মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২০
দুর্নীতিবাজ যেই হোক ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে : প্রধানমন্ত্রী
০৯,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে দল-মত নির্বিশেষে দেশব্যাপী চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে কে কোন দলের সেটা বড় কথা নয়, দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িতদের আমরা ধরে যাচ্ছি। দুর্নীতিবাজ যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, নেব এবং এটা অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা আজ দুপুরে একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টম (বাজেট) অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির সাথে জড়িত, অনিয়মে জড়িত, আমরা যাকেই পাচ্ছি এবং যেখানেই পাচ্ছি তাকে ধরছি। আর ধরছি বলেই, চোর ধরে যেন চোর হয়ে যাচ্ছি। আমরা ধরি আবার আমাদেরকেই দোষারোপ করা হয়। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য। এরআগেতো দুর্নীতিটাই নীতি ছিল। অনিয়মটাই নিয়ম ছিল। সেভাবেই রাষ্ট্র চলেছে, যোগ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, যতদূর পারি শুদ্ধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এই অনিয়মগুলো আমরা নিশ্চয়ই মানব না। এর আগে বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বক্তৃতা করেন। তিনি বহুল আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদের দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরলে কোভিড-১৯ এর মধ্যেও দেশব্যাপী তাঁর সরকারের চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী। ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী এসময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী রিজেন্ট হাসপাতালের দুর্নীতি, করোনা চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা-খাওয়া বিষয়ে ব্যাপক ব্যয়ের পরিসংখ্যান এবং অন্যান্য অনিয়ম অসংগতির প্রসঙ্গে দেশে ৭৫ পরবর্তী সামরিক সরকারগুলোর দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণকে দায়ী করেন। সরকার প্রধান তাঁর সরকারের একের পর এক বিভিন্ন দুর্নীতিবাজদের পাকড়াও করার দিকে ইঙ্গিত করে সরকারের দুর্নীতির মূল উৎপাটনে আন্তরিকতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি একইসঙ্গে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টিও স্মরণ সকলকে করিয়ে দিয়ে ভয়কে জয় করার ও পরামর্শ দেন। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ এর পরে যারা রাতের অন্ধকারে অস্ত্র হাতে নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তারাই বাংলাদেশের মানুষের চরিত্র নষ্ট করে দিয়ে গেছে। কারণ, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সেই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য এরা মানুষকে দুর্নীতি শিখিয়েছে, কালো টাকা, ঋণখেলাপিতা শিখিয়ে এই সমাজটাকে কলুষিত করে দিয়ে গেছে। তিনি বলেন, মানুষ আগে যে একটা আদর্শ নিয়ে চলত, নীতি নিয়ে চলত, দীর্ঘদিন এদেশে এই মিলিটারি ডিক্টেটরশিপ এদেশের মানুষের চরিত্র হরণ করেছে। কারণ, তাদের অবৈধ ক্ষমতাটাকে নিষ্কণ্টক করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। তারা বছরের পর বছর এই দুর্নীতি-অনিয়মের বীজ বপন করেছে। তা মহীরুহ হয়ে গেছে। তিনি এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, আপনি যতই কাটেন আবার কোথা থেকে যেন গজিয়ে ওঠে। সেক্ষেত্রে চরিত্রহীনতা একেবারে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত । সেখানে আপনি যতই চেষ্টা করেন এর মূলোৎপাটন করা যথেষ্ট কঠিন। তিনি তাঁর সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের সাফল্য এবং দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার পদক্ষেপের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তারপরও এর মধ্যে যে খবরগুলো পাচ্ছেন, এটা কারা করছেন? তাঁর সরকারের পাশাপাশি পুলিশ ও Rab সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, বর্ডার গার্ড, সশস্ত্রবাহিনী, আনসার ও ভিডিপিসহ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ এবং শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীরা করোনা মোকাবেলায় দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ত্রাণ কার্যে সহযোগিতা করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি, করোনা মোকাবেলা এবং অর্থনীতিকে সচল রাখায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা দলের কর্মীদের মাঠে নামিয়েছি এবং তাঁরা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। তবে, আরো অনেক রাজনৈতিক দল রয়েছে এবং এনজিও রয়েছে তাঁদের কয়জন আজকে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে? তাঁদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে? সেটাই আমার প্রশ্ন। প্রধানমন্ত্রী এ সম্পর্কে আরো বলেন, ঘরে বসে সমালোচনা, বাজেটের খুঁত ধরা, কাজের খুঁত ধরা- সেগুলো অনেকেই ধরতে পারেন। কিন্তু মাঠে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষকে সেবা করার কাজটা আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সৈনিক যারা, তারাই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং অনেকেই অনেক বাধা অতিক্রম করেই কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ২ হাজার ডাক্তার এবং ৬ হাজার নার্স নিয়োগের পাশাপাশি আরো ২ হাজার ডাক্তারের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া, হেলথ টেকনোলজিস্ট, কাডিওগ্রাফার এবং ল্যাব এটেনডেন্টের ৩ হাজার পদ সৃষ্টি করা হয়েছে যেগুলোতে সরকার নিয়োগ দেবে। সংসদ নেতা বলেন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ল্যাব এটেনডেন্টদের সরকারের তরফ থেকে পরিবার থেকে পৃথক করে তাঁদের সরকার থাকা-খাওয়া, হাত খরচসহ হোটেল ভাড়া করে আবাসনের ব্যবস্থা করেছে। যে সব চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী এ সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁদের সকলকে আমাদের দেখতে হবে এবং সে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি, যোগ করেন তিনি। যারা লোকলজ্জার ভয়ে প্রকাশ্যে হাত পাততে পারছে না এমন বহুলোকের বাড়ি-ঘরে গোপনেও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, সরকারীভাবে যেমন দিচ্ছি তেমনি দলীয় ভাবেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমানভাবে সাহায্য করে যাচ্ছি। কারণ, এটাই আওয়ামী লীগ, যে আওয়ামী লীগ জাতির পিতার নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা এনেছে। করোনা ভাইরাসের ভয়ে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থবিধি মেনে চলার আহ্বানও পুণর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কথা শুনলেই মানুষ ভয়ে আতঙ্কিত হয়। এত আতঙ্কিত হবো কেন। মরতে তো একদিন হবেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি তাহলে করোনার সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাবো। আমাদের দেশে করোনারোগীর সুস্থ হওয়ারর হার অনেক বেশি। মনে সাহস রাখতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, করোনার কারণে সবকিছু স্থবির হয়ে পড়েছে। কিন্তু জীবন তো আর থেমে থাকবে না। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। বাংলাদেশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, করোনার সংক্রমণ জুলাই মাস পর্যন্ত বাড়তে থাকবে। এরপর আস্তে আস্তে কমে যাবে। সেটাই হচ্ছে। আশা করি, পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সরকার প্রধান সম্প্রতি বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকলগুলোর আধুনিকায়নে এসব মিলের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে উৎপাদন বন্ধে তাঁর সরকারের গৃহীত পদক্ষেপেরও যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক বছর ধরে এ পাটকলগুলোর ২৫ হাজার শ্রমিককে সরকারের পক্ষ থেকে বেতন দেওয়া হচ্ছে, বিজেএমসি দিতে পারছে না। এ পাটকলগুলো সবচেয়ে পুরোনো, ৫০ ও ৬০ এর দশকে এগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। এগুলো আর লাভজনক করা সম্ভব না। বিশে^ কৃত্রিম তন্তুর বিপরীতে নতুন করে পাটের আবার সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা পাটের জিন আবিষ্কার করেছি। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের সম্ভাবনা রয়েছে। এ পাটকলগুলো আধুনিক করে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যারা আগ্রহী হবে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো যাবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী এ বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এ পাটকলগুলোকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে হবে। আমরা সেটা করবো। শ্রমিকদের পাওনা ৫ হাজার কোটি টাকা আমরা পরিশোধ করছি। তিনি শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ সম্পর্কে বলেন, সব টাকা শ্রমিকদের হাতে দেওয়া হবে না। দিলে খরচ হয়ে যাবে। অর্ধেক টাকা নগদ আর অর্ধেক আমরা তাদের সঞ্চয়পত্র করে দেবো। এতে তারা প্রাপ্য মজুরির চেয়ে বেশি পাবে। দেশে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, করোনাতো আছেই তার সাথে এখন আবার যোগ হয়েছে বন্যা। ইতোমধ্যে রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালননিরহাট, সিলেট, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, টঙ্গাইল, মাদারীপুরসহ বন্যা দেখা দেওয়া ১২টি জেলায় প্যাকেট ও শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ৬৪টি জেলার জন্য বন্যার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ১০ হাজার ৯শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ এবং ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ দিয়ে দেওয়া রয়েছে। যাতে দুর্যোগ হলে কোন ধরনের অপেক্ষা করতে না হয়। সঙ্গে সঙ্গে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা যায়। শেখ হাসিনা বলেন, বন্যা, নদীভাঙ্গন, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, ঘুর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, অগ্নিকান্ডসহ যেকোন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে সহযোগিতা করতে আমরা সবসময় প্রস্তত থাকি এবং আমাদের দেশের প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের জানা আছে এবং সে অনুযায়ীই আমরা ব্যবস্থা নেই। যাতে দেশের মানুষকে আমরা সুরক্ষিত রাখতে পারি এবং তাঁদের কষ্ট কমাতে পারি। প্রধানমন্ত্রী এই করোনাকালিন বাজেট প্রণয়নের জন্য অর্থমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগকে তাঁর ভাষণে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। যা অনেক উন্নত দেশও করতে পারেনি। কিন্তু আমরা করেছি। এই বাজেটে প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা,সামাজিক সুরক্ষাকে গুরুত্ব প্রদান করে দুঃস্থ ও প্রতিবন্ধীদের ভাতার পরিমান এবং সংখ্যা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ সকল শ্রেনী পেশার মানুষের জন্য ১৯টি প্যাকেজে প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমি সরকার পরিচালনায় আসার পর বাজেট ঘাটতি কখনও শতকরা ৫ শতাংশের ওপরে উঠতে দেই নাই কিন্তু এবার করোনার জন্য বাজেট ঘাটতি আমরা ৬ ভাগ রেখেছি। তিনি আরো বলেন, টাকা লাগলে আমরা দেব। কিন্তু করোনার কারণে অর্থনীতি যেন স্থবির না হয়। কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গত ১০ জুন এবারের সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। ১১ জুন সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল ২০২০-২১ অর্থ বছরের জন্য প্রায় ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। ৩০ জুন এই বাজেট সংসদে পাস হয় ।
পুরো বিএনপিই এখন হোম আইসোলেশনে : তথ্যমন্ত্রী
০৯,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পুরো বিএনপিই এখন হোম আইসোলেশনে। তিনি বলেন, “প্রকৃতপক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজে এবং তার নেতৃত্বে দলের নেতৃবৃন্দসহ পুরো বিএনপিই এখন হোম আইসোলেশনে। হঠাৎ হঠাৎ টেলিভিশনে উঁকি দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা ছাড়া বিএনপির আর কোনো কাজ নেই। তথ্যমন্ত্রী আজ সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন । বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের করোনা মোকাবিলা করা এমন কঠিন কিছু ছিল না’-এ মন্তব্য সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবের বক্তব্যে মনে হয় সারা দুনিয়ায় সবদেশের ক্ষেত্রেই করোনা মোকাবিলা এমন কঠিন কিছু ছিল না, অথচ উন্নত দেশগুলোসহ পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ করোনায় মৃত্যুবরণ করেছে। যারা জনগণের পাশে নেই, জনগণের জন্য কিছু করছেন না, হঠাৎ হঠাৎ টেলিভিশনে উঁকি দিয়ে এ ধরণের কথা বলা তাদেরই মানায়। দায়িত্বপূর্ণ জায়গা থেকে এ ধরণের কথা বলা সমীচীন নয়। ড. হাছানবলেন, সমগ্র পৃথিবী আজ করোনাভাইরাসের কারণে অসহায় এবং পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের তুলনায় অনেক সমৃদ্ধ হলেও করোনা মোকাবিলায় তাদের অসহায়ত্ব প্রকাশ পেয়েছে, সেখানে মৃত্যুর মিছিল ছিল। তিনি বলেন, ‘সেই তুলনায় বাংলাদেশ সীমিত সামর্থের একটি উন্নয়নশীল দেশ। এখানকার শহরগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ। তাসত্ত্বেও, এখনও পর্যন্ত সরকার এবং বেসরকারি পর্যায়ের সমস্ত হাসপাতাল ও স্বেচ্ছাসেবীসহ সকলে সম্মিলিতভাবে করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে আমরা অনেক উন্নত দেশের তুলনায় সাফল্য দেখাতে সক্ষম হয়েছি, বিশেষ করে মৃত্যুহার কম রাখার ক্ষেত্রে। আমাদের দেশে মৃত্যুর হার ভারত-পাকিস্তানের চেয়েও কম এবং ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে অনেক কমতো বটেই।’ বিএনপি নেতা রুহুল কবীর রিজভী’র মন্তব্য ‘মানুষের মুখ বন্ধ রাখতে সরকার মামলা করছে’ -এর জবাবে ড. হাছান বলেন, ‘সরকার কারো বিরুদ্ধে মামলা করেনি। সা¤প্রতিক সময়ে যে সমস্ত মামলা হয়েছে, সবগুলোই বিভিন্ন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি করেছেন। বিএনপির নেতারা জনগণ এবং সরকার দু’টিই গুলিয়ে ফেলছেন। জনগণের কেউ যদি সংক্ষুব্ধ হন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তিনি তার সুরক্ষার জন্য যেকোনো আইনী পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার রাখেন। এসময় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান শাহেদের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যমকে তাদের ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘সরকারই কিন্তু তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এরপর তার ব্যাপারে পত্র-পত্রিকায় যে অনুসন্ধানী রিপোর্টগুলো বেরিয়েছে সেজন্য গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ। এতে প্রমাণিত হয়, সে খুব সুচতুর একজন প্রতারক। এরকম আরো প্রতারক যারা আছে, আমাদের সম্মিলিতভাবে তাদেরকে খুঁজে বের করা প্রয়োজন। শাহেদ আওয়ামী লীগের সদস্য কি না এ প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সে দাবি করছে, সে আওয়ামী লীগের কোনো একটা উপ-কমিটিতে ছিল। কিন্তু আমাদের দলীয় কার্যালয়ে তো আমি প্রতিদিন যাই। সে আওয়ামী লীগের কোনো উপ-কমিটির সদস্য ছিল বলে আমার জানা নেই। ড. হাছান মাহমুদ আরো বলেন,একইসাথে এই হাসপাতালকে কোভিড-১৯ চিকিৎসা দেয়ার জন্য সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল বলে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি।
পুলিশ বাহিনীকে সুরক্ষা সামগ্রী দিলো যুক্তরাষ্ট্র
০৯,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে সুরক্ষা সরঞ্জাম দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সুরক্ষা সরঞ্জাম হস্তান্তর করেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়। এতে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে পিপিই সহায়তা দেয়ার পরিকল্পিত কার্যক্রমের চতুর্থ অনুদান এটা। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র শুধু স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ইউএসএআইডির মাধ্যমেই কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ৪৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স, ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার ও সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনর মাধ্যমেও সাহায্য ও কারিগরি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস যে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামগুলো হস্তান্তর করেছে তার মধ্যে রয়েছে ৪০০০ কেএন৯৫ সার্জিক্যাল মাস্ক, ২০০ মিলিলিটারের ৩২০০ বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ৪০০০ জোড়া সার্জিক্যাল গ্লাভস, ৫৫০ পাউন্ড গুঁড়া ব্লিচ, ২২টি জীবাণুনাশক ব্যাকপ্যাক স্প্রেয়ারস, ৭০০টি মুখমণ্ডল ঢাকার শিল্ড, এবং ২৫টি ইনফ্রারেড থার্মোমিটার। বাংলাদেশ পুলিশ কোভিড-১৯ মোকাবিলার ক্ষেত্রে প্রথমসারির যোদ্ধা হিসেবে দেশব্যাপী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোভিড-১৯ মোকাবিলা কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের দেয়া পিপিই পুলিশ বিভাগের সদস্যদের নিজেদের সুরক্ষিত রেখে বাংলাদেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে সহায়তা করবে। কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিশ্বব্যাপী জরুরি স্বাস্থ্য, মানবিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহায়তা কর্মকাণ্ডে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওদের ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু
০৯,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। সততা ও নিষ্ঠার প্রতীক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন তা অব্যাহত আছে। এখন স্বাস্থ্যখাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় নিজের সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজ থেকেই ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করেছিলেন। যার ধারাবাহিকতায় চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে যারা বা যে অশুভ চক্র প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। বাইরে থেকে কেউ এসব অনিয়ম ধরিয়ে দেয়নি। সরকার নিজ উদ্যোগে অনিয়ম রুখতে কঠোর অভিযান শুরু করেছে। মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থা বিশেষ করে হাসপাতাল, নমুনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ, প্লাজমা ডোনেশন, সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয়, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি সংগ্রহসহ অন্যান্য খাতের সাথে স্বাস্থ্যখাতের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সরকারের শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন,অপরাধী যত ক্ষমতাধর হোক তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে। যারা জনগণের অসহায়ত্ব নিয়ে অবৈধ ব্যবসা করছে, প্রতারণা করছে, শেখ হাসিনার সরকার তাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতিতে অটল। ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনাভাইরাস সঙ্কটের শুরু থেকে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ অসহায়, কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। স্থাপন করেছে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত। মাটি ও মানুষের দল হিসেবে দেশের যে কোনো দুর্যোগে সবার আগে ছুটে যায় আওয়ামী লীগ। অসহায় মানুষের পাশে থাকা আওয়ামী লীগের সাত দশকের ঐতিহ্য।
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা নামে আরেকটি বই প্রকাশ হবে
০৯,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অসমাপ্ত আত্মজীবনীর মতো- বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা নামে আরেকটি বই প্রকাশ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুর পাকিস্তান কারাগারে থাকার সময়ের তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধীদল জাতীয় পার্টির সদস্য মুজিবুল হন চুন্নুর এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা জানান। এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা একটা লেখা আছে। অসমাপ্ত আত্মজীবনীর মতোই ওনার জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে কিছু লেখা। সেই লেখাগুলো প্রস্তুত রয়েছে। তা প্রায় তৈরি হয়ে আছে। ওটা আমরা ছাপতে দেবো। আমার ধারণা ছিল এটা একটি রাফ কাজ। প্রথমে তিনি ওটা করেন। তারপর অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রস্তুত করেন ছাপানোর জন্য। ওটার আরো কিছু বিষয় আছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, তিনি কিন্তু কখনো তার কারাজীবনের কোনো কষ্ট, দুঃখ-যন্ত্রণা কিচ্ছুই বলেননি। যেটুকু আমরা জানি এই বই পড়ে। তার লেখা পড়ে আমরা এটা জেনেছি। এর বাইরে আমরা কিছু জানতে পারিনি। কোনোদিন তিনি মুখ ফুটে বলতেন না যে ওনার কষ্ট ছিল। কখনো বলেননি। আমি রেহানাকে জিজ্ঞাসা করেছি। ও ছোট ছিল তো ও মাঝেমধ্যে আব্বাকে এ সমস্ত জিজ্ঞাসা করতো। যা আমরা সাহস পেতাম না। আমি কয়েকদিন আগেও জিজ্ঞাসা করছি তুই কী কিছুই শুনিস নাই? জবাবে বললো আব্বাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। বলেছিল তোর শোনা লাগবে না। শুনলে সহ্য করতে পারবি না। শেখ হাসিনা বলেন, এত কষ্ট একজন মানুষ একটা দেশের জন্য, জাতির জন্য করতে পারেন? তা ধারণার বাইরে। তিনি মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন সংগঠন করার জন্য। আওয়ামী লীগ করার জন্য। দেশের মানুষের জন্য তিনি সব কিছুই ছেড়েছেন। তিনি ইচ্ছা করলেই প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। ক্ষমতায় যেতে পারতেন। কিন্তু ওনার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, একাত্তর সাল থেকে আমরা ওনার কোনো লেখা পাইনি। কারণ একাত্তর সালে উনি কারাগারে (পাকিস্তানে) কীভাবে ছিলেন? কী অবস্থায় ছিলেন? আসলে তার কিছু আমরা জানি না। সামান্য একটা লাইন পাওয়া গেছে আইয়ুব খানের ডায়েরি, অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশিত। সেখানে ওনার সম্পর্কে কিছু কমেন্ট করা আছে। বঙ্গবন্ধুকে যখন কোর্টে নিয়ে আসা হতো; উনি আসতেন, দাঁড়াতেন, বসতে বললে বসতেন। উনি এসে দাঁড়িয়েই নাকি জয় বাংলাদেশ বলতেন। বলতেন আমাকে যা খুশি তাই করো। আমার যেটা করার আমি তা করে ফেলেছি। অর্থাৎ আমার বাংলাদেশ তো স্বাধীন হবেই। এর বাইরে একাত্তরের কিছু আমি পাইনি। তবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখনো আমার চেষ্টা আছে ওখান (পাকিস্তান) থেকে কোনো কিছু উদ্ধার করা যায় কিনা? আর আমি জেলখানায় ছবি আনতে গিয়েছিলাম। জেলখানা ভেঙে নতুনভাবে করা হয়েছে। ছোট্ট একখানা দেয়ালের ছবি পেয়েছি। আর কিছু পাইনি। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি ১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে ক্লাসিফায়েড রেকর্ড সংগ্রহ করেছি। যেখানে বাংলাদেশের বিষয়টি রয়েছে। সাউথ এশিয়ার কিছু বিষয় রয়েছে। অনেকগুলো কাগজ। বিশাল। এগুলো আমার অফিসে ছিল। করোনা ভাইরাসের কারণে একটা সুবিধা হয়েছে। ঘরে থাকার কারণে সেগুলো সব ধীরে ধীরে দেখছি। সেখানে ওই সময়কার কিছু পাওয়া যায় কিনা সেই চেষ্টা করছি।
সাংবাদিক রাশীদ উন নবী বাবু আর নেই
০৯,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সিনিয়র সদস্য রাশীদ উন নবী বাবু আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ... রাজিউন)। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মেয়ে ফারাহ অনিকা অনন্যা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ১২টায় হাতিরপুলের সার্কুলার রোডের বাসায় প্রথম নামাজে জানাজ শেষে মরদেহ বগুড়া নিয়ে যাওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভাই পাগলা মাজার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। বরেণ্য এই সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় কিছুদিন আগে তাকে বিআরবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২০১৯ সালের এপ্রিলে রাশীদ উন নবী বাবুর অগ্নাশয়ের ক্যান্সার ধরা পড়ে। পরে তিনি ভারতের ভোলোরের ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি হাসপাতাল (সিএমসি) এবং মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তিনি বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক। ৪৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দৈনিক আমার দেশ, দৈনিক বাংলা, বাংলার বাণী, দেশ বাংলা, আজকের কাগজ, ইত্তেফাক, সমকাল, যুগান্তর, এনটিভি, চ্যানেল ওয়ান, ইনকিলাব ও সাপ্তাহিক পূর্ণিমায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তিনি দৈনিক সকালের খবরের সম্পাদক ছিলেন। সর্বশেষ তিনি প্রকাশিতব্য দৈনিক আমার দিনে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন নিউজ একাত্তরের সম্পাদক ও সাংবাদের কাগজের সম্পাদক এবং জাতীয় দৈনিক বিজনেস বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী।
মাস্ক-পিপিই দুর্নীতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে: দুদক
০৯,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতির সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত। বুধবার (০৮ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে মাস্ক-পিপিই ক্রয় দুর্নীতির অভিযোগে বুধবার (০৮ জুলাই) সকাল থেকে জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোং লিমিটেডের সমন্বয়কারী (মেডিকেল টিম) মো. মতিউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। সংস্থাটি একই অভিযোগে বুধবার তলব করে এলান করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিনকে। তবে করোনায় আক্রান্তের কারণ দেখিয়ে হাজির না হয়ে সময় চান তিনি। সাংবাদিকদের দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পিপিই-মাস্ক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অনুসন্ধানে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যাদেরই নাম আসবে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ দুর্নীতির সঙ্গে কোন সরকার কর্মকর্তা জড়িত আছেন কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার মেডিটেক ইমেজিং লি. এর পরিচালক মো হুমায়ুন কবির এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের চেয়ারম্যান ও লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ ও টেকনোক্র্যাট লিমিটেডের মালিক মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুদক। এর আগে গত ১ জুলাই স্বাস্থ্যখাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই পাঁচ ঠিকাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করা হয়। তাদের নির্ধারিত দিনে দুদকে হাজির হয়ে রেকর্ডপত্রসহ বক্তব্য প্রদানের অনুরোধ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানে ব্যর্থ হলে বর্ণিত অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের কোন বক্তব্য নেই বলে গণ্য করা হবে। দুদক পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর স্বাক্ষরিত অতীব জরুরি তলবি নোটিশে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার নিমিত্ত নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জামাদি ক্রয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে অন্যান্যদের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎপূর্বক অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে বর্ণিত অভিযোগ বিষয়ে তাদের বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।
করোনা শনাক্তে প্রতারণায় কঠোর অবস্থানে সরকার : ওবায়দুল কাদের
০৮,জুলাই,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য নমুনা পরীক্ষা, সনদ দেওয়া ও প্লাজমা ডোনেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে আছে। বুধবার রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় নিজের সরকারি বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনা সংকটকালে অসাধু চক্র প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে, মানুষ ঠকাচ্ছে। সরকার এসব প্রতারণা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে আছে। এ ধরনের প্রতারণা মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে নির্মম বাণিজ্য ছাড়া কিছু নয়। তিনি বলেন, কিছু মানুষ সংক্রমণের তথ্য লুকিয়ে, তথ্য গোপন করে চলাফেরা করছে। শুধু তাই নয়, করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে বিদেশে গিয়ে এয়ারপোর্টে পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার এই তীব্র প্রতিযোগিতা এবং সত্য গোপন রাখায় বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে। তারা লাখ লাখ প্রবাসীকে অবিশ্বাস আর অনিশ্চয়তার আঁধারে ঠেলে দিচ্ছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর