৃশংসতার শিকার হয়েছে।
নির্বাচনে হস্তক্ষেপ নয়- চাইলে সহযোগিতা: ভারতীয় হাইকমিশনার
অনলাইন ডেস্ক: ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন একান্তই তাদের নিজস্ব বিষয়। ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং নির্বাচনে কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না। তবে বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ চাইলে ভারত সবসময় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক চিরদিন অটুট থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। রোববার বরিশাল সফরকালে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। হাইকমিশনার শ্রিংলা দিনে নদীভ্রমণ শেষে রাত ১০টায় বরিশাল নদীবন্দরে পৌঁছান এবং সেখান থেকে লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে হর্ষবর্ধন বাকেরগঞ্জের গান্ধী আশ্রমসহ বিভিন্ন স্থান ভ্রমণে বের হন। ভ্রমণকালে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন বরিশাল ৪ আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ, শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের নাতি আওয়ামী লীগ নেতা ফাইয়াজুল হক রাজু, ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রাজেশ উইকে, নবনীতা চক্রবর্তী, মিডিয়া এটাসে রঞ্জন মণ্ডল প্রমুখ। বরিশালের নদী ও নদী তীরে সবুজে ঘেরা সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার। দেখেছেন কালাবদর নদীতে ইলিশ শিকারের চিত্রও। এমনকি নিজ হাতে ইলিশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। নদীপথে ভ্রমণে নানা অভিব্যক্তি বর্ণনা করেছেন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে। এ সময় তিনি জানান, ভারত মিয়ানমারকে বলেছে, রাখাইনের বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। রাখাইনে সোশ্যাল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টে ভারতের কন্ট্রিবিউশন রয়েছে। রাখাইন রাজ্যে গৃহনির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। অনতিবিলম্বে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দাওরায়ে হাদিসকে মান দিতে সংসদে বিল উত্থাপন-জাপা এমপির আপত্তি
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিশেষ ক্ষমতাবলে ‘কওমি মাদ্রাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি ইসলামিক (স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান করার নিমিত্তে আনিত বিল-২০১৮’ উত্থাপন করা হয়েছে। সোমবার রাতে সংসদ অধিবেশনে এ বিলটি উত্থাপনের জন্য প্রস্তাব করেন শিক্ষামস্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। এতে আপত্তি জানান জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম। তিনি বলেন, সংসদের দিনের কার্যসূচিতে এ বিলটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং বিলটি সম্পর্কে কিছু জানতে পারেননি। বিলটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এটি সম্পর্কে আমাদের পড়ে দেখা দরকার কোনো ভুলত্রুটি আছে কি না। তিনি স্পিকারকে একই রকম বিশেষ ক্ষমতাবলে বিলটি উত্থাপনের সময় আরো তিন দিনের জন্য পিছিয়ে দিতে বলেন। এসময় স্পিকার বলেন, যেহেতু সংসদের অধিবেশন খুবই স্বল্প সময়ের জন্য, সে কারণে শিক্ষামন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটি আমাকে বিলটি উত্থাপনের অনুমতির জন্য আবেদন করেন। সে কারণে সময় স্বল্পতার বিষয়টি বিবেচনা করে আমি বিলটি উত্থাপনের জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে অনুমতি দেই। এসময় শিক্ষামন্ত্রী সময় স্বল্পতা ও বিলটি জরুরিভাবে এই অধিবেশনে পাস করার বিশেষ প্রয়োজন বলে জানান। পরে তিনি বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন এবং সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর জন্য বলা হয়।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার আহ্বান হাসিনার
অনলাইন ডেস্ক: জোরপূর্বক বিতাড়িত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) সহ বিশ্ব সম্প্রদায়কে সুনির্দিষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকায় আইডিবির ‘রিজিওনাল হাব’ উদ্বোধন উপলক্ষে রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে বলেন, মিয়ানমারকে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য চাপ অব্যাহত রাখার জন্য আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সুনির্দিষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইডিবি চুপ থাকতে পারে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সা.) নিপীড়িত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যখন জাতিগত নির্মূলের মুখোমুখি, তখন আইডিবি চুপ থাকতে পারে না। কাজেই জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে স্বদেশে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করার জন্য আইডিবিকে আমি দৃঢ়ভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে একটি মানবিক সংকট মোকাবিলা করছে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বাংলাদেশ সীমান্ত উম্মুক্ত করে দিয়ে তাদের প্রবেশ করতে দিয়েছে। নিজস্ব সম্পদ, বাস্তুসংস্থান ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে জানা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করতে দিয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, এখন আমরা তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠাতে চাই। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আইডিবির সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সেক্টরে বিনিয়োগের চাহিদা, বর্তমান অবস্থা ও ঘাটতি পর্যালোচনা করার জন্য কান্ট্রি ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (২০১৬-২০২১) গ্রহণ করা হয়েছে। বিনিয়োগ পরিকল্পনা মতে সম্পূর্ণ মেয়াদে মোট ১১ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে এ পর্যন্ত ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। অর্থাৎ আরও ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন এবং অভিযোজন করার জন্য ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা’র আওতায় বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করেছি। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সাফল্য ও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত যে কোনো ইস্যুতে বাংলাদেশ অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্র। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, অবকাঠামো, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ড. বন্দর এম. এইচ. হাজ্জার।
সংসদের শেষ অধিবেশন আজ
অনলাইন ডেস্ক: আজ রবিবার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ অধিবেশন বসছে। বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হবে এ অধিবেশন। এর আগে বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ অন্য সদস্যরা এতে উপস্থিত থাকবেন। এ বৈঠকেও সভাপতিত্ব করবেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ১৯ আগস্ট সংসদের ২২তম অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর আগে গত ১২ জুলাই সংসদের ২১তম অধিবেশন শেষ হয়। ওই অধিবেশন ২৫ কার্যদিবস চলেছে। ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি শেষ হবে বর্তমান সরকারের মেয়াদ। সংবিধান অনুযায়ী একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার পর ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে আরেকটি অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ডিসেম্বরের শেষদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা হবে। সে হিসেবে জরুরি কোনো প্রয়োজন না পড়লে এ অধিবেশনই হতে পারে চলতি সংসদের শেষ অধিবেশন। এ অধিবেশনেই উত্থাপন করা হবে বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮। সাজার মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে আইনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও ইভিএম যুক্ত করার জন্য সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ (আরপিও) বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হতে পারে এই অধিবেশনে।

জাতীয় পাতার আরো খবর