দেশে শনাক্তের নতুন রেকর্ড
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারি করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৮৬ জনে। সেই সঙ্গে করোনা ভাইরাস শনাক্তে মোট ৪৩টি ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজার ১৩৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং ১০ হাজার ২০৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে আরো ১ হাজার ৬১৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৭৩৮ জনে। বুধবার (২০ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন উপস্থাপন করেন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, নতুন মৃতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী এবং ৭ জন ঢাকার ভেতরের ও ৯ জন ঢাকার বাইরের। পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২১৪ জন সুস্থ হয়েছেন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২০৭ জনে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তারপর দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। লম্বা হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলও।
আশ্রয়কেন্দ্রে ১৮ লাখ মানুষ
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত ১৮ লাখ ৬১ হাজার ৬০ জন মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হয়েছে। এছাড়া ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫০৫টি গবাদি পশু আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হয়েছে। বুধবার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আলী রেজা মজিদ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আশ্রয় কেন্দ্র বেড়ে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৬৩৬টি হয়েছে। বিকেল পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রে লোকজনকে আনা হবে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বুধবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। ঘূর্ণিঝড় আম্পান বুধবার বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
মোংলা থেকে মাত্র ২৯০ ও কক্সবাজার থেকে ৪৭০ কি.মি. দূরে আম্পান, উত্তাল হচ্ছে সাগর
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাইক্লোন আম্পান বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় সুন্দরবনের ওপর দিয়ে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম শুরু করবে। এসময় বাতাসের গতি আগের অন্যসব ঝড়ের চেয়ে বেশি হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। মোংলা ও পায়রা বন্দরে আগের মতোই ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আম্পান বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করবে। উপকূল অতিক্রম করার সময় অনেকখানি সময় ব্যয় হবে। তবে এতে আম্পানের শক্তি কমে যাবে এটা বলা যাবে না। এর বাতাসের গতি অন্যসব ঝড়ের চেয়ে বেশি। এটি এখন পর্যন্ত যে গতিতে আসছে তাতে সুন্দরবন দিয়ে অতিক্রম করবে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ফেনীতে ৭৫ মিলিমিটার। এছাড়া গোপালগঞ্জে ২১ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ৪২ মিলিমিটার, দিনাজপুরে ২৪, মোংলায় ৫৮, সাতক্ষীরায় ৩৫, বরিশালে ৪৯ এবং পটুয়াখালীতে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় আম্পান উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৭০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ২০ মে বিকাল বা সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটার এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। সতর্ক সংকেতে আরও বলা হয়, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। ঘূর্ণিঝড় জনিত জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতায় বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় এবং দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে থেকে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতায় বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলতে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘন্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। কক্সবাজারে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাগর। জোয়ারের পানি ৫-১০ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হয়ে আঘাত করছে ঝাউবিথীতে। এর ফলে ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে পড়ছে ঝাউগাছ। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পান কক্সবাজার থেকে ৪৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। যার কারণে কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাব ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে কক্সবাজারে। মাঝে মাঝে বৃষ্টি, ঝড়ো বাতাস ও সাগরের পানির উচ্চতা বেড়েছে। এটি সন্ধ্যা নাগাদ পুরোপুরি আঘাত হানতে পারে। তখন সাগরের জোয়ারের পানি ১০ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, ইতিমধ্যে উপকূলের ১৩ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদেরকে খাদ্য সামগ্রীও দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও প্রায় ৭৫ হাজার জেলে এখন উপকূলে নিরাপদ আশ্রয় চলে এসেছে। আর ৫৭৬টি আশ্রয় কেন্দ্রসহ ২২১টি স্কুল কলেজ আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। জেলা ও উপজেলাসমূহে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সম্মিলিতভাবে ঘূর্ণিঝড় আম্পানকে মোকাবিলা করা হবে বলেও জানান তিনি।
আজ সেই মহিমান্বিত রজনী পবিত্র লাইলাতুল কদর
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ সেই মহিমান্বিত রজনী, যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ আজ বুধবার রাতে পালিত হবে পবিত্র লাইলাতুল কদর। লাইলাতুল কদরের অর্থ সম্মানিত রজনী। এ রজনী এত সম্মানিত যে, এক হাজার মাস ইবাদত করলেও যে সওয়াব হতে পারে তার চেয়ে লাইলাতুল কদরের ইবাদতে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। অধিকাংশ আলেম সমাজের মত হচ্ছে রমজানের ২৭ তারিখের রাতই লাইলাতুল কদর। সেই হিসেবে আজ ২৬ রমজান। সূর্যাস্তের পর ২৭ রমজানের রাত শুরু অর্থাৎ পবিত্র শবে কদরের রাত। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- নিশ্চয়ই আমি পবিত্র কোরআন লাইলাতুল কদরে অবতীর্ণ করেছি। আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হচ্ছে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এই রজনীতে ফেরেশতারা ও জিবরাইল (আ) তাদের প্রতিপালকের নির্দেশে প্রত্যেক বিষয় নিয়ে অবতীর্ণ হন। এটা শন্তিময় রজনী, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সুরা কদর) হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী আজকের রাতটি পবিত্র লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা অধিক। হজরত উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি যতদূর জানি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের যে রজনীকে কদরের রাত হিসেবে কিয়ামুল লাইল করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা হলো রমজানের ২৭তম রজনী। (সহি মুসলিম) প্রায় মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা শেষে আজ রাতে বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র লাইলাতুল কদর পালন করবেন। এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে নামাজে দণ্ডায়মান থাকবে, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (সহি বোখারি ও মুসলিম) হজরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (স) এরশাদ করেন- যদি তোমরা কবরকে আলোকময় পেতে চাও, তা হলে লাইলাতুল কদরে জাগ্রত থেকে ইবাদত করো। (মিশকাত শরিফ) হজরত ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স) এরশাদ করেন- রমজানের ২৭ তারিখের রাতের ভোর পর্যন্ত করা ইবাদত-বন্দেগি আমার কাছে সারা রমজানের অন্য সব রাতের ইবাদতের চেয়ে বেশি প্রিয়। (তিরমিজি) কদরের রাতে অঝরে দয়াময় রবের বিশেষ রহমত বর্ষিত হয়। এ রাতে এত অধিকসংখ্যক রহমতের ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন যে, সকাল না হওয়া পর্যন্ত এক অভূতপূর্ব শান্তি বিরাজমান থাকে। রাসুল (স) এরশাদ করেন- শবেকদরের রাতে হজরত জিবরাইল (আ) ফেরেশতাদের বিরাট এক দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ নামাজরত অথবা তসবিহ-তাহলিল আদায়ে রত থাকেন, তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। (মাজহারি) লাইলাতুল কদরে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত ভাগ্যলিপি ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে প্রতিটি মানুষের রিজিক, বয়স, মৃত্যু ইত্যাদির উল্লেখ থাকে। এমনকি এ বছর কে হজ করবে, তা-ও লিখে দেওয়া হয়। (তাফসিরে মাআরেফুল কোরআন) কদরের রাতে, বিশেষ করে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, তাসবিহ পাঠ, দরুদ শরিফ ও ইস্তেগফার আদায় করা চাই; তওবা করে আল্লাহ তায়ালার দরবারে রোনাজারি করা চাই, যেন তার অপার রহমত নসিবে জোটে, যেন তার ক্ষমা লাভ হয়। হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা আমি রাসুল (স) কে জিজ্ঞেস করলাম- হে আল্লাহর রাসুল, আমি যদি কদরের রাত সম্পর্কে অবহিত হতে পারি, তবে আমি কী করব? তখন রাসুল (স) আমাকে এই দোয়া পাঠ করার জন্য বললেন। আর তা হলো- আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনি তো ক্ষমার আধার, আর ক্ষমা করাকে আপনি ভালোবাসেন। কাজেই আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। (তিরমিজি) এবার করেনা সংক্রমণের কারণে লাইলাতুল কদর উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে ব্যাপকভাবে ওয়াজ মাহফিল, বয়ান ও মোনাজাতের আয়োজন করা হবে না। তবে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিওগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশ করা হবে বিশেষ নিবন্ধ।
ঘূর্ণিঝড় আম্পান,চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারে মহাবিপদ সংকেত
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরে আবারো বিপদ সংকেত বাড়ানো হয়েছে। আগের ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এর আগে সকাল ছয়টার বুলেটিনে আবহাওয়া অধিদপ্তর এ দুই বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলে। পরে সকাল ৯টার দিকে বাড়িয়ে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়। আর ১০টার একটু আগে তা বাড়িয়ে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত করা হয়। এর আগে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও এই ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস। বুধবার (২০ মে) সকাল ৬টার বুলেটিনে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি সকাল ০৬ টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৬৫ কিঃমিঃ দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৪৫ কিঃমিঃ দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯০ কিঃমিঃ দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১০ কিঃমিঃ দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরো জানায়, জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতায় বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় এবং দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে থেকে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
সাইক্লোন আম্ফান,আজ সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা মহামারির মধ্যেই আরেক দুর্যোগের মুখোমুখি দেশ। ধেয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন আম্ফান। ঘূর্ণিঝড়টি খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে আঘাত হেনে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়ের সময় ৫ থেকে ১০ ফুট অধিক উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মংলা ও পায়রা বন্দরে ১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে বুধবার ভোরে। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য আঘাত থেকে রক্ষা করতে উপকূলীয় জেলার ২১ লাখেরও বেশি মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার তৎপরতা শুরু হয় মঙ্গলবার থেকেই। প্রলয়ঙ্করী সিডরের চেয়ে বেশি শক্তি নিয়ে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা আম্ফান আতঙ্কে সময় কাটছে উপকূলীয় জেলার লাখ লাখ বাসিন্দা। বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিসহ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঘূর্ণিঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ১০ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। বর্তমানে সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের নিকট সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। এদিকে, উপকূলীয় জেলার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে ১২ হাজারেরও বেশি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে ২১ লাখেরও বেশি মানুষকে নেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল থেকেই মানুষজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আশ্রয় কেন্দ্রে সাধারণ মানুষকে রাখা হবে বলে ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুপার সাইক্লোন ‘আম্ফান’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি গতকাল ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে ১৯শে মে শেষরাত হতে ২০শে মে বিকেল/ সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে জানান, ‘বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ প্রবল গতি সঞ্চার করে সুন্দরবন উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। মঙ্গলবার শেষ রাত থেকে বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূল অতিক্রম করতে পারে।’ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (নৌ) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের মোংলায় কোনো প্রভাব নেই। তবে মোংলা বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বন্দরে ১১টি জাহাজ নোঙর করে রাখা হয়েছে। পণ্যবোঝাই খালাস বন্ধ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় উপকূলীয় তিন জেলা খুলনায় ৩৬১টি, বাগেরহাটে ৩৩৪টি ও সাতক্ষীরা জেলায় ৪৪৭টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে তিন জেলা প্রশাসন থেকে জানা গেছে। খুলনা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ বলেন, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুপার সাইক্লোন আম্ফানের কোনো প্রভাব নেই খুলনাঞ্চলে। তবে আকাশে কিছু মেঘ জমেছে। বুধবার আম্ফানের প্রভাব পড়বে এ অঞ্চলে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এদিকে উপকূলের উপজেলাসমূহের লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং চলছে। খুলনা সিভিল সার্জন অফিস ৯টি উপজেলায় ১১৬টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে। খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানিয়েছেন, সুপার সাইক্লোন আম্ফানে জান মালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে খুলনায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে ইফতার ও সেহরির ব্যবস্থা থাকবে। সাইক্লোন প্রিপার্ডনেস প্রোগ্রাম (সিপিপি) এর দুই হাজার ৪৬০ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার এক হাজার ১০০ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। সে কারণে উপকূলীয় কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার সব স্কুল-কলেজকে সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর চাবি সংগ্রহ করে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের কাছে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক জোয়ার্দার জানান, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে খুলনার ৩৬১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় উপজেলা দাকোপের ১০৮টি, কয়রার ১১৬টি, পাইকগাছার ৪৫টি ও বটিয়াঘাটার ২৩টিসহ ২৯২টি আশ্রয়কেন্দ্রকে আগেভাগেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ৮০০ কিলোমিটারের মধ্যে এলেই জনসাধারণকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতি এড়াতে কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটাসহ বিভিন্ন উপজেলায় রেডক্রিসেন্ট, সিপিপিসহ দুই হাজার ৪৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। এছাড়া বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) আরো এক হাজার ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। পরিস্থিতি দেখে প্রয়োজনে উপকূলবাসীকে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা কাজ করছেন।
২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন
১৯মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসছে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপি অনুমোদন করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে ১ হাজার ৫৮৪টি প্রকল্পের এডিপি অনুমোদন দেয়া হয়। এ সময় অর্থমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে বলেন, গুণগত মান ঠিক রেখে প্রকল্প যথাসময়ে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা মহামারিতে স্থবির মানুষের জীবনযাত্রা, ধুঁকছে দেশের অর্থনীতিও। এমন পরিস্থিতিতেই শুরু হলো নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপি অনুমোদন দেয়া হয়। গণভবন থেকে পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত এই সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক থেকে নতুন অর্থবছরের জন্য মোট ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার এডিপিতে অনুমোদন দেয়া হয়। মোট ১ হাজার ৫৮৪টি প্রকল্পে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রয়েছে পরিবহন খাতে ৫২ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা। এছাড়া ভৌত অবকাঠামো ২৫ হাজার ৭৯৫ কোটি, বিদ্যুতে ২৪ হাজার ৮০৪ কোটি, শিক্ষা ও ধর্মে ২৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকাসহ বিভিন্ন খাত তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী। করোনাকালীন ক্ষতিতে এ বছর বাজেট বাস্তবায়নের হার কম হতে পারে এমন শঙ্কা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের সঞ্চালন ক্ষতি কমিয়ে আনার ব্যাপারে ভাবছে সরকার। নতুন অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে নিজস্ব অর্থায়ন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা আর দাতা সংস্থার কাছে নেয়া ঋণের পরিমাণ ৭০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা বলেও জানান মন্ত্রী।
বিড়ি-সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ ঘোষণা
১৯মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরিস্থিতিতে বিড়ি-সিগারেটসহ সব তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব খাইরুল আলম শেখ সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮এর ক্ষমতাবলে এই আদেশ জারি করেন। আদেশে বলা হয়, তামাক গ্রহণ কোভিড-১৯এর সংক্রমণ বাড়ায়। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাক গ্রহণে নিরুৎসাহিত করেছে। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে করোনা ভাইরাস ধুমপায়ীদের মারাত্মক ক্ষতি করে। অধুমপায়ীদের চেয়ে একজন ধুমপায়ীর করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৪ ভাগ বেশি থাকে বলেও জানানো হয়েছে। কোভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবিলায় ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাময়িকভাবে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়, সীসা বার, উন্মুক্ত স্থানে পানের পিক ফেলার মতো বিষয়গুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মানবজমিন। আদেশে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সরকার কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ক্রমবর্ধমান কোডিড-১৯ রোগ প্রতিরোধে, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের তামাক কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশেষ অনুমতিপত্র প্রদান করা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাস করতে প্রণীত সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮-এ সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে বাজার, গণজমায়েত সাময়িকভাবে বন্ধ, দেশের অভ্যন্তরে এক স্থান থেকে অনা স্থানে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার অজুহাতে এ আইন লঙ্ঘন করে চলেছে।
করোনাক্রান্ত আরও ১৪৫ পুলিশ সদস্য সুস্থ,
১৯মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাক্রান্ত আরও ১৪৫ পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়েছেন। তারা আজ মঙ্গলবার বিকালে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কোভিড-১৯ পজেটিভ হওয়ায় তারা কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেল রানা জানান, সরকারের আইইডিসিআর'র চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী এ ১৪৫ পুলিশ সদস্যের পরপর দুবার কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়। দুবারই কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদেরকে করোনামুক্ত ও সুস্থ ঘোষণা করে হাসপাতাল ত্যাগের ছাড়পত্র দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সুস্থ হওয়া পুলিশ সদস্যদেরকে ফুল দিয়ে বিদায় জানান। বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ, করোনাক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দিয়েছেন। আইজিপির নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল ছাড়াও রাজধানী ঢাকা এবং বিভাগীয় শহরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বেসরকারি হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত করোনাক্রান্ত ৪৩০ জন পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়েছেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর