শুভ জন্মাষ্টমী আজ
অনলাইন ডেস্ক: আজ শুভ জন্মাষ্টমী। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দ্বাপর যুগের শেষভাগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরায় কংসের কারাগারে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, কৃষ্ণ ছিলেন স্বয়ং ঈশ্বর। দুষ্টের দমন করে পৃথিবীতে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি মানুষরূপে পৃথিবীতে এসেছিলেন। সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায় উপবাস, পূজা-অর্চনা ও কৃষ্ণনাম কীর্তনসহ বিভিন্ন আচার-উপাচারের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় উদযাপন করবে দিনটি। প্রতি বছরের মতো এবারও জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এছাড়া রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, ইসকনসহ বিভিন্ন মন্দিরে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা দেশে ও দেশের বাইরে বসবাসরত সব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব স্তরের মানুষকে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করেছে। আজ গীতাযজ্ঞ, বিকাল ৩টায় ঐতিহাসিক মিছিল ও রাতে শ্রীকৃষ্ণ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা।
রোববার প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন
অনলাইন ডেস্ক: সাত দেশের জোট বিমসটেকের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন শেষে নেপাল থেকে ফেরার দুদিন বাদে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (২ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় গণভবনে এই সংবাদ সম্মেলন হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমসটেকের নানা বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য দিবেন বলে শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। সামিট অব দ্য বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)- এর চতুর্থ সম্মেলনে যোগ দিতে গত ৩০ আগস্ট দুই দিনের সফরে নেপাল যান প্রধানমন্ত্রী। এরপর গতকাল তিনি দেশে ফেরেন। বিমসটেক সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে শেখ হাসিনা মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল সৃষ্টি, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে যৌথ প্রচেষ্টা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং অর্থায়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলার মাধ্যমে বিমসটেক ফোরামে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সঙ্গে বৈঠক করেন।
দেশে স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় এখন সময়ের দাবি:প্রধান বিচারপতি
অনলাইন ডেস্ক: দেশে একটি স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় এখন সময়ের দাবি- এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে খান বাহাদুর আহছানউল্লা স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন। দেশের স্বনামধন্য প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে অনুষ্ঠানে এই স্বর্ণ পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি মনে করি আইন ও বিচার বিভাগের উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। ব্যারিস্টার রফিক-উল হকসহ এদেশের জ্ঞানতাপস ও আইনজ্ঞের কাছে নিবেদন করব তারা যেন আমাদের প্রতিবেশী দেশের আদলে অন্তত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন যা আইন শিক্ষার মান ও গবেষণাকে আরো সমৃদ্ধ করবে। তাদের এ কর্মের জন্য ভবিষ্যত প্রজন্ম, যারা আইনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করবে- তাদের কাছে তারা প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ব্যারিস্টার রফিক উল হকের প্রশংসা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষা, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা অপরিসীম। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এমিকাস কিউরি হিসেবে আদালতকে তিনি মতামত দিয়েছেন। তার দেওয়া মতামত বিভিন্ন সময়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ মামলার রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে। জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রাক্তন সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যন ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ এফ হাসান আরিফ বক্তব্য রাখেন।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ নয়, বিনিয়োগ করে সরকার
অনলাইন ডেস্ক: শিক্ষা খাতে সরকার বরাদ্দ নয়, বিনিয়োগ করে বলে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে ৭ মার্চ ভবনের উদ্বোধন পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তার আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই ভবনের নামফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের শিক্ষকরা যেমন শিক্ষা দেবেন, শিক্ষার্থীরাও উপযুক্ত শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা মানে শুধু কেতাবি শিক্ষা না, জীবন মান উন্নয়নের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যে শিক্ষাগ্রহণ করবে তার সুফল যেনো আবার সাধারণ মানুষ পায়। সেদিকেও বিশেষ ভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষায় অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম খরচের কথা শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরে বলেন, শিক্ষায় আমরা যা খরচ করি; এটাকে কখনও আমরা খরচ হিসাবে মনে করি না। আমি মনে করি, এটা আমরা বিনিয়োগ করছি, যা আমাদের দেশ গঠনে কাজে লাগবে, আমাদের দেশের মানুষ উপযুক্ত হয়ে গড়ে উঠবে। শিক্ষার্থীদের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উচ্ছৃঙ্খলতা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। সবাইকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে হলে নিয়ম মেনে আচরণ করতে হবে। রোকেয়া হলের নতুন ভবনে এক হাজার ছাত্রীর আবাসনের ব্যবস্থা হবে। প্রধানমন্ত্রী ভবনটি উদ্বোধন করে এই ভবনে স্থাপিত ৭ মার্চ জাদুঘর ঘুরে দেখেন। এই ভবন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছাত্রীদের যত্নবান হওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ভবনটা যেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে; অবশ্যই তাদের এই নজরটা দিতে হবে। আমাদের বাঙালিদের একটা বদভ্যাস হচ্ছে; খেয়ে টেয়ে নিয়ে টাস করে ছুড়ে ফেলে দেওয়া। এই বদ অভ্যাসগুলো পরিহার করতে হবে। আজকে বিদ্যুৎ আছে বলে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করা, এটা যাতে না হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে জাতির জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করব এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। কাজেই এই সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী খুব অল্প সময়ের ব্যবধানেই কিন্তু আমরা উদযাপন করতে যাচ্ছি। বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নের রোল মডেল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি যখন যেখানেই যাই, ওই একটাই প্রশ্ন অনেকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনারা এত দ্রুত কীভাবে অর্থনৈতিক উন্নতি করতে পারেন? কোনো কোনো রাষ্টপ্রধান বা সরকারপ্রধান তো জিজ্ঞাসা করেন, ম্যাজিকটা কী? আমি শুধু তাদের একটা কথাই বলি, এখানে কোনো ম্যাজিক নাই। ম্যাজিক একটাই, সেটা হলো একটা আদর্শ নিয়ে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করি। ক্ষমতা আমার কাছে ভোগের বস্তু নয়। ক্ষমতা হচ্ছে জনগণের জন্য দায়িত্ব পালন করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য নাসরিন আহমেদ ও মোহাম্মদ সামাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এবং রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদা বক্তব্য রাখেন।
ঢাবিতে -৭ মার্চ ভবন- উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রোকেয়া হলের ছাত্রীদের জন্য নবনির্মিত আবাসিক ভবন ৭ মার্চ ভবন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ভবনটি উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান, উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। রোকেয়া হলের ৭ মার্চ ভবন ১১ তলাবিশিষ্ট। এ ভবনে প্রায় এক হাজার ছাত্রী আবাসন সুবিধা পাবেন। নতুন এ হল উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তরুণ শিক্ষকদের আবাসনের জন্য নির্মিত শহীদ আবুল খায়ের ভবন, এমবিএ ভবন (ইস্টার্ন উইং), চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য বঙ্গবন্ধু টাওয়ার ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আঁকা হয়েছে ১৯৭১ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৭ ফুট প্রস্থের আলপনা। মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের দিকটি বিবেচনায় নিয়ে এ আলপনা আঁকা হয়। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাবি ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারেন। এ সময় আইনশৃংখলা বাহিনীর গৃহীত নিরাপত্তা পদক্ষেপের কারণে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল বিঘিত হতে পারে। এ সময় সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিকল্প পথ ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়ে সাময়িক অসুবিধার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জেনারেল ওসমানীর জন্মশতবার্ষিকী আজ
অনলাইন ডেস্ক: মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি বঙ্গবীর জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর জন্মশত বার্ষিকী আজ শনিবার। ১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিলেটের সুনামগঞ্জ মহকুমা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত বাংলার এই বলিষ্ঠ বীর সেনানী বাঙালি জাতিসত্তার অভ্যুদ্বয়ের অন্যতম মহানায়ক ও স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রধান সিপাহসালার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি বঙ্গবীর জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী তার জীবদ্দশায় কোনো যুদ্ধে পরাজিত হননি। জীবনের সব ক্ষেত্রে সফল এ বীরযোদ্ধা কখনো কোনো অন্যায়ের সাথে আপোস করেননি। দেশি-বিদেশি চক্রান্তের শিকারে পরিণত হলেও কখনো হার মানেননি, অন্যায়ের কাছে তিনি কখনোই মাথা নত করেননি। পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষের মুক্তি ও অধিকার অর্জন, শোষণ-বঞ্চনা, নিপীড়ন, নির্যাতন, অন্যায়, অসত্য আর অসুন্দরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং সুখী, সমৃদ্ধ সুন্দর পৃথিবী গড়াই ছিলো তার জীবনের লক্ষ্য। সূত্র মতে, বাবার চাকরির সূত্রে বঙ্গবীর ওসমানীর শৈশব-কৈশোর কেটেছে বিভিন্ন জায়গায়। তাই কিছু দিন পর বদলির আদেশ নিয়ে সুনামগঞ্জ থেকে চলে যেতে হয় গোহাটিতে। আর সেখানেই ওসমানীর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। ১৯২৩ সালে কটনস্ স্কুল অব আসাম-এ ভর্তি হন তিনি। লেখাপড়ায় যে তিনি খুবই মনোযোগী ছিলেন তার প্রমাণ স্কুলের প্রত্যেক পরীক্ষায় তিনিই প্রথম হতেন। ১৯৩২ সালে ওসমানী সিলেট গভর্নমেন্ট পাইলট হাইস্কুলে ভর্তি হন। তৎকালীন সময়ে সিলেটের এই স্কুলটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। ১৯৩৪ সালে তিনি তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন অসাধারণ কৃতিত্বের সাথে। সমগ্র ব্রিটিশ ভারতে তিনি প্রথম স্থান লাভ করেছিলেন। এই অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য ব্রিটিশ সরকার এম.এ.জি. ওসমানীকে প্রাইওটোরিয়া পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করে। তিনি ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে ওসমানী সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৩৯ সালে তিনি রয়্যাল আর্মড ফোর্সে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। দেরাদুনে ব্রিটিশ-ভারতীয় মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ১৯৪০ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন কমিশনড অফিসার হিসেবে। সে সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছিল। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একটি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার হিসেবে তিনি বার্মা (মিয়ানমার) সেক্টরে কাজ করেন। ১৯৪২ সালে মেজর পদে উন্নীত হন। ১৯৪২ সালে ওসমানী ছিলেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ মেজর। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে ওসমানী ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে লং কোর্স পরীক্ষা দিয়ে উচ্চস্থান লাভ করেন। সে বছর তিনি ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল সার্ভিসের জন্যও মনোনীত হন। কিন্তু তিনি সামরিক বাহিনীতেই থেকে যান। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর ওসমানী পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এ সময় তার পদমর্যাদা ছিল লেফটেন্যান্ট কর্নেল। ১৯৪৯ সালে তিনি চিফ অফ জেনারেল স্টাফের ডেপুটি হন। ১৯৫১ সালে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১ম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক নিযুক্ত হন। এর পর তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাস প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ববাংলার আরও কয়েকটি আঞ্চলিক স্টেশনের দায়িত্বও তিনি সফলতার সাথে পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ১৪তম পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ৯ম ব্যাটালিয়নের রাইফেলস কোম্পানির পরিচালক, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ই.পি.আর.)-এর অতিরিক্ত কমান্ড্যান্ট, সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ অফিসার প্রভৃতি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি কর্নেল পদমর্যাদা লাভ করেন এবং সেনাবাহিনীর হেডকোয়ার্টারের জেনারেল স্টাফ অ্যান্ড মিলিটারি অপারেশনের ডেপুটি ডিরেক্টরের দায়িত্ব পান। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে তিনি পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধ করেন।ডেপুটি ডাইরেক্টর অব মিলিটারি অপারেশন হিসেবে যুদ্ধরত বিভিন্ন সামরিক হেড কোয়ার্টারে যোগাযোগ করতেন তিনি। পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ যখন শেষ হয় তখন তার বয়স চল্লিশের ওপরে। ১৯৬৬ সালের মে মাসে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে অবসরকালীন ছুটি নেন এবং পরের বছর (১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রয়ারি) অবসর গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ওসমানী সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ভাষণ দেন। ওই ভাষণে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবকাঠামো গঠনের কথা উল্লেখ করে এম.এ.জি. ওসমানীকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে ঘোষণা দেন। ওসমানীর নির্দেশনা অনুযায়ী সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। প্রতিটি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে এক একজন সেনাবাহিনীর অফিসারকে নিয়োগ দেয়া হয়। রণনীতির কৌশল হিসেবে প্রথমেই তিনি সমগ্র বাংলাদেশকে ভৌগলিক অবস্থা বিবেচনা করে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে নেন এবং বিচক্ষণতার সাথে সেক্টরগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন। পাকিস্তানি বাহিনী ১৯৭১ সালের ১৬ তারিখে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানী অনুপস্থিত ছিলেন। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রয়ারি ক্যান্সারে আক্রান্ত এম.এ.জি. ওসমানী চিকিৎসাধীন যুক্তরাজ্যে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সিলেটে সমাহিত করা হয়। তার স্মরণে ঢাকায় গড়ে ওঠেছে ওসমানী উদ্যান ও স্থাপিত হয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয়ের বিপরীতে ওসমানী মেমোরিয়াল হল। এ ছাড়া তার সিলেটস্থ বাসভবনকে পরিণত করা হয়েছে জাদুঘরে। সরকারি উদ্যোগে সিলেট শহরে তার নামে একটি মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
আরো ৮ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ কয়লা গায়েবের ঘটনায়
অনলাইন ডেস্ক: বড়পুকুরিয়ার ১ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা খোলাবাজারে বিক্রি করে প্রায় ২৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় আরো আট আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে কোল মাইনিং কোম্পানির প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহমদসহ আট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, বুধবার সকাল ৯টা থেকে তদন্ত কমিটির প্রধান ও সংস্থাটির উপপরিচালক শামছুল আলম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তারা হলেন- বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহমদ, প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক (এক্সপ্লোরেশন), কোম্পানি সেক্রেটারি আবুল কাশেম প্রধানিয়া ও মোশারফ হোসেন সরকার, মহাব্যবস্থাপক (জেনারেল সার্ভিস) মাসুদুর রহমান হাওলাদার, ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) অশোক কুমার হালদার, ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কন্সট্রাকশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) জাহিদুল ইসলাম এবং উপব্যবস্থাপক (সেফটি ম্যানেজমেন্ট) একরামুল হক। তাছাড়া আগামীকাল (৩০ আগস্ট) আরো তিন আসামিসহ নয় কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চতুর্থ দফায় প্রাক্তন চার ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২০ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সংস্থাটি। ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ টন কয়লা ঘাটতির অভিযোগে বিসিএমসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বাদী হয়ে কোম্পানির সদ্য প্রাক্তন এমডি হাবিব উদ্দিন আহমেদসহ ১৯ জনকে আসামি করে গত ২৪ জুলাই দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানায় একটি মামলা করেন। তফসিলভুক্ত হওয়ায় অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক। মামলায় ১৯ আসামিসহ পেট্রোবাংলার ২১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য চিঠি দেয় দুদক। এ ঘটনায় বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাগজে-কলমে বেশি কয়লার মজুত দেখিয়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খতিয়ে দেখতে ২৩ জুলাই তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছিল দুদক।
শহিদুল আলমকে মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি টিউলিপের আহ্বান
অনলাইন ডেস্ক: টোগ্রাফার ড. শহিদুল আলমকে মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তার ভাগনি ও বৃটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি বলেছেন, তার খালা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের নেতৃত্বাধীন সরকার শহিদুল আলমকে আটক করেছে। এটা গভীর উদ্বেগের এবং অবিলম্বে এর ইতি ঘটা উচিত। লন্ডনের অনলাইন দ্য টাইমস পত্রিকা এ খবর জানিয়েছে। এতে এমপি আর্জেজ আন্ট টু রিলিজ বাংলাদেশ ফটোগ্রাফার শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। টিউলিপ সিদ্দিক বৃটেনে হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ট কিলবার্ন আসনে বিরোধী লেবার দলের এমপি। শহিদুল আলম বৃটেনে নিয়মিত প্রদর্শনী করেন। ওই রিপোর্টে তাকে একজন ফটোসাংবাদিক ও আর্টিস্ট হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়েছে। শহিদুল আলমকে গ্রেফতরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে তার সঙ্গে যোগ হলেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিকও। তিনি বলেছেন, নিজের নাগরিকদের প্রতি ন্যায়বিচারের আন্তর্জাতিক মানণ্ড অবশ্যই বাংলাদেশকে সমুন্নত রাখতে হবে। আমি আশা করবো, যে দেশটিকে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখা হয়, তাদের কাছে কড়াভাবে এই বার্তাটি পৌঁছে দেবে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়- আমি এমনটা আশা করি। এ পর্যন্ত নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা-অভিনেত্রী, আর্টিস্টস, লেখক, বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী সবাই শহিদুল আলমের মুক্তি দাবি করেছেন। টিউলিপ সিদ্দিকের আগে এ সপ্তাহে তার মুক্তি দাবি করেছেন অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেন। এ ছাড়া তার মুক্তি দাবি করেছেন স্যার রিচার্ড ব্রানসন, শ্যারন স্টোন, রিচার্ড কার্টিজ, আর্চ বিশপ ডেসমন্ড টুটু সহ অনেক জগতবিখ্যাত ব্যক্তি। উল্লেখ্য, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে রিপোর্ট করার কারণে গত ৫ আগস্ট ৬৩ বছর বয়সী শহিদুল আলমকে গ্রেফতর করা হয়। আল জাজিরা টেলিভিশনকে ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে সাক্ষাতকার দেয়ার পর তার বাসভবনে অভিযান চালায় ৩০ জনের বেশি নিরাপত্তা কর্মকর্তা। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অধীনে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ আইনটিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অতিশয় কঠোর (ড্রাকোনিয়ান) হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। শহিদুল আলম অভিযোগ করেছেন, আটক করে তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। শহিদুল আলমের রয়েছে বৃটেনে বসবাসের অনুমতি। তিনি সেখানে প্রদর্শনী করেছেন টেটে মডার্ন, হোয়াইটচ্যাপেল গ্যালারি, নিউইয়র্কের মোমা, প্যারিসের পোম্পিডোউতে।
জাতিসংঘ তদন্ত প্রতিবেদন কী ফল দেবে?
অনলাইন ডেস্ক: মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালানোর দায়ে দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করেছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদন। জাতিসংঘের ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণহত্যা এবং মানবতা-বিরোধী অপরাধের দায়ে দেশটির শীর্ষ ৬জন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত এবং বিচার হওয়া দরকার। এ প্রতিবেদনের পর কী হতে পারে? এর পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কী? এসব বিষয় নিয়ে লিখেছেন বিবিসির জনাথন হেড এবং ইমোজেন ফুকস। এ রিপোর্ট কোনো কিছু পরিবর্তন করবে? জনাথন হেড: জাতিসংঘের এ রিপোর্টটি সাধারণভাবে বেশ শক্ত। রিপোর্টে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর যে গণহত্যা চালানো হয়েছে সেটির জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে। গণহত্যার জন্য দায়ী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিচার দেশটির ভেতরে করা সম্ভব নয়। সেজন্য আন্তর্জাতিকভাবে এর উদ্যোগ নিতে হবে। একথা উল্লেখ করা হয়েছে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে। এ প্রতিবেদনের পর মিয়ানমারের জেনারেলদের বিচারের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ আরো জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে পারবে। রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন এবং মানবতা-বিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যেসব রিপোর্ট দিয়েছে সেগুলোকে বরাবরই খারিজ করে দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। কিন্তু জাতিসংঘের এ তদন্ত এক বছরের বেশি সময় ধরে চালানো হয়েছে। তিনজন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ জাতিসংঘে তদন্ত প্যানেল পরিচালনা করেছেন। সেজন্য এ প্রতিবেদন জাতিসংঘের ভেতরে অনেকের সমর্থন পাবে এবং মিয়ানমারের পক্ষে সেটি খারিজ করে দেয়া কঠিন হবে। ইমোজেন ফুকস: জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, মিয়ানমারের এ ঘটনা বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানো উচিত। কিন্তু সেটি করতে হলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন লাগবে। এ ধরনের কোনো উদ্যোগের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন ভিন্নমত পোষণ করবে। তারা এটি চাইবে না। ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানো যাবে না। তদন্তকারীরা পরামর্শ দিয়েছেন, রোয়ান্ডা এবং সাবেক ইউগোশ্লাভিয়ার যুদ্ধাপরাধের বিচার যেভাবে হয়েছে সে রকম স্বাধীন একটি অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। এ ধরনের অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মাধ্যমেই গঠন করা যেতে পারে। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো দেবার বিষয়টি এড়ানো সম্ভব হবে। এ ধরনের একটি ট্রাইব্যুনাল যাতে কাজ করতে পারে সেজন্য মিয়ানমারকে সহায়তা করতে হবে। যাতে অভিযুক্তদের আদালতে সোপর্দ করা যায়। সার্বিয়া এবং ক্রোয়েশিয়ার সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধীদের দ্য হেগের ট্রাইব্যুনালের কাছে হস্তান্তরের জন্য বহু বছর সময় লেগেছিল। জাতিসংঘ কি তাদের কার্ড খেলে শেষ করেছে? এ ধরনের উদাহরণ আছে? ইমোজেন ফুকস: গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের সেনা প্রধানসহ ৬ জন শীর্ষ জেনারেলকে চিহ্নিত করার মাধ্যমে জাতিসংঘের এ প্রতিবেদন অনেক দূর এগিয়েছে। সিরিয়ার যুদ্ধ নিয়ে অনেক তদন্ত হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের অপরাধীদের দীর্ঘ তালিকাও রয়েছে। সে তালিকায় সিরিয়ার সেনাবাহিনী এবং সরকারের সিনিয়র ব্যক্তিরা রয়েছে। কিন্তু তাদের নাম কখনোই প্রকাশ্যে বলা হয়নি। মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বিশ্বাস করেন, সুনির্দিষ্টভাবে ৬ জেনারেলকে অভিযুক্ত করার মাধ্যমে তারা কিছু অর্জন করতে পারবেন। এ রিপোর্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ সপ্তাহেই বৈঠক করবে এবং সে বৈঠকে তারা জাতিসংঘের তদন্তকারীদের বক্তব্য শুনবে। ফেসবুক জানিয়েছে, তারা মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রধানসহ শীর্ষ স্থানীয় জেনারেলদের তারা 'ঘৃণা এবং মিথ্যে তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে নিষিদ্ধ করেছে। জাতিসংঘের রিপোর্টে যেসব জেনারেলদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। অং সান সু চি এবং অন্যদের দোষী সাব্যস্ত করা যাবে? ইমোজেন ফুকস: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কিংবা অন্যকোনো ধরনের ট্রাইব্যুনাল ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। জাতিসংঘের প্যানেল শুধু তদন্ত করতে পারে, বিচার করতে পারে না। তদন্তকারীরা যে ধরনের তথ্য-প্রমাণের কথা বলেছেন, তাতে মনে হচ্ছে কোনো না কোনোভাবে একটা বিচার হবে। যদিও সে বিচার হতে অনেক বছর সময় লাগতে পারে। জনাথন হেড: অং সান সু চি'র বিচারের সম্ভাবনা অনেক কম। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর বেসামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। রোহিঙ্গাদের ওপর আক্রমণের যে পরিকল্পনা সেনাবাহিনী করেছিল সেটি বেসামরিক সরকার জানতো না বলে এ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন থামানোর জন্য অং সান সু চি তার নৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করেননি। তাছাড়া ঘটনা সম্পর্কে মিথ্যা বর্ণনা দেয়া এবং স্বাধীন তদন্তকারীদের ঘটনাস্থলে যেতে না দেয়া এবং সেনাবাহিনীর অন্যায়কে অস্বীকার করার মাধ্যমে অং সান সু চি'র সরকার রাখাইন অঞ্চলে অপরাধ সংগঠনে ভূমিকা রেখেছে। যদিও এ রিপোর্টের মূল কথা হচ্ছে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের বিচার।

জাতীয় পাতার আরো খবর