সোমবার, মার্চ ৮, ২০২১
সাংবাদিক আসলাম রহমানের মৃত্যুতে আইজিপির শোক
০৮মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সদস্য ও দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার সাংবাদিক আসলাম রহমানের আকস্মিক মৃত্যুতে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার) গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় আইজিপি বলেন, আসলাম রহমান ছিলেন নিষ্ঠাবান সা়ংবাদিক, অত্যন্ত বিনয়ী ও অমায়িক একজন মানুষ। ক্রাইম রিপোর্টার হিসেবে সমাজের অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে কলম ধরার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এক আপোষহীন যোদ্ধা। তার সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ পারস্পরিক পেশাগত সুসম্পর্ক। জনাব রহমানের অকাল মৃত্যুতে আমরা এক আপনজনকে হারালাম। এসময় আইজিপি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান ।
রোববার ক্র্যাবের উদ্যোগে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা
০৮মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) উদ্যোগে আগামী রোববার ক্র্যাব ও ডিআরইউ সদস্যদের নভেল করোনাভাইরাস শনাক্তে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। ওই দিন বেলা ১১ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধিদল ক্র্যাবের অস্থায়ী বুথে এ নমুনা সংগ্রহ করবেন। এ ক্ষেত্রে শুধু যাদের করোনাভাইরাসের উপসর্গ রয়েছে, তারা নমুনা দিতে পারবেন। আজ ক্র্যাবের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নমুনা দিতে ইচ্ছুক সদস্যদের আগামীকাল শনিবার বিকেল ৫টার মধ্যে এই নম্বরে ০১৯১৩-১৫৩৯৩৯ এসএমএস বা craboffice2015@gmail.com এ মেইল করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনে সদস্যের নাম, বর্তমান ঠিকানা, এনআইডি ও মোবাইল নম্বর অন্তরর্ভুক্ত করতে হবে।
গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৬১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪০ জনের করোনা পজিটিভ
০৮মে,শুক্রবার,রাজিব দাশ, চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ৬১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪০ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৭৯ জনে। শুক্রবার (৮ মে) সকালে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি এ তথ্য জানান। তিনি জানান, সিভাসুতে ৬১ নমুনা পরীক্ষা করে ৪০ জনের করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৩৯ জন চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ও অন্যজন খাগড়াছড়ি জেলার বাসিন্দা। এর আগে বৃহস্পতিবার (৭মে) বিআইটিআইডিতে ১৯৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৯ জনের শরীরে পজেটিভ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ১৮ জনই চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকার এবং অন্যজন নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা। তাছাড়া কক্সবাজারে আরও একজনের করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার আক্রান্তদের মধ্যে নগরের আকবরশাহ, দক্ষিণ নালাপাড়া, রাহাত্তারপুল, পাঁচলাইশ, শুলকবহর, কোতোয়ালি, কর্নেলহাট এলাকার ১ জন করে ৭ জন। এনায়েত বাজার, ঈদগাঁহ, হালিশহর এলাকার ২জন করে ৬ জন পাওয়া গেছে। এছাড়া নগরের সাগরিকা এলাকার এক মৃত ব্যক্তির শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। নগরের বাইরে লোহাগাড়া উপজেলায় ৩জন এবং সাতকানিয়া উপজেলায় আরও ১জনের করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে।
অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরছেন ১৫৭ বাংলাদেশি
০৮মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ায় আটকে পড়া ১৫৭ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়েছে তারা। মেলবোর্ন থেকে ছেড়ে আসা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের ওই ফ্লাইটটি কলম্বোতে যাত্রা বিরতি করবে এবং আশা করা হচ্ছে শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সহযোগিতা করছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত হয়। এই অবস্থায় অস্ট্রেলিয়াতে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা দেশে ফিরতে চায় কিনা সেটি প্রাথমিকভাবে জানার জন্য একটি নোটিশ দেয় দূতাবাস। ওই নোটিশের পর ৩৪০ জন আগ্রহ প্রকাশ করে। এই আগ্রহের প্রেক্ষিতে সিডনি থেকে ঢাকা আসার জন্য একটি বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয় দূতাবাস। কিন্তু পরবর্তীতে ওই ফ্লাইটে অনেকে অনাগ্রহ দেখালে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস এর ছোট একটি প্লেনের ব্যবস্থা করা হয়। পরে ফ্লাইটটি মেলবোর্ন থেকে রওনা হয়। যাত্রা শুরুর ৭২ ঘণ্টা আগে সব যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তারা সবাই করোনা উপসর্গ মুক্ত জানার পরেই ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার দায়িত্বে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
০৮মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকার (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) উন্নয়নে আবারও প্রতিনিধির দায়িত্ব পেলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব শেখ নাজমুল হক সৈকত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- ৭ মে ২০২০ তারিখে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে ব্যস্ততার জন্য জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনী এলাকা-২১৭ গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া)-এর উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে দায়িত্ব পালনের জন্য অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে প্রতিনিধি মনোনয়ন করা হলো। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকায় তার প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
রাজশাহীর আম নামবে ১৫ মে থেকে
০৮মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজশাহীতে আম পাড়ার সময় বেঁধে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। অসময়ে আম সংগ্রহ বন্ধ রাখতে গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ মে-এর আগে কোনো আম নামানো যাবে না। ১৫ মে থেকে সব ধরনের গুটি আম পাড়তে পারবেন চাষিরা। শুক্রবার (৮ মে) জেলা প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. হামিদুল হক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজশাহীর চাষিরা গোপালভোগ আম নামাতে পারবেন ২০ মে থেকে। এছাড়া রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ বা লখনা ২৫ মে, হিমসাগর বা খিরসাপাত ২৮ মে, ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ১৫ জুন এবং ফজলি ১৫ জুন থেকে নামানো যাবে। সবার শেষে ১০ জুলাই থেকে নামবে আশ্বিনা এবং বারী আম-৪। এর আগে গত ১১ জানুয়ারি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক বলেছিলেন, মুজিববর্ষে রাজশাহীর বিষমুক্ত আম হবে জাতির জন্য উপহার। এই বিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসক বলেছেন, অপরিপক্ব আম বাজারজাত ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন। সুষ্ঠুভাবে মনিটরিং করে নির্দিষ্ট সময়েই আম নামানো হবে। এদিকে, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশে বিখ্যাত রাজশাহীর আম বাজারজাত করা নিয়ে চাষিদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। তারা আম বিক্রি করতে পারবেন কিনা সে চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। তাই অনেকটা অনাদরেই বাগানে বেড়ে উঠছে আম। এ অবস্থায় আম পাড়ার সময় বেঁধে দেওয়ায় চাষিরা আরও ক্ষতির শঙ্কা করছেন। তবে জেলা প্রশাসন বলছে, কৃষিপণ্য লকডাউনের বাইরে থাকায় চাষিদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। তাছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ারে আম পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এরইমধ্যে রাজশাহীর সব উপজেলায় এ ধরনের নির্দেশনা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বলেন, অসময়ে আম পাড়া বন্ধে এবং ক্যালসিয়াম কার্বাইড, পিজিআর, ফরমালিন, ইথোফেনের মতো কেমিক্যাল ব্যবহারের মাধ্যমে যেন আম পাকানো না হয় তার জন্য নামানোর ক্ষেত্রে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং পুলিশ কঠোরভাবে মনিটরিং করবে। তবে স্থানীয়ভাবে আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে কোথাও কোথাও নির্ধারিত সময়ের আগে গাছে আম পাকলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়ে চাষিরা আম পাড়তে পারবেন। রাজশাহী কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এবার ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। উৎপাদন ধরা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। গাছে ফলন মোটামুটি ভালো। ঝড়-ঝঞ্ঝা ও শিলাবৃষ্টির কবলে না পড়লে এই আম দিয়েই গোটা দেশের চাহিদা পূরণ সম্ভব।
গ্রেফতার সাংবাদিকদের মুক্তি দাবি সম্পাদক পরিষদের
০৮মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া সাংবাদিকদের সবাইকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার ও তাদের বিরুদ্ধে রুজু করা সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। এক বিবৃতিতে পরিষদ সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে যখন-তখন ও নির্বিচারে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (ডিএসএ) প্রয়োগের নিন্দা ও অ্যাক্টটি বাতিলের দাবি জানায়। সম্পাদক পরিষদের পক্ষে সভাপতি মাহফুজ আনাম ও মহাসচিব নঈম নিজাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে সাংবাদিক, এক কার্টুনিস্ট ও একজন লেখকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের বেশ কয়েকজনকে ডিএসএয় গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের আগে অভিযোগের ভিত্তি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করা হচ্ছে না। ভাবমূর্তির ক্ষতি করা হয়েছে, গুজব ছড়ানো হচ্ছে, অথবা সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে এ ধরনের যুক্তি মনে হয় সাংবাদিককে কারাগারে রাখার জন্য যথেষ্ট। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডিএসএর অধীনে যেকোনো অভিযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রেফতার ঘটাচ্ছে। ফটো সাংবাদিক কাজলকে সম্প্রতি হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলা হয়। সাম্প্রতিক মামলাগুলোর অধিকাংশেরই নেপথ্যে ছিল আইন প্রণেতাদের, জেলা প্রশাসনের এবং ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের নিছক সমালোচনা। বিবৃতিতে বলা হয়, আইন প্রণেতারা ঐতিহ্যগতভাবে সব সময় মুক্ত গণমাধ্যম ও মুক্তচিন্তার পক্ষে থাকেন। দুঃখের বিষয়, তাদেরই কয়েকজন এখন মিডিয়ার বিরুদ্ধে ডিএসএ-চালিত ক্রিয়াকলাপের অংশ। বিদ্যমান মানহানি আইনের স্থলে ডিএসএর অধীনে মামলা দায়েরকে প্রাধান্য দেওয়ার মধ্যে ন্যায়বিচার চাওয়ার চেয়ে সাংবাদিকদের ভয় প্রদর্শন ও হয়রানির ইচ্ছারই ইঙ্গিত দেয়। দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরা এবং প্রশাসনের ব্যর্থতা দেখিয়ে দেওয়াটা গণমাধ্যমের ঐতিহ্যগত কর্তব্য। মহামারি ও এর ভয়ংকর পরিণতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সরকার যখন হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে, তখন এই কর্তব্যটি অনেক বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সম্পাদক পরিষদ ডিএসএর সূচনাকাল থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে এই আশঙ্কায় যে আইনটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দমনের কাজে ব্যবহৃত হবে। আমাদের আশঙ্কাটি এখন গণমাধ্যমের কাছে দুঃস্বপ্ন-বাস্তবতা। বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের নামে সাম্প্রতিক মামলা করা ও তাদের গ্রেফতারকে আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সুস্পষ্ট হুমকি মনে করি- বাংলানিউজ
কবিগুরুর ১৫৯তম জন্মজয়ন্তী
০৮মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদ্ঘাটন-সূর্যের মতন। রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন। উদয়দিগন্তে ওই শুভ্র শঙ্খ বাজে, মোর চিত্তমাঝে-চির-নূতনেরে দিল ডাক পঁচিশে বৈশাখ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হে নূতন গানে চির নতুনের মধ্যে দিয়ে তার নিজের পৃথিবীকে আগমনের শুভক্ষণকে তুলে ধরেছিলেন। আজ সেই পঁচিশে বৈশাখ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯তম জয়ন্তী। বাঙলির মানসপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সদাই বিরাজমান। তিনি আমাদের অহংকার। বাঙালির জীবনের যত ভাবনা, বৈচিত্র্য আছে, তার পুরোটাই লেখনী, সুর আর কাব্যে তুলে ধরেছেন কবিগুরু। আজ কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে কলকাতায় জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জম্মগ্রহণ করেন তিনি। সার্বজনীন এ কবি বাংলাভাষা সাহিত্যকে নিয়ে গেছেন বিশ্ব দরবারে। তাইতো নাগরিক মধ্যবিত্ত মননে আজও বাজে কবির অনিন্দ্যসুন্দর সব গান। আনন্দ, বেদনা, কিংবা বিরহ, ভালোবাসা প্রতিটি প্রকাশেই বাংলা ভাষাভাষির প্রাণের আশ্রয় রবীন্দ্রনাথ। নিজের সময়ে থেকেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ধারণ করেছিলেন অনাগত কালকে। তাইতো সব সৃষ্টি কর্মই এখনো সমান আবেদন নিয়ে মুগ্ধ শ্রোতারা। মধ্যযুগীয় উপনিবেশিক সাহিত্যের বেড়াজাল থেকে বাংলা সাহিত্যকে আধুনিকতায় মুক্তি দিয়েছিলেন কবিগুরু। বাংলা সাহিত্যের অনন্যপ্রতিভা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখনীতে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা সাহিত্যের সব কটি ধারা। কবিগুরুর হাতেই মূলত সার্থক বাংলা ছোটগল্পের সূত্রপাত। এরপর গান-কবিতায় তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। মূলত সে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন বাংলা সাহিত্যকে। রবীন্দ্রনাথ বাংলার কবি, বাঙালির কবি। তবে তিনি নিজেকে বিশ্বচরাচরের অংশ হিসেবে বিশ্বাস করতেন। বাঙালির উদ্দেশে তিনি বলেছেন, তুমি নিছক বাঙ্গালী নও, তুমি বিশ্বচরাচরের অংশ। সকলের সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রেমের মধ্যে বাঁচতে বলেছেন রবীন্দ্রনাথ। সঙ্গে যুক্ত করতে বলেছেন- প্রাণীজগৎ, নিসর্গ, প্রকৃতিকে । শুধু তাই নয়, শিল্পের জগত, কল্পনার জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজের বিস্তার ঘটাতে বলেছেন । পাশাপাশি কাজ করেছেন কৃষক ও জনমানবের জন্যও। পিতা দেবেন্দ্রনাথ দেশ ভ্রমণের নেশায় বছরের অধিকাংশ সময় কলকাতার বাইরে অতিবাহিত করতেন। তাই ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হয়েও রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলা কেটেছিল ভৃত্যদের অনুশাসনে। শৈশবে তিনি কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নরম্যাল স্কুল, বেঙ্গল একাডেমি ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ছেলেবেলায় জোড়াসাঁকোর বাড়িতে অথবা বোলপুর ও পানিহাটির বাগানবাড়িতে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ৮ বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৮ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশে তিনি ইংল্যান্ড যান। সেখানে তিনি ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৭৯ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইনবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। প্রায় দেড় বছর ইংল্যান্ডে কাটিয়ে ১৮৮০ সালে কোনো ডিগ্রি না নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। ১৮৮৩ সালের ভবতারিণীর সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহিত জীবনে ভবতারিণীর নামকরণ হয়েছিল মৃণালিনী দেবী। এর মধ্যেই চলতে থাকে তার সাহিত্যচর্চা। ১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও উড়িষ্যার জমিদারি তদারকি শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ সপরিবারে শিলাইদহ ছেড়ে চলে আসেন বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পৌঁছে দিয়েছেন বিকাশের চূড়ান্ত সোপানে। বাংলা ভাষার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব, কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলী রচনা করে ১৯১৩ সালে পান সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার। যার অর্থ দিয়ে তিনি এ দেশে শাহজাদপুরের দরিদ্র কৃষকদের ঋণ দেয়ার উদ্দেশে প্রতিষ্ঠা করেন কৃষি ব্যাংক। ওপার বাংলায় গড়ে তোলেন শান্তিনিকেতন। আবার রাজপথে নেমে এসেছেন। করেছেন বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে। পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ছুড়ে ফেলেন ব্রিটিশ সরকারের দেয়া- নাইটহুড, উপাধিও। এদিকে চলমান মহামারি করোনার কারণে জনসমাগম এড়াতে এবছর দিনটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই কবিগুরুকে স্মরণ করতে সরকারিভাবে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। আজ (৮ মে) সকাল ১০টায় বিটিভিতে এটি দেখানো হবে। এটির সহযোগিতায় আছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। ধারণকৃত বিশেষ অনুষ্ঠান রাখা হয়েছে সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ ছায়ানটেও। প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা জানান, সকাল সাড়ে নয়টায় একটি ভিডিও অনুষ্ঠান প্রচার করবে তারা। ওই মহামানব আসে শিরোনামের এ আয়োজনটি গ্রন্থনা করেছেন ছায়ানটের সভাপতি সনজীদা খাতুন। দেখানো হবে ছায়ানটের ওয়েবসাইটে।

জাতীয় পাতার আরো খবর