ডয়চে ভেলের রিপোর্ট,বাংলাদেশে সাংবাদিকদের হয়রানি
০৫মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো বলছে, কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস সম্পর্কে তথ্য লুকানোর চেষ্টা করছে সরকার। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্তৃপক্ষ যা বলছে, বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যের সঙ্কট তার চেয়েও অনেক খারাপ। অনলাইন ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়। বলা হয়, বাংলাদেশের চাল সঙ্কট ও করোনা ভাইরাস মহামারি নিয়ে একটি রিপোর্ট করার জন্য কাজ করছিলেন নরসিংদী ভিত্তিক সাংবাদিক সজল ভুইয়া। তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের জন্য বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে কিছু প্রশ্নের উত্তর পেতে তিনি সাক্ষাত করেন সাব-ডিস্ট্রিক্ট এডমিনিস্ট্রেটর নাসির উদ্দিন খানের সঙ্গে। এর আগে তিনি এই একই ইস্যুতে রিপোর্ট করেছিলেন। তা প্রচার হয়েছিল একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে। তার ওই রিপোর্টের কারণে স্থানীয় রাজনীতিকরা ক্ষুব্ধ।মানবজমিন। সজল ভুইয়া বলেছেন, যখন তিনি গত ২৩শে এপ্রিল নাসির উদ্দিন খানের অফিসে প্রবেশ করেন, তখন ওই কর্মককর্তা এবং তাকে সমর্থনকারীরা তাকে প্রহার করতে শুরু করে। তারা আমার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে, যতক্ষণ আমি অচেতন হয়ে না যাই। সজল বর্তমানে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে হাসপাতালে নেয়া ঠেকানোর চেষ্টা করছিলেন ওই কর্মকর্তা। ডাক্তাররা বলেছেন, সজলের মাথায় ও চোখে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। তাকে স্থানান্তর করে পাঠানো হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সজল ডয়েচে ভেলেকে বলেছেন, আঘাতের কারণে আমার এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছি। অন্য ক্ষতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা লাগবে। চিকিৎসার জন্য তার টিভি চ্যানেল থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পাননি সজল। তিনি বলেছেন, স্থানীয় কোনো সাংবাদিক সংগঠনও তার সমর্থনে এগিয়ে আসেনি। তবে তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। তিনি বলেন, নাসির উদ্দিন খানের প্রতি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলের সমর্থন রয়েছে। আমি ন্যায়বিচার চাই। আমি চাই নাসির উদ্দিন খানের জেল হোক। কোন বিক্ষিপ্ত ঘটনা নয়, প্যারিসভিত্তিক সাংবাদিকদের অধিকার বিষয়ক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) এর মতে, গত কয়েক সপ্তাহে কোভিড-১৯ নিয়ে রিপোর্ট করার কারণে বাংলাদেশে হামলার শিকার হয়েছেন ১৫ জন সাংবাদিক। বিদেশে বসবাসরত কিছু সাংবাদিক বলেছেন, কোভিড-১৯ নিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনার সমালোচনামুলক রিপোর্ট করার কারণে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুইডিশ সাংবাদিক তাসনীম খলিল বলেন, তার কর্মকান্ড নিয়ে সিলেটে তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার তিনজন সদস্য। তিনি মনে করেন, এর মধ্য দিয়ে তাকে সমালোচনামুলক রিপোর্ট বন্ধ করার চেষ্টা করছে কর্মকর্তারা। তিনি একই সঙ্গে নেত্রা নিউজ নামের একটি পত্রিকার সম্পাদক। তাসনীম খলিল বলেছেন, এ ধরনের হয়রানি নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য। এটা বন্ধ করা উচিত বাংলাদেশ সরকারের এবং আমার মা যাতে সুরক্ষা পান তা নিশ্চিত করা উচিত। বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ১৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দেশ। এখানে এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবে ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর মারা গেছেন ১৮০ জন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যেহেতু পরীক্ষা ধীর গতির করা হয়েছে, তাই সংক্রমিতের সংখ্যা এর চেয়ে আরো বেশি হতে পারে। বিগত সপ্তাহগুলোতে করোনা সংক্রমণ নিয়ে সরকার যেসব নিয়ন্ত্রণমুলক ব্যবস্থা নিয়েছে তার কড়া সমালোচনা হয়েছে। এসব পদক্ষেপকে সমালোচকরা বলছেন, অপর্যাপ্ত। তথ্য শেয়ারে বিধিনিষেধ, মিডিয়ার কন্ঠরোধের অভিযোগ আছে সরকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে একই সঙ্গে করোনা ভাইরাস মহামারির ভয়াবহতা নিয়ে জনগণকে তথ্য জানানোর ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বাধা দেয়ার চেষ্টা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ডিস্টিঙ্গুইশড প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন, সরকার তথ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে এতে কোনোই সন্দেহ নেই। ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাতের তথ্য লুকাতে চায় তারা। স্বাস্থ্য সঙ্কট মোকাবিলায় প্রস্তুতির ঘাটতির বিষয় লুকাতে চায়। মিডিয়ার সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্পৃক্ততায় বিধিনিষেধ এবং চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা হলো এই কৌশলের অংশ। বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টসের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল মনে করেন, দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্টের কারণে সম্প্রতি সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। করোনা সঙ্কট নিয়ে রিপোর্ট করার জন্য হামলা হয়নি। গণতন্ত্রের ক্ষয়, সমালোচনামুলক রিপোর্টকে ফেক নিউজ বলে মাঝে মাঝেই সমালোচনা করে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। ফেক নিউজ ও ভুয়া তথ্য প্রচার বন্ধ করতে প্রণীত হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। কিন্তু মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো বলে, দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি এই আইনকে সমালোচকদের কণ্ঠরোধের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে মাঝেমধ্যেই। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ক্যাম্পেইনার সাদ হাম্মাদি ডয়েচে ভেলেকে বলেন, ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস-সহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের মতো করে এই আইনটিকে অবিলম্বে সংশোধনের জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। এক্ষেত্রে মিডিয়ায় পেশাদারদেরকে অবশ্যই সরকারকে বলতে হবে, এই আইনটি কিভাবে মানুষের অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং আইনটি সংশোধনের আহ্বান জানাতে হবে। আলী রীয়াজ বলেন, ক্ষমতাসীন দলের অধীনে বাংলাদেশ ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু গণতন্ত্রের দিকে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সব সমালোচকের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চায় ক্ষমতাসীন দল। তবে সাংবাদিকদেরও কিছু দায় নিতে হবে। তারা বিভক্ত এবং কিছু মিডিয়ার মালিক সরকার পক্ষের।
করোনাযুদ্ধে যুক্ত হলেন আরো দুই হাজার চিকিৎসক
০৫মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসে সংক্রমণের চিকিৎসার গতি বাড়াতে নতুন দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১২ মে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। কর্মস্থলে যোগদানের পর কোভিড-১৯ এর রোগীদের সেবা নিশ্চিত করবেন নতুন নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকরা। এছাড়া চাকরি স্থায়ীকরণের সময় করোনাকালে চিকিৎসকদের কর্মদক্ষতা বিবেচনায় নেয়া হবে। এর আগে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের চিকিৎসার গতি বাড়াতে দ্রুত দুই হাজার চিকিৎসক ও পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। ৩৯তম বিশেষ বিসিএস থেকে এই চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়। করোনা সংক্রমণের চিকিৎসায় চিকিৎসক সংকটের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। এ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নতুন দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগের কথা জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ওই সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা লক্ষ করেছি, বেশ কিছু হাসপাতালে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে আমাদের চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। এ জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করি এবং তাঁদের সুস্থতা কামনা করি। এ অবস্থায় যেহেতু নতুন নতুন হাসপাতাল করোনার সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রস্তুত করছি এবং বেশ কিছু চিকিৎসককে কোয়ারেন্টাইনে যেতে হয়েছে, তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন দুই হাজার চিকিৎসক এবং ছয় হাজার নার্স আমরা নিয়োগের ব্যবস্থা করছি। আশা করি, এই নিয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা আরও জোরদার হবে।
করোনাকে জয় করলেন ডিএমপির ২১ পুলিশ সদস্য
০৪মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া পুলিশ সদস্যেদের মধ্যে ডিএমপির ২১ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) আশিক হাসান জানান, সুস্থ হওয়া পুলিশ সদস্যরা কাজে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। আক্রান্তরা সবাই রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা গ্রহন করেন। করোনা সংকট মোকাবিলায় শুরু থেকে জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বহুমূখী সেবামূলক কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত হন। শহরের রাস্তায় জীবানুনাশক পানি ছিটানো থেকে শুরু করে, আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা বলবৎ করতে সহায়তা, লকডাউন ব্যবস্থা কার্যকর, মৃত ব্যক্তির জানাযা ও দাফনে অংশ গ্রহণ, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে জনগণকে মোটিভেশন, কাঁচাবাজারে প্রবেশ ও বাহির একমুখী করা, বিক্রেতাগণ বাজারে যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পণ্যসামগ্রী বিক্রয় করার ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, ত্রাণ বিতরণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সহায়তা, টিসিবির পণ্য বিক্রয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সহায়তা, জরুরি প্রয়োজন ব্যতিত মানুষ যাতে ঘর থেকে বের না হয় সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখাসহ জনকল্যাণে বহুমুখী সেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ফলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। ডিএমপির আক্রান্তদের মধ্যে এডিসি, এসি সহ পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সিভিল স্টাফ রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়ে কাজে যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সুস্থ হওয়া ২১ জন সদস্য।
সতর্ক নাহলে করোনা আরও বিধ্বংসী হয়ে উঠবে : কাদের
০৪মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব ও ঘরে থেকে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব ও ঘরে থেকে স্বাস্থ্যবিধি যদি কঠোর ভাবে মেনে না চলি, তা হলে আমাদের দুর্বলতার সুযোগে করোনা আরও বিধ্বংসী হয়ে উঠবে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, শক্তিশালী থাকতে হবে। কেউ আতঙ্কিত হবেন না। কেননা আমাদের দুর্বলতার কারণে সংক্রমণের বিস্তার ঘটবে। ওবায়দুল কাদের আজ সোমবার সকালে তার সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত আনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারসহ পুরো জাতি করোনা সংকটের সম্মুখ যোদ্ধাদের পাশে আছেন। তাদের কোনও অবস্থাতেই মনোবল হারালে চলবে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সারাদেশে যে ত্রাণ বিতরণ করছে তার তালিকা তৈরি করে দলীয় প্রধানের কাছে পাঠাতে হবে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দেশের প্রথম সুড়ঙ্গপথ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের কাজও চলমান। তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্য পদ্মাসেতুর ২৯তম স্প্যান বসানো হয়েছে। পদ্মা সেতু এখন ৪ হাজার ৩৫০ মিটার দৃশ্যমান। মূল সেতুর কাজ ৮৭ শতাংশ, নদীশাসনের কাজ ৭১ শতাংশ এবং সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৯ শতাংশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের কাজও চলমান। এরই মধ্যে ১৬৯০ মিটার খনন কাজ শেষ হয়েছে। সার্বিক অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ওবায়দুল কাদের বলেন, সাম্প্রতিক এক জরিপে এসেছে বিশ্বের ৬৬টি উদীয়মান অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশ নবম স্থানে। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। খাদ্য নিরাপত্তায় আমাদের অবস্থান সন্তোষজনক। বর্তমানে ৮০ ভাগ ধান কাটার কাজ শেষ হয়েছে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা সারাদেশে ধান কাটায় অংশ নিয়েছেন।
সাধারণ ছুটি পর্যন্ত গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে
০৪মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের কারণে এর বিস্তার রোধে সরকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সাধারণ ছুটি আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বর্ধিত করায় দেশব্যাপী চলমান গণপরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্ত আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। আজ সোমবার সড়ক পরিবহন ও সড়ক বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জরুরি পরিষেবা যেমন-বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের কার্যক্রম (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর), পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাকসেবা ও সংশ্লিষ্ট কাজ, খাদ্যদ্রব্য, সড়ক ও নৌপথে সকলপ্রকার পণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, ঔষধ, ঔষধশিল্প, চিকিৎসা সেবা ও চিকিৎসা বিষয়ক সামগ্রী পরিবহন, শিশুখাদ্য, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, ত্রাণবাহী পরিবহন, কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য, সার ও কীটনাশক, পশুখাদ্য, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ খাতের উৎপাদিত পণ্য, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য এবং জীবনধারণের মৌলিক পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত থাকবে। আরও বলা হয়, পণ্যবাহি যানবাহনে যাত্রী পরিবহণ করা যাবে না। এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপকতা বাড়ায় সাধারণ ছুটি আরও ১১ দিন বাড়িয়েছে সরকার। আগামী ১৬ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছে। আজ সোমবার এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আদেশ জারি করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, ৭-১৪ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ ছুটির সঙ্গে ৬ মে’র বুদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি এবং ১৫ ও ১৬ মে’র সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত হবে। সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ২৬ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গত ৮ মার্চ প্রথম ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়ার পর গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে ৫-৯ এপ্রিল, ১৪-২৫ এপ্রিল এবং সর্বশেষ ৫ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়।
১০ মে থেকে শপিং মল খোলা
০৪মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঈদকে কেন্দ্র করে দোকান-পাট ও শপিং মল খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। আগামী ১০ মে থেকে বেশ কয়েকটি শর্ত মেনে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশের শপিং মলগুলো খোলা রাখা যাবে। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আলাদা আদেশ জারি করে এ নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কেনাবেচার সময় পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে। বড় বড় শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে বন্ধ করতে হবে বিকাল ৪টার মধ্যে। এ নির্দেশনা জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সব বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখা) মো. মুশফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, শপিংমল সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। সারা দেশে হাট-বাজার, ব্যবসা কেন্দ্র, দোকানপাট ও শপিং মলগুলো এ সময়ের মধ্যে সীমিত পরিসরে খোলা রাখা যাবে। এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপকতা বাড়ায় সাধারণ ছুটি আরও ১১ দিন বাড়িয়েছে সরকার। আগামী ১৬ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছে। এতদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। এখন তা দুই ঘণ্টা শিথিল করা হয়েছে। এখন রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাহিরে বের হওয়া যাবে না।
জীবন ও জীবিকা রক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত : তথ্যমন্ত্রী
০৪মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন,মানুষের জীবন এবং জীবিকা রক্ষায় সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার কারণেই সরকার আজ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। তিনি আজ ঢাকায় সচিবালয়ে নিজ দপ্তর থেকে অনলাইনে দেয়া সংক্ষিপ্ত ভিডিওবার্তায় একথা বলেন। করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী সংকটের সময় মানুষের জীবন এবং জীবিকা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার প্রথম থেকেই নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এমনকি বিশ্ববিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। ড. হাছান বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বিরাট ঝাঁকুনি সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবেলার কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন,অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবেলা করে মানুষের জীবিকা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, বিশ্ববিখ্যাত দি ইকনোমিস্ট পত্রিকায় সেগুলোর সঠিক পরিস্ফুটন হয়েছে। ড. হাছান বলেন, এখন অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবেলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর ওপরে, এমনকি ভারত, পাকিস্তান, চীনের চেয়েও এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা অনেক ভালো -সেটিই দি ইকনোমিস্ট পত্রিকায় এসেছে। তিনি বলেন, কেউ প্রশংসা করুক আর না করুক এটিই হচ্ছে বাস্তবতা। এসময় উপস্থিত এক সাংবাদিক বিএনপি নেতা রুহুল কবীর রিজভী আহমেদের সরকারের আহম্মকির কারণে করোনায় অব্যবস্থাপনা মন্তব্যের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে যে বাংলাদেশ সরকার করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে এগুচ্ছে, সেখানে রিজভী আহমেদসহ কারো কারো বক্তব্যে মনে হয় তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চেয়েও স্বাস্থ্য বিষয়ে বেশি জ্ঞান রাখেন। চট্টগ্রাম ৭ আসনের সংসদ সদস্য তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এসময় বিএনপিকে পেছনে ফিরে তাকানোর জন্য অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে ৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের কথা। সেসময় চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বিমান বাহিনীর অনেকগুলো যুদ্ধবিমান ছিল। সেই বিমানগুলো তারা ঢাকায় না নিয়ে আসার কারণে প্রায় এক ডজনেরও বেশি বিমান ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ধ্বংস হয়ে ছিল। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজগুলোকেও সেদিন তারা উজানে নিয়ে যেতে পারতো, সেটি না করার কারণে অনেকগুলো জাহাজ সেদিন নষ্ট হয়েছিল, এমনকি নোঙর ছিঁড়ে জাহাজ রাস্তর ওপর উঠে এসেছিল। অর্থাৎ তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন খালেদা জিয়ার সরকারের আহম্মকির কারণে এই ঘটনাগুলো ঘটেছিল। সেই আহম্মকের ভাগাড়ে বসে রিজভী সাহেব কথাগুলো বলছেন, আসলে তিনি নিজেই আহম্মকের মতো কথা বলছেন বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান।
১৬ মে পর্যন্ত ছুটি বৃদ্ধি
০৪মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নোভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে চলমান সাধারণ ছুটি আরও ১১ দিন বাড়ানো হয়েছে। জরুরি সেবা দেয়াসহ দফতরগুলোকে আওতার বাইরে রেখে বিভিন্ন নির্দেশনা মানা সাপেক্ষে আগামী ৬ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছে। সোমবার (৪ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ষষ্ঠ দফায় ছুটি বাড়িয়ে আদেশ জারি করা হয়। করোনার কারণে সরকার প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। পরে আরও পাঁচ দফায় ছুটি বাড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত করা হয়। ছুটি বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৭ মে থেকে ১৪ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ ছুটির সঙ্গে ৬ মের বুদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি এবং ১৫ ও ১৬ মের সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত হবে।
এবারও ফিতরা সর্বনিম্ন ৭০ টাকা
০৪মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত বারের মতো এবারও সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ টাকা। খাদ্যপণ্যের বাজারমূল্য হিসাব করে এ ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ সোমবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এই হার নির্ধারণ করা হয়। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান সভার পর ফিতরার হার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকাই ছিল। তবে সর্বোচ্চ ফিতরা ছিল ১ হাজার ৯৮০ টাকা ছিল। উল্লেখ্য, এক কেজি ৬৫০ গ্রাম গম বা আটা অথবা খেজুর, কিসমিস, পনির বা যবের মধ্যে সামর্থ্য অনুযায়ী যে কোনো একটি পণ্যের ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের বাজার মূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা যায়।