৪ মোবাইল কোম্পানির কাছে পাওনা ১৫ হাজার কোটি টাকা
৫মে,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডসহ বেসরকারি চারটি মোবাইল কোম্পানি গ্রামীণ ফোন, রবি আজিয়াটা এবং প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের (সিটিসেল) কাছে ১৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এ তালিকায় শীর্ষে গ্রামীণ ফোন। এই প্রতিষ্ঠানের অডিট আপত্তির পরিমাণ ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। রোববার (৫ মে) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সদস্যরা। তারা বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রীকে অতি দ্রুত এসব বকেয়া আদায়ে পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন। কমিটির সভাপতির অনুপস্থিতিতে সিনিয়র সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। কমিটির সদস্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বেনজীর আহমদ, ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল, আহমেদ ফিরোজ কবির, মো. নুরুল আমিন, মনিরা সুলতানা, জাকিয়া পারভীন খানম এবং অপরাজিতা হক বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া বিশেষ আমন্ত্রণে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বৈঠকে যোগদান করেন। ডাক, টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব এবং বিভিন্ন সংস্থা প্রধানসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডসহ বেসরকারি চারটি মোবাইল কোম্পানী গ্রামীণ ফোন, রবি আজিয়াটা এবং প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের (সিটিসেল) কাছে ১৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এ তালিকায় শীর্ষে গ্রামীণ ফোন। এই প্রতিষ্ঠানের অডিট আপত্তির পরিমাণ ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এছাড়া সিটিসেলের কাছে ১২৮ কোটি টাকা, রবি আজিয়াটার কাছে বকেয়া ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কাছে ৩জি স্পেকট্রাম এ্যাসাইনমেন্ট ফি বাবদ ১ হাজার ৫৮৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। সংসদ সচিবালয় জানায়, বৈঠকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিগত পাঁচ বছরের অর্জন ও আগামী পাঁচ বছরের কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ এবং মন্ত্রণালয়ের প্রধান ১০টি চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটি সারাদেশে নতুন প্রজন্মের সময়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তি নির্ভর কর্মমূখী শিক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করে। পাশাপাশি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রুগ্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে উত্তরণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে কমিটি।
রাজনীতিতে জড়ালে বাতিল হবে এনজিওর নিবন্ধন
৫মে,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থার নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৬১ বাতিল করে সংশোধনসহ তা নতুন করে প্রণয়ন করা হচ্ছে। যা স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৯ নামে অভিহিত হবে। নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, নিবন্ধিত কোনো সংস্থা নিবন্ধনের শর্ত ভঙ্গ করে আর্থিক অনিয়ম, সংস্থার গঠণতন্ত্র বা সরকারি আদেশ পালনে ব্যর্থ হলে, প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়ালে, দেশের সংবিধান বা প্রচলিত আইনের পরিপস্থি কোনো কাজে জড়ালে ওই সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদ বাতিল করে সরকার প্রশাসক নিয়োগ অথবা পাঁচ সদস্যের তত্ত্বাবধায় পরিষদ গঠণ করা হবে। তবে অভিযুক্ত সংস্থার পরিচালকদের আত্মপক্ষ সমর্থণের সুযোগ দেওয়া হবে। নতুন আইনের বিধানাবলী প্রতিপালন ছাড়া নিবন্ধিত কোনো সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। একটি এনজিও নিবন্ধনের সময় একটি জেলার বাইরে কাজ করতে পারবে না। নিবন্ধিত হওয়ার পর পাঁচ জেলার বাইরে কাজ করতে পারবে না। এই বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তার দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট ডেস্ক অফিসারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়। ডেস্ক অফিসার এজেডএম এরশাদ আহসান হাবিব আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, আইনটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অংশীজনের মতামত নিয়ে চুড়ান্ত করার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বাংলা ভাষা কোষে(বাবাকো) পাঠিয়েছি। বাবাকো থেকে আসার পর তা অনুমোদনের জন্য শিগগিরই মন্ত্রিসভায় পাঠাবো। আশা করছি দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে। নিয়ম মেনে যখন একটি সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করা হবে তার তিন মাসের মধ্যে ওই সংস্থার কাছে পাওনাদার, দাবিদার বা কোনো অভিযোগকারি পাওয়া না গেলে সংস্থাটি বিলুপ্ত করা হবে। নিবন্ধন বাতিলের তারিখ থেকে তা কার্যকর হবে। এর পর যে ব্যাংক, ব্যক্তির কাছে সংস্থার টাকা, ঋণপত্র, অন্য কোনো সম্পত্তি থাকবে সেই ব্যাংক, ব্যক্তি সরকারের লিখিত পূর্বানুমোদন ছাড়া তা হস্তান্তর করতে পারবে না। দায়, দেনা পরিশোধের পর বিলুপ্ত সংস্থার অশিষ্ট অর্থ সরকার চাইলে একই উদ্দেশ্যে পরিচালিত অন্য কোনো সংস্থার অনুকূলে বরাদ্দ দিতে পারবে। সরকার যুক্তিসংগত মনে করলে বিলুপ্ত সংস্থার অর্থ,ঋণপত্র সম্পদ গ্রহণ করে তা কোনো সমাজকল্যাণমূলক কর্মকান্ডে ব্যবহারের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুকূলে ন্যস্ত করতে পারবে। এছাড়া নতুন এই আইনে শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে। নিবন্ধিত সংস্থার কোনো সদস্য, কার্যনির্বাহী পরিষদের কোনো সদস্য যদি আইনের বিধান ভঙ্গ করে জনস্বার্থ বিরোধী রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়ানোর বিষয় প্রমানিত হয় তা হলে তিনি কমপক্ষে এক বছরের কারাদন্ড এবং পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবে। খসড়া আইনটিতে কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে আইনের অধীনে সরল বিশ্বাসে বা সৎ উদ্দেশ্যে প্রদত্ত আদেশদাতা বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা বা অন্য কোনো আইনানুগ কার্যধারা পরিচালনা করা যাবে না। এমন কি সরল বিশ্বাসেকৃত কোনো কাজের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হলে, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকলে সরকারের কোনো কর্মকর্তা কর্মচারির বিরুদ্ধে দেওয়ানি কিংবা ফৌজদারি মামলা করা যাবে না। কিন্তু আইনের কোথাও সরল বিশ্বাস বলতে কি বোঝোনো হয়েছে তার উল্লেখ নেই। তবে কোনো আর্থিক অনিয়মের কারণে সংস্থার কর্মকর্তাদের প্রতি সংক্ষুব্ধ হলে আদালত মামলা দায়ের করতে পারবে। এছাড়া সরকার চাইলে কোনো সংস্থা সংস্থার শ্রেণিবিশেষকে এই আইনের সকল বা কোনো বিশেষ বিধানের কার্যকরিতা থেকে অব্যাহতি প্রদান করতে পারবে। নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বলতে ওই সব প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়েছে যে সংস্থার আয় ওই সংস্থার সদস্য বা অন্য কাহারো মধ্যে বিতরণ করা যাবে না। আয় কেবল সমাজকল্যাণ এবং উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করতে হবে। বেসরকারি সংস্থা(এনজিও) বলতে আইনে বাংলাদেশের ভেতরে স্বেচ্ছামূলক কাজ করার জন্য এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে নিবন্ধিত কোনো সংস্থা বা বিদেশী রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনের অধীনে নিবন্ধিত কোনো সংস্থা বা এনজিও ব্যুরোর অধীনে নিবন্ধিত বা উহার আওতাভূক্ত সংস্থাকে বোঝানো হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা বলতে এক বা একাধিক সমাজকল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কার্যসম্পাদনের জন্য জনগণ স্বেচ্ছায় প্রতিষ্ঠিত, জনগণের চাঁদা, দান, অনুদান, সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল কোনো অলাভজনক অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সমিতি বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়েছে। সংস্থার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা, সংগঠন, ফোরাম, সমিতি, ফাউন্ডেসন, শিশুসদন, ট্রাষ্ট্র, পাঠাগার বা এ সবের শাখা যা সমাজকল্যাণ এবং উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে যুক্ত। এই আইনের বিধান অনুসরণ ছাড়া কোনো সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা বা অব্যাহত রাখা যাবে না। ইতিপূর্বে নিবন্ধিত যে কোনো সংস্থা এই আইনের অধীনে রেজিষ্ট্রার্ড বলে গণ্য হবে। তবে নতুন করে ছাড়পত্র নিতে হবে। প্রতারণা, বিভ্রান্তি সৃষ্টি পারে, কোনো দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, আন্তর্জাতিক চুক্তি, কনভেনশনের মাধ্যমে গঠিত কোনো সংস্থা বা অফিসের নাম পরিবর্তন, নামের অদ্যাক্ষর পরিবর্তন করলে ওই সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করা হবে। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, স্থানীয় সরকার ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে কোনো সংস্থার নামে আংশিক বা সম্পূর্ণ মিল থাকলে ওই সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করা হবে। তবে সংস্থাটি নতুন করে নামের জন্য আবেদন করতে পারবে। কোন কারণে কোনো আবেদনকারিকে নিবন্ধন না দেওয়া হলে কেন দেওয়া হলো না তা তাকে জানানো হবে। এই আইনের তফসিলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে এই আইনের অধীনে নতুন নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধিত সংস্থার গঠনতন্ত্র থাকতে হবে। নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন করবে। নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ ছাড়া নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত নিবন্ধিত কোনো সংস্থার গঠণতন্ত্রের কোনো সংশোধনই বৈধ বলে গণ্য হবে না। পাঁচ বছর পর পর নির্ধারিত হারে ফি জমা দিয়ে নিবন্ধন নিতে হবে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার ৩ মাস আগে নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। কোনো সংস্থার নিবন্ধন নবায়ন করা না হলে নিবন্ধন বাতিলের আদেশ জারি করা হবে এবং আদেশ জারির দিন থেকে তা বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। নিবন্ধন ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা করলে আইনে উল্লিখিত শাস্তির আওতায় আনা হবে। নিবন্ধন নবায়নের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিবন্ধন বহাল থাকবে। সংস্থার নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিয়ে দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিতে নাম পরিবর্তন সংশোধন করা যাবে। নাম পরিবর্তন করা হলেও ওই সংগঠণের বিরুদ্ধে আদালতে চলমান মামলায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। নতুন এই আইনটির ১৩ ধারায় বলা হয়েছে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাজ হবে, নিবন্ধন দেওয়া ও বাতিল করা, সংস্থার কার্যপরিধি নির্ধারণ করা, সংস্থার গঠনতন্ত্র অনুমোদন ও সংশোধন করা, লিয়াজোঁ অফিস ও শাখা অফিস খোলার অনুমতি প্রদান, কার্য এলাকা সম্প্রসারণের সুপারিশ করা, কার্যনির্বাহী পরিষদ অনুমোদন, নিবন্ধন নবায়ন করা, সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ উন্থাপন করা হলে তা তদন্ত করা, কার্যক্রম তত্ত্ববধান, পরিদর্শন, পরিবীক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ এবং হিসেবে নিরিক্ষা করা, এবং প্রশাসক বা তত্ত্ববধায় পরিষদ নিয়োগ করা। আইনের ১৭ ধারায় সংস্থা নিবন্ধন বাতিল বা বিলুপ্তির বিধান করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত সংস্থা তার গঠণতন্ত্র পরিপস্থি, এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধিবিধানের পরিপন্থি, জনস্বার্থ বিরোধী, রাষ্ট্রবিরোধী বা দেশের সংবিধান বিরোধী প্রচলিত আইনের পরিপন্থি করলে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হবে। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে এবং কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে সংস্থাটির নিবন্ধন বাতিল করা দরকার তা হলে ওই সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করে আদেশ জারি করবে এবং ওই দিন থেকেই সংস্থাটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। তবে আইনের কোথাও জনস্বার্থ, রাষ্ট্রবিরোধী বলতে কী কী কাজকে বোঝানো হয়েছে তার কোনো সংজ্ঞা নেই। স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (রেজিষ্ট্রেশন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৬১ এই আইন কার্যকরের দিন থেকে রহিত বলে গণ্য হবে। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর যাহাই থাকুক না কেন নতুন আইনের বিধান প্রধান্য পাবে।-আলোকিত বাংলাদেশ
জঙ্গি হুমকি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৫মে,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: লোন উলফ ম্যাগাজিনে বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার হুমকিকে এদেশের জনগণ ভয় পায় না। যাদের নামে হুমকি দেওয়া হয়েছে তাদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে। জঙ্গি হুমকি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলেছেন মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রোববার (৫ মে) রাজধানী তেজগাঁও তে অবস্থিত বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন বরণ অনুষ্ঠান শেষ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বেড়েছে। তারা একের পর এক জঙ্গিদের দমন করছে। লোন উলফ ম্যাগাজিনে মার্চে প্রকাশিত সংখ্যায় দেশের কয়েকজনকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই হুমকি ধামকিতে এদেশের জনগণ ভয় পায় না। এ সময় তিনি আরো বলেন,প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে দেশের জনগণ চোখ-কান খোলা রেখেছে বলে আমরা জঙ্গি হামলা থেকে অনেকটাই মুক্ত হয়েছি। তার মানে এই নয় যে, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীরা চুপচাপ বসে আছে। আমরা জঙ্গিদের মূলোৎপাটন করেছি তা কখনও বলিনি, এখনও বলছি না। আমাদের জনগণ জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশয় দেন না, অর্থায়ন করে না। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার অনুসারীরা তাদের প্রপাগান্ডা চ্যানেল বালাকোট মিডিয়াতে বাংলাদেশ ও ভারতে লোন উলফ হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা সম্বলিত একটি বার্তা প্রকাশ করে। টেলিগ্রামভিত্তিক প্রপাগান্ডা চ্যানেলগুলোতে ছড়িয়ে পড়া লোন উলফ নামে ওই অনলাইন ম্যাগাজিনে বাংলাদেশের তিন বিশিষ্ট নাগরিক শাহরিয়ার কবির, মুনতাসির মামুন ও সুলতানা কামালের নাম টার্গেট লিস্টে আছে বলে উল্লেখ করেছে। শনিবার (৪ মে) সন্ধ্যায় মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল নিরাপত্তা চেয়ে ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। সম্প্রতি গুলিস্তানে পুলিশের ওপর বোমা হামলার বিষয়ে আইএসের দায় স্বীকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,কিছু হলেই সাইট ইন্টেলিজেন্সে দায় স্বীকার করে। এটা দেশী ও আন্তজার্তিক ষড়যন্ত্রের অংশ।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা শুরু
৫মে,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আজ রোববার থেকে এ তৎপরতা শুরু করা হয় বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রেস উইং জানিয়েছে, যদিও অনেকটা দুর্বল হয়ে ফণী বাংলাদেশ ভূখণ্ড অতিক্রম করেছে, কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি উপকূলীয় জেলা এবং উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় বাড়িঘরসহ ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লন্ডনে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার নির্দেশ প্রদান করেছেন। ঘূর্ণিঝড়জনিত কারণে যারা নিহত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, জনপ্রতিনিধি এবং বেসরকারি সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সরেজমিনে মাঠে কাজ করছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর সদস্যগণও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে গেছেন। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সহায়তা করার জন্য বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে আজ উপকূলীয় এলাকায় আকাশপথে জরিপ কাজ পরিচলনা করা হচ্ছে। আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাত-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক পর্যালোচনা সভা করেন। তিনি কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের নির্দেশ দেন। এ ছাড়া সরকার প্রণীত দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট সকলে যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশ দেন মুখ্য সচিব।
দেশে এ বছরেই নতুন ১৫ ট্রেন চালু হচ্ছে
৫মে,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলতি বছরে আমদানি করা ২২০টি অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী কোচ দেশে পৌঁছাবে। এসব কোচ দ্বারা ১৫টি নতুন ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। তবে ইঞ্জিন সংকট এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা। এজন্য ভারত থেকে ২০টি ইঞ্জিন ভাড়ায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে রেলওয়ে। পর্যাপ্ত কোচ এলেও রেলওয়েতে ইঞ্জিন সংকট রয়েছে। চলমান ট্রেনগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন দ্বারা চালাতে গিয়ে সিডিউল ঠিক রাখা যাচ্ছে না। প্রায় সময় চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ছে। রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের ২ হাজার ৯২৯ কিলোমিটার রেলপথে মাত্র ২৭৩টি ইঞ্জিন দিয়ে ৩৫২টি যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনা করা হয়। এছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে অনলাইনে টিকিট কাটার জন্য বিশেষ অ্যাপ চালু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, চলতি বছরে আমাদের হাতে পর্যাপ্ত যাত্রীবাহী কোচ চলে আসবে। এসব কোচ দিয়ে অন্তত ১৫টি নতুন ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমি কাজ করতে চাই, ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। এজন্য সবার সহযোগিতাও চাই। চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং ৩০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্লান বাস্তবায়ন হলে রেলে আমূল পরিবর্তন আসবে। ভারত থেকে ইঞ্জিন আনার উদ্যোগ: এ বছরে আরও ২০টি ব্রডগেজ ও ২০০টি মিটারগেজ কোচ রেলওয়ে বহরে যুক্ত হচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যে অন্তত ১৫টি নতুন ট্রেন চালুর নির্দেশনা রয়েছে রেলপথমন্ত্রীর। সাধারণ মানুষের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে ২০টি ইঞ্জিন ভাড়ায় আনা হচ্ছে। এসব ইঞ্জিন দ্বারা নতুন ট্রেন চালানো হবে। সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে ভারতের রেলওয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশে ইঞ্জিন ভাড়া দেয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে জানিয়ে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) শামছুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, ইঞ্জিনপ্রতি প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা ভাড়া হতে পারে। দু দেশের সরকার পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশ থেকে ইঞ্জিন আমদানির জন্য অর্ডার দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে আমদানি করা ইঞ্জিনগুলো দেশে চলে এলে ভারতীয় ইঞ্জিনগুলো ফেরত দেয়া হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে সূত্র। যেসব রুটে নতুন ট্রেন: কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা-পঞ্চগড়, ঢাকা-বেনাপোল রুটে অত্যাধুনিক দুটি দ্রুতগতির নতুন ট্রেন চালু করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকা-সিলেট, সিলেট-চট্টগ্রাম, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে আরও তিনটি নতুন ট্রেন চালানো হবে। চলতি বছরে জামালপুরবাসীর জন্য আরও চারটি নতুন ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আবার ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ, জামালপুর, সরিষাবাড়ি, তারাকান্দি হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশনে যাবে। এছাড়া ঢাকার আশপাশের জেলার সঙ্গে স্বল্প দূরত্বের বেশ কয়েকটি নতুন ট্রেন চালু করা হবে। ২০০টি মিটারগেজ কোচ রেলবহরে যুক্ত হলে ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-চট্টগ্রাম, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের পুরনো ও জরাজীর্ণ কোচ পাল্টে আধুনিকায়ন করা হবে। ইন্দোনেশিয়া থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ৫০টি যাত্রীবাহী কোচের মধ্যে ৩৩টি চলে এসেছে। বাকি ১৭টি কোচ এ মাসের ১৫ তারিখে আসার কথা রয়েছে। এ কোচগুলো নিয়ে অন্তত তিনটি নতুন ট্রেন চালানো যাবে। অপরদিকে ২০০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী বগির চালান জুন থেকে আসা শুরু করবে। সেগুলো চলে এলে মিটারগেজের ট্রেনগুলো চালু করা হবে।
এ মাসেই নুসরাত হত্যার চার্জশিট
৫মে,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেছেন, ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার তদন্তকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিছু কাগজপত্র তৈরি করে চলতি মাসে যত দ্রুত সম্ভব ঘটনায় জড়িত ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেওয়া হবে। এছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সোনাগাজী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যে মোবাইল ফোন দিয়ে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেছিলেন, সেই ফোনসহ এক এসআইয়ের একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই প্রধান। বিএফডিসিতে গতকাল শনিবার দুপুরে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা শেষে এ তথ্য জানান পিবিআইপ্রধান। তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারই নারীর প্রতি নিপীড়ন বৃদ্ধির প্রধান কারণ শীর্ষক এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি ছিলেন পিবিআইপ্রধান। নুসরাতের বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলা প্রসঙ্গে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মামলার তদন্ত শেষ হতে কিছু সময় লাগবে। আদালতে তারা সময়ের আবেদন করেছেন। আমরা এই মাসটা (মে) টার্গেট করেছি, যত দ্রুত সম্ভব আমরা চার্জশিট দিয়ে দেব। তদন্তকালে কারও সঙ্গেই আপস করা হবে না। এ রকম একটি জঘন্যতম হত্যাকা-ের দায় জড়িত সবাইকেই নিতে হবে, দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন পিবিআইপ্রধান। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরিকল্পনা, হত্যা মিশন বাস্তবায়ন, খুনের মিশনে অর্থ ব্যয়সহ নানাভাবে এ পর্যন্ত সোনাগাজী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল এসএম সিরাজউদ্দৌলাসহ ১৬ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এ ১৬ জনের মধ্যে ৯ জন ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আরও অনেকের নাম এসেছে মামলায়, আমরা তাদেরও জবানবন্দি নেব। তিনি বলেন, চার্জশিটে যাদের নাম আসবে, আদালতের কাছে সে সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের সুপারিশ করা হবে। এ ঘটনার আগে-পরে যারা মদদ জুগিয়েছেন, তারাও যেন শাস্তি পান, সে লক্ষ্যে পুলিশের অন্যান্য সংস্থাও কাজ করছে বলে জানান বনজ কুমার মজুমদার। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আরেকটি বোরকা উদ্ধার নুসরাত হত্যামামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ওসি মো. শাহ আলম জানিয়েছেন, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসার পুকুরে তার দেখানো স্থান থেকে একটি বোরকা উদ্ধার করা হয়। এটি হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি পরিধান করে ছিলেন। এ ছাড়া কিলিং মিশন শেষে শামীম যে পথ দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, সেই পথটিও শনাক্ত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম ও জাবেদ হোসেনকে গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিন বিকালে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ধ্রুব জ্যোতি পাল এ দুজনকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ইতিপূর্বে শামীম ও জাবেদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। নুসরাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ ৯ আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সিরাজউদ্দৌলা ছাড়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া অন্যরা হলেন নূরউদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ। উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসাকেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।
বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষ
৪মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিপদ কেটে গেছে। এখন বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারী ১৬ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ। শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামছুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিপদ কেটে গেছে। এটি এখন দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। সুতরাং দেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া ১৬ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ বিকাল ৪টার পর বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন। উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার ভোর ৬টার দিকে পশ্চিমবঙ্গে হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল উপকূল এলাকায় আঘাত হানে। সেখান থেকে দুপুরে উত্তরবঙ্গের নাটোর-সিরাজগঞ্জ হয়ে জামালপুর দিকে ধাবিত হয়। প্রসঙ্গত, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে আঘাত হানে। সেখানে পুরী, গোপালপুর উপকূল এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় এটি। এতে নিহত হয় কমপক্ষে ৮ জন। পরে পশ্চিমবঙ্গের দিকে অগ্রসর হয় ফণী।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ফণীর ক্ষতি কমিয়ে এনেছে দাবি হানিফের
৪মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কারণে আগাম তথ্য পাওয়ার ফলে সরকার ও দলীয়ভাবে ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি দাবি করেন, এর ফলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ফণী নিয়ে দলীয় মনিটরিং সেলের কর্মকাণ্ড ও পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে হানিফ বলেন, গত ১০ বছর তার শাসনামলে সবদিক থেকে দেশের উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়নের একটি বড় অংশ হচ্ছে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রের দুই হাজার কিলোমিটার দূরে শুরু হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের খবর আমাদের দেশের আবহাওয়া অধিদফতর সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কারণে আগাম তথ্য পেয়েছিলাম বিধায় আমাদের সরকার ও দলীয়ভাবে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম। যার ফলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে’ বলে দাবি করেন হানিফ। ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি- বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যেরও সমালোচনা করে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জারিত বিএনপি নিজেদের সমস্যা ধামাচাপা দেয়ার জন্যই সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে মিথ্যাচার করছে। তারা নানা কথাবার্তা বলে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের ব্যর্থতা চাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। হানিফ আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারের সব প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বিদেশে বসে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন। সরকার এবং দলের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে পুনর্বাসন করা হবে বলেও তিনি জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এ কে এম এনামুল হক শামীম, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত নন্দী রায় প্রমুখ।
আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন: দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী
৪মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিপদ কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো.এনামুর রহমান। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শনিবার (৪ মে) দুপুর দেড়টার দিকে ঘূর্ণিঝড় ফণী সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।তিনি বলেন, আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন। ফণীর বিপদ কেটে গেছে। তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের কোনও সমস্যা হবে না।ঘূর্ণিঝড়ে চার জন নিহত হয়েছে জানিয়ে এবং প্রাণহানির এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে না যাওয়ার কারণেই তাদের প্রাণহানি ঘটেছে। ভবিষ্যতে যেন আর কেউ আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে না থাকে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা, নগদ টাকা কোনও কিছুরই অভাব ছিল না। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য ইতোমধ্যে ২০ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে।ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ তথ্য পেতে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার সরকার সামর্থবান এবং ধনী সরকার। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের কোনও সমস্যা হবে না। বিদেশিদের কাছেও হাত পাততে হবে না।আবহাওয়া অধিদপ্ততরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ কেটে গেছে। ঘূর্ণিঝড়টি এখন স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। সেজন্য ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লোকজন বিকাল ৪টা থেকে বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন। তাদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর