আপনাদেরকে পরীক্ষায় অনৈতিক প্রতিযোগিতা থেকে সরে আসতে হবে:রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রাথমিক ও মাধ্যমিকসহ পাবলিক পরীক্ষায় সন্তানদের এ প্লাস অর্জনে সহায়তায় কোনো অশুভ ও অসৎ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত না হওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আপনাদেরকে পরীক্ষায় অসুস্থ ও অনৈতিক প্রতিযোগিতা থেকে সরে আসতে হবে। অনৈতিক শিক্ষা কখনো সমাজ, দেশ ও জাতির জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বসুন্ধরায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস)র সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রশ্ন ফাঁসের সাম্প্রতিক ঘটনায় কিছুসংখ্যক অভিভাবকের জড়িত হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, অভিভাবকদের শুধুমাত্র তাদের ছেলেমেয়েদের পরীক্ষার ফল দেখলেই চলবে না, তাদের নৈতিক অধঃপতনের কথাও ভাবতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির আচার্য রাষ্ট্রপতি মনে করেন, নৈতিক শিক্ষার অভাবেই বর্তমানে সমাজে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। ইউআইটিএসের কারিকুলামে মোরাল এডুকেশনও এমারজেন্স অব বাংলাদেশ বিষয়ক বিশেষ কোর্স চালু করারয় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এতে নতুন প্রজন্ম আদর্শ ও মূল্যবোধের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেশের জন্য দক্ষ, যোগ্য ও উৎসাহী তরুণ সমাজ গড়ায় অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। দেশের সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে দ্য প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট-২০১০অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, গুণগতমানের শিক্ষা, অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহয়োপযোগী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। রাষ্ট্রপতি হামিদ দেশ ও জনগণকে ভুলে না যাওয়া এবং অন্যায় ও অসত্যের সঙ্গে আপন না করার জন্য স্নাতকদের পরামর্শ দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তাদেরকে উপদেশ দিয়ে বলেন, তোমাদের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে তোমাদের ডিগ্রির মর্যাদা সমুন্নত রাখবে এবং কখনো ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নৈতিকতা বিসর্জন দেনে না। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার বিজ্ঞানী এবং কলামিস্ট প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান, ইউআইটিএস র উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সোলাইমান, ইউআইটিএস ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও রাষ্ট্রপতির সচিবগণ এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
সব সময় আপনাদের সঙ্গে আছি যত দূরেই থাকি না কেন:প্রধানমন্ত্রী
যত দূরেই থাকি না কেন, সব সময় আমি আপনাদের সঙ্গে আছি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার বিকালে ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় শেখ হাসিনা বলেন, আমি বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে চিনি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমি গিয়েছি। আমি হেঁটেছি, নৌকায় চড়েছি, ট্রেনে যাতায়াত করেছি। আমি ভালো করে জানি দেশের কোথায় কোন সমস্যা। তিনি বলেন, জাতির পিতার কাছে শুনেছি কীভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে। এজন্য আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি এলে কোনো উন্নয়ন হয় না। বিএনপি তো লুটপাটেই ব্যস্ত। খালেদা জিয়ার ছেলেরা ব্যাংক থেকে টাকা লটু করে নিয়ে চলে গেছে। এক টাকাও ফেরত দেয়নি। সেই অর্থ ফিরিয়ে আনা হচ্ছে,বলেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি ক্ষমতায় এলে মানুষ উপহার পায় লাশ। আর আমরা ক্ষমতায় এলে মানুষ পায় উন্নয়ন। কারণ আমাদের কাজ জনগণের উন্নয়ন করা। দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করা। এটাই আমাদের ওয়াদা।খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিদেশ থেকে এতিমের জন্য আনা টাকা মেরে খেয়েছেন তিনি। যে এতিমের টাকা মেরে জেলে গেছে তার জন্য আবার আন্দোলন কিসের। এতিমের হক না দিলে তার জন্য কোরআনে শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম সারাক্ষণ মিথ্যা কথা বলেন। মিথ্যা বলতে বলতে তার মুখ ব্যথা হয়ে গেছে। এত মিথ্যা কথা তিনি কীভাবে বলেন, ভেবে পাই না। মিথ্যা কথা বললে আল্লাহ তায়ালাও নারাজ হন। বিমান প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় মির্জা ফখরুল বিমানকে ধ্বংস করে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শেখ হাসিনা আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীরা বাংলাদেশের উন্নতি চায়নি। তারা কখনও এ দেশের উন্নয়ন করতে পারবে না। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ দবিরুল ইসলাম এমপি।
দেশে ভিক্ষুক খুব কম, যারা আছে তাদের বেশির ভাগই প্রফেশনাল
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, দেশে ভিক্ষুক খুব কম, যারা আছে তাদের বেশির ভাগই প্রফেশনাল ভিক্ষুক, অভাবী ভিক্ষুক নেই। তাদেরকে অনেক চেষ্টা করেও এই পেশা থেকে ফেরাতে পারছি না। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা অডিটোরিয়ামে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার হিসেবে দেশে প্রায় ৬ লাখের মত ভিক্ষুক আছে। যাদেরকে কোনো মতেই এই ভিক্ষাবৃত্তির বাইরে নিয়ে আসা সম্ভব না। যতই আমরা তাদেরকে বাড়ি-ঘর বা অন্য কিছু দিয়ে সহযোগিতা করি না কেন, কিছুদিন পর তারা ভিক্ষা পেশায় চলে যাচ্ছে। দুর্নীতি বিরোধী সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে দুদকের পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ মহানগর, জেলা ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। দারিদ্রতা কমতেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখন অভাবে কেউ মারা যাচ্ছে এমন চিত্র আপনারা দেখতে পাবেন না। অথচ আমার শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের শুরুতে না খেয়ে মানুষকে মরতে দেখেছি। এখন কোথাও এমনটা দেখবেন না, তবে অসুখে মানুষ মারা যেতে পারে। অর্থমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরে লোভকে দমন করার জন্য অন্যরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তা হচ্ছে সরকারি চাকুরীজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করে দেয়। যাতে করে একটা পরিবার ভালোভাবে চলতে পারে, বাঁচতে পারে। তিনি বলেন, সরকারি কোনো কর্মচারী ১৬ হাজার টাকার নিচে বেতন পাই না। আমরা মনে করি ১৬ হাজার টাকা নিম্ন পর্যায়ের মানুষের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু মানুষ যখন দুর্নীতি অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়, তখন পরিবর্তন করতে একটু সময় লাগে। আমরা শুদ্ধাচারের মাধ্যমে পরিবর্তনগুলো করতে চাচ্ছি, এগুলো সুদুর প্রসারী এবং সময় সাপেক্ষ। মুহিত বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসতে পারে, তখন দেশে আর কোনো দারিদ্রতা থাকবে না। নতুন প্রজন্ম তখন শুদ্ধাচারেরর কৌশল চর্চা করবে। তিনি বলেন, এই শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সমাজে মৌলিক পরিবর্তন আসবে। আমরা এমন একটা সমাজ সৃষ্টি করতে চাচ্ছি, যেখানে শুদ্ধাচার অটোমেটিক মানুষ অনুশীলন করবে। যেখানে মানুষের মিথ্যা কথা বলার প্রয়োজন হবে না। তিনি বলেন, তখন দুদকের কাজ হবে শুদ্ধাচার প্রচার করা। শাস্তির ব্যবস্থাও থাকা দরকার, তবে দুদকের এটা মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত হবে। সভাপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমরা ইদানিং লক্ষ্য করছি ব্যবসায়ীক কিছু কোম্পানি আর্থিক বিবরণী দিচ্ছেন সেটা সম্ভবত সঠিক নয়। সেটি করছে কোন সিএ ফার্ম। অমরা অবশ্য এটা নিয়ে তদন্তে যায়নি। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকে ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট জমা দিচ্ছেন এক রকম। আবার একই ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ইনকাম টক্সে অফিসে তাদের হিসাবটা দিচ্ছেন ভিন্ন। আমি নিজে এই অভিযোগের বিষয়টি শুনে হতভম্ব হয়েছি। অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, অভিযোগটা যদি সত্যি হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে আপনি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দেখবেন কি না। বা আমাদেরকে বললে দুদক বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে চায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মেডেল অব ডিসটিংকশন সম্মানে ভূষিত
দরিদ্র, অসহায়, বিশেষ করে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মেডেল অব ডিসটিংকশন সম্মানে ভূষিত করেছে লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকায় সফররত লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ড. নরেশ আগরওয়াল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই মেডেলে ভূষিত করেন তিনি। মানবিক গুণাবলি বিশেষ করে লাখ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট। তিনি শেখ হাসিনাকে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আপনার এই গুণের জন্য ইতোমধ্যে আপনাকে মাদার অব হিউম্যানিটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপন্ন মানবতার সেবা হচ্ছে আমার দায়িত্ব। আপনারা (লায়ন্স সদস্যরা) সাধারণ মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন, একইভাবে আমরা রাজনীতিবিদরা তাদের খাদ্য, বস্ত্র ও আশ্রয়সহ মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। ড. আগরওয়াল বলেন, তার সংস্থা বাংলাদেশে বিপন্ন মানবতার জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়নের প্রশংসা করে লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট বলেন, এই উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চ প্রশংসিত হচ্ছে। লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনালের সাবেক পরিচালক শেখ কবির হোসেন, সাবেক আন্তর্জাতিক পরিচালক এবং ক্লাবের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর মোসলেম আলী খান, ক্লাবের বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিচালক কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশের কাউন্সিল চেয়ারপারসন লায়ন্স এম কে বাসার এসময় উপস্থিত ছিলেন।
খেলাধুলার মাধ্যমে মানসিক বিকাশ ঘটাতে হবে-লেখাপড়ার পাশাপাশি
রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেছেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে মানসিক বিকাশ ঘটাতে হবে। এতে সুস্থ দেহ যেমন গড়ে উঠবে, লেখাপড়াতেও অধিক মনোযোগ দিতে পারবে শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। রেলমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ শিক্ষিত জাতি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। এখনকার শিক্ষার্থীরাই আগামীতে দেশের নের্তৃত্বে আসবে। তাই লেখাপড়া শিখে সত্যিকার মানুষ হবার জন্য শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক আলোচক ছিলেন রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। এসময় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন প্রধান অতিথি। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন।
নতুন প্রজন্ম গড়তে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় :মোজাম্মেল হক
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্ম গড়তে শিক্ষক সমাজকে নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক। বুধবার ঢাকায় জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে(নায়েম) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৮ উপলক্ষে ১৫১তম বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্সের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের প্রশিক্ষণার্থীদের আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নায়েম- এর মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন,সুশিক্ষিত নতুন প্রজন্মই পারবে দেশকে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছে দিতে। আর এ সুশিক্ষিত নতুন প্রজন্ম গড়তে প্রয়োজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমন্ডলী। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আর বর্তমান সরকার জাতির সামগ্রিক মুক্তির জন্য ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ কর্মপরিকল্পনা সফল করার জন্য প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সুশিক্ষিত নতুন প্রজন্ম।
ঢাকা মেডিকেল থেকে বাসায় ফিরছেন মেহেদী-স্বর্ণা-রুয়াবেত
নেপালে ইউএস-বাংলা উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় আহত মেহেদী হাসান, কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও শেখ রাশেদ রুবায়েতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে তারা বাসায় ফিরতে পারবেন। উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় আহত তিনজনই বর্তমানে সুস্থ হওয়ায় তাদেরকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢামেক বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, বিমান দুর্ঘটনার পর নেপাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমাদের গঠিত মেডিকেল টিম তাদেরকে (আহতদের) সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিয়েছেন। আজ সর্বশেষ তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। তারা সুস্থ আছেন। উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় আহত মেহেদী হাসান, কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও শেখ রাশেদ রুবায়েদকে চিকিৎসা দিয়ে বাসায় ফেরত পাঠাতে পেরে তিনিসহ পুরো টিম খুশি বলে জানান ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি আরও বলেন, একই দুর্ঘটনায় আহত আলমুন নাহার এ্যানি ট্রামায় ভুগছেন এবং শেহরিনের পিঠের অস্ত্রোপচার করায় তাদেরকে এখনি ছেড়ে দেয়া যাচ্ছে না।
সাংবাদিক নাছির উদ্দিন চৌধুরী এমজেএফ এর চেয়ারম্যান মনোনিত
২৮ মার্চ ২০১৮ ইং তালিখে মিলেনিয়াম হউিম্যান রাইটস্ এন্ড জার্নালস্ট ফাউন্ডেশন এমজেএফ এর প্রধান কার্য্যালয় পুরানা পল্টন ঢকায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামি লীগ ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম,এতে আরো উপস্তিত ছিলেন কেন্দ্রিয় আওয়ামি লীগের নেতা জনাব,হাসান মনসুর,আবুল হোসেন,মানবাধিকার নেতা রহিসুল ইসলাম সাংবাদিক জনাব,আতাউর রহমান,দৈনিক আমার বাংলার সম্পাদক মোঃ মনিরুর জামান,একে ডাইং এর পরিচালক আব্দুল মান্নান মানিক,দৈনিক রূপ বাণী পত্রিকার সম্পাদক ফরুক আহমেদ স্কলার হোম স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালক আজমা বেগম।উক্ত সভায় সকলের সম্মতিক্রমে সাংবাদিক মোঃ নাছির উদ্দিন রচৗধুরীকে চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক অধ্যাপক চৌধুরী সুজনকে মহাসচিব মনোনিত করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট এমজেএফ কেন্দ্রিয় কার্য করি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। উক্ত কমিটি ২০২১ সাল পর্যন্ত তাহাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করিবেন। সভায় নবগঠিত কমিটির চেয়ারম্যান সাংবাদিক মোঃ নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে উপস্থিত সকলে ফুলের শুভেচ্ছা প্রধান করেন।
ফেসবুকে পরিচয় প্রেম,বিয়ে অতঃপর !
ফেসবুকে পরিচয়, প্রেম। এরপর বিয়ে। বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই বিচ্ছেদ। যূথী আর হুমায়ূনের এমনই প্রেমকাহিনী। এখন হুমায়ুন সৌদি আরবে। যূথী বাংলাদেশে। যূথী বিষয়টির প্রতিকার চান নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলে। সেখানেই কথা হয় তার সঙ্গে। যূথী জানান, ফেসবুকে তাকে প্রথম দেখে হুমায়ুন। সামনাসামনি না দেখেই যূথীর প্রেমে পড়ে যান তিনি। একাধিকবার যূথীকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান হুমায়ুন। অনুরোধ করেন একবারের জন্য হলেও তার সঙ্গে কথা বলতে। অচেনা কারো সঙ্গে কথা বলতে রাজি ছিলেন না যূথী। এ কারণে যূথী হুমায়ুনের বার্তার উত্তর দিতেন না। কিন্তু নাছোড়বান্দা হুমায়ুন সকাল-বিকাল বার্তা পাঠাতেই থাকেন। বিরক্ত হয়েই একদিন যূথী জানতে চায় হুমায়ুনের বাড়ি কোথায়? হুমায়ুন জানান, তার বাড়ি মাদারীপুর। যূথীর বাড়িও মাদারীপুর। এলাকার ছেলে জেনে যূথী হুমায়ুনের ওপর আস্থা রাখেন। এরপর থেকে তাদের নিয়মিত কথা হতো ভিডিও কল ও মেসেঞ্জারে। এভাবেই কেটে যায় পাঁচ মাস। যূথী হুমায়ুনের সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু যূথীকে না দেখেই সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেন হুমায়ুন। শর্ত দেন তা পরিবারকে জানানো যাবে না। বিয়ের পর পরিবারকে জানানো হবে যূথীকে এমনটাই বলেছিলেন হুমায়ুন। বিয়ের কথা পরিবারের কাছে গোপন রাখতে রাজি হলেও সামনে না দেখে বিয়ে করতে রাজি হয় না যূথী। এরপর গত বছরের ২৬শে জানুয়ারি প্রথম দেখা হয় যূথী ও হুমায়ুনের। দেখা হওয়ার তিনদিন পর ২৯শে জানুয়ারি পরিবারকে না জানিয়ে মাদারীপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গোপনে বিয়ে করেন যূথী ও হুমায়ুন। দেনমোহর ধার্য করা হয় তিন লাখ টাকা। বিয়ের পর দুজনে মাদারীপুর থেকে সোজা ঢাকায় যূথীর বোনের বাড়িতে এসে উঠেন। যূথী আর হুমায়ুনের দিন ভালোই কাটছিল। এর মধ্যে হুমায়ূনকে বিয়ের কথা তার বাড়িতে জানাতে চাপ দেন যূথী। বিয়ের দশদিন পর হুমায়ুন যূথীকে এসে হঠাৎ জানান পরের সপ্তাহে তিনি সৌদি আরব চলে যাচ্ছেন। বিদেশে গিয়ে তিনি তার পরিবারকে বিয়ের কথা জানাবেন। ১৭ই ফেব্রুয়ারি হুমায়ুন সৌদি আরব চলে যান। বিদেশে যাওয়ার পর মাসখানেক যূথীর সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো হুমায়ুনের। এরপরই ফোন করা কমিয়ে দেয় হমায়ুন। যূথী যখনই পরিবারের কাছে তাদের বিয়ের কথা জানাতে বলতেন হুমায়ুন বলতেন দেশে ফিরে এসে বলবেন। একসময় হুমায়ুন বলেন, যূথী তার চেয়ে ছয় বছরের বড়। ছেলের চেয়ে বয়সে বড় বউ তার পরিবার মেনে নেবে না। এরপর থেকে যূথীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। যূথী বলেন, বার বার চেষ্টা করেও হুমায়ুনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়েছি। বিদেশে যাবার আগে হুমায়ুনের মোবাইল ফোন থেকে তার মা ও ভাইয়ের মোবাইল নম্বর রেখে দিয়েছিলাম। কোনো পথ না পেয়ে বাধ্য হয়ে হুমায়ুনের মায়ের কাছে ফোন করে সব জানিয়েছি। হুমায়ুনের মা উল্টো আমাকে চরিত্রহীন বলে অপবাদ দিয়েছেন। তার বাচ্চা ছেলেকে ফাঁসিয়েছি বলে গালিগালাজ করেন। আমি তো কিছু লুকাইনি। বিয়ের আগেই এ জন্য আমি ওর সঙ্গে বার বার দেখা করতে চেয়েছি। কিন্তু হুমায়ুন বলেছে, সে শুধু আমাকে ভালোবাসে আর কিছু জানতে চায় না। বিয়ের কাবিননামাতে আমার জন্ম সাল ১৯৮৮ আর হুমায়ুনের জন্ম সাল ১৯৯৪ দেয়া আছে। তাহলে তখন কেন সে আমাকে বিয়ে করতে রাজি হলো। বিয়ের পর সে এসব কথা কেন বলছে? আমি যাকে ভালোবেসেছি তার সঙ্গেই সংসার করতে চাই। আমি এখনো অপেক্ষায় আছি হুমায়ুন আমার কাছে ফিরে আসবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর