বুধবার, মে ২৩, ২০১৮
শঙ্কায় পড়া অর্ধশত হজযাত্রী প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন
লাইসেন্স বাতিল হওয়া এজেন্সির মাধ্যমে প্রাক-নিবন্ধন করে হজে যাওয়া নিয়ে শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন ৪৮ হজযাত্রী। তারা এবার হজে যেতে অন্য একটি এজেন্সির অনুকূলে নিবন্ধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। এজন্য রোববার প্রধানমন্ত্রীর বরাবর ৪৮ জনের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। হজযাত্রীদের পক্ষে রহমাতুল বারী এই স্মারকলিপিটি দেন। একই সঙ্গে তারা অবৈধ হজ এজেন্সির সঙ্গে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ এনে হজ পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানিয়েছেন। স্মারকলিপি থেকে জানা গেছে, এ ৪৮ জন হজে যেতে আল-বারী ট্রাভেলস নামে একটি এজেন্সি থেকে প্রাক নিবন্ধন করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অনিয়মের জন্য এই এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে এ হজযাত্রীরা প্রাক-নিবন্ধন আরব-বাংলাদেশ ওভারসিজ অ্যান্ড হজ গ্রুপে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু আল-বারী ট্রাভেলসের মালিক ওবাইদুল্লাহ হজযাত্রীদের না জানিয়ে তাদের প্রথমে আনসারি ওভারসিজে এবং পরে ফার্স্ট ওয়ান ইন্টারন্যাশনালে স্থানান্তর করেন। কিন্তু ফার্স্ট ওয়ান ইন্টারন্যাশনালের সেবা ভালো না হওয়ায় হজযাত্রীরা এই এজেন্সির মাধ্যমে হজে যেতে রাজি নন। পরে ফার্স্ট ওয়ান ইন্টারন্যাশনালের মালিক মুফতি তোফায়েল আহমেদ হজযাত্রী স্থানান্তরে রাজি হলেও হজ পরিচালক সাইফুল ইসলাম স্থানান্তর অনুমোদন দেননি। হজযাত্রীদের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে হজ অফিসে প্রস্তাব পাঠানো হলে পরিচালক তা অনুমোদন দেননি। তাই তারা এবার হজে যেতে এখনও নিবন্ধন করতে পারেননি বলে স্মারকলিপিতে জানিয়েছেন। এই হজযাত্রীদের অভিযোগ, আল-বারী ট্রাভেলসের মালিক ওবাইদুল্লাহর সঙ্গে যোগসাজশ করে হজ পরিচালক হজযাত্রী স্থানান্তর অনুমোদন করছেন না। এজন্য এই প্রায় অর্ধশত হজযাত্রী আরব-বাংলাদেশ ওভারসিজ অ্যান্ড হজ গ্রুপের নামে হজের নিবন্ধন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
ভূমিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা গ্রেফতার জমি দখলের অভিযোগে
জালিয়াতির মাধ্যমে রাজউকের ১০ কাঠা জমি দখলের অভিযোগে ভূমিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কুতুবউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে দুদক। রোববার দুপুরে গুলশান থানায় মামলার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গুলশান-১ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ২০ নম্বর প্লটটি বহুদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছিলেন কুতুবউদ্দিন। ১০ কাঠার ওই প্লটে নাজমুল ইসলাম সাঈদের নামে একজনকে জমির একটি পক্ষ বানিয়ে তা নিজের নামে করে নেয়ার জন্য গুলশান সাবরেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করেন কুতুবউদ্দিন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে দুদকের উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম ভূমিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কুতুবউদ্দিন ও নাজমুল ইসলাম সাঈদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া
চিকিৎসার জন্য কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আনা হয়েছে। নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি বহর শনিবার বেলা বেলা ১১টা ২০ মিনিটে শাহবাগের বিএসএমএমইউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। বিএসএমএমইউ চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ আলী আসগর মোড়ল জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে দেখবেন। এরপর কী হবে সেটা মেডিকেল বোর্ড ঠিক করবে। মেডিকেল বোর্ড হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিলে খালেদা জিয়াকে একটি কেবিনে রাখা হবে। এ জন্য কেবিনটি প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান আলী আসগর মোড়ল। খালেদা জিয়া দুই মাস ধরে পুরনো কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে রয়েছেন। তার চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. শামসুজ্জামান। বোর্ডে সদস্য রয়েছেন ডা. মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), টিটু মিয়া (মেডিসিন) ও সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)। গত ৪ এপ্রিল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান শাহীন জানান, আগের সমস্যাগুলোর পাশাপাশি খালেদা জিয়ার নতুন কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। অপাতত তার রক্ত পরীক্ষার পাশপাশি দুই হাঁটুতে এক্সরে করাতে হবে। পরীক্ষার পরই বোঝা যাবে তার অসুস্থতা গুরুতর কিনা। এরপরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। ডা. শাহীন বলেন, খালেদা জিয়ার দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা। তার হাঁটুতে এখন যে ব্যথা তা বয়স থেকে হতে পারে। আগের অপারেশনের জেরে হতে পারে, আবার নতুন হতে পারে। তার কোমর ও ঘাড়ে বড় ধরনের কোনো সমস্যা আছে কিনা তা জানতে সিটিস্ক্যান বা এমআরআই করানো লাগতে পারে। তার ব্যথা কেবল শিনশিন-ঝিনঝিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাকি হাড় পর্যন্ত পৌঁছেছে তা জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয় খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামিকে। রায় ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি নেত্রী বন্দি রয়েছেন।
স্নিগ্ধা যা বলেছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্বামী রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন স্নিগ্ধা ভৌমিক। পরকীয়া প্রেমিক কামরুলের সঙ্গে মিলে হত্যার নির্মম বর্ণনা দিয়েছেন ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে। স্নিগ্ধা বলেন, রথীশকে হত্যা করলে সবাই ভাববে জঙ্গিরাই তাকে মেরেছে- এ ভাবনা নিয়েই তাকে হত্যা করা হয়। এর কারণ হিসাবে জানায়, রথীশ ছিল জেএমবির হামলায় নিহত জাপানি নাগরিক ও মাজার খাদেম হত্যা মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী। আর এ কারণেই জঙ্গিরা তাকে হত্যা করেছে- এমনটা বিশ্বাসযোগ্য হবে। বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিন মুক্তার খাস কামরায় স্নিগ্ধা ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি দেন। সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে দেয়া জবানবন্দিতে স্নিগ্ধা জানায়, ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি। ওদিকে স্নিগ্ধা ভৌমিকের পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলামের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিন মুক্তা তার এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপরদিকে স্নিগ্ধা ভৌমিকের পাশাপাশি দুই স্কুলছাত্র সবুজ ইসলাম (১৭) ও রোকনুজ্জামানের (১৭) আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। জবানবন্দি শেষে স্কুলের দুই ছাত্রকে গতকাল সকালে যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বিচারক আরিফা ইয়াসমিন মুক্তার কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সূত্র ধরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক আল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে দীপা তার স্বামীকে হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং কামরুলের ইসলামের পরকীয়ার কথাও স্বীকার করেন। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, দুই কিশোর তাদের জবানবন্দিতে শিক্ষক কামরুলের নির্দেশে তার নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত বাড়ির একটি কক্ষে গর্ত খোঁড়ার কথা স্বীকার করে। ওই গর্তেই রথীশের মাটিচাপা দেয়া লাশ পাওয়া গিয়েছিল। আলাদাভাবে জবানবন্দি নেয়ার পর স্নিগ্ধা ও দুই কিশোরকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন বিচারক মুক্তা। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অ্যাডভোকেট রথীশ ভৌমিককে হত্যা করার পর লাশ ঘরের মেঝেতে রেখে তার স্ত্রী স্নিগ্ধা ও কামরুল শারীরিক মেলামেশা করে রাতভর। তাদের পরকীয়া প্রেমের কাহিনী জানতো অ্যাডভোকেট রথীশের ব্যক্তিগত সহকারী মিলন মোহন্ত। আর এ কারনে খুনের সঙ্গে জড়িত বাবু সোনার সহকারী মিলন মোহন্তকে এই মামলায় বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়। ওদিকে সূত্র জানায়, স্নিগ্ধা ও কামরুল গোপনে দেশ ছাড়তে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তারা পালাতে পারেননি। উল্লেখ্য, আইনজীবী রথীশ ভৌমিক বাবু সোনা ৩০শে মার্চ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাসা থেকে নিখোঁজ হন। পাঁচ দিন তদন্ত শেষে র‌্যাব-পুলিশ তার রহস্য উদঘাটন করে। ২৯শে মার্চ রাত ১০টার দিকে নগরীর তাজহাট বাবুপাড়ার নিজ বাসাতেই ঘুমের বড়ি খাইয়ে অচেতন করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় তাকে। ৪ঠা এপ্রিল দিনগত রাতে তার তাজহাট মোল্লাপাড়ার কামরুলের নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত বাসা থেকে বাবু সোনার লাশ উদ্ধার করে র‌্যাব। বাবু সোনা জাপানি নাগরিক ও খাদেম হত্যা মামলার বিশেষ পিপি, যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী নেতা এটিএম আজাহারুল ইসলামের সাক্ষী ছিলেন। এছাড়া তিনি জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক, আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্র্যাস্টেও ট্র্যাস্টি, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। এদিকে অ্যাডভোকেট রথীশের হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিকের প্রেম কাহিনী মানুষের মুখে মুখে। রথীশ ও স্নিগ্ধার বিয়ে প্রায় ২ যুগ পার হলেও স্নিগ্ধার স্বামী অ্যাডভোকেট রথীশ এখনও বেশ সুদর্শন। পাশাপাশি কামরুল ইসলাম বিয়ের প্রায় দেড় যুগ হলেও তার ঘরে রয়েছে সুন্দরী স্ত্রী রোজ।
জাতিসংঘ মহাসচিবের ফোন প্রধানমন্ত্রীকে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেস। শুক্রবার রাতে তিনি এই ফোন করেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। তিনি বলেন,টেলিফোনে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এ সময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের সহযোগিতা চেয়েছেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে জাতিসংঘ মহাসচিবকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত নয়টা ২৫ মিনিটের দিকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেস বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেন। তারা প্রায় ১২ মিনটি কথা বলেন। উল্লেখ্য, গতবছরের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। জাতিসংঘসহ পশ্চিমা বিশ্ব মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে জাতিগত নিধন এবং সেখানে গণহত্যা চালানো হয়েছে বলে দাবি করে। যদিও মিয়ানমার শুরু থেকেই এ দাবি নাকচ করে বলছে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আইনগত অভিযান চালিয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে।
ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা থেকে সরিয়ে নিতেই জঙ্গিবাদ : প্রধানমন্ত্রী
ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা থেকে সরিয়ে নিতে এবং ধর্মের সুনাম ক্ষুন্ন করতেই জঙ্গিবাদসহ কিছু মহলের উত্থান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কোম্পানীগঞ্জ-মুরাদনগর-হোমনা মহাসড়ক ও গৌরীপুর-হোমনা সেতু, কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা রেলওয়ে ওভারপাস এবং কুমিল্লার পদুয়া বাজার রেলওয়ে ওভারপাসের উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গলা পুরোপুরি ঠিক না হওয়ায় এবং চিকিৎসকের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলে মিলে দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে। আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। মাথা নত নয়, আমরা মাথা উঁচু করে চলবো বিশ্বদরবারে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। এ অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মেখ মুজিবুর রহমানসহ চার নেতা এবং ৩০ লাখ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আমি চারটি প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করছি। এ উন্নয়নের ফলে সোনার বাংলা বিনির্মাণের কাজ আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা প্রান্তে বক্তব্য রাখেন- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মন্ত্রণালয়ে নজরুল ইসলাম। কুমিল্লা প্রান্তে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় এমপি আ. ক. ম বাহাউদ্দিন বাহার ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবিএম তাহের বক্তব্য রাখেন। কুমিল্লা প্রান্তে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর।
গণবিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী বাংলা ভাষা শিখতে
বাংলা ভাষা শিখতে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা-যোগাযোগ ও সংস্কৃতি বিভাগে ২০১৮ সেশনের সার্টিফিকেট কোর্সে ভর্তি হয়েছেন তিন জাপানি নাগরিক। বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. লায়লা পারভীন বানুর কার্যালয়ে এসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা। এরা হলেন হিতোমি হাসিমোতো, হারু কাৎমাতা এবং কেকো কাৎমাতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেন এবং ভাষা-যোগাযোগ ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ আবু রায়হান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা-যোগাযোগ ও সংস্কৃতি বিভাগে আরও তিন জাপানিজ শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন করে একই বিভাগে বর্তমানে ডিপ্লোমা কোর্সে অধ্যয়ন করছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে এ পর্যন্ত আট জন বিদেশি ছাত্র বাংলা ভাষা কোর্স সম্পন্ন করেছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
আমদানি নিষিদ্ধ সিগারেট জব্দ ৫ কোটি টাকার:শাহজালাল বিমানবন্দরে
বুধবার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাল্লাশি চালিয়ে আমদানি নিষিদ্ধ সাড়ে ৮ আট হাজার ৪শ’ ৫০ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। যার বাজার মূল্য ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর সূত্র জানায়, বুধবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে দুবাই থেকে আসা ফ্লাইট ইকে-৫৮৪ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দারা বিমানবন্দরের এপ্রোন এলাকায় বিশেষ নজরদারি বজায় রাখে। নজরদারির অংশ হিসেবে শুল্ক গোয়েন্দারা কার্গোহোল থেকে ফ্রেশ ফ্রুট ঘোষণায় আনা তিনটি প্লেট শনাক্ত ও আটক করা হয়। পরে ওই কার্টনগুলো কাস্টমস রুমে এনে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয়। পরে সাড়ে ৮হাজার ৪শ ৫০ কার্টনে মোট ১৬ লাখ ৯০ হাজার শলাকা আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। জব্দ হওয়া সিগারেট ৩০৩ ও ৫৫৫ ব্ল্যাক ব্র্যান্ডের। জব্দকৃত পণ্যের বিষয়ে শুল্ক আইনে এবং অন্যান্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানায় ওই সূত্র।
জঙ্গিবাদ দমনে বিশ্বে বাংলাদেশ পুলিশ রোল মডেল: পুলিশ মহাপরিদর্শক
হলি আর্টিজানে হামলার খুব অল্প সময়ে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি, যেভাবে ১৯৭১ সালে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম। এরপর থেকে দেশব্যাপী জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ যে ভূমিকা পালন করেছে তা বিশ্বের কাছে বিস্ময়। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বিশ্বের কাছে রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আয়োজিত সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক বিরোধী সমাবেশে এসব কথা বলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। বুধবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এই সমাবেশের আয়োজন করে রাজশাহী মেট্রোপলিট পুলিশ। সমাবেশে পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে প্রধান বাধা মাদক ও জঙ্গিবাদ। এসমস্যা বর্তমান আমাদের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি শুধু কোন পুলিশি সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক সমস্যা। এই সমস্যাকে রুখে দিতে হলে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা বিশ্বাস করি, আপনাদের সহযোগিতা পেলে জঙ্গিবাদ ও মাদককে আমরা বাংলাদেশ থেকে অচিরেই নির্মূল করতে পারবো। তিনি আরও বলেন, তরুনরা হতাশার কারণে সন্ত্রাসবাদের দিকে ঝুঁকছে, মাদক নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসব থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। এজন্য শিক্ষকদের ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে একজন করে কাউনসেলর রাখা প্রয়োজন। যেন কোন শিক্ষার্থী হতাশাগ্রস্ত হলে যথাযথ পরামর্শ পায় এবং বিপথে না যায়। এ সমাবেশে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, আমরা সন্ত্রাসবাদ দমনে কাজ করছি, মাদক ঠেকিয়ে রাখছি। কিন্তু তাতে সমাজ থেকে এই সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদক ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সকলের দায়িত্ব রয়েছে। আপনাদের পরিচিতদের মধ্যে যারা ভুল পথে গিয়েছে, তাদের ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। আপনারা আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে এই সমস্যা সমাধানে আমাদের বেগ পেতে হবে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে মাদক উৎপাদন হয়না, সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢোকে। সীমান্তের কোন এক জায়গা দিয়ে যদি এক লাখ ইয়াবা দেশে ঢোকে তখন তা আটকানো সহজ। কিন্তু একবার এই ইয়াবা দেশের ভেতর ঢুকে পড়লে তা আটকানো খুব কঠিন। তবুও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি মাদক নির্মূল করতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. খুরশীদ হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু, রাবি স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি সুমাইয়া রহমান কান্তি ও আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু জাকি আল মুনজির। সঞ্চালনা করেন আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাদাকাত মাহমুদ ও মেহজাবিন কথা। এসময় সমাবেশে সমবেত কণ্ঠে কয়েক হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদককে না বলেন। সমাবেশ আয়োজনে সহযোগিতা করে রাজশাহী স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং।

জাতীয় পাতার আরো খবর