বিএনপি অংশ না নিলেও আগামী নির্বাচন সময়মতই হবে
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি অংশ না নিলেও আগামী নির্বাচন সময়মতই হবে। রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে কারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, 'বিএনপি মনে করেছে এবারও তারা ইলেকশনে (নির্বাচন) না গেলে আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফাঁদ তৈরি হবে। আর এটা যদি তারা ভেবে থাকেন তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। এবারের নির্বাচনে অনেকে আসবেই। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইলেকশন (নির্বাচন) এবার হবে না।' তিনি আরও বলেন, 'কী রায় হবে তার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আদালতকে হুমকি দিচ্ছেন। এটা তারা পারে না। তার মানে তারা আদালত অবমাননা করেছে। এটারও আদালতের নজরে আসা উচিত।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভূমিকা রাখবে আন্দোনেশিয়া
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার জোট- আসিয়ান এর ক্ষমতাশালী রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের বাংলাদেশ সফর, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি। এ সময়, দু'দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক ৫টি সমঝোতা সই হয়। এর আগে, জোকো উইদোদো সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। পরে, ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরও পরিদর্শন করেন তিনি। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ও তাদের বাস্তুচ্যুত জীবনধারণ নিজ চোখে দেখতে বাংলাদেশ সফররত ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো, রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসেন। এ সময় উইদোদো'কে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সূচি অনুযায়ী বেলা ১০টায় একান্ত বৈঠকে বসেন দুই নেতা। দ্বিপক্ষীয় নানা ইস্যু ছাড়াও, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলেন তারা। এরপর, শেখ হাসিনা ও উইদোদো নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ-জ্বালানি এবং মৎস্য সম্পদ আহরণ সংক্রান্ত ইস্যুতে সমঝোতা করার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে দুই নেতার উপস্থিতিতে ৫টি সমঝোতা ও সম্মতিপত্রে সই করেন দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা। অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি করতে সম্মতিপত্র, সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে যৌথ সম্মতিপত্র এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণসহ এলএনজি আমদানি ও গ্যাস খাতের অবকাঠামো উন্নয়নেও সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন দুদেশের প্রতিনিধিরা। পরে ব্রিফিং এ পররাষ্ট্র সচিব জানান- জোকো উইদোদো'র এই সফর মিয়ানমারের জন্য নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কারণ হবে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, 'এই বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে এগিয়ে নেয়ার জন্যে দুই দেশ 'পিটিএফ' করবে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে শান্তিপূর্ণ রেজুলেশন করার পক্ষে মত দিয়েছেন। আসিয়ান ভুক্ত দেশের সরকার প্রধান বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ার বিষয়টি অনেক বড় ইস্যু' এর আগে, ধানমন্ডিতে জাতির পিতার স্মৃতি বিজড়িত বঙ্গবন্ধু ভবনে শ্রদ্ধা জানান উইদোদো। ফার্স্ট লেডি ইরিয়ানা জোকোকে নিয়ে পরিদর্শন করেন পুরো ভবনটি। দিনের শুরুতেই সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানান জোকো উইদোদো। তিন দিনের সফর শেষে সোমবার তার ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।
৫টি সহযোগিতামূলক চুক্তি সই
ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতামূলক পাঁচটি চুক্তি সই হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে দশটায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এসব চুক্তি সই হয়। সই হওয়া সমঝোতাগুলোর মধ্যে উভয় দেশ সমুদ্র সম্পদের ক্ষেত্রে পরস্পরকে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে এতে সই করেন মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী। এ ছাড়া দুদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত সমঝোতায় সই করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এর আগে সকাল ১০টার কিছু আগে সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রায় কড়া নিরাপত্তায় উইদোদো পৌঁছান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর একান্ত বৈঠকে বসেন দুই নেতা। দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যু ছাড়াও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলেন তারা। পরে বৈঠক ও সমঝোতা সইয়ের বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। এ সময় ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের এ সফর মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রনে বঙ্গভবন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এর দেয়া নৈশভোজে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে যাচ্ছেন। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে তার সম্মানে রাষ্ট্রপতি এই নৈশভোজের আয়োজন করেছেন। বঙ্গভবন সূত্র জানায়, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ সময় দুদেশের রাষ্ট্রপ্রধান শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এর পর তাকে নেয়া হবে বঙ্গভবনের দরবার হলে নৈশভোজে অংশ নেয়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্র জানায়, রোববার ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ইন্দোনশেয়িার রাষ্ট্রপতিকে টাইগার গেটে অভ্যর্থনা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে রাষ্ট্রপতি ভিজিটর বুকে স্বাক্ষর করবেন। সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শিমুল হলে দুই নেতা মুখোমুখি হবেন। সেখানে তারা উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। এরপর করবী হলে কয়েকটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
আন্দোলনের ঝড় বাংলার জনগণ রুখে দেবে
নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে বিএনপির আন্দোলনের ঝড় যদি পেট্রোল বোমা মেরে গণহত্যা হয়, তাহলে এই ঝড় বাংলার জনগণ রুখে দেবে। শুক্রবার মাদারীপুর শহরের বাদামতলায় অনুভব বহুমুখী সমবায় সমিতির আয়োজনে কৃতি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বক্তৃতাকালে এই মন্তব্য করেন। নৌপরিবহন মন্ত্রী আরো বলেন, বিশে^র বিভিন্ন দেশে বড় বড় ক্ষমতাশালী ব্যক্তির নামে মামলা হয়েছে, তাদের সাজাও হয়েছে। এতে এসকল দেশের কেউ আন্দোলন করেনি। অথচ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সাজা হলে তারা মেনে নিবেনা বলছে। তিনি বলেন, বিএনপি মুখে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখায়, তারা আইনের শাসন চায়, কিন্তু আইন যদি তাদের বিপক্ষে যায়, তাহলে সেটা মানবেনা-এটা হতে পারেনা। শাজাহান খান আরো বলেন, ২০১৫ সালে পেট্টোল বোমা মেরে জ্বালাও-পোড়াও করে বিএনপি কোন ফল পায়নি, তেমনি খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়েও বিএনপির আন্দোলন ফলপ্রসূ হবে না। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, অনুভব বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি ও সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ^বিদ্যালয় কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হিতেন চন্দ্র মন্ডল, সাবেক পৌর মেয়র নুর-ই-আলম বাবু চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খান, পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদসহ অন্যরা।
সরকার ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি
খালেদার মামলার রায় নিয়ে উত্তেজনা। সরকার ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি আদালতের রায় বিপক্ষে যাওয়ার আশঙ্কায় কর্মসূচী ঠিক করতে আজ রাতে বিএনপির স্থায়ী আদালতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। রায়ের দিন ধার্য হওয়ায় এরই মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সরকার ও সাবেক বিরোধী দল বিএনপির নেতৃবৃন্দ। আজ রাতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরী বৈঠক ডেকেছেন দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। আদালতের রায় বিপক্ষে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা দৃশ্যমান হওয়ায় বিশৃঙ্খলা বা ধংসাত্মক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বেশ কয়েকজন নেতার পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে গরম হচ্ছে রাজনীতির মাঠ। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া আরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করবে ঢাকার পঞ্চম জজ আদালত। বিএনপি-জামায়াত জোটের ২০০১-০৬ মেয়াদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের এ মামলার প্রধান আসামি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ মামলায় খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদ- হতে পারে। সেক্ষেত্রে তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার অযোগ্য হয়ে পড়বেন। এ অবস্থায় নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিয়েই উদ্বেগ বাড়ছে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের মাঝে। করণীয় নির্ধারণে এরই মধ্যে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠক ডেকেছেন দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। আজ রাতে রাজধানীর গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান। বৈঠকে খালেদা জিয়ার মামলা এবং মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে দলের নেতাকর্মীদের করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে দলটির সূত্রগুলো। একইসঙ্গে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নানা বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য। বিএনপির দাবি, ক্ষমতাসীনরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে অন্তঃসারশূন্য এই মামলাকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের চেয়ারপার্সনকে সাজা দেয়ার বিষয়টি সরকার আগেই ঠিক করে রেখেছে। বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন করতে চায় সরকার। তাই তড়িঘড়ি করে খালেদা জিয়ার মামলার রায় দেয়া হচ্ছে। শুক্রবার প্রয়াত কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বর্তমান সরকার আট-নয় বছর ধরে আছে। জোর করে ক্ষমতায় থেকে প্রতিটি মুহূর্ত, সময়, দিন, ক্ষণে তারা হুমকি দিয়েছেন। শক্তি ও বলপ্রয়োগ করেছেন। ভিন্নমত পোষণকারী কাউকেই তারা সুযোগ দিতে রাজি নয়। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় গুলশানের কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরী বৈঠক ডেকেছেন ম্যাডাম। খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে বিএনপি কোন নির্বাচনে যাবে না। একই সঙ্গে খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন নির্বাচনও করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন রিজভী। শুক্রবার ফেনীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন তিনি। রিজভী আরও বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে বিচারক যদি মামলার রায় এজলাস ছাড়া অন্য কোন পন্থায় করে থাকে সেটি রাজনৈতিকভাবে ও আইনীভাবে মোকাবেলা করা হবে। সরকারের অশুভ কোন ইচ্ছা পূরণ হতে দেয়া হবে না। শেখ হাসিনাকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান রেখে একতরফা নির্বাচনের চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, তাদের চেয়ারপার্সনের মামলায় নেতিবাচক কোন রায় হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামআয়োজিত এক আলোচনা সভায় গয়েশ্বর রায় আরও বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি যেটা আমরা আশঙ্কা করছি, সেদিন নেতিবাচক কোন সিদ্ধান্ত সরকার কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে যদি আদালত থেকে প্রকাশ পায়, তাহলে আমার মনে হয়, তখন থেকে এই সরকারের পতনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হবে। ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে এই বিএনপি নেতা বলেন, সময় বলে দেবে কে নেতৃত্ব দেবে, আর কে রাজপথে থাকবে। সরকারকে বলব, জেলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা তো খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৃহত্তর কারাগারেই আছি। আমরা সবাই খালেদা জিয়ার জেল পার্টনার। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু করার ঘোষণা দিই বা না দিই, এমন কিছু যে ঘটবে না- সে নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারি না। আদালতের রায়কে ঘিরে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে বলছেন সরকার দলীয় নেতারা। বিএনপির বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ তুলেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা চালানোর ষড়যন্ত্র করছে। অতীতে অনেক ষড়যন্ত্র করেছে, অনেক মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এরপরও তারা সফল হতে পারেনি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ তাদের এই অপকর্মের জবাব দেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কার্যালয় ভাংচুরের ঘটনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়া-আসার পথে ঘটনা, মির্জা ফখরুলের মিথ্যাচার সবকিছু একইসূত্রে গাথা বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, যারা প্রথমে ঢাবি ভিসির কার্যালয় ঘেরাও করল, ভিসিকে অপদস্থ করল, ভিসিকে গালাগাল দিল এবং তার কার্যালয়ের তিনটি গেট ভাংচুর করল, ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের লাঞ্ছিত করেছিল তাদের অপরাধ সবচেয়ে বেশি। পরবর্তী ঘটনা প্রবাহসহ পুরো ঘটনাটি অনভিপ্রেত। হাছান মাহমুদ বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আরাফাত রহমান কোকোর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে যেই ভাষায় কথা বলেছেন, আমি আর তাকে ভদ্রলোক বলতে পারি না। তিনি ভদ্রলোকের বেশ ধরে যে শব্দগুলো উচ্চারণ করেছেন আমি সেই শব্দগুলো এখানে উচ্চারণ করতে পারছি না। বিএনপি মহাসচিবের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আপনি ভদ্রলোক ছিলেন দিন দিন কেন অভদ্র হয়ে যাচ্ছেন? বাংলাদেশের আদালত স্বাধীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব আদালত স্বাধীন বিধায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচিত এমপি কারাগারে আছে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের আদালতে হাজিরা দিতে হয়। এমনকি মন্ত্রীদের আদালতে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়। বাংলাদেশের আদালত স্বাধীন। খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে দেশে আবার কোন জ্বালাও-পোড়াও হলে তাতে বিএনপিই পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন আদালত স্বাধীন ছিল না বলেই বিএনপি নেতারা মনে করেন, সরকারের ইচ্ছায় রায় হয়। তারা মনে করেন, তাদের সময়ে আদালত যেভাবে কাজ করত, এখনও মনে হয় আদালত সেভাবেই কাজ করে। এখন আদালত স্বাধীন। খালেদা জিয়া হয়ত খালাসও পেতে পারেন। এদিকে রায়কে ঘিরে বিশৃঙ্খলা বা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শুক্রবার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। রায়ের পর কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান। অপরাধ যে-ই করুক না কেন তার শাস্তি হবে। একই বিষয়ে কথা বলেছেন বর্তমান আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকও। মিরপুরে শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রায় আদালত দেবে। আদালত কারও পক্ষে বা বিপক্ষে রায় দেয় না। এতদিন যে সাক্ষী প্রমাণ হাজির করা হয়েছে সে ভিত্তিতেই রায় হবে। রায় যাই হোক তা আমাদের সবার মেনে নেয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, রায় কেউ না মানলে তারা উচ্চ আদালতে যেতে পারেন। এ বিষয়ে আইনী প্রক্রিয়া আছে। সেটা মেনে চলা উচিত। বিএনপি দায়িত্বশীল একটি দল। রায় তারা মেনে নিতে না পারলে আইনী প্রক্রিয়ায় যাবে। কিন্তু দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয় এমন কিছু তারা করবে না এটা আমার বিশ্বাস। তারপরও আমাদের প্রস্তুতি থাকবে। কেউ যদি পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চায় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ৫ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১০ ফেব্রুয়ারি। ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। মনোনয়নপত্র দাখিল, পরীক্ষা, প্রত্যাহারসহ ভোটের আগের কার্যক্রম হবে নির্বাচন কমিশনে। একাধিক প্রার্থী থাকলে ১৮ ফেব্রুয়ারি বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের সদস্যরা নির্বাচনে ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী হলে ভোটের প্রয়োজন হবে না। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট হবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীরা সমান ভোট পেলে লটারি হবে। নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সিইসি জানান, এই নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর প্রস্তাবক ও সমর্থক কেবল জাতীয় সংসদ সদস্যরাই হতে পারবেন। দুজন সংসদ সদস্যের মৃত্যুর কারণে এ নির্বাচনে ভোট দেবেন সংসদের ৩৪৮ জন সদস্য। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হবে এ বছরের ২৩ এপ্রিল। আইন অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারি (বুধবার) থেকে শুরু হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষণগণনা। ওই দিন থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ ২৩ এপ্রিল শেষ হবে। আর সংবিধান অনুযায়ী মেয়াদ অবসানে পূর্ববর্তী ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে উক্ত পদ শূন্য হলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী ৯০ হতে ৬০ দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। আগামী ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। তবে কোন দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে সিইসি তা নির্দিষ্ট করে না বললেও ইতোমধ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন ১৯ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, ইসি থেকেই ভোটগ্রহণের দিন তাকে জানানো হয়েছে। এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে ইসি। বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতীয় সংসদের স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। এ সময় তাকে রাষ্ট্রপ্রতি নির্বাচনে ভোটারদের তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে। এর আগে নির্বাচন কমিশন থেকে ভোটার তালিকা চেয়ে স্পীকারের কাছে চিঠি দেয় হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। সেই অনুযায়ী এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটার ৩৪৮ জন। তবে নির্বাচনে একমাত্র প্রার্থী হলে সেক্ষেত্রে ভোট দেয়ার প্রয়োজন নেই। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে একজন মাত্র প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে এখনও কারও নাম চূড়ান্ত করা না হলেও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদই যে দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছে তা অনেকটাই নিশ্চিত। অবশ্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বুধবার বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি। মনোনয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে কাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়া হবে। এটা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারক যারা তারা নিশ্চয়ই বসবেন, মনোনয়ন দেবেন। এটার ব্যাপারেও কিন্তু একটা পদ্ধতি আছে। সে পদ্ধতি অনুসরণ করেই কিন্তু আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করবে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৩ এপ্রিল। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। রাষ্ট্রপ্রতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি এ পদে নির্বাচিত হন। তাঁর ৫ বছরের মেয়াদের শেষ দিন আগামী ২৩ এপ্রিল। সংবিধান অনুযায়ী মেয়াদ শেষে পূর্ববর্তী ৯০ দিন থেকে ৬০ দিনের মধ্যে যে ৩০ দিন এই ৩০ দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়সীমা সম্পর্কে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ অবসানের কারণে উক্ত পদ শূন্য হইলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী নব্বই হইতে ষাট দিনের মধ্যে শূন্যপদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে। এ হিসাবে বুধবার ২৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। আইনী বাধ্যবাধকতা মেনে আজ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করবে ইসি। এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এদিকে জাতীয় সংসদ ভবনের স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাত করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। আইন অনুযায়ী তারা স্পীকারের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। নির্বাচনের জন্য কমিশন সংসদ সচিবালয় এবং সংসদের কী ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা পেতে পারে তা নির্ধারিত আছে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তারা এসেছিলেন উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনগত বাধ্যবাধকতার একটা অংশ হিসেবে স্পীকারের সঙ্গে দেখা করেছি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনগতভাবে স্পীকারের কিছু নির্দেশনা থাকে, সেটা নিয়েছি। তিনি বলেন, নির্বাচনের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে আগামী ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজকে কমিশনের বৈঠকে শিডিউল চূড়ান্ত হবে। সেটা সংসদ সচিবালয়কে জানিয়ে দেয়া হবে। সিইসির সঙ্গে বৈঠকের পর স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সংসদ অধিবেশন চলাকালে যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়, তাহলে স্পীকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন বৈঠক করে। এর জন্য মঙ্গলবার কমিশন থেকে আমাকে চিঠি দিয়ে সময় চাওয়া হয়েছিল। সে আলোকে বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ একটি প্রতিনিধি দল দেখা করেন। বৈঠকে ইসির প্রস্তাবিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনসহ এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে ৩৪৮ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। এই ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছি। এই সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মোঃ আবদুল হামিদ। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসেবে আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি। বাংলাদেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারবেন। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনের সপ্তম ধারায় বলা হয়েছে- নির্বাচনী কর্মকর্তা নির্ধারিত দিন, সময় ও স্থানে মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করবেন। প্রার্থী একজন হলে এবং পরীক্ষায় তার মনোনয়নপত্র বৈধ বিবেচিত হলে কমিশন তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করবে। তবে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে নির্বাচনের জন্য তাদের নাম ঘোষণা করবে ইসি। সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় একবারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। আইন অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তা ভোটের আয়োজন করবেন। নির্ধারিত ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে নিজের সই দিয়ে তা জমা দেবেন সাংসদরা। ভোটের দিন গ্যালারিসহ সংসদ কক্ষে প্রার্থী, ভোটার, ভোট নেয়ায় সহায়তাকারী কর্মকর্তা ছাড়া সবার প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত থাকবে। ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করবেন। সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্তকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর সমান ভোট পেলে প্রার্থীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে।
জ্যাকব টাওয়ার পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ একুশ শতকের অগ্রসর ও উন্নত দেশ নির্মাণে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাসমূহ খুঁজে বের করে তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সকলকে বিশেষ করে জনপ্রতিনিধি, উদ্যোক্তা, সরকারি কর্মচারী এবং স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার বিকেলে এখানে চরফ্যাসন সরকারি টি বি হাইস্কুল মাঠে এক জনসভায় ভাষণদানকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল তবে এই সম্ভাবনা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে,... দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য এই সম্ভাবনা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নয়ন একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া এবং কেউ উন্নয়নের গতি এনে দিতে পারে না, বিভিন্ন উপায়ে তা অর্জন করতে হয়। তিনি অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে এগিয়ে যেতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। এই ছোট ভূখন্ডে দেশের ১৭ কোটি জনসংখ্যাকে বিপুল মানবসম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি এই বিপুল জনসংখ্যা দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা না যায় তাহলে দেশের সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যাবে। আবদুল হামিদ স্থানীয় পেশাজীবী, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, তাদের জনস্বার্থের প্রতি অগ্রাধিকার দিতে এবং নিজ নিজ দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রপতি তাদের উপদেশ দিয়ে বলেন, মনে রাখবেন সরকারের ভাবমূর্তি, সাফল্য এবং ব্যর্থতা সম্পূর্ণ আপনাদের আচরণ এবং দায়িত্বশীলতার ওপর নির্ভর করছে। এ জন্য জনগণের সেবক হিসেবে আপনাদের সেবার মানে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তিনি সরকারের সেবা কেন্দ্রগুলোকে জনগণের সমস্যা সমাধান কেন্দ্রে পরিণত করার নির্দেশ দেন। শিক্ষাকে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিশুদের দক্ষ ও সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে সময়োপযোগী শিক্ষাদানে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। চরফ্যাশনের চমৎকার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অবকাঠামো, সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, নদী সংরক্ষণ, অফিস-আদালতসহ অনেক এলাকায় সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে। এখানে পর্যটনের অত্যন্ত উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বেসরকারি উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় লোকদের এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি ১৮তলা বিশিষ্ট ২২০ ফুট উচ্চতার সমান টাওয়ার নির্মাণকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন, টাওয়ারটি দেশী ও বিদেশী পর্যটক আকর্ষণে অবদান রাখবে। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উঁচু ও আধুনিক এই জ্যাকব টাওয়ার বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি, আফজাল হোসেন এমপি, আলী আজম মুকুল এমপি, চরফ্যাশন সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল কায়সার আহমেদ দুলাল, নুরুননবী চৌধুরী শাওন এমপি এবং চরফ্যাশন মিউনিসিপ্যালিটির মেয়র শ্রী বাদল কৃষ্ণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এরআগে, রাষ্ট্রপতি এখানে ৪টি স্থাপনা- প্রিন্সিপাল নজরুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজ, বেগম রহিমা ইসলাম ডিগ্রী কলেজ, নজরুল ইসলাম টিচারস ট্রেনিং কলেজ এবং রসুলপুর-আওয়াজপুর মৈত্রী সেতু উদ্বোধন করেন। রাষ্ট্রপতি দুদিনের ভোলা সফরে কাল দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে এখানে পৌঁছান। রাষ্ট্রপতি আজ বিকেলে ঢাকায় ফিরবেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর