আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে চার্জশীট চুড়ান্ত
১৪নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২৫ জনকে আসামি করে এই অভিযোগপত্র দেয়া হবে। বুধবার আদালতে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হবে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে। ঢাকার মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, ২৫ জনের নামে চার্জশিট দেয়া হবে। এদের মধ্যে ১১ জন সরাসরি হত্যায় অংশ নেয়। বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যার তদন্ত ও চার্জশিট তৈরির বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করবে ডিবি। দুপুর ১২টায় মিন্টু রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এই সংবাদ সম্মেলন হবে। ডিএমপির গণমাধ্যম শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কাদের নাম চার্জশিটে থাকছে তা জানা যায়নি। প্রসঙ্গত ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় খুন হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে ৫ অক্টোবর শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে শিবিরকর্মী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা। তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা। হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলিট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন। আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ইতিমধ্যে পুলিশ ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। ১৩ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। ৬ জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।-বৈচিত্র নিউজ ২৪
বালিশকাণ্ডে সরকারের ৩৬ কোটি টাকা ক্ষতি
১৪ নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বালিশকাণ্ডে সরকারের ৩৬ কোটি টাকা অপচয় হয়েছে। গণপূর্ত ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ঠ ৩৩ প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পেয়েছে দুদক। অন্যদিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাড়ে ৩৭ লাখ টাকার পর্দাসহ ১৬৬ চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগে বুধবার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দেশের দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এক বালিশের দাম ধরা হয় ছয় হাজার টাকা। এছাড়াও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বৈদ্যুত্যিক চুলা, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন কেনাকাটায় রীতিমত হরিলুটরে অভিযোগ। এমন দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা। সরকারকে আর্থিক ক্ষতিতে লাভবান হয়েছেন ঠিকাদার আর গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। শুধু তাই নয়, দরপত্রের ৮ মাস আগেই আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়। গেল পাঁচদিনে ২৮ জন প্রকৌশলীকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মিললো এসব তথ্য। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনও অনুসন্ধান চলছে। তবে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে তাতে দুর্নীতি সুস্পষ্ট ধারণা বা কি পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে তা ধারণা পাওয়া গেছে। এদিকে, ফরিদপুরে পর্দা কেলেঙ্কারির ঘটনায়ও বুধবার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে দুদক। প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মূল্যে পর্দা কেনার সত্যতাও পেয়েছে দুদকের অনুসন্ধান দল। ফরিদপুর মেডিক্যালে পর্দা ক্রয়ে দুর্নীতির বিষয়ে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, কার কাছ থেকে পর্দা কিনেছে এবং সেখানে কেনাকাটায় অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে কি না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে এবং আগে যেসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে সবগুলো তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন। দুদক বলছে, অনুসন্ধানে দুর্নীতি প্রমাণিত হলে মামলা দায়ের করা হবে।
সংসদে করজোড়ে ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গা
১৪ নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এরশাদের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে মন্তব্য করায় বিষয়ে সব দোষ নিজের ঘাড়ে নিয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে সবার কাছে নিঃশর্তভাবে করজোড়ে ক্ষমা চেয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইফ মশিউর রহমান রাঙ্গা। সাবেক এই স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি যদি কোনোরকমের ভুল করে থাকি তার জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি, নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। আমার কোনো ভুল-ত্রুটি হলে সবাই আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। বুধবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ২৭৪ বিধিতে নিজের কৈফিয়ত দিতে গিয়ে একথা বলেন তিনি। তাদের নিয়ে মন্তব্য করার পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে মঙ্গলবার তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি আসে সংসদ থেকে। কোনো কোনো এমপি তাকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কারও চান। আর জাতীয় পার্টির কয়েকজন সিনিয়র নেতারা বলেন, এটা তাদের দলীয় বক্তব্য নয়। এর প্রেক্ষিতে মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ একটি গণতন্ত্র দিবস পালন নিয়ে আমাদের একটা সংক্ষিপ্ত পরিসরে অনুষ্ঠান ছিল। একই দিনে নূর হোসেন দিবস নিয়ে একটি আলোচনা ছিল। পুরাতন ঢাকা থেকে আমাদের কিছু লোক আসার সময় নূর হোসেন চত্বরে গালাগালি করে। বলা হয়- এরশাদের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে। এই সব কিছু কথাবার্তা শোনার পর আমাদের অফিসে এসে তারা আমাদের বলেন। আমি দলের মহাসচিব হিসেবে তাদেরকে শান্ত থাকতে বলি। তার এ বক্তব্যের সময় সংসদে উপস্থিত অনেক এমপি হৈ-হুল্লড় করতে থাকেন। উত্তেজিত এমপিদের উদ্দেশ্যে রাঙ্গা বলেন, কোন মন্তব্য করার আগে আমারটা শুনুন। এসময় সংসদের সভাপতিত্বে থাকা স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন- মাননীয় সংসদ সদস্য আপনি বলতে থাকুন আপনি বলুন। এরপর রাঙ্গা বলেন, আমাদের সাবেক সিনিয়র মন্ত্রী মহোদয় সংসদে এই নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমার স্থানীয় সরকারের সাবেক সিনিয়র মন্ত্রীও আলোচনা করেছেন মঙ্গলবার সংসদে। আমি মনে করি তারা আমাকে শাসন করেছেন। আমি এটা ভুল করেছি এবং ভুল করার জন্য আমি তার (নুর হোসেন) পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। এমনকি বিবৃতিও দিয়েছি। তিনি বলেন, আমি মন্ত্রী থাকা অবস্থায় সংসদে ৩৭ বার প্রশ্নের জবাব দিয়েছি। সে সময় অসংখ্যবার আমি জাতির পিতাকে নিয়ে কথা বলেছি। এ সময় জয় বাংলা বলেছি। তাই জাতির পিতা নিয়ে আমার যদি কোন রকমের ভুল করে থাকি তার জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি, নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকার আমরা মহাজোটের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করেছি ২০১৪ সালে। আমি মন্ত্রী থাকা অবস্থায় সারাদিনরাত পরিবহন সেক্টর সচল রাখার জন্য কাজ করেছি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে দুর্নীতিবাজ বা সন্ত্রাসবাদ বলিনি। আমি বলেছি এই সময়ে বিশ্বজিৎ হত্যা হয়েছে। তারও বিচার হয়েছে। আমি যেটা বলেছি তাহলে ১৯৯০ সালে পর যখন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসলেন তখন কৃষকদের হত্যা করা হয়েছিল। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছিল সেসময়ের বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা হত্যার জন্য। বিদেশ থেকে সেই সময় অস্ত্র নিয়ে আসা হয়েছি বাংলাদেশে। এই কথাগুলো কিন্তু আমি বলেছি। এর রেকর্ড রয়েছে। এরপরও আমি নিঃস্বার্থভাবে ক্ষমা চাচ্ছি। যদি আমি কোনো ভুল করে থাকি অবশ্যই আমি তাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। সংসদে আমার কলিগ আছেন তারাও এটা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি হয়তো আমার দল ক্ষমতায় আসলেও আমি মন্ত্রী হতে পারতাম না। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রী করেছেন । তিনি আমাকে অনেক ভালোবাসতেন। আমি মনে করি সেই সম্পর্ক উনার সঙ্গে আমার থাকবে। আমি এখানে কাউকে কটাক্ষ করে কিছু বলতে চাই না। সমস্ত দোষ আমার ঘাড়ে নিচ্ছি। আমার হয়তো ভুল ত্রুটি হতে পারে। আমি তিনদিন যাবত জ্বরে ভুগুছি। তাই দুইদিন আমি সংসদে আসতে পারিনি। আমি কালকে সংসদে আসলে কালকেই জবাব দিতে পারতাম। তারপরও আমি বিশ্বাস করি নূর হোসেন মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা গুলি করি কিংবা এরশাদ সাহেব গুলি করে মারুক কিংবা না মারুক এটা তো সত্য তিনি মারা গেছেন। আমি তার পরিবারের কাছে পত্র দিয়েও ক্ষমা চেয়েছি। সুতরাং আমি মনে করি এখানকার মাননীয় মন্ত্রী এমপিরা আমার কোন ভুল ত্রুটি হলে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন যোগ করেন তিনি।-আলোকিত বাংলাদেশ
সরকার সব অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে: প্রধানমন্ত্রী
১৪ নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতিসহ সব ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন,আওয়ামী লীগ সরকার দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে সব ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আজ বুধবার সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, সারাদেশে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থসম্পদ অর্জনের সাথে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২সহ অন্যান্য প্রযোজ্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতির সাথে যেই জড়িত থাকুক না কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ যাতে কেউ করতে না পারে সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের জনগণের কল্যাণে এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের পাশাপাশি ক্যাসিনো, জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। দুর্নীতি দমনে সরকারের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও কাজ করছে। তিনি বলেন, বিগত ১০ বছরে দুর্নীতি দমন কমিশন ১৩ হাজার ২৩৮টি অনুসন্ধান, ৩ হাজার ৬১৭টি মামলা রুজু এবং ৫ হাজার ১৭৯টি চার্জশিট দাখিল করেছে। ২০১৯ সালে এ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন ১৬টি ফাঁদ মামলায় ৬৮ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এ ছাড়া কারা কারা অভিজাত গাড়ি ক্রয় করেছে, সে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন আজ
১৩নভেম্বর,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নন্দিত কথাসাহিত্যিক কলম জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের আজ ৭১তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। টিভিতেও প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। গতকাল রাত ১২টা ১ মিনিটে হুমায়ূন আহমেদের বাসা দখিন হাওয়ায় কেক কাটেন পরিবারের সদস্যরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরাও আজ লেখকের প্রিয় নুহাশ পল্লীতে ভিড় জমাবে। তাদের জন্যও সেখানে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল রাতেই হুমায়ূনের কবর আর নুহাশ পল্লীতে মোমবাতি জ্বালানো হয়। আজ সকালে ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন কবর জিয়ারত করবেন বলে জানা গেছে। এদিকে হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে হুমায়ূন মেলা। আজ বেলা ১১টায় হিমুপ্রেমীরা উপস্থিত থেকে হলুদ বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করবেন। উপস্থিত থাকবেন হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন অঙ্গনে তার ভক্তরা। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনরা লেখকের স্মরণে স্মৃতিকথা বলবেন। পাশাপাশি নৃত্য পরিবেশন করবেন চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ে ও অন্য নৃত্যশিল্পীরা। মেলার স্টলগুলোতে থাকবে হুমায়ূন আহমেদের বই, তার নির্মিত চলচ্চিত্র ও নাটকের ভিডিও সিডি। মেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল আই ও রেডিও ভূমি। হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান। তবে বাংলা সাহিত্যের এ বরপুত্র অছেন এবং থাকবেন তার ধ্রুপদী সাহিত্যের মাধ্যমে। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে প্রকাশের পর পরই হুমায়ূন আহমেদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। উপন্যাসে ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে হিমু, মিসির আলী, শুভ্র তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়। নব্বই দশকের মাঝামাঝি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে লেখালেখিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেন। তার লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে-নন্দিত নরকে, লীলাবতী, কবি, শঙ্খনীল কারাগার, গৌরিপুর জংশন, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, দারুচিনি দ্বীপ, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলোও দর্শকনন্দিত-আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা এবং নয় নম্বর বিপদ সংকেত। তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ঘেটুপুত্র কমলাও জয় করেছে দর্শক ও সমালোচকদের মন। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক একুশে পদক লাভ করেন হুমায়ূন আহমেদ। এ ছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেন। দেশের বাইরেও তাকে নিয়ে ১৫ মিনিটের তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছে হু ইজ হু ইন এশিয়া।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পাবে সোয়া ১ লাখ টাকা
১২নভেম্বর,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় রেল দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক পরিবার সোয়া এক লাখ টাকা করে পাবে। এর মধ্যে এক লাখ টাকা দেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন দেবে ২৫ হাজার টাকা। মঙ্গলবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিহত প্রত্যেক পরিবারকে এক লাখ টাকা দেওয়া হবে। আর আহত প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। মঙ্গলবার ভোর রাতে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন তুর্ণা নিশিতা এবং সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে শতাধিক নারী-পুরুষ আহত হন। প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৬ জন। আহত হয়েছেন শতাধিক। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
ট্রেন দুর্ঘটনায় ৫ তদন্ত কমিটি, চালকসহ ৩ জন বরখাস্ত
১২নভেম্বর,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের চালককসহ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা তদন্তে রেলের পক্ষ থেকে মোট চারটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দবাগ রেল ক্রসিংয়ে উদয়ন এক্সপ্রেস ও আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথার মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে আখাউড়া রেলওয়ে পুলিশের ওসি শ্যামলকান্তি দাশ জানান। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং পরে হাসপাতালে আরো ছয়জন মারা যায়। অর্ধশতাধিক আহত কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের লোকোমাস্টার তাহের উদ্দিন, সহকারী লোকো মাস্টার অপু দে ও গার্ড আবদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা মনে করছি, ড্রাইভারের অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারপরও রেল মন্ত্রণালয় থেকে একটি রেলওয়ে থেকে তিনটি এবং জনপ্রশাসন থেকে একটিসহ মোট পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। দুর্ঘটনার বিষয়ে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মিয়া জাহান বলেন, সিলেট থেকে ছেড়ে উদয়ন এক্সপ্রেস যাচ্ছিল চট্টগ্রামে, আর তূর্ণা নিশীথা চট্টগ্রাম থেকে যাচ্ছিল ঢাকায়। মন্দবাগে দুই ট্রেনের ক্রসিংয়ের সময় সিগন্যাল পেয়ে উদয়ন মেইন লাইন থেকে লুপ লাইনে প্রবেশ করছিল। ট্রেনের নয়টি বগি লুপ লাইনে চলে যাওয়ার পর দশম বগিতে আঘাত করে তূর্ণা নিশীথা। ওই ট্রেনের লোকোমাস্টার (চালক) সিগন্যাল অমান্য করায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি।
ট্রেন দুর্ঘটনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
১২নভেম্বর,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি দুর্ঘটনায় আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান। অপর এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্ঘটনায় নিহতদের রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি দুর্ঘটনায় আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তুর্না নীশিতা ট্রেনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রামের সঙ্গে সিলেট ও ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর