হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন আজ
অনলাইন ডেস্ক :নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন আজ। ৬১তম জন্মদিনে হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন, মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত লিখে যেতে চাই। লেখালেখিই আমার বিশ্রাম। লেখালেখি বন্ধ হলে আমার বেঁচে থাকা অর্থহীন হয়ে পড়বে, আমি বাঁচতে পারবো না। পাঠকদের উদ্দেশে তার আবেদন দোয়া করবেন, আমি যেন আমৃত্যু লিখে যেতে পারি। তার সেই আশা পূরণ হয়েছিল। নিউইয়র্কে হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও তিনি দেয়াল উপন্যাস লিখেছেন। হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে আজ সারাদিন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। টিভিতে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। গতকাল রাত ১২টা এক মিনিটে হুমায়ূন আহমেদের বাসা দখিন হাওয়ায় কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেন পরিবারের সদস্যরা। নুহাশপল্লীর ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বুলবুল ইত্তেফাককে জানান, হুমায়ূন আহমেদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নুহাশপল্লীর পক্ষ থেকে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল রাতেই স্যারের কবর আর নুহাশ পল্লীতে মোমবাতি জ্বালানো হয়েছে। আজ সকালে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে নূহাশপল্লীতে কবর জিয়ারত করবেন। এদিকে, পাবলিক লাইব্রেরী প্রাঙ্গণে আজ বিকালে শুরু হবে সপ্তাহব্যাপী হুমায়ূন আহমেদ বইমেলা। জাতীয় জাদুঘর আয়োজন করেছে হুমায়ূনকে নিয়ে সেমিনারের। এছাড়া, চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সপ্তমবারের মতো হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে হুমায়ূন মেলা। সকাল ১১টায় হিমুপ্রেমিরা হলুদ পাঞ্জাবী গায়ে দিয়ে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে উপস্থিত থেকে হলুদ বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করবেন। উপস্থিত থাকবেন হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন অঙ্গনে তার ভক্ত ও বিশিষ্টজনরা। তার স্মরণে স্মৃতিকথা বলবেন অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনরা। নৃত্য পরিবেশন করবে চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ে ও অন্য নৃত্যশিল্পীরা। মেলার স্টলগুলোতে থাকবে হুমায়ূন আহমেদের বই, তার নির্মিত চলচ্চিত্র ও নাটকের ভিডিও সিডি। মেলা সরাসরি সমপ্রচার করবে চ্যানেল আই ও রেডিও ভুমি। ১৯৪৮ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে প্রকাশের পর পরই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। উপন্যাসে ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে হিমুমিসির আলী শুভ্র তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়। নব্বই দশকের মাঝামাঝি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে লেখালেখিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেন। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে নন্দিত নরকে, লীলাবতী, কবি, শঙ্খনীল কারাগার, গৌরিপুর জংশন, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, দারুচীনি দ্বীপ, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, আগুনের পরশমনি, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে আগুনের পরশমনি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবন মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা ও নয় নম্বর বিপদ সংকেত। তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ঘেটুপুত্র কমলাও জয় করেছে দর্শক ও সমালোচকদের মন। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ূন কাদিও স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেন। দেশের বাইরেও তাকে নিয়ে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তার প্রমাণ জাপান টেলিভিশন এনএইচকে তাকে নিয়ে নির্মাণ করেছে পনের মিনিটের তথ্যচিত্র হু ইজ হু ইন এশিয়া। হুমায়ূন আহমেদের শরীরে ২০১১ সালের সেপ্টেস্বর মাসে মরণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর তিনি উন্নত চিকিত্সার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান। সেখানে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে এগারোটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এটিই নির্বাচনকালীন সরকার
অনলাইন ডেস্ক: মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেছেন, নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার পর থেকে যে সরকার আছে এটিই নির্বাচনকালীন সরকার। যদিও আমাদের সংবিধানে এ সরকার সম্পর্কে তেমন কিছু বলা নাই। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বৈঠকে দুটি আইনের খসড়ার অনুমোদনের প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক বলেই জানিয়েছেন তিনি। মোহাম্মদ শফিউল আলম আরও বলেন, এতে সাংবিধানিক কোনও বাধা নাই। এগুলো কেবিনেটের কার্যক্রমের মধ্যেই পড়ে। এগুলোকে রুটিন ওয়ার্কই বলা যায়। এখানে তো আর কোনও উন্নয়ন প্রকল্প নাই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার তো রেগুলারই আছে, কোনও সমস্যা তো দেখছি না। আরেক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার বলেন, আর যে নামই বলেন, এগুলো তো আমাদের দেওয়া নাম। এগুলো কনস্টিটিউশনাল (সাংবিধানিক) কোনও নাম নয়। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া চার মন্ত্রী আজকের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। কারণ, আমাদের সংবিধানের বিধান মতে, প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ একজন মন্ত্রী যদি উনার দয়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন, সেক্ষেত্রে সাবমিশন হচ্ছে, গেজেট নোটিফিকেশন হওয়া পর্যন্ত। ওনার পদত্যাগটা চূড়ান্ত হবে, যখন গেজেট নোটিফিকেশনটা হবে। যেহেতু তা হয় নাই, সেহেতু তারা মন্ত্রী হিসেবে বহাল আছেন বলে গণ্য হবে।
আগামী ১৫ নভেম্বর ফিরছে ২২৬০ রোহিঙ্গা,জানালো মিয়ানমার
অনলাইন ডেস্ক: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আগামী ১৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) প্রত্যাবাসনের প্রথম দফা শুরু হচ্ছে। প্রথম ব্যাচে ৪৮৫ পরিবারের ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শিবির থেকে তাদের নিজেদের বসত-ভিটা মিয়ানমারে ফিরে যাবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ (১২ নভেম্বর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মিয়ানমার সরকার। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য দুই দেশের মধ্যে গঠিত যৌথ কমিটির সবশেষ বৈঠকে আগামী ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসনের প্রথম ব্যাচ শুরু করার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। প্রথম ব্যাচে ৪৮৫ পরিবারের ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যাবে। প্রথম ব্যাচের প্রত্যাবাসন শুরু হলে ধারাবাহিকভাবে বাকি রোহিঙ্গারাও ফিরে যাবে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে। এর আগে ঢাকাকে নেইপিডোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এরই মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মিয়ানমার ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের বসবাসের জন্য ভারত সরকার ২৮৫টি বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছে। আর চীন সরকার ১ হাজার বাড়ির কাঠামো পাঠিয়েছে, যেগুলো সংযোগ করলেই পূর্ণ বাড়িতে রূপ নেবে। অন্যদিকে, দুই দেশের সীমান্তের শূন্য রেখায় যেসব রোহিঙ্গা বসবাস করছেন তাদের ফিরিয়ে নেয়ার কাজও দ্রুত শুরু হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস (আইসিআরসি) শূন্য রেখায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে সঙ্গে নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। শূন্য রেখায় বসবাসকারীরা তাদের আগের বসত-ভিটায় সরাসরি ফেরত যাবে। মিয়ানমার সরকার এবং সেনাবাহিনীর অত্যাচার সইতে না পেরে, জীবন বাচাতে বিগত ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ঢল নামে। প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের একাধিক শিবিরে আশ্রয় নেয়। তারও আগে একই কারণে আরও প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের একাধিক শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।
সংসদ নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশ ইসির
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের নির্বাচনী এলাকায় ভোটের পরদিন পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (১২ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, মোবাইল কোর্ট আইন অনুযায়ী, ২০০৯-এর আওতায় আচরণবিধি প্রতিপালের জন্য প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় ভোটগ্রহণের পরের দিন পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা প্রয়োজন। প্রতিটি উপজেলায় একজন, সিটি করপোরেশন এলাকায় ভৌগোলিকভাবে পাশাপাশি অবস্থিত প্রতি ৩ থেকে ৪টি ওয়ার্ডের জন্য একজন, সিটি করপোরেশন ছাড়া জেলা সদরে প্রতি পৌর এলাকায় এক থেকে দুইজন এবং পাবর্ত্য এলাকায় ভৌগোলিকভাবে পাশাপাশি অবস্থিত ৩ থেকে ৪টি উপজেলার জন্য একজন করে নির্বাাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ছাড়া সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সংশ্লিষ্ট উপজেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা যেতে পারে। যেসব সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মরত নেই, সেসব উপজেলায়, জেলা পর্যায়ে কর্মরত প্রশাসন ক্যাডারে কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে অথবা বিভাগীয় বা অন্য কোনো অফিস/ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রশাসন ক্যাডারে কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্বাচনের আচরণবিধি পালনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ জানায় ইসি। এর আগে আজ সকালে আগামী ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন ঘোষণা করেছে সিইসি। আর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর। তবে নির্বাচন পেছালেও এই নির্দেশনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও ইসি জানিয়েছেন।
৩০ ডিসেম্বর ভোট,মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২ ডিসেম্বর
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২ ডিসেম্বর এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ ডিসেম্বর। আজ কমিশনের পক্ষ থেকে একথা জানানো হয়। এর আগে আজ সোমবার (৯ নভেম্বর) ইভিএম মেলার উদ্বোধন শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা জানান, আগামী সংসদ নির্বাচন আগামী ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ নির্বাচনের রি-সিডিউলে মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন রাখা হয়েছে ২৮ নভেম্বর। পরে কমিশনের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের শেষ সময় ঘোষণা করা হয়। এর আগে, গত ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ ডিসেম্বর এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণের শেষ তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে ১৯ নভেম্বর।
ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তাদের সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে। তিনি আজ বিকেলে এখানে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দলীয় সভাপতি হিসেবে বক্তৃতাকালে বলেন,নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকে শক্তিশালী করবে। আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে আমরা একসাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই এবং যে দল জনগণের ভোট পাবে তারা নির্বাচনে জিতবে। তিনি বলেন, চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে এক সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপে আমরা একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধী দলগুলো সংলাপে বিশেষ কিছু দাবি তুলেছে এবং আমরা সেগুলোর অধিকাংশই মেনে নিয়েছি। তিনি বলেন, এখন তার সরকার নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে সবাই যেন সমান সুযোগ পায় তা নিশ্চিতে সতর্ক থাকবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭০টি রাজনৈতিক দলের ২৩৪ জন রাজনৈতিক নেতা সংলাপে অংশ নিয়েছেন, যা ২০ ঘন্টার বেশি সময় ধরে চেলেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে এবং তাঁর দল সব সময় চায় উন্নয়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকুক এবং এই ধারা যাতে থেমে না যায়। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর দল ৩০০টি নির্বাচনী আসনের প্রত্যেকটিতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সেরা প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়ার চেষ্টা করবে। তবে কিছু আসন দলের মিত্রদের ছেড়ে দেয়া হবে। দলের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও রাশেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের লক্ষ্য নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নিশ্চিত করা: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গণতন্ত্র জোরদার এবং অব্যাহত উন্নয়নের স্বার্থে তাঁর সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠান করা আমাদের লক্ষ্য। আমি আশা করি অন্যান্য রাজনৈতিক দলও এই নির্বাচনে অংশ নেবে। খবর বাসসর বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আজ গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, এটাই বাস্তবতা যে নির্বাচনে অংশ না নিলে একটি রাজনৈতিক দলের শক্তি হারায়। আমরা আশা করি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচনে অংশ নেবে এবং এর মাধ্যমে গণতন্ত্র অধিকতর শক্তিশালী ও দেশের আরো উন্নয়ন হবে। যুবলীগ সভাপতি আলহাজ ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ বক্তৃতা করেন। এরআগে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতৃবৃন্দ ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। নির্বাচন দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার অনেক মেগা প্রকল্প নিয়েছে এবং দারিদ্র্য বিমোচনের অঙ্গীকার করেছে। যদি আমরা ক্ষমতায় আসতে না পারি তাহলে কেউ এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে না। তিনি বলেন, আমরা অনেক মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করে বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারা চালু করেছি। আমরা দরিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। যদি আমরা আবার ক্ষমতায় আসতে পারি তাহলে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্যের হার ৪/৫ শতাংশে নামিয়ে আনা। তখন আমরা বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত বলতে পারবো।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক মাস পেছাতে ইসিকে ঐক্যফ্রন্টের চিঠি
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক মাস পিছিয়ে তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফন্ট। রোববার (১১ নভেম্বর) ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ইসিকে এ চিঠি দেয়া হয়। এর আগে দুপুর ১টার দিকে প্রেসক্লাবের এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী সংসদ নির্বাচনে নেবে বলে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয়ে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত রায় চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, জেএসডি সহ-সভাপতি তানিয়া রব ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন প্রমুখ। এদিকে, শনিবার (১০ নভেম্বর) কয়েক দফা রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়ার বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট রোববার (১১ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। শনিবার (১০ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানে বৈঠকে বসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি সদস্যরা। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাও। তবে অসুস্থতার কারণে যেতে না পারা ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন তার দল গণফোরামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বেইলি রোডের নিজ বাসভবনে। বৈঠক শেষে ড. কামাল সাংবাদিকদের বলেন, রোববার (১১ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবেই জানাবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত। উল্লেখ্য, আগামী ২৩ ডিসেম্বর (রোববার) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর (সোমবার)। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)। আর প্রতীক বরাদ্দ ৩০ নভেম্বর (শুক্রবার)।

জাতীয় পাতার আরো খবর