মঙ্গলবার, মার্চ ৯, ২০২১
দুইশো ছড়ালো করোনাক্রান্ত দেশ, মৃত বেড়ে ১৮৮৯২
২৫মার্চ,বুধবার,করোনা সংকট,নিউজ একাত্তর ডট কম: একে একে বিশ্বের দুইশটি দেশে ছেয়ে গেছে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমিতের সংখ্যা। প্রতিনিয়ত ভারি হচ্ছে লাশের সারি। চীন থেকে শুরু হলেও ভাইরাসটি এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে পৃথিবীব্যাপী। যার সবচেয়ে ভয়াবহ রুপ দেখছে ইউরোপ। জনজীবন থেকে শুরু করে বিশ্বের অর্থনীতির চাকার মুখ থুবড়ে পড়েছে করোনায়। যার ফলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মহামন্দার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটি প্রাণ কেড়েছে ২ হাজার ৩৭৮ জনের। যার অধিকাংশই ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে করোনার থাবায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ হাজার ৮৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে, আক্রান্তের তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরও ৪ দেশ। ফলে ভাইরাসটির প্রকোপ ছড়িয়েছে বিশ্বের দুইশটিরও বেশি দেশে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এতে করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪ লাখ ২২ হাজার ৬১৪ জনে পৌঁছেছে। তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৮৭৯ জন। আজ বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ খবর জানিয়েছে। গত চারদিন স্থিতিশীল থাকার পর সোমবার নতুন করে আক্রান্ত ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে চীনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নতুন করে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমিত হয়েছে আরও ৪৭ জন। ফলে দেশটিতে প্রাণহানি বেড়ে ৩২ হাজার ২৮১ আর ৮১ হাজার ২১৮ জন আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চীনের বাহিরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহতা অবস্থায় ইতালি। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে প্রতিদিনই সেখানে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। যেখানে নতুন করে ৭৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৮২০ জন। নতুন করে ৫ হাজার ২৪৯ জন সংক্রমিত হয়েছেন। আর এ নিয়ে ইতালিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৭৬ জনে। তবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন আট হাজার ৩২৬ জন। প্রাণ হারাদের মধ্যে ২০ জন চিকিৎসকও রয়েছেন। ইতালির পথেই হাটছে ইউরোপের আরেক দেশ স্পেন। দেশটিতে ভাইরাসটি থাবায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সারিও। এতে গোটা স্পেন হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত। গতকাল থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৭ হাজার মানুষ। এতে করে আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ হাজার পেরিয়েছে। যেখানে মারা গেছেন ২ হাজার ৯৯১ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬৮০ জন। সময় যত গড়াচ্ছে ইউরোপের দেশটিতে করোনার তাণ্ডব ততই বেড়ে চলছে। দেশজুড়ে লকডাউন জারি করায় ৪ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ এখন গৃহবন্দি রয়েছেন। অপরদিকে, ট্রাম্পের দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রান্ত হয়েছেন। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশটিতে নতুন করে ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ সংক্রমণটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে করে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৮০৮ জনে। মারা গেছেন আরও ২২২ জন। যেখানে এখন ভাইরাসটিতে প্রাণ গেছে ৭৭৫ জনের। সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরার সংখ্যা ৩৭৮। যা আক্রান্তের তুলনায় খুবই নগন্য। এদিকে জার্মানিতে একদিন আগে সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রান্তের ঘটনা ঘটলেও গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কমেছে। সেখানে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৯ জনে। এরপরই রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান। দেশটিতে প্রাণঘাতি ভাইরাসটিতে নতুন করে ১২২ জনের প্রাণ গেছে। এ নিয়ে ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ হাজার ৪৪৮। ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল ততটা প্রকোপ না হলেও কোনো একেবারেই পিছিয়ে নেই ফ্রান্স। ইউরোপের এই দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ইউরোপের এই দেশটিতে নতুন করে মারা গেছেন ২৪গ জন। ফলে, ভাইরাসটি এখন পর্যন্ত প্রাণ কেড়েছে ১ হাজার ১০০ জনের। আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৩০৪ জনে। এছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্ত-৯ হাজার ৩৭ জনের বিপরীতে মৃত্যু হয়েছে ১২০ জনের, যুক্তরাজ্যে ৮ হাজার ৭৭ জন আক্রান্তের মধ্যে মারা গেছেন ৪২২ জন। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ৯ হাজার ৮৭৭ নাগরিক, সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ১২২ জন, নেদারল্যান্ডসে ৫ হাজার ৫৬০ জনের বিপরীতে মারা গেছেন ২ জন। এদিকে, প্রাণঘাতি ভাইরাসটির বিস্তার রোধে নতুন আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ২১ দিনের জন্য পুরো ভারতজুড়ে লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে দেশব্যাপী কারফিউয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নাগরিকদের মাঝে সচেতনতার অভাবে বাড়তে থাকে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। ফলে, কঠোরতার দিকে যেতে হয় তাকে। লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে পশ্চিবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়। হাসপাতালগুলো কতটা প্রস্তুত তা নিজ চোখে দেখতে শহরের সব হাসপাতাল ঘুরে দেখেন তিনি। সাধারণ মানুষকে লকডাউনের আওতায় আনতে মারমুখী অবস্থায় প্রশাসনও। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সাড়ে ৮ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে চাল দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এতেও ভারতে থেমে নেই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। যেখানে নতুন করে ৩৭ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩৬ জনে। মারা গেছেন এখন পর্যন্ত ১০ জন। অন্যদিকে, ভয়াবহ অবস্থার পথে পাকিস্তান। দেশটিতে নতুন করে প্রায় শতক ব্যক্তির দেহে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৭১ জন। প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। প্রকোপ থেমে নেই দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ বাংলাদেশেও। সংখ্যায় কম হলেও প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন আরও একজন। এতে করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪ জন। করোনার সন্দেহে আইসোলেশনে থাকা এখন পর্যন্ত মোট ৫ জন সুস্থ হয়েছেন আর ৩০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। গত এক মাসে বিদেশ থেকে দেড় লাখের বেশি মানুষ দেশে ফিরলেও কোয়ারেন্টাইনে আছেন মাত্র ২০ হাজারের মতো। এর মধ্যে অনেকে আবার মানছেন না কোয়ারেন্টাইনের শর্ত। ফলে, যেকোনো সময় ভাইরাসটি ব্যাপক বিস্তার করতে পারে। অন্যদিকে, চলমান পরিস্থিতিতে বন্ধ করা হয়েছে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নিষিদ্ধ করা হয়েছে যেকোনো সমাগম। কয়েকটি জেলায় বন্ধ করা হয়েছে দূরপাল্লার বাস যাতায়াত। বন্ধ রয়েছে সারাদেশের বার ও সারাদেশের সুপারমার্কেটগুলো। সমালোচনার মুখে স্থগিত করা হয়েছে চট্টগাম সিটিসহ ২টি আসনের উপ-নির্বাচন। আর সবশেষ করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সতর্কতা তৈরিতে গতকাল মঙ্গলবার থেকে মাঠে নেমেছে সশস্ত্রবাহিনী। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে তারা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে এ ক্ষেত্রে সহায়তা করবেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এতে করোনার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও গতকাল লাখ লাখ মানুষ দেশের বাড়িতে ফিরে যান। সংকট মোকাবেলায় গণপরিবহন, বাস ও ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। তারপরও অনেককে পিকআপ ভ্যান ও কিংবা মালবাহী ট্রাকে করে বাড়িতে ফিরতে দেখা যায়।
সংবাদপত্র থেকে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা নেই : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
২৫মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সংবাদপত্র থেকে কভিড-১৯ করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কারণ তা ছাপা হয় পুরো যান্ত্রিক ব্যবস্থায়। প্যাকেটও করা হয় যন্ত্রেই। শুধু খবরের কাগজ নয়, ডাকে পাঠানো বা অনলাইনে অর্ডার করা পণ্যের প্যাকেট নিয়েও আশঙ্কার কিছু দেখছে না তারা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্য, কেউ সংক্রমিত হলেও তার থেকে প্যাকেটে বা খবরের কাগজে করোনাভাইরাস ছড়ানোর শঙ্কা কম। তা ছাড়া, এই ধরনের প্যাকেট ও সংবাদপত্র বহু এলাকা ও নানা রকম তাপমাত্রা পার করে পৌঁছায়। এ কারণে ওই সব প্যাকেটের বা কাগজের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা আরও কম। বর্তমানে ১৯৭টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। কোথাও সংবাদপত্র, ছাপা পত্রপত্রিকা বা চিঠি থেকে কভিড-১৯ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। উল্লেখ্য, ইউরোপে হু হু বাড়ছে করোনা ভাইরাসের থাবায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী ইতালি। যেখানে দীর্ঘ হচ্ছে স্বজনহারাদের সংখ্যা।
২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে ১০ দিন গণপরিবহন বন্ধ
২৪মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। তবে এসময়ে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ওষুধ, জরুরি সেবা, জ্বালানি, পচনশীল পণ্য পরিবহন নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। পণ্যবাহী যানবাহনে কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে মন্ত্রণালয় থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক ভিডিওবার্তায় একথা জানান।
মাঠে সেনা-নৌ-বিমানবাহিনী
২৪মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি বিভাগ-জেলায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা-সমন্বয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সমন্বয় শেষে বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে সেনাবাহিনী পুরোপুরিভাবে কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এবং ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বিবেচনায় সরকার দেশের সব জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সে নির্দেশনা মোতাবেক Aid to Civil Power এর আওতায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেশের সব বিভাগ এবং জেলায় করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে মোতায়েনের অংশ হিসেবে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তায় প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে সেনাবাহিনী। আইএসপিআরের সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি আরও বলছে, পরবর্তীতে বুধবার থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে পুরোপুরিভাবে কাজ শুরু করবে সেনাবাহিনী। এসময়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত এবং বিদেশফেরতদের কোয়ারেন্টিনে থাকা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপে সহায়তা ও সমন্বয় করবেন সেনা সদস্যরা। এছাড়া বিভাগ এবং জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনে মেডিক্যাল সহায়তা দেবে সেনাবাহিনী। এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় কাজ করবে নৌবাহিনী। আর বিমানবাহিনী হাসপাতালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও জরুরি পরিবহন কাজে নিয়োজিত থাকবে।
করোনা মোকাবেলা : প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৫শ সদস্যের কমিটি
২৪মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস সংক্রামন রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৫শ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সর্বাত্মক কাজ করবে। এদিকে করোনার বিস্তার রোধে বাতিল করা হয়েছে আওয়ামী লীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সোমবার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। দেশ শাটডাউন কিংবা লকডাউন করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, মাথা গরম করে কিংবা হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক নয়। পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। করোনা ভাইরাসের এ বিপদের মুহূর্তে দেশ ও জাতিকে রক্ষায় দেশ শাটডাউন বলেন, লকডাউন বলেন, পরিস্থিতি দেখে যখন যে সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার প্রধানমন্ত্রী সেই সিদ্ধান্তই নেবেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবেলায় কোনো ধরনের সরঞ্জাম নেই- এটা বলা যাবে না। তবে ঘাটতি আছে। সংগ্রহ করার জন্য উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, করোনার প্রকোপ কমাতে প্রয়োজন হলে বাস চলাচল বন্ধ করা হবে। বাস্তবতাকে অস্বীকার বা এড়িয়ে কিছু করা হবে না। যখন যে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে শেখ হাসিনার সরকার প্রস্তুত আছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যুদ্ধপরিস্থিতি মনে করে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সব অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের বলা হয়েছে পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা করতে। জনগণের পাশে থাকতে। বিশেষ করে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে গুজব ঠেকাতে সতর্ক থাকতে হবে। দেশে কোনো খাদ্য সংকট নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, অহেতুক মজুদ করলে মজুদকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ১০ টাকায় চাল দেবে সরকার
২৪মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিম্ন আয়ের মানুষদের ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া হবে। করোনার অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় খোলাবাজার ব্যবস্থার (ওএমএস) মাধ্যমে এ চাল বিক্রি করা হবে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে শিগগিরই এ কার্যক্রম শুরু হবে। জরুরি ভিত্তিতে নিম্ন আয়ের মানুষদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে সারাদেশে ৫০ লাখ কার্ডধারী নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কর্মসূচি চালু রয়েছে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের এর বাইরে এ বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে। এদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আগামী তিন থেকে ছয় মাস এক কোটি নিম্ন আয়ের লোককে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। সরকারের এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিম্ন আয়ের প্রতি পরিবারকে সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি চাল দেওয়া হবে। মোট ৯০ হাজার টন চাল দেওয়া হবে। ট্রাকে করে খোলাবাজারে শহরের বিভিন্ন স্পটে কম দামে এ চাল বিক্রি করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নিম্ন আয়ের লোকজনকে নতুন করে ১০ টাকা কেজি চাল দিতে বাড়তি ১৬৩ কোটি টাকা লাগবে। তবে অর্থ ছাড়ে কোনো সমস্যা হবে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, করোনাভাইরাসের প্রভাবে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষতি হয়েছে অনেক বেশি। আগামীতে আরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে করোনার আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় নিম্ন আয়ের লোকজনকে সামাজিক সুরক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, নিম্ন আয় মানুষের জন্য ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করেন। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ও নভেম্বর এই পাঁচ মাস ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারের কাছে ১০ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি চাল বিক্রি করা হয়। বর্তমানে এই খোলাবাজার ব্যবস্থায় প্রতি কেজি ৩০ টাকা দামে চাল বিক্রয় করা হয়। এই পরিমাণ চাল কিনতে সরকারের খরচ পড়ে ৪৩ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ বর্তমানে কেজিপ্রতি সাড়ে ১৩ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০ টাকা দরে এ চাল বিক্রি করতে গেলে এ খাতে সরকারের ভর্তুকি আরও বাড়বে।- একুশে টেলিভিশন
৭-৮ দিনের মধ্যে করোনা পরীক্ষাগার স্থাপন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
২৩মার্চ,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আগামী ৭-৮ দিনের মধ্যে দেশে করোনা পরীক্ষাগার স্থাপন করা হবে। নিজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সোমবার দুপুরে তিনি একথা বলেন। তার আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৫০০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপরদিকে, আগামী ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ভাষণের সময় জানানো না হলেও ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ গত ১৭ মার্চ মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ধারণা করা হচ্ছে, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তিনি দেশবাসীকে দিক নির্দেশনা দেবেন।
জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
২৩মার্চ,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী বুধবার (২৫ মার্চ) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সড়ক পরিহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একথা জানিয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ওবায়দুল কাদের বলেন, ভাষণে প্রধানমন্ত্রী করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রয়োজনীয় দিক নিদর্শনা দেবেন। সরকারিভাবে সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের সব প্রোগ্রাম বাতিলের নির্দেশ দিচ্ছি। জনপ্রতিনিধদের উদ্দেশে কাদের বলেন,জনপ্রতিনিধরা করোনা ভাইরাসের বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করুন। কারও মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সব অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। নেতাকর্মীরা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশের জনগণের মধ্য করোনা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। সঠিক তথ্য দিয়ে জনগণকে সচেতন করতে হবে। সঠিক তথ্য দিয়ে আতঙ্ক দূর করতে হবে। জনসমাগম হতে পারে এমন কর্মসূচি পরিহার করতে হবে। ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও শহর পর্যায়ে প্রবাসীদের খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে কোনও প্রকার খাদ্য সংকট নেই। অহেতুক মজুত করলে মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। করোনার প্রকোপ কমাতে প্রয়োজন হলে বাস চলাচল বন্ধ করা হবে। বাস্তবতাকে অস্বীকার বা এড়িয়ে কিছু করা হবে না। যখন যে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে শেখ হাসিনা সরকার প্রস্তুত আছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা মোকাবিলায় কোনও ধরনের সরঞ্জাম নেই এটা বলা যাবে না, তবে ঘাটতি আছে। সংগ্রহ করার জন্য উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
করোনা: ১৪৮ কোটি ডলারের অর্ডার বাতিল পোশাক শিল্পে
২৩মার্চ,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারি আকারে ছড়াতে থাকা নভেল করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশেও প্রতিদিন বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এ সংক্রমণের প্রভাব পড়েছে দেশের তৈরি পোশাকখাতেও। বাতিল হচ্ছে একের পর এক অর্ডার। তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ভয়াবহ অবস্থা দেশের পোশাকখাতে। বিভিন্ন দেশ থেকে ক্রেতারা তাদের ক্রয়াদেশ (অর্ডার) আপাতত বাতিল করছেন। মোট এক হাজার ৮৯টি কারখানায় এক দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্ডার (সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা) বাতিল হয়েছে। বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে এ খাতে। রোববারে (২২ মার্চ) দিনগত রাতে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বার্তায় বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, ভয়াবহ অবস্থা চলছে আমাদের তৈরি পোশাক খাতে। বিভিন্ন দেশ ও মহাদেশ থেকে সমস্ত ক্রেতারা তাদের সমস্ত ক্রয়াদেশ (অর্ডার) আপাতত বাতিল করছেন। তারা বলেছেন স্থগিত, তবে আমাদের জন্য স্থগিত ও বাতিল একই জিনিস। এ পরিস্থিতি উদ্বেগের। বার্তায় ড. রুবানা বলেন, আমাদের ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করতে একটি ওয়েবপোর্টাল করেছি। সেখানে চার হাজার কারখানার মধ্য থেকে এক হাজার ৮৯টি কারখানাকে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে এন্ট্রি করেছি। যেখানে ৮৭ কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ৬২২টি অর্ডার বাতিল হয়েছে। যার আর্থিক পরিমাণ এক দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এসব কারখানার মোট শ্রমিকের সংখ্যা ১২ লাখ।

জাতীয় পাতার আরো খবর