বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০
তথ্য অধিকার আইন স্বাধীনতা ও সংবিধানের মূল চেতনার প্রতিফলন: প্রধান তথ্য কমিশনার
২২জানুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ বলেছেন, তথ্য অধিকার আইন আমাদের মহান স্বাধীনতা ও সংবিধানের মূল চেতনার প্রতিফলন। তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং তথ্যে জনগণের প্রবেশ অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি যুগান্তকারী ঘটনা। জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা হলে সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারি ও বিদেশি অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারি সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, দুর্নীতি হ্রাস পাবে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান। তিনি আজ বুধবার দুপুরে মাগুরা আছাদুজ্জামান মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন ও তথ্য কমিশন আয়োজিত তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ ও তথ্য অধিকার সংক্রান্ত অনলাইন ট্রাকিংবিষয়ক জনঅবহিতকরণ সভায় এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য কমিশনের পরিচালক (প্রশাসন) জেআর শাহরিয়ার, পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, জেলা পরিষদ চেয়ার পঙ্কজ কুন্ডু, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসির বাবলু প্রমুখ। প্রধান তথ্য কমিশনার আরো বলেন, সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে আলোকে তথ্য অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ বছর অনলাইন ট্রাকিং সিস্টেম প্রর্বতন করে মডেল ডিজাইন করা হয়েছে। সংবিধানে বলা হয়েছে, জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস। সেখানে জনগণ কর্তৃপক্ষের পেছনে সেবার জন্য দৌড়বে না। দু-একটি ব্যতীত সব তথ্য জনগণকে দিতে হবে। পরে তিনি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ ও তথ্য অধিকার সংক্রান্ত অনলাইন ট্রাকিংবিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন। প্রশিক্ষণে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি শিক্ষক, সাংবাদিকসহ ৬০ জন অংশ নেন।
ই-পাসপোর্ট মুজিববর্ষের প্রথম উপহার : প্রধানমন্ত্রী
২২জানুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগের উপর আস্থা রেখে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সেবা করার সুযোগ দেয়ায় দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট চালু করতে সক্ষম হয়েছে। মুজিববর্ষের প্রথম উপহার ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট)। আজ বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন সেবাকে যুগোপযোগী করতে ই-পাসপোর্ট প্রদান শুরু করলাম। ই-পাসপোর্টের সঙ্গে ই-গেটও সংযোজিত হচ্ছে। ই-পাসপোর্ট ও ই-গেট সংযোজিত হলে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট সেবা সহজ, স্বাচ্ছন্দময় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের হাতে ই-পাসপোর্ট পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে জাতির পিতার সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করলো। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সব উদ্যোগকে ডিজিটাল কার্যক্রমে রূপান্তরিত করেছে। দেশের অভ্যন্তরে ৬৪টি জেলায় ৬৯টি পাসপোর্ট অফিস, ৩৩টি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, বিদেশস্থ ৭৫টি বাংলাদেশ মিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইং-এর মাধ্যমে পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই প্রথম ই-পাসপোর্ট চালু হচ্ছে। এ জন্য হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছয়টি ই-গেট স্থাপন করা হয়েছে। তিনটি বিদেশ থেকে আগতরা ব্যবহার করবেন আর বাকি তিনটি যারা বিদেশে যাবেন তাদের জন্য। এখন থেকে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন সবাই। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা পাসপোর্ট অফিসে এই কার্যক্রম চলবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কেন্দ্র থেকেই ই-পাসপোর্ট সরবরাহ করা হবে। জানা গেছে, প্রতিদিন পাসপোর্টের বই প্রয়োজন দুই লাখ। আমদানি হচ্ছে এক লাখ ৮০ হাজার। প্রতি মাসে ২০ হাজার বই সরবরাহে ঘাটতি থাকে। এভাবে গত কয়েক মাসে দুই লক্ষাধিক পাসপোর্ট সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তিন লাখ পাসপোর্টের আবেদন ঝুলে আছে।
এস কে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ
২২জানুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির প্রকাশের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলাটি শুনানির জন্য আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আজ বুধবার ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট জিআর শাখার কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। বাকি আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম শামীম, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, ব্যাংকের নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ও সাবেক ক্রেডিট প্রধান গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক জিয়া উদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী শাহজাহান, একই জেলার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, সান্ত্রী রায় ওরফে সিমি ও তার স্বামী রণজিৎ চন্দ্র সাহা। গত ৯ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত বছরের ১০ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সাবেক প্রধান বিচারপতির ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা লেনদেনের ঘটনায় জালিয়াতি প্রমাণের কথা জানিয়েছিলেন দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। এ ঘটনায় ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি কেএম শামীমসহ ছয় কর্মকর্তা এবং শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা স্থানান্তরের বিষয়টি স্বীকার করেন।
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে সম্রাট
২২জানুয়ারী,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, গত বছর ৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামে আত্মগোপনে থাকা সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ওই দিনই সম্রাটের কার্যালয় রাজধানীর কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে অভিযান চালায় Rab। উদ্ধার করা হয় এক হাজার পিস ইয়াবা ও সংরক্ষণের আড়াই হাজার জিপার প্যাকেট। সম্রাটের কক্ষে একটি লাগেজ থেকে ১৯ বোতল মদ, একটি বিদেশি পিস্তল এবং পাঁচ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়। পাওয়া যায় বণ্য পশুর চামড়া। ওই দিন সন্ধ্যায় Rab-1-এর ডিএডি আবদুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া তাকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় Rab এর ভ্রাম্যমাণ আদালত।- একুশে টেলিভিশন
বিজিএমইএ ভবন ভাঙা শুরু
২২জানুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা বাংলাদেশ তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভবন ভাঙার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ বুধবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনটি ভাঙার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। এসময় আরও উপস্থিত ছিল রাজউক, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল। জানা গেছে, ভবন ভাঙার কার্যক্রম পরিচালনা এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে দুটি টিম গঠন করা হয়েছে। যারা বিজিএমইএ ভবন ভাঙায় কাজ সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবেন। এছাড়া সার্বক্ষণিক তদারকি কমিটিতে রয়েছে- হাতিরঝিল প্রকল্প পরিচালক, হাতিরঝিল প্রকল্প কর্মকর্তা (সেনাবাহিনী, ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড) এবং হাতিরঝিল প্রকল্প ব্যবস্থাপক। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ফোর স্টার গ্রুপ এককোটি দুই লাখ টাকায় ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করে। এটি ভাঙা হচ্ছে সনাতন পদ্ধতিতে। এর আগে বিজিএমইএ ভবন ভাঙা নিয়ে বেশ কয়েকবার জটিলতা দেখা দেয়। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ভবনটি ভাঙার দরপত্র আহ্বানের পর সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ভবনটি ভাঙতে কাজ পায় সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের দরপত্র ছিল এক কোটি ৭০ লাখ টাকার। সে অনুযায়ী তাদের কার্যাদেশও দেয়া হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভবন ভাঙার কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ায় সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্স। শেষ মুহূর্তে সরে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ১০ শতাংশ হারে টাকা কেটে নিয়েছে রাজউক।
কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যু সত্যিই অত্যন্ত কষ্টের, বেদনার :প্রধানমন্ত্রী
২১জানুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, সত্যিই আমাদের দুর্ভাগ্য, মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে আমাদের বর্তমান সংসদের চারজন সংসদ সদস্য মারা গেলেন। মানুষ জন্ম নিলে মৃত্যু অবধারিত। কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যু সত্যিই অত্যন্ত কষ্টের, বেদনার। প্রয়াত সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দেশপ্রেম ছিলো অসামান্য। হঠাৎ করেই এতো তাড়াতাড়ি তিনি এভাবে চলে যাবেন তা কখনো ভাবতেও পারিনি। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, এবারের সংসদের দুর্ভাগ্য পরপর চারজন সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকার, ডা. মোজাম্মেল হক, আবদুল মান্নান এবং সর্বশেষ ইসমাত আরা সাদেক মারা গেলেন। তিনি (ইসমাত আরা) অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সব কাজ করতেন। শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, সরকারি দলের কাজী নাবিল আহমেদ, ওয়াশিকা আয়েশা খান, আকম সারোয়ার জাহান, ও জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান। আলোচনা শেষে শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়। পরে প্রয়াত সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের রুহের মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন এবং মোনাজাত শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদের বাকি কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংসদের অধিবেশন আজ বুধবার বিকাল সোয়া চারটা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার। আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জন্ম নিলে মৃত্যু অবধারিত। কিন্তু সেই মৃত্যু এমন সময় হয়, সেটা সত্যি খুব কষ্টকর। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী সাদেকের মৃত্যুর পর মিসেস সাদেককে যখন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুরোধ করলাম, তখন প্রথমে তিনি ঘাবড়ে গিয়ে বলেছিলেন, আমি এটা করতে পারবো? আমি বলেছিলাম- আপনি পারবেন। ওই নির্বাচন করে জিতে আসার পর প্রথমে তাঁকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিলাম। তখন প্রয়াত ইসমাত আরা সাদেক বললেন, আমি তো কখনো এভাবে অফিস চালাইনি, কখনো কিছু করিনি, আমি তো গৃহিনী ছিলাম। আমি কীভাবে করবো? আমি বলেছিলাম, যেহেতু আপনি শিক্ষিত মহিলা, আমি আছি আপনার সঙ্গে, কোন চিন্তা নেই। যখন যা দরকার হবে আপনি বলবেন, আর আপনি পারবেন এটা আমার বিশ্বাস আছে। এরপর প্রতিটি কাজ অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সততার সঙ্গে করে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ইসমাত আরা সাদেককে জনপ্রশাসনের দায়িত্ব দিলাম। তখনও তিনি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলেন। প্রতি সপ্তাহে তাঁর সঙ্গে বসতাম। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি কাজ করতেন। প্রতিটি কাজে তাঁর সততা ও একাগ্রতা ছিল অসামান্য। তিনি বলেন, মাত্র এক সপ্তাহ আগে আমার সঙ্গে দেখা করে মিসেস সাদেক আমাকে বললেন- শরীরটা খুব খারাপ। অপারেশন করতে হবে। তখন তাঁকে পরামর্শ দিয়ে বলেছিলাম- অপারেশনের আগে দ্বিতীয় অভিমত নিন। অনেকক্ষণ কথা হলো। কিন্তু উনি আজ আর নেই। কেশবপুরের উন্নয়নে উনি অনেক কাজ করে গেছেন। উনাকে কষ্ট বা ভুগতে হলো না। কিন্তু তিনি এতো তাড়াতাড়ি চলে যাবেন ভাবতেও পারিনি। সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইসমাত আরা সাদেক অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন। তাঁর স্বামী প্রয়াত শিক্ষামন্ত্রী এ এস এইচ কে সাদেকও ছিলেন অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত ও অভিজাত পরিবারের সদস্য। আমাদেরকেও চলে যেতে হবে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ইসমাত আরা সাদেক সবসময় আমাদের মাতৃস্নেহে কথা বলতেন, পরামর্শ দিতেন। তাঁর স্বামী এ এস এইচ কে সাদেক যেমন অত্যন্ত সজ্জন-প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ছিলেন, ঠিক তেমনি অত্যন্ত সাদামনের মানুষ ছিলেন। সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, প্রয়াত ইসমাত আরা সাদেকের পরিবারের সঙ্গে আমাদের পরিবারের ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিলেন। একজন বিদুষি, ভদ্র ও অভিজাত পরিবারের সদস্য ছিলেন তিনি। তাঁর কথাবার্তা, আপ্যায়ন ও চাল-চলন অভিজাত পরিবারের আভিজাত্য ছিল। জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান বলেন, হঠাৎ করেই পর পর কয়েকজন এমপির মৃত্যু আমাদের ব্যথিত করে তুলেছে। মৃত্যু অবধারিত, কিন্তু মানুষের মৃত্যু সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
মুজিববর্ষে বাড়ি পাবে দরিদ্র পরিবার
২১জানুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দেশের ৬৮ হাজার ৩৮টি গ্রামে একটি করে দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারকে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দেবে সরকার। প্রতিটি বাড়িতে খরচ হবে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা। চলতি ও আগামী অর্থবছর এসব বাড়ি নির্মাণ করা হবে। এ জন্য দুই বছরে বরাদ্দ প্রয়োজন ২ হাজার ৪০ কোটি ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০ টাকা। চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির বিশেষ বরাদ্দ বাতিল করে ৩০ হাজার বাড়ি নির্মাণ খাতে ৮৯৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা স্থানান্তরের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এ প্রস্তাবে বলা হয়, মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দেশের ৬৮ হাজার ৩৮টি গ্রামে একটি করে মোট ৬৮ হাজার ৩৮টি দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে বিতরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে এ বিষয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সচিব বলেন, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে টিআর-কাবিটা কর্মসূচির বিশেষ খাতের অর্থ দিয়ে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও দুর্যোগে ঝুঁকি হ্রাসকল্পে গৃহহীন পরিবারের মাঝে দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার আমার গ্রাম, আমার শহর অনুযায়ী প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, এর ধারাবাহিকতায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে এ মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি গ্রামে গৃহহীনদের মধ্য থেকে একটি পরিবারকে দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি দেয়া হবে। তাই ৬৮ হাজার ৩৮টি বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সভায় অতিরিক্ত সচিব (ত্রাণ) বলেন, বাংলাদেশে অতি দরিদ্রতার হার যখন ক্রমশ নিম্নমুখী তখন ভিজিএফের সাহায্য ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনতে হবে, যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী করবে এবং আত্মনির্ভরশীল ও আত্মমর্যাদাশীল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে। তিনি আরও বলেন, চলতি (২০১৯-২০) এর সংশোধিত বাজেটে ভিজিএফের অব্যয়িত অর্থ থেকে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় অর্থ সংকুলান রেখে অবশিষ্ট অর্থ মুজিববর্ষ উপলক্ষে নির্মিতব্য বাড়িতে স্থানান্তর করার বিষয়ে তার অভিমত ব্যক্ত করেন। উপস্থিত সব অনুবিভাগ প্রধান এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিবের (ত্রাণ) সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করেন। এ প্রসঙ্গে সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বাজেট) বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত অনুমোদিত কর্মসূচির আওতায় স্কিম চিহ্নিতকরণ, প্রণয়ন, যাচাই, সংশোধন, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি শীর্ষক পরিপত্র প্রতিপালন সাপেক্ষে, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী টিআর-কাবিটা কর্মসূচির বিশেষ খাতের বরাদ্দ দ্বারা গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় গৃহনির্মাণের সারসংক্ষেপ অনুমোদন করেছেন। একইভাবে ভিজিএফ কর্মসূচির ২০১৯-২০ সংশোধিত বাজেট এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে মুজিববর্ষ উপলক্ষে নির্মিতব্য দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি নির্মাণে ব্যয়ের জন্য অর্থ বিভাগের সম্মতি সাপেক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ অনুমোদনের জন্য পেশ করতে হবে। সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে পরিচালন/বিশেষ কার্যক্রম হতে উন্নয়ন ব্যয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ৩০ হাজার বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রতিটি বাড়ি ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা হিসাবে মোট ৮৯৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
মিন্নির আবেদন হাইকোর্টে খারিজ
২১জানুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বরগুনায় প্রকাশ্যে দিবালোকে শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলা বাতিল চেয়ে নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির করা আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। মিন্নিরপক্ষে আইনজীবী ছিলেন মিন্নির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এফআর খান। মামলাটি নিজের ক্ষেত্রে বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন মিন্নি। তবে এরইমধ্যে ওই মামলায় বরগুনার আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় আবেদনটি না চালানোর কথা বলে ফেরত চাওয়া হয়। এরপর আদালত আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি বলে খারিজ করে আদেশ দেন। গতবছর ২৬ জুন সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত রিফাতের পিতা আব্দুল আলিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে মামলা করেন। এই মামলায় নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় গতবছর ১ সেপ্টেম্বর মিন্নিসহ ২৪জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এই মামলায় নিহতের স্ত্রী মিন্নি জামিনে মুক্ত রয়েছে। এছাড়া হত্যাকান্ডের মূল অভিযুক্ত নয়ন বন্ড গতবছর ২ জুলাই বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। একারণে তাকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়নি। মিন্নিকে গতবছর ১৬ জুলাই গ্রেপ্তার করলেও হাইকোর্ট গতবছর ২৯ আগস্ট এক রায়ে মিন্নির জামিন মঞ্জুর করেন। এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি ওইবছরের পহেলা সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। ওই দিনই পুলিশ মিন্নিসহ ২৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে আপিল বিভাগ জামিন বহাল রাখায় মিন্নি গতবছর ৩ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে মুক্তি পান। এরইমধ্যে এ মামলায় মিন্নিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মামলায় বরগুনার আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণও শুরু হয়েছে।
শপথ নিয়েই সংসদে কালুর ঘাট সেতু নির্মাণের দাবি নবনির্বাচিত এমপির
২১জানুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কালুর ঘাট সেতুর নির্মাণ করতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন জাসদের নির্বাহী সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদল। সেই সেতু নির্মাণের দাবি জানালেন একই নির্বাচনী আসন চট্টগ্রাম-৮ থেকে উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসা নব নির্বাচিত এমপি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে সোমবার দেওয়া প্রথম শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। তবে তিনি মঈনুদ্দিন খান বাদলের নাম উচ্চারণ করেননি। এর আগে সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে মোছলেম উদ্দিন আহমেদকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। শপথ অনুষ্ঠানে চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, হুইপ মাহবুব আরা বেগম গিনি, হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, হুইপ ইকবালুর রহিম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম, আবু রেজা মোহাম্মদ নেজানমুদ্দীন নদভী, ওয়াসিকা আয়শা খান এ, খালেদা খানম এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান শপথ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর