আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট
অনলাইন ডেস্ক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার জামিন বিষয়ে রুল যথাযথ ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ আব্দুল আউয়াল ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এই রায় ঘোষণা করেন। এর আগে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের জামিন আবেদনের ওপর বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। শুনানি নিয়ে ১ নভেম্বর হাইকোর্টের অপর একটি দ্বৈত বেঞ্চ জামিন আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। এরপর শহিদুল আলমের আইনজীবীরা আবেদনটি ওই বেঞ্চে উপস্থাপন করেন, যা আজ বেলা দুইটায় শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ছিল। প্রসঙ্গত, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে উসকানিমূলক মিথ্যা প্রচারের অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে ১২ আগস্ট শহিদুলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন নিম্ন আদালত। এর আগে গত ৫ আগস্ট রাতে তাকে ধানমন্ডির বাসা থেকে তুলে নেয় ডিবি। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। ওই মামলায় ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শহিদুল আলমের জামিন নাকচ করেন। পরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তিনি।
এক ঘণ্টাও নির্বাচন পেছাতে চায় না আওয়ামী লীগ: সেতুমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন এক ঘণ্টাও পেছাতে চায় না আওয়ামী লীগ। নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হবে। বিএনপি যে দাবি করেছেন তা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য নয়, বানচাল করার জন্য। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। নয়াপল্টনে বুধবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের যে ঘটনা ঘটেছে তা পূর্ব পরিকল্পিত উল্লেখ করে কাদের বলেন, পরিকল্পনা নিয়ে তারা পুলিশেরে ওপর হামলা চালিয়েছে। এটা তারা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা ডেমো দেখিয়েছে। আর কোনো অশুভ শক্তি বাংলাদেশে নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না।
বিনামূল্যের প্রায় ৬৫ লাখ নতুন বই মুদ্রণ নিয়ে উত্তেজনা
অনলাইন ডেস্ক: বিনামূল্যের প্রায় ৬৫ লাখ বই মুদ্রণের ইস্যুতে নতুন করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো এবং প্রাথমিক স্তরের আপৎকালীন স্টকের জন্য ওই বই মুদ্রণের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃপক্ষ বিনা টেন্ডারে বিদেশে বই ছাপতে চান। এতে ক্ষুব্ধ দেশীয় মুদ্রাকররা দল বেঁধে বুধবার এনসিটিবিতে যান। তারা সরকারি ক্রয় আইন (পিপিআর) ও রীতি অনুসরণের তাগিদ দেন। নইলে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি অন্য বই মুদ্রণ কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে এনসিটিবি কর্তৃপক্ষের ভুলনীতি ও একের পর এক বিলম্বিত সিদ্ধান্তের কারণে এবার সরকার প্রত্যাশিত সময়ে বই পৌঁছাতে পারেনি। নির্বাচনী বছর হওয়ায় ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বই পাঠানোর লক্ষ্য ছিল। কিন্তু এখনও অন্তত ৩৫ শতাংশ পাঠ্যবই যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব বই প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছানোর নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেটিও ব্যর্থ হচ্ছে। বিষয়টি জেনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে সব বই পৌঁছাতে এনসিটিবিকে নির্দেশ দেন। কিন্তু নতুন জটিলতায় সেই লক্ষ্যও ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মুদ্রণ শিল্প সমিতির চেয়ারম্যান শহীদ সেরনিয়াবাত বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর জন্য ৩২ লাখ এবং প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের জন্য ৩২ লাখের কিছু বেশি বই ছাপতে চাচ্ছে সরকার। এনসিটিবির শীর্ষ ব্যক্তি ওইসব বই বিনা টেন্ডারে বিদেশ থেকে ছাপতে চান। এক্ষেত্রে তিনি যুক্তি দেখাচ্ছেন যে, ওই প্রতিষ্ঠানের মুদ্রণ খরচ কম। কিন্তু বিদেশে বই ছাপার পর এনসিটিবিকে তা আমদানি করতে হয়। আমদানির জন্য তিন ধরনের কর দিতে হয়। সীমান্ত থেকে বই পরিবহনের খরচও বহন করতে হয় এনসিটিবিকে। সেই হিসাবে খরচ আরও ৩১ শতাংশ বেড়ে যায়। কিন্তু এনসিটিবি টেন্ডারের মূল খরচ দেখিয়ে বিদেশিদের কাজ দেয়ার পাঁয়তারা করছে। এনসিটিবি থেকে মৌখিকভাবে বিষয়টি মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু আমরা সেটি করতে দেব না। মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, এনসিটিবির একজন শীর্ষ ব্যক্তির নিজ দেশের পরিবর্তে একটি প্রতিবেশী দেশের প্রতি প্রেম বেশি। এ কারণে ওই দেশকে কাজ দিয়ে দেশকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চান। নির্বাচনের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন সিদ্ধান্তের কথা তিনি আলাপ করেছেন। আজ সেই পদক্ষেপের প্রতিবাদ করে গেছি। এ ব্যাপারে আমরা এনসিটিবির সদস্যকে (অর্থ) বিভিন্ন দিক অবহিত করেছি। এতে সমস্যা সমাধান না হলে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রয়োজনে বই সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হবে। এ ব্যাপারে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করে কথা বলা সম্ভব হয়নি। সচিব অধ্যাপক ড. নিজামুল করিম বলেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। তবে সদস্য (অর্থ) মির্জা তারিক হিকমত বলেন, সরকারি কাজ করানোর নিয়ম পিপিআরে বলা আছে। সেটার নির্দেশনা মতেই কাজ করানো হবে। চেয়ারম্যান কাকে কী বলেছেন জানি না। তবে মুদ্রনকারীরা পিপিআর মেনে কাজ দেয়ার জন্য অনুরোধ করে গেছেন। মুদ্রাকররা বলছেন, পিপিআর অনুযায়ী কোনো দরদাতা সন্তোষজনকভাবে কাজের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করলে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া যায়। অতীতে যেসব প্রতিষ্ঠান আগে কাজ শেষ করেছে, তাদের বাড়তি কাজ দিয়েছে এনসিটিবি। সেই হিসাবে ভালো করা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিলে এগোবে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এনসিটিবি বিদেশমুখী হতে চাচ্ছে। এসএম মহসিন নামে একজন মুদ্রাকর যুগান্তরকে বলেন, যে ভালো করে সাধারণত পুরস্কার সে পায়। কিন্তু এনসিটিবি সরকারি অর্থের গচ্চা দিয়ে বিদেশে বই পাঠাতে চায়। এতে ভালো করা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরুৎসাহিত হবে।
বিশ্ব অটিজম সংস্থার কংগ্রেসে দু-টি পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সায়মা ওয়াজেদ
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ১২-১৫ নভেম্বর চলমান বিশ্ব অটিজম সংস্থার (ডব্লিউএও) পঞ্চম আন্তর্জাতিক কংগ্রেস দু-টি পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে ও সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। বুধবার সূচনা ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সায়মা হোসেন অটিজম এরাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ও ইফেক্টিভ স্ট্র্যাটেজিজ ফর এড্রেসিং ডাইভার্সিফাইড লার্নিং নিডস অব স্টুডেন্টস ইন মেইনস্ট্রিম ক্লাসরুমস শীর্ষক দু-টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। ডব্লিউএওর সহায়তায় অটিজম সোসাইটি অব আমেরিকা ও টেক্সাস মেডিকেল সেন্টারের পেশাজীবীদের সহযোগিতায় টেক্সাস ও মেক্সিকোর বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ডব্লিউএওর চলতি বছরের কংগ্রেসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ক্লোজিং দ্য গ্যাপ। এর লক্ষ্য হল বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সুলভ করা। কংগ্রেসে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী ও অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গের পরিবার পরস্পরের মধ্যে তাদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সহায়তা বিনিময় করছেন। এ কংগ্রেসে অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তি, তাদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী থেকে শুরু করে বিশিষ্ট বক্তাদের জন্য সার্বিক কর্মসূচি রাখা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সায়মা ওয়াজেদ ছাড়াও সূচনা ফাউন্ডেশনের নাজিশ আরমান ও অ্যাশলি অ্যাডকিন্সও কংগ্রেসে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। এ ছাড়া সূচনা ফাউন্ডেশনের সিওও মালকা শামরোজও এতে অংশগ্রহণ করছেন। সম্মেলনে অটিজম বিষয়ে সর্বশেষ গবেষণা, বাস্তব দক্ষতা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ডব্লিউএওর কংগ্রেসে অংশগ্রহণের আগে সূচনা চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন সেন্ট্রো আন সুলিভান ডেল পেরুর (সিএএসপি) সহযোগিতায় বাংলাদেশে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার (এনডিডি) আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সহায়তাপুষ্ট কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রণয়নে ৪-১১ নভেম্বর পেরুর রাজধানী লিমা সফর করেন।
নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন: ইসি সচিব
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই-তিন দিন আগে নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। বৃহস্পতিবার সকালে ইসিতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ব্রিফ করার সময় তিনি এ কথা বলেন। ইসি সচিব বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। এ জন্য নির্বাচনের আগে বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হবে। কোনো বিশৃঙ্খলা যাতে না হয়, সে জন্য তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, এবারের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুখ দেখানো যাবে না। কেউ যদি নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চায়, তবে আইনের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
নির্বাচন পেছানোর দাবি ভোট বানচাল করতেই: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দলগুলোর জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন পেছানোর যে দাবি করেছে তাকে অযৌক্তিক হিসেবে দেখছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। নির্বাচন বানচাল করতেই এই দাবি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে এবার আর নির্বাচন বানচালের কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ভোট পেছানোর দাবি একেবারেই অযৌক্তিক। তারা নির্বাচন বানচাল করতেই এই দাবি করেছেন। আমাদের মতো বড় দল না চাইলে কীভাবে নির্বাচন পেছাবে? আরও দল আছে তারাতে চায়নি। বুধবার নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে কাদের বলেন, আন্দোলনের নামে সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে বিএনপি। তারা পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। ভিডিও ফুটেজ আপনারা (সাংবাদিক) দেখেছেন। তারা পুলিশের গাড়িতে উঠে শেখ হাসিনার পতন চেয়েছে। এটা কেন? তারা আসলে নির্বাচনে যেতে চান না, তারা নির্বাচন বানচাল করতে চান। এ ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। তবে আপনাদের ভাবতে হবে এর জন্য কে দায়ী? যোগ করেন কাদের। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি ভাবতে পারিনি মির্জা ফখরুল এতটা মিথ্যা কথা বলবেন। তিনি গতকাল যে মন্তব্য করেছেন এটা কে বিশ্বাস করবে? ছাত্রলীগ নাকি হামলা করেছে-এটা কেউ বিশ্বাস করবে? আমি ভাবতেও পারিনি মির্জা ফখরুলের মুখে এমন মিথ্যা কথা শুনতে হবে। আপনারা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন,আমরাতো নির্দেশ দিতে পারি না। এখন এটা নির্বাচন কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায়কে বলতে পারে তদন্তের জন্য। আমরা দেখছি নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নিতে পারে। কাদের বলেন, নির্বাচনী সুবাতাস কারা বিনষ্ট করছে? এখানে সরকারের কোনো দায় দায়িত্ব নেই। ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। নির্বাচন নিয়ে ব্লু প্রিন্টের টেস্ট কেস আমরা কাল দেখেছি। নির্বাচন বিনষ্টের যে অশুভ তৎপরতা তা গতকাল প্রমাণ করেছে বিএনপি। তারা নির্বাচন চাইলে তাদের এই অশুভ তৎপরতা বন্ধ করতে হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এবার কোনো অশুভ শক্তি নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না। জনগণ সতর্ক পাহারায় রয়েছে। এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা চালালে জনগণ তা প্রতিহত করবে। ঐক্যফ্রন্টের পিএম ফেইজ কে? ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমি ঐক্যফ্রন্টকে প্রশ্ন করতে চাই, হু ইজ দেয়ার পিএম ফেইজ এটা আমি জানতে চাই। এটা দেশবাসীও জানতে চায়। তাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? ড. কামাল নাকি তারেক রহমান? মন্ত্রীদের পদত্যাগ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,নির্বাচনকালীন সরকার বলে কোনো কিছু সংবিধানে নেই। পৃথিবীর সব দেশে যখন নির্বাচন হয় তখন বর্তমান সরকার দায়িত্বে থাকে। আর নির্বাচন কমিশন বাকি দায়িত্ব পালন করে। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী থাকবেন না। প্রধানমন্ত্রী এটা গ্রহণ করলে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। তারপর ফাইনালি তাদের পদত্যাগ হয়ে যাবে। তবে বর্তমান মন্ত্রিসভা থেকে মন্ত্রী আর কমার সম্ভাবনা নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন,আমাদের কাছে মাঠ পর্যায়ের সার্ভে রিপোর্ট রয়েছে সব দলের বিষয়ে। আমাদের কাছে বিস্তারিত সার্ভে রিপোর্ট রয়েছে। এটা প্রধানমন্ত্রীর কাছে রয়েছে। আমরা এ সার্ভে রিপোর্ট থেকে নির্বাচনের বিষয়ে বিজয়ের বিষয়ে আশাবাদী। খালেদা জিয়ার মুক্তি বিষয়ে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন,বেগম জিয়ার বিষয়ে আমি সবিনয়ে বলবো এটা আদালতের বিষয়।
পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগকারীরা বিএনপির: ডিএমপি কমিশনার
অনলাইন ডেস্ক: পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগকারীদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা সবাই বিএনপি এবং দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। আমরা মামলা নিয়েছি। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ ইতোমধ্যেই তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচনের আগে পুলিশকে উসকানি দিতে আর অসৎ উদ্দেশে আমাদের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। কারা আগুন দিয়েছেন, তাদের দেখা গেছে। এছাড়া মিডিয়ার ফুটেছে স্পষ্টই দেখে যায় তারা কীভাবে পুলিশের সদস্যদের লাঠিপেটা ও ইটপাটকেল মেরেছেন। তিনি আরো বলেন, বিএনপি এ হামলা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে। নির্বাচনের আগে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেই এ অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তখন আমাদের পুলিশ সদস্যরা জীবন বাঁচাতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। বুধবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়ান। এসময় নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ, করে লাঠিচার্জও। এক পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের দু -টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণসহ ২৩তম অধিবেশনে পাস হওয়া ৯টি বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি
অনলাইন ডেস্ক: বর্তমান আওয়ামী সরকারের শেষ অধিবেশনে অর্থাৎ ২৩তম অধিবেশনে পাস হওয়া নয়টি বিলে সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এসব বিলের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১৮। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বিলটি আইনে পরিণত হলো। এখন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে এই আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সদ্য পাস হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ইয়াবা (অ্যামফিটামিন), কোকেন, হেরোইন পরিবহন, কেনাবেচা, ব্যবসা, সংরক্ষণ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তান্তর, সরবরাহ ইত্যাদি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনের বিধান রাখা হয়েছে। অবশ্য বহনের পরিমাণ অনুযায়ী সাজা কমবেশি হতে পারে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনে অর্থ বিনিয়োগ, সরবরাহ, মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতা দিলেও একই ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে অর্থলগ্নি, পৃষ্ঠপোষকতা, মদদদাতা সবাই শাস্তির আওতায় আনা যাবে। এতদিন মাদকের মাস্টারমাইন বা গডফাদাররা বিচারের বাইরে থেকে যেত। বর্তমান আইনে সেই সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত অন্য বিল হলো- বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বিল-২০১৮, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বিল-২০১৮, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড বিল-২০১৮, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বিল-২০১৮, মৎস্য সঙ্গনিরোধ বিল-২০১৮, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট বিল-২০১৮, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস বিল-২০১৮ এবং বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল বিল-২০১৮।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে: নির্বাচন কমিশন সচিব
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেছেন, নির্বাচন জানুয়ারিতে হলে অনেক সমস্যা হবে। তবু নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। কমিশন সভায় নিবার্চন পেছানোর বিষয়টি আলোচনা হবে, সেখানে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বুধবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন ভবনে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচন কমিশন সচিব বলেন, নয়াপল্টনের বিষয় খতিয়ে দেখবে কমিশন। উল্লেখ্য, বুধবার (১৪ নভেম্বর) ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দল দেখা করেন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে। এসময় তারা আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সময় ফের পেছানোসহ কিছু দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে জানান। কমিশন তাদের এ দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ড. কামাল। পরে এদিন সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল দেখা করেন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে। এসময় তারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ যেন আর পেছানো না হয় সেই দাবি জানায়। এইচ টি ইমাম বলেন, বিদেশিদের সুযোগ সুবিধা দেখে তারিখ পেছানো যৌক্তিক হবে না। বৈঠক শেষে এইচ টি ইমাম সাংবাদিকের বলেন, নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক আসা নিয়ে ভোটের তারিখ পেছানোর দাবি যৌক্তিক নয়। বিদেশিদের সুযোগ সুবিধা দেখে তারিখ পেছানো ঠিক হবে না। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের পর নির্বাচন সম্ভব নয়। কারণ জানুয়ারিতে স্কুলে শিক্ষার্থীদের নতুন বই দেয়া হবে। এ মাসে বিশ্ব ইজতেমা রয়েছে।